রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনকারী মহিলাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে কেন? পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনকারী মহিলারা সংবিধানে বর্ণিত সুবিধা পাচ্ছেন না কেন? ছবি না তুলে এবং পর্দা পালন করে সংবিধানে বর্ণিত সুবিধা লাভের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। ধর্ম পালনের অধিকার সব দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক সনদে সংরক্ষিত।

সংখ্যা: ২২৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ঘটনা বর্ণনা- ১

শিরীন সুলতানা। বদিউল ইসলাম সাহেবের মেয়ে। বদিউল ইসলাম সাহেব মারা গেছেন ২ বছর পূর্বে। সম্প্রতি তার সম্পত্তি বণ্টনের কথা উঠে। বোনদের প্রাপ্য সম্পদ দিতে ভাইদের কোন অমত নেই। শরীয়ত মোতাবেক বোনদের অংশ আলাদা করে দিলেও আইনগতভাবে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা হচ্ছেনা। কারণ তা শিরীন সুলতানার নামে রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না, নামজারীও করা যাচ্ছে না। যেহেতু শিরীন সুলতানা পূর্ণ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক জীবন যাপন করেন। তিনি যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ-এ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ৩৫৩টি দলীল পেয়েছেন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা হারাম।

এদিকে শুধু ছবি তোলা নিয়েই শুধু শিরীন সুলতানার সমস্যা নয়; উনার সমস্যা আরো গুরুতর। কারণ উনি পূর্ণ সম্মানিত শরীয়তী পর্দা পালন করেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ঘোষিত ১৪ জনের বাইরে কারো সাথে দেখা দেননা। সেক্ষেত্রে ছবি তোলা হলে উনার ধর্মীয় বিধান আরো গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হবে। কারণ তখন উনার মুখচ্ছবি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অগণিত পুরুষ দেখে নেবে। এতে করে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মোতাবেক উনার লক্ষ কোটি কবীরা গুনাহ হবে। তাছাড়া এতে করে শিরীন সুলতানার ব্যক্তি মনন, বিবেক এবং চিন্তারও লঙ্ঘন হবে।

এদিকে পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তি এ মুহূর্তে শিরীন সুলতানার জন্য খুবই দরকার। কিন্তু আর্থিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিরীন সুলতানা ধর্মীয় রীতি-নীতি লঙ্ঘন করে সম্পত্তির মালিক হতে রাজী নন। এই সমস্যা শুধু শিরীন সুলতানার একার নয়। তার অন্যান্য বোনদের ক্ষেত্রেও একই কথা।

শিরীনের এক বোন শামসুননাহারের ইচ্ছা তিনি তার প্রাপ্ত সম্পদে মসজিদ-মাদরাসা তৈরি করবেন। আরেক বোন মেহেরুন্নিগারের ইচ্ছা তিনি তার প্রাপ্ত জমিতে একটা বৃদ্ধনিবাস গড়ে তুলবেন। কিন্তু কারো ইচ্ছেই পূরণ হচ্ছে না। কারণ তারা সবাই রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণভাবে পালন করেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে নিষিদ্ধ ছবি তোলা থেকে দূরে থাকেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বর্ণিত বেপর্দা হওয়া থেকে বিরত থাকেন।

ঘটনা বর্ণনা- ২

মুহম্মদ তারীফুর রহমান, বয়স ৩৫। ছোটবেলা থেকেই ধর্ম তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পালন করে আসছেন। বিয়ে করেছেন তিন বছর পূর্বে। স্ত্রীকে শুধু অনেক মুহব্বতই করেন না স্ত্রীর হক সম্পর্কেও খুব সচেতন। এদিকে ভবিষ্যৎ চিন্তা নিয়েও সতর্ক।

বাহুল্য খরচ বাদ দিয়ে বিয়ের পর থেকেই তাই টাকা জমাচ্ছেন। ইদানীং শেয়ারের ব্যবসাও করছেন। শেয়ারের একাউন্টে নমিনী করতে চাচ্ছেন তার সহধর্মিণী স্ত্রীকে। কিন্তু তার স্ত্রী পর্দানশীল। খাছ শরীয়তী পর্দা করেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম পুরোপুরিভাবে পালন করেন। ছবি তুললে যুগপৎভাবে ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়ার গুনাহ হবে চিন্তা করে তিনি ছবি তুলছেন না। ফলতঃ তারীফ সাহেব তার স্ত্রীকে নমিনী করতে পারছেন না। এ সমস্যা শুধু তারীফ সাহেব ও তার স্ত্রীর নয়। যারা ধর্ম পালন করেন, যারা শরীয়তী পর্দা করেন তাদের সবার।

ঘটনা বর্ণনা- ৩

রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের নির্ভেজাল আনুগত্য নিয়ে থাকে। তার পরিবর্তে প্রতিটি নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সম্পৃক্ত থাকে। নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের কর্তব্য থাকে। এটা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে মালিকানার নীতি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে

(গ) “ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা।”

অপরদিকে সংবিধানের ‘সম্পত্তির অধিকার’ ৪২(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে,

“আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করিবার অধিকার থাকিবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রয়ত্ত বা দখল করা যাইবে না।”

কিন্তু ঘটনা- ১ এ বর্ণিত শিরীন সুলতানা ও বোনেরা এবং ঘটনা- ২ এ বর্ণিত তারীফুর রহমানের স্ত্রী সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার এ মূলনীতির এ সুবিধাগুলো পাচ্ছেন না। সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ এবং ৪২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা তাদের ন্যায্য ও প্রাপ্ত সম্পত্তির মালিকানা ভোগ করতে পারছেন না।

অপরদিকে সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ভাগে ১০ নং অনুচ্ছেদে আরো বর্ণিত হয়েছে, “জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।”

সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।”

সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, “রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষভেদে সমান অধিকার লাভ করিবেন।” অথচ এসব বিধানের সুবিধাও শিরীন সুলতানার বোনেরা পাচ্ছেন না। তারা মসজিদ, মাদরাসা, বৃদ্ধনিবাস ইত্যাদি গড়ে তুলতে পারছেন না। তার একমাত্র কারণ তারা ধর্ম পালন করেন। ইসলাম পালন করেন। পর্দা করেন। ছবি তুলেন না। কিন্তু এটা কী রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, সংবিধানের দৃষ্টিতে অপরাধ? অথবা অগ্রহণযোগ্য?

অথচ সংবিধানের ৪১(১) ধারায় বর্ণিত রয়েছে, “প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।”

এছাড়া সংবিধানের ৩৯(১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, “চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।”

এ বিধান অনুযায়ী ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুযায়ী চিন্তা করার অধিকার এবং ছবি না তোলার ও বেপর্দা না হওয়ার বিবেক ধারণ করার অধিকার শিরীন সুলতানাসহ দেশের সব নারীদের রয়েছে।

আবারো বলতে হয়, সংবিধানের ৪১(১) ও ৩৯(১) বিধান অনুযায়ী শিরীন সুলতানার পূর্ণ পর্দা পালন করার অধিকার, ছবি না তোলার অধিকার রয়েছে। সে অধিকার যদি ক্ষতুœ করা হয় তাহলে বলতে হবে সংবিধানের ৩৯(১) ও ৪১(১) ধারা যা মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

অথচ সংবিধানের ২৮(১) ধারায় উল্লেখ আছে,

“কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।”

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এ দেশের ধর্মপ্রাণ নারীরা সংবিধানের ৪১(১) ধারার সুযোগ নিলে সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার ২৮(১), ২৮(২), ৪২(১), ৩৯ নং ধারা এবং সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ভাগে বর্ণিত সংবিধানের ১১, ১৯(১) ইত্যাদি ধারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এখন কথা হচ্ছে রাষ্ট্র নিজেই যদি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষতুœ করে অথবা সংবিধানে বর্ণিত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে কী রাষ্ট্র নাগরিকের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করছে এ কথা বলা যায়?

পাশাপাশি নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংবিধানের সব বিধান পালন করবে এটা আশা করা যায়?

সংবিধান নিজেই যদি একটা সংবিধান বিরোধী বই হয় তাহলে নাগরিকের ভোগান্তির শেষ কোথায়?

বলার অপেক্ষা রাখেনা, ব্যক্তির জন্যই রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের জন্য ব্যক্তি নয়। আর দ্বীনদার বা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির জন্য দ্বীন বা ধর্মটাই সবচেয়ে বড়। তার পাশাপাশি আরো উল্লেখ্য যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম।” কাজেই, সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম অনুযায়ী ছবি না তুলে, পর্দা পালন করে সংবিধানে বর্ণিত সব সুবিধা তথা ব্যক্তি মালিকানা ও জাতীয় জীবনে অংশ গ্রহণ করা ইত্যাদি অধিকার রাষ্ট্র তথা বাংলাদেশ সরকারকেই করতে হবে। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো।” (ইনশাআল্লাহ চলবে)

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)