যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৩

সংখ্যা: ১৯০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলতঃ যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কায্যাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী, তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরণীকা- বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যেমন, যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলূলের বংশধর ও দাজ্জালে কায্যাব, খারিজীপন্থী ওহাবীদের আরেকটি মিথ্যা অপপ্রচার হচ্ছে,

(১৯)

বুযূর্গদের প্রশংসা করা সম্পর্কে মিথ্যাচারিতা

কায্যাবুদ্দীন লিখেছে, “………. তিনি বিভিন্ন বুযূর্গ সম্পর্কে অতি উচ্চ মাত্রায় বাড়াবাড়ি করে কিছু প্রশংসা করেছেন। ….. যেমন তিনি বলেন,

১.  কেউ যদি মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর লিখিত মাকতুবাত শরীফ পড়ে (পড়াকালীন সময়ে) যদিও সে নবী নয়, তবুও নবীদের দফতরে তার নাম থাকে। ………।”

২.  রাজারবাগ-এর পীর ছাহেব নিজেকে ‘গাউছুল আ’যম দাবি করেন। আর তার পত্রিকায় গাউছুল আ’যম বড় পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে, গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আওলিয়া মুহিউদ্দীন বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) বলেছেন, “কোন চাঁদ উদিত হয় না কোন সূর্য অস্ত যায় না আমার অনুমতি ব্যতীত” … অতঃপর একটু সামনে গিয়ে রাজারবাগী ছাহেবও এরূপ ক্ষমতা রাখেন সেদিকে ইঙ্গিত করে পত্রিকাটিতে লিখা হয়েছে, “উল্লেখ্য এ ধরনের আখাস্সুল খাছ মর্যাদা-মর্তবার ওলী আল্লাহর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সমাসীন …… রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।” (আল বাইয়্যিনাত ৭১তম সংখ্যা ১৩৯ পৃষ্ঠা)

কায্যাবুদ্দীন উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছে, “চাঁদ, সূর্য অস্ত যাওয়া, উদিত হওয়ার মত প্রাকৃতিক পরিচালনা (تصرفات عالم) কোন মানুষের অনুমতি বা ইচ্ছায় সংঘটিত হয় বলে কেউ বিশ্বাস করলে সে নিশ্চিত কাফির হয়ে যায়। বিশেষতঃ সূর্যের ব্যাপারে স্পষ্টতঃ হাদীছ শরীফে এসেছে যে, সূর্য আল্লাহ পাক-এর আরশের নিচে সিজদায় পড়ে আল্লাহ পাক-এর কাছ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করে অনুমতি লাভ হলে সে উদিত হয়। (বুখারী শরীফ)

“মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব”

পূর্ব প্রকাশিতের পর

কায্যাবুদ্দীনের একথার পিছনে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর কোন দলীল আছে কি যে, কোন মানুষের ইচ্ছায় সূর্য উদিত হয় মনে করা কুফরী? মূলত এর স্বপক্ষে কোন দলীলই সে পেশ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে সূর্যসহ পৃথিবীর অনেক কিছুই যে, গাউছ, কুতুব, আবদাল, নক্বীব, নুজাবা ও ক্বাইয়্যূমগণের ইচ্ছায় পরিচালিত হয়, তার বহু প্রমাণ পেশ করা সম্ভব। যেমন, কিছু প্রমাণ পূর্ববর্তী “কাইয়্যূম শীর্ষক” আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই এক্ষেত্রে বুখারী শরীফ-এর উক্ত হাদীছ শরীফকে উল্লেখ করা কায্যাবুদ্দীনের জিহালতী ও প্রতারণা মাত্র।

কায্যাবুদ্দীন গালী শিয়াদের প্রসঙ্গ টেনে এনে লিখেছে যে, “গালী শিয়ারা মনে করতো আল্লাহ পাক জগত পরিচালনার দায়িত্ব হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উপর ন্যস্ত করেছেন, তাই তাদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কায্যাবুদ্দীন এটাই বুঝাতে চেয়েছে, যারা মনে করবে জগত পরিচালনার দায়িত্ব মানুষের হাতে রয়েছে তারা শিয়াদের ন্যায় কাফির।”

মূলতঃ কায্যাবুদ্দীন এক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। কারণ “জগত পরিচালনার দায়িত্ব হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উপর ন্যস্ত একথা বিশ্বাস করার কারণে গালী শিয়াদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়নি। বরং তাদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে এজন্য যে, তারা মনে করতো হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই আল্লাহ বা খালিক, অর্থাৎ তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ছূরতে পৃথিবীতে এসেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ) আর এ কারণেই তাদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে।

সুতরাং কায্যাবুদ্দীন যে লিখেছে, “জগত পরিচালনার দায়িত্ব হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উপর ন্যস্ত ছিল একথা মনে করার কারণেই গালী শিয়াদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে।” তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নিজ থেকেই এ বক্তব্য জুড়ে দিয়েছে। নচেৎ কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ ও অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নবী-রসূল, ছাহাবায়ে কিরাম, ওলীআল্লাহ ও ফেরেশ্তাগণের অনেকের উপরই জগত পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল বা রয়েছে। আর মূলতঃ এটিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সঠিক আক্বীদা। কাজেই গালী শিয়াদের উদাহরণ টানা কায্যাবুদ্দীনের আরেকটি প্রতারণা মাত্র।

স্মরনীয় যে, আশাদ্দুদ দরজার জাহিল ও গোমরাহ কায্যাবুদ্দীন তার গোমরাহীমূলক রেসালা “ভ্রান্ত মতবাদে” রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে যে সকল জিহালতী ও গোমরাহী উদগীরণ করেছে, তার মূল বিষয়বস্তু হলো- সে লিখেছে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী নাকি নিজের বুযূর্গী ও মর্যাদা প্রকাশ করার জন্যে তিন ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছেন, ১. নামের পূর্বে লক্বব ব্যবহার করা, ২. নিজের এবং অন্যের স্বপ্ন বর্ণনা করা, ৩. পূর্ববর্তী বুযূর্গদের  প্রশংসা করে তিনি নিজেও এরূপ এটি প্রমাণ করা।

কায্যাবুদ্দীনের উক্ত জিহালতপুর্ন ও গোমরাহীমূলক বক্তব্যের জবাবে প্রথমতঃ বলতে হয় যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী যে, “নিজের বুযূর্গী বা মর্যাদা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বা নিয়তে লক্বব ব্যবহার করেন, স্বপ্ন বর্ণনা করেন এবং পূর্ববর্তী বুযূর্গদের প্রশংসা করেন,” এটা কায্যাবুদ্দীন জানলো বা বুঝলো কিভাবে? উদ্দেশ্য বা নিয়তটা তো ক্বলব বা অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর ক্বলব বা অন্তরের খবর তো একমাত্র আল্লাহ পাকই জানেন। তবে কি কায্যাবুদ্দীন আল্লাহ হওয়ার দাবী করেছে? (নাউযুবিল্লাহ)

মূলতঃ লক্বব ব্যবহার বা প্রকাশ করা, নিজের বা অন্যের স্বপ্ন বর্ণনা করা এবং পূর্ববর্তীদের প্রশংসা বর্ণনা করা সবগুলোই খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা স্বয়ং আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্বব প্রকাশ করেছেন, নিজের স্বপ্ন বা ছাহাবায়ে কিরামগণের স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন এবং পূর্ববর্তী নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। এ খাছ সুন্নত আদায়ের উদ্দেশ্যে বা নিয়তেই মুহইস্ সুন্নাহ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী লক্বব ব্যবহার বা প্রকাশ করেন, নিজ স্বপ্ন বা মুরীদানদের স্বপ্ন বর্ণনা করেন এবং পূর্ববর্তী গাউছ, কুতুব, ক্বাইয়্যূম তথা ওলীগণের প্রশংসা করে থাকেন।

দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্বব ব্যবহার করেছেন বা নিজের লক্বব নিজেই প্রকাশ করেছেন, নিজের এবং অপরের স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন এবং পূর্ববর্তীদের প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। তাই বলে কি কায্যাবুদ্দীন বলবে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের বুযূর্গী প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত পন্থা বা কৌশল অবলম্বন করেছেন? (নাউযুবিল্লাহ)

তৃতীয়তঃ বলতে হয় যে, পূর্ববর্তী ইমাম-মুজতাহিদ বা ওলীগণের অনেকেই লক্বব ব্যবহার ও প্রকাশ করেছেন, স্বপ্নও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের পূর্ববর্তী নবী-রসূল, ছাহাবী, তাবিয়ী, তাবে তাবিয়ী, তথা ওলীগণের বহু প্রশংসা করেছেন। তার বহু প্রমাণ সীরাত গ্রন্থসমূহে রয়েছে। তাই বলে কি কায্যাবুদ্দীন বলবে যে, তাঁরা নিজেদের বুযূর্গী প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পন্থা বা কৌশল অবলম্বন করেছেন। অথবা নবী-রসূল ছাহাবাদের প্রশংসা করার অর্থ কি এই যে, তারা নিজেদেরকে নবী-রসূল ছাহাবাদের ন্যয় মর্যাদার অধিকারী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন? (নাউযুবিল্লাহ)

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল