মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা জান্নাত উনার মুহতাজ নন; বরং জান্নাত উনাদের মুহতাজ নিজের ওজুদ মুবারক বজায় রাখার জন্য। কাজেই প্রকৃতপক্ষে উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক

সংখ্যা: ২৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصّـِدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ حَجَّ بِـنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ فَمَرَّ بِـىْ عَلـٰى عَـقَـبَةٍ بِالْـحَجُوْنِ وَهُوَ بَاكٍ حَزِيْنٌ مُّغْـتَمٌّ فَـنَـزَلَ فَمَكَثَ عَـنِّــىْ طَوِيْلًا ثُـمَّ عَادَ اِلَـىَّ وَهُوَ فَرِحٌ مُّـبْــتَسِمٌ فَـقُلْتُ لَهٗ فَـقَالَ ذَهَبْتُ لِقَبْـرِ اُمِّـىْ فَسَاَلْتُ اللهَ اَنْ يـُّحْيِـيَـهَا فَاَحْيَاهَا فَاٰمَنَتْ بِــىْ وَرَدَّهَا اللهُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে সম্মানিত বিদায় হজ্জ মুবারক করেন। অতঃপর তিনি আমাদেরকেসহ ‘আক্বাবায়ে হাজুন’ (মূলত আবওয়া নামক স্থান। তখন তা এই নামেও পরিচিত ছিলো।) উপস্থিত হন। তিনি তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার স্মরণ মুবারক করে, উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুহাব্বত মুবারক প্রবাহিত করছিলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কান্না মুবারক করছিলেন)। উনার উভয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দু’চোখ মুবারক) থেকে অজস্র ধারায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত হচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি অবতরণ মুবারক করলেন অর্থাৎ তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি আমাকে রেখে সেই সম্মানিত স্থান মুবারক-এ দীর্ঘ সময় অবস্থান মুবারক করলেন। তারপর (মুবারক জিয়ারত করে) তিনি অত্যন্ত খুশির সাথে, প্রফুল্ল মনে, আনন্দ চিত্তে আমার নিকট ফিরে আসলেন। আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন, আমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট গিয়েছিলাম। অতঃপর আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সম্মানিত দু‘আ মুবারক করি তিনি যেন আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে আমার সম্মুখে উপস্থিত করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে আমার সম্মুখে উপস্থিত করলেন। তারপর তিনি দীর্ঘ সময় আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ অবস্থান মুবারক করেন, আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। অতঃপর আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি যে পূর্ব থেকেই আমার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছিলেন, তিনি উনার সেই সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং আমি উনার সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি তাছদীক্ব মুবারক করি। তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার জন্য বলেন। তখন তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন।” সুবহানাল্লাহ! {(১) আন নাসিখ ওয়াল মানসূখ, (২) আস সাবিক্ব ওয়াল লাহিক্ব, (৩) গরাইবে মালিক, (৪) আল হাওই লিল ফাতাওই ফিল ফিক্বহি ওয়া ‘উলূমিত তাফসীরি ওয়াল হাদীছি ওয়াল উছুলি ওয়ান নাহওই ওয়াল ই’রাবি ওয়া সায়িরিল ফুনূন শরীফ ২য় খণ্ড ২৭৭ পৃষ্ঠা, (৫) মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীফ ৩৭ পৃষ্ঠা’, (৬) আল খছাইছুল কুবরা শরীফ ২য় খণ্ড ৬৬ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)}

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصّـِدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاَلَ رَبَّهٗ اَنْ يُّـحْيِـىَ اَبَـوَيْهِ فَاَحْيَاهُـمَا لَهٗ فاٰمَنَا بِهٖ ثُـمَّ اَمَاتَـهُمَا

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনাদের নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন এবং) মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত দো‘আ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ থেকে তুলে সরাসরি উনার সামনে উপস্থিত করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার মহাসম্মানিত  ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ থেকে তুলে সরাসরি উনার সামনে উপস্থিত করেন। তারপর উনারা দীর্ঘ সময় উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি উনাদেরকে সম্মানিত ছোহবত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা যে পূর্ব থেকেই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছিলেন, উনারা উনাদের সেই সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি তাছদীক্ব মুবারক করেন। তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ তাশরীফ মুবারক নেয়ার জন্য বলেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিয়ে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ তাশরীফ মুবারক নেন।” সুবহানাল্লাহ! {(১) আর রওদ্বুল উন্ফ ১/২৯৬, (২) আল মাছনূ‘য়াহ ১/২৪৬, (৩) ‘আল হাওই লিল ফাতাওই ২/২৭৭, (৪) মাসালিকুল হুনাফা ৩৭ নং পৃষ্ঠা’, (৫) নাশরুল আলামীন ১০-১১ নং পৃষ্ঠা, (৬) আস সুবুলুল জালিয়্যাহ ফিল আবায়িল আলিয়্যাহ ৭ নং পৃষ্ঠা, (৭) আত তা’যীমু ওয়াল মিন্নাহ ফী আন্না আবাওয়াই রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিল জান্নাহ ৯ নং পৃষ্ঠা, (৮) সুবুলুন নাজাহ, (৯) আদ দুরারুল মুনতাছিরাহ ১/২১৮, (১০) শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লিস সুয়ূত্বী ওয়া গইরিহী ১/১১৩, (১১) রসাইলুল ইমামিল হাফিয জালালিদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লালি আলাইহি ফী নাজাতি ওয়ালিদাইন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, (১২) সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৫৯, (১৩) বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/৪৪, (১৪) শারহুয যারক্বনী ১/৩৬, (১৫) মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ১/৩১৪, (১৬) তারীখুল খমীস ১/২৩০, (১৭) তানযীহুশ শরীয়াহ ১/৩৩২, (১৮) খ¦তামুন নাবিয়্যীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লিম ১/১১৯, (১৯) বয়ানুল আসবাব ১/৩৭১, (২০) কাশফুল খফা ১/৬১, (২১) আস সাবিক্ব ওয়াল লাহিক্ব, (২২) তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/২৯০, (২৩) আস সিরাজুম মুনীর ২/২৯০, (২৪) কিফায়াতুল হাজাহ ১/৪৭৭, (২৫) আত তাযকিরাহ ১/১৭৪, (২৬) আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৬৭, (২৭) গমযু উয়ূনিল বাছায়ির ৩/২৪০, (২৮) আদ দুররুল মুখতার ৪/২৩১, (২৯) মুগনিউল মুহতাজ ৪/২০২, (৩০) ফাতওয়ায়ে খলীলী ২/৩০১, (৩১) উক্বূদু দুররিয়্যাহ ২/৩৩০, (৩২) কুররাতুল আইন ১/১০, (৩৩) আয যাওয়াজির আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ির ১/৫৪, (৩৪) সীরাতুল হালবিয়্যাহ ১/৭৫, (৩৫) আত তাওদ্বীহুর রশীদ ফী

শারহিত তাওহীদ ১/১৩৫, (৩৬) মির‘আতুল মাফাতীহ ৩/৫১৩, (৩৭) যাখীরতুল উক্ববা ২০/৩৫, (৩৮) আত তানওইর শরহু জামিয়িছ ছগীর ৫/৩৩১, (৩৯) হাশিয়াতু রদ্দিল মুহ্তার ৪/২৩১, (৪০) রদ্দুল মুহতার ১৬/২৮০ ইত্যাদি}

শাইখুল ইসলাম, আবুল আব্বাস, শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাজার হাইতামী, মাক্কী (বিছাল শরীফ ৯৭৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আয যাওয়াজির আন ইক্বতিরফিল কাবায়ির উনার ১ম খণ্ডের ৫৪ পৃষ্ঠায়’ এবং সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার বিশ্বখ্যাত ফক্বীহ ও ইমাম হযরত ইবনে আবিদীন শামী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১২৫২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ উনার ৪র্থ খণ্ডের ২৩১ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন-

صَحَّحَهُ الْقُرْطُبِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ وَابْنُ نَاصِرِ الـدِّيْنِ حَافِظُ الشَّامِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْه وَغَـيْـرُهُـمَا

অর্থ: “এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাকে ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হাফিযুশ শাম হযরত ইমাম ইবনে নাছিরুদ্দীন দিমাশক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারাসহ আরো অনেকে ছহীহ বলেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আয যাওয়াজির আন ইক্বতিরফিল কাবায়ির লিইবনে হাজার হাইতামী ১/৫৪, রদ্দুল মুহতার ৪/২৩১)

ছহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রঊফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে এবং সম্মানিত বিদায় হজ্জ মুবারক উনার সময় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনাদের নিকট উপস্থিত হয়ে উনাদেরকে সম্মানিত ছোহবত মুবারক, সম্মানিত দীদার মুবারক হাদিয়া করেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ঘটনা মুবারক উনার মাধ্যমে ৩ টি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে-

১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা যে পূর্ব থেকেই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছিলেন, উনারা উনাদের সেই সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বিষয়টি তাছদীক্ব মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

২. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা যে পূর্ব থেকেই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছিলেন, সেই বিষয়টি বিশ্ববাসীর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

৩. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর ২৩ বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিন্দেগী মুবারকের ছোহবত মুবারকের যে বেমেছাল ফযীলত ও বরকত মুবারক, সেটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এই সম্মানিত ছোহবত মুবারক লাভ করার জন্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত বায়তুল মুক্বাদ্দাস শরীফ উপস্থিত হন এবং সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। আর স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট উপস্থিত হয়ে উনাদেরকে সম্মানিত ছোহবত মুবারক হাদিয়া করেন।” সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

তাহলে এখান থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূূর্গী-সম্মান মুবারক ও পবিত্রতা মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!

উনারা জান্নাত উনার মুহতাজ নন; বরং জান্নাত উনাদের মুহতাজ নিজের ওজুদ মুবারক বজায় রাখার জন্য। কাজেই প্রকৃতপক্ষে উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। সুবহানাল্লাহ! মূলত সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টিই করা হয়েছে উনাদের সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য। সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

এতো অধিক সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও যারা বলবে যে, উনারা ঈমানদার ছিলেন না, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা সম্মানিত ঈমান মুবারক ব্যতীত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা জান্নাতী নন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চিরমাল‘ঊন। তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।” সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! আমীন! আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন ইবনে ছিদ্দীক্ব।

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ক্বায়িম মাক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম

যুল ওয়াসীলাহ, খইরুল আলামীন, সাইয়্যিদুছ ছাক্বলাইন, ছাহিবুল কাওছার, যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল কায়িনাত, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ মুবারক

পবত্রি দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোন রোগ নাই “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বশ্বিাস করা শরিক”

সম্মানিত শরীয়ত উনার ফাতাওয়া অনুযায়ী “সুস্থ মানুষকে সুস্থ মানুষ থেকে দুরে থাকার ব্যাপারে” ইফার ফাতাওয়া ও সরকারী নির্দেশনা সম্পূর্নরূপে ভুল, মনগড়া, কুফরী ও শিরকীপূর্ণ

কতপিয় সম্মানতি সুন্নতী আমল, যা জানা থাকলে সহজইে আমল করা যায়