সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আবূ শাহেদ

বগুড়া।

সুওয়াল: বগুড়া বড় মসজিদের পেশ ইমাম, সেন্ট্রাল মসজিদের খতীব এবং বগুড়া জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন সমিতির সভাপতি মুফতী আব্দুল কাদের সূত্রাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আলোচনাকালে বলে, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি গন্ধম খেয়ে ভুল করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। নাউযুবিল্লাহ! এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মানুষ হত্যা করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! যার কারণে ক্বিয়ামতের দিন উনাদের নিকট সুপারিশের জন্য বলা হলে উনারা সুপারিশ করতে অসম্মতি প্রকাশ করবেন। নাউযুবিল্লাহ! হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি উক্ত মসজিদের ইমাম ও খতীব সম্পর্কে শরীয়ত উনার সঠিক ফায়ছালা জানিয়ে এলাকাবাসীর ঈমান-আক্বীদা হিফাযত করার জন্য বিনীত প্রার্থনা করছি।

জাওয়াব: ক্বিল্লতে ইলিম ও ক্বিল্লতে ফাহাম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝই হচ্ছে সমস্ত ফিতনার মূল। আরো বর্ণিত হয়েছে, “নীম হেকীম খতরে জান, নীম মোল্লা খতরে ঈমান।” অর্থাৎ আধা কবিরাজ বা ডাক্তার মানুষের জীবনের জন্য হুমকীস্বরূপ অর্থাৎ মানুষের জীবন নষ্ট করে। আর আধা মালানা-মুফতে মানুষের ঈমান নষ্ট করে। সুওয়ালে উল্লেখিত বগুড়া মসজিদের ইমাম ও খতীবের উদাহরণ সেই নীম মোল্লার মতই; যার আক্বল-জ্ঞান বক্বদরে নেসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এদের না আছে ইলমে ফিক্বাহ’র সঠিক ইলিম আর না আছে ইলমে তাছাওউফের সামান্য ইলিম। এদের আক্বল সমঝ নেই বললেই চলে। যা বগুড়া বড় মসজিদের কথিত ইমামের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই কখনো ভুল করেননি। ইচ্ছাকৃত তো নয়ই, অনিচ্ছাকৃতও নয়। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই ভুল-ত্রুটি, গুনাহখতার উর্ধ্বে।

অতএব, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারো শান মুবারকের বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা যাবেনা। কেউ যদি বলে, তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। আর যে ব্যক্তি এ ধরনের কুফরী করবে তার উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে।

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মুরতাদের ফায়সালা হলো, সে ঈমানহারা হবে। তার বিগত জীবনের সমস্ত নেকী বাতিল হবে। বিবাহ করে থাকলে বিবাহ বাতিল হবে, হজ্জ করলে হজ্জ বাতিল হবে। তার ওয়ারিছসত্ত্ব বাতিল হবে। সে মারা গেলে তার জানাযা পড়া জায়িয হবে না। তাকে মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। তাকে কুকুর, শৃগালের মত মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। তিন দিনের মধ্যে তওবা না করলে তার একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অর্থাৎ সম্মানিত ইসলামী খিলাফত জারী থাকলে তার উপর শরঈ শাস্তি জারী করতে হবে।

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে কি ধরনের আক্বীদা পোষণ করতে হবে সেটাই মসজিদের তথাকথিত ইমাম-খতীব, মালানা-মুফতেরা জানে না। অথচ যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বুযুগীর্-সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারকের বিষয়টি স্পষ্টরূপে বর্ণনা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নবী ও সম্মানিত রসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اَللهُ يَصْطَفِيْ مِنَ الْمَلَآئِكَةِ رُسُلًا وَّمِنَ النَّاسِ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ফেরেশ্তা ও মানুষের মধ্য থেকে সম্মানিত রসূল মনোনীত করেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-

اَللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهٗ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সবার্ধিক জানেন কাকে উনার সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার অধিকারী করবেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-

إِنَّ اللهَ اصْطَفٰى اٰدَمَ وَنُـوْحًا وَّاٰلَ إِبْـرَاهِيْمَ وَاٰلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِيْنَ ذُرِّيَّةً بَـعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ وَاللهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর উনাদেরকে এবং হযরত ইমরান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর উনাদেরকে সমস্ত আলমের বুকে মনোনীত করেছেন। উনারা পরস্পর পরস্পরের বংশধর বা সন্তান। আর মহান আল্লাহ পাক তিনিই সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

এখন কথা হচ্ছে, যিনি খ¦লিক্ব যিনি মালিক যিনি রব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদেরকে নবী-রসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন, সৃষ্টি মুবারক করেছেন এবং যমীনে পাঠিয়েছেন উনাদের দোষ-ত্রুটির কথা মানুষ কি করে চিন্তা করতে পারে। নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে কি এটাই সাব্যস্ত হয়না যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিই দোষ-ত্রুটি সম্পন্ন বান্দাদেরকে নবী-রসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

জানা আবশ্যক, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা মুবারক বলেননি, কাজ মুবারক করেননি এবং কোন সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেননি। অর্থাৎ উনারা সকলেই পরিপূর্ণরূপে ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ  মুবারক করেন-

نُـوْحِىْ اِلَيْهِمْ

অর্থ : “আমি উনাদের (হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম) প্রতি পবিত্র ওহী মুবারক করি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইউসূফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৯, সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নহল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩, সম্মানিত ও পবিত্র আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَاۤ أَرْسَلْنَا مِنْ قَـبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ إِلَّا نُـوْحِيْ إِلَيْهِ

অর্থ: আমি আপনার (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্বে যতজন রসূল আলাইহিমুস সালাম পাঠিয়েছি উনাদের প্রত্যেকের প্রতি ওহী মুবারক প্রেরণ করেছি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)

অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যাবতীয় বিষয় পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা (মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুতাবিক) পরিচালিত হতো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مَعْصُوْمُوْنَ

অর্থ  : “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ।”

আরও উল্লেখ রয়েছে যে-

اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مُنَـزَّهُوْنَ عَنِ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ وَالْكُفْرِ وَالْقَبَائِحِ

অর্থ : “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফর-শিরক এবং অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পবিত্র।”

অর্থাৎ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও মনোনীত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের অন্তভুর্ক্ত। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন পবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

যার পরিপ্রেক্ষিতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত উনাদের আক্বীদা নিণীর্ত হয়েছে যে, কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কখনো ভুল করেননি। ইচ্ছাকৃত তো নয়ই, অনিচ্ছাকৃতও নয়। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল-ত্রুটি, গুনাহখতা, লগজেস, মিথ্যা ইত্যাদি সমস্ত অন্যায় থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

অতএব, যারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভুল সম্পর্কে বলে থাকে, আক্বাইদ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তারা তা বলে থাকে। যেমন তারা বলে থাকে যে, হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ!

মূলত তাদের একথা সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন আবুল বাশার হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ও হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনাদেরকে আদেশ মুবারক করেছিলেন যে-

وَلَا تَـقْرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ

অর্থ : “আপনারা এই (গন্দমের) গাছের নিকটবর্তী হবেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫)

তখন উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এ আদেশ মুবারক অনুযায়ী সে গাছের নিকটবর্তী হননি। বরং উক্ত গাছের অনুরূপ বিপরীত দিকের অন্য একটি গাছ দেখিয়ে ইবলিস শয়তান এসে উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে মিথ্যা কসম খেয়ে বলেছিল যে, আপনারা যদি এ গাছের ফল খান, তবে আপনারা ফেরেশতা হয়ে যাবেন অথবা স্থায়ীভাবে বেহেশতে বসবাস করতে পারবেন। কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক, তখন হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম তিনি সে গাছ হতে ফল এনে শরবত বানিয়ে আবুল বাশার হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে খাইয়েছিলেন।

অপর বর্ণনায়, ফল কেটে খাইয়েছিলেন। এ ঘটনা হযরত আবুল বাশার আলাইহিস সালাম উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং যা অজান্তে সংঘটিত হয়, তা কি করে ভুল বা অপরাধ হতে পারে? বাস্তবিক তা কখনই ভুল নয়। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)

এর মেছাল হিসেবে উল্লেখ করা যায়- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের ঘটনা। তিনি যে শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। উনাকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শত্রুরা শহীদ করার জন্য একে একে পাঁচবার বিষ পান করায়। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে তিনি প্রত্যেকবারই বেঁচে যান। ষষ্ঠবার উনাকে শহীদ করার জন্য উনার পানির কলসি মুবারক, যে কলসি মুবারকের মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন, (যেন তার ভিতর কিছু ফেলা না যায়,) সেই কাপড় মুবারকের উপর শত্রুরা মারাত্মক বিষ হিরক চূর্ণ উনার অজান্তে মিশিয়ে দিয়েছিল। তিনি গভীর রাত্রিতে হিরক চূর্ণ বিষ মিশ্রিত পানি কলসি মুবারক থেকে ঢেলে পান করেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যা উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। (সিররুশ শাহাদাতাইন, শুহাদায়ে কারবালা, সীরতে ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উনার শাহাদাতকে আত্মহত্যা বলতে হবে, না ভুল করার কারণে তিনি বিছাল শরীফ গ্রহন করেছেন, তা বলতে হবে?

মূলত উপরোক্ত দুটির কোনটিই বলা যাবে না। যদি কেউ কোন একটিও বলে, তবে সে মিথ্যা তোহমত দেয়ার গুনাহে গুনাহগার হবে। যা কাট্টা কুফরী হবে। নাউযুবিল্লাহ! বরং বলতে হবে তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঘটনাও তদ্রƒপ। যা উনার অজান্তে সংঘটিত হয়েছে।

অনুরূপ অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘটনা মুবারকও। মানুষ সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে বেয়াদবীমূলক, কুফরী কথাবার্তা বলে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! এ ধরনের কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।

স্মরণীয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ মুবারকের খিলাফ বা বিপরীত কোন কাজ করেননি। এটাই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অর্থাৎ সকল মু’মিন-মুসলমান উনাদের আক্বীদা। এর বিপরীত হচ্ছে ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফিরকার আক্বীদা। মনে রাখতে হবে, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, উনার পরিপূর্ণ অনুগত, ফরমাবরদার, আজ্ঞাবহ, আদেশ-নিষেধ মুবারক পালনকারী। সুবহানাল্লাহ!

হযরত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যদি মহান পাক উনার আদেশ কিংবা নিষেধ অমান্য করে থাকেন তাহলে নবী ও রসূল হিসেবে উনাদের খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক থাকলো কোথায়! পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে কোথাও কি উল্লেখ আছে যে, উনারা ভুল বা গুনাহ করেছেন? আদৌ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়ার পরিণাম নিঃসন্দেহে কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ!

পঞ্চম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আল মুরশিদুল আমীন কিতাবে উল্লেখ করেন, “একবার মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হুজরা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক করার অনুমতি চাইলেন। এ সংবাদ হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পেঁৗছালেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, সে ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে বলুন। একথা বলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পাগড়ি মুবারক, কোর্তা মুবারক ইত্যাদি গোছগাছ করে নিলেন। এমনকি পবিত্র হুজরা শরীফ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পানির গামলাতে নিজের পবিত্র নূরুর রহমত অর্থাৎ চেহারা মুবারক দেখে গুছিয়ে নিলেন। তা দেখে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিও কি এরূপ করেন? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, কিরূপ করি? উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এরূপ পরিপাটি। এর জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হঁ্যা, আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নবী। আমাদের কোন কাজ কারো অপছন্দ হলে, সে ঈমানহারা হয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অর্থ বর্ণনায় সবখানে লুগাতী বা অভিধানগত অর্থ প্রযোজ্য ও গ্রহণযোগ্য নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে লুগাতী অর্থ পরিহার করে তাফছীলী বা তা’বীলী অর্থ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় অর্থ শুদ্ধ হবে না। বিশেষ করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সম্পর্কে এমন বর্ণনা ও অর্থ গ্রহণ করা যাবে না, যে বর্ণনার অর্থ গ্রহণ করলে উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী সম্মানের খিলাফ হয়। উদাহরণস্বরূপ পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ৪৫নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে مَكَرٌ শব্দ মুবারক উনার লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ “ধোকাবাজি বা ষড়যন্ত্র” গ্রহণ না করে ‘হিকমত বা কৌশল’ গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে উপরে বর্ণিত সকল মনোনীত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদের শান মুবারক সম্মত বর্ণণা, অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে।

মূলতঃ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা বা শান মুবারক বিরোধী কথা-বার্তা যারা বলে থাকে বা লিখে থাকে তারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ এবং পবিত্র আক্বায়িদ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তা বলে থাকে।

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র আক্বায়িদ শাস্ত্র অনুযায়ী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আক্বীদা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে মু’মিন-মুসলমান থাকা সম্ভব হবে না।

আরো উল্লেখ্য যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের স্বপ্ন মুবারকও যেখানে ওহী মুবারকের অন্তর্ভুক্ত সেখানে উনাদের জাগ্রত অবস্থার বিষয়গুলো কি পবিত্র ওহী মুবারক উনার বাইরে ছিল? কখনই নয়। যদি তাই হয় তাহলে পবিত্র ওহী মুবারক উনার ফায়সালাকৃত বিষয়ের জন্য উনাদেরকে দোষারোপ করা কি করে শুদ্ধ হতে পারে?

কাজেই, উনাদের সাথে যদি ভুল বা গুনাহ’র বিষয়টি সম্পৃক্ত করা হয় তাহলে একইসাথে এটাও সম্পৃক্ত হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিই ওহী মুবারক নাযিলে ভুল করেছেন এবং তিনিই উনাদেরকে গুনাহ করিয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! যা চিন্তা-কল্পনা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে কতটুকু আদব রক্ষা করতে হবে, সে প্রসঙ্গে কিতাবে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত ইমাম সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি উনার যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ ছিলেন। যিনি ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ছিলেন। তিনি একবার স্বপ্নে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইয়া’কুব আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেন। দেখে তিনি পরিপূর্ণ আদবের সাথে প্রশ্ন করেছিলেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইয়া’কুব আলাইহিস সালাম! আমরা জানি আপনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত সত্যিকারভাবেই পরিপূর্ণভাবে রয়েছে তা সত্বেও আপনি কি কারণে আপনার ছেলে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ীর (বিচ্ছেদের) কারণে উনার মুহব্বতে চল্লিশ বছর যাবৎ কেঁঁদে কেঁদে আপনার চক্ষু মুবারক নষ্ট করেছিলেন? একথা বলার সাথে সাথে গইব থেকে নেদা (আওয়াজ) হলো, “হে হযরত সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি সতর্কতার সাথে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে কথা বলুন।” এরপর হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সামনে পেশ করা হলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান এবং এভাবে একাধারা তের দিন তের রাত বেহুঁশ থাকার পর হুঁশ ফিরে পান। তখন গইব থেকে পুনরায় নেদা হয়, “মহান আল্লাহ পাক উনার নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে এভাবে কথা বললে এরূপ অবস্থাই হয়ে থাকে।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া)

উপরোক্ত ওয়াকিয়ার দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে কি পরিমাণ আদবের সাথে কথা বলতে হবে এবং উনাদের সাথে বেয়াদবীর কি পরিণতি? সত্যিই তা চিন্তা-ফিকিরের বিষয়। বেয়াদব সম্পর্কে হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

بے ادب محروم گشت از لطف رب

অর্থ: “বেয়াদব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত।” (মসনবী শরীফ)

উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ও মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলী হওয়া সত্বেও উনার প্রতি সতর্কবাণী ও সাবধানবাণী উচ্চারিত হয়েছে। উনার ওয়াকিয়া বা ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সর্বাধিক আদব রক্ষা করা ফরয।

প্রসঙ্গত আরো উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী উনাদেরকে রাবী বলা হয়। এই রাবীগণ উনাদের মধ্যে যাঁরা প্রথম শ্রেণীর রাবী, উনাদেরকে বলা হয় ছেক্বাহ রাবী।

পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদগণ উনারা ছেক্বাহ্ রাবী হওয়ার জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে মূল বিষয় হচ্ছে- (১) আদালত ও (২) জব্ত। জব্ত হচ্ছে- প্রখর স্মরণশক্তি। তা এমন যে, একবার শুনলে আর ভুলেনা। আর আদালত-এর মধ্যে যে শর্তসমূহ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হলো দু’টি। যথা- (ক) তাক্বওয়া, (খ) মুরুওওয়াত। (ক) তাক্বওয়া হচ্ছে- কুফর-শিরক, বিদ্য়াত ও ফাসিকী কাজ থেকে বেঁচে থাকার সাথে সাথে কবীরাহ গুণাহ থেকে, এমনকি ছগীরাহ গুণাহ করা থেকেও বেঁচে থাকা। পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা না বলা। সাধারণ কাজে মিথ্যা না বলা। অজ্ঞাতনামা না হওয়া, অপরিচিত না হওয়া। বদ আক্বীদা সম্পন্ন না হওয়া। সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পবন্দ হওয়া। (খ) আর মুরুওওয়াত হচ্ছে- অশ্লীল-অশালীন কথা-বার্তা, অশোভনীয়, অপছন্দনীয় আচার-আচরণ, উঠা-বসা, চাল-চলন, যেখানে-সেখানে ইস্তিঞ্জা করতে বসা, হাট-বাজারে গিয়ে চিৎকার করা, রাস্তা-ঘাটে লোকজনের সাথে অনর্থক ঝগড়া-ঝাটি করা ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এমনকি দৃষ্টিকটু কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রাস্তায় হেঁটে হেঁটে খাদ্য খাওয়া, রাস্তায় অট্টহাস্য করা, চিৎকার করা ইত্যাদি। (তাদরীবুর রাবী, মুকাদ্দামাতুশ শায়েখ, মীযানুল আখবার, নূরুল আনোয়ার, মুকাদ্দামাতুল মিশকাত)

এখন ফিকিরের বিষয় এই যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছেক্বাহ্ রাবী যদি এত গুণ ও যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তাক্বওয়াধারী হন অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ এই উম্মতের নিকট যদি ছেক্বাহ রাবী হিসেবে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী হওয়ার জন্য ছগীরাহ্ গুণাহ্ বার বার না করা ও দৃষ্টিকটু সাধারণ অপছন্দনীয় কাজও না করা শর্ত হয়, তাহলে যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নবী-রসূল হবেন এবং মহান আল্লাহ্ পাক উনার কালাম বর্ণনা করবেন, উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন বা উনাদের ক্ষেত্রে কি পরিমান মা’ছূম ও মাহ্ফূজ হওয়া নির্দিষ্ট করেছেন তা অনুধাবনীয়।

অতএব, যে কোন লোকের জন্যই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের শান মুবারক উনার বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। এ ধরনের কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।

{দলীলসমূহঃ- (১) তাফসীরে আহকামুল কুরআন জাসসাস্, (২) তাফসীরে কুরতুবী, (৩) তাফসীরে মাযহারী, (৪) তাফসীরে রুহুল বয়ান, (৫) তাফসীরে রুহুল মায়ানী, (৬) তাফসীরে খাযিন, (৭) তাফসীরে বাগবী, (৮) তাফসীরে কবীর, (৯) তাফসীরে তাবারী, (১০) তাফসীরে যাদুল মাছীর, (১১) তাফসীরে দুররে মনছুর, (১২) তাফসীরে ইবনে কাছীর, (১৩) তাযকিরাতুল আউলিয়া, (১৪) মসনবী শরীফ, (১৫) আল মুরশিদুল আমীন, (১৬) তাদরীবুর রাবী, (১৭) মুকাদ্দামাতুশ্ শায়েখ, (১৮) মীযানুল আখবার, (১৯) মুকাদ্দামাতুল মিশকাত, (২০) নূরুল আনোয়ার, (২১) রু’ইয়াতুল হাদীছ, (২২) নুখবাতুল ফিকির, (২৩) কিফায়া, (২৪) কাশফুল আসরার ইত্যাদি।}

মুহম্মদ আরীফুল ইসলাম

নূরানীবাদ

সুওয়াল: তা’লীমী মাহফিলে বাইরের জেলা থেকে আসা কিছু পীর ভাই জামা‘আতে ফরয নামাযের পর  সুন্নত নামায পড়েন। আবার কিছু পীর ভাই শুধু ফরয নামায পড়েন। সুন্নত পড়েন না। এক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: সুন্নত পড়লে তো ভালো। সমস্যা কি? আর জামায়াতে পড়লে তো তখন আর কছর নাই। জামায়াতে পড়লে পুরাটাই পড়তে হবে। একা একা পড়লে কছর পড়তে হবে যদি মুসাফির হয়। আর যদি মুকীম হয় তাহলে তো পুরাই পড়বে। আর মুসাফিরের জন্য সুন্নত পড়া এটা ইখতিয়ার। পড়তে পারলে ভালো। এখনতো সব মূর্খ লোক। মাসয়ালাতো জানে না। তাছাওউফের পরিভাষায়, কোন লোক যদি তার সম্মানিত শায়েখ উনার দরবার শরীফে  যায়, সেখানে সে মুকীম। কারণ সম্মানিত শায়েখ উনার অনুমতি ব্যতিত সে বাড়ীতে যেতে পারবে না। ফলে সে মুকীম হয়ে যায়। তার ইখতিয়ার থাকে না বাড়ী যাওয়ার। ইখতিয়ার না থাকলে তাহলে তার কছর হয় কিভাবে? এটা সাধারণ মাসয়ালা তাহলো, কোন জিহাদে গেলো কিছু লোক। যিনি প্রধান উনার যে হুকুম উনার অধীনস্থদের সবার একই হুকুম। তারা এখান থেকে যেতে পারবে না। প্রধান যদি মুকীম হন তাহলে সবাই মুকীম। আর যদি মুসাফির হন তাহলে সকলেই মুসাফির। মানুষ মাসয়ালা জানে না, আদব শরাফতও নাই, ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করবে কোথা থেকে। আদব শরাফতের অভাব।

 

মুহম্মদ রাকিবুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জ

সুওয়াল: কোন আহলিয়া ইনতিকাল করেছেন, তার মোহরানার টাকা তার আহাল পরিশোধ করেনি। আহলিয়ার কোন সন্তানও নেই। তবে তার মা এবং বোন রয়েছে। এমতাবস্থায় আহলিয়ার মোহরানার টাকার ওয়ারিছ কে হবে?

জাওয়াব: আহলিয়ার বাপ নেই, সন্তান-সন্ততি কেউ নেই, ভাই-ভাতিজা কেউ নেই। তাহলে তার মোহরের টাকা তার মাকে দিতে হবে এবং বোনকে দিতে হবে। তার মা-ও পাবে বোন-ও পাবে, দুইজনেই পাবে। এখন ওয়ারিছস্বত্তে তার সম্পত্তি ফারায়িজ হিসেবে বণ্টন করা হবে। এখন কেউ যদি না থাকে তাহলে মা পাবে সম্পত্তির তিন ভাগের একভাগ। আর বোন সেও পাবে সেই তিনভাগের একভাগ। আর একভাগ থাকে। এটা আবার রদ হবে। রদের মাসয়ালা হচ্ছে, দুইজনের মাঝে অর্ধেক অর্ধেক করে দিয়ে দিলে চলবে। এটা রদ করতে হবে। এ মাসয়ালা আহাল বা স্বামী না থাকলে।

মুহম্মদ মাশূক আল হিকাম ইবনে মাছূম

মুহব্বতপুর, বগুড়া

 

সুওয়াল: নিজের অর্থায়নে বাড়ী করলে, জমি কিনলে সরকার বেশী ট্যাক্স ধার্য করে, আরো অনেক ঝামেলা মোকাবেলা করতে হয়। আর ব্যাংক থেকে লোন নিলে ট্যাক্স কম দিতে হয়, ঝামেলাও থাকে না। সেক্ষেত্রে জুলুম থেকে বাঁচার জন্য, মাজূর অবস্থায় ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ী করে কিংবা জমি কিনে, অল্প সময়ের  ব্যবধানে তা পরিশোধ করলে তা জায়েয হবে কি না? যদি জায়েয না হয় তাহলে করণীয় কি?

জাওয়াব: সুদে লোন নেয়া তো জায়েয নাই। নিজের টাকায় বাড়ী করলে, নিজের টাকা কোথায় পেলো, এটা বলে দিতে হবে। আর জমি কিনলো, কোথা থেকে টাকা পেলো, তা বলে দিলেই হয়। ব্যাংক থেকে লোন নিবে কেন? ব্যাংক থেকে সুদে লোন নেয়া জায়েয নাই। ব্যাংক থেকে সুদে লোন নেয়া, সুদ দেয়া কোনটাই জায়েয নাই। সুদ নেয়া, দেয়া দু’টাই হারাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-

وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

 মহান আল্লাহ পাক তিনি বেচা-কিনা হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন। কাজেই সুদে নিতে পারবে না। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭৫)

মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন

আমান বাড়িয়া

সুওয়াল: আহালিয়ার সাথে তালাক হওয়ার কিছুদিন পর আহাল পুনরায় আহালিয়াকে নিতে চায়। কিন্তু আহালিয়ার পরিবার বললো, হিলা দিয়ে নিতে হবে। এই কথা শুনে আহাল আর আহলিয়াকে নিতে চায়নি। কিন্তু ৩ মাস পর আবার আহাল আহালিয়াকে নিতে চায়। তখন আহলিয়ার পরিবার বললো, বিবাহ দোহরালেই শুদ্ধ হয়ে যাবে। এই কথা শুনে আহাল আহালিয়াকে পুনরায় নিতে অর্থাৎ বিবাহ করতে রাজি হয় এবং পুনরায় বিবাহ হয়ে যায়। এদিকে আহলিয়ার পরিবার গোপনে হিলা দেয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু আহাল এ বিষয়টা মোটেও জানেনি কিংবা আহালকে জানানোও হয়নি। পরবর্তীতে আহাল জানতে পারে যে, হিলা দেয়ার একমাস ১৫ দিন পর আহলিয়া আহালের কাছে অবস্থান করা শুরু  করেছে। এখন জানার বিষয় হল- হিলার বিষয়টা আহালের কাছে গোপন রাখা ও হিলা হওয়ার ১ মাস ১৫ দিন পর প্রথম আহালের কাছে অবস্থান করা এ উভয় বিষয়টা সম্মানিত শরীয়তে শুদ্ধ হয়েছে কি-না?

জাওয়াব: শুদ্ধ হবে যদি ১ মাস ১৫ দিনে ইদ্দত পালন হয়ে যায়। অন্যথায় শুদ্ধ হবে না।

 

মুহম্মদ আব্দুর রশীদ

রংপুর

সুওয়াল: যদি একা একা ফরয নামায আদায় করি তাহলে কি ইকামত দিতে হবে? না দিলে কি নামায হবে? যদি ফরয নামায ক্বাযা আদায় করি তাহলেও কি ইকামত দিতে হবে?

জাওয়াব: হাঁ, পুরুষের জন্য একা একা নামায পড়লে, ইকামত দিতে হবে। ইকামত না দিলে সুন্নত তরক হবে। ইকামত না দিলেও নামায হয়ে যাবে তবে পুরুষের জন্য ইকামত দেয়াটা কর্তব্য। আর ক্বাযা নামায পড়ার সময়ও ইকামত দিতে হবে। এটা পুরুষের জন্য। মহিলাদের জন্য কোন ইকামত নেই। পুরুষের জন্য ইকামত দিতে হবে একা পড়–ক, জামায়াতে পড়–ক আর ক্বাযা পড়–ক তাকে ইকামত দিতে হবে। এখন যদি কেউ না দেয় তাহলে তার সুন্নত তরক হবে। কিন্তু ইকামত দিতে হবে।

 

মুহম্মদ মুনাওওয়ার হুসাইন

বরগুনা

 

সুওয়াল: কবরস্থানে গিয়ে না’তু উম্মি রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করা যাবে কি?

জাওয়াব: পাঠ করার যাবে না কেন? পাঠ করা যাবে। অসুবিধার কি আছে? কুরআন শরীফ যদি তিলাওয়াত করা যায় তাহলে না’তু উম্মি রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীফও পাঠ করা যাবে। কোন অসুবিধা নাই।

 

মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন

সদর, চাঁদপুর

 

সুওয়াল :  সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতকে কেন্দ্র করে অনেকে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ করে থাকে। এ ব্যাপারে সঠিক ফায়ছালা জানতে বাসনা রাখছি।

জাওয়াব: কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যেমন কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই। তদ্রƒপ কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই।

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ أُخْرٰى

অর্থ: “একজনের পাপের বোঝা অপরজন বহন করবেনা।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নং ১৬৪)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাকে এবং পিতার অপরাধের জন্য সন্তানকে দায়ী করা বৈধ নয়। যেমন, কাবিলের অপরাধের জন্য হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনাকে, কেনানের অপরাধের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনাকে দায়ী করা বৈধ নয়। তেমনি ইয়াযীদের অপরাধের জন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দায়ী করাও বৈধ নয়। বরং সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لِيَغِيْظَبِهِمُ الْكُفَّارَ

অর্থ: “কাফিররাই উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ্ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নং ২৯)

আর এই আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ مَنْ غَاظَهٗ أَصْحَابَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـهُوَ كَافِرٌ

অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে কাফির।” (নাসীমুর রিয়াদ্ব)

এখানে একটা বিষয় মনে রাখা অপরিহার্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাওয়াসা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হৃদয় বিদারক শাহাদাতী শান মুবারক মুসলিম উম্মাহ’র অন্তর ব্যথাতুর হবে তা চরম সত্য কথা এবং এটি ঈমান মজবুতীর আলামতও বটে। কিন্তু এজন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী উনাকে দোষারোপ করা কস্মিনকালেও সম্মানিত শরীয়ত সম্মত হতে পারে না।

মূলত হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শুধু ছাহাবীই ছিলেন না, বরং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, জলীলুল ক্বদর ছাহাবী ও খলীফা ছিলেন। সুতরাং হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ সকল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সাবধানে কথা বলতে হবে। উনাদের সকলের প্রতিই সুধারণা পোষণ করতে হবে, মুহব্বত করতে হবে এবং উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণও করতে হবে। আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, সমালোচনা করা ও নাক্বিছ বলা হতে বিরত থাকতে হবে। নচেৎ ঈমানহারা হয়ে চির জাহান্নামী হতে হবে।

 

মুহম্মদ ঈমান আলী

সাভার, ঢাকা

 

সুওয়াল: পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ কি? এ সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: ‘আখিরি’ শব্দটির অর্থ- শেষ। আর ‘চাহার শোম্বাহ’ শব্দ এর অর্থ- আরবিআ বা বুধবার। ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ বলতে ছফর মাসের শেষ আরবিয়া বা বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে। মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন।

এ মুবারক দিনটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, পবিত্র ১১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করেন এবং পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারকে মারীদ্বী বা অসুস্থতা শান মুবারক গ্রহণ করেন। এর ৮/১০ দিন পর তিনি আবার সুস্থতা বা ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। অতঃপর তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী যিয়ারত মুবারক করেন। পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে তিনি পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন এবং তিনি ‘ওয়াহ রা’সাহু’ ‘ওয়াহ রা’সাহু’ অর্থাৎ আমার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক, নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক একথা বলে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক উনার মারীদ্বী শান মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেন এবং পর্যায়ক্রমে মারীদ্বী শান মুবারক বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতঃপর এই পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার ৩০ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার দিন সকালে তিনি ছিহ্হাতী শান মুবারক গ্রহণ করেন। ফলে ভোরবেলা ঘুম মুবারক থেকে জেগে তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’ এ কথা শুনামাত্রই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছুটে আসলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাযির আছি।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! মারীদ্বী শান মুবারক ত্যাগ করে ছিহহাতী শান মুবারক গ্রহণ করার ফলে শরীর মুবারক বেশ হালকা মনে হচ্ছে।’ সুবহানাল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাড়াতাড়ি পানি এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক ধুয়ে দিলেন এবং সমস্ত নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার মধ্যে পানি মুবারক ঢেলে ভালোভাবে গোসল মুবারক করিয়ে দিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে কাপড় মুবারক ভিজিয়ে নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক মুছে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এ সংবাদ পেয়ে অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খিদমত মুবারকে হাযির হলেন।

অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! হুজরা শরীফে কোনো খাবার আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী-হঁ্যা।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর আমার আওলাদ অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকেসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে খবর দিন। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও নিয়ে আসতে বলুন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি সকলকে সংবাদ দিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিসহ (৬৫ পৃষ্ঠায় দেখুন) অন্যান্য আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে এসে হাযির হলেন।

অতঃপর রুটি-গোশত ও সিরকা মুবারক এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে পরিবেশন করা হলো। তিনি সকলকে নিয়ে খাদ্য মুবারক গ্রহণ করে খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন। সংবাদ শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বাইরে এসে হাযির হন। কিছুক্ষণ পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত্বনা মুবারক দান করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন মারীদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করার পর ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফ তাশরীফ মুবারক আনেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই অপার আনন্দে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্স্নাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে হাদিয়া পেশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত রয়েছে যে, খুশি মুবারক প্রকাশ করে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দীনার, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দীনার, হযরত ইমামুল আউওয়াল কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হাদিয়া করতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর এ কারণেই পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তভুর্ক্ত। সুবহানাল্লাহ! উনাদেরকে অনুসরণ করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন –

وَالَّذِيْنَ اتَّـبَـعُوْهُمْ بِاحْسَانٍ رَّضِىَ الله عَنْـهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ

অর্থ: “যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْـمَهْدِيِّيْنَ

অর্থ: “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত মুবারক এবং আমার হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারক পালন করা অপরিহার্য র্কতব্য।” (মিশকাত শরীফ)

মূলকথা হলো- পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ অর্থাৎ পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ বা বুধবার। যা কায়িনাতবাসী সকলের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশের দিন। এ উপলক্ষে সকলের জন্য করণীয় র্কতব্য হচ্ছে- উক্ত মুবারক দিনে খুশি প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া পেশ করা, গোসল করা, ভালো খাওয়া, বেশি বেশি পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। এর সাথে সাথে দান-ছদক্বা করা। আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

কেউ কেউ ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উদযাপন করাকে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্মানিত শরীয়ত উনার বিরোধী ও কুফরী। বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উপলক্ষে সাধ্যমত গরিব-মিসকীনদেরকে দান-খয়রাত করা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেশি বেশি ছলাত-সালাম মুবারক, পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও কল্যাণ হাছিলের কারণ।           {দলীল: সমূহ সীরাতগ্রন্থ।}

 

মুহম্মদ আতিকুজ্জমান

রংপুর

 

সুওয়াল : কোন মাস ও দিনকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা এবং কোন রোগ-ব্যাধিকে ছেঁায়াচে বা সংক্রামক মনে করার ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়তে কোন বিধি-নিষেধ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব : কোন মাস ও দিনকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা কুফরী এবং একইভাবে কোন রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছেঁায়াচে মনে করাটাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

বর্ণিত রয়েছে, আইয়্যামে জাহিলিয়াতে ছফর মাসকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা হতো। মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের সে ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করেন।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ لَا عَدْوٰى وَلَا هَامَةَ وَلَا نَـوْءَ وَلَا صَفَرَ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) কারণে বৃষ্টি হওয়াটাও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯১, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭১)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَلطِّيَـرَةُ شِرْكٌ قَالَهُ ثَلَاثًا

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“যে কোন বিষয়কেই অশুভ ও  কুলক্ষণে মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ বাক্যটি তিনবার উল্লেখ করেছেন।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী শরীফ, মাওয়ারিদ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল-১/৪৩৮, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ-৩৯২, শরহুত্  ত্বীবী-৮/৩২)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ عَدْوٰى وَلَا صَفَرَ وَلَا هَامَةَ ‏فَـقَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا بَالُ الْإِبِلِ تَكُوْنُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّـهَا الظِّبَاءُ فَـيُخَالِطُهَا الْبَعِيْـرُ الْأَجْرَبُ فَـيُجْرِبُـهَا‏ فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ فَمَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ‏‏.‏

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন, যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তাজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে আসলো? অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৬৫)

স্মরণীয় যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে ইসলামী আক্বায়িদ সংক্রান্ত ইলিম না থাকার কারণে কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছেঁায়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কাজেই, এরূপ ভ্রান্ত ও কুফরী আক্বীদা হতে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তভুর্ক্ত।

তবে ভাল লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা করার অবকাশ আছে। অর্থাৎ তা মুস্তাহাব-সুন্নত মুবারক। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ لَا طِيَـرَةَ وَخَيْـرُهَا الْفَألُ ‏‏قَالُوْا وَمَا الْفَألُ قَالَ ‏الْكَلِمَةُ الصَّالِحَةُ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন বিষয়কে অশুভ কুলক্ষণে মনে করোনা, তবে শুভ লক্ষণ আছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তখন তিনি বললেন, উত্তম কথা, যা তোমাদের মধ্য হতে কেউ শুনতে পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, শরহুত্ ত্বীবী-৮/৩১৩, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭২)

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে সমাজে আরো যেসব কুফরীমূলক ভ্রান্ত আক্বীদা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে তা হচ্ছে: (১) রাস্তা চলার সময় কোন প্রাণী যদি ডান দিক থেকে রাস্তা অতিক্রম করে বাম দিকে যায় তাহলে গমন শুভ, কল্যাণকর হবে। আর যদি বিপরীত দিকে যায় তাহলে কুলক্ষণে বা অকল্যাণ হবে, এরূপ বিশ্বাস করা। (২) শান্তির প্রতীক বা শান্তি লাভের আশায় পাখি উড়িয়ে দেয়া।

(৩) ঘুম থেকে উঠে পেঁচা দেখা কিংবা রাতে পেঁচার ডাক শুনলে কুলক্ষণের পূর্বাভাস মনে করা।

(৪) অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি কোন বন্ধ্যা ব্যক্তিকে দেখতে পায়, কিংবা খালি কলস দেখতে পায় তাহলে সারাদিন অকল্যাণভাবে অতিবাহিত হবে বা কোন কল্যাণ অর্জিত হবেনা বলে ধারণা করা।

(৫) সাবত বা শনিবার এবং ছুলাছা বা মঙ্গলবার ইন্তিকাল করাকে কুলক্ষণ এবং জাহান্নামী হওয়ার আলামত বলে মনে করে। যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা বা কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা হযরত নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি ছুলাছা বা মঙ্গলবার দিন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, যথাক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা সাবত বা শনিবার দিন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

(৬) পরীক্ষার পূর্বক্ষণে ডিম বা কলা খাওয়াকে পরীক্ষা পাশের প্রতিবন্ধক মনে করা। (৭) সময়কে গালি দেয়া, জোরে বাতাস প্রবাহিত হতে দেখলে বাতাসকে গালি দেয়া, আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকতে দেখলে মেঘকে গালি দেয়া ইত্যাদি।

অতএব, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে নিজেদের ঈমানকে হিফাযত করতে হলে যাবতীয় কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকাটা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

 

মুহম্মদ মনজুরুল আনোয়ার

রিয়াদ, সউদী আর

 

সুওয়াল :  বছরের মধ্যে কি কোন নির্দিষ্ট দিন আছে, যেদিন ভালো খাওয়া-পরার ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে?

জাওয়াব: হ্যাঁ, রয়েছে। সে দিনটি হচ্ছে মহাপবিত্র দশই মুহররম শরীফ। এ দিনটিতে প্রত্যেক পরিবারের প্রধানকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভালো খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ وَّسَّعَ عَلٰى عِيَالِهٖ فِى النَّـفَقَةِ يَـوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهٖ

অর্থ : “যে ব্যক্তি তার পরিবারবর্গকে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন অর্থাৎ পবিত্র দশই মুহররম শরীফ তারিখে ভালো খাদ্য খাওয়াবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক বৎসরের জন্য সচ্ছলতা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, মা-ছাবাতা বিস্সুন্নাহ)

মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম

মানিকনগর, ঢাকা

সুওয়াল: ওয়াজ মাহফিলের তাবারুকের জন্য বাড়ী বাড়ী থেকে চাল উঠানো হয়। কিন্তু অনেকেই ধানের উশর প্রদান করেনা। এমতাবস্থায় সেই চাল মিশিয়ে তাবারুক রান্না করলে খাওয়া জায়িয হবে কি-না? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: ধানের উশর কেউ প্রদান করে আবার কেউ  প্রদান করে না। এটা তাহক্বীক্ব করতে হবে। অনেকেই তো জানেই না, উশর প্রদান করবে কি করে? উশর যে দিতে হয়, আমাদের দেশে মানুষতো এটা জানেই না। আওয়ামুন্নাসতো জানার কথাই না, আলিম-উলামারাই তো জানে না। যে জানে না, সে উশর দিবে কোথা থেকে। এটা তাকে জানাতে হবে যে, তোমার উশর দিতে হবে। উশর দেওয়া ফরয। এখন জানার পরে যদি না দেয়, সেটা হারাম হবে। আগে তাকে জানাতে হবে, শিখাতে হবে, তারপরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। জানার পরে যদি সে উশর না দেয় তখন তার থেকে গ্রহণ করাটা হালাল হবে না এবং কোন মাহফিলেও খরচ করা যাবে না। তাকে বলতে হবে, তুমি উশর দিয়ে দাও। তখন যদি সে অস্বীকার করে তখন তারটা নেওয়া ঠিক হবে না। আর আমভাবে যদি দেয়, তখন তাকে মাসয়ালা শিখাতে হবে এবং ওশর দেয়ার কথা বলতে হবে। সে যদি স্বীকার করে তবে গ্রহণ করা যাবে। অন্যথায় নেয়া যাবে না।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ