সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সর্বোত্তম হিফাযতকারী, হাযির-নাযির, মুত্ত্বালা আলাল গইব এবং হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

فَاللهُ خَيْـرٌ حٰفِظًا وَّهُوَ اَرْحَمُ الرّٰحِـمِـيْـنَ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনি হচ্ছেন আরহামুর রহিমীন অর্থাৎ সবচেয়ে বড় দয়ালু।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইঊসুফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে ইরশাদ মুবারক করেন,

فَـرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْـرٌ حٰفِظًا وَّهُوَ رَحْـمَةٌ لِّـلْعٰلَمِـيْـنَ

‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনি হচ্ছেন রহমাতুল্লিল আলামীন অর্থাৎ সমস্ত আলমের জন্য রহমত মুবারক স্বরূপ।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جُرَىٍّ جَابِرِ بْنِ سُلَـيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَتَـيْتُ الْمَدِيْـنَةَ فَـرَاَيْتُ رَجُلًا يَصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَأْيِهٖ لَا يَـقُوْلُ شَيْـئًا اِلَّا صَدَرُوْا عَنْهُ قُـلْتُ مَنْ هٰذَا قَالُوْا هٰذَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قُـلْتُ عَلَـيْكَ السَّلَامُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتَــيْـنِ قَالَ لَا تَـقُلْ عَلَـيْكَ السَّلَامُ فَاِنَّ عَلَـيْكَ السَّلَامُ تَـحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلْ اَلسَّلَامُ عَلَـيْكَ قُـلْتُ اَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اَلَّذِىْ اِذَا اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهٗ كَشَفَهٗ عَنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهٗ اَنْۢـبَـتَـهَا لَكَ وَاِذَا كُنْتَ بِاَرْضٍ قَـفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَـتُكَ فَدَعَوْتَهٗ رَدَّهَا عَلَـيْكَ

অর্থ: “হযরত আবূ জুরাই জাবির ইবনে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ আসলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক, ওয়ায-নছীহত মুবারক অনুযায়ী মানুষ চলে থাকেন। তিনি যাই বলেন, যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ-নির্দেশ মুবারক করেন সকলে হুবহু সেটাই আমল করেন। সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, তিনি কোন্ মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক? উনারা বললেন, তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আমি (উনাকে উদ্দেশ্য করে) দুই বার বললাম- ‘আলাইকাস সালাম ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আপনি আলাইকাস সালাম বলবেন না, আলাইকাস সালাম মৃত ব্যক্তিদের সম্বোধন। আপনি বলুন, আস সালামু আলাইকা।’ আমি (আস সালামু আলাইকা বললাম। তারপর) বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (হঁ্যা; অবশ্যই।) আমি ঐ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তুমি কোনো বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হও তখন তুমি আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তোমার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দূর্দশা দূর করে দিবো। যখন তোমার জমিতে ফসল হয় না, দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তোমার জমিতে ফসল ফলিয়ে দিবো, দূর্ভিক্ষ দূর করে দিবো। যখন তুমি কোনো জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে থাকো আর তোমার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন তুমি আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তোমার বাহন ফিরিয়ে দিবো, বাহনের ব্যবস্থা করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আল কুনা’ ওয়াল আসমা’ ১/৫৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/২৩৬, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ৪/১৩৪৪, জামী‘উল উছূল ১১/৭৪৬ ইত্যাদি)

এ সম্পর্কে বাস্তবে অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। যেমন- একখানা মশহূর ঘটনা মুবারক-

فِـىْ عَامٍ 1953 م وَفِـىْ مَدِيْـنَةِ صَيْدًا جُنُـوْبِ لِـبْـنَانَ كَالْعَادَةِ فِـىْ يَـوْمِ مِيْلَادِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْتَفِلُ الْمُسْلِمُوْنَ وَمِنْ شَعَائِرِ الْاِحْتِفَالَاتِ فِـىْ لِـبْـنَانَ اِطْلَاقُ النَّارِ فِـى الْـهَوَاءِ وَهِىَ عَادَةٌ مُـتَـعَارَفَةٌ وَقَدِيْـمَةٌ فِـىْ ذٰلِكَ الْوَقْتِ سَقَطَتْ رُصَاصَةٌ طَائِشَةٌ عَلـٰى رَأْسِ فَـتَاةٍ نَّصْرَانِـيَّةٍ مِنْ عَائِلَةِ غِطَاسٍ وَهِىَ عَائِلَةٌ مَّعْرُوْفَةٌ فِـىْ تِلْكَ الْمَدِيْـنَةِ سَارَعَ اَهَالِـى الْمِنْطَـقَةِ بِاَخْذِ الْفَتَاةِ اِلـٰى مَشْفَى الدُّكْـتُـوْرِ غَسَّانَ حَـمُّوْدٍ وَلٰكِنَّ الْاَطِـبَّاءَ عَجَزُوْا عَنْ شِفَاءِ هٰذِهِ الْفَتَاةِ وَقَالُوْا لِاَهْلِهَا اُنْـقُلُوْهَا فَـوْرًا اِلـٰى مُسْتَشْفَى الْـجَامِعَةِ الْاَمْرِيْكِـيَّةِ بِـبَـيْـرُوْتَ نَظْـرًا لِـخُطُوْرَةِ حَالَتِهَا وَعَلَى الْفَوْرِ تَـمَّ نَـقْلُ الْفَتَاةِ اِلـٰى مُسْتَشْفَى الْـجَامِعَةِ الْاَمْرِيْكِـيَّةِ بِـبَـيْـرُوْتَ وَاجْتَمَعَ اَشْهَرُ اَطِـبَّاءِ لِـبْـنَانَ مَعَ طَاقِمٍ طِـبِّـىٍّ اَمْرِيْكِـىٍّ لِمُعَالَـجَةِ الْفَتَاةِ وَلٰكِنَّ الثَّـقْبَ فِـى الرَّأْسِ كَانَ اَقْـوٰى مِنْـهُمْ وَالنَّزِيْفُ بَدَاَ بِالتَّـزَايَدِ حَـتّٰـى عَجَزَ الْاَطِـبَّاءُ وَاَصَابَتْ خَيْـبَةُ الْاَمَلِ الْاُسْرَةَ فَـهَرِعَتِ الْاُمُّ بِالنِّدَاءِ وَهِىَ نَصْرَانِـيَّةٌ اَيْنَ اَنْتَ يَا سَيِّدَنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَيْنَ اَنْتَ يَا مَنْ يُّسَمُّوْكَ رَسُوْلَ الْمُسْلِمِـيْـنَ تَـعَالَ وَشَاهِدْ مَاذَا فَـعَلَتْ اُمَّتُكَ بِـاِبْـنَـتِـىْ وَهِىَ تَـنْـهَمِرُ دُمُوْعُهَا دُوْنَ تَـوَقُّفٍ وَتَـقُوْلُ لَقَدْ قَـتَـلُوا الْمُسْلِمُوْنَ اِبْـنَـتِـىْ لِـيَحْتَفِلُوْا بِوِلَادَتِكَ وَفِـىْ نَـفْسِ اللَّحْظَةِ كَانَ الْاَطِـبَّاءُ دَاخِلَ الْغُرْفَةِ مَعَ الْفَتَاةِ يُـرَشِّحُوْنَ اَحَدَ الْاَطِـبَّاءِ يَـخْرُجُ اِلَـى الْاُمِّ وَيَـقُوْلُ لَـهَا اُدْخُلِـىْ وَوَدَّعِىْ اِبْـنَـتَكِ بِاٰخِرِ نَظْرَةٍ فَاِبْـنَـتُكِ مُفَارِقَةٌ لِلْحَيَاةِ لَا مَـحَالَةَ بَدَاَتِ الرَّعْشَةُ فِـىْ جَسَدِ الْاُمِّ اَلْاَقْدَامُ مَا عَادَتْ تَـتَحَمَّلُ الْـجَسَدَ تَـتَـقَدَّمُ بِـبَطِيْءٍ شَدِيْدٍ فَالْاَمْرُ شَدِيْدٌ عَلَى الْاُمِّ وَاللَّحْظَاتُ الْاَخِيْـرَةُ فَـتَحَتِ الْاُمُّ بَابَ الْغُرْفَةِ وَكَانَتِ الْمُفَاجَاَةَ اَلْبِنْتُ تَصْرَخُ وَهِىَ جَالِسَةٌ عَلـٰى سَرِيْرِهَا فِـى الْغُرْفَةِ اَغْلِقِى الْـبَابَ يَا اُمِّىْ اَسْرِعِىْ يَا اُمِّىْ لَا تَدْعِيْهِ يَـخْرُجُ يَا اُمِّىْ اَسْرِعِىْ اَمْسِكِـيْهِ لَا تَدْعِيْهِ يَـخْرُجُ اَلْاُمُّ تَقِفُ عَنِ الْكَلَامِ مَصْدُوْمَةً مِّنَ الْمَوْقِفِ فَمَا هٰذَا مَنِ الْمَقْصُوْدُ كَـيْفَ صَحَّتِ الْبِنْتُ مِنْ غَيْـبُـوْبَـتِهَا وَنَطَـقَتْ اَسْئِلَةٌ كَـثِـيْـرَةٌ دَارَتْ فِـىْ مُـخَيِّلَةِ الْاُمِّ فِـىْ ثَـوَانِـىْ وَلَـحْظَاتٍ قَلِـيْـلَةٍ قَالَتِ الْاُمُّ يَا بِنْـتِـىْ مَنْ بُدِىَ اَمْسِكُ عَنْ مَّنْ بِتَحْكِىْ يَا اِبْـنَـتِـىْ وَكَانَ الْـجَوَابُ الَّذِىْ صَدَمَ الْاُمَّ وَجَـمِيْعَ الْمَوْجُوْدِيْنَ اِنَّهٗ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا اُمِّىْ دَخَلَ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلـٰى غُرْفَـتِـىْ وَوَضَعَ يَدَهٗ عَلٰى رَأْسِىْ فَذَهَبَ الْـجُرْحُ وَذَهَبَ الدَّمُ وَعِنْدَمَا فَـتَحْتِ الْـبَابَ خَرَجَ يَا اُمِّىْ فَـنَطَـقَتِ الْاُمُّ اَلشَّهَادَةَ وَنَطَـقَهَا جَـمِيْعُ الْمَوْجُوْدِيْنَ فِـىْ لَـحْظَـتِهَا وَاَسْلَمَتْ عَائِلَةُ غِطَاسٍ فِـىْ صَيْدًا بِاَجْـمَعِهَا وَاَسْلَمَ طَاقِمٌ كَامِلٌ مِّنَ الْاَطِـبَّاءِ الْاَمْرِيْكَانِ. وَمُعْظَمُ اَهْلِ لِـبْـنَانَ يَـعْلَمُوْنَ بِـهٰذِهِ الْـحَادِثَةِ

অর্থ: “১৯৫৩ সালে দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরে সম্মানিত মুসলমান উনারা (প্রতি বছরের ন্যায় উনাদের) আদত বা অভ্যাস অনুযায়ী ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করছিলেন। এই সম্মানিত মাহফিল মুবারক উপলক্ষে লেবাননের ঐতিহ্য ছিলো- উপরের দিকে গোলাবর্ষণ করা। আর (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি মুবারক প্রকাশ করে উপরের দিকে গোলাবর্ষণ করা) এটা ছিলো ঐ সময়ের সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহ্য। (হঠাৎ) উদ্দেশ্যহীন একটি গুলি খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত পরিবারের একজন খ্রীষ্টান মেয়ের মাথায় পড়ে বা লাগে। আর ঐ পরিবারটা ছিলো সেই শহরের মধ্যে সুপরিচিত। তখন এলাকাবাসী মেয়েটিকে দ্রুত ‘ডাক্তার গাস্সান হাম্মূদ হাসপাতালে’ নিয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তাররা মেয়েটির অবস্থার ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসার ব্যাপারে অপারগ হয়ে তার পরিবারকে বললো- ‘তোমরা অবিলম্বে তাকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করো।’ তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলো। মেয়েটির চিকিৎসার জন্য আমেরিকান চিকিৎসা সংক্রান্ত স্টাফের সাথে লেবাননের প্রসিদ্ধ চিকিৎসকরা একত্রিত হলো। কিন্তু মাথার জখম ছিলো তাদের ধারণার থেকেও অধিকতর গুরুতর। (মাথায় গুলি লাগার কারণে, মেয়েটির মাথার মগজ এলোমেলো হয়ে গেছে। ফলে) রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই রক্তক্ষরণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। (কোনো ক্রমেই তা কমানো সম্ভব হচ্ছিলো না।) শেষ পর্যন্ত সমস্ত চিকিৎসকরা অপারগ হয়ে যায়। (তারা বলে যে, মেয়েটি নিশ্চিত মারা যাবে। কারণ তার মাথার জখম কখনও সারানো সম্ভব নয় এবং তার রক্তক্ষরণও বন্ধ করা সম্ভব নয়।) পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনরাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। মেয়েটির মা ছিলো খ্রীষ্টান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করে সে কেঁদে কেঁদে বলছিলো- ‘আপনি কোথায়? আপনাকে সম্মানিত মুসলমান উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে অভিহিত করা হয়- আপনি কোথায়? (দয়া করে) আসুন এবং প্রত্যক্ষ করুন, দেখুন- আপনার সম্মানিত উম্মত উনারা আমার মেয়ের সাথে কি আচরণ করেছেন।’ আর তার অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তার দুচোখ বেয়ে অবিরতধারায় অশ্রম্ন গড়িয়ে পড়ছিলো এবং সে বলছিলো- ‘আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক উনার সম্মানার্থে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করার জন্য অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করার জন্য সম্মানিত মুসলমান উনারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছেন।’ (না‘ঊযুবিল্লাহ!) একই মুহূর্তে চিকিৎসকরা কক্ষের ভিতরে মেয়েটির চিকিৎসা করছিলো। তাদের সকলের পরামর্শক্রমে একজন চিকিৎসক বাইরে গিয়ে মেয়েটির মাকে বললো- ‘তুমি প্রবেশ করে তোমার মেয়েকে শেষ দেখা দেখে বিদায় জানাও। কোনো উপায় নেই; তোমার মেয়ে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে।’ (এটা শুনে) মায়ের শরীরে কাঁপুনি শুরু হলো। তার পা শরীরের ভার বহন করে (মেয়ের কাছে) ফিরে যেতে সক্ষম হচ্ছিলো না। সে অত্যন্ত ধীর গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলো। একজন মায়ের জন্য মেয়ের শেষ মুহূর্তের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। (মেয়েটির) মা কক্ষের দরজা খুলে বিস্মিত হলো (এ জন্য যে,) মেয়েটি কক্ষে তার খাটের উপর বসে চিৎকার করে বলছে- ‘মা! দরজা বন্ধ করুন। মা! দ্রুত আসুন। তিনি চলে যাচ্ছেন, উনাকে যেতে দিয়েন না। মা! তাড়াতাড়ি করুন। উনাকে ধরে রাখুন। তিনি চলে যাচ্ছেন, উনাকে যেতে দিয়েন না।’ পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে মা কথা বলা বন্ধ করে দিলো। (আর মনে মনে বলতে লাগলো-) এটা কি? কাকে উদ্দেশ্য করা হচ্ছে? মৃত্যুশয্যা থেকে সে কিভাবে সুস্থ হলো? আর সে কথাও বলছে? কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, সামান্য মুহূর্তের মধ্যে মায়ের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। মা বললো- ‘আমার মেয়ে! কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন? আমি কাকে ধরে রাখবো? হে আমার মেয়ে! তুমি কার কথা বলছো?’ মেয়েটির জবাব এমন ছিলো, যা তার মা এবং উপস্থিত সবাইকে প্রভাবিত করে। (মেয়েটি বললো-) ‘মা! নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার কক্ষে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিয়ে আমার মাথায় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) রাখলেন বা বুলিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ (আমার) ক্ষত সেরে গেলো এবং রক্ত বন্ধ হয়ে গেলো। মা! যখনই আপনি দরজা খুললেন, তখনই তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।’ (তখন মেয়েটির মা ও ডাক্তারসহ সকলে মিলে দেখলো যে, মেয়েটির মাথায় ক্ষতের কোনো চিহ্নই নেই এবং রক্তক্ষরণেরও কোনো চিহ্ন নেই। সুবহানাল্লাহ!) সাথে সাথেই মেয়েটির মা এবং ঐ সময় সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে মুসলমান হয়ে যান। আর সিডন শহরের খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত সমস্ত পরিবার এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ডাক্তারদের সমস্ত স্টাফ সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!

লেবাননের অধিকাংশ মানুষ এই ওয়াক্বেয়া সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

এরূপ আরো অসংখ্য ঘটনা মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং এই সমস্ত বর্ণনা দ্বারা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং হাযির-নাযির, মুত্ত্বালা’ আলাল গইব, হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ! কোনো উম্মত যদি জনমানবহীন শূন্য স্থানে, খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে, নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে যেখানেই থাকে আর সে কোনো বিপদ-আপদে পড়ে, বালা-মুছীবতে পড়ে খালিছভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ডাকে, তাহলে তিনি সাথে সাথে তার সমস্ত বিপদ-আপদ, বালা-মুছীবত দূর করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন, সেটা সমস্ত সৃষ্টির চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সব। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

এটাই হচ্ছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যারা এর ব্যতিক্রম আক্বীদাহ্ পোষণ করে, তারা বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। না‘ঊযুবিল্লাহ!

খ্বালিক্ব মালিক বর মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাতবাসীসহ আমাদের সবাইকে আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, মুত্ত্বলা আলাল গয়িব, হায়াতুন্নবী, রঊফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ