মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অনুসরণ

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ هٰذَا الْعِلْمَ دِيْنٌ

অর্থ: “নিশ্চয়ই সম্মানিত ইলিমই হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম।” (মুসলিম শরীফ, সুনানে দারিমী শরীফ)

আর সম্মানিত ইলিম বলতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সম্মানিত ইলিমকে বুঝানো হয়েছে। যেমন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْاٰنَ

অর্থ: “ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চরিত্র মুবারকই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, দালায়িলুন নুবুওয়াহ)

অনুরূপ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اُوْتِيْتُ الْقُرْاٰنَ وَمِثْـلَهٗ مَعَهٗ

অর্থ: “আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং উনার সাথে উনার অনুরূপ বিধান (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ) দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ হচ্ছেন ওহীয়ে মাতলূ আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ হচ্ছেন ওহীয়ে গইরে মাতলূ। এ দু প্রকার ওহী মুবারকই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদর্শ মুবারক।

কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা মুবারক বলেননি, কোন কাজ মুবারক করেননি এবং কোন সম্মতি মুবারকও প্রকাশ করেননি। তিনি কোন সমাজ বা কোন দেশ বা কোন ব্যক্তিকে অনুসরণ করেননি। তিনি শুধুমাত্র অনুরসণ করেছেন যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারককে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক উনার নামই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى  إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُّـوْحٰى

অর্থ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা মুবারক বলেননি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُـوْحٰى إِلَيَّ

অর্থ: আমি তো কেবল ওই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারকই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক করা হয়। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহক্বাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৯)

কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যারা বিশ্বাসী বা অনুসারী মু’মিন মুসলমান উনাদেরকে তো অবশ্যই বরং জিন, ইনসান, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামসহ সমস্ত সৃষ্টির জন্য একমাত্র অনুসরণীয় অনুকরণীয় এবং মহান আদর্শ মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَة

অর্থ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উসওয়াতুন হাসানাহ বা সর্বোত্তম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আর্দশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

সুতরাং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই সর্বক্ষেত্রে এবং সর্ববিষয়ে অনুসরণ মুবারক করতে হবে এবং উনারই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদর্শ মুবারক বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদর্শ মুবারক বা  মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনই হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَإِنْ تُطِيْـعُوْهُ تَـهْتَدُوْا

অর্থ: যদি তোমরা তোমাদের যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্বায়াত বা অনুসরণ করো তথা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করো তাহলেই তোমরা হিদায়েত প্রাপ্ত হবে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্বায়াত বা অনুসরণ করলে তথা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করলে উম্মত হিদায়েত প্রাপ্ত হবে। আর যদি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন না করে তাহলে সে হিদায়েত পাবে না। বরং সে গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ!

যেমন এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَلَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ

 অর্থ: যদি তোমরা তোমাদের যিনি মহাসম্মানিত ও  মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক ছেড়ে দাও তাহলে অবশ্যই তোমরা গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

এক্ষেত্রে বলা কিংবা চিন্তা করার কোন অবকাশ বা সুযোগই নেই যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন এক বিষয় আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন অন্য বিষয়। বরং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন একই বিষয়ের নাম।

সুতরাং, কেউ যদি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন করতে চায় বা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন করার দাবী করে তাকে সর্বক্ষেত্রে ও সর্ববিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন বা অনুসরণ করতে হবে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন ব্যতীত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালনের দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ মর্মে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لَا يُـؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَـبَـعًا لِّمَا جِئْتُ بِهٖ

অর্থ: তোমাদের কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না যে পর্যন্ত আমি যা নিয়ে এসেছি (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ) উনার অনুসারী সে না হবে। (মিশকাত শরীফ, শরহুস সুন্নাহ শরীফ ইত্যাদি)

অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ইবাদত বন্দেগী করেছেন, করতে বলেছেন, যা খেয়েছেন, খেতে বলেছেন, যা পরেছেন বা পরতে বলেছেন, যা ব্যবহার করেছেন বা করতে বলেছেন, যেভাবে চলাফেরা করেছেন, করতে বলেছেন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক রয়েছে। অর্থাৎ তিনি পরিপূর্ণ আদর্শ বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক রেখে গেছেন।

উনার সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক বা আদর্শ মুবারক পালনের লক্ষ্যেই মহাসম্মানিত আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আন্তর্জাতিক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’।

এখন কেউ যদি সত্যিই হিদায়েত, রহমত, শাফায়াত, নাজাত, জান্নাত, নিয়ামত, দিদার ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চায় তাকে অবশ্যই রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং উনার প্রতিষ্ঠিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত ও সম্পৃক্ত হতে হবে। আল্লাহুম্মা আমীন!

-মুফতী শুয়াইব আহমদ।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক