সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন তিনি

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

খ্বালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْـثَاقَ النَّبِـيّٖنَ لَمَاۤ اٰتَـيْـتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُـمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ  لِّـمَا مَعَكُمْ لَـتُـؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَـتَـنْصُرُنَّهٗ قَالَ ءَاَقْـرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلـٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِىْ قَالُوْاۤ اَقْـرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِيْنَ. فَمَنْ تَـوَلّٰـى بَـعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓـئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ

অর্থ: “আর (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মহাবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন ঐ সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত কিতাব মুবারক এবং হিকমত মুবারক দেয়া হবে অর্থাৎ আপনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক দেয়া হবে। অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। আর তিনি আপনাদেরকে এবং আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করবেন। আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন, সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন এবং এই বিষয়ে আমার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ! এরপর যারা এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয় আলাদা। উনারা ব্যতিত সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি মুবারক করার পরই উনাদের থেকে সম্মানিত ওয়াদা মুবারক নিয়েছেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত-রিসালত মুবারক দেয়া হবে, তবে শর্ত হচ্ছে-

جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّـمَا مَعَكُمْ لَـتُـؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَـتَـنْصُرُنَّهٗ

(ক) আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। আর তিনি আপনাদেরকে এবং আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করবেন। (খ) আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং (গ) আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَـا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ لَـمْ يَــبْـعَثِ اللهُ نَبِـيًّا حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَمَنْ بَـعْدَهٗ اِلَّا اَخَذَ عَلَيْهِ الْعَهْدَ فِـىْ سَيِّدِنَا حَبِيْـبِنَا شَفِـيْعِنَا مَوْلـٰـنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَئِنْ بُعِثَ وَهُوَ حَىٌّ لَـيُـؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَـيَـنْصُرَنَّهٗ وَيَاْمُرُهٗ فَـيَاْخُذُ الْعَهْدَ عَلـٰى قَـوْمِهٖ ثُـمَّ تَلَا وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْـثَاقَ النَّبِيّٖـنَ الْاٰيَةَ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে উনার পরে (সাইয়্যিদুনা হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত) যত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন, উনাদের প্রত্যেকের থেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেছেন যে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিবেন, তখন যদি উনাদের কেউ দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে (সেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার জন্য ফরয হচ্ছেন) উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনতে হবে এবং উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন, উনারা যেন উনাদের উম্মত উনাদের থেকে অনুরূপ ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেন। তারপর প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের সম্প্রদায় তথা উম্মতদের থেকে এই ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি

وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْـثَاقَ النَّبِـيّٖنَ

‘আর (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন ঐ সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন……’

এই সম্পূর্ণ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল ক্বাদীর ১/৪০৯, তাফসীরে ত্ববারী শরীফ ৫/৫৪০)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَوْحَى اللهُ اِلـٰى حَضْرَتْ عِـيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـا حَضْرَتْ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ اٰمِنْ بِـسَيِّدِنَـا حَبِيْبِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلـٰنـَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاْمُرْ مَنْ اَدْرَكَهٗ مِنْ اُمَّتِكَ اَنْ يُّـؤْمِنُـوْا بِهٖ فَـلَوْلَا سَيِّدُنَا حَبِيْـبُـنَا شَفِيْـعُنَا مَوْلـٰنـَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا خَلَقْتُ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَوْلَا سَيِّدُنَا حَبِيْـبُـنَا شَفِيْـعُنَا مَوْلـٰنَـا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا خَلَقْتُ الْـجَنَّةَ وَلَا النَّارَ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর সম্মানিত ওহী মুবারক করেন, হে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনুন এবং আপনার উম্মতদেরকে আদেশ মুবারক করুন যে, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাবে, তারা যেন উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনে। সুবহানাল্লাহ! কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করতাম না। সুবহানাল্লাহ! আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টি করতাম না এবং জাহান্নামও সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম ২/৬৭১, আস সাইফুল মাসলূল ৪৮১, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ)

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আরো বলেন,

مَا بَـعَثَ اللهُ نَبِيًّا اِلَّا اَخَذَ عَلَيْهِ الْعَهْدَ لَـئِنْ بُعِثَ وَهُوَ حَىٌّ لَـيَــتْـبَـعَنَّهٗ وَاَخَذَ عَلَيْهِ اَنْ يَّاْخُذَ عَلـٰى اُمَّتِهٖ لَئِنْ بُعِثَ سَيِّدُنَا حَبِيْـبُـنَا شَفِيْـعُنَا مَوْلـٰـنَا مُـحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ اَحْيَاءٌ لَـيَـتْـبَـعُـنَّهٗ وَيَـنْصُرُنَّهٗ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেননি, যেই সম্মানিত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেননি যে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ  করা হবে, তখন যদি উনাদের কেউ দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ইত্তিবা করতে হবে অর্থাৎ অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনতে হবে এবং উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারকও গ্রহণ করেছেন যে, উনারা যেন উনাদের উম্মতদের থেকে অনুরূপ ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেন, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করা হবে, যদি উনাদের উম্মতরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পায়, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ইত্তিবা মুবারক করতে হবে এবং অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবত্রি খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হবে, উনার সম্মানিত গোলামী মুবারক করতে হবে’।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরু আদ্বওয়াউল বায়ান ৮/১১০)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَجَاءَ مِصْدَاقُ ذٰلِكَ فِـىْ قِصَّةِ النَّجَاشِىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لَمَّا سَـمِعَ مِنْ حَضْرَتْ جَعْفَرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ عَنْهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ اَشْهَدُ اَنَّهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَّهُ الَّذِىْ نَـجِدُ فِـى الْاِنْـجِيْلِ وَاَنَّهُ الَّذِىْ بَشَّرَ بِهٖ حَضْرَتْ عِيْسَى بْنُ مَرْيَـمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَمَا قَالَهٗ اَيْضًا وَاللهِ لَوْلَا مَا اَنَا فِيْهِ مِنَ الْمُلْكِ لَاَتَـيْـتُهٗ حَتّٰـى اَكُوْنَ اَنَا اَحْـمِلُ نَـعْلَيْهِ وَاُوَضِّئُهٗ

অর্থ: “এর প্রমাণ আবিসিনিয়ার বাদশা হযরত নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘটনা মুবারক-এ রয়েছেন। যখন তিনি হযরত জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে শুনলেন, তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! আর উনিই সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আমরা ইঞ্জীল শরীফ উনার মধ্যে পেয়েছি এবং উনার সম্পর্কেই হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো যা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যদি আমি রাজ্যের দায়িত্বে না থাকতাম, তাহলে অবশ্যই আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ যেতাম; এমনকি আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখ্র মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) বহন করতাম এবং উনাকে সম্মানিত ওযূ মুবারক করিয়ে দিতাম অর্থাৎ উনার সম্মানিত ওযূ মুবারক করার ব্যাপারে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতাম।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরু আদ্বওয়াইল বায়ান ৮/১১০)

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি মুবারক করার পরই উনাদের থেকে ওয়াদা মুবারক নিয়েছেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক দেয়া হবে,

ثُـمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ  لِّـمَا مَعَكُمْ

“অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল তথা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি আপনাদেরকে এবং আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছেন সমস্ত কিছুর অর্থাৎ আপনাদের সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক উনার বিষয়টি তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক দিচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি। আর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করবেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

স্বাভাবিকভাবে যিনি বড় তিনি তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করেন। যেমন- দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় মহিলাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ এবং ঈদগাহে যেয়ে জামা‘আতে নামায পড়তে নিষেধ করেন। তখন সমস্ত মহিলা উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট যেয়ে বিষয়টি বললেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বিষয়টি তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করলেন যে, হ্যাঁ; সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যা করেছেন, সঠিকই করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদের বর্তমান এই অবস্থা দেখলে তিনিও এরূপই হুকুম দিতেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহাস সালাম, আর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সন্তান। কেননা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সেজন্যই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহিলা জামা‘আত নিষিদ্ধ করেছেন, আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার উপরে তো কেউ নেই। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলতেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক দিবেন; আর সম্মানিত তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করবেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করলে, উনাদের সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক ঠিক থাকবে। আর তিনি যদি তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক না করেন, তাহলে উনাদের সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক থাকবে না। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে এখান থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের থেকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি প্রাধান্য মুবারক দিয়েছেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যার কোনো মেছাল নেই। সুবহানাল্লাহ!

যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতটুকু বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত তাকীদ ও গুরুত্বের সাথে ইরশাদ মুবারক করেন, لَـتُـؤْمِنُنَّ بِهٖ

(১) আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন। এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথমে ‘লামে তাকীদ’ তারপর ‘নূনে তাকীদ ছাক্বীলাহ্’ ব্যবহার করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ হচ্ছেন-

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ

 ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ যদি শুধু لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ বলে, তাহলেও সে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত

 مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ

না বলবে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক না আনা পর্যন্ত কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতেছেন যে, শুধু সম্মানিত ঈমান মুবারক আনলেই হবে না। ঈমান তো আনবেনই, وَلَتَـنْصُرُنَّهٗ

(২) এবং আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্রে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

اِنَّ اللهَ وَمَلٰٓئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِـىِّ یٰۤاَیُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! হে ঈমানদাররা! তোমরাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করো, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করো এবং অত্যন্ত আদবের সাথে উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবত্রি সালাম মুবারক পেশ করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

এখানে ঈমানদ্বার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই উদ্দেশ্য। কেননা, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করতেই থাকবেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করতেই থাকবেন, আপনাদের প্রতিও ফরয হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশক্রমে ও উনার অনুসরণে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দায়িমীভাবে ২৪ ঘণ্টাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করা, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনার সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা সমস্ত সৃষ্টি সবাইকে অর্থাৎ সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে শুধু শর্ত মুবারক দিয়েই শেষ করে দেননি, তারপর তিনি উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন যে,

ءَاَقْـرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلـٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِىْ

(১) (আমি আপনাদেরকে যা বললাম,) আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন?

(২) এবং এই বিষয়ে আমার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক কি গ্রহণ করলেন?  তখন সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বীকৃতিজ্ঞাপন করে সমস্বরে বললেন,

(৩) اَقْـرَرْنَا আমরা স্বীকার করে নিলাম।

তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আবার বললেন,

فَاشْهَدُوْا وَاَنَـا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِيْنَ

(৪) তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন

(৫) এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ!

এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি কতগুলো তাকীদ মুবারক দিলেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়গুলো কতটুকু গুরুত্ব মুবারক দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সর্বশেষ মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত কঠিনভাবে সতর্ক করে জানিয়ে দিলেন যে,

فَمَنْ تَـوَلّٰـى بَـعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓـئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ

“অতঃপর যে বা যারা এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ সম্মানিত ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবে না, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক করবে না, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত করবে না এবং উম্মতদেরকে এই বিষয়গুলো করার জন্য আদেশ করবে না,) তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” নাউজুবিল্লাহ!

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান না আনলে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক না করলে, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত না করলে এবং উম্মতদেরকে এই বিষয়ে আদেশ না করলে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত নুবুওওয়াত-রিসালত মুবারকও থাকবে না। নাউজুবিল্লাহ!

সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ سُبْحَانَهٗ تَـعَالـٰى قَالَ لِـحَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ يَا حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَـيْهِ السَّلَامُ اَنَّ مَنْ لَقِيَـنِـىْ وَهُوَ جَاحِدٌ بِـسَيِّدِنَا مَوْلَانَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَدْخَلْـتُهُ النَّارَ

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন, ‘হে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতাকারীরূপে মারা যাবে, অবশ্যই আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৮৫, আবূ না‘ঈম, মুসনাদে ‘আছিম ইত্যাদি)

তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এতো বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন, যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বুলন্দী শান মুবারক কায়িনাতের বুকে প্রকাশ করে যাচ্ছেন উনার একক ও অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন! আমীন! আমীন!

– মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক