যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮৮

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলত যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন: আয়াত শরীফ-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হল মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী। তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরনিকা-বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

ধারাবাহিক

ওহাবী, খারিজী, লা-মাযহাবী, জামাতী তথা মুনাফিক গোষ্ঠী কর্তৃক প্রকাশিত মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ লিফলেটসমূহের দলীলভিত্তিক খ-ণমূলক জাওয়াব

বাতিলপন্থী ওহাবী, খারিজী, লা-মাযহাবী, জামাতী তথা মুনাফিক গোষ্ঠী রাজারবাগ শরীফ-এর প্রতি মিথ্যা প্রচার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে সকল লিপলেট প্রচার করেছে সেগুলোর জবাবে আমরা যে সকল লিফলেট প্রকাশ ও প্রচার করেছি তন্মধ্য হতে কয়েকটি লিফলেট নিম্নে হুবহু উল্লেখ করা হলো-

(২)

ধানমন্ডি ১৫ নাম্বার স্টাফ কোয়ার্টার কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ওহাবী-খারেজী ও বাতিলপন্থীদের নাম-ঠিকানা ও পরিচয়বিহীন অবৈধ লিফলেটের দলীলভিত্তিক জবাব

পূর্ব প্রকাশিতের পর

অবৈধ সন্তান ওহাবী-খারিজী ও মুনাফিকের দল মিথ্যা তোহমত দিয়েছে যে, হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের প্রতিও। হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা নাকি স্বজনপ্রীতি করেছেন, খিলাফত ধ্বংস করে রাজতন্ত্র কায়িম করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! তারা মিথ্যা তোহমত দিয়েছে- ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি, গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, আফযালুল আওলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরসহ পৃথিবীর সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের প্রতিও। অনুরূপভাবে বর্তমান ওহাবী-খারিজী বাতিলপন্থীরা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মিথ্যা তোহমত দিয়ে যাচ্ছে। নিম্নে তার কিছু নমুনা পেশ করা হলো-

দ্বীনদার-মুসলমান ভাই ও বোনেরা

তাদের মিথ্যাচারিতা ও ধোঁকবাজীর নমুনা দেখুন এরপর আপনারাই ফায়ছালা দিন!

 

জিহালতী ও অজ্ঞতাই মূলত: সমস্ত ফিৎনার মূল। ওহাবী, খারিজী ও বাতিলপন্থীরা এতটাই জাহিল যে, কোনটা নাম কোনটা নসব বা বংশ, কোনটা লক্বব বা উপাধী তাও তাদের জানা নেই। এমনকি শব্দ কাকে বলে সেটাও তারা জানেনা। তাই তারা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সম্পর্কে লিফলেটে চরম মিথ্যা ও জিহালতপূর্ণ বক্তব্য লিখেছে।

ইমাম+সায়্যিদ+মুহম্মদ+দিল্লুর+রহমান+আল+হাসানী+

ওয়াল+হুসাইনী+ওয়াল+কুরাইশী+মুদ্দা+জিল্লুহুল+আলী।

লক্ষ্য করুন! বাতিলপন্থিরা লক্বব, নসব বা বংশ পরিচয় ও দোয়াকেও নামের সাথে সংযুক্ত করে বা নাম হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ জণগণকে ধোঁকা দিতে চেয়েছে। রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মূল নাম মুবারক হচ্ছে- “মুহম্মদ দিল্লুর রহমান”। ‘ইমাম’ হচ্ছে লক্বব বা উপধি। আর ‘সাইয়্যিদ’ ও ‘আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী’ হচ্ছে নসব বা বংশ পরিচয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, বাতিলপন্থিরা “আল + ওয়াল + ওয়াল” তিনটি শব্দ ধরেছে। অথচ এগুলো আলাদা কোন শব্দ নয়। বরং “আল হাসানী + ওয়াল হুসাইনী + ওয়াল কুরাইশী” তিনটি শব্দ। এখানে হাসানী, হুসাইনী ও কুরাইশী থেকে আল ও ওয়ালকে আলাদা করে শব্দ হিসেবে দেখানো তাদের জিহালত ও প্রতারণারই বহি:প্রকাশ।

বাতিলপন্থী জাহিলদের জিহালতী এখানেই শেষ নয়। তারা “মুদ্দা + জিল্লুহুল + আলী” এ দোয়াটিকেও নাম হিসেবে তিনটি শব্দ দেখিয়েছে। অথচ এটা নামের কোন অংশই নয়। যেমন, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ লিখা বা বলা হয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নামের শেষে ‘রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’ হযরত আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের নামের ক্ষেত্রে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ লিখা বা বলা হয়ে থাকে। অনুরূপ জীবিতদের ক্ষেত্রেও উনাদের নামের শেষে দোয়া হিসেবে ‘মুদ্দা জিল্লুহুল আলী’ ‘দামাত বারাকাতুহু’ ইত্যাদি লিখা বা বলা হয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো বাতিলপন্থী জাহিলরা ‘আলাইহিস সালাম’ ‘রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’ ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ এগুলোকে নাম বলে স্বীকার করবে কি? বস্তুত: যাদের সামান্য ইলম ও আক্বল রয়েছে তারাও এগুলোকে কখনোই নাম বলে স্বীকার করবে না। কারণ এগুলো নাম নয় বরং দোয়া। ঠিক অনুরূপ ‘মুদ্দা জিল্লুহুল আলী’ এটাও নাম বা নামের কোন অংশ নয় বরং এটা দোয়া। বাতিলপন্থিরা প্রতারণা করে মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এরূপ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে এবং লক্বব বা উপাধি, নসব বা বংশ পরিচয় ও দোয়াকেও নামের সাথে যুক্ত করে এবং যেটা শব্দ নয় সেটাকেও শব্দ হিসেবে উল্লেখ করে ১৪ শব্দ বানিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করেছে। এবার আপনারাই ফায়ছালা করুন। যারা মাহফিলের বিরোধিতা করেছে তারা কত বড় প্রতারক মিথ্যুক, জালিয়াত ও জাহিল।

এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, কারো নাম যদি ১৪ কেন এর চেয়েও বেশি শব্দের হয় তবে তা কি শরীয়ত বিরোধী? বাতিলপন্থিরা কি প্রমাণ করতে পারবে যে, শরীয়তে বা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর কোথাও ১৪ শব্দ বা তার চেয়ে বেশি শব্দের নাম রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। যদি নিষেধ না থাকে তবে তারা নিষেধ করার কে? তাছাড়া হক্ব না হক্বের সাথে তো নাম কম শব্দ বা বেশি শব্দ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই? হক্ব নাহক্বের সম্পর্ক হচ্ছে আক্বীদা ও আমলের সাথে।

আলহামদুলিল্লাহ! বাতিলপন্থিরা লিফলেটে রাজরবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোন বক্তব্য, লিখনী, আক্বীদা-আমলকেই ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। এটা উনার হক্ব হওয়ার একটি বিরাট প্রমাণ। তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে দলীল দ্বারা উনার কোন আক্বীদা ও আমলকে ভুল প্রমাণ করুক। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি ইনশাআল্লাহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত তারা তা পারবে না।

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, ঢাকা।

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)