মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদী বা হিদায়াতদানকারী

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একমাত্র যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদী বা হিদায়াতদানকারী। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম মাক্বাম হিসেবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদী বা হিদায়াতদানকারী। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টি স্বয়ং যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে ফায়ছালা মুবারক করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে উদ্দেশ্য মুবারক করে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاذْكُرْنَ مَا يُــتْلـٰى فِـىْ بُــيُـوْتِكُنَّ مِنْ اٰيٰتِ اللهِ وَالْـحِكْمَةِ

অর্থ: “আপনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফসমূহে যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক নাযিল হয়েছেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, সেগুলো থেকে আপনারা জিন-ইনসানকে, সমস্ত সৃষ্টিকে ওয়াজ করুন, নছীহত করুন, তাদেরকে হিদায়াত করুন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে স্বয়ং যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিলাফত মুবারক দিয়েছেন, উনারা যেন জিন-ইনসানকে, সমস্ত সৃষ্টিকে ওয়াজ-নছীহত মুবারক করেন, তা’লীম-তালক্বীন মুবারক দেন, তাদেরকে হিদায়াত দান করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

خُذُوْا نِصْفَ دِيْــنِكُمْ مِنْ هٰذِهِ الْـحُمَيْـرَاءِ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে তোমরা সম্মানিত দ্বীন শিক্ষা করো।” সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন,

خُذُوْا نِصْفَ دِيْــنِكُمْ مِنْ هٰوُلَاءِ حَضْرَتْ اُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِـيْـنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَامُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কাছ থেকে তোমরা সম্মানিত দ্বীন শিক্ষা করো।” সুবহানাল্লাহ!

তাই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকেসহ সমস্ত সৃষ্টিকে সম্মানিত তা’লীম মুবারক দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে কতিপয় উল্লেখ করা হলো-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ مُوْسٰى رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْهُ قَالَ مَا اَشْكَلَ عَلَيْـنَا اَصْحَابَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيْثٌ قَطُّ فَسَاَلْنَا اُمَّ الْـمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) اِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا

অর্থ: “বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম যখনই কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বুঝতে অসুবিধা বোধ করেছি, তখনই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেছি এবং এ বিষয়ে সঠিক ইলিম মুবারক অর্জন করেছি, সঠিক ফায়ছালা মুবারক পেয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (মুয়াত্ত্বা শরীফ, তিরমিযী শরীফ, জামি‘উল মাসানীদ ইত্যাদি)

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মাসরূক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

وَالَّذِىْ نَـفْسِىْ بِيَدِهٖ لَـقَدْ رَاَيْتُ مَشْيَخَةَ اَصْحَابِ سَيِّدِنَا مَوْلـٰـنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاَكَابِرَ يَسْاَلُوْنَـهَا عَنِ الْفَرَائِضِ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, যাঁর কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার প্রাণ মুবারক! অবশ্যই আমি বড় বড় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে দেখেছি, উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে ইলিমে ফারায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন (এবং এ বিষয়ে সঠিক ইলিম মুবারক অর্জন করেছেন)।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব  ৬/২৩৯, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ২৩/১৮১, ত্ববাকাতে ইবনে সা‘দ)

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ‘আতা ইবনে আবী রবাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

كَانَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةُ سَيِّدَتُـنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةُ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ اَفْـقَهَ النَّاسِ وَاَعْلَمَ النَّاسِ وَاَحْسَنَ النَّاسِ رَاْيًا فِـى الْعَامَّةِ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সকল মানুষের মাঝে অধিক সমঝদার, অধিক ইলিম মুবারক উনার অধিকারিণী এবং সর্বজনের মধ্যে তথা সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সম্মানিত ফায়ছালা মুবারক প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম ৪/১৬, ‘উয়ূনুল আছার ২/৩৬৯)

দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ইযালাতুল খফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,

بَــيْـنَا سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ) ذَاتَ لَـيْـلَةٍ يَّـعُسُّ سَـمِعَ صَوْتَ امْرَاَةٍ مِّنْ سَطْحٍ وَّهِىَ تُــنْشِدُ

تَطَاوَلَ هٰذَا اللَّيْلُ وَازْدَرَّ جَانِـبُهٗ

 وَلَـيْسَ اِلـٰى جَنْبِـىْ خَلِيْلٌ اُلَاعِبُهٗ

 فَـوَاللهِ لَوْ لَا اللهُ لَا شَيْئٌ غَيْـرُهٗ

 لَزَعْزَعَ مِنْ هٰذَا السَّرِيْرِ جَوَانِبُهٗ

 مَـخَافَةُ رَبِّـىْ وَالْـحَيَاءُ يَصُدُّنِـىْ

 واُكْرِمُ بَـعْلِـىْ اَنْ تُـنَالَ مَرَاكِـبُهٗ

فَـقَالَ سَيِّدُنَـا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَا حَوْلَ وَلَا قُـوَّةَ اِلَّا بِاللهِ مَاذَا صَنَـعْتَ يَـا سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـنِسَاءِ الْمَدِيْـنَةِ ثُـمَّ جَاءَ فَضَرَبَ الْبَابَ عَلـٰى اُمِّ الْـمُؤْمِنِـيْـنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلرَّابِعَةِ اِبْـنَةِ اَبِـيْـهَا عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) اِبْـنَتِهٖ فَـقَالَتْ مَاجَاءَ بِكَ فِـىْ هٰذِهِ السَّاعَةِ قَالَ اَخْبِرِيْـنِـىْ كَمْ تَصْبِـرُ الْمَرْاَةُ الْمَغِـيْـبَةُ عَنْ اَهْلِهَا قَالَتْ اَقْصَاهُ اَرْبَـعَةُ اَشْهُرٍ فَـلَمَّا اَصْبَحَ كَـتَبَ اِلـٰى اُمَرَائِهٖ فِـىْ جَـمِيْعِ النَّـوَاحِىْ اَنْ لَّا تُـجَمِّرَ الْبُـعُوْثُ وَاَنْ لَّا يَغِـيْبُ رَجُلٌ عَنْ اَهْلِهٖ اَكْثَـرَ مِنْ اَرْبَـعَةِ اَشْهُرٍ

অর্থ: “এক রাতে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ঘুরে ঘুরে জনগণের অবস্থা দেখছিলেন। তখন তিনি এক ঘরের ছাদ থেকে একজন মহিলার আওয়াজ শুনতে পান। মহিলা কবিতা পাঠ করছেন- ‘এ রাত দীর্ঘ হয়ে গেছে, আঁধারও ছেয়ে গেছে অথচ আমার পাশে বন্ধু নেই যার সাথে মন দেয়া-নেয়া করব। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি না হতেন, তাহলে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলনা বাধা দেয়ার। তখন এ খাটের সর্বাংশ অবশ্যই কাঁপতে থাকত। নিজ প্রতিপালকের ভয় ও লজ্জা আমাকে বাধা দিচ্ছে। তা ছাড়া নিজ স্বামীর মর্যাদাবোধ আমার রয়েছে। তাই তার সওয়ারীতে আমি তো অন্য কাউকে আরোহী করতে পারি না।’

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এই কবিতা শুনে বলে উঠলেন, লা-হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মহিলা উনাদের সাথে কিরূপ আচরণ করতেছেন? অত:পর তিনি গিয়ে নিজের মহাসম্মানিত মেয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার দরজা মুবারক-এ কড়া নাড়লেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম তিনি এগিয়ে এসে বললেন, কী কারণে আপনি এই সময় এখানে উপস্থিত হয়েছেন? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, দয়া করে আমাকে সংবাদ মুবারক দিন- কোনো মহিলার আহাল (স্বামী) দূরবর্তী স্থানে বা বিদেশে থাকা অবস্থায় মহিলা তার আহালের জন্য কতদিন ধৈর্য ধারণ করতে পারে? তিনি জবাব মুবারক দিলেন, ‘খুব বেশী হলে চার মাস।’ অত:পর সকাল হওয়া মাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সমস্ত গভর্নর বা দায়িত্বশীল উনাদের নিকট লিখিত ফরমান পাঠালেন- কোনো সৈন্যকে যেন বেশী দিন আটকে না রাখা হয়। বিশেষত বিবাহিত সৈনিকদের যেন চার মাস পরপর ছুটি দেয়া হয়।” সুবহানাল্লাহ!

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সফর মুবারক-এ ছিলেন। এই সন্ধির অনেক শর্তাবলী বাহ্যিকভাবে সম্মানিত মুসলমান উনাদের স্বার্থ বিরোধী ছিল। এ কারণে সাধারণভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা কাফিরদের উপর মনক্ষুন্ন ছিলেন। উনারা সন্ধির শর্তগুলির পরিবর্তন কামনা করছিলেন। কিন্তু সন্ধির শর্ত অনুসারে যেহেতু কারোই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফে যাওয়ার উপায় ছিল না। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমভাবে ঘোষণা মুবারক করে দেন- সবাই যেন হুদায়বিয়া নামক স্থানে নিজ নিজ আনিত পশুগুলি কুরবানী করে দেন। পর পর তিন বার তিনি ঘোষণা মুবারক দেন, কিন্তু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক পালনের কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে পরামর্শ মুবারক করলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। দয়া করে আপনি কাউকে কিছু না বলে বাহিরে গিয়ে নিজের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরবানী মুবারক করুন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র চুল মুবারক) মুণ্ডন করুন এবং সম্মানিত ইহরাম উনার কাপড় মুবারক খুলুন। তাহলে আপনার অনুসরণ মুবারক করে সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরবানী মুবারক করবেন, মাথার চুল মু-ন করবেন এবং ইহরামের কাপড়ও খুলে ফেলবেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরামর্শ মুবারক অনুযায়ী তাই করলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ মুবারক করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সকলেই তৎক্ষণাৎ নিজ নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরবানী মুবারক করেন, মাথার চুল মুণ্ডন করেন এবং ইহরামের কাপড় খুলে ফেলেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরামর্শ মুবারক উনার মাধ্যমে মূহূর্তের মধ্যে একটি কঠিন সমস্যার সামাধান হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মুসনাদে আহমদ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,

عَنْ حَضْرَتْ نُدْبَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْـهَا مَوْلَاةِ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلثَّالِثَةِ عَشَرَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ اَرْسَلَـتْنِـىْ اُمُّ الْمُؤْمِنـِيْـنَ سَيِّدَتُـنَا حَضْرَتْ اَلثَّالِثَةُ عَشَرَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ اِلَـى امْرَاَةِ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَتْ بَــيْـنَـهُمَا قَـرَابَةٌ فَـرَاَيْتُ فِرَاشَهَا مُعْتَزِلًا فِرَاشَهٗ فَظَـنَـنْتُ اَنَّ ذٰلِكَ لِـهِجْرَانٍ فَسَاَلْـتُـهَا فَـقَالَتْ لَا وَلٰكِنِّـىْ حَائِضٌ فَاِذَا حِضْتُ لَـمْ يَـقْرَبْ فِرَاشِىْ فَاَتَــيْتُ اُمَّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اَلثَّالِثَةَ عَشَرَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ فَذَكَرْتُ ذٰلِكَ لَـهَا فَـرَدَّتْنِـىْ اِلـٰى حَضْرَتْ اِبْنِ عَـبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَـقَالَتْ اَرَغْبَةً عَنْ سُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـنَامُ مَعَ الْمَرْاَةِ مِنْ نِّسَائِهِ الْـحَائِضِ وَمَا بَــيْـنَـهُمَا اِلَّا ثَـوْبٌ مَّا يُـجَاوِزُ الرُّكْـبَـتَــيْـنِ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার বাঁদী হযরত নুদ্বাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে (উনার সম্মানিতা বোন উনার ছেলে তথা উনার সম্মানিত ভাগিনা) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার নিকট পাঠালেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের সম্পর্ক খুব গভীর ছিলো। কিন্তু আমি দেখলাম যে, উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার বিছনা মুবারক এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত বিছানা মুবারক থেকে পৃথক। অর্থাৎ উনারা উভয়ে পৃথক পৃথক বিছানায় শয়ন করেছেন। ফলে আমি ভাবলাম যে, নিশ্চয়ই এটা জুদায়ীর লক্ষণ। অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে জুদায়ী ঘটতে পারে। তখন আমি উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি জবাবে বললেন যে, না; বরং আমি স্বাভাবিক মাজুরতার মধ্যে আছি। যখন আমি স্বাভাবিক মাজুরতার মধ্যে থাকি, তখন তিনি আমার বিছানার নিকটবর্তী হন না। (যার কারণে আমরা উভয়ে এখন আলাদা বিছানায় শয়ন করেছি।) তারপর আমি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট এসে এ বিষয়টা আলোচনা করলাম। অর্থাৎ উনাকে পুরো বিষয়টা খুলে বললাম, তখন তিনি আমাকে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা উনার নিকট পাঠালেন। (উনাকে ডেকে আনার জন্য। যখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা তিনি উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসলেন, তখন) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা উনাকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, আপনি কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত মুবারক থেকে দূরে সরে গেছেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখনও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে (একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছানা মুবারক-এ) ঘুমাতেন, যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শা’নিশ শাহ্রিয়্যাহ্ মুবারক (স্বাভাবিক মাজুরতা) প্রকাশ করতেন। এই অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে শুধু একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাপড় মুবারক থাকতো, যা দুই হাঁটু মুবারক অতিক্রম করতো।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৪৪/৪০২, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ২৪/১২)

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক্ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম ত্ববারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারাসহ আরো অন্যান্য ইমাম মুজতাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের নিজ নিজ কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

عَنْ حَضْرَتْ مَنْـبُـوْذٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ عَنْ اُمِّهٖ قَالَتْ كُـنْتُ عِنْدَ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلثَّالِثَةِ عَشَرَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) فَاَتَاهَا حَضْرَتْ اِبْنُ عَـبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَـقَالَتْ يَا بُــنَـىَّ مَا لَكَ شَعِثًا رَاْسُكَ قَالَ حَضْرَتْ اُمُّ عَمَّارٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْـهَا مُرَجِّلَتِـىْ حَائِضٌ قَالَتْ اَىْ بُــنَـىَّ وَاَيْنَ الْـحَيْضَةُ مِنَ الْيَدِ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلـٰى اِحْدَانَـا وَهِىَ حَائِضٌ فَـيَضَعُ رَاْسَهٗ فِـىْ حِجْرِهَا فَـيَـقْرَاُ الْقُرْاٰنَ وَهِىَ حَائِضٌ

অর্থ: “হযরত মানবূয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান উনার থেকে বর্ণনা করেন। উনার সম্মানিতা আম্মাজান তিনি বলেন, (একদা) আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট ছিলাম। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার নিকট আসলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, হে বৎস! কি ব্যাপর, আপনার মাথার চুল মুবারক এলোমেলো কেন? তিনি বলেন, হযরত উম্মু ‘আম্মার রহমাতুল্লাহি আলাইহা (আমার সম্মানিতা আহলিয়াহ্) তিনি আমার চুল মুবারক পরিপাটি করে থাকেন। তিনি এখন স্বাভাবিক মাজুরতায় আছেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হে বৎস! হাতে কি কিছু থাকে? আমরা যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শা’নিশ শাহরিয়্যাহ্ মুবারক-এ (স্বাভাবিক মাজুরতায়) থাকতাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের নিকট আসতেন এবং আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক) রাখতেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৪৪/৩৯২, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব ১/৩২৫, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্বাবারানী ২৪/১৪৪, মুসনাদে হুমাইদী ১/৩১৬, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/১৮৪ ইত্যাদি)

উপরোক্ত বর্ণনা মুবারক দ্বারা প্রমাণিত হলেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদী বা হিদায়াতদানকারী। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানিত দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের বদৌলতেই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলে সম্মানিত ইলিম মুবারকসহ সমস্ত প্রকার সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক হাছিল করেছেন, করছেন এবং অনন্তকাল যাবত হাছিল করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

আর উনাদেরই পরিপূর্ণ হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বামে হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল কায়িনাত, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনিও সমস্ত জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য, সমস্ত সৃষ্টির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদী বা শায়েখ। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে শাওওয়াল শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ বা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা দু’জন ছাড়া আমি সবার শায়েখ। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!)… আর তোমরা যদি মনে করো- তোমাদের হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম তিনি আমার পরে ক্বয়িম মাক্বাম, তাহলে উনি তো পুরুষ-মহিলা সবার জন্যই শায়েখ। (সুবহানা উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম!) উনি পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান সবার-ই শায়েখ। (সুবহানা উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম!) মহিলারা খালি মহিলাদের শায়েখ হবে আর পুরুষরা পুরুষের শায়েখ হবে, এটা কোথায় আছে?”

তাই কেউ যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী মুহাব্বত-মা’রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে চায়, তাদের জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনার সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা। সুবহানা হযরত উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম!

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ছিদ্দীকুর রহমান।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক