সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সিজারিয়ান। হাসপাতাল-ক্লিনিকের ৮০ ভাগই সিজারিয়ান। আর সিজারের নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। সিজারিয়ান রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারকে বিশেষভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সিজারিয়ান।

হাসপাতাল-ক্লিনিকের ৮০ ভাগই সিজারিয়ান। আর সিজারের নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য।

সিজারিয়ান রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারকে বিশেষভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


দেশে স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারি জরিপেও এ তথ্যটি উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিজারিয়ান পদ্ধতিতে যে সংখ্যক নবজাতক জন্ম হচ্ছে এর ৩৫ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি একশ নবজাতকের মধ্যে ২৩ জনেরই জন্ম হচ্ছে সিজারের মাধ্যমে। অথচ সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার পর মা ও সন্তান দু’জনই যে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে- সেই বিষয়টি জানানো হচ্ছে না।

অভিযোগ আছে, অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য এক শ্রেণীর চিকিৎসক অপ্রয়োজনেও সন্তানসম্ভাবা মায়েদের সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করাচ্ছে।

দেশের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিলো এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২১ জন প্রসূতি। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার ১৬৪ জনের সিজার করে সন্তান হয়েছে। আর মাত্র ৪৭ হাজার ৮৬৮ জনের হয়েছে নরমাল ডেলিভারি। ২০১৩ সালের সরকারি তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। অর্থাৎ তখন সিজারিয়ানের হার ৭০ শতাংশ থাকলেও চলতি ২০১৫ সালে এ হার প্রায় ৮০ শতাংশে উঠে গেছে বলে জানিয়েছে প্রসূতিসেবা বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় দেখা গেছে- প্রকৃতপক্ষে ১০০ সিজারিয়ান প্রসূতির মধ্যে ১৫ থেকে ২০ ভাগেরও সিজারের দরকার ছিল না। ৮০ ভাগেরই নরমাল ডেলিভারি করা যেত। কিন্তু একটি মহলের প্রচারণার কারণে ক্ষতিকর এ পথটিই অনুসরণ করা হয়েছে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস)-২০১৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ১০টির মধ্যে ৬টি শিশুরই জন্ম হচ্ছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে। এক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অস্ত্রোপচার হচ্ছে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। সমাজে সবচেয়ে শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারের ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে অস্ত্রোপচারে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এবং সচ্ছল পরিবারে এই হার অনেক বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হতো ৪ শতাংশ শিশুর। ২০০৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ শতাংশে। ২০১১ সালে তা ছিল ১৭ শতাংশ। আর ২০১৪ সালে তা দেড়গুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ২৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, সিজারিয়ান সেকশন এখন দেশের বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা রোধ তো করা যাচ্ছেই না, বরং দিন দিন প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো প্রসূতি পেলেই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর এক শ্রেণীর চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাই বিভিন্ন অজুহাতে রোগীকে নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে কৌশলে মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। এমনকি সিজার না হলে মা কিংবা নবজাতকের ক্ষতি হওয়ার ভয়ও দেখানো হয় অনেক ক্ষেত্রে। নিরুপায় হয়ে প্রসূতি ও তার স্বজনরা নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ সন্তানের স্বার্থে হাসপাতালের প্রত্যাশায় সায় দেয়। আর সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসব পদ্ধতিতে রাজি হলেই শুরু হয় টাকা হাতানোর হিসাব কষাকষি।

নরমাল ডেলিভারির চেয়ে সিজারিয়ানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অনেক বেশি টাকা পায়। হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষেরও এতে ব্যবসা বেশি। কারণ বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়, ওষুধ বেশি লাগে, অপারেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচও বেশি আদায় করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশনের পর প্রসূতির অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আক্রমণ দেখা দেয়। এতে হাসপাতালের ব্যবসা বেড়ে যায়। আর নরমাল ডেলিভারি হলে রোগী এক-দুই দিনের মধ্যে বাসায় চলে যেতে পারে। কিন্তু সিজারিয়ান হলে আগে-পরে মিলিয়ে রোগীকে প্রায় এক সপ্তাহ থাকতে হয়। এতে হাসপাতালের কেবিন বা বেড ভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের নামে অনেক বেশি টাকা আদায় করা সম্ভব।

এদিকে প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের দেখাদেখি এখন সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও’র হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোয়ও সিজারিয়ানের প্রবণতা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, সারাদেশে সরকারিভাবে প্রসূতিদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলায় জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। কোনো কোনো জেলায় আবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও রয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রধানমন্ত্রী মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। তবে এসবের পরেও সারাদেশে সিজারিয়ান অপারেশনের নামে গলাকাটা বাণিজ্য করছে একশ্রেণীর চিকিৎসক এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

মফস্বলে অনেক গাইনি চিকিৎসক নামধারীদের গাইনি চিকিৎসায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অ্যানেসথেশিয়া (অজ্ঞান করা) বিষয়ে কোনো উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেই। টাকার লোভে তারা সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকে। সরকারি হাসপাতালের কিছু ডাক্তারও এসবের সঙ্গে জড়িত। অনভিজ্ঞ ডাক্তাররা স্পাইনাল কর্ডে অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে অপারেশন করে যাচ্ছে। অনেক সময় হাতুড়ে ডাক্তারও প্রসূতির অপারেশন করছে। কোনো কোনো সময় নার্সরাও অপারেশন করছে।

এ ধরনের ক্লিনিকে পাঠিয়ে কমিশন পাচ্ছে একশ্রেণীর ডাক্তার। এছাড়া প্রসূতিদের ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেয়ার জন্য তাদের ভেতনভোগী দালালও রয়েছে সরকারি হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর সত্যতা স্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে গেলেও প্রসূতি মায়েদের পাঠিয়ে দেয়া হয় ক্লিনিকে। এসব ক্লিনিকে অত্যাধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। উন্নত যন্ত্রপাতি, আইসিইউ এবং ইনকিউবেটর থাকার কথা থাকলেও তা নেই।

উপজেলা পর্যায়ে ৯৫ ভাগ ক্লিনিকের কোনো লাইসেন্স নেই। অনেকের লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন করা হয় না অনেক দিন ধরে। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনও এসব পর্যবেক্ষণ করে না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের একশ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তা এসব ক্লিনিক থেকে মাসোহারা পায়। ফলে এসব অবৈধ ক্লিনিকের কার্যক্রম দেখেও না দেখার ভান করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করার সময় মাকে যেসব অ্যানেস্থেটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তা নবজাতকের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সফল বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারেও বাধা হয়ে উঠতে পারে। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া নবজাতক শিশুর হাসপাতালে থাকার সময়কাল বেশি বলে তাদের ইনফেকশন ঝুঁঁকি থাকে। ওই সব শিশুর ব্লাড ইনফেকশনের হার বেশি। সিজার করায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সময়ের দুই-তিন সপ্তাহ আগেই সন্তান হয়ে যায়। শিশু ইনফেকশনে পড়ার এটিও একটি কারণ। যেসব মা সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান হওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী থাকে, সেসব নবজাতকের প্রথম ২৮ দিনে মৃত্যুহার তিনগুণ বেশি থাকে। নিউরোসায়েন্সের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছে, সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া শিশু পরবর্তী সময়ে সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক রোগে ভোগার ঝুঁকিতে থাকে বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশের মোট জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ থেকে ১৫ ভাগের বেশি সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ভূমিষ্ঠ হওয়া মোটেও কাম্য নয়। সংস্থাটি বলছে, সন্তানধারণের সময় নানা কারণে (প্রসূতির পুষ্টি পরিস্থিতি, স্থূলতা, বয়স) জটিলতা দেখা দিতে পারে। একশ’র মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ জনের জটিলতা দেখা দেয়। তখন স্বাভাবিক প্রসব নাও হতে পারে, হলেও নবজাতক বা মায়ের জীবনের ঝুঁকি দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার তথা সিজারের প্রয়োজন হয়।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ মাতৃত্বের নামে যাতে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক সিজারিয়ানের নামে অনৈতিক ব্যবসা করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারের সক্রিয় ও শক্ত ভূমিকা নেয়া ফরযের উপর ফরয।


-আল্লামা মুহম্মদ মাহবুবুল্লাহ

‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার সম্পর্কে এক চরম জাহিল, গণ্ডমূর্খ, মিথ্যাবাদী, মুনাফিক্ব, ধোঁকাবাজ এবং প্রতারকের জিহালতী, মূর্খতা, মিথ্যাচার, ধোঁকা, প্রতারণা ও অপব্যাখ্যার দলীলভিত্তিক দাঁতভাঙ্গা জবাব-১

প্রসঙ্গ: গণপরিবহন ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি সরকার সৃষ্ট লকডাউন পরিস্থিতিতে শ্রমিক-মালিকদের ক্ষতির দায়ভার কেন জনগনের কাধে চাপানো হবে? জনগনের উপর ভাড়ার খড়গ না চাপিয়ে পরিবহন খাতে প্রণোদনা ও বাজেট বিশেষত শৃঙ্খলা তৈরী করে এর সুফল জনগনকে দিতে হবে।

১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। নেপথ্যে, বাংলাদেশ থেকে ৩ জেলাকে আলাদা করে স্বাধীন সন্ত্রাসবাদী জুম্মল্যান্ড গঠন করা। সরকারের উচিত তড়িৎ এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা। এই বিপুল পরিমাণ ভূমি ভারতের হাতে দখল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্বের উপর মারাত্মক হুমকি। সরকার সজাগ হবে কবে?

করোনা ভাইরাসের গুজবে দেশ ও জাতি কি করুন পরিণতির দিকে যাচ্ছে। সরকারের কর্তাব্যক্তি ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা তা উপলব্ধি করতে হঠকারিতামূলক অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের চরম দুদর্শায় ফেলে সরকার সংবিধানের খেলাপ কাজ করছে। ‘করোনা-ছোঁয়াচে নয়’- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার এই তথ্যের ভিত্তিতেই করোনার সমাধান সম্ভব।