যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৮

সংখ্যা: ১৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলতঃ যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কায্যাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফে মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফেরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী, তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরণীকা- বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যেমন, যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলূলের বংশধর ও দাজ্জালে কায্যাব, খারিজীপন্থী ওহাবীদের আরেকটি মিথ্যা অপপ্রচার হচ্ছে,

(১৮)

‘বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফ’

সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা

কায্যাবুদ্দীন তার উক্ত মন্তব্যে সর্বশেষ যা লিখেছে তা হলো, “রূপক অর্থে আল বাইয়্যিনাত পত্রিকাকে কুরআন আখ্যায়িত করা কুরআনের সাথে জঘন্য ধরনের উপহাস। কেননা …… আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় উলামায়ে কিরাম সম্পর্কে এমন সব গালি-গালাজ লিখা হয় যা কোন ভদ্রতা ও শালীনতার আওতায় পড়ে না। উক্ত পত্রিকায় শাইখুল হাদীছ, মাসিক মদীনার সম্পাদক, চরমোনাইয়ের পীর …… হাটহাজারীর মোহতামিম প্রমুখ দেশবরেণ্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় নায়িবে রসূলগণকে যেসব কুৎসিত গালি দেয়া হয়েছে। তার কয়েকটি নিম্নরূপ: উম্মতে মুহম্মদী থেকে খারিজ, মাওসেতুং ও গান্ধির ভাবশিষ্য, শয়তানের পোষ্যপুত্র, মুশরিক, মুনাফিক, ধোঁকাবাজ, ভ-, জাহিল, গোমরাহ, কায্যাব, কমীনী, যিনাখোর, নফসের পূজারী, মালউন ইত্যাদি।”

“মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব”

কায্যাবুদ্দীন আল বাইয়্যিনাতের প্রতি দ্বিতীয় যে অপবাদ বা তোহমত দিয়েছে তা হলো “আল বাইয়্যিনাতে উলামায়ে কিরাম বা নায়িবে নবীগণকে গালি-গালাজ করা হয়।” (নাঊযুবিল্লাহ)

কায্যাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্যের জবাবে প্রথমত: বলতে হয় যে, আল বাইয়্যিনাত শরীফে বর্ণিত, যে বিশেষণগুলো কায্যাবুদ্দীন গালি-গালাজ বলে প্রচার করছে সেগুলো গালি-গালাজ নয় তা পূর্ববর্ণিত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। কারণ সেগুলো যদি গালি-গালাজ হয় তবে কায্যাবুদ্দীনের মতে সাব্যস্ত হয় যে, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ গালি-গালাজ রয়েছে। উক্ত বিশেষণগুলো কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ থাকায় কেউ যদি বলে যে, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ গালি-গালাজ রয়েছে তবে সে কাফির হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত: বলতে হয় যে, “আল বাইয়্যিনাত শরীফে উলামায়ে কিরাম বা নায়িবে নবীদের গালি-গালাজ করা হয়।” নাঊযুবিল্লাহ। কায্যাবুদ্দীনের একথাও ডাহা মিথ্যা।

কারণ কায্যাবুদ্দীন যাদেরকে উলামায়ে কিরাম বা নায়েবে নবী বলে দাবী করছে, তারা কস্মিনকালেও হক্কানী আলিম বা নায়িবে নবী নয়। কায্যাবুদ্দীন যেহেতু আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল, তাই সে জানেনা যে কে হক্কানী আলিম, কে নায়িবে নবী। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর দৃষ্টিতে হক্কানী আলিম বা নায়িবে নবীর সঠিক পরিচয় বা সংজ্ঞা তুলে ধরলেই সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হবে যে, কায্যাবুদ্দীনের দাবী সম্পূর্ণই মিথ্যা। অর্থাৎ তার উল্লিখিত ব্যক্তিরা আসলে হক্কানী আলিম বা সত্যিকার নায়িবে নবী নয়।

তাই নিম্নে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর দৃষ্টিতে হক্কানী আলিম বা সত্যিকার নায়িবে নবী-এর পরিচয় তুলে ধরা হলো-

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

হক্কানী আলিম-এর পরিচয়

উল্লেখ্য যে, নবী-রসূল আলাইহিস্ সালামগণ ওয়ারিছ স্বত্ব হিসেবে দু’প্রকার ইল্ম রেখে গেছেন। অর্থাৎ ইল্মে ফিক্বাহ ও ইল্মে তাছাউফ।

যে প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

العلم علمان فعلم فى القلب فذاك العلم النافع وعلم على اللسان فذالك حجة الله عزوجل على ابن ادم.

অর্থঃ “ইল্ম দু’প্রকার। (১) ক্বলবী ইল্ম (ইল্মে তাসাউফ) যা উপকারী ইল্ম, (২) জবানী ইল্্ম (ইল্ম ফিক্বহ) যা আল্লাহ্ পাক-এর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য দলীল স্বরূপ।” (দারিমী, বাইহাক্বী, দাইলামী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত্বীবী ছবীহ্, মুযাহিরে হক্ব)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি সাল্লাম ওয়ারিছ স্বত্ব হিসেবে ইল্মে ফিক্বাহ ও ইল্মে তাসাউফ উভয়টিই রেখে গেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি উভয়টিই শিক্ষা করলো, সে ব্যক্তিই নায়িবে রসূল বা হাক্বীক্বী আলিম।

উপরোল্লিখিত হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় ইমামে রব্বানী, মাহ্বুবে সুবহানী, কাইয়ুমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব “মাকতুবাত শরীফে” উল্লেখ করেন-

العماء ورثة الانياء : علمیکہ از انبیاء علیہم الصلوات والتسلیمات باقی ماندہ است دونوع است علم احکام وعلم اسرار وورث کسی ہست کہ اورا ہردونوع علم سہم بود نہ آ  نکہ اورا ازیک نوع نصیب بود نہ از نوع دیگر کہ آن منافی وراثت است  چہ وراثت را  از جمیع انواع بر مورث نصیب است نہ از بعض وآنکہ اورا از معین نصیب است داخل غرما است کہ نصیب او بجنس حق او تعلق گرفتہ است.

অর্থঃ “আলিমগণ নবী আলাইহিমুস্ সালামগণের ওয়ারিছ।” এ হাদীছ শরীফে বর্ণিত আলিম তারাই, যাঁরা নবী আলাইহিস্ সালামগণের রেখে যাওয়া ইল্মে  আহ্কাম (ইল্ম ফিক্বাহ) ও ইল্ম আসরার (ইল্ম তাসাউফ) উভয় প্রকার ইল্মের অধিকারী। অর্থাৎ তিনিই প্রকৃত ওয়ারিছ বা স্বত্বাধিকারী। আর যে ব্যক্তি শুধুমাত্র এক প্রকার ইল্মের অধিকারী, সে ব্যক্তি নবী আলাইহিমুস্ সলামগণের প্রকৃত ওয়ারিছ নন। কেননা পরিত্যক্ত সম্পত্তির সকল ক্ষেত্রে অংশীদারী হওয়াকেই ওয়ারিছ বলে। আর যে ব্যক্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোন নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী হয় তাকে গরীম বলে। অর্থাৎ সে ওয়ারিছ নয় গরীমের অন্তর্ভুক্ত।”

হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মিশকাত শরীফের বিখ্যাত শরাহ্ “মিরকাত শরীফে” উল্লেখ করেন যে, মালিকী মায্হাবের ইমাম হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

من تفقه ولم يتصوف فقد تفسق ومن تصوف ولم يتفقه فقد تزندق ومن جمع بينهما فقد تحقق.

অর্থাৎ “যে ব্যক্তি ইল্মে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো, কিন্তু ইল্মে তাছাউফ শিক্ষা করলো না, সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি ইল্মে তাছাউফ শিক্ষা করলো কিন্তু ইল্মে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো না, সে যিন্দিক (কাফির)। আর যে ব্যক্তি উভয়টি শিক্ষা করলো, যে মুহাক্কিক তথা হক্কানী আলিম।”

অর্থাৎ যে ইল্মে ফিক্বাহ শিখলো, কিন্তু ইল্মে তাসাউফ শিখলোনা, সে হচ্ছে ফাসিক। আর যে বলে আমি মা’রিফাত করি বা ইল্মে তাসাউফ করি কিন্তু শরীয়ত বা ফিক্বাহ স্বীকার করেনা, সে হচ্ছে যিন্দিক্ আর যিনি উভয়টাই শিক্ষা করলেন, তিনি হচ্ছেন মুহাক্কিক অর্থাৎ হাক্বীক্বী আলিম।   -মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইছহাক, বাসাবো, ঢাকা।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল