সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম রহমতুল্লিল আলামীন, রঊফুর রহীম, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রথম দুধমাতা আলাইহাস সালাম

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর যিনি সর্বপ্রথম নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র দুধ মুবারক পান করানোর সৌভাগ্য লাভ করেছেন, তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত ছুয়াইবিয়া আলাইহাস সালাম। উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম’ বলে সম্বোধন করাই আদব।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে প্রচলিত কিতাবাদীতে উল্লেখ্যযোগ্য তেমন আলোচনা পাওয়া যায়না। তবে যতটুকু পাওয়া যায়, তা উনার সম্পর্কে জানা এবং উনার মুবারক শান উপলব্ধির জন্য যথেষ্ট।

এ কথা দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দুধ মুবারক পান করানোর সৌভাগ্য লাভকারিণীগণ কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ দুধমাতা। বাতিনীভাবে উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত, জাহিরীভাবেও উনারা সার্বিকভাবেই অভিজাত। এ ক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিও ব্যতিক্রম নন। ইতিহাসে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে হলফ করে বলতে পারি, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নসবগতভাবে কখনোই বাদী ছিলেন না। অভিজাত এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারেই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তবে আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সেই কঠিন সময়ে কিছু লোক বিভিন্ন কাফেলাতে হামলা করে কাফেলার শিশুদেরকে ধরে নিয়ে বিভিন্ন বাজার বা মেলাতে গোলাম-বাদী হিসেবে বিক্রয় করে দিতো। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আরবের অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিশুরাই এ জুলুমের শিকার হতো। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকেও অন্যায়ভাবে বাদী হিসেবে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে অবস্থায় উনাকে বেশি দিন অতিবাহিত করতে হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা হযরত ইয়াকুব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘তারিখু ইয়াকুবী’ গ্রন্থের ১ম খ-, ৩৬২ পৃষ্ঠায় লিখেন-

قَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ اَبَا لَـهَبٍ فِـى النَّارِ يَصِيْحُ الْعَطَشَ الْعَطَشَ فَـيُسْقٰى مِنَ الْـمَاءِ فِـىْ نَـقْرِ اِبـْهَامِهٖ فَـقُلْتُ بِـمَ هٰذَا فَـقَالَ بِعِتْقِىْ ثُـوَيْـبَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ لِاَنَّـهَا اَرْضَعَتْكَ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আবু লাহাবকে দেখেছি জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত অবস্থায় চিৎকার করে বলছে, পানি দাও! পানি দাও!! পিপাসা! পিপাসা!! অতঃপর তার বৃদ্ধাঙ্গুলীর গিরা দিয়ে পানি পান করানো হচ্ছে। আমি বললাম, কি কারণে এ পানি পাচ্ছো? আবু লাহাব বললো, আপনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে আজাদ ঘোষণা করার কারণে এই ফায়দা পাচ্ছি। কেননা তিনি আপনাকে দুধ মুবারক পান করিয়েছেন।”

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে,

كَانَتْ حَضْرَتْ ثُـوَيْـبَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ تَدْخُلُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَمَا تَـزَوَّجَ حَضْرَتْ خَدِيْـجَةَ عَلَيْها السَّلَامُ فَـيُكْرِمُهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَكْرِمُهَا حَضْرَتْ خَدِيْـجَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নিসবাতে আযীমাহ শরীফ সম্পন্ন হওয়ার পরও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারকে আসতেন। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যধিক সম্মান মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ। (আল ওয়াফা বিআহওয়ালে মুস্তফা)

অর্থাৎ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফেই অবস্থান মুবারক করতেন। তিনি প্রায়ই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখতেন এবং উনার সার্বিক বিষয়ে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা আনজাম দিতেন।

‘মাদারেজুন নুবুওওয়াত’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুধ মাতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার জন্য পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে খাদ্য, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য সামগ্রী পবিত্র মক্কা শরীফ-এ হাদিয়া স্বরুপ পাঠাতেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক নিয়ে কিতাবে বিভিন্ন মত উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি খায়বার জিহাদের পর এবং পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কেননা, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় প্রথম দুধ মাতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম এবং দুধভাই হযরত মাসরূহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের খোঁজ করছিলেন। তখন উনাকে বলা হলো, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। এমনকি উনার নিকট আত্মীয়-স্বজন কেউ যমীনে অবশিষ্ট নেই।

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছহিবে ছমাদ, ছহিবে সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, মামদূহ মুরশিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উসীলায় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে আরো বেশি বেশি জানার এবং উনার প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

-ইমাদুদ্দীন আহমদ

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক