সীমান্তে বাংলাদেশী দেখলেই গুলি- প্রতিশ্রুতি মানছে না বিএসএফ। সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা তিনগুণ বেড়েছে। জ্বলন্ত প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশিদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই? বিজিবির আত্মরক্ষার কি কোনো অধিকার নেই? বিজিবি কি দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সীমান্ত পাহারা দিবে?

সংখ্যা: ২৭৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

চলতি বছরের (২০২০) শুরুতেই সীমান্তে দুই বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। এসময় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। ফলে আবারও সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তে।

সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ‘লিথাল উইপন’ ব্যাবহার না করার ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রতিশ্রুতবদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। দুই দেশের সীমান্ত সম্মেলনেও এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। সীমান্তে বাংলাদেশীদের দেখামাত্র গুলি চালাচ্ছে বিএসএফ। বিএসএফ-এর হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা চলছেই।

সরকারি হিসাবে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যা বেড়েছে ১২ গুণ। আর বেসরকারি হিসাবে তিনগুণের বেশি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে ২০১৯ সালে সীমান্তে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

গত বছর ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন হয়। সেখানে হত্যা কমিয়ে আনা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং ভারতের বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল ওই সম্মেলনে অংশ নেয়। ঢাকায় ফিরে ২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, এই বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। বিএসএফ মহাপরিচালককে আমাকে আশ্বস্ত করেছে। তারা এ বিষয়ে আরও সতর্ক ও সজাগ থাকবে। যেন সীমান্তের এই অনাকাঙ্খিত হত্যাকা- এভয়েড করা যায়।

মূলতঃ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বহু দেন-দরবার, সালিশ-মীমাংসা ও প্রতিশ্রুতিতে কমছে না একতরফা হত্যা ও নির্যাতন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফে আমরা উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছি। গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। নতুন বছরের শুরুতেই আমরা দুঃখজনকভাবে সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলাম।

যে অপরাধেই হোক, সীমান্তে অবৈধ কাউকে দেখলেই গুলি করতে হবে কেন? বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেরই আইন অনুযায়ী, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করার কথা রয়েছে। উভয় দেশের সরকারি বাহিনীই যদি এটি মেনে চলে, তাহলে দেখামাত্রই গুলি করার কথা না। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না। এ ধরনের ঘটনা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেই আমরা মনে করি।

ভারতের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের হত্যার পরিবর্তে গ্রেফতার ও হস্তান্তরের ব্যাপারে সমঝোতা ও চুক্তি থাকলেও বিএসএফ সেসবের কিছুই মানছে না। বিএসএফ বরং দেখামাত্র গুলি করার নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। চাষাবাদ করার বা গরুকে ঘাস খাওয়ানোর মতো কোনো জরুরি প্রয়োজনে সীমান্তের কাছাকাছি নিজেদের জমিতে গেলেও বাংলাদেশীরা বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সেইসাথে কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীসহ কোনো একজনও বাংলাদেশী হত্যার বিচার ও শাস্তি হয়নি বলেই বিএসএফ ক্রমাগত আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পেরেছে। সেজন্যই কমার পরিবর্তে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকা- আরো বেড়েছে। বিএসএফ শুধু হত্যাই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের লাশও নিয়ে যাচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরে। বলা দরকার, মানুষ হত্যা করে এবং তার লাশ নিয়ে গিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিএসএফ। আগের মতো মানুষ তো অপহরণ করছেই, বিএসএফের সৈনিকেরা বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে গরুও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে।

শুধু তাই নয়, পাশাপাশি ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে চালকবিহীন ড্রোন বিমান ব্যবহার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড্রোন তথা আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল বা ইউএভি সীমান্ত এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করবে। আকাশ থেকে ছবি তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন দেখা দিলে ড্রোন বিমান থেকে বোমা ফেলা হবে। গুলিও বর্ষণ করবে ভারতীয়রা। এ ব্যাপারে বিএসফকে সহায়তা করবে ভারতের বিমান বাহিনী।

অন্যদিকে, সীমান্ত পার হয়ে যেসব ব্যবসা হয় তাতে পুরো লাভ হয় ভারতের। কিন্তু যখন কোন ক্ষতি হয় তখন শুধুই বাংলাদেশের হয়। ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে দেশের ছাগলনাইয়া-শ্রীনগর সীমান্তে প্রতি ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) হাট বসলেও বাংলাদেশীদের চেয়ে ভারতীয় দক্ষিণ ত্রিপুরার ব্যবসায়ীরা অধিক উপকৃত হচ্ছে। ভারত আমাদের দিয়ে ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে। মুনাফা করছে। কিন্তু এই মুনাফা অর্জন করার পর ভারতীয় জাওয়ানরা আবার এ দেশীয়দের গুলি করে হত্যা করছে। সেইসাথে, ভারত থেকে অজস্র চোরাকারবারি বাংলাদেশে মাদক আমদানি করছি। ভারতীয় কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী রয়েছে যারা বাংলাদেশে অবৈধভাবে নিম্নমানের গরু আমদানি করছে। কিন্তু বিএসএফ তাদের কিছু বলছেনা। তার কারণ হলো, ওইসব ব্যবসায়ীদের থেকে তারা নিয়মিত নগদ অর্থ পায় বলেই তাদের প্রতি কোনো গুলি চলেনা।

বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারতের বিএসএফ দীর্ঘকাল ধরে সীমান্তে নির্যাতন ও ত্রাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও এর কোনো প্রতিবাদ করেনি সরকার। এমনকি বিজিবিও এর কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। উল্টো বাংলাদেশের সীমান্তবাহিনী বিজিবি হাসিমুখে গিয়ে ফটোসেশন করে সেই অসহায় বাংলাদেশীদের লাশ ফেরত নিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশীদের জানের মনে হয় কোনো মূল্যই নেই। বুকে গুলি করে মারবে হানাদার বিএসএফ আর লাশ গ্রহণ করবে বিজিবি। এটা যেন একটা নিত্য আচারে পরিণত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যখন তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এবং সীমান্তআইন লঙ্ঘণ করে বাংলাদেশের বিজিবির উপর হামলা  করে তখন আত্মরক্ষার্থে বিজিবি এই গুলি চালিয়েছে এবং এটা বিজিবির রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও কর্তৃব্য।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিজিবি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করলেও ভারতীয় মিডিয়া এসব নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার সংশ্লিষ্টরা কোনো তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা। যা দেশের ২৫ কোটি দেশপ্রেমিক জনগণকে হতাশ করেছে।

মূলত, এর পিছনে কারণ হলো স্বদেশের প্রতি মুহব্বতের ঘাটতি। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “স্বদেশের প্রতি মুহব্বত পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ।” আজ যেহেতু আমাদের পবিত্র ঈমানী চেতনাই বিপর্যস্ত, সেহেতু স্বদেশের প্রতি মুহব্বতও বিলীনপ্রায়। তাই সীমান্ত সন্ধিক্ষণের এ সন্ধিক্ষণে আমাদের দরকার ঈমানদীপ্ত চেতনা। অমিত তেজা রূহানী জজবা। আর তার জন্য প্রয়োজন খাছ ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ মুবারক।

-আল্লামা মুহম্মদ আরীফুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)