মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক

সংখ্যা: ২৭৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমানদের প্রতি হিংসাবশত অধিকাংশ আহলে কিতাব তথা ইহুদী-নাছারা চায় ঈমান আনার পর পুনরায় তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে দিতে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১০৯)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বাস্তবতা দেখতে পাই আমাদের দেশেও। এদেশ থেকে ইসলামী অনুশাসন, তাহযীব-তামাদ্দুন উঠিয়ে দেবার লক্ষ্যে এই কাফির গোষ্ঠী কখনো মিডিয়াকে, কখনো শাসক শ্রেনীকে এবং কখনো আদালতকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে। এমনকি শাসক শ্রেণী কোনো বিষয়ে সম্মত না হলে, আনুগত্যতা না দেখালে তাদের পরিবর্তনেও সা¤্রাজ্যবাদীরা   কোর্টকে ব্যবহার করছে যার প্রমাণ এখন অনেক দেশে রয়েছে।

বর্তমান সময়ের যিনি সম্মানিত ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি কাফির-মুশরিক এবং সাম্রাজ্যবাদীদের এইসব অপকৌশল সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত। তিনি এই বাংলাদেশের আদালতে চাপিয়ে দেয়া বৃটিশ বেনিয়াদের রচিত মনগড়া আইনের ফাঁকফোকর জেনে তাদের তৈরি অস্ত্র প্রয়োগ করেই এদের প্রতিহত করার জন্য শুরু করেন “আইনী প্রক্রিয়া কার্যক্রম”। এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমান উনাদের আকিদা বিশুদ্ধ করে ঈমান হিফাজত করা। সুবহানাল্লাহ।

এই প্রক্রিয়াটি যেমনি ব্যয়বহুল তেমনি কস্টসাধ্য। কেননা সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে হেঁটে এখানে কার্যক্রম চালানোর জন্য যেমনি প্রয়োজন ছিল দক্ষ এবং ইসলাম উনার অনুশাসন উপলব্ধিকারী আইনীজিবী তেমনি প্রয়োজন ছিল কার্যক্রম সঞ্চালনের জন্য লোকবল। কিন্তু যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পরিপূর্ণভাবে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার দ্বারা সকল অসাধ্য কাজও সম্পূর্ণ করিয়ে নিচ্ছেন।

আপনাদের উপলব্ধির স্বার্থে নীচে বিশেষ কিছু আইনী কার্যক্রমের তালিকা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হল। এখান থেকে অনেক বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে সফলতা অর্জিত হয়েছে এবং অন্য অনেক বিষয়ে কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। (ধারাবাহিক)

কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আইনী নোটিশ

পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের দায়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট শেখ ওমর শরীফ।

নোটিশে মন্ত্রীর কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম গত ১৮ জুন ২০২০ তারিখে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় এ-বছর কুরবানির পশুর হাটের সংখ্যা কমানো হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে ছোট হাটগুলো বসানো হবে না। লোকালয় থেকে দূরে এবং অপেক্ষাকৃত বড় জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানায় মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে এ ধরণের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নোটিশে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের একটি দ্বীনি উৎসব এবং পশু কুরবানী একটি দ্বীনি ইবাদাত। কুরবানীর পশুর হাট, পশু কেনা-বেচা, পশু কুরবানী ইত্যাদি কাজ সারতে সারা বছরে মাত্র ৪/৫ দিন লাগে। কুরবানীর পশুর হাট প্রকৃতপক্ষে দেশবাসীর নাগালের মধ্যেই বসাতে হবে। সহজভাবে পশু কিনতে পারা মুসলিমদের একটি নাগরিক অধিকার। অথচ মন্ত্রী বলছে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় কমানো হবে হাটের সংখ্যা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে ছোট হাটগুলো বসানো হবে না, লোকালয় থেকে দূরে এবং অপেক্ষাকৃত বড় জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে!

মন্ত্রীর কথিত ‘স্বাস্থ্যবিধি’ যে একটি অযৌক্তিক ও অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে, বিভিন্ন দেশের উদারহণ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের রেফারেন্স তুলে ধরে বলা হয়, লকডাউন ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পেরেছে, তা আদৌ প্রমাণিত নয়। বরং হার্ড ইম্যুনিটি তৈরিতে এটা বাধাস্বরূপ। যে কারণে অনেক দেশই সকল বিধি-নিষেধ তুলে দিয়ে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

তাছাড়া পবিত্র কুরবানী একজন মুসলমানদের দ্বীনি অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে পবিত্র কুরবানীর আয়োজন ও ব্যবস্থানপনাকে কঠিন ও প্রায় অসম্ভব করে তোলা, দেশে পশুর হাট ও কুরবানীর স্থান সংকোচনের ষড়যন্ত্র মুসলমানদের পবিত্র দ্বীনি অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।

তাই নোটিশে মন্ত্রীকে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট কমানো নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে।

পবিত্র দ্বীন ইসলামকে অবমাননার দায়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ

বাংলাদেশের মসজিদসমূহে জামাত বন্ধের ইচ্ছা জানানোর মাধ্যমে দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষে বিগত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শেখ ওমর শরীফ ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল প্রচারিত ডিবিসি নিউজ চ্যানেলের টক কু “রাজকাহন”-এর শিরোনাম ছিল “মক্কা মদিনায় জামাত নেই, বাংলাদেশে কেন?” সেই টক কু-তে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছিল, “আমার কথা ছিল সৌদি আরবের মতো, পবিত্র মদীনা শরীফের মতো, আমাদের ওলামারাও একমত হইয়া একই কথা বলবেন।“

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছে যে, পবিত্র মক্কা শরীফ মসজিদুল হারাম শরীফ ও মদিনা শরীফের মসজিদে নববী শরীফে জামাতে নামায আদায় বন্ধ হয়ে গেছে, সুতরাং বাংলাদেশেও মসজিদসমূহে জামাত বন্ধ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পবিত্র মক্কা শরীফের মসজিদুল হারাম ও মদীনা শরীফের মসজিদে নববী শরীফের বাইরের চত্বরে নামায পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মূল মসজিদসমূহে জামায়াত কিংবা জুমার নামায কোনোটাই বন্ধ হয়নি। বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সঠিক সংবাদটি এসেছে।

পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে নোটিশে বলা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্ধ ব্যক্তিকেও জামায়াত পরিত্যাগ করার অনুমতি দেননি। আরেক হাদীছ শরীফে এসেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জামায়াত পরিত্যাগকারীদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার মতো ইচ্ছা মুবারক প্রকাশ করেছেন।

মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুমার নামায আদায় করা সকল মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক। তবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য জুমার নামায বাধ্যতামূলক নয়। পবিত্র ইসলামী শরীয়াতে অসুস্থ ব্যক্তিকে মসজিদে না আসার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু কিছু ব্যক্তির অসুস্থতার কারণে বাকি সব সুস্থ মুসলিমের জুমার নামায পরিত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই।

নোটিশদাতা বলেন, সাংবিধানিকভাবে যেহেতু বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম, সুতরাং ইসলামী আক্বীদাসমূহ রাষ্ট্র দ্বারা সুরক্ষিত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মুসলিমদের নিজ দ্বীন পালনের অধিকারও রয়েছে। অথচ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুসলিমদেরকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার পালনে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এবং সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে মুসলিমদের দ্বীন পালনের অধিকার নিয়ে এমন মন্তব্যে নোটিশদাতা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন।

নোটিশদাতা বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো সম্প্রদায়ের দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাত করাটা বাংলাদশে প্রচলিত দ-বিধির ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নোটিশে বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে সুস্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে তাঁর উল্লেখিত মন্তব্যগুলো প্রত্যাহার করতে হবে এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে ধর্ম অবমাননামূলক মন্তব্য আর করবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিতেও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে আহবান জানানো হয়েছে। অন্যথায় নোটিশদাতা আইনের আশ্রয় নেবেন বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)