মানহানি মামলায় গ্রেফতারের বিধান রহিতকরণ কী কেবলই ইতিবাচক? এর নেতিবাচক দিক নির্ণয় করতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন তারা শুধু দূরদর্শিতা ও ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজ্ঞাহীনতারই পরিচয় দেননি, পাশাপাশি ইসলামী অনুভব ও এদেশের ৯৫ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও নিরেট উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন ॥

সংখ্যা: ১৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

গত ৭ ডিসেম্বর ২০০৯ সোমবার মানহানি মামলায় সাংবাদিক, সম্পাদক, সব লেখক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিধান রহিত করে কোর্ট অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৯-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভায় ফৌজদারি দ-বিধি’র ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা তিনটি শিথিল করে বলা হয়েছে, মানহানির মামলা দায়ের করলেই আর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যাবে না। এ ধরনের মামলা দায়ের করলে প্রথমে সমন জারি করতে পারবে আদালত। সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক, লেখক ও সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। আগে এদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলেই আদালত ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারতো।

মানহানি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিধান রহিত করার বিষয়ে  গত ৮ ডিসেম্বর ২০০৯ ঈসায়ী তারিখে মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটাকে সে সময় সবাই স্বাগত জানিয়েছিল। এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার খবর বিশেষত মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে বলে সবাই মত প্রকাশ করেছে। বাইরে থেকে সংবাদপত্রে যারা লেখালেখি বা মিডিয়ায় মতপ্রকাশ করে থাকেন, নিরাপদ বোধ করছেন তারাও। সবাই বলেছেন, সরকারের উচিত হবে দ্রুতই প্রচলিত আইনের এ সংশোধনী কার্যকর করা।

প্রসঙ্গত কথিত জাতীয়তাবাদী এবং তথাকথিত ইসলামপন্থী দল, ব্যক্তি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বা প্রিন্ট মিডিয়া কেউই এর বিপরীতে কোন মন্তব্য করেনি।

এমনকি ‘স্বাগত জানাই’ ‘শুভ উদ্যোগ’ তথা ইতিবাচক উদ্যোগ শিরোনামে কয়েকটি দৈনিকে গত ৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ঈসায়ী তারিখে উচ্ছ্বসিত সম্পাদকীয় নিবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে।

অতীব আক্ষেপের কথা যে, সবাই বর্ণিত অ্যামেন্ডমেন্টের কথিত ইতিবাচক দিকটি বিভোর হয়ে অন্ধের হাতি দেখার মত একপেশে আচরণ করছেন। কথিত জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকীয় দূরদর্শিতা ভারসাম্যতা তথা ইসলামী অনুভবের ক্ষেত্রে তারা বিলক্ষণ বিচক্ষণহীন প্রমাণ করলেন বটে।

এই দেশ শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানদের দেশ। ইসলামী অনুভূতি ও বিশ্বাস সমুন্নত রাখার দেশ। ‘কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’- এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মহাজোটকে মহাবিজয়ের মাল্য পরিয়েছে।

পাশাপাশি ইসলামিক ভাবমর্যাদাকে সমুন্নত রাখার মহান দায়-দায়িত্বও সরকারের কাঁধে অনিবার্যভাবে ন্যস্ত হয়েছে। এবং আলোচিত প্রতিশ্রুতির কারণে ৯৫ ভাগ মুসলমানের ইসলামী চেতনা সমুন্নত রাখার দাবি অভিব্যক্তিও অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোচ্চার মনোভাব ও জোরদার উপলব্ধি তৈরি হয়েছে।

বলাবাহুল্য, প্রথম আলোর ব্যঙ্গ কৌতুককারী আরিফের ২ বছর কারাদণ্ডের দ- প্রদানে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

কিন্তু বিপত্তির বিষয় এখানেই। নেতিবাচক দিকটির নজির এক্ষেত্রেই। দূরদর্শিতা, ভারসাম্যহীনতা এবং উপলব্ধির দৈন্যতা এখানেই।

শুধু যে এক কার্টুনিস্ট আরিফই আছে এবং তার  যথোচিত শাস্তি হয়েছে তা নয়। বরং আরো যে বহুত কার্টুনিস্ট আরিফ ঘাপটি মেরে রয়েছে এবং কথিত আইনের সংশোধনীর সুযোগ এরা এখন বাঁধভাঙা জোয়ারের মত প্রকাশ নিতে পারে সে দূরদর্শিতা জ্ঞাপনের কী প্রয়োজন ছিলনা?

ইসলামের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নের অপপ্রয়াসকারী দাউদ হায়দারকে বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায়ই জার্মানিতে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। তসলিমাকেও নির্বাসনে যেতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও কী ইসলামের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœকারী লেখক এখানে সেখানে আগাছার মতো অবৈধভাবে অবাধে জš§াচ্ছে না?

বলাবাহুল্য, তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কথিত ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা খুব একটা জুতসই ছিল তা কিন্তু মোটেও নয়। কারণ ৫০০ ধারায় যা বলা হয়েছে- ধারা ৫০০- মানহানির শাস্তি:

‘যে ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির মানহানি করে সেই ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যাহার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিদ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’ ৫০১ ধারায় যা বলা হয়েছে- ধারা ৫০১- মানহানিকর বলিয়া পরিচিত বিষয় মুদ্রণ বা খোদাইকরণ:

‘যে ব্যক্তি এমন কোন বিষয় মুদ্রণ বা খোদাই করে, যাহা কোন ব্যক্তির মানহানিকর বলিয়া সে জানে বা তাহার অনুরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে, সেই ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যাহার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিদ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’

৫০২ ধারায় যা বলা হয়েছে- ধারা ৫০২- মানহানির বিষয় সংবলিত মুদ্রিত বা খোদাইকৃত বস্তু বিষয়করণ:

‘যে ব্যক্তি মানহানির বিষয় সংবলিত কোন মুদ্রিত বা খোদাইকৃত বস্তু- উহা অনুরূপ বিষয় সংবলিত বলিয়া জানিয়া বিক্রয় করে বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করে, সেই ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যাহার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিদ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ‘ইসলাম’ এদেশের রাষ্ট্রধর্ম হওয়ার পরও এবং ৯৫% জনগোষ্ঠী মুসলমান থাকার পরও ইসলামের অবমাননা, অপপ্রয়াসকারীদের জন্য সংবিধানে অথবা দণ্ডবিধিতে আলাদা কোন আইন নেই।

কেবল উপরোক্ত তিনটি বিধিতেই মানহানির বক্তব্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দানের প্রতিক্রিয়ায় সামান্য দুই বছরের দণ্ডের প্রতিকার চলত। এখন সে প্রতিকারকে আরো সহজ করায় নির্দোষের জন্য আপেক্ষিকভাবে ভালো হলেও সত্যিকার দোষীদের জন্য যে আরো বিরাট মওকা জুটে গেল তা ভেবে দেখবে কে?

তা নিয়ন্ত্রণ করবে কে?

তার প্রতিকার করবে কে?

সুযোগ সন্ধানীদের সামাল দেবে কে?

অনিবার্যভাবে এর দায় যে সরকারের ঘাড়েই পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে, সরকারের অতিরিক্ত চাপ বড় ঝামেলা অথবা দায়ভারের ব্যর্থতা বা বাড়তি এবং জনরোষের ঝক্কি কিন্তু আজকের স্বাগত বক্তব্যধারীরা নিবেনা। কাজেই ‘ইতিবাচক’ প্রশংসাকারীদের কথায় তুষ্ট না হয়ে

নেতিবাচক দিকটির প্রতিও সরকারকে এখনই নজর নিবদ্ধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত আমরা বলি না যে, ইসলাম অবমাননার অপ্রপ্রয়াসকারীদের দমনে সরকার অ্যামেন্ডমেন্টকে রিভাইভ করুক।

বরং সঙ্গতকারণেই আমরা বলতে বাধ্য যে, ৯৫% মুসলমান অধ্যুষিত, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ অবমাননার অপপ্রয়াসকারীদের রোধে

সরকার স্তরভেদে বহুমূল্য জরিমানা, যাবজ্জীবন কারাদ- তথা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা ফাঁসির ব্যবস্থা করুক।

‘কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতির সরকারের জন্য তাই হবে সবচেয়ে সঙ্গত বিষয়।

মূলত সব সমস্যার সমধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন নেক কুওওয়ত। যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম-এর ছোহবতেই কেবলমাত্র তা প্রাপ্তি সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ তারিফুর রহমান

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল