মহা সম্মানিত পবিত্র আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সুমহান বেমেছাল শান-মান মর্যাদা ফযীলত মুবারক জানা শুনা এবং সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক ঈমানদার বান্দা-বান্দী উনাদের জন্য ফরযে আইন

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন-

قل لا اسئلكم عليه اجرا الا الـمودة فى القربى

অর্থ: (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

سأل حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم من قرابتك هؤلاء الذين وجبت علينا مودته؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حضرت على عليه السلام و حضرت فاطمة عليها السلام وولدهما عليهما السلام.

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা কারা? যে সমস্ত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের খিদমত মুবারক করা আমাদের জন্য আবশ্যক? (ফরয-ওয়াজিব করা হয়েছে)। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং উনার পূত-পবিত্র সম্মানিত সন্তানদ্বয় আলাইহিমাস সালাম উনারা হলেন আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারানী শরীফ)

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

انـما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا.

অর্থ: নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি চান হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে অর্থাৎ উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি করেছেন। (সুবহানাল্লাহ!) (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা কারা? এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اللهم هؤلاء اهل بيتى وخاصتى.

অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! উনারা (হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) আমার আহলু বাইত শরীফ এবং আমার খাছ।

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان الله و ملائكته يصلون على النبى ياايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.

অর্থ: নিশ্চয়ই খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করে থাকেন। কাজেই হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরানী শান মুবারকে দরূদ শরীফ পাঠ করো এবং সালাম দেয়ার যথার্থ নিয়মে সালাম দাও। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পবিত্র তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে-

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত কা’ব বিন উজরাতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কিভাবে আপনার মুবারক শানে দুরূদ শরীফ পাঠ করবো? তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুরূদে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে সরাসরি পাঠ করে শুনিয়েছেন। যথা-

اللهم صل على سيدنا محمد وعلى آل سيدنا محمد كما صليت على سيدنا ابراهيم وعلى آل سيدنا ابراهيم انك حميد مجيد. اللهم بارك على سيدنا محمد وعلى آل سيدنا محمد كما باركت على سيدنا ابراهيم وعلى آل سيدنا ابراهيم انك حميد مجيد.

উল্লেখ্য যে, বর্ণিত পবিত্র দুরূদে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে সাধারণভাবে পবিত্র নামাযের মধ্যেই পাঠ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাহলে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিই পবিত্র নামায উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাথে উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদের শানেও দুরূদ শরীফ পাঠ করার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।

অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর দুরূদ শরীফ পাঠ না করলে নামায পূর্ণরূপে আদায় হয় না অর্থাৎ উনাদের প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ পবিত্র ইবাদত ও দোয়া পরিপূর্ণ ও কবুল হওয়ার প্রধান উসীলা। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- হে হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের মর্যাদা-বুযুর্গী সম্মান কতইনা ঊর্ধ্বে! কতই-না উত্তম! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের উপর দুরূদ শরীফ পড়া না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত কারো নামাযও কবুল হয় না।

হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন-

ان كان رافضا بحب آل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فليشهد الثقلين انى رافضى.

অর্থ: যদি হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে মানুষ আমাকে রাফিজী বলে, তবে আসমান-যমীন সাক্ষী থাকুক যে, আমি রফিজী। (হিলইয়াতুল আউলিয়া)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং মুবারক বর্ণনা  দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ করাকে ঈমানদার বান্দা-বান্দী তথা উম্মতের জন্য আবশ্যক বা ফরয-ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

এছাড়া স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক তিনিও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে সালাম পেশ করেছেন। আমভাবে কালামুল্লাহ শরীফ উনার অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে সালাম পেশ করার বর্ণনা এসেছে। যেমন-

سلام على ابراهيم (عليه السلام)، سلام على موسى وهارون (عليهما السلام)، سلام على نوح فى العالمين (عليه السلام)، سلام على المرسلين (عليهم السلام).

পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমনিভাবে উপরোল্লিখিত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সালাম মুবারক জানিয়েছেন, তেমনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও সালাম জানিয়েছেন।

যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سلام على الياسين.

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে অধিকাংশ মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন-

سلام على آل ياسين.

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আল-আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপরে সালাম। (পবিত্র সূরা আছছফাত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩০)

অর্থাৎ ياسين দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন অর্থাৎ ياسين উনার অন্যতম নাম মুবারক। রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি এই তাফসীর মুবারকই করেছেন।

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

مرج البحرين يلتقيان. بينهما برزخ لا بيغيانৃيخرج منهما اللؤلؤ والـمرجان.

অর্থ: তিনি দুটি দরিয়া জারি করেছেন, যা পরস্পর মিলিত। অথচ উভয়ের মধ্যে পর্দা রয়েছে। একটি অপরটির উপর প্রাধান্য লাভ করতে পারছেন না। ওই দুই দরিয়া হতে মারজান বা দুটি মুক্তা বের হন। অর্থাৎ মুক্তায়ে আউওয়াল ও মুক্তায়ে ছানী তাশরীফ মুবারক আনেন। (পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯-২২))

সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত, আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে দুই দরিয়া দ্বারা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে বুঝানো হয়েছে। উভয়ের মধ্যে সম্মানিত পবিত্র নুবুওওয়াত উনার পর্দা মুবারক রয়েছে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই দুই দরিয়ার সংমিশ্রণে لؤلؤ এবং مرجان হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দুইজন বের হয়ে আসেন। অনুরূপ বর্ণনা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু  তায়ালা আনহুমা উনার থেকেও বর্ণিত রয়েছে।

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত পবিত্র নুবুওওয়াত উনার দরিয়া মুবারক এজন্য বলা হয়েছে, উনার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

حضرت فاطمة عليها السلام بضعة منى

অর্থ: হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার পবিত্র গোশত মুবারক উনার টুকরা মুবারক।

মূলত, উনার মাধ্যমেই সম্মানিত পবিত্র নুবুওওয়াত উনার দরিয়া মুবারক তথা নসব (বংশ মুবারক) জারি হয়েছে। এ সম্মনিত পবিত্র নুবুওওয়াত উনার দরিয়া মুবারকের সাথে সম্মানিত পবিত্র বিলায়েত উনার দরিয়া মুবারক সম্মানিত পবিত্র নিক্বাহ মুবারক উনার মাধ্যমে জারি হয়েছে। অর্থাৎ উনাদের থেকেই সম্মানিত দুই রতœ ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যমীনের বুকে তাশরীফ মুবারক এনেছেন।

সাধারণতঃ দুনিয়াতে মানুষের বংশ ছেলে সন্তানের মাধ্যমে জারি হয়। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী বংশ মুবারক উনার সম্মানিতা কন্যা উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে বিশেষভাবে বেমেছালভাবে জারি হয়েছে এবং আবাদুল আবাদ জারি থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لكل بنى اب عصبة الا ابنى حضرت فاطمة عليها السلام فانا وليهما وعصبتهما.

অর্থ: প্রত্যেক সন্তানের বংশ তার পিতার মাধ্যমে জারি রয়েছে। একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত দুই সন্তান উনারা ব্যতিত। আমি উনাদের অভিভাবক, আমি উনাদের পবিত্র সম্মানিত বংশের মূল। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান ফাযায়িল-ফযীলত বুযুর্গী সম্মান মুবারক সম্পর্কে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে-

সাইয়্যিদুনা হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا و حضرت على عليه السلام وحضرت فاطمة عليها السلام والحسن عليه السلام و الحسين عليه السلام يوم القيامة فى قبة تحت العرش.

অর্থ: আমি, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বিয়ামতের দিন পবিত্র আরশ উনার নিচে একটি গম্বুজেই অবস্থান করবো।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে

عن حضرت على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ بيد حضرت امام حسن عليه السلام وحضرت امام حسين عليه السلام فقال: من احبنى و احب هذين و اباهما و امهما كان معى فى درجتى يوم القيامة.

অর্থ: হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æনিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেরকে হাত মুবারকে ধরলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন- যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে এবং এই সম্মানিত দুইজন উনাদেরকে মুহব্বত করে এবং উনাদের সম্মানিত আব্বাজান এবং সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করে, সে ক্বিয়ামতের দিন আমার সাথেই থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আল জামিউচ্ছগীর)

আমীরুল মুমিনীন, বাবূল ইলম সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- পবিত্র বেহেশত উনার মধ্যে এমন একটি স্থান আছে যার নাম মুবারক হচ্ছে উসীলা। তোমরা দোয়ার সময় সেই উসীলা মুবারক তালাশ কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আরজ করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ওই সম্মানিত স্থানে আপনার সাথে কে থাকবেন? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

انا و حضرت على عليه السلام وحضرت فاطمة عليها السلام والـحسن عليه السلام و الـحسين عليه السلام.

অর্থ: সেখানে আমি, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেরকে নিয়ে অবস্থান করবো। সুবহানাল্লাহ!

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا، كتاب الله وعترتى و اهل بيتى.

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের জন্য যা রেখে গেলাম তা তোমরা গ্রহণ করলে কখনোই গুমরাহ হবে না; তা হচ্ছেন পবিত্র কিতাবুল্লাহ এবং আমার সম্মনিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। (তিরমিযী শরীফ, জামিউছ ছগীর)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت ابى ذر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة حضرت نوح عليه السلام من ركبها نجا و من تخلف عنها هلك.

অর্থ: হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাবধান! নিশ্চয়ই আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মেছাল মুবারক হলো হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতি মুবারকের ন্যায়। যিনি তাতে আরোহণ করেছেন তিনি নাজাত পেয়েছেন; আর যে খিলাফ করেছে (আরোহণ করেনি) সে ধ্বংস হয়েছে।”  (মুসনাদুল বাজ্জার শরীফ, মুস্তাদরাক শরীফ, ত্ববারানী শরীফ) নাউযুবিল্লাহ!

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

احبوا اهل بيتى لـحبى.

অর্থ: আমার সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে। (তিরমিযী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا واهل بيتى شجرة فى الجنة واغصانها فى الدين فمن تمسك دينا اتخذ ربه سبيلا.

অর্থ: আমি এবং আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলাম পবিত্র জান্নাত উনার গাছ উনার ন্যায়। সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে শাখা-প্রশাখা রয়েছে। যে সম্মানিত দ্বীন উনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সঠিক পথ দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت على عليه  السلام قال قال النبى صلى الله عليه وسلم ادبوا اولادكم حب نبيكم وحب اهل بيته و قرائة القرآن والحديث.

অর্থ: তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক শিক্ষা দাও। তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে তিলাওয়াত করার শিক্ষা দাও। (আল ফাতাওয়াল হাদীসিয়্যাহ শরীফ, জামিউছ ছগীর লিছছুয়ূতী)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم حب آل محمد صلى الله عليه وسلم يوما خير من عبادة سنة ومن مات عليه دخل الجنة.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æএকদিন (বা একমুহূর্ত) সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা সারা বছর পবিত্র ইবাদত-বন্দেগী করার চেয়েও উত্তম। আর যে উনাদের পবিত্র সম্মানিত মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো, সে পবিত্র জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

عن حضرت جابر بن عبد الله البجلى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من مات على حب آل محمد صلى الله عليه وسلم مات شهيدا. الا! ومن مات على حب محمد صلى الله عليه وسلم مات مغفورا له.

অর্থ: হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহিল বাজালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æযে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো; সে শহীদী মৃত্যু পেলো। সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো; সে অবশ্যই ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ইন্তেকাল করলো।

الا! من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم مات مؤمنا مستكمل الايمان.

অর্থ: সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো; সে পরিপূর্ণ ঈমানওয়ালা মু’মিন অবস্থায় ইন্তেকাল করলো। সুবহানাল্লাহ!

من مات على حب آل رسول الله صلى الله عليه وسلم بشره حضرت ملك الـموت عليه السلام بالجنة ثم منكر ونكير عليهما السلام.

অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো; উনাকে হযরত মালাকুল মউত, মুনকার এবং নাকীর আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র বেহেশত উনার সুসংবাদ দিবেন।

من مات على حب آل رسول الله صلى الله عليه وسلم يزف الى الجنة كما تزف العروس الى بيت زوجها.

অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র মুহব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো; উনাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে পবিত্র জান্নাতে নেয়া হবে, যেমনভাবে নবদুলহানকে সাজিয়ে বাসর ঘরে নেয়া হয়। (তাফসীরুল কাশশাফ, তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ, লিজযায়লায়ী)

আর যারা সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান মর্যাদা-সম্মান মুবারক রক্ষা করবে না, বরং উনাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রাখবে; তাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। যেমন হয়েছে কাট্টা কাফির ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহ আলাইহির উপর। বর্তমানে সেই লা’নতপ্রাপ্ত ইয়াযীদের অনুসারী হচ্ছে খারিজী ফিরক্বা, ওহাবী, দেওবন্দী, সালাফী, মওদুদী, জামাতী, তাবলীগী, লা-মাযহাবী। সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, বেমেছাল ইজ্জত সম্মান মুবারক শুনলে তাদের শরীরে আগুন লেগে যায়। নাউযুবিল্লাহ!

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-

من مات على بغض آل محمد صلى الله عليه وسلم جاء يوم القيامة مكتوبا بين عينيه ايس من رحمة الله.

অর্থ: যদি কেউ সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী হিসেবে মারা যায়, তাহলে ক্বিয়ামতের দিন তার লা’নতপ্রাপ্ত কপালে লিখা হবে- ‘এই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র রহমত থেকে নিরাশ/বঞ্চিত।’ (নাঊযুবিল্লাহ)

من مات على بغض آل محمد صلى الله عليه وسلم مات كافرا.

অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী হিসেবে মারা যায়, সে কাফির অবস্থায় মারা গেলো। (নাঊযুবিল্লাহ)

من مات على بغض آل محمد صلى الله عليه وسلم لم يشم راحة الجنة.

অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী হিসেবে মারা যায়, সে পবিত্র বেহেশত উনার সুঘ্রাণও পাবে না।

من ابغض اهل البيت فهو منافق.

অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে মুনাফিক (আর মুনাফিকের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে)। (তাফসীরুল কাশশাফ, তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ লিজযায়লয়ী)

এদের সম্পর্কে অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

لو ان رجلا صعد بين الركن والمقام فصلى وصام ثم مات وهو مغبض لأهل بيت محمد صلى الله عليه وسلم دخل النار.

অর্থ: যদি কোনো ব্যক্তি সম্মানিত রুকনে ইয়ামিন ও পবিত্র মাক্বামে ইবরাহীমে আরোহণ করে অতঃপর সে নামায পড়ে এবং রোযা রাখে কিন্তু সে সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে বিদ্বেষ পোষণ করে, চু-চেরা ক্বীল-ক্বাল করে তবে সে নিশ্চিত জাহান্নামে প্রবেশ করবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, কায়িনাতবাসী সকলের জন্যই ফরয ওয়াজিব হচ্ছে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা এবং উনাদের বিরোধিতা বা বিদ্বেষ পোষণ করা থেকে বিরত থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

-হাফিযুল হাদীছ মুফতী মুহম্মদ ফযলুল হক

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ