যানজট নিরসনের পরিবর্তে উড়াল সেতু বাড়াচ্ছে দুর্ভোগ। প্রয়োজন না থাকলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে হচ্ছে একের পর এক উড়াল সেতু। প্রশাসনিকভাবে বিকেন্দ্রিকরণ করা গেলেই দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাবে দেশবাসী।

সংখ্যা: ২৩৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

যানজট থেকে মুক্ত হতে ঢাকায় একের পর এক তৈরি হচ্ছে ফ্লাইওভার কিন্তু কতটুকু মুক্তি মিলছে রাজধানীবাসীর? কর্তৃপক্ষই বলছে, ফ্লাইওভারের কারণে কোনো নির্দিষ্ট জায়গার যানজট থেকে মুক্ত হওয়া গেলেও ফ্লাইওভার থেকে নেমেই আবারো পড়তে হয় যানজটে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছে, শুধু ফ্লাইওভার তৈরি করে নয়; বরং ঢাকাকে প্রশাসনিকভাবে বিকেন্দ্রিকরণ করা গেলেই দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাবে ঢাকাবাসী তথা দেশবাসী।

গত কয়েক বছরে ঢাকায় তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার, ওভারপাস এবং ইন্টারচেইঞ্জ। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহন আর মানুষের চলাচল ও গমনাগমন। আর তাই নতুন রাস্তা তৈরির পরিসর না থাকা এই মহানগরে বিদ্যমান রাস্তার উপরেই তৈরি হচ্ছে আরেকটি রাস্তা। কিন্তু এই উড়াল পথগুলো কতটুকু সুবিধা দিচ্ছে ঢাকাবাসীকে?

রাজধানীতে রেলক্রসিং আছে মোট ৫৮টি। এর মধ্যে ৩৫টি অনুমোদিত, ২৩টি অননুমোদিত। অনুমোদিত রেলক্রসিংগুলোতে ট্রেন অতিক্রম করার সময় অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। বেশির ভাগ ক্রসিংয়ে দিনে কমপক্ষে ৭ মিনিট করে ১১৪বার গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়। আর অননুমোদিতগুলোর এ রকম কোনো হিসাব নেই। রেলক্রসিংয়ে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন পুড়ছে ১৮ লাখ টাকার বাড়তি জ্বালানি। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজধানীতে উড়াল সেতু তথা উড়াল সড়ক প্রথম চালু হয় ৯ বছর আগে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রথম উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয় মহাখালী রেলক্রসিংয়ের উপর। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এরপর একে একে মহানগরীতে খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান, কুড়িল, বিমানবন্দর সড়ক-মিরপুর, বনানী, তেজগাঁও-বিজয় সরণি অংশে উড়াল সেতু নির্মাণের পর চালু করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, রাজউক ও সওজ অধিদপ্তরের অধীনে এসব উড়াল সেতু (ফ্লাইওভার ও ওভারপাস) নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া এলজিইডি’র অধীনে নির্মাণাধীন মগবাজার-মৌচাক উড়াল সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। চলতি ২০১৪ সালে সেতু বিভাগের অধীনে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা উড়াল সড়কের (এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে) কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। পিপিপি ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। নির্মাণের পর টোল আদায় করে ব্যয় ও লাভ তুলে নেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। সেতু বিভাগের উদ্যোগে বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় ঢাকা উড়াল সড়ক। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এটিও বাস্তবায়ন করা হবে পিপিপিতে। তবে ভিন্নমত আছে গবেষকদের মধ্যে। অনেকের মতে, উড়াল সেতু-সড়কের মাধ্যমে উপকার ভোগ করতে পারে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। তাছাড়া এসব সেতু-সড়ক যানজট থেকে মুক্তি নয়, বরং যানজট স্থানান্তর করতে পারে মাত্র।

রাজধানীতে স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে চলাচলকারী যাত্রী বেশি। তাই উড়াল সড়ক ব্যবহার করে বেশি দূরত্বে যাওয়ার প্রয়োজন নেই তাদের। এছাড়া গণপরিবহন চলাচলের জন্য উড়াল সড়ক বা সেতু মানানসই নয়।

উড়াল সেতু নির্মাণে যানজট স্থানান্তর হয়ে থাকে মাত্র। যেমন মহাখালী উড়াল সেতু হওয়ার পর যানজট স্থানান্তরিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে এসে তীব্র রূপ নিয়েছে। বনানী উড়াল সেতু চালুর পর এখন যানজট স্থানান্তর হয়ে প্রকট রূপ নিয়েছে কাকলীতে। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক গবেষণায়ও উঠে এসেছে একই রকম চিত্র। এতে বলা হয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী ফ্লাইওভার বা উড়াল সেতু ব্যবহার করে উপকৃত হবে। বাকি ৮৩ শতাংশ মানুষকে যানজট থেকে রেহাই দেয়া সম্ভব হবে না। রাজধানীতে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে খুব কম যাত্রীর গন্তব্য আছে। বেশির ভাগের গন্তব্য এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এ জন্য বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ হলে গণমানুষ উপকৃত হবে না। বরং যানজট বাড়বে। মেয়র হানিফ উড়াল সেতু চালুর পর এটির উপর দিয়ে খুব কমসংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করছে। সেতুর নিচ দিয়ে আগের মতোই গাড়ি চলাচল করছে। সেখানে যানজট নিরসন হয়নি।

হিসাব কষে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর যানজট নিরসনে উড়াল সেতু ও উড়াল সড়ক নির্মাণের জন্য নেয়া এসব প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে আরো উড়াল সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। পিপিপি ভিত্তিতে এসব সেতু-সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী নির্মাণ ব্যয় তুলে নিয়ে যায় টোল আদায় করে। সরকারকেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগের একটি অংশ দিতে হয়। এজন্য মেয়র হানিফ উড়াল সেতু ব্যবহারকারীদের মাসুল গুনতে হচ্ছে। এ মাসুলের হার নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যে হারে টোল নেয়ার চুক্তি ছিল, এখন আদায় করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে। বেসরকারি খাতের নির্মাণ সংস্থাটির যুক্তি, এগারো বছর আগে ধার্য করা হার এখন অচল।

অপরদিকে চট্টগ্রাম নগরীর মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) মানছে না খোদ নগর উন্নয়ন সংস্থা সিডিএ বলে অভিযোগ উঠেছে। মহাপরিকল্পনার তোয়াক্কা না করে নির্মিত বহদ্দারহাট ফাইওভারের অভিজ্ঞতা সুখকর না হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাতে! নতুন নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণে তৎপর রয়েছে সিডিএ। অথচ নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, চট্টগ্রাম নগরীর কোনো জংশনে উড়াল সেতু (ফ্লাইওভার) করার মতো সমপরিমাণ যানবাহন চলাচল করে না। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বিদ্যমান মহাপরিকল্পনায় এ ধরনের ফ্লাইওভারের অস্তিত্ব নেই। এমনকি বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান সরকারদলীয় নেতা হওয়ায় মহাপরিকল্পনায় ফ্লাইওভার ঢুকাতে নতুন করে তা করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। চমক সৃষ্টি করাই এসব নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে মনে করছে পরিকল্পনাবিদরা। নগর পরিকল্পনাবিদরা অভিযোগ করেছে, কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ছাড়াই যানজট নিরসনের নামে নগরীতে যত্রতত্র ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি; বরং যানজট ও জনগণের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বিশ্বের কোথাও সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় ছাড়া কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ফ্লাইওভার নির্মাণ পরিকল্পনারক্ষেত্রে এর কোনোটিই করেনি। নগর পরিকল্পনাবিদদের তথ্য অনুযায়ী, একটা জংশনে ঘণ্টায় পাঁচ হাজার যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করলে গোল চত্বর ও ঘণ্টায় সাড়ে আট হাজার যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করলে চ্যানেলাইজড জংশন তৈরি করতে হবে। এর বেশি চলাচল করলে তখন ফ্লাইওভারের কথা চিন্তা করা যেতে পারে। নগর পরিকল্পনাবিদ বলে, জেবিআইসি’র মাধ্যমে সিডিএর করা সমীক্ষা অনুযায়ী বহদ্দারহাট মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলাচল করে দুই হাজার ৭৯১টি, জিইসি মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলে চার হাজার ৯০৪টি ও মুরাদপুর মোড়ে দুই হাজার ৭৭০টি। এছাড়া পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের ২০১২ সালের মে মাসে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জিইসি মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলাচল করে পাঁচ হাজার ২২৮টি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে চট্টগ্রাম নগরের কোনো জংশনেই ফ্লাইওভার নির্মাণের মতো সমপরিমাণ যানবাহন চলাচল করে না। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ মাস্টারপ্লানের কার্যকারিতা রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের কোথায় উল্লেখ নেই ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা। মাস্টারপ্লানকে উপেক্ষা করে এসব করা হচ্ছে। একটি সুন্দর শহরকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে।

সিডিএ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই যেসব ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেÑ তাতে টাকার অপচয় হবে, চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণে আসবে না। এটা প্রমাণিত হলো বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উন্মুক্ত হওয়ার পর। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সারা দিন অল্পসংখ্যক যানবাহন ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করছে। ফ্লাইওভার এলাকার লোকজন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে এ সত্যটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি; বরং জনগণের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। এরপরও কার স্বার্থে এসব ফ্লাইওভার নির্মাণ তা বোধগম্য নয়। এসব বাস্তবতার পরেও গত ১৫ মে মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার ৫.২ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের টেন্ডার উন্মুক্ত করে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে। শাহ আমানত সেতুর উত্তর দিক থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়াও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম দাবি করেছে, এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে, অথচ এর সিকি ভাগ টাকাও যদি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে খরচ করা হয়; তাহলে নগরীর যানজট নিরসন হয়ে যাবে। তাছাড়া অপরিকল্পিত ও অপেশাদারিত্ব এ কর্মকা-ে কারিগরি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে আদৌ কার্যকর ও যথার্থ নয়। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে চমক দেখাতে ও বিশাল অর্থভান্ডার লুটপাট করতেই উড়াল সেতু নামক এসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য