শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই মুসলমানদের জন্য উন্নয়ন হিসেবে গৃহীত হতে পারে না। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ নয়; নিদেন পক্ষে মধ্যম  তাক্বওয়ার মুসলমানের দেশ চাই

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

বিলবোর্ডে লেখা হচ্ছে- উন্নয়নের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন দেশের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৪৭০ ডলার। আর আজ সেই মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৩ শত ৯৪ ডলার। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সাফল্য সারা পৃথিবীর কাছে ঈর্ষণীয়। লেখার অপেক্ষা রাখে না- দেশের উন্নতি সবার কাছেই কাঙ্খিত। কিন্তু দেশের শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি উন্নতি কিনা- তা নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনাও চলছে।

দাবি করা হচ্ছে, উন্নয়নের সাথে সুশাসন চাই। সুশাসন ব্যতীত উন্নয়নকে আইয়ুব খান আমলের শাসনের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সুশাসনের গুরুত্ব ও অভাব বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। তবে উল্লেখ্য যে, দুর্নীতি অপসারণ ও  সুশাসন জারি করা লিভার বা কিডনী প্রতিস্থাপনের মতো কোনো সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট নয় যে, হঠাৎ করে বা হুট করে তা সরকার করতে পারবে। বরং সুশাসন তখনই নিশ্চিত ও টেকসই হবে, যখন সুনাগরিকের একটা প্রভাব বলয় গড়ে উঠবে। আর সুনাগরিক হতে প্রয়োজন সুশিক্ষা। কিন্তু দেশে সুশিক্ষার অভাবে সুনাগরিকের অভাব প্রকট। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষা লাভ করলেই সুশিক্ষা লাভ করা যায় না। অথচ সেটাকেই এখন সুশিক্ষা হিসেবে ধরে নেয়া হচ্ছে। কথিত সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে সম্ভ্রম লুণ্ঠনের বহু অভিযোগ উঠেছে। আবার এসব সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাঠ চুকিয়ে বের হওয়া শিক্ষার্থীরাই মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতি নির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক। এসব তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিতরাই আজ দেশের অপশাসন ও ব্যর্থতার চাবিকাঠি।

কারণ রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে আজ তাদেরই পদচারণা। রাষ্ট্রযন্ত্রে সর্বক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি থাকার পরও দেশ আজ দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। দুর্নীতিতে এখনো বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। পূর্বেকার ন্যায় এখনো দেশের লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। ঘুষ, দুর্নীতি বাড়ছে বৈ কমছে না। এসব তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত পরিমলদের হাতে নিজ ক্লাসের ছাত্রীরা সম্ভ্রম হারাচ্ছে। এদেরই এক শ্রেণী ছিনতাই, রাহাজানি, নারীটিজিং, লিভটুগেদারসহ সব ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত হচ্ছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ শিক্ষিত হলেই সুনাগরিক হওয়া যায় না। এজন্য প্রয়োজন ইসলামী শিক্ষা। প্রয়োজন তাক্বওয়ার। প্রয়োজন খোদাভীতির। যে খোদাভীতি তাকে সব অনৈতিক, অশালীন ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখবে। অথচ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আজ তাক্বওয়া বা খোদাভীতি শিক্ষা দিতে কোনো প্রক্রিয়া নেই। ইসলামী শিক্ষার প্রভাব ও প্রতিফলন নেই।

সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে- তারা মসজিদ, মাদরাসায় প্রচুর ফান্ডিং করছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি খরচে বিশাল মডেল মসজিদ হচ্ছে। কিন্তু শুধু মসজিদ-মাদরাসা তৈরি করলেই ইসলামী শিক্ষার প্রতিফলন হয় না। বিশ্বায়নের এ যুগে বেহায়া, বেপর্দা, বিবস্ত্রপনা, গান-বাজনা, খেলাধুলাসহ হারাম কাজ চরম আকারে বিস্তার লাভ করেছে। এসব উৎপত্তি ও চর্চার স্থানটা বন্ধ না করলে তা সাধারণের ইসলামী অনুরাগকে নিমিষে গ্রাস করে ফেলে। অথবা সাধারণের ইসলামী অনুভূতি কর্পুরের মতো উড়ে যায়। ইসলামী শিক্ষা তখন মনোজগতে টিকে থাকে না।

কাঙ্খিত ইসলামী আবহ তৈরিতে প্রয়োজন ব্যাপক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। সরকার ক্রীড়া, সংস্কৃতি ইত্যাদির উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অথচ আদর্শ সুনাগরিক গঠনে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন ও ইসলামী শিক্ষার পরিবেশ গঠনে সরকার কোনো পৃষ্ঠপোষকতা করছে না। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ একুশে বই মেলা। একুশে বই মেলা যেভাবে ব্যাপক আয়োজনে, ব্যাপক পরিসরে ও ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতায় উদ্বোধন করা হলো; ইসলামী ফাউন্ডেশনের বই মেলার ক্ষেত্রে তার তুলনায় কোনো ভূমিকাই রাখেনি সরকার। স্বল্প পরিসরে কোনোরকম দায়সারাভাবে বায়তুল মোকাররম চত্বরে সেটা আয়োজন করা হয়। অথচ ইসলামী ফাউন্ডেশনের বই মেলা হলো স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে। সুবহানাল্লাহ! তথা পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে। সুবহানাল্লাহ! এখানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদের সবাই উপস্থিত থেকে ব্যাপক পরিসরে করা উচিত ছিল। বাংলা একাডেমির বিপরীতে ইসলামী বই মেলাই অনেক বেশি সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করার দ্বারা ইসলামী শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি দৈন্যতাই বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশকে এখন মধ্যম আয়ের দেশ বলা তৃপ্তির ঢেকুর তোলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি- দেশকে আগে কমপক্ষে মধ্যম মানের মুসলমানের দেশ তৈরি করা জরুরী। কারণ বর্তমান প্রজন্মের মুসলমানরা বেহেশত, দোযখ, হালাল, হারাম ইত্যাদি সাধারণ ইসলামী জ্ঞানই রাখে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখনি যদি ইসলামী জ্ঞান দেয়া না হয়, তাহলে মুসলমান নামধারী ব্রিটিশ দালাল তুরস্কের কামাল পাশা (লা’নাতুল্লাহি আলাইহি যেভাবে সে দেশের মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করেছে, বর্তমান প্রজন্মের নামধারী মুসলমানদের থেকে অদূর ভবিষ্যতে তুরস্কের কামালের মতো মুরতাদ তৈরি হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। যারা মুরতাদ কামালের মতো মসজিদ মাদরাসার বিরুদ্ধাচরণ করতে দ্বিধা বোধ করবে না। নাঊযুবিল্লাহ! এখনই আযানের বিরুদ্ধাচরণ করার মতো বহু নাস্তিক-মুরতাদ তৈরি হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে এখন নামধারী ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। কিন্তু সেগুলোতে খোদাভীতি বা তাক্বওয়ার চর্চা নেই।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি- মসজিদ, মাদরাসা তৈরির পাশাপাশি সরকারকে সর্বাগ্রে সহীহ ইসলামী মনোজগৎ তৈরিতে নিবেদিত হতে হবে। ইসলামী মনোজগতের ব্যপ্তি ঘটাতে হবে। বিস্তার ঘটাতে হবে এবং টেকসই ইসলামী মনোজগতের ধারাবাহিকতা সুরক্ষার জন্য সুদূর প্রসারী ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় জীবনে অর্জন ও সম্মাননার ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ ক্রিকেট নয়; বরং মুত্তাকী হওয়াকে গণ্য করতে হবে। সমাজে তাক্বওয়ার গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে হবে।

পাশাপাশি হাক্বীকীভাবে যারা তাক্বওয়া পরহেজগারী অবলম্বন করেন উনাদের ও উনাদের প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। উনাদের প্রতিষ্ঠানের মডেলকে সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তখনই পরিপূর্ণ তাক্বওয়া বা খোদভীতি ধারণকারী তৈরি হতে থাকবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান বা প্রাপ্তিতেই মুসলমানের উন্নয়ন নয়। বরং দুনিয়ার পাশাপাশি জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি লাভ করে জান্নাত লাভই মুসলমানের প্রকৃত উন্নয়ন। মুসলমানের দুই কালের উন্নয়নের নিশ্চয়তা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত সত্যিকারের উন্নয়ন বলা যাবে না। ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার সে পথে পরিচালিত হোক- এটাই ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের আকুল কামনা।

-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুল্লাহ

 

 

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।