মওদুদী জামাতীদের বর্তমান সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারকে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মুখাপেক্ষী হতে হবে। মওদুদী জামাতীরা সহিংসতা চালিয়ে মহা অনৈসলামিক কাজ করছে এবং সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কাফির সে কথার ব্যাপক প্রচার-প্রসার করতে হবে।

সংখ্যা: ২২৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত দুরূদ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। এমন দুরূদ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।

জামাতে মওদুদীদের অব্যাহত সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। হামলা, গুলি, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের মধ্য দিয়ে তাদের ডাকা হরতাল পালিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কার্যালয়, থানা, স্ট্রেশন, পুলিশ ফাঁড়ি, বাণিজ্য মেলা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তারা ভাংচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। কুমিল্লা, কসবাসহ বিভিন্ন স্থানে রেল-লাইনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে। পুলিশ-বিজিবি রেব ও আর্মস ব্যাটালিয়ানের উপর তারা দফায় দফায় আক্রমণ করছে। এমনকি খোদ থানা আক্রমণ করে পুলিশ হত্যার মতো ন্যক্কারজনক কাজও তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

জামাতে মওদুদীর অব্যাহত সহিংসতা আবারো প্রমাণ করে তারা একটি মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার লেশ মাত্র তাদের মধ্যে নেই। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট ঘোষিত হয়েছে, “একজনের দোষ-ত্রুটির দায়ভার অপরজন বহন করবেনা।” যদি তাই হয় তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আইন প্রার্থী কথিত জামাতে মওদুদীরা কী করে সাধারণ মানুষকে প্রতিপক্ষ বানাতে পারে? তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে পারে? এটা কী পবিত্র দ্বীন ইসলামী কাজ?

ব্যাংক লুট, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের খুন, স্টেশন হামলা, রেব-পুলিশ-বিজিবির উপর আক্রমণ এসব কী পবিত্র দ্বীন ইসলামী কাজ? তাদের কুখ্যাত নেতা সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে এসব ঘৃণ্য সহিংসতা, নাশকতা, আক্রমণ হত্যাকা- এসব কী পবিত্র দ্বীন ইসলামী কাজ?

বলাবাহুল্য, সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর ফাঁসির রায়ের প্রক্রিয়ার প্রতি মওদুদী জামাতেরও সমর্থন রয়েছে। নচেৎ তারা এতদিন পর্যন্ত সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর প্রতি ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই চালিয়ে আসলো কেন? ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়ার প্রতি যদি তাদের অসমর্থন থাকতো তাহলে তারা প্রথম থেকেই একে অস্বীকার করতো। তাদের দৃষ্টিতে বাঘা বাঘা আইনজীবী দিয়ে লড়াই, সাফাই সাক্ষীর উপস্থিতি ইত্যাদি কর্মকা- তো মূলত ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সমর্থনই ব্যক্ত করে। এমনকি এখনও আপিল করার সুযোগটাও তারা নিচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া মানবে, বিচারপতি মানবে কিন্তু বিচার মানবেনা এটা তো প্রতারণামূলক। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মওদুদী জামাতীদের এ প্রতারণা প্রচার করে দিতে হবে। পাশাপাশি জামাতে মওদুদীরা বর্তমানেও হত্যা-লুণ্ঠন চালিয়ে আরো ফাঁসির অপরাধী হচ্ছে। এ পবিত্র দ্বীন ইসলামী কথাও প্রচার করতে হবে।

মওদুদী জামাতীরা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার দোহাই দিয়ে থাকে। আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে, “হদে ক্বিছাছ” সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হত্যার বদলে হত্যা।” আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ীই বিচার হবে। যে ভুল সাক্ষ্য দিবে তার গুনাহ তার উপর বর্তাবে।” এক্ষেত্রে বিচারক বা বিচারে কোন ভুল হবেনা। এ দৃষ্টিকোণ থেকেও সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর ফাঁসি সম্পূর্ণ পবিত্র দ্বীন ইসলামিক। কারণ তার বিরুদ্ধে হত্যাকা-, লুণ্ঠন ইত্যাদি অভিযোগ সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদির উপর প্রতিষ্ঠিত। কাজেই এ রায় সম্পূর্ণ পবিত্র দ্বীন ইসলামিক। কিন্তু এই পবিত্র দ্বীন ইসলামিক রায়ের বিরুদ্ধে আজ জামাতে মওদুদীরা শহীদের নামে আত্মাহুতি দিচ্ছে। (নাঊযুবিল্লাহ) অথচ বর্তমানে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী যে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হলো, সংবিধান থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে নেয়া হলো তার প্রতিবাদে এই জামাতে মওদুদীরা ‘টু’ শব্দও করেনি। কিন্তু সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীকে দিয়ে ওদের ব্যবসা সচল থাকে। সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী ওদের ধর্মব্যবসায় ভালো সেলসম্যান। তাই ওকে রক্ষায় ওরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী ইস্যুতে তথা মওদুদী জামাতের সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার সময়োচিত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পথে এগুচ্ছেনা। প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত নাস্তিক ব্লগারদের পরিচালিত শাহবাগ সমাবেশ সরকারের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে এবং মওদুদী জামাতীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।

শাহবাগ সমাবেশ দিয়ে সরকার কোন সহযোগিতা পাবেনা। সরকারকে এজন্য সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মুখাপেক্ষী হতে হবে। একজনের অপরাধের শাস্তি অন্যজন পেতে পারেনা- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই আয়াত শরীফ অনুযায়ী জামাতী মওদুদীরা যে মহা অনৈসলামিক কাজ করছে সেটা ধর্মপ্রাণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি মওদুদী জামাতীরা যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কাফের তাদের আক্বীদা কুফরীতে পরিপূর্ণ সে কথাও সরকারীভাবে প্রচার করতে হবে। এবং সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী যে এই জামাতে মওদুদী তথা কুফরীর ধারক-বাহক তথা মহা কাফের সে কথাও ব্যাপক প্রচার-প্রসার করতে হবে। পাশাপাশি শুধু সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবেনা- সে যে তাফসীরের নামে এদেশের ধর্মপ্রাণদের অধর্ম শিখিয়েছে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে কুফরী আক্বীদার প্রচার প্রসার করেছে সর্বোপরি পবিত্র ইলমে তাছাউফ, ওলীআল্লাহগণ উনাদের বিরুদ্ধে চরম বিষোদগার করে এদেশে ৯৭ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত এনেছে সেজন্যও ধর্মদ্রোহী, ধর্ম অবমাননাকারী ও ধর্ম অপব্যাখ্যাকারী সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর বিচার করতে হবে।

মোদ্দাকথা, বর্তমান পরিস্থিতি শামলে দিতে সরকার যত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাহায্য নিবে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে চলবে ততই বিষয়টি সহজ হবে। দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন মিলবে।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ আশরাফুল মাহবুবে রব্বানী

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য