রৌশনীদের ক্ষোভ, দুঃখ, লজ্জা, ক্রোধের দায়ভার নেবে কে? প্রবাহমান সংস্কৃতি পঙ্কিলতার তোড়ে রৌশনীদের সব আকুতি যে নির্মমভাবে ভেসে যাচ্ছে।  সে দায়বদ্ধতা বর্তমান সমাজ আর কত অস্বীকার করতে পারবে? প্রযুক্তি যতটা আপগ্রেড হচ্ছে সে তুলনায় অপরাধ বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। কাজেই আদর্শের কাছে ফিরে যাওয়ার বিকল্প নেই। পর্দা পালনে বিকল্প নেই।  ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। এসব কথার প্রতিফলন না হলে খুন, ধর্ষণ আর পরকীয়ার ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে প্রতিটা পরিবার। সমাজ হবে সমাজচ্যুত।

সংখ্যা: ১৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

‘১০-১২ বছরের শিশু রৌশনীর ক্ষোভের কথা’ গত ১৩ই নভেম্বর/২০০৯ ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় বক্স আইটেমে ছাপা হয়েছে।

বর্ণনায় এসেছে, æপ্রায় রাতেই রোশনীর ঘুম ভেঙে যায়। গভীর রাতে মায়ের হাসির ঝঙ্কারে তার মনে কেমন এক ধরনের কাঁপনের সৃষ্টি করে। টেলিফোনে মায়ের দীর্ঘ কথোপকথন শুনতে শুনতে এই বয়সেই বিনিদ্র রজনী কাটে তার। কেমন এক ধরনের ঘেন্না জšে§ যায় মায়ের উপর। রাত জেগে সে যে কথা শোনে, তা মাকে বুঝতে দেয় না। কি করবে ভেবেও কূল করতে পারে না। ১০-১২ বছর বয়স হলেও সে এটা বোঝে যে, মা নিশ্চয়ই খারাপ কোন কাজ করছে। না হলে সে ঘুমিয়ে পড়ার পর গোপনে এসব করবে কেন?”

রোশনীর দুঃখের কথাও সেই সাথে যুক্ত হয়েছে রোশনীর ভাষায়-

æআর বাবা তো মাকে অনেক ভালবাসে। শুধু তার অপছন্দ এমন খোলালো পোশাকে, সেজেগুঁজে মায়ের অপর একটি লোকের সঙ্গে বাইরে যাওয়া। গভীর রাত করে বাড়ি ফেরা। এসব একদম ভাল লাগেনা রোশনীর। স্কুল থেকে ফিরে অনেকদিনই ফ্ল্যাটের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে কলিংবেল দিতে দিতে পা ব্যথা হয়ে গেলেও মা সহজে দরজা খোলে না। খুললেও ঘরে ঢুকেই অপরিচিত লোকটিকে বসে থাকতে দেখে তার ভাল  লাগে না। আমেরিকাপ্রবাসী বাবাকেও এসব জানাতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কি থেকে কি হয়, এক অজানা শঙ্কাও কাজ করে তার মনের ভেতর।”

রোশনীর ক্রোধের কথাও একই রিপোর্টে এসেছে-

æমা’র কা- দেখে তাকে তার মেরে ফেলতে ইচ্ছা করে।”

রোশনীর লজ্জার কথাও পত্রস্থ রিপোর্টে স্থান পেয়েছে-

æএক রাতে কৌতূহলী হয়ে পা টিপে টিপে রোশনী পাশের ঘরে গিয়ে দরজার আড়ালে আড়ি পাতে। এরপর সে যা শোনে তাতে সঙ্গে সঙ্গে নিজের ঘরে এসেই বাবাকে ফোন করে। তানজিদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার মায়ের অবৈধ সম্পর্কের কথা খুলে বলতে গিয়ে তার বড় কান্না পায়। মা’র কা- বাবাকে খুলেও বলতে পারে না। ছোট হলেও একথা বলতে তার কথা কেবলই জড়িয়ে পড়ে।”

এদিকে পত্রিকায় প্রকাশিত রোশনীর এতসব ক্ষোভ, দুঃখ, লজ্জা আর ক্রোধের বিপরীতে রোশনীর মা- লিমা যা করেছে তা হলো-

æএর মধ্যে হঠাৎ পাশের ঘর থেকে তার মা এসে বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়ের হাত থেকে টেলিফোন সেটটি নিয়ে নেয়। কতটুকু শুনেছো বলে স্বামীকে এবার পাল্টা প্রশ্ন করে। স্বামী কিছু বলার আগে নিজেই বলে দেয়, সবই যখন জেনেছ তাহলে এটুকুও জেনে রাখ, আমি তানজিদকে বিয়ে করেছি। ব্যস,

লাইনটি কেটে দিয়ে আর কোনো যোগযোগ রাখে না স্বামীর সঙ্গে। পরদিন প্রবাসী স্বামীর টাকা-পয়সা এবং একমাত্র কন্যার জন্য সঞ্চিত

৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধশত ভরি গহনা নিয়ে কন্যাকে একা ফেলে রেখেই পালিয়ে যান রোশনীর মা। ডাকে স্বামীকে একটি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়ে বিয়ে করে ঐ তানজিদকে।”

উল্লেখ্য, আঠারো বছর আগে পারিবারিকভাবেই রোশনীর মা- লিমার সঙ্গে আব্দুল মজিদের বিয়ে হয়। আজিমপুরে ঢাবি কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টারে বাস করত লিমা ও তার পরিবার।

বরিশালের ছেলে মজিদের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ছিলো। ঢাকাতে নানারকম পারিবারিক ব্যবসা থাকার পরও সংসাতে অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দের আশায় বিয়ের বছর কয়েক পরেই মজিদ সউদী আরব চলে যায়। মাঝেমধ্যেই সে দেশে আসত। সউদী থেকে সাইপ্রাস হয়ে ২০০০ সালে পাড়ি জমায় আমেরিকাতে। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাদের ঘরে কন্যা রোশনীর জš§।

আমেরিকাতে গ্রীনকার্ড পাবার পর থেকেই স্ত্রী-কন্যাকে আমেরিকায় নিয়ে যেতে চাইলেও লিমা রাজি হতো না। তবে স্বামী দেশে এলেই তাকে নিয়ে ব্যাঙ্কক, সিঙ্গাপুর এবং ভারতে ঘুরতে যেতেন। স্বামী ফেরে আসতে চাইলে কন্যার ভবিষ্যৎ মনে করিয়ে দিয়ে আরো কয়েকটা বছর কষ্ট করার জন্য বলত স্বামীকে। বেচারা স্বামী ঘূর্ণাক্ষরেও স্ত্রীর সম্পর্কে অন্য কোন চিন্তা করেনি।

এ যাবৎ বিদেশ থেকে ব্যাংকে পাঠানো নগদ ৬৭ লাখ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি মারফত পাঠানো আরো ৪০ লাখ টাকা, প্রিয় কন্যার জন্য গড়ে দেয়া ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধশত ভরি গহনার সবই সঙ্গে নিয়ে চম্পট দিয়েছে লিমা।

কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মজিদের নির্মাণাধীন একটিসহ মোট দুটি বাড়ি থেকেও গত তিন বছরে মাসিক ভাড়া- সবই গেছে লিমার দখলে।

আমেরিকার গ্রীনকার্ড এবং কন্যা রোশনী ছাড়া আজ নিঃস্ব আব্দুল মজিদ। সম্পদ ফিরে না ফেলেও সে লিমার জালিয়াতির বিচার চায়। (দৈনিক জনকণ্ঠ: ১৩ই নভেম্বর-২০০৯)

মূলতঃ রোশনীর পিতা মজিদের এ বিচার প্রার্থিতা আজকের সমাজের কাছে,

যে সংস্কৃতি-সমাজ আজ লালন করছে তার কাছে।

কারণ, সংস্কৃতিবাদীরা যে বল্গাহারা জীবনদর্শন তথা উন্মাতাল আনন্দ, ভোগবাদী জীবন-উদ্দমতার বিস্তার ঘটিয়ে চলছে তার গুটি আজকের হতভাগা রোশনীর মা লিমা।

তবে সমাজ আজ শুধু এক চরিত্রহীনা লিমাই তৈরি করছে না বরং সমাজ

আজ যে সংস্কৃতি ধারণ করছে তার গর্ভে প্রতিনিয়ত জš§ নিচ্ছে লাখ লাখ লিমা।

বর্তমান সংস্কৃতি যে সমাজকে সমাজচ্যুত করছে তার এক প্রত্যক্ষ উদাহরণ লিমা।

নিজের জীবন ত্যাগ করে

মেয়ের জীবন রক্ষা করে -‘মা’-

এরকম উদাহরণেই সমাজের জš§ হয়েছে।

কিন্তু আজকের বল্গাহারা সংস্কৃতি সমাজে ঐসব  ‘মা’ তথা ‘লিমা’ তৈরি করছে-

যারা ক্লান্ত-শ্রান্ত স্কুল ফেরত মেয়েকে দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে বাড়ির ভিতরে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ)

আজকের সংস্কৃতি-সমাজে ঐসব ‘মা’ তথা ‘লিমা’ তৈরি করছে; যারা নিজের মেয়ের মায়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ফেলে স্বামীর ধন-সম্পদ নিয়ে পর-পুরুষের হাত ধরে উধাও হচ্ছে।

বলাবাহুল্য, যা গত তিন দশক আগেও এদেশে কল্পনা করা যেত না।

কিন্তু জামাতের ছোহবতে থেকে বিএনপি সরকার যখন প্রথমবার ডিস-এন্টেনা চালু করলো এবং

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে দেশে অসংখ্য টিভি চ্যানেলের দ্বার খুলে দিলো

তার সুবাদে প্রতি মিনিটে হাজারো চ্যানেল থেকে একসাথে প্রদর্শিত পরকীয়ার হাজারো ছবকে

অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মেয়ে ‘লিমার’ মনেও তা  গেঁথে গেলো।

সমাজে প্রচলিত লক্ষ লক্ষ পরকীয়ার জোয়ারে সেও গা ভাসালো।

কিন্তু নিঃস্ব, ক্ষুব্ধ, তথা মহা হতভাগা হলো- লিমার নিষ্পাপ শিশু রোশনী। এবং তাদের সুখের জন্য বিদেশের মাটিতে খেটে খাওয়া তার বাবা আব্দুল মজিদ।

আব্দুল মজিদ বিচার চেয়েছে। কিন্তু তার বিচার কী বর্তমান সমাজ দিতে পারবে?

সমাজ কী বর্তমানে সে যোগ্যতা বহন করছে?

বরং সমাজ আজ যা ধারণ করেছে তা  ১৩ নভেম্বর ২০০৯ ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকার ঐ রিপোর্টে আরো প্রকাশ পেয়েছে-

æজানা গেছে, তানজিদের সঙ্গে গোপন মেলামেশার কারণেই হঠাৎ করেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে লিমা। প্রথমে সন্তানটি নষ্ট করার চেষ্টা করলেও লিমার শারীরিক সমস্যা থাকায় তা সম্ভব হয়নি। যে কারণে পুত্রটিকে এখন মজিদের বলেই পরিচয় দিচ্ছে। অথচ স্বামী মজিদের দাবি এটি অবৈধ সন্তান। কারণ, গত এক বছরের বেশি সময় থেকেই সে দেশে ফেরেনি। লিমা এবং তার দ্বিতীয় স্বামী বর্তমানে আজিমপুর এলাকার নিউ পল্টন লাইনের একটি বাড়িতে বসবাস করছে। নতুন বিয়ে করে ফ্ল্যাটে উঠার পর হঠাৎ সন্তান জš§ানোতে বেকায়দায় পড়ে এই দম্পতি। তখন থেকেই সে আগে স্বামী থাকার বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে স্বীকার করে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।”

বলাবাহুল্য, এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও লিমা নিজের মধ্যে এমন সাহস পেয়েছে যে, সে অবলীলাক্রমে অবৈধ সন্তানের কথা স্বীকার করেছে। স্বীকার করতে পেরেছে। কারণ, টিভি চ্যানেলের ছবক ছাড়াও আশেপাশের অনেক উদাহরণ তার মনে এমন স্বাভাবিকতার মাত্রা এনে দিয়েছে।

সেই সাথে দিয়েছে আরেকটি স্বাভাবিক পরিণতির পূর্বাভাস।

সেটা হলো- লিমা যেমন তানজিদের অবৈধ সন্তান ধারণ করেছে

তেমনি এখনই যদি সমাজ সচেতন না হয়,

এখনই যদি পঙ্কিলতার প্রসবকারী বর্তমান শিল্প-সংস্কৃতির অবসান না ঘটায়

তাহলে অতি শীঘ্রই এমন সময় আসবে- যখন গোটা দেশই বলতে গেলে

অবৈধ সন্তান তথা হারামজাদায় ভরে যাবে। (নাঊযুবিল্লাহ)

***

সারারাত ডিউটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের

বাড্ডা থানার এক কর্মকর্তা। খুব ভোরে ডিউটি শেষ না হতেই বাসায় গিয়ে ক্লান্ত দেহটা সবেমাত্র বিছানায় এলিয়ে দিয়েছেন। ঠিক এ সময় ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ওয়াকিটকিতে ওই কর্মকর্তার অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। ওয়াকিটকিতে কলসাইন (পরিচিতি নম্বর) শুনে তড়িঘড়ি বিছানা ছেড়ে ওয়াকিটকি হাতে তুলে নিলেন তিনি। জানালেন তিনি ডিউটিতে এলাকায় আছেন। ডিউটিতে আছেন জেনে ওসিও নিশ্চিত মনে বিশ্রামে চলে গেলেন। ওয়াকিটকিতে এভাবে মিথ্যা কথা বলার দিন শেষ হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ওয়াকিটকি সিস্টেম। মটোরোলার কারিগরি সহায়তায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত কর্মকর্তাদের হাতে চলে আসবে অত্যাধুনিক এ ওয়াকিটকি। আর এ ওয়াকিটকি হাতে যে কোন কর্মকর্তার অবস্থান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কন্ট্রোল রুমে বসেই জানতে পারবেন। অত্যাধুনিক এ ওয়াকিটকিটি মোবাইল ফোনেরও কাজ করবে। ওয়াকিটকিটির জন্য রাজধানীতে স্থাপিত বেইজ স্টেশনগুলোর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে কোন মোবাইল ফোনে কথা বলা যাবে। খুব সহজে মোবাইলের মতো মেসেজ আদান-প্রদানও করা যাবে। ওয়াকিটকির মাধ্যমে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের পিএবিএক্সের সহায়তায় যে কোন ল্যান্ডফোনেও কল করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ ওই ওয়াকিটকিধারী পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রুপ কনফারেন্সেও মিলিত হতে পারবেন।

অত্যাধুনিক এ ওয়াকিটকি পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। এসব চালু হলে পুলিশের কাজে আরো গতি আসবে। রাজধানীর বাইরে অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায়ও ধীরে ধীরে এ ধরনের ওয়াকিটকি চালু করা হবে। ঢাকার পরই চালু হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায়।

ঢাকার জন্য মোট ৫টি বেইজ স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। আরো দুটি স্টেশন স্থাপনের কথা রয়েছে। সচিবালয়ের উল্টো দিকে আবদুল গনি রোডে কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ওয়াকিটকির কার্যক্রম।

ওয়াকিটকিধারী পুলিশ কর্মকর্তা কোন এলাকায় অবস্থান করছেন, বেইজ স্টেশনের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকই জানা সম্ভব হবে। এর ফলে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমে আসবে। ওয়াকিটকিতে কেউ মেসেজ দিলে তার আইডি পরিচিতি নম্বরও ভেসে উঠবে। এর ফলে ওয়াকিটকিতে অপ্রয়োজনীয় কথা বলার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তা বিনা কারণে প্রেস টু টক (পিটিটি) সুইচ অন-অফ করতে পারবেন না। ক্যাট কলের (ওয়াকিটকির মিসকল) প্রবণতাও থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, অত্যাধুনিক এ ওয়াকিটকিধারী কোন পুলিশ কর্মকর্তা বিপদে পড়লে নির্দিষ্ট বাটন প্রেস করলেই একযোগে সব ওয়াকিটকিতে ‘সিগন্যাল’ ভেসে উঠবে। এক্ষেত্রে বিপদগ্রস্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধারে অন্যরা ছুটে যাবেন। এ ওয়াকিটকি দিয়ে ব্রডকাস্টের মাধ্যমে একযোেেগ সবাইকে সিগন্যাল পাঠানো সম্ভব।”

উপরোক্ত বর্ণনা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ পুলিশও এখন আর পিছিয়ে নেই। বরং কথিত অত্যাধুনিক ওয়াকিটকি দ্বারা পুলিশ প্রযুক্তি আরো এক ধাপ বেড়েছে।

আশাপ্রদ ছিলো যে, পুলিশের হাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন অপরাধের মাত্রা কমবে। অপরাধীর সংখ্যা কমবে।

বলাবাহুল্য, এই উদ্দেশ্যেই পুলিশ প্রযুক্তির অব্যাহত উৎকর্ষতা সাধন।

কিন্তু সত্যিই কী তাই হচ্ছে? অথবা তাই হবে-

বাস্তবতা কী বলে?

বাস্তবতা বরং এটাই প্রমাণ করছে যে, প্রযুক্তি যদি বাড়ে গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪) তবে অপরাধ বাড়ে জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬)।

গত ১৪ই নভেম্বর/২০০৯ তারিখে প্রায় সব পত্র-পত্রিকায় খবর হেডিং হয়েছে-

‘ওরা চার কিশোর খুনি।’

খবরে জানা যায়, ওরা ৪ জন। বয়স ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। চেহারা দেখে মনে হবে, কোনো পাপ এদের এখনো স্পর্শ করেনি। কিন্তু এক বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ৪ জনকে। গত মঙ্গলবার এরা সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধ হয়ে যাওয়া মনোয়ারা জুট মিলের ভেতরে নিয়ে এদের বন্ধু আরমানকে (১৪) জবাই করে পালিয়ে যায়। নিহত আরমান কাঁচপুর এলাকার আব্দুর রবের ছেলে।

আরমান হত্যায় জড়িত ৪ বন্ধুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, নিহত আরমান ও গ্রেফতার ৪ জন একই  সঙ্গে কাগজ কুড়াত এবং চুরি করত। আরমান ছিল গ্রুপের নেতা। সে প্রায়ই অন্যদের ঠকাত। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই আরমানকে তার ৬ সঙ্গী গত মঙ্গলবার খেলার কথা বলে মনোয়ারা জুট মিলের ভেতরে নিয়ে জবাই করে। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে প্রথমে কাঁচপুরের বাদল মিয়ার ছেলে বাদশাকে (১৩) গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার বন্দর থানার মদনপুর থেকে সিরাজ মিয়ার ছেলে রবিন (১০), কাঁচপুরের সেনপাড়া থেকে ইদ্রিস আলীর ছেলে সুমন (১৩) এবং স্টেশন এলাকার জহের আলীর ছেলে ফারুককে (১২) গ্রেফতার করা হয়। এরা জানান, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই আরমানকে হত্যা করা হয়েছে।” (সমকাল-১৪/১১/০৯)

æনারায়ণগঞ্জে এই প্রথম কোনো কিশোর অপরাধী পুলিশের হাতে ধরা পড়লো। ১০ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে মনোয়ারা জুট মিলস এলাকায় কিশোর আরমানকে হত্যা করে ছয় কিশোর। তাদের চারজন বাদশা, সুমন, ফারুক ও রনিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে।” (যাযাদি- ১৪ই নভেম্বর/২০০৯)

বলাবাহুল্য, সমাজ এখন এমন সংস্কৃতি ধারণ করছে, সংস্কৃতি এমন পঙ্কিলতার প্রসার ঘটাচ্ছে- যার প্রেক্ষিতে এখন শিশুরাও খুনি হচ্ছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

পাশাপাশি এখন খুনিদের মধ্যে কী ধরনের হিংস্রতা জšে§ছে তা রসু খাঁর ‘ছেড়ে দেখেন কীভাবে খুন করি’- এ দম্ভোক্তি যেমন প্রমাণ করে; তার সাথে এখন সন্ত্রাসীদের মাঝে কী নির্মম পৈশাচিকতা বিরাজ করছে তার নজীর স্বরূপ নি¤েœাক্ত খবর হেডিং উল্লেখ করা যায়-

æসন্ত্রাসীদের দেয়া আগুনে আমি যখন জ্বলছিলাম তখন ওরা উল্লাস করছিল। আমার শরীর পুড়ে কয়লা হচ্ছে, ভীষণ কষ্ট। ভীষণ তেষ্টা। আমি ‘পানি পানি’ করে চিৎকার করলাম। কেউ এক ফোঁটা পানিও এগিয়ে দিলো না। পানি চেয়ে সন্ত্রাসীদের কাছেও আকুতি জানিয়েছিলাম। তা-ও দেয়নি তারা। বরং হা হা করে হেসেছে। সেকি জল্লাদের হাসি। বলেছে, চান্দাও দিবি না পানিও পাবি না। স্থানীয় লোকদেরও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে দেয়নি ওরা। দৌড়ে পাশের বাসার দিকে গেলাম গেট খোলেনি দারোয়ান। সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাহস করেনি সে। হায়, এই হচ্ছে মানুষ! এই হচ্ছে মানবতা! আগুন নিয়ে যখন গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম তখন সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আমার চারপাশে মহড়া দিচ্ছিল। তাদের ভয়ে সবাই নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার আগুনে পোড়ার দৃশ্য শুধু দেখছিল। গত ১১ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন চা-বিক্রেতা তোফাজ্জল তালুকদার কাতরাতে কাতরাতে কথাগুলো বলছিলেন। তার কান্না- কি দোষ করেছি আমি? বিনা পয়সায় চা খেতো ওরা। তার দাম এক পয়সাও দেয়নি। ২০ হাজার টাকা চান্দা চেয়েছে আমার কাছে। আমি গরিব মানুষ। অত টাকা আমি কোত্থেকে দেবো? আর এ জন্যই কি ওরা পেট্রোল ঢেলে আমাকে আগুনে পুড়িয়ে মারবে?

চা বিক্রেতা তোফাজ্জলের চাচা সাইদুর রহমান জানান, থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থানার পুলিশ। বারবার ঘোরাতে থাকে তাদের। পরে একপর্যায়ে বাধ্য হয় মামলা নিতে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মেডিকেল সার্টিফিকেট না পেলে আসামি ধরা যাবে না।

তোফাজ্জল জানান, সন্ত্রাসী রাতুল, রব্বানী প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা নিতো। না দিলে প্রায়ই ভাঙচুর করতো। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ কথা বলার সাহস পায় না। যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদেরই হয়ে যায় তারা। পল্লবী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, রাতুলদের অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

প্রায়ই মদ খেয়ে এলাকায় মাতলামি করে তারা। এলাকার মেয়েদেরও প্রায়ই উত্ত্যক্ত করে। তবে ভয়ে কেউ এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তোফাজ্জলকে উদ্ধারকারী মুজিবুর রহমান জানান, রাস্তায় মাটিতে গড়াগড়ি করলেও কেউ সাহস করেনি তাকে বাঁচাতে। পরে তিনি তাকে প্রথমে মিরপুর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। চা বিক্রেতা তোফাজ্জলের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তার মা হেনা বেগম বলেন, মামলা করে আমরা আরো বিপদে পড়েছি। কিছুক্ষণ পরপরই মৃত্যুর হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এই নৃশংস ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এলাকাবাসীরা জানান, স্থানীয় কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রায়ই তোফাজ্জলের চা দোকানে খেয়ে টাকা-পয়সা দিতো না। তাদের অনেকের কাছেই তিনি টাকা পান। পাওনা টাকা চাওয়ায় তার কাছে উল্টো ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই সন্ত্রাসীরা প্রথমে তাকে মারধর করে। পরে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। দোকানে অবস্থানরত লোকজন এ সময় ভয়ে দোকান থেকে দ্রুত সরে পড়ে। তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম হলেও পুলিশ সেখানে যায় অনেক দেরিতে। পুলিশ যখন যায় তখনো সন্ত্রাসীরা আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছিল।

তোফাজ্জলের পরিবার মিরপুর সেকশন ১২-এর ৩৪ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাসায় থাকে। স্বজনরা আরও জানান, গত রোববার রাতেও সন্ত্রাসীরা তার দোকানের কর্মচারী ইমনকে বেধড়ক মারধর করে। তখনো কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। ”

বলাবাহুল্য, উপরোক্ত খবর হেডিংগুলো বিচ্ছিন্ন কোন উদাহরণ নয়। বরং বর্তমান সমাজের ধারাবাহিক উপাখ্যান।

যার উৎস

যার নিয়ামক হলো

কথিত বর্তমান সংস্কৃতি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কথিত সংস্কৃতিবাদীরা যে সংস্কৃতিরই আহ্বান করুন না কেন?

তাদের কথায় মানুষ যতই সংস্কৃতিমনস্কা হোক না কেন?

তাতে খুন-ধর্ষণ, সন্ত্রাসী-রাহাজানী, পরকীয়া কোনমতেই কমবে না বরং বাড়বেই।

তার একটি বড় প্রমাণ হলো যে, উল্লিখিত খুনি, ধর্ষক, সন্ত্রাসী এবং পরকীয়াকারীরা কিন্তু

কথিত সংস্কৃতির বিরোধিতাকারী নয়।

বরং পুরোই অনুগামী।

সুতরাং বলতে গেলে বর্তমান সংস্কৃতিই তাদের গর্ভধারিনী।

অতএব, এর থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী শিক্ষা ও পর্দা প্রথার যে বিকল্প নেই সে সত্য যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধিতে আসবে ততই গোটা সমাজের কল্যাণ সাধিত হবে ইনশাআল্লাহ।

-মুহম্মদ আলম মৃধা

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল