যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬২

সংখ্যা: ১৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলতঃ যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কায্যাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী, তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরণীকা- বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যেমন, যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলূলের বংশধর ও দাজ্জালে কায্যাব, খারিজীপন্থী ওহাবীদের আরেকটি মিথ্যা অপপ্রচার হচ্ছে,

(১৯)

বুযূর্গদের প্রশংসা করা সম্পর্কে মিথ্যাচারিতা

কায্যাবুদ্দীন লিখেছে, “………. তিনি বিভিন্ন বুযূর্গ সম্পর্কে অতি উচ্চ মাত্রায় বাড়াবাড়ি করে কিছু প্রশংসা করেছেন। ….. যেমন তিনি বলেন,

১.      কেউ যদি মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর লিখিত মাকতুবাত শরীফ পড়ে (পড়াকালীন সময়ে) যদিও সে নবী নয়, তবুও নবীদের দফতরে তার নাম থাকে। ………।”

২.     রাজারবাগী ছাহেব নিজেকে ‘গাউছুল আ’যম দাবি করেন। আর তার পত্রিকায় গাউছুল আ’যম বড় পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে, গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আওলিয়া মুহিউদ্দীন বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) বলেছেন, “কোন চাঁদ উদিত হয় না কোন সূর্য অস্ত যায় না আমার অনুমতি ব্যতীত” … অতঃপর একটু সামনে গিয়ে রাজারবাগী ছাহেবও এরূপ ক্ষমতা রাখেন সেদিকে ইঙ্গিত করে পত্রিকাটিতে লিখা হয়েছে, “উল্লেখ্য এ ধরনের আখাস্সুল খাছ মর্যাদা-মর্তবার ওলী আল্লাহর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সমাসীন …… রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।” (আল বাইয়্যিনাত ৭১তম সংখ্যা ১৩৯ পৃষ্ঠা)

কায্যাবুদ্দীন উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছে, “চাঁদ, সূর্য অস্ত যাওয়া, উদিত হওয়ার মত প্রাকৃতিক পরিচালনা (تصرفات عالم) কোন মানুষের অনুমতি বা ইচ্ছায় সংঘটিত হয় বলে কেউ বিশ্বাস করলে সে নিশ্চিত কাফির হয়ে যায়। বিশেষতঃ সূর্যের ব্যাপারে স্পষ্টতঃ হাদীছ শরীফে এসেছে যে, সূর্য আল্লাহ পাক-এর আরশের নিচে সিজদায় পড়ে আল্লাহ পাক-এর কাছ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করে অনুমতি লাভ হলে সে উদিত হয়। (বুখারী শরীফ)

“মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব”

আশাদ্দুদ দরজার জাহিল কায্যাবুদ্দীনের উপরোক্ত বক্তব্য ও মন্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী “বুযূর্গদের প্রশংসা করতে গিয়ে অতি উচ্চ মাত্রায় বাড়াবাড়ি করেন।”

কায্যাবুদ্দীনে এ বক্তব্য ডাহা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। কারণ সত্য কথা হলো রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী কোন ব্যক্তি বা কিতাব সম্পর্কেই যেরূপ অতিরিক্ত প্রশংসা করেন না, তদ্রুপ এক্ষেত্রে বিনা দলীলেও কোন কথা বলেন না। যিনি বা যে কিতাব যতটুকু প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য ততটুকুই তিনি বর্ণনা করেন। যেমন, ক্বাইয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জগত বরেণ্য, বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য ও বিশুদ্ধ কিতাব ‘মাকতুবাত শরীফ’-এর ভূমিকাতেই বলা হয়েছে, “ওলী-আল্লাহগণ সকলেই বলে থাকেন, যতক্ষণ মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী ভক্তি বিশ্বাসসহ পঠন ও শ্রবণ করা যায়, ততক্ষণ তাদের নাম পয়গাম্বর (আলাইহিমুস্ সালাম)গণের অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং মছনবী রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি পঠন ও শ্রবণকালে ওলীআল্লাহগণের শামিল থাকে, যদিও তারা ওলীআল্লাহ না হয়।” (মাকতুবাত শরীফ-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা-৫)

উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী ‘মাকতুবাত শরীফ’ সম্পর্কে যে কথা বলেছেন তা পূর্ববর্তী সকল ওলীগণেরই কথা আর ‘মাকতুবাত শরীফ’ সম্পর্কিত উপরোক্ত প্রশংসা মোটেও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি নয় বরং এটাই যথাযথ এবং শরীয়তসম্মত। কেননা হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে যে,

من جاء الموت وهو يطلب العلم ليحيى به الاسلام فبينه وبين النبين درجة واحدة فى الجنة.

অর্থ: যে ব্যক্তি এ অবস্থায় ইন্তিকাল করলো যে, সে ইসলামকে জিন্দা করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করতে ছিল। জান্নাতে তাঁর মধ্যে আর নবীগণের মধ্যে একটি মাত্র দরজা বা পার্থক্য থাকবে। অর্থাৎ সে নবী না হয়েও নবীর মাক্বাম লাভ করবে।” (দারিমী ও মিশকাত)

কাজেই এক্ষেত্রে কায্যাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্য ডাহা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও দলীলবিহীন বলে প্রমাণিত হলো।

দ্বিতীয়তঃ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে যে প্রশংসা করা হয়েছে তাও অতি উচ্চ মাত্রায় বাড়াবাড়ি নয়। বরং যথাযথ ও দলীলভিত্তিক। সেটা মনগড়া বা বানানো কোন কথা নয়। স্বয়ং গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেই একথা বলেছেন। আর এ উপমহাদেশের বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও বুযূর্গ হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেই তাঁর রচিত সাড়া জাগানো গ্রন্থ ‘বাহযাতুল আসরা”-এর সংক্ষিপ্তসার “জুবদাতুল আছার”-এর ৮১ পৃষ্ঠায় তা বর্ণনা করেছেন।

উক্ত কিতাবে বর্ণিত আছে,

شیخ ابو القاسم عمر بن مسعود بزاز اور شیخ ابو حفص عمر  یکمانی رحمھم اللہ روایت کر تے ہیں کہ ایک دفعہ شیخ سید عبد القادر جیلانی بادلو میں سیر کرتھے اور اپ تمام اھل مجلس کے سروں پرتھے تواپ نے فرمایا جب تک افتاب مجھے سلام نہ کرے طلوع نھیں ھونا ہر سال اینے اغاز سے پھلے میرے پاس اتاھے اور مجے اہم واقعات سے اکاہ کرتا ہے اسی طرح ماہ وہفتہ میرے پاس اکر سلام کہتے ہیں اور اپنے دوران جو چیزیں رونما ہونے والی ہوتی ہیں مجھے اگاہ کرتے.

অর্থ: “শায়খ আবুল কাসেম উমর বিন মাসউদ এবং শায়খ আবুল হাফছ উমর রহমতুল্লাহি আলাইহিমা বর্ণনা করেন, একবার শায়খ সাইয়্যিদ আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি মজলিসে সমবেত লোকদের মাথার উপর মেঘমালায় পরিভ্রমণরত ছিলেন। তিনি বলেন, সূর্য যতক্ষণ আমাকে সালাম না দেয় (অর্থাৎ আমার থেকে অনুমতি না নেয়) ততক্ষণ উদিত হয় না। প্রতিটি নতুন বছর শুরুর আগে আমার কাছে আসে এবং ঘটমান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করে। অনুরূপ মাস ও সপ্তাহ আমার কাছে এসে আমাকে সালাম দেয় এবং স্বীয় কালে ঘটমান ঘটনাবলী সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেন।”

উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কিত উপরোক্ত প্রশংসা অতি উচ্চমাত্রায় বাড়াবাড়ি নয়। বরং যথাযথ ও সঠিক। কারণ স্বয়ং রঈছুল মুহাদ্দিছীন হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেই স্বীকার করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, “সূর্য গাউছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট এসে সালাম দিয়ে  বা তাঁর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে উদিত হয়।”

কায্যাবুদ্দীন লিখেছে “চাঁদ-সূর্য মানুষের অনুমতিতে অস্ত যায় বা উদিত হয় বলে বিশ্বাস করলে কাফির হয়ে যাবে।” এখন প্রশ্ন হলো- তবে কি কায্যাবুদ্দীনের মতে গাউছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি কাফির” (নাঊযুবিল্লাহ)

তাছাড়া হাদীছ শরীফেই রয়েছে যে, পৃথিবীতে সর্বদাই এমন কিছু বুযর্গ থাকবেন যাদের ওসীলা বা ইচ্ছায় জগতের অনেক কিছুই পরিচালিত হবে। যার দলীলভিত্তিক বিস্তারিত বর্ণনা পূর্বে দেয়া হয়েছে। তবে কি কায্যাবুদ্দীনের মতে স্বয়ং আল্লাহ পাক-এর হাবীবও কাফির? (নাউযুবিল্লাহি মিন মালউনিল আযীম)

উল্লেখ্য কায্যাবুদ্দীন এক্ষেত্রে বুখারী শরীফ-এর উক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করে চরম জিহালতীর পরিচয় দিয়েছে। কারণ একথা তো সকলেরই জানা যে, শুধু সূর্য কেন আল্লাহ পাক ছাড়া যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহ পাক-এর অনুমতি সাপেক্ষে পরিচালিত হয়। তাই বলে উক্ত  হাদীছ শরীফে তো আর একথা উল্লেখ নেই যে, সূর্য উদিত হওয়ার সময় অন্য কারো অনুমতি নেয় না বা অন্য কারো অনুমতিতে সূর্য উদিত হয়, বিশ্বাস করা কুফরী। (চলবে)

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল