রবীবাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মী বা’দা উম্মী, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর থেকে সুদীর্ঘ সময়ব্যাপী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একজন মমতাময়ী মা উনার একমাত্র সন্তানকে যেমন মুহব্বত করেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তার চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম তিনি উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক-এ সন্তুষ্টি মুবারক হয়ে ইরশাদ মুবারক করেছেন-

رَحِـمَكِ اللهُ يَا اُمِّىْ كُنْتِ اُمِّىْ بَعْدَ اُمِّىْ وتُشْبِعِيْـنِـىْ وَتَعْرَيْنَ وتُكْسِيْـنِـىْ وَتَـمْنَعِيْـنَ نَفْسَكِ طَيِّبًا وَتُطْعِمِيْـنِـىْ تُرِيْدِيْنَ بِذٰلِكَ وَجْهَ اللهِ وَالدَّارَ الاٰخِرَةَ.

অর্থ: “হে আমার মহাসম্মানিত মাতা! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষণ করুন। আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মা আলাইহাস সালাম উনার পরে আপনি ছিলেন আমার মহাসম্মানিত মাতা আলাইহাস সালাম। আপনি আমাকে পরিতৃপ্ত করতেন- আপনি না পরে আমাকে পরাতেন এবং ভালো কিছু নিজে না খেয়ে আমাকে খাওয়াতেন। এই কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক এবং পরকাল লাভের আশা করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারনী ১৮/৮২)

তিনি ছিলেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায় তিনি শুধু যিনি খ্বলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই, উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক উল্লেখ করা হলো-

মহাসম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নসবনামহ্ মুবারক হচ্ছেন-

سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ اَسَدِ بْنِ هَاشِمٍ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবাহ্ ২/৫৫৫)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের হাশিমী শাখার মহাসম্মানিত আওলাদ। তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত আসাদ আলাইহিস সালাম উনার মেয়ে। অর্থাৎ খাজা আবূ ত্বালিব তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে ছিলেন আপন চাচাতো ভাই বোন। তিনি উনার পিতার দিক থেকে দ্বিতীয় পুরুষে যেয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আব্দু মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সাথে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসবনামাহ্ মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন একদিকে উনার মহাসম্মানিত শ্বশুর এবং অন্য দিকে মহাসম্মানিত আপন চাচা। সুবহানাল্লাহ!

ইমাম ত্ববারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার দিক থেকে ছিলেন কুরাইশ বংশের আমিরী শাখার। উনার সম্মানিত নসব মুবারক হচ্ছেন-

وَاُمُّهَا سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ هَرِمِ بْنِ رَوَاحَةَ بْنِ حُجْرِ بْنِ عَبْدِ مُعْرِضِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে হারিম ইবনে রওয়াহাহ্ ইবনে হুজর ইবনে আব্দে মু’রিদ্ব ইবনে ‘আমির ইবনে লুআই আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১/৬৫)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মায়ের দিক থেকে ৮ম পুরুষে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনিই সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এমনভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতেন, যেমন একজন মানুষের বুক তার অন্তরকে রক্ষা করে এবং মানুষের চোখের পাঁপড়ি যেমন চোখ দুটিকে রক্ষা করে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি থাকা অবস্থাতেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া শুরু করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার খাওয়ার পর উনার জন্য আরেক বারের খাবার রেখে দিতেন এবং খাবার মুবারক গ্রহণ করার জন্য বার বার তাকীদ করতেন। তাছাড়া সার্বিক বিষয়েও অত্যন্ত মুহব্বত সহকারে দেখা-শুনা করতেন এবং সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় যখন নিকটবর্তী হন, তখন তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ খাজা আবূ তালিব উনাকে ডেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান মুবারক বর্ণনা করেন। অতঃপর উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার দায়িত্ব খাজা আবূ ত্বালিব উনার উপর অর্পণ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চান যেন খাজা আবূ ত্বালিব এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হওয়ার জন্য তাকীদ দেন। খাজা আবূ ত্বালিব তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত মনোযোগী হন। খাবারের সময় হলে খাজা আবূ ত্বালিব তিনি সবসময়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অপেক্ষা করতেন। তিনি তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর সর্বপ্রথম তিনি খাবার মুবারক গ্রহণ করতেন, অতঃপর উনারা সবাই খাবার গ্রহণ করতেন। উনারা দেখতে পান যে, খাজা আবূ ত্বালিব উনার পরিবারের লোকজন যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে খাবার খান, তখন উনাদের খাবারে অনেক বরকত হয়। সুবহানাল্লাহ! খাজা আবূ ত্বালিব উনার অনেক আওলাদ ছিলেন, উনারা যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাথে খাবার মুবারক গ্রহণ করতেন, তখন সবাই পেট ভরে তৃপ্তিসহকারে খাওয়ার পরেও খাবার অতিরিক্ত থেকে যেতো। সুবহানাল্লাহ! এক পেয়েলা দুধ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে পান করতেন, তারপর উনারা সবাই তৃপ্তসহকারে পান করতেন। যদিও স্বাভাবিকভাবে উনাদের একজনই সেই পূর্ণ পেয়ালাটি শেষ করে ফেলতে পারতো। এজন্য খাজা আবূ ত্বালিব তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন,

اِنَّكَ لَـمُبَارَكٌ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত বরকতময়।” সুবহানাল্লাহ! (‘উয়ূনুল আছার ১/৫১, খ্বছাইছুল কুবরা ১/১৩৯, আস সীরতুল হালাবিয়্যাহ্ ১/১৮৯, আস সীরতুন নুবুবিয়্যাহ্ লি ইবনে কাছীর ১/২৪২, দালাইলুন নুবুওওয়াহ্ লি আবী না‘ঈম আল ইছবাহানী ১/১২২, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ২/১৩৫ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবসময় নিজের সন্তানের থেকেও অধিক মুহব্বত মুবারক করতেন এবং সার্বিকভাবে উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে ‘উম্মী বা’দা উম্মী’ বলে সম্বোধন মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার জন্য নির্দেশ মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথম দিকে যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার চত্বরে নিয়মিত সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করতেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ ইবনে হারিছাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাহারা দিতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ থেকে বের হলে উনারা দুজন সর্বক্ষণ উনার সংগে থাকতেন। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ থেকে বের হয়েছেন, তখন খাজা আবূ ত্বালিব তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে পেলেন না। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আমি উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যেতে দেখেছি। খাজা আবূ ত্বালিব তিনি খুঁজতে খুঁজতে শি‘আবে আবী ত্বালিব-এ গিয়ে দেখতে পান যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করছেন আর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে পাহারা দিচ্ছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারাও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সামান্য সময়ের ব্যবধানে আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই হচ্ছেন পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশকারী। সুবহানাল্লাহ! এর কয়েক দিন পর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। অত:পর হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আয়মান আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ ইবনে হারিছাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে উনারা সকলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর মহিলাদের মধ্যে হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার ৭ম বছর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শি‘আবে আবী ত্বালিবে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে তিন বছর সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এরূপ অবস্থা হয়েছিলো যে, কাফির-মুশরিকদের কর্তৃক খাদ্য পৌঁছাতে বাঁধা দেয়ার কারণে উনারা খাদ্য না পেয়ে গাছের লতা-পাতা, ছাল-বাকল পর্যন্ত খেয়েছিলেন। এমনকি উনারা চামড়ার না’লাঈন শরীফ (জুতা) পানিতে সিদ্ধ করে চিবিয়েছেন। গাছের লতা-পাতা, ছাল-বাকল খাওয়ার ফলে উনাদের ইস্তিঞ্জা মুবারক বকরীর লাদির মতো হয়ে গিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! ক্ষুধার্ত শিশু উনাদের কান্না মুবারক-এ আশে-পাশের লোকেরা রাতে ঘুমাতে পারতো না। তারপরও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দূরে সড়ে যাননি। কি অপূর্ব আত্মত্যাগ! সুবহানাল্লাহ! এমতাবস্থায় শি‘আবে আবী ত্বালিবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি কল্পনাতীতভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করার জন্য সম্মানিত অনুমতি মুবারক দান করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেন। তারপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

اُمُّ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىِّ بْن اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ اَسَدِ بْنِ هَاشِمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَسْلَمَتْ وَهَاجَرَتْ اِلَـى الْمَدِيْنَةِ وَتُوُفِّيَتْ بِـهَا.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন। আর তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইস্তী‘আব ২/১১১, তাহ্যীবুল কামাল ২০/৪৭৩, উসদুল গবাহ্ ৩/৩৪৭, আল মিছ্বাহুল মুদ্বী, আল ইছাবাহ্ ৭/৪৮০)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক করতেন। তিনি প্রায় সময় উনাকে দেখার জন্য উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নিতেন এবং মাঝে মাঝে সেখানে দুপুরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বায়লুলা মুবারকও করতেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

وَاَسْلَمَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ اَسَدٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَكَانَتِ امْرَاَةً صَالِـحَةً وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُوْرُهَا وَيَقِيْلُ فِـىْ بَيْتِهَا.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বেমেছাল নেককার-পরহেযগার মহিলা। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে দেখার জন্য সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিতেন এবং উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে দুপুরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বায়লুলা মুবারক করতেন (দুপুরে খাবার গ্রহণের বিশ্রাম মুবারক নিতেন)।” সুবহানাল্লাহ! (আত্ ত্ববাক্বাতুল কুবরা ৮/২২২, ইবনে সা’দ ৮/২২২, তালক্বীহ্ ১/২২৮, তারীখুল মুলূক ওয়াল উমাম ৩/২১৩, মিরআতুয যামান ৩/৩১৬, সিফাতুস সাফওয়া ২/৫৪, ইছাবাহ্ ৮/৬০ ইত্যাদি)

আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাস উনার ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার ভিতরের কাজে আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ قُلْتُ لِاُمِّىْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ بِنْتِ اَسَدِ بْنِ هَاشِمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَكْفِىْ اَلنُّوْرَ الرَّابِعَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءَ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) سِقَايَةَ الْمَاءِ وَالذَّهَابَ فِـى الْـحَاجَةِ وتَكْفِيْكِ خِدْمَةَ الدَّاخِلِ الطَّحْنَ وَالْعَجْنَ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাস উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মহাসম্মানিত আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আমি পানি আনা এবং প্রয়োজনে এদিক-ওদিক যাওয়ার ব্যাপারে আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবো, আর আপনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার ভিতরের কাজে- গম পেষা এবং আটা চটকানোর কাজে সম্মানিত খেদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন।” (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১৮/৮৪)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক করতেন। যার কারণে তিনি প্রায় সময় উনাকে বিভিন্ন বিষয় সম্মানিত হাদিয়া মুবারক পাঠাতেন। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লেবাস মুবারক তথা একখানা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) দিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে কাফন মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে নেমে উনার পাশে শুয়েছেন এবং উনার নেক আমল মুবারকসমূহ উনাদের কথা উল্লেখ করে উনার প্রশংসা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ اَسَدِ بْنِ هَاشِمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ اُمُّ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىِّ بْنِ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) دَخَلَ عَلَيْهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ عِنْدَ رَاْسِهَا فَقَالَ رَحِـمَكِ اللهُ يَا اُمِّىْ كُنْتِ اُمِّىْ بَعْدَ اُمِّىْ وتُشْبِعِيْـنِـىْ وتَعْرَيْنَ وتُكْسِيْـنِـىْ وَتَـمْنَعِـيْـنَ نَفْسَكِ طَيِّبًا وَتُطْعِمِيْـنِـىْ تُرِيْدِيْنَ بِذٰلِكَ وَجْهَ اللهِ وَالدَّارَ الاٰخِرَةَ ثُـمَّ اَمَرَ اَنْ تُغَسَّلَ ثَلَاثًا فَلَمَّا بَلَغَ الْمَاءُ الَّذِىْ فِيْهِ الْكَافُوْرُ سَكَبَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهٖ ثُـمَّ خَلَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَمِيْصَهٗ فَاَلْبَسَهَا اِيَّاهُ وَكَفَّنَهَا بِبُرْدٍ فَوْقَهٗ ثُـمَّ دَعَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اَبَا اَيُّوْبِ الاَنْصَارِىَّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَسَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَغُلَامًا اَسْوَدَ يَـحْفِرُوْنَ فَحَفَرُوْا قَبْرَهَا فَلَمَّا بَلَغُوا اللَّحْدَ حَفَرَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهٖ وَاَخْرَجَ تُرَابَهٗ بِيَدِهٖ فَلَمَّا فَرَغَ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاضْطَجَعَ فِيْهِ ثُـمَّ قَالَ اَللهُ الَّذِىْ يُـحْيِـىْ وَيُـمِيْتُ وَهُوَ حَـىٌّ لَّا يَـمُوْتُ اِغْفِرْ لِاُمِّىْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ بِنْتِ اَسَدٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَلَقِّنْهَا حُجَّتَهَا وَوَسِّعْ عَلَيْهَا مَدْخَلَهَا بِـحَقِّ نَبِـيِّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْاَنْۢبِيَاءِ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِـىْ فَاِنَّكَ اَرْحَمُ الرَّاحِـمِيْـنَ وَكَبَّرَ عَلَيْهَا اَرْبَعًا وَاَدْخَلُوْهَا اللَّحْدَ هُوَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ خَاتِـمُ الْـمُهَاجِرِيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْعَبَّاسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ).

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নিয়ে উনার সম্মানিত মাথা মুবারক উনার কাছে দাঁড়িয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, হে আমার মহাসম্মানিত মাতা! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষণ করুন! আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মা আলাইহাস সালাম উনার পরে আপনি ছিলেন আমার মহাসম্মানিত মাতা আলাইহাস সালাম। আপনি আমাকে পরিতৃপ্ত করতেন- আপনি না পরে আমাকে পরাতেন এবং ভালো কিছু নিজে না খেয়ে আমাকে খাওয়াতেন। এই কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক এবং পরকাল লাভের আশা করতেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে তিনবার সম্মানিত গোসল মুবারক করানোর জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। তারপর যখন কর্পূর মিশ্রিত পানি পৌঁছে, তখন তা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার স্বীয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরহ্ মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক-এ) ঢেলে দেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লিবাস মুবারক তথা জামা মুবারক) খুলে দেন। তারপর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লিবাস মুবারক তথা জামা মুবারক) উনাকে পরানো হয় এবং সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লিবাস মুবারক তথা জামা মুবারক) উনার উপর একখানা চাদর মুবারক দ্বারা উনাকে কাফন মুবারক পরানো হয়। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত উসামাহ্ ইবনে যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে, হযরত আবূ আইয়্যূব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে এবং একজন কালো (হাবশী) গোলামকে সম্মানিত রওযা শরীফ খনন করার জন্য ডাকেন। উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ খনন করতে থাকেন, যখন উনারা লাহ্দ এর নিকট পৌঁছেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) দ্বারা লাহ্দ খুঁড়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ্ মুবারক দ্বারা সেখান থেকে মাটি বের করেন। তারপর যখন সম্মানিত রওযা শরীফ খনন করা শেষ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে শয়ন মুবারক করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইতমিনানী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তারপর সম্মানিত দোওয়া মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি জীবন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি চিরঞ্জীব উনার কোনো মৃত্যু নেই। আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি দয়া করে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী-রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে এবং আমার পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমার মহাসম্মানিত মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা মুবারক বৃদ্ধি করে দিন এবং উনাকে উনার যুক্তি-প্রমাণ শিখিয়ে দিন অর্থাৎ আপনি কুদরতীভাবে উনাকে তালক্বীন দান করুন এবং উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনাকে প্রশস্ত করে দিন! নিশ্চয়ই আপনি সকল দয়ালুদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দয়ালু।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত জানাযা নামায মুবারক চার তাকবীরের সাথে আদায় করেন। উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখার জন্য স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত খতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম) তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত রওযা শরীফ-এ নেমেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববারনী ১৮/৮২-৮৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاِنَّ حَضْرَتْ جِبْـرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَخْبَرَنِـىْ عَنْ رَّبِّـىْ عَزَّ وَجَلَّ اَنَّـهَا مِنْ اَهْلِ الْـجَنَّةِ وَاَخْبَرَنِـىْ حَضْرَتْ جِبْـرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّ اللهَ تَعَالـٰى اَمَرَ سَبْعِيْـنَ اَلْفًا مِّنَ الْمَلَائِكَةِ يُصَلُّوْنَ عَلَيْهَا.

অর্থ: “নিশ্চয়ই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমাকে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে আরো সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সত্তর হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়ার জন্য।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/১১৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,

حَضْرَتْ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَـحْنُ جُلُوْسٌ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذْ اَتٰـى اٰتٍ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اُمَّ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَحَضْرَتْ جَعْفَرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ عَقِيْلٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَدْ مَاتَتْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُوْمُوْا بِنَا اِلـٰى اُمِّىْ فَقُمْنَا وَكَاَنَّ عَلـٰى رُءُوْسِ مَنْ مَّعَهُ الطَّيْرَ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا اِلَـى الْبَابِ نَزَعَ قَمِيْصَهٗ فَقَالَ اِذَا غَسَّلْتُمُوْهَا فَاَشْعِرُوْهَا اِيَّاهُ تَـحْتَ اَكْفَانِـهَا فَلَمَّا خَرَجُوْا بِـهَا جَعَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً يَّـحْمِلُ وَمَرَّةً يَّــتَقَدَّمُ وَمَرَّةً يَّــتَاَخَّرُ حَتَّـى انْتَهَيْنَا اِلَـى الْقَبْـرِ فَتَمَعَّكَ فِـى اللَّحْدِ ثُـمَّ خَرَجَ فَقَالَ اَدْخِلُوْهَا بِاسْمِ اللهِ وَعَلَى اسْمِ اللهِ فَلَمَّا اَنْ دَفَنُوْهَا قَامَ قَائِمًا فَقَالَ جَزَاكِ اللهُ مِنْ اُمِّ وَرَبِيْبَةٍ خَيْرًا فَنِعْمَ الْاُمُّ وَنِعْمَ الرَّبِيْبَةُ كُنْتِ لِــىْ قَالَ فَقُلْنَا لَهٗ اَوْ قِيْلَ لَهٗ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ صَنَعْتَ شَيْئَيْـنِ مَا رَاَيْنَاكَ صَنَعْتَ مِثْلَهُمَا قَطُّ قَالَ مَا هُوَ قُلْنَا بِنَزْعِكَ قَمِيْصَكَ وَتَـمَعُّكِكَ فِـى اللَّحْدِ قَالَ اَمَّا قَمِيْصِىْ فَاَرَدْتُّ اَلَّا تَـمَسَّهَا النَّارُ اَبَدًا اِنْ شَاءَ اللهُ وَاَمَّا تَـمَعُّكِـىْ فِـى اللَّحْدِ فَاَرَدْتُّ اَنْ يُّوَسِّعَ اللهُ عَلَيْهَا قَبْرَهَا.

অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার, সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আক্বীল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সবাই আমার মহাসম্মানিত মাতা আলাইহাস সালাম উনার কাছে চলুন। তখন এমন অবস্থা ছিলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যাঁরা ছিলেন উনাদের প্রত্যেকের মাথার উপর যেন পাখি (বসে) রয়েছে। (এমন অবস্থা থেকে) আমরা উঠে গেলাম। যখন আমরা সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার দরজায় পৌঁছলাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) পরিবারের লোকদের হাতে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, উনার সম্মানিত গোসল মুবারক দেওয়া শেষ হলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারকখানা (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারকখানা) উনার সম্মানিত কাফন মুবারক উনার নীচে দিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! যখন লোকজন সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখার জন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক নিয়ে বের হলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাটিয়া মুবারক বহন করেন। একবার খাটিয়ার সামনে যান, আরেকবার পিছনে আসেন। এভাবে তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ পর্যন্ত পৌঁছেন। তারপর সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নিয়ে গড়াগড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসেন। তারপর ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক নিয়ে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উনার উপরে আপনারা উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখুন। সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখার কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ইরশাদ মুবারক করেন-

جَزَاكِ اللهُ مِنْ اُمِّ وَرَبِيْبَةٍ خَيْرًا فَنِعْمَ الْاُمُّ وَنِعْمَ الرَّبِيْبَةُ كُنْتِ لِــىْ

‘আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা এবং প্রতিপালনকারিণী! মহান আল্লাহ পাক আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন! আপনি ছিলেন আমার জন্য একজন অতি উত্তম মা এবং অতি উত্তম প্রতিপালনকারিণী।’ সুবহানাল্লাহ! হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা উনাকে বললাম বা উনাকে বলা হলো- ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এখানে এমন দুটি কাজ করেছেন, আমরা কখনো আপনাকে এ ধরণের কাজ করতে দেখিনি। তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, সেই দুটি কাজ কি? আমরা বললাম- আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) দেওয়া এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে গড়াগড়ি দেওয়া। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) উনার বিষয় হচ্ছে, আমি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) দিয়েছি, মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় অবশ্যই এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) উনার বদৌলতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনাকে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। আর সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে আমার গড়াগড়ি দেওয়া- আমি চেয়েছি মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন উনার সম্মানিত রওযা শরীফ প্রশস্ত করে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল মদীনা লিইবনে শাব্বাহ্ ১/১২৪)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ اُمُّ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اَلْبَسَهَا النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَمِيْصَهٗ وَاضْطَجَعَ مَعَهَا فِـىْ قَبْـرِهَا فَقَالُوْا مَا رَاَيْنَاكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعْتَ هٰذَا فَقَالَ اِنَّهٗ لَـمْ يَكُنْ اَحَدٌ بَۢعْدَ اَبِـىْ طَالِبٍ اَبَرَّ بِـىْ مِنْهَا اِنَّـمَا اَلْبَسْتُهَا قَمِيْصِىْ لِتُكْسٰى مِنْ حُلَلِ الْـجَنَّةِ وَاضْطَجَعْتُ مَعَهَا لِيُهَوِّنَ عَلَيْهَا.

অর্থ: “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) উনাকে পরান এবং উনার সাথে উনার রওযা শরীফ-এ শুয়ে পড়েন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা তো আপনাকে আর কখনো এমনটি করতে দেখিনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খাজা আবূ ত্বালিব উনার পরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে বেশী সদাচরণ আমার সাথে আর কেউ করেননি। আমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত্ তাক্বওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র লিবাস মুবারত তথা মহাসম্মানিত জামা মুবারক) উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক-এ এই জন্য পরিয়েছি যেন উনাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার পোশাক পড়ানো হয়, আর উনার সাথে এজন্য শুয়েছি, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইত্মিনানী শান মুবারক প্রকাশ করেছি যেন উনার সাথে সহজ আচরণ করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২/১১৮)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪৬ খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারীগণ সংগ্রহ করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য করতে পেরেছেন। সেই সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্য থেকে একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন একই সনদে বর্ণনা করে নিজেদেরকে ধন্য করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

فَوَلَدَتْ لَهٗ حَضْرَتْ طَالِبًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ عَقِيْلًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ جَعْفَرًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَاِمَامَ الْاَوَّلِ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَحَضْرَتْ اُمَّ هَانِـئٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهَا وَحَضْرَتْ جُـمَانَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهَا وَحَضْرَتْ رَيْطَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهَا بَـنِـىْ اَبِـىْ طَالِبٍ .

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে খাজা আবূ ত্বালিব উনার যে সকল আওলাদ উনারা দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেনে, উনারা হচ্ছেন- (১) সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, (২) সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আক্বীল ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, (৩) সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ত্বইয়্যার ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, (৪) ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। (আর উনার মেয়ে আওলাদ হচ্ছেন-) (১) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে হানী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি, (২) সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুমানাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি এবং (৩) সাইয়্যিদাতুনা হযরত রইত্বহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি অর্থাৎ উনারা।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ ৮/২২২)

-আহমাদ মারইয়াম বিনতে মানছূর।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক