যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৮

সংখ্যা: ১৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলত যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কায্যাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, æআল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী, তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরণীকা-বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যার কিছু নমুনা আপনারা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১২৪তম সংখ্যা থেকে ১৯৪তম সংখ্যার অত্র মতামতের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন।

পরিশিষ্ট

মহান আল্লাহ পাক দুনিয়ালোভী পথভ্রষ্ট উলামায়ে ‘ছূ’দের কালো থাবা থেকে দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমান ও আমল হিফাযতের লক্ষ্যে শতবছর পর পর বিশেষ হাদী হিসেবে মুজাদ্দিদ-উনাদেরকে যমীনে পাঠিয়ে থাকেন। মুাজদ্দিদ-উনারা যখন তাজদীদ শুরু করেন। অর্থাৎ উলামায়ে ছূ কর্তৃক দ্বীন ইসলামে প্রবেশকৃত সকল কুফরী শিরকী ও বিদয়াতী আমলের মূলোৎপাটন করে, সঠিক আক্বীদা ও আমলসহ অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়েই শরীয়তের সঠিক ও নির্ভুল ফায়ছালা তুলে ধরেন, তখনই দুনিয়ালোভী, পথভ্রষ্ট উলামায়ে ছূদের আতে ঘা লাগে এবং তাদের দুনিয়া  হাছিলের ব্যবসার পথ হয়ে যায় পরিপুর্ণরূপে রুদ্ধ। তাদের জিহালতী, ধোকাবাজী, বদ আক্বীদা-আমল ও ধর্মব্যবসায়ী চেহারা জনগণের নিকট হয়ে উঠে স্পষ্ট। সঙ্গত কারণেই তখন তারা তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে যামানার মুজাদ্দিদ উনাদেরকে।

ধর্মব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও জনরোষ থেকে রেহাই পেতে উলামায়ে ‘ছূ’রা তখন যামানার মুজাদ্দিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে। এক্ষেত্রে তারা যামানার মুজাদ্দিদের সঠিক বতক্তব্যগুলোকে কাটছাট ও অপব্যাখ্যা করে জনসম্মুখে উপস্থাপন করে জনগণকে মুজাদ্দিদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়। পূর্ববর্তী সকল মুজাদ্দিদ-উনাদের জীবনীতেই এর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সে যামানার উলামায়ে ছূরা অর্থাৎ আবুল ফযল, ফৈজী, মোল্লা মুবারক নাগরী গং তাদের ধর্ম ব্যবসাভিত্তিক অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার প্রতি বাদশা ও জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে তার অনেক বক্তব্যকে কাটছাট করে ও অপব্যাখ্যা করে বাদশা ও জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। এ সম্পর্কিত কিছু প্রমান তার জীবনীগ্রন্থ থেকে হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো-

æসম্রাজ্ঞী নূরজাহানের অসীম প্রভাবের দরুন বাদশাহ জাহাঙ্গীরের রাজদরবারে রাফেযীদের প্রভাব অতিশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছিল। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই মাযহাবের বিরুদ্ধে কতিপয় পুস্তক পুস্তিকা রচনা করেছিলেন। যার ফলে এই সম্প্রদায় তার ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। তারা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জব্দ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠলো। তারা সুযোগ বুঝে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে লিখিত একটি পত্র বাদশাহর সম্মুখে পেশ করে বাদশাকে বুঝিয়ে দিল যে, শায়খ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেকে হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং তিনি বলেন যে, উনার মাক্বাম হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার মাক্বাম হতে উচ্চে।

উক্ত পত্রখানির অংশ বিশেষ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো-

æদ্বিতীয়বার এই মাক্বাম অবলোকন করার সময় আরও অনেক মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয়, যার একটি অন্যটি হতে উচ্চ ছিল। যখন ওটা হতে অধিকতর উচ্চ মাকামে পৌঁছলাম তখন বুঝলাম এই মাক্বামটি হযরত উছমান যুন নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং খলীফাগণও এই মাক্বাম অতিক্রম করেছেন। এ স্থান হতে অধিক উচ্চ হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার মাক্বাম যাহির হলো। এ স্থানেও এসে পৌঁছলাম।

খাজা বুযূর্গ হযরত শাহ নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনাকে প্রত্যেক স্থানে এভাবে আমার সঙ্গীরূপে দেখলাম যেন মাত্র অতিক্রম করার তফাৎ ছিল। হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার মাক্বাম হতে উচ্চ কোন মাক্বাম বুঝতে পারিনি। অবশ্য নবুওওয়াতের মাক্বাম অত্যন্ত বুলন্দ ও উচ্চ ছিল। হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার মাক্বামের বরাবর আর একটি অতি উত্তম ও বহুত নূরানী মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয়, যা হতে অধিক উত্তম অন্য কোন মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয়নি। মাক্বামে ছিদ্দীকী উচ্চ হয়ে থাকে। আমি জানতে পারলাম যে, এটা মাহবুবিয়াতের মাক্বাম। এ মাক্বামটি রঙ্গিন ও নকশা খচিত ছিল। এই মাক্বামের প্রতিচ্ছায়া পড়িবার দরুন এই বান্দা নিজকে রঙ্গিন ও উক্ত নকশায় নিজেকে খচিত দেখল। তৎপর রঙ্গিন ও নকশা খচিত এই অবস্থা সত্ত্বেও আমি নিজকে বড়ই সুক্ষ্ম (লতীফ) অনুভব করতে লাগলাম এবং বাতাস ও মেঘের টুকরার ন্যায় নিজকে বড়ই আকাশের চক্রবালে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় অনুভব করতে লাগলাম। এই অবস্থার এক প্রান্তে গিয়ে পৌঁছলাম। হযরত খাজা বুযুর্গ রহমতুল্লাহি আলাইহি মাক্বামে ছিদ্দীকের মধ্যে রইলেন এবং আমি নিজেকে এর বরাবরের মাক্বামে উল্লেখিত অবস্থায় দেখতে লাগলাম। (মকতুব নং ১১, দফতর-/১)

এ পত্রখানা পেশ করার দরুন বাদশাহ জাহাঙ্গীর দুঃখিত হলেন এবং হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনাকে শাহী দরবারে ডেকে এনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উত্তরে বললেন, æআহলে সুন্নতগণের নিকট যেমন ঐ ব্যক্তি সুন্নী নন যিনি হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনাকে হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন; অনুরুপভাবে ছূফীগণের নিকটও ঐ ব্যক্তি ছূফী নন, যিনি নিজকে সৃষ্ট জীবের মধ্যে নিকৃষ্ট কুকুর হতে ভালো মনে করেন। অতএব আমি নিজকে কিরূপে হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে পারি। পীরের তাওয়াজ্জুহের দরুন সালিকগণ কিরূপে এক মাক্বাম হতে অন্য মাক্বামে ভ্রমণ করে ও উন্নীত হয় তার বর্ণনা এ মকতুবে উল্লেখ করা হয়েছে। সালিকগণের উরুজ বা উত্থান এরূপ মাক্বামে অল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, শাহী দরবারে আমীরগন রাত দিন হাজির থাকেন। যদি কোন সময় প্রয়োজনবশত বা অন্য কোন অজুহাতের দরুন বাদশাহ কোন সিপাহীকে তলব করে তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তাকে সম্মানিত করেন, তাহলে এটা একটি অস্থায়ী ব্যাপার। ক্ষণিক পরেই সিপাহী নিজ স্থানে প্রত্যাবর্তন করে এবং দরবারী স্বীয় বুলন্দ মাক্বামেই অবস্থান করেন। এই অস্থায়ী নৈকট্যের দরুন সিপাহীর মর্যাদা বাদশাহের অমাত্যগণ হতে উচ্চ মনে করা যেতে পারে না।

এভাবে আমাদের উরুজ বা উত্থান একটি সাময়িক অবস্থা। এ অবস্থা শেষ হওয়ার পর আমি পুন সিরহিন্দে পুরাতন পর্ণ কুটিরেই ফিরে আসি। এই হাক্বীক্বতটি উপলব্ধি করার পর এই উচ্চ মাক্বামে ছিদ্দীকী অর্থাৎ ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু  তায়ালা আনহু হতে নিজেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার ধারণা করাও অসম্ভব। (চলবে)

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।