মুসলিম নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে ভারতে।মুসলিম নারীদের বিক্রির জন্য দেয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। সভা করে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে গণহত্যার। মুসলিম বিশ্বের উচিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের উপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করা।

সংখ্যা: ২৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ভারতের কোটি কোটি মুসলমান। খাদ্য, চিকিৎসা, জীবিকা, পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন ইত্যাদি বিষয়গুলোতে চরম বৈষম্য ও বাঁধার শিকার ভারতের মুসলমানরা। মুসলমানরা ভারতীয় জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ট হলেও ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার মুসলমানদের যেন ভারতের নাগরিক হিসেবেই স্বীকার করে না। আর এসব ঘৃণ্য কর্মকান্ড তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব থেকেই সম্ভব হয়।

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় নিত্যনতুন নানা অপকৌশল যুক্ত হচ্ছে। নতুন নতুন পদ্ধতিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ভারতে মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে মুসলিম নারীদের ছবি গোপনে সংগ্রহ করে তাদের নিলামে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে একটি অ্যাপে। অন্তত ১১২ জন মুসলিম নারীর ছবি দিয়ে ‘বুল্লি বাই’ নামের এ্যাপে তাদের বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। মূলত মুসলিম নারীদের হয়রানি ও অপমান করতে এই অ্যাপটি চালু করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্যাঙ্গালোরের এক প্রকৌশল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতে মুসলিম নারীদের হয়রানি করতে অনলাইনে নিলামে তোলার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। গত বছরের জুলাইতে ‘সুল্লি ডিলস’ নামের একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ৮০ জনের বেশি মুসলিম নারীর প্রফাইল তৈরি করে।

এখানেই শেষ নয়, মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক কথা বলার জন্য পরিচিত গাজিয়াবাদের বিতর্কিত নরসিংহানন্দের উদ্যোগে হরিদ্বারে একটি ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল গত ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর। সেই সমাবেশে উগ্রবাদী সাধুরা প্রকাশ্যে মুসলিমদের ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা গণহত্যার ডাক দিয়েছে। এক উগ্রবাদী সন্ন্যাসি ওই সভায় বলে, ‘ওদের নিকেশ করতে হলে মারতে হবে – আমাদের একশোজন হিন্দু সেনা চাই যারা ওদের বিশ লাখকে খতম করতে পারবে’।

মুসলিমদের শহীদ করার পাশাপাশি ভারতের কথিত বড় বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলমানদের ‘করোনা জিহাদী’, ‘দেশদ্রোহী’ ইত্যাদি শব্দে সম্বোধন করেছে। বিভিন্ন ভারতীয় মিডিয়া ছড়িয়ে দিচ্ছে মিথ্যা ও দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষমূলক সংবাদ। বিশেষ করে ভারতীয় সম্প্রচার মাধ্যমগুলো অত্যন্ত বাজেভাবে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভারতে করোনা হানা দেয়ার কারণ হিসেবে মুসলমানদের সম্পৃক্ততাকেই দায়ী করছে। এপিপি নিউজ হিন্দি চ্যানেলটি মুসলমানদেরকে ‘করোনা বহন করে’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। ইন্ডিয়া টিভি নামে আরেকটি চ্যানেল মুসলমানদের ‘করোনা বোম্ব’ হিসেবে প্রচার করছে। রিপাবলিক ভারত নামের একটি চ্যানেল মুসলমানদের ‘জীবনের জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মিডিয়াগুলোর এহেন মুসলিম বিদ্বেষী অপপ্রচারে উস্কানি পেয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানদের উপর নির্যাতন, মসজিদ ভাঙচুর এমনকি শহীদ করার খবর পর্যন্ত এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগরের তেলেনীপাড়ার তালাব মসজিদে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ হাত দিয়ে টেনে টেনে ছিড়ে ফেলেছে। নাউযুবিল্লাহ!। করোনার সময় ভারতের ঝাড়খন্ডে মুসলিম গর্ভবতী এক নারীকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে তার আগত সন্তানকে শহীদ করা হয়েছে। এরকম হাজারো ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটছে ভারতে।

প্রসঙ্গত, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও ১৭ প্রদেশ এবং ৭ অঞ্চলে বিজেপি’র নিয়ন্ত্রণে থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হিন্দুত্ববাদীরা। এতগুলো রাজ্যে প্রাদেশিক সরকার বিজেপি’র নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হিন্দুত¦বাদীদের উত্থান ঘটেছে। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী এবং কয়েকটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মুসলিম বিদ্বেষী লাগামহীন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বিপন্ন করে তুলেছে দেশটিতে বংশ পরম্পরায় বসবাসরত মুসলিমদের। ‘ভারত মাতা কী জয়’ যারা বিশ্বাস করবে না তাদের ভারতে থাকার অধিকার নেই’ এই কথা যারা বিশ্বাস এবং মুখে স্বীকার করেনা তথা মুসলিমদের নানাভাবে পীড়নের মধ্যে রাখা হয়েছে। সংঘ পরিবার, আরএসএস, শিবসেনা, বিশ্বহিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি), বিজেপি’র সহযোগী সংগঠনের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত মুসলমান বিদ্বেষ ছড়ানো, হত্যার হুমকি, মুসলমানদের কটাক্ষ অব্যাহত রয়েছে। অথচ মুসলমানরাই এই ভারত শাসন করেছে শত শত বছর। মুসলিম শাসকদের সময় যে ভারতে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করেছে; সেই দেশে চলছে হিন্দুত্ববাদ এবং মুসলিম নিধন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার নিকৃষ্ট পরিকল্পনা।

মূলত, ভারতে মুসলিমদের প্রতি এই দমন নিপীড়ন ইদানীং অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, ভারত দিন দিন মুসলিমদের জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর এতে এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হবে ভারত। কিন্তু ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারসহ তাদের দোসররা মুসলিমদের এই অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মাধ্যমে মুসলিমদের জনসংখ্যা কমানো এবং মুসলিমদের ভারত থেকে নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে।

বলতে হয়, বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতনের ধোঁয়া তুলে নামধারী মানবাধিকারকর্মী ও হিন্দুত্ববাদীরা নর্তন-কুর্দন করে। কিন্তু তাদের অন্তরে লালিত নিজ মাতৃভূমি ভারতে যে গণহারে মুসলিম নিধন হচ্ছে সেটার প্রতি তাদের কোনো লক্ষ্য নেই। জাতিসংঘ বাংলাদেশে হিন্দুদের নানা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ জানালেও ভারতের মুসলিম নির্যাতন নিয়ে কোনো প্রকার টু শব্দটিও করে না। অপরদিকে, ভারতের মুসলিমদের জন্য মুসলিম বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোরও কোনো সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ অনুসারে ‘সারা বিশ্বের মুসলিমরা একটি দেহের ন্যায়। আর দেহের কোথায় আঘাত লাগলে যেমন সারা দেহে অনুভূত হয় তেমনি পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলিম সঙ্কটে পড়লে তাতে মুসলিম বিশ্বে আলোড়িত হওয়ার কথা’। সেক্ষেত্রে ভারতের মুসলিমদের জন্য মুসলিম বিশ্বের উচিত- প্রবল প্রতিবাদসহ প্রতিহত করণের জন্য এগিয়ে আসা। ওআইসি’সহ অন্যান্য ইসলামী জোটগুলো সক্রিয় হওয়া। বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত- একত্রে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করা। পাশপাশি ভারত সরকারকে সেদেশের মুসলিম নির্যাতন বন্ধের জন্য গোটা মুসলিম বিশ্বের সমন্বিতভাবে চাপ প্রয়োগ করা।

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।