যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৭২

সংখ্যা: ১৯৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলত যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী, তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরনিকা-বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

ধারাবাহিক

“১। প্রসঙ্গ-  হক্কানী পীর বা আলিম”

মিথ্যাবাদী, তথাকথিত মুফতী, স্বঘোষিত মুশরিক শামছুল হক তার কলঙ্কিত রেসালা.. “বেশরা…দের গোমর ফাঁক”-এর ৮৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে “…. হক্কানী পীর নয়। আর ৮৪ পৃষ্ঠায় লিখেছে…..আলিম নয়।”

“খণ্ডনমূলক জবাব”

মিথ্যাবাদী, বদচরিত্র তথাকথিত মুফতী স্বঘোষিত মুশরিক তার উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে কোন দলীলই পেশ করতে পারেনি, অর্থাৎ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী কেন বা কি কারণে “হক্কানী পীর বা আলিম নন” তা মোটেও উল্লেখ করেনি। কাজেই কেউ হক্ব বা না হক্ব, আলিম বা জাহিল হওয়ার জন্য কারো মুখের কথা দলীল নয়। বরং দলীল হচ্ছে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও কিয়াস। কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াসে হক্কানী পীর বা আলিমের যে সংজ্ঞা বা পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে। এর সাথে যাদের মিল থাকবে তারা অবশ্যই হক্কানী পীর বা আলিম যদিও মিথ্যাবাদী শামছুল হকের ন্যায় আরো অনেকেই তা অস্বীকার করে। আর উক্ত সংজ্ঞায় যারা পড়বে না তারা কস্মিনকালেও হক্কানী পীর বা আলিম নয়, যদিও মিথ্যাবাদী শামছুল হকের ন্যায় আরো অনেকেই তাদেরকে হক্কানী বলে মুখে ফেনা তুলে।

মিথ্যাবাদী, প্রতারক, তথাকথিত মুফতী, স্বঘোষিত মুশরিক “শামছু ….. হক্কানী পীর বা আলিমের কথা উল্লেখ করেছে ঠিকই। কিন্তু হক্কানী পীর বা আলিমের সংজ্ঞা কি? হক্কানী পীর বা আলিম কে? তার কোন পরিচিতি সে উল্লেখ করেনি। উল্লেখ না করার কারণও অবশ্য রয়েছে। তাহলো- মিথ্যাবাদী, প্রতারক “শামছু….” ভাল করেই জানে যে, “হক্কানী পীর বা আলিমের সঠিক সংজ্ঞা বা পরিচিতি তুলে ধরলে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লহুল আলী” হক্কানী পীর বা আলিম” হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। আর শামছু ও তার গুরুরা নাহক্ব ও জাহিল হিসেবে সাব্যস্ত হবে। সাথে সাথে তার উল্লিখিত বক্তব্যও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। তাই সে হক্কানী পীর বা আলিমের সঠিক সংজ্ঞা বা পরিচিতি উল্লেখ করেনি।

মিথ্যাবাদী শামছূ…..’র মিথ্যাচারিতা ধেঁাকাবাজি, জিহালতী ও জালিয়াতিমূলক চেহারাটা জনসম্মুখে উন্মোচন করে দেয়ার লক্ষ্যে হক্কানী পীর বা আলিমের সংজ্ঞা বা পরিচিতি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরা হলো-

হক্কানী আলিম-এর পরিচয়

“উল্লেখ্য,  عالم (আলিমুন) শব্দটি বাবে سمع يسمع থেকে উদ্ভূত। উক্ত শব্দটি اسم فاعل বা কতৃর্বাচক শব্দরূপ। এর লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ হলো- একজন জ্ঞানী পুুরুষ। আর ইস্তিলাহী  বা পারিভাষিক অর্থে – আলিম তাকেই বলে, যিনি দ্বীনি ইল্ম তথা ইল্মে ফিক্বাহ ও ইল্মে তাছাউফের অধিকারী। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আলিম হতে হলে তার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়া। এরপর প্রথমত তাকে ইল্মে ফিক্বাহ্ ও ইল্মে তাছাউফ উভয়টাই অর্জন করতে হবে।

কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان العلماء ورثة الانبياء وان الانبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما وانما ورثوا العلم

অর্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আলিমগণ নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের ওয়ারিছ। আর নিশ্চয় নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনারা কোন দীনার-দিরহাম রেখে যাননি। বরং ইল্ম রেখে গেছেন।” (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত, মায়ারিফুস্ সুনান, উরফুশ শাযী, বযলুল মাজহুদ, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুতত্বীবী, আত তা’লীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব)

উল্লেখ্য যে, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ওয়ারিছস্বত্ব হিসেবে দু’প্রকার ইলম রেখে গেছেন। অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ্ ও ইলমে তাছাউফ।

যে প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن الحسن رحمة الله عليه قال العلم علمان فعلم فى القلب فذاك العلم النافع وعلم على اللسان فذالك حجة الله عز وجل على ابن ادم

অর্থ:“হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত তিনি ইরশাদ করেন, ইল্ম দু’প্রকার। (১) ক্বলবী ইলম (ইল্মে তাছাউফ) যা উপকারী ইল্ম, (২) জবানী ইল্ম (ইল্মে ফিক্বাহ্) যা আল্লাহ পাক-উনার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য দলীল স্বরূপ।” (দারিমী, বাইহাক্বী, দাইলামী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত আশয়াতুল, লুময়াত, শরহুত্ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ্, মুযাহিরে হক্ব)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়ারিছ স্বত্ব হিসেবে ইল্মে ফিক্বাহ্ ও ইল্মে তাছাউফ উভয়টিই রেখে গেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি উভয়টিই শিক্ষা করলো, সে ব্যক্তিই নায়িবে রসূল বা হাক্বীক্বী আলিম।

উপরোল্লিখিত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ইমামে রব্বানী, মাহ্বুবে সুবহানী, কাইয়ুমে আউয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আল্ফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “মাকতুবাত শরীফ-এ” উল্লেখ করেন-

العلماء ورثۃ   الانبیاء علممیکہ از انبیاء علیہم الصلوات والتسلیمات باقی ماندہ است دونوع است علم احکام وعلم اسرار وورث کسی ہست کہ اورا ہردونوع علم سہر بودنہ أنکہ اورا ازیک نوع نصب بودنہ از نوع دیگر کہ أن منافی وراثت است چہ وراثت را از جمیع انواع ترک مورث نصیب است نہ ازبعض وأنکہ اورا ازمعین نصیب است داخل غرما است کہ نصیب اوبجنس حق او تعلق گرفتہ است

অর্থ: “আলিমগণ নবী আলাইহিমুস্ সালামগণের ওয়ারিছ।” এ হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আলিম তারাই, যাঁরা নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের রেখে যাওয়া ইলমে আহকাম (ইলমে ফিক্বাহ) ও ইল্মে আসরার (ইল্মে তাছাউফ) উভয় প্রকার ইল্মের অধিকারী। অর্থাৎ তিনিই প্রকৃত ওয়ারিছ বা স্বত্বাধিকারী। আর যে ব্যক্তি শুধুমাত্র এক প্রকার ইল্মের অধিকারী, সে ব্যক্তি নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রকৃত ওয়ারিছ নন। কেননা পরিত্যক্ত সম্পত্তির সকল ক্ষেত্রে অংশীদারী হওয়াকেই ওয়ারিছ বলে। আর যে ব্যক্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোন নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী হয় তাকে গরীম বলে। অর্থাৎ সে ওয়ারিছ নয় গরীমের অন্তভুর্ক্ত।

হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মিশকাত শরীফ-এর বিখ্যাত শরাহ “মিরকাত শরীফে” উল্লেখ করেন যে, মালিকী মায্হাবের ইমাম হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

من تفقه ولم يتصوف فقد تفسق ومن تصوف ولم يتفقه فقد تزندق ومن جمع بينهما فقد تحقق.

অর্থ: যে ব্যক্তি ইল্মে ফিক্বাহ্ শিক্ষা করলো, কিন্তু ইল্মে তাছাউফ শিক্ষা করলো না, সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করলো কিন্তু ইল্মে ফিক্বাহ্ শিক্ষা করলো না, সে যিন্দিক (কাফির)। আর যে ব্যক্তি উভয়টি শিক্ষা করলো, সে মুহাক্কিক তথা হক্কানী আলিম।”

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।