যুল খুলুক্বিন আযীম, উসওয়াতুন হাসানাহ, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবীকারীদের

সংখ্যা: ২৭৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়ন করার আবশ্যকতা (১ম পর্ব)

إِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَأَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا

অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে যারা কষ্ট দেয় দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বা অভিশম্পাত রয়েছে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য কঠিন অপমানজনক লাঞ্ছিত আযাবের ব্যবস্থা রেখেছেন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)

অর্থাৎ, যিনি হায়াতুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হাযির, যিনি নাযির, যিনি রঊফুর রহীম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা কষ্ট দেয়, তারা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দেয়। আর এ জঘন্য অপরাধে যারা অপরাধী, তাদের জন্য পরকালের শাস্তি তো রয়েছেই, দুনিয়াতেই তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়।

এখন নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কমবখতরা বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়। তবে বহু সংখ্যক হাদীছ শরীফ দ্বারা দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবী করা হলে নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বাধিক কষ্ট পান। আর এ জন্যই বলা হয়, “নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবীকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি রয়েছে।”

যুগে যুগে যে বা যারা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবী করেছে, তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবীকারীদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা মুবারক দেন,

مَّلْعُونِيْنَ ۖ أَيْنَمَا ثُقِفُوْا أُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا

অর্থ : (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবীকারীরা) লা’নতগ্রস্ত, তাদেরকে যেখানে পাবে সেখানেই পাকড়াও করো এবং তাদেরকে কুচি কুচি করে কেটে কেটে হত্যা করো। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

ইহুদী বনী কুরায়যা গোত্রের কবি ও নেতা কা‘ব ইব্নু আশরাফ। এ নরাধম বিভিন্ন সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে বিদ্রুপাত্মক কথা ও কবিতা প্রচার করতো। বিভিন্ন মেলায় এবং বিভিন্ন স্থানে খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে লোকজন জমা করে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানেও অশালীন উদ্ভট কথা রচনা করতো। এ সকল অপকর্মের কারণে তৃতীয় হিজরী সনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা‘ব ইব্নু আশরাফকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার নির্দেশনা মুবারক দেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ جَابِر بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُمَا يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ مَنْ لِكَعْبِ بْنِ الْأَشْرَفِ فَإِنَّهٗ قَدْ اٰذَى اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَامَ حَضْرَتْ مُـحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتُـحِبُّ أَنْ أَقْتُلَهٗ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأْذَنْ لِّيْ أَنْ أَقُوْلَ شَيْئًا قَالَ قُلْ

অর্থ : হযরত জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, কা‘ব ইব্নু আশরাফকে শাস্তি দেয়ার জন্য কে প্রস্তুত আছেন? কেননা সে মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। তখন হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ। তখন হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তাহলে আমাকে হিকমতপূর্ণ কিছু কথা বলার অনুমতি মুবারক দিন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে এ বিষয়ে মুবারক ইজাজত প্রদান করেন।

فَأَتَاهُ حَضْرَتْ مُـحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ قَدْ سَأَلَنَا صَدَقَةً وَإِنَّهٗ قَدْ عَنَّانَا وَإِنِّيْ قَدْ أَتَيْتُكَ أَسْتَسْلِفُكَ قَالَ وَأَيْضًا وَاللهِ لَتَمَلُّنَّهُ قَالَ إِنَّا قَدْ اتَّبَعْنَاهُ فَلَا نُحِبُّ أَنْ نَدَعَهُ حَتّٰـى نَنْظُرَ إِلٰى أَيِّ شَيْءٍ يَصِيْرُ شَأْنُهٗ وَقَدْ أَرَدْنَا أَنْ تُسْلِفَنَا وَسْقًا أَوْ وَسْقَيْنِ و حَدَّثَنَا عَمْرٌو غَيْرَ مَرَّةٍ فَلَمْ يَذْكُرْ وَسْقًا أَوْ وَسْقَيْنِ أَوْ فَقُلْتُ لَهٗ فِيْهِ وَسْقًا أَوْ وَسْقَيْنِ فَقَالَ أُرَى فِيْهِ وَسْقًا أَوْ وَسْقَيْنِ فَقَالَ نَعَمِ ارْهَنُوْنِيْ

এরপর হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কা‘ব ইব্নু আশরাফের নিকট গিয়ে বললেন, এ মহান ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছদাকাহ করার আদেশ মুবারক করেন এবং উনার মুবারক খিদমতে আনজাম দিতে আমাদেরকে সব কিছু কুরবানী করতে হয়েছে। তাই আমি তোমার নিকট কিছু ঋণের জন্যে এসেছি।

কা‘ব ইব্নু আশরাফ (বিদ্বেষ প্রকাশ করে) বলল, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! পরে  তিনি আপনাদেরকে আরো বিরক্ত করবেন এবং আরো অতিষ্ঠ করে তুলবেন। (নাঊযুবিল্লাহ) হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি (হিকমত প্রকাশ করে) বললেন, আমরা উনার অনুসরণ করছি। পরিণাম কী দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই উনার ছোহবত মুবারক ত্যাগ করা ভাল মনে করছি না। এখন আমি তোমার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য কর্জ চাই। কা‘ব ইব্নু আশরাফ বলল, ধার তো পাবেন তবে কিছু বন্ধক রাখুন।

রাবী হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ‘আমর রহমতুল্লাহি আলাইহি আমার নিকট হাদীছ শরীফখানা কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি উনাকে বললাম, এ হাদীছ শরীফে তো এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, মনে হয় হাদীছ শরীফে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে।

قَالُوْا أَيَّ شَيْءٍ تُرِيْدُ قَالَ ارْهَنُوْنِيْ نِسَاءَكُمْ قَالُوْا كَيْفَ نَرْهَنُكَ نِسَاءَنَا وَأَنْتَ أَجْمَلُ الْعَرَبِ قَالَ فَارْهَنُوْنِيْ أَبْنَاءَكُمْ قَالُوْا كَيْفَ نَرْهَنُكَ أَبْنَاءَنَا فَيُسَبُّ أَحَدُهُمْ فَيُقَالُ رُهِنَ بِوَسْقٍ أَوْ وَسْقَيْنِ هَذَا عَارٌ عَلَيْنَا وَلَكِنَّا نَرْهَنُكَ اللَّأْمَةَ قَالَ سُفْيَانُ يَعْنِي السِّلَاحَ فَوَاعَدَهٗ أَنْ يَأْتِيَهٗ

হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, কী জিনিস তুমি বন্ধক চাও। সে বলল, আপনাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখুন। হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তুমি আরবের একজন সুশ্রী ব্যক্তি, তোমার নিকট কীভাবে, আমাদের স্ত্রীদের বন্ধক রাখব? তখন সে বলল, তাহলে আপনাদের ছেলে-সন্তানদেরকে বন্ধক রাখুন। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে তোমার নিকট কী করে বন্ধক রাখি? তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটা তো আমাদের জন্য খুব লজ্জাজনক বিষয়। তবে আমরা তোমার নিকট অস্ত্র-শস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি।

শেষে হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার কাছে আবার যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন।

রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, লামা শব্দের মানে হচ্ছে অস্ত্র-শস্ত্র।

فَجَاءَهُ لَيْلًا وَمَعَهُ أَبُوْ نَائِلَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ وَهُوَ أَخُوْ كَعْبٍ مِنْ الرَّضَاعَةِ فَدَعَاهُمْ إِلَى الْحِصْنِ فَنَزَلَ إِلَيْهِمْ فَقَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهٗ أَيْنَ تَخْرُجُ هٰذِهِ السَّاعَةَ فَقَالَ إِنَّمَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ وَأَخِيْ أَبُوْ نَائِلَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ وَقَالَ غَيْرُ عَمْرٍو قَالَتْ أَسْمَعُ صَوْتًا كَأَنَّهُ يَقْطُرُ مِنْهُ الدَّمُ قَالَ إِنَّمَا هُوَ أَخِيْ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ وَرَضِيْعِيْ أَبُوْ نَائِلَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ إِنَّ الْكَرِيْمَ لَوْ دُعِيَ إِلَى طَعْنَةٍ بِلَيْلٍ لَأَجَابَ

এরপর তিনি কা‘ব ইব্নু আশরাফের দুধ ভাই হযরত আবূ নাইলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। উনাদেরকে কা‘ব ইবনু আশরাফ দূর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। তখন তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এই তো হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং আমার ভাই হযরত আবূ নাইলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা এসেছেন।

‘আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে, কা’ব ইবনু আশরাফের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝরছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা‘ব ইব্নু আশরাফ বলল, হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং দুধ ভাই হযরত আবূ নাইলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলেও তার যাওয়া উচিত।

قَالَ وَيُدْخِلُ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ مَعَهُ رَجُلَيْنِ قِيْلَ لِسُفْيَانَ سَمَّاهُمْ عَمْرٌو قَالَ سَمَّى بَعْضَهُمْ قَالَ عَمْرٌو جَاءَ مَعَهُ بِرَجُلَيْنِ وَقَالَ غَيْرُ عَمْرٍو أَبُوْ عَبْسِ بْنُ جَبْرٍ وَالْـحَارِثُ بْنُ أَوْسٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ قَالَ عَمْرٌو جَاءَ مَعَهُ بِرَجُلَيْنِ فَقَالَ إِذَا مَا جَاءَ فَإِنِّيْ قَائِلٌ بِشَعَرِهِ فَأَشَـمُّهُ فَإِذَا رَأَيْتُمُوْنِي اسْتَمْكَنْتُ مِنْ رَأْسِه فَدُوْنَكُمْ فَاضْرِبُوْهُ وَقَالَ مَرَّةً ثُمَّ أُشِمُّكُمْ فَنَزَلَ إِلَيْهِمْ مُتَوَشِّحًا وَهُوَ يَنْفَحُ مِنْهُ رِيْحُ الطِّيْبِ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ رِيْحًا أَيْ أَطْيَبَ وَقَالَ غَيْرُ عَمْرٍو قَالَ عِنْدِيْ أَعْطَرُ نِسَاءِ الْعَرَبِ وَأَكْمَلُ الْعَرَبِ قَالَ عَمْرٌو فَقَالَ أَتَأْذَنُ لِيْ أَنْ أَشُمَّ رَأْسَكَ قَالَ نَعَمْ فَشَمَّهُ ثُمَّ أَشَمَّ أَصْحَابَهٗ ثُمَّ قَالَ أَتَأْذَنُ لِيْ قَالَ نَعَمْ فَلَمَّا اسْتَمْكَنَ مِنْهُ قَالَ دُوْنَكُمْ فَقَتَلُوْهُ ثُمَّ أَتَوا النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرُوْهُ

(বর্ণনাকারী বলেন) হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তিকে নিয়ে সেখানে গেলেন। রাবী সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফ্ইয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ‘আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, যখন সে (কা‘ব ইব্নু আশরাফ) আসবে। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ (হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে (তারা হলেন) আবূ আবস্ ইব্নু জাবর, ইব্নু আওস এবং আব্বাদ ইব্নু বিশর। ‘আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই লোককে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি তার মাথার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারি দ্বারা তাকে আঘাত করবে। তিনি (হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে (কা‘ব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা‘ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যাবহারকারী মহিলা আছে।

‘আমর বলেন, হযরত মুহম্মদ ইব্নু মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমাকে তোমার মাথা শুঁকতে দিবে কি? সে বলল, হ্যাঁ। এরপর তিনি তার মাথা শুঁকলেন এবং এরপর উনার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি আবার বললেন, আমাকে আবার শুঁকবার সুযোগ দিবে কি? সে বলল, হ্যাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, আপনারা তাকে হত্যা করুন। উনারা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে এসে এ খবর দিলেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবীকারী ইহুদী বনী কুরায়যা গোত্রের কবি ও নেতা কা‘ব ইব্নু আশরাফকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, যে বা যারা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবী করবে, অপবাদ দিবে, শান মুবারক বিরোধী কথা বলবে বা লিখবে বা প্রচার-প্রসার করবে, তাদের প্রত্যেকের শরয়ী শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

-মুহম্মদ আঁখি সিরাজুদ্দীন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার পৃথিবীর ইতিহাসে নযীরবিহীন এক অনন্য বেমেছাল অভুতপূর্ব চির বিস্ময়কর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাজদীদ মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা কুফরী

মুহব্বত, ইতায়াত ও সন্তুষ্টি মুবারকের মূলেই হচ্ছেন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

ছাহিবু ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ ব্যবহৃত ‘মুত্বহ্হার এবং মুত্বহ্হির’ সম্মানিত লফয মুবারক উনাদের সম্মানিত অর্থ এবং তাৎপর্য মুবারক