সরকার কী ক্ষমতায় থাকার জন্য আন্তর্জাতিক ইহুদী চক্রের চাপে আইএমএফ-এর ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ ঋণের বিপরীতে দেশে আনছে অভাব, দুর্ভিক্ষ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি তথা ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণতি। জনগণ সচেতন হবে কবে?

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

প্রায় ১৪ মাস ধরে চেষ্টা-তদবির করে আইএমএফের কাছ থেকে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ পেতে সক্ষম হলো সরকার। তবে তারা দুই ডজনেরও বেশি কঠিন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে ঋণের বিনিময়ে।

আইএমএফের প্রধান শর্তগুলো হলোÑ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তেলের দাম বাড়াতে হবে। আগামী জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক একটি নিরীক্ষা ফার্ম দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম চালাতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে কর অবকাশ সুবিধা এবং এ খাত থেকে আয় করতে হবে জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ ভাগ পরিমাণ অর্থ। ব্যাংকগুলোকে তার রেগুলেটরি ক্যাপিটালের সর্বোচ্চ ২৫ ভাগ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। জুনের মধ্যে সংসদে অনুমোদন করতে হবে ভ্যাট আইন। একই সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে ভর্তুকি। হস্তক্ষেপ করা চলবে না সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের উপর। করতে হবে বাণিজ্য উদারীকরণ।

বলার অপেক্ষা রাখেনা, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ার অর্থই হলো মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দেয়া। এতে জনদুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে। আইএমএফ তিন বছরে যে পরিমাণ ঋণ অবমুক্তি করবে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীরা এক মাসে তার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু এ সামান্য ঋণ পেতে যেসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তা দেশের অর্থনীতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। সব ধরনের জ্বালানির দাম বেড়ে যাবে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ার অর্থ হলো সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। পণ্যের দাম বাড়লে রফতানিমুখী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মূল্যের প্রতিযোগিতা হারাবে। এতে কমে যাবে রফতানি আয়। অপর দিকে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে দেশীয় বাজারেও বিদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার পথ সুগম হবে। এর ফলে দেশীয় শিল্পকারখানার চাকা অচল হয়ে পড়বে। এতে এক দিকে কর্মক্ষম শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবে, পাশাপাশি কাঙ্খিত হারে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না। দ্বিতীয়ত, আইএমএফ শর্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের চলমান অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সূত্রতা হবে। আইএমএফের এ ঋণ মূলত দেশের অর্থনীতির জন্য গলার ফাঁস। বাংলাদেশকে দেয়া আইএমএফের উল্লেখযোগ্য শর্তের মধ্যে রয়েছেÑ আগামী জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক একটি নিরীক্ষা ফার্ম (অডিট ফার্ম) দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম চালাতে হবে। আইএমএফের এ শর্ত বাস্তবায়ন করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা খর্ব হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে চাহিদা মেটাতে আইএমএফের এ ঋণ কিছুটা সহায়ক হবে। তবে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার পেতে সরকার মরিয়া হলেও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুত রেয়াতি সুদের যে ১৪-১৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে, তা ছাড় করাতে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নের উত্তর সরকার দিচ্ছে না।

এছাড়া সত্যিই কী আইএমএফ এর ঋণ বাংলাদেশের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল? বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সে প্রশ্নকে তীর্যক বিদ্ধ করে এবং জোরদার করে।

গত ১৬ই মার্চ তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত জানায়, রেলখাতে ২৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। আরো পাইপলাইনে আছে। দৈনিক ইন্ডেপিনডেন্ট আয়োজিত এক গোলটেবিলে সে একথা বলে। সঙ্গতকারণে আমাদের প্রশ্ন এ বিনিয়োগের পরিবর্তে আইএমএফ এর ঋণ খাত ব্যবস্থাপনা করা হল না কেন?

কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, æঅপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।” সে অপব্যয় করে সরকার আইএমএফ-এর ঋণ নেয়ার জন্য কাকের মত মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন?

উল্লেখ্য, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে অতীত রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশে বিনা টেন্ডারে ৪৯টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে সরকার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮ কেন্দ্র তাদের উৎপাদন শুরু করলেও দেশের চাহিদার তুলনায় তা মোটেও ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। কিন্তু এই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতেই বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারকে এসব কেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে বিধায় কয়েক দফায় বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপি আমলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো মেরামত করলে এত টাকা ভর্তুকি দিতে হতনা। আমাদের প্রশ্ন সে রাস্তায় না গিয়ে সরকার মনগড়া পথে চলে বিশ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে আর আইএমএফ-এর কঠিন শর্তে ঋণ নিয়ে সরকার দেশবাসীকে দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিচ্ছে কেন? এটা কী বরদাশত করা যায়?

অপরদিকে মাত্র কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ খরচ করেছে পাঁচশত কোটি টাকা। সদ্য বিপিএল-এ খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পেপার-পত্রিকা খুললে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয়ের খবর দৃষ্টিগোচর হয়। উদাহরণত এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা গেল:

æবিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রকল্পের শত কোটি টাকা পানিতে”

খবরে জানা যায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার গত বছর বেশ ঘটা করে দেশের ৩৮টি জেলায় যে এক কোটি পাঁচ লাখ এনার্জি সেভিং বাল্ব বিনা মূল্যে বিতরণ করেছিল, এর ৮০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে বাতি জ্বালানোর এক সপ্তাহের মধ্যে। পানিতে গেছে ১০৩ কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই।

টিএসপি সার: অযাচিত সিদ্ধান্তে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা গচ্চা”

মোবাইল অপারেটরদের ফ্রি তরঙ্গ: ৫ হাজার কোটি টাকা গচ্চা”

একটি কম্পিউটারও নয়, অথচ ৪৫ কোটি টাকা গচ্চা”

সরকারের গচ্চা ২৫০ কোটি টাকা : অনুমোদনের আগেই নতুন পাঠ্যবইয়ের পজিটিভ প্রকাশকদের কাছে পাচার”

উপজেলা চেয়ারম্যানদের গাড়ি ক্রয়

সরকারের গচ্চা ৩০ কোটি টাকা”

তিন হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে আরো ৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র”

ভারত থেকে পাঠ্যবই ছাপিয়ে দেশের ক্ষতি ২৫ কোটি টাকা”

৯৫ ভাগ বেশি দামে ভারত থেকে রেলের ইঞ্জিন কিনছে সরকার”

আইলা এলাকার উন্নয়ন : শত কোটি টাকা গেল কোথায়?”

বিমানে ৩ বছরে ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা লোপাট আর লোকসান”

এলজিইডিতে বছরে ৬৫০ কোটি টাকা লোপাট”

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ভৈরব সেতু নির্মাণে সরকারের গচ্চা ৬ কোটি টাকা”

যমুনা সেতুর ফাটল মেরামতে ২৫১ কোটি টাকা গচ্চা”

স্মারক নোটে বানান ভুল : গচ্চা গেলো রাষ্ট্রের অর্থ।”

উল্লেখ্য, রাঁধুনির জন্য একটি ভাত টিপলেই যেমন যথেষ্ট তেমনি উপরোক্ত সংবাদ শিরোনামগুলোই প্রমাণ করে যে, সরকারের হেলাফেলায় কত হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যায়।

প্রশ্ন এখানেই যে, সরকার একদিকে লক্ষ কোটি টাকা গচ্চা দেয় অপরদিকে আইএমএফ-এর আট হাজার কোটি টাকা ঋণের জন্য ওদের পা ধরে থাকে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, সরকার আন্তর্জাতিক ইহুদী লবিং এর চাপে আইএমএফ-এর ঋণ নিচ্ছে। এর নেপথ্য কারণ হলো বাংলাদেশের মুসলমানদের জীবনযাত্রা খুব কঠিন করে দেয়া দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত করা দেশে অভাব আনা। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র ঘোষণা করা।

মূলত সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য আইএমএফ-এর এ শর্ত পূরণ করছে। কিন্তু জনগণের উচিত হবে সচেতন হওয়া, প্রতিবাদী হওয়া, আইএমএফ-কে প্রত্যাখ্যান করা।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ তা’রিফুল্লাহ

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য