মতামত বিভাগ

সংখ্যা: ২৬৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আইন ভেঙ্গে, সংবিধান ভেঙ্গে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তৈরি হচ্ছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন।

সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (১)

 

সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে নানা আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞমহল সরকারকে সতর্ক করলেও সরকার একঘেয়েমী আচরণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের পাশে স্থাপন করছে। কিন্তু এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের পাশে স্থাপিত হলে যে বিপর্যয় ঘটবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরিবেশবিষয়ক একটি সংস্থা। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চলাকালে সুন্দরবন কিরকম বিপর্যয়ের শিকার হবে তা প্রকাশ করেছে ওই সংস্থাটি-

ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল প্রকল্পের জন্য বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানো হবে। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাভোগ্রেডোর প্রকল্প অনুযায়ী ১ টন কয়লা পুড়লে ২ দশমিক ৮৬ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। সেই হিসাবে রামপাল প্রকল্প ৮০ শতাংশ লোড ফ্যাক্টরে উৎপাদন করলেও বছরে ১ কোটি ৮ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হওয়ার কথা। যদিও সরকারি প্রতিবেদনে সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করায় উদ্যোক্তাদের হিসাব মতেই ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বাকি কার্বন ফ্লাই অ্যাশে যোগ হবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। যদি উদ্যোক্তাদের হিসাবই সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়, তারপরও প্রশ্ন হচ্ছে, ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড কী কম ক্ষতিকর! যত উঁচু চিমনিই ব্যবহার করা হোক না কেন বাতাসের চেয়ে ভারী এই গ্যাস তো এই দেশেই ফিরে আসবে, ফিরে আসবে সুন্দরবনের বুকে।

এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড (বছরে ৫১ হাজার ৮৩০ টন) ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (বছরে ৩১ হাজার ২৫ টন) নির্গত হবে। বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস সুন্দরবনের বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বর্তমান ঘনত্বের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে গোটা সুন্দরবন ধ্বংস করবে। অথচ ইআইএ প্রতিবেদনে এক মাত্রা ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭’-এর নির্ধারিত সীমার মধ্যে দেখানোর জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনের জন্য পরিবেশগত ‘স্পর্শকাতর’ এলাকার মানদ- ব্যবহার করার কথা থাকলেও প্রতিবেদনে সুন্দরবনের জন্য ‘আবাসিক ও গ্রাম’ এলাকার মানদ- দেখানো হয়েছে!

অথচ, সুন্দরবন কোনো আবাসিক বা গ্রাম এলাকা নয়। তাহলে সুন্দরবনের মতো পরিবেশগত স্পর্শকাতর একটি এলাকার জন্য মানদ- হিসেবে আবাসিক ও গ্রাম এলাকার জন্য নির্ধারত মানদ- বেছে নেয়া হলো কেন? এর কারণ ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭’ অনুযায়ী পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হতে পারবে না। অথচ ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৫৪ মাইক্রোগ্রাম হবে। এই অগ্রহণযোগ্য মাত্রাকে বৈধতা দেয়ার জন্যই ইআইএ প্রতিবেদনে সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম’ এলাকা দেখিয়ে তার জন্য নির্ধারিত মাত্রা ৮০ মাইক্রোগ্রামের চেয়ে কম ঘনত্ব দেখানো হয়েছে।

ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো ও শীতলীকরণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করা হবে এবং ব্যবহারের পর অবশিষ্ট পানি পরিশোধন করে ঘণ্টায় ৫১৫০ ঘনমিটারহারে আবার নদীতে ফেরত দেয়া হবে। ফলে নদী থেকে প্রতি ঘণ্টায় কার্যকর পানি প্রত্যাহারের পরিমাণ হবে ৪০০০ ঘনমিটার। এই পানি প্রত্যাহারের কারণে নদীর নিম্নপ্রবাহে সুন্দরবন এলাকায় পানির লবণাক্ততা, নদীর পলি প্রবাহ, প্লাবন, জোয়ার-ভাটা, মাছসহ নদীর উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ ও বাস্তুব্যবস্থার উপর কেমন প্রভাব পড়বে তার কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। এর পেছনে তাদের যুক্তি হচ্ছে, ৪০০০ ঘনমিটার পানি পশুর নদীর শুকনো মওসুমের মোট পানি প্রবাহের ১ শতাংশেরও কম। এখানে যে ফাঁকিটা দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে, পানি প্রবাহের ডাটা ২০০৫ সালের। এর মধ্যে উজানে ভারতীয় এলাকায় বাঁধের কারণে পশুর নদীর উৎস নদীতে যেমন পানির সরবরাহ কমেছে, তেমনি বেড়েছে শিল্প ও গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার। প্রকল্প চলাকালীন পরবর্তী ২৫-৩০ বছরে যে এই চাহিদা আরো বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে ক্ষতিকর বর্জ্য হবে এর দুই ধরনের কয়লাপোড়া ছাই। এখানে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানোর ফলে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লাখ টন বটম অ্যাশের বর্জ্য তৈরি হবে। এই ফ্লাই অ্যাশ, বটম অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি বিপজ্জনক মাত্রায় পরিবেশদূষণ করে। কারণ এতে আর্সেনিক, পারদ, সিসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়ামের মতো বিভিন্ন ক্ষতিকর ও তেজস্ক্রিয় ভারী ধাতু মিশে থাকে। ইআইএ প্রতিবেদনে উৎপাদিত ছাই যেন পরিবেশদূষণ না করে সেজন্য ফ্লাই অ্যাশ চিমনি দিয়ে নির্গত হওয়ার আগেই ইএসপি সিস্টেমের মাধ্যমে ধরে রাখার কথা বলা হলেও এটা স্বীকার করা হয়েছে, ‘কিছু উড়ন্ত ছাই’ বাতাসে মিশবে। এই ছাইয়ের পরিমাণ কত? এটা ন্যূনতম ১ শতাংশ ধরে নেয়া হলেও বছরে ৭ হাজার ৫০০ টন ফ্লাই অ্যাশ আশপাশের এলাকাসহ সুন্দরবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয় দূষণ ঘটাবে এবং আশপাশে নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করবে।

কয়লা পরিবহন পরিবেশের জন্য আরেকটি হুমকি হচ্ছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়েই পরিবহন করা হবে। সমুদ্রপথে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন আমদানি করা কয়লা প্রথমে বড় জাহাজে করে সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত আনতে হবে, তারপর আকরাম পয়েন্ট থেকে ছোট ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে কয়লা পরিবহন করে প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিতব্য কয়লা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে করে সুন্দরবনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদীপথে বড় জাহাজে বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে রামপাল পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিমি পথ ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন পরিবহন করতে হবে!

অর্থাৎ, প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে- রামপাল চলাকালেই সুন্দরবনের পরিবেশ পরিস্থিতি সঙ্গিন অবস্থায় চলে যাবে। আর বাস্তবায়িত হওয়ার পর তো সম্পূর্ণরূপে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে ওই এলাকায়। আর তার প্রভাব পুরো বাংলাদেশের উপর বিস্তার লাভ করবে। তাই সরকারের উচিত হবে, ঘাপটি মেরে থাকা দেশবিরোধী চক্রের মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ নানা বিভ্রান্ত তথ্যে কান না দিয়ে অবিলম্বে এই রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের পাশে নিষিদ্ধ করা। প্রয়োজনে তা দেশের অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেয়া। আর তাতেই রক্ষা পাবে দেশের পরিবেশদ্বার সুন্দরবন ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ প্রকৃতি। (চলবে ইনশাআল্লাহ)

-মুহম্মদ মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা।

 

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (১)

গত ২৫ ডিসেম্বর-২০১৫ পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে আর সমক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু প্রকল্পটি ঘিরে এমন কিছু প্রশ্ন উঠেছে যা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সমাজ গবেষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিভিন্ন পরিবেশবিদ, গবেষণাবিদ এই প্রকল্পটি দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বিধায় বাতিলের আহবান জানিয়েছে।

প্রশ্নগুলো প্রধানতঃ কেন্দ্রীভূত হয়েছে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি যাচাই, লোকবল, বিদেশ নির্ভরতা। আর্থিক লাভ ক্ষতির হিসাবে বিশ্লেষকরা বলছে, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া করলেও এসব প্রশ্নের জবাব দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। শুরুতেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় জ্বালানি রাশিয়া আজীবন সরবরাহ করবে এবং এ থেকে সৃষ্ট বর্জ্য তারা ফেরত নিয়ে যাবে। কিন্তু রাশিয়া সম্প্রতি জানিয়েছে, সে দেশের আইন অনুযায়ী অন্য দেশের বর্জ্য সংরক্ষণের কোনো সুযোগ নেই। দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সাধারণ চুক্তিতেও এই বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ইউরেনিয়াম-২৩৮। এই জ্বালানি শতভাগ ব্যবহৃত হয় না। যেটুকু বাকী থাকে সেটাকেই বলা হয় তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য। এই বর্জ্য খুবই বিপজ্জনক। এর তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নিরাপদ পর্যায়ে আনার জন্য কয়েক যুগ ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়। তারপর আবার পরিশোধণ করে কিছু ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই সংরক্ষণ ও পরিশোধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ ও উচ্চতর প্রযুক্তিনির্ভর। তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে তা থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় বিকিরণ অনেক বছর ধরে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্পেন্ট ফুয়েল বা পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের বিষয়টি। রাশিয়ার আইন অনুযায়ী অন্য দেশের বর্জ্য রাখতে পারবে না। ওই বর্জ্য রিসাইকেল করে তারা বাংলাদেশে পাঠাবে। বাংলাদেশকে এটা দেশেই সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ভিন্ন ধাচের। এখানে কোনো মরুভূমি নেই, দেশের মাটি আর্দ্র। ফলে স্পেন্ট ফুয়েল এখানে ডিসপোজাল করাটা খুবই গুরুত্বর্পূর্ণ। এই দায়িত্ব বাংলাদেশের উপর বর্তালে আশঙ্কামুক্ত হওয়া যায় না।

এছাড়া এই প্রকল্পে বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা ও য়েছে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকার ঋণ নিচ্ছে ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে এজন্য সুদে আসলে রাশিয়াকে ফেরত দিতে হবে ২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে, এই প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়বে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প গ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৩০০ র্থেকে ৪০০ কোটি ডলার। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই এই ৩০০-৪০০ কোটি ডলারের প্রকল্পকে যেভাবে ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের প্রকল্পে রূপান্তরিত করে ফেলা হলো, তাতে প্রকল্প ব্যয় শেষ পর্যন্ত ২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের প্রযুক্তি, লোকবল, ব্যয়, বিদ্যুতের খরচ কী ও কেমন হবে তা পরিস্কার হয়নি। এজন্য যেমন ফিজিবিলিটি স্টাডি হওয়ার দরকার তা করা হয়নি। এমনকি এ নিয়ে জনগণের মতামত গ্রহণ বা মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারটিও ঘটেনি। এত কিছু নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এগোচ্ছে এবং উত্তরোত্তর বাধা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অথচ প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের পথে হাটছে বলা যায়। যার অর্থ হলো প্রকল্পটি বিদ্যুৎ খাতের নীতিমালাকে অনুসরণ করছে না। বরং এটা অ্যাডহক ভিত্তিতে ও আরবিটরি পথেই হচ্ছে। জনগণকে আস্থায় নিয়ে জনগণকে জানিয়ে কিছু করা হচ্ছে না। বলতে হয়, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো দুর্ঘটনায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে তা সামাল দেয়া কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। জাপানের মতো দেশও এখন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপর্যয় এড়াতে পারছে না। চেরনোবিল, থ্রি মাইল আইল্যান্ডের মতো বড় বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে প্রযুক্তির দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থানকারী দেশগুলোতে। যারা নিজস্ব দক্ষতাকে কেন্দ্র করে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছিল। আর বাংলাদেশের মতো দেশের যেখানে সামান্য পানি, তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দুদিন পর পর বিকল হয়ে যায় এবং মেরামতের অভাবে পড়ে থাকে বছরের পর বছর; সেখানে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি ভালোভাবে চলবে সেটা কল্পনাও করা যায় না।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে এত আশঙ্কা ঘনীভূত হলেও সরকারপক্ষ মনে করছে- ‘এতে আশঙ্কার কিছু নেই’। বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালন ও রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক বলেছে- ‘এতে আশঙ্কার কিছু নেই’। কিন্তু সরকারের এই চিড়েভেজা বার্তায় আমরা আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা তেমন সুখকর নয়। যেভাবে অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবহেলা এবং ব্যয় বাড়তে দেখা গেছে, সেই পরিণতি রূপপুরের হলে জাতিকে নিশ্চয়ই মস্তবড় প্রতিদান দিতে হবে।

সর্বপরি এটি একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এই প্রকল্প ঘিরে রয়েছে অনেক ধরনের আশঙ্কা। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র করে যে আমরা সক্ষম হবো বৈদ্যতিক খাতে তারও কোন আশা নেই। এই কেন্দ্রের বর্জ্যগুলো কোথায় যাবে সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই বর্জ্য তেজস্ক্রিয় এবং এটা ভয়ংকর। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিপদ রয়েছে। বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো এ থেকে বেরিয়ে আসছে। কারণ এই বিপদ মোকাবেলা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর আমাদের দেশে যদি এর কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তা থেকে বেরিয়ে আসতে নানা ভয়ঙ্কর দুর্দশার মুখোমুখি হতে হবে।

কাজেই সরকারের উচিত, দেশের স্বার্থ ও এই প্রকল্পের বিপজ্জনকতার কথা বিবেচনা করে তা বাতিল করা। তা নাহলে এই প্রকল্প দেশের জন্য ভয়ানক পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। (চলবে ইনশাআল্লাহ)

-মুহম্মদ আরিফুল্লাহ, ঢাকা।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-১

মহান আল্লাাহ পাক তিনি মহা পবিত্র কালামুল্লাাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদী অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাস্তবে বার বার বহুভাবে। যেমন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইহুদী মালিকানাধীন বহুজাতিক নব্য নীলকর কোম্পানিগুলি গোল্ডেন রাইস এবং বিটিবেগুন এর মতো জেনেটিক্যালী মডিফাইড ফুড আমদানী করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শতকরা ৬৯ ভাগ চাষযোগ্য অনাবাদী জমি রয়ে গেছে। এই জমিগুলি যদি সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে আবাদ করা হয় তবে এমনিতেই প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি ফলন উপহার নিয়ে আসতে পারে। তাহলে কেন নব্য নীলকরেরা বাংলাদেশে নীলচাষের আধুনিক রূপ জি এম ও ফুডের প্রচলন ঘটাতে চাইছে?

(১)

প্রথমত আমাদের জানতে হবে যে জি এম ফুড আসলে কি

জি.এম. ফুড কি?

জেনেটিক্যাল মডিফাইড (জি.এম.) ফুড এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত খাদ্য শস্য যেখানে বায়োটেকনোলজিক্যাল প্রক্রিয়ায় উঘঅ পুনঃস্থাপন বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষের জিনের পরিবর্ধন সাধন করা হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভিন্ন জাতের কোষ থেকে জিন সংগ্রহ করা হয় বা বিদ্যমান কোষকে পুনঃবিন্ন্যাস করা হয় এবং পরিবর্তিত নতুন কোষের বৈশিষ্ট মূল কোষের বৈশিষ্ট থেকে সর্ম্পূন ভিন্ন হয়ে থাকে।

বস্তুত, জিএমও হচ্ছে জেনেটিক্যালী মডিফাইড অর্গানিজম আবার কখনো কখনো জিইও অর্থাৎ জেনেটিক্যালী ইঞ্জিনিয়ার্ড অর্গানিজম ও বলা হয়। সংক্ষেপে জিএম বা জিই ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃত্রিমভাবে কোনো জেনেটিক ইনফরমেশন, অর্গানিজমে ঢুকিয়ে দিয়েই জিএমও তৈরি করা হয় অর্থাৎ কোনো একটি অর্গানিজমে, কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্যের নিউক্লিওটাইড সিকুয়েন্স অর্থাৎ অ্যালিয়েন ডিএনএ পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে ঢুকিয়ে, অর্গানিজমকে জেনেটিক্যালি মেনিপুলেট করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করা হলে ওই অর্গানিজমকে জিএমও বলে।

গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, জিএম ফসলের অন্য জীব থেকে প্রবেশ দেখানো জেনেটিক ইনফরমেশন, মানুষের স্টোমাক ও ইনস্টেস্টাইনের মাধমে হজম হতে পারে না বা কখনো কখনো রক্তের মাধ্যমে সাধারণ ডিএনএ সাথে মিশে যেতে পারে। আচরণের পরিবর্তন আনে। এর ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ ভাগ বেড়ে যায়। এছাড়া সেক্স ক্রোমোজোমে প্রভাব ফেলতে পারে, এতে সেক্স ইনফার্টিলিটি বা বন্ধাতা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশে অতি সমপ্রতি ক্যান্সার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এর পেছনে পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার, রোগ ও কীটনাশকের অপব্যবহার এবং পানি সরাসরি দায়ী। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে জিএম খাবার।

প্রশ্ন আসতে পাবে ক্যান্সার কেন হয়? আসলে কোনো কারণে যদি দেহের ডিএনএ অর্থাৎ নিউক্লিওটাইড সিকুয়েন্সের কোনো এক বা একাধিক নিউক্লিওটাইডের মিউটেশনে ঘটে গেলে, ওই ডিএনএ খুব দ্রƒত অস্বাভাবিক ক্যান্সার সেল তৈরি করতে থাকে। মানুষের দেহের ইমিওন সিস্টেমে ক্যান্সার সেলগুলোকে শনাক্ত করে এবং কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু যদি দেহের ইমিওন সিস্টেম দুর্বল হয় বা ক্যান্সার সেল সংখ্যায় বেশি হলে তখন খুব দ্রƒত ক্যান্সার বাড়তে থাকে। আর এ ধরনের মিউটেশন সাধারণত বিষাক্ত টক্সিক রাসায়নিক পদার্থ, বিভিন্ন প্রকার রেডিয়েশন (এক্সরে, অতিবেগুনী-রে) এবং বায়োলজিক্যাল কারণে। আর এ বায়োলজিক্যাল কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে জিএমও।

(২)

জিএম শস্যে নতুন নিউক্লিওটাইড বা ডিএনএ ঢোকানোর ফলে, ফুড-এলার্জি তৈরি হতে পারে। জিএম শস্যে মানবদেহে বিভিন্ন এলার্জি বা টক্সিন রিএকশন তৈরি করতে পারে বা জিএমের ভাইরাল ভেক্টর মানবদেহে ভয়ঙ্কর রোগ তৈরি করতে পারে। কোনো কোনো জিএম শস্য তরতাজা দেখা গেলেও, তার পুষ্টি মান অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। জিএম শস্যে কখনো কখনো মানুষের দেহে রোগ-প্রতিরোধী কার্যক্ষমতা তৈরির ক্ষমতাও কমে যায়। প্রাণীর জিন, যদি ফল বা শাকসবজিতে ঢোকানো হয় তবে ওই জিএম শস্য, ভেজিটেরিয়ান-ডাইটে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। জিএমও এর জেনেটিক ইনফরমেশন অন্যান্য রিলেটেড লাইফ ফরমে, পরিবর্তিত বা পরিণত হলে ভারসাম্যহীন ইকোসিস্টেমে পরিণত হবে। জিএম ফসল থেকে, ট্রান্সফারড-জিন, অন্যান্য অর্গানিজমে প্রতিস্থাপন হতে পারে ফলে, জেনেটিক-পলিউশান হতে পারে। জার্নাল অব মেডিসিনাল ফুডে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় যে কিছু কিছু জিএম ফসলের ভাইটাল খাদ্যোৎপাদনের বিশেষ করে ফাইটোএস্ট্রোজেন কম্পাউন্ড পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে।

-মুহম্মদ আব্দুল জাব্বারিউল আউওয়াল।

সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে গোটা অমুসলিম বিশ্ব মুসলিম বিশ্বের মুখাপেক্ষী। সম্মানীত দ্বীন ইসলাম বিমুখ ও ভ্রাতৃত্ববোধের অভাবে সাম্রাজ্যবাদীরা প্রভাব বিস্তার করছে মুসলিম বিশ্বের উপর ভ্রাতৃত্ববোধে বলিয়ান হয়ে মুসলিম বিশ্ব একজোট হলে কাফির  বিশ্ব পদানত হতে বাধ্য।

সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর জোটের যৌথ সামরিক মহড়া ‘গাল্ফ শিল্ড-১’ এর কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। দেশটির আল-জুবাঈর প্রদেশে ওই মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশ অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা এবং ব্যবহৃত সমরাস্ত্রের বিবেচনায় এ মহড়াকে উপসাগরীয় অঞ্চলে হওয়া অন্যতম বৃহৎ সামরিক মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সৌদি আরব মাসব্যাপী এই মহড়ার আয়োজন করে। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, মিশর, জর্ডান, সুদান, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শাদ, জিবুতি, নাইজার, কমোরোস, আফগানিস্তান, ওমান, গায়ানা, তুরস্ক, ও বুরকিনা ফাসো। মুসলিম দেশগুলোর এই সামরিক মহরায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, সারাবিশ্বে সমস্ত মুসলিম দেশগুলোর জোটবদ্ধ সামরিক শক্তি সামনে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে সারা বিশ্বে।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে মুসলিম দেশের সংখ্যা ৬৫টিরও বেশি। এই ৬৫টি দেশের মধ্যে অধিকাংশ দেশই  সামরিক শক্তিতে অত্যন্ত শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সারা পৃথিবীর ৩ কোটিরও বেশি সেনাবাহিনীর অর্ধেকেরও বেশি সেনাবাহিনী মুসলমান। অন্যদিকে, বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর রয়েছে অত্যাধুনিক সমরশক্তি এবং প্রশিক্ষিত সেনাশক্তি। ইতোমধ্যে, তুরস্কের অধীনে “আর্মি অফ ইসলাম” নামের একটি অত্যাধুনিক ইসলামিক সেনাজোট গড়ে তোলা হচ্ছে। যার বাজেটই ধরা হয়েছে ১৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এই জোটে থাকবে সুপ্রশিক্ষিত ৫২ লাখ মুসলিম সেনা। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, সারাবিশ্বে মুসলিম দেশগুলো সামরিক শক্তিতে সমৃদ্ধশালী হলেও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিদের সামরিক আগ্রাসনে বিশ্বের প্রায় মুসলিম দেশগুলোতেই অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধবিধ্বস্থ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, লিবিয়া প্রভৃতি দেশগুলোতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো একজোট হয়ে হামলা চালিয়ে লাখ লাখ নিরীহ মুসলমানদের অকাতরে শহীদ করছে। পাশাপাশি দেশগুলোর সমস্ত প্রকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। অনবরত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বোমা নিক্ষেপ করে পুরো দেশগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্থ অবস্থার সৃষ্টি করছে। মুসলিম দেশগুলোর অত্যাধুনিক সামরিক শক্তি থাকার পরও ইরাকে ৩ লাখ মুসলমানকে শহীদ করা হয়েছে, সিরিয়ায় ৫ লাখ, আফগানিস্থানে ১ লাখ ৩১ হাজার মুসলমানকে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো রক্ষায় অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো কোনো ভুমিকাই রাখতে পারেনি।

অথচ নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদিছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন “মুসলিমরা একটি দেহের ন্যায়।” অর্থাৎ দেহের কোনো এক জায়গায় আঘাত লাগলে যেমন সারা দেহে তা আন্দোলিত হয় তেমনি বিশ্বের কোথাও কোনো মুসলমান সঙ্কটে পড়লে তা সারা বিশ্বে আলোড়িত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, আজকে বিশ্বের প্রায় মুসলিম দেশগুলোই উন্নত ও প্রভাবশালী হলেও তারা কেউই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ইস্তেকামত নেই। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে তারা অনেক দুরে সরে গিয়েছে। বিপরীতে বিধর্মীদের গোলামী করা শুরু করে দিয়েছে। আর এর কারনে মুসলমানদের মধ্যে সম্মানিত ভৃাত্বত্ববোধের অভাব প্রকট হয়ে দাড়িয়েছে। ওআইসি, ডিএইট, আরব লীগের মত প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠনগুলো থাকার পরও ফিলিস্তিনে পরগাছা ইসরাইল অকাতরে মুসলিম ভাইবোনদের শহীদ করে যাচ্ছে। অর্থাৎ মুসলিম বিশ্ব অন্ধ হস্তির ভূমিকা পালন করছে। নাউযুবিল্লাহ!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সারা মুসলিম বিশ্ব যদি আপন ভ্রাতৃত্ববোধে একজোট হয় তাহলে অবিলম্বে মুসলিম বিশ্বের সঙ্কট দুর হয়ে সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। উপরোক্ত মুসলিম বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য দেখে একথা বলা যায় যে, গোটা বিশ্ববাসীই মুসলিম বিশ্বের কাছে ঋণী।

বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব তার জ্বালানি তেল বহির্বিশ্বে রপ্তানি না করলে ইউরোপ-আমেরিকার ইলেক্ট্রনিক, মিডিয়া, প্রযুক্তি, শিল্প-বাণিজ্য সবকিছুতে ধস নেমে আসবে। অমুসলিম বিশ্বের ৮৭ ভাগ বাণিজ্যই মুসলমানের সাথে। অর্থাৎ মুসলমান চাইলেই যে কোনো মুহূর্তে সারাবিশ্ব দখল করে নিতে পারে এবং অমুসলিম বিশ্ব তথা লুটেরা কাফিররা মুসলমান বিশ্বের সম্পদ লুন্ঠন করেই বেঁচে আছে। সুবহানাল্লাহ! আর এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে হাক্বীকিভাবে প্রবেশ এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রসারিত ও প্রতিফলিত করা।

প্রসঙ্গত পবিত্র বিদায় হজ্জ উনার মশহুর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমি তোমাদের জন্য দুটো জিনিস রেখে গেলাম। যতদিন পর্যন্ত তা আঁকড়িয়ে ধরবে ততদিন পর্যন্ত সাফল্যের শীর্ষে থাকবে। আর যখন তা থেকে বিচ্যুত হবে তখনই লাঞ্ছিত, পদদলিত হবে।” বলার অপেক্ষা রাখেনা মুসলমান আজ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে বঞ্চিত বলেই এরূপ লাঞ্ছিত পদদলিত হচ্ছে। দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। এর থেকে নাযাত বা মুক্তি পেতে হলে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুসরণ ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুসরণের মাধ্যমে মুসলমানরা পূর্বে যেভাবে সারা পৃথিবী শাসন  করেছে সেই পরিস্থিতি আবার সৃষ্টি হবে। ইনশাআল্লাহ!

-মুহম্মদ আশরাফুল মাহবূবে রব্বানী, ঢাকা।

২৬শে মার্চ নয় ৭ই মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন যথাযোগ্য। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে যে ওয়াদা ছিল পশ্চিমারা জালিম ও জাহিল হওয়ায় তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানের জন্য যা করেছেন তা ভক্তদের অনুসরণ করা দরকার। দেশে পরিপূর্ণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতিফলন ব্যতীত মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো সম্ভব নয়।

বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংস হত্যাকা- ঘটনার কলঙ্কজনক ২৫ মার্চের কালো রাত পার হয়ে আজ ২৬শে মার্চের সোনালী সকাল, সোনালী দিন। আজকের দিনকে বলা হয় স্বাধীনতা দিবস। এ দিনে কোনো একজনকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক করা হয়। কিন্তু এ বিতর্ক ঠিক নয়। প্রসঙ্গত কেউ একজন ঘোষণা দিল আর গোটা জাতি সে ঘোষণা নির্বিবাদে মেনে নিল এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লো এমন দাবী অমূলক। জনতা থেকেই নেতার আবির্ভাব। জনতার সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলনেই নেতার সংগ্রামী মনোভাব। জনতার সংগ্রামী বহ্নি একদিনে তৈরী হয়না। এদেশেও তৈরী হয়নি। এটা তৈরী হয়েছে ৬৬ এর ৬ দফা থেকে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান থেকে। ৭০ এর নির্বাচনের ফলাফল না মেনে নেয়ায় সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে। এক্ষেত্রে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বলতে হয় মূলত ২৬শে মার্চ নয় বরং ৭ই মার্চই এদেশের স্বাধীনতা দিবস হওয়ার যথাযোগ্য। ৭ই মার্চের জনসমুদ্রে থেকে থেকে জলদগম্ভীর কণ্ঠে শ্লোগান উঠেছে ‘বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর, এদেশকে স্বাধীন করো।’ জনগণের হাতে হাতে ছিল লাঠি আর জাতীয় পতাকা। বলাবাহুল্য জনগণের এই স্বাধীনচেতা মনোভাবের স্ফুলিঙ্গে ঝলসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দারাজ গলায় বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। …. রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিব; এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো। ইনশাআল্লাহ!

আকলমন্দ লিয়ে ইসরাই ক্যাফি হ্যায়। মূলতঃ সেদিন জনগণের এসব অভিব্যক্তিস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় যে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ছিলেন তাতে ৭ই মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করলেই একদিকে তা যেমন যুক্তিযুক্ত হয় অপরদিকে বঙ্গবন্ধুকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা যায়।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু ভক্তদের বঙ্গবন্ধু বলা মানানসই না। ভক্তরা এখন বঙ্গপিতা বলতে পারে। ভক্তরা বঙ্গমাতা বলেন। কিন্তু মাতার স্বামী বন্ধু হয় কি করে। আর বন্ধুপত্মী তো ভাবী হয়, মাতা হয় কী করে। সঙ্গতকারণেই বঙ্গবন্ধু ভক্তদের বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে জানা উচিত। অনুসরণ করা উচিত।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক বঙ্গবন্ধু প্রেমিক দাবীদাররাই বঙ্গবন্ধুকে ঠিকমতো জানেনা। তার সম্পর্কে পড়াশোনা করেনা। হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে জীবন বাজি রেখে অসাধারণ মেধা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে বঙ্গবন্ধু কী করে বার বার মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছেন, পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করেছেন তা এ যুগের অতি আওয়ামী লীগাররা জানেও না জানার চেষ্টাও করেনা। আজকের অতি আওয়ামী লীগাররা জানেওনা যে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত কৌশল, সাহসিকতা ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়ে সিলেটকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনেও বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান দস্তর হোড়া আল কুরআন। এই ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মূল দর্শণ। বঙ্গবন্ধু ছিলেন এই দর্শনের সার্থক অভিযাত্রী। তাই ৭০ এর নির্বাচনে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাশ হবেনা। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মোতাবেকই দেশ চলবে। এবং সত্যিকার অর্থে সেদিন এই সম্মানিত ইসলামী আশ্বাসেই দেশের ৯৮ভাগ জনগোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু আজকের অতি আওয়ামী লীগাররা সে কথা বেমালুম চেপে যায়। অথচ দমননীতি কখনো সুখকর নয়। তারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বার বার বলেছেন ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। অর্থাৎ ধর্ম বা দ্বীন তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। পাকিস্তান হয়েছিল পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্যই। এখন যদি জালিম, ফাসিক পশ্চিম পাকিস্তান মরে যায়, পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে, তবে নীতিগতভাবে এবং যৌক্তিকভাবে বাংলাদেশের উপরই দায়িত্ব পরে মূল ভিত্তি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর থাকা। বঙ্গবন্ধু আজীবন এই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর থাকতে চেয়েছেন। তাই তিনি সদর্পে বলেছিলেন, আমি মুসলমান। মুসলমান একবার মরে বার বার মরেনা।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা উত্তর সংসদ অধিবেশনেও বলেছিলেন আমি সদাপরামর্শ চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ দেননি। প্রসঙ্গত যারা ভারতের জাতীয় কবি রবীন্দ্রের কবিতা বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত করার পরামর্শ দিয়েছিল তারা অত্যন্ত ভুল পরামর্শ দিয়েছিল। কারণ রবীন্দ্র ছিল হিন্দুভাষা প্রেমিক, ভারত প্রেমিক এবং বাঙ্গালী বিদ্বেষী। এ জন্য বঙ্গবন্ধুকে রবীন্দ্র মিথ্যা বলেছিল। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর প্রথম দেশে ফিরেন ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি তার ভাষণে বলেছিলেন, রবীন্দ্রের কথা এদেশবাসী মিথ্যা প্রমাণ করেছে। রবীন্দ্র বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু আরো বলেছিলেন, আমি পিন্ডির গুহা থেকে মুক্তি লাভ করে ভারতের গর্তে ঢুকতে পারিনা।

বঙ্গবন্ধু ধর্মের নামে রাজনীতি তথা অধর্ম করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু ধর্ম পরিপূর্ণভাবে পালন করতে বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর হস্তক্ষেপেই স্বাধীনতাত্তর মাদরাসাগুলো চালু হয়েছিল। পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ চালু হয়েছিল। পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চালু হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, যে দেশের গরীব জনসাধারণ জমি বিক্রি করে পবিত্র হজ্জ পালন করতে চায় তাদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনে বাধা দিয়ে সুফল আসবেনা।

কাজেই ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী যাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্য পকিস্তান করেছিল তারা সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্যই বাংলাদেশ করেছে একথাই সত্য।

স্মর্তব্য সংবিধানের শুরুতে বলা হয়েছে, “এই শাষণতন্ত্র শহীদের রক্তে লেখা”। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হয়, ‘শহীদ’ সম্পূর্ণই ইসলামী ভাবধারার শব্দ। সুতরাং তাদের রক্তে লেখা সংবিধান ইসলামী মূল্যবোধ ও বিশ্বাসে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

সঙ্গতকারণেই আমরা তাই বলি, মুসলমানদের সে অধিকার সত্যিকার অর্থে দেয়া হোক। মুসলমানকে সুদ-ঘুষ, গান-বাজনা, ছবি, খেলাধুলা, বেপর্দা-বেহায়াসহ সব হারাম মুক্ত ইসলামী আবহ দেয়া হোক। কিন্তু বাস্তবে ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানরা সে অধিকার থেকে বঞ্চিত। মুসলমানদের সে অধিকার এখনো দেয়া হয়নি। যা দেয়া হয়েছে তা আংশিক মাত্র। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অস্বীকার করবে?”

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন- “তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যা মিশ্রিত করো না”। অর্থাৎ ইসলামের সাথে অনৈসলাম মিশ্রিত করো না।

সুতরাং মুসলমানদের দ্বীন পালনে পরিপূর্ণ ইসলামী পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মুসলমানরা ধর্মীয় স্বাধীনতা পেয়েছে তা বলা যাবে না। দেশের স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হবে যখন দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান তাদের দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ এবং স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা।

শব্দদূষণ এক নীরব ঘাতক। বাড়ছে বিবিধ রোগীর সংখ্যা; মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ার পথে শিশুরা। রাজধানীতে শব্দদূষণ রোধে বিকেন্দ্রিকরণই একমাত্র সমাধান।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে শব্দ দূষণ এক নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। শব্দ দূষণ এখন জীবনবিনাশী ‘শব্দ সন্ত্রাস’ নামে পরিচিত। দূর্বিষহ করে তুলেছে জনজীবন। শব্দ দূষণের উৎসগুলো আপনার আমার সবার নাগালের মধ্যে। যেমন, বিয়ে বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইকে গান বাজানো যেন একটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে আইন থাকলেও তার তেমন কোনো প্রয়োগ নেই বললেই চলে। কিন্তু এর পরিণতি যে ভয়াবহ তা আমরা একবারও কানে তুলছি না। এক গবেষণায় জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকার মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ কানে কম শুনবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়। বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদ- বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ- এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদ- বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের তেমন কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে শব্দ দূষণকারীরা যেমন আইনের তোয়াক্কা করছে না, তেমনি অসচেতনরা প্রতিনিয়ত শব্দকে দূষণ করে জনজীবনকে বিষিয়ে তুলছে। ভুক্তভোগী মানুষগুলো এর ফল সঙ্গে সঙ্গে না পেলেও এর পরিণাম যে সুদূরপ্রসারী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বলে আমি মনে করি।

শব্দ দূষণের বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে আমরা সরকারি কোনো সংস্থার কার্যক্রম লক্ষ্য করি না। তাদের আশায় বসেও থাকতে পারে না সচেতন মহল। বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ সম্প্রতি ঢাকা শহরের ১০টি স্থানের শব্দ পরিমাপ করে দেখেছে। ঢাকায় নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি শব্দ সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখন শব্দের সার্বক্ষণিক গড় মাত্রা ১০০ ডেসিবেল। ঢাকায় সাধারণভাবে যানবাহন ও হর্নের শব্দই শব্দ দূষণের মূল কারণ। তবে এর বাইরে রাজনৈতিক, অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা আরো কয়েকটি বড় কারণ। আজকাল প্রতিটি দিন শহরের কোথাও না কোথাও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে মাইক কিংবা সাউন্ড বক্সে গান বাজাতে শোনা যায়। কোনো অনুষ্ঠান বা উপলক্ষ লাগে না, স্থানীয় লোকজন দোকানপাট কিংবা বাসার ছাদে তীব্র শব্দে গান-বাজনা ছেড়ে দেয়। এছাড়া শহরে প্রয়োজনীয় কাজে যারা মাইক ব্যবহার করে, তারা কেউই সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে শব্দের মানমাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টি করে শব্দ দূষণ করে। এতে যেমন আপামর সবার সমস্যা হয়, তেমনি সচেতনরা বিরক্ত বোধ করে। মোটের উপর অধিকাংশ লোকজন শব্দ দূষণের কারণে অতিষ্ঠ সবসময়। এছাড়া যদি আমরা ঘরোয়া শব্দ দূষণের দিকটি বিবেচনায় নেই তাহলে পাইলিং, ড্রিলিং এগুলোর শব্দ তো আছেই।

এ কথা সত্য যে, আজকাল সর্বত্র শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো আমাদের তাড়া করে ফিরছে। আমাদের অর্থনীতির একটা বড় অংশ আজ সেখানে নষ্ট হচ্ছে। কেননা, উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, আলসার হওয়ার কারণে এসব থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের কাছে ঢালতে হচ্ছে অপরিমেয় টাকা। চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে বিদেশে। শব্দ দূষণের কারণে মেজাজ খিটমিটে ও বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। শব্দ দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্করা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শব্দ দূষণের প্রভাব বেশ স্পর্শকাতর। যেমন, মায়ের গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দ দূষণের কবলে পরে ক্ষতির শিকার হতে পারে। অর্থাৎ তাদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া শিশুদের বেড়ে ওঠায় বাধাগ্রস্ত হয় এবং গর্ভবতী নারীদের বিকলাঙ্গ বা মৃত সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেগাসিটি। রাজধানী হওয়ার সুবাদে প্রতিনিয়ত জনজট বাড়ছে রাজধানীতে। এক হিসেবে, প্রতি বছর রাজধানীতে ৫ লাখ করে লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব লোকের চাহিদা অনুসারে রাজধানীতে বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। এতে করে দেখা যাচ্ছে, এসব যানবাহনের শব্দে রাজধানীবাসী মারাত্মক শব্দ ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। সেইসাথে দেশের বেশিরভাগ প্রধান কলকারখানাগুলো রাজধানীকেন্দ্রিক করা হয়েছে। এসব কলকারখানার মেশিনের শব্দে এবং যানবাহনের শব্দে রাজধানীতে ভয়াবহ শব্দদূষণ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছে।

অথচ রাজধানীকেন্দ্রিক এই জনজট কমাতে পারলেই শব্দদূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ যদি জনজট কমানো যায়, তাহলে রাজধানীর যানবাহন সংখ্যাও কমে যাবে। এতে করে যানবাহন সৃষ্ট শব্দদূষণও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সারাদেশ থেকে মূলত মানুষ রাজধানীতে আসে কর্মের খোঁজে, প্রশাসনিক কাজে, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে, আইনি সেবা ইত্যাদি নেয়ার জন্য রাজধানীতে আসছে। আর সেক্ষেত্রে সরকার যদি রাজধানীকে বিকেন্দ্রীকরণ করে, তাহলে এই জনজট তথা যানজট বা শব্দজট সারাদেশে ভাগ হয়ে যায়। যদি রাজধানীর বড় বড় হাসপাতাল, কলকারখানা, চাকরিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়, আইনি কার্যালয় ইত্যাদি দেশের প্রত্যেকটি জেলায় ছড়িয়ে দেয়, তাহলে মানুষ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে সেসব জেলাগুলোতেও ছুটবে। এতে করে চাপ কমে আসবে রাজধানীর উপর এবং যানবাহন সংখ্যাও কমে গিয়ে রাজধানীর জন্য সহনীয় হয়ে শব্দদূষণ কমে যাবে।

সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব হয়, তাহলে সরকারের উচিত হবে- রাজধানীর বিকেন্দ্রীকরণ করে রাজধানীবাসীকে নীরব ঘাতক ‘শব্দদূষণ’ থেকে মুক্তি দেয়া।

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান, ঢাকা।

ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি ও ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা-৫০

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৩ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫১

‘থার্টিফাস্ট নাইট, ভালেন্টাইন ডে আর পহেলা বৈশাখের’ নামে হুজ্জোতির জন্য ধর্মব্যবসায়ীদের কৌশলগত নিষ্ক্রীয়তা, স্বার্থবাদী মৌসুমী রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সংস্কৃতি বিপননকারীদের দূরভিসন্ধিতা ও মধ্যবিত্তের  তত্ত্ব-তালাশহীন প্রবণতা তথা হুজুগে মাতা প্রবৃত্তিই দায়ী

অবশেষে জামাতীরা স্বীকার করিল যে, মুক্তি পাইতে চাহিলে মুরীদ হইতে হয়। আল্লাহ পাক-এর ওলী বা দরবেশ হইতে পারিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জামাতীরা তাহা নয় বলিয়াই আখিরাত তো দূরের কথা দুনিয়াতেই তাহারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার। আর মইত্যা রাজাকারের ফতওয়া অনুযায়ী তো- তাহাকেই কতল করা ওয়াজিব।