সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারকে মায়ের জন্য দুআ প্রাথর্না

সংখ্যা: ২৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী এবং খাদিম, জগৎ বিখ্যাত পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মায়ের যথাযথ হক্ব আদায় করতেন।

এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহাসম্মানিত ঈমান এনেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র দরবার শরীফে আসা-যাওয়া করেন, কিন্তু উনার মাতা তখনও ঈমান আনেননি। তিনি বার-বার উনার মাকে বুঝাতেন যে, আপনি কুফরী-শিরকী ছেড়ে দিয়ে ঈমানদার হয়ে যান, মুসলমান হয়ে যান। অনেক বুঝাতেন। একদিন উনার মা গোস্বা করে উনাকে এমন কিছু কথা বললেন, যে কথাগুলো স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে বলা হলো। কথাগুলি এমন শক্ত ছিল যা উনার পক্ষে বরদাশ্ত করা সম্ভব হলো না। তিনি কাঁদতে কাঁদতে চলে আসলেন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র দরবার শরীফে। এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজকে আমার মা এমন কিছু কথা বলেছেন, যেটা আমার পক্ষে বরদাশ্ত করা সম্ভব হয়নি। যার জন্য আমি কাঁদতে কাঁদতে এসেছি। আপনি দয়া করে ইহসান মুবারক করে আমার মায়ের জন্য দুআ মুবারক করুন, যাতে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি উনাকে ঈমান দিয়ে দেন।

মহান আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাত (হাত মুবারক) তুলে দোয়া মুবারক করলেন, আয় আল্লাহ্ পাক! হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতাকে ঈমান দিয়ে দিন।

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খুশীতে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলেন, যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুআ মুবারক করেছেন, তাই উনার মাতাকে অবশ্যই ঈমানদার হতেই হবে। তিনি বাড়ীতে এসে দরজা বন্ধ দেখলেন। তিনি বললেন, ভিতরে পানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। মনে হচ্ছে, উনার মাতা গোসল করতেছেন। ভেতর থেকে উনি বললেন, আবু হুরায়রা! আপনি অপেক্ষা করুন। উনি গোসল করে সামনে আসলেন, এসে বললেন যে, হে আবু হুরায়রা! আপনাকে অনেক শক্ত কথা আমি বলেছি, আপনি স্বাক্ষী থাকুন, আমি এখন মুসলমান হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ্!

উনি মহাপবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করলেন, মুসলমান হয়ে গেলেন। এটা দেখে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খুশীতে কাঁদতে কাঁদতে আবার মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র দরবার শরীফে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পুনরায় আপনার পবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারকে দুআ মুবারক প্রার্থনা করছি যে, আপনি দয়া ইহসান মুবারকে করে দুআ মুবারক করুন, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমার মাকে এবং আমাকে যেন সমস্ত মুসলমানদের কাছে প্রিয় করে দেন এবং সমস্ত মু’মিন মুসলমানদেরকে যেন আমার কাছে এবং আমার মাতার কাছে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি প্রিয় করে দেন।

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া দান ইহসান মুবারক করে দুআ মুবারক করলেন যে, আয় বারে ইলাহী! আপনি হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং উনার মাতাকে সমস্ত মুসলমানদের জন্য প্রিয় করে দিন এবং হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে এবং উনার মাতার কাছে সমস্ত মুসলমান ও মু’মিনদেরকে প্রিয় করে দিন। মহাপবিত্র দুআ মুবারক শুনে আমি চলে আসলাম।

মূলতঃ মাতার যে হক্ব ছিল তিনি তা পুরোপুরি আদায় করেছেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, পরবতীর্তে তিনি এবং উনার মাতা দু’ঘর মুবারকে অবস্থান করতেন এবং তিনি যখনই ঘর মুবারক থেকে বের হতেন তখনই উনার মায়ের কাছে গিয়ে সালাম দিতেন। সালাম দিয়ে বলতেন যে, আয় আল্লাহ্ পাক! আমার মাতা যিনি আমাকে ছোট বেলায় লালন-পালন করেছেন, আমার জন্য তাকলীফ বা কষ্ট স্বীকার করেছেন, আমার প্রতি ইহ্সান করেছেন, আপনি আমার মাতার প্রতি ইহ্সান করুন। ঠিক উনার মাতাও তদ্রুপ বলতেন যে, আয় আল্লাহ্ পাক! আমার এ সন্তান আমার প্রতি এই সময় ইহ্সান করেছে, আপনি উনার বদলা উনাকে দান করুন।  উল্লেখ্য, তিনি যতবার বের হতেন এবং আসতেন ততবার তদ্রুপ করতেন বা বলতেন। মাতার হক্ব যা রয়েছে সেটা প্রত্যেক সন্তানের জন্য অবশ্যই কর্তব্য রয়েছে যথাযথ আদায় করা। পিতা-মাতার হক্ব যে যতটুকু আদায় করবে  সে ঠিক ততটুকু জাযা-খায়ের এবং বদলা পাবে।

মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম মায়ের মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মায়ের পায়ের তলে সন্তানের বেহেশত।’ (ইবনে মাজাহ শরীফ, নাসায়ী শরীফ)।

এ মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে স্পষ্টত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সন্তানের জান্নাত প্রাপ্তিতে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।

প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনাদের হাবীব ও মাহবুব, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক আদেশ-নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী নিজ নিজ পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করা, উনাদের খিদমত করা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

-তাসনীম আহমদ খান

পারিবারিক তা’লীম

ঈমানদীপ্ত সম্মানিত মহিলা : হযরত উম্মু উমারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ই’জায শরীফ

কন্যা সন্তানের গুরত্ব ও ফযীলত

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীনআলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ই’জায শরীফ