সুমহান পবিত্র ৩রা রমাদ্বান শরীফ। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাতি, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল ইমামাইনিল হুমামাইন, আহাব্বুন নাসি ইলান নাবিইয়ি, সাইয়্যিদাহ, ত্বাহিরাহ, যাহরাহ, যাকিয়াহ, রদ্বিয়াহ, মারদ্বিয়াহ, বতূল, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র বিছাল শরীফ

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক। সুমহান পবিত্র ৩রা রমাদ্বান শরীফ। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহিমান্বিত বিছাল শরীফ উনার দিন।  সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পরে মাত্র ছয় মাস যমীনে অবস্থান করেছিলেন। তিনি হিজরী ১১ সনে পবিত্র ৩রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ বাদ আসর পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। উনার পবিত্র জানাযা নামায আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পড়ান। উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বীতে অবস্থিত।    দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ, পবিত্র বিছাল শরীফ, উনার বেমেছাল শান-মান মুবারক, মর্যাদা মুবারক, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহ চরম বেখবর। অথচ যুগপৎভাবে উনাদের বিলাদত শরীফ এবং বিছাল শরীফ উনার দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আলাদাভাবে রহমত মুবারক, বরকত মুবারক, সাকীনা মুবারক ও ইহসান মুবারক যমীনে নাযিল করে থাকেন। (সুবহানাল্লাহ) বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার অথবা জনগণ তথা সাধারণ মুসলমান, এসব বিষয় উপলব্ধি না করার কারণেই আজ ওৎপ্রোতভাবে বিবিধ খোদায়ী আযাব-গযবে ভারাক্রান্ত। এর থেকে রক্ষা পেতে হলে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মূল্যায়ন ব্যতিরেকে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। উল্লেখ্য উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যেমন সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন; তেমনি সর্বপ্রথম উনিই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বেহেশতে প্রবেশ করবেন। উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মূলত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অংশ মুবারক বা কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক। উভয়ের অবস্থান আলাদা। কিন্তু মর্যাদা মুবারক বলতে গেলে এক।  পার্থক্য উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি নন। আর বাকি সব মর্যাদা মুবারক, মর্তবা মুবারক এবং ফযীলত মুবারক ও নিয়ামত মুবারক উনার অধিকারী। সুবাহাল্লাহ! মূলত, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে প্রত্যেক আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উনার মহিমান্বিত পবিত্র বিছাল শরীফ উনার মধ্যেও উনার বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উনি নিজেই পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পূর্বে গোসল মুবারক সেরে নেন। পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পূর্বে দাফন মুবারক উনার কাপড় মুবারক পরে নেন। এবং এ কাপড় মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাফনকৃত মুবারক কাপড় উনারই অবশিষ্টাংশ; যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পবিত্র পর্দার চরম উদাহরণ হিসেবে উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আযরাইল আলাইহিস সালাম উনাকেও দেখা করতে অনুমতি দেননি। স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে উনার সম্মানিত পবিত্র রূহ মুবারক নিয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! প্রণিধানযোগ্য যে, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সারাটি জীবন মুবারক ব্যয় করেছেন উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কল্যাণ ও ক্ষমা কামনায়। একই লক্ষ্যে উনার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান উনাদের পর্যন্ত কুরবানী মুবারক করেছেন। এমনকি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ পূর্ব শেষ বাক্য মুবারকও ছিল উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু চরম পরিতাপ, গভীর দুঃখ ও আফসোসের বিষয় যে; সে বেমেছাল মমতাময়ী মা উম্মু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার সন্তান- আমরা উনার কোনো অবদানেরই বিন্দুমাত্র শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি না। ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ, রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ইসলাম উনার দেশ বাংলাদেশ সরকারও কিছু করছে না। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যারা আমার নিয়ামত মুবারক উনার শুকরিয়া আদায় করবেনা জেনে রাখ আমার আযাব অনেক কঠিন।” মূলত, দুর্নীতি, অসততা, ছিনতাই, চুরি, রাহাজানি, হারাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুনাফাখোরী, ভেজাল, বিষ, ধর্মব্যবসা, অনৈতিকতা, অবক্ষয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, পারিবারিক বন্ধনহীনতাসহ হাজারো আযাবে ভরে গেছে আমাদের দেশ। গোটা দেশটা যেন প্রায় ব্যভিচারখানায় পরিণত হয়েছে। কথিত ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য চাকরিজীবী মহিলা তার বসকে নির্দ্বিধায় দেহদান করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)। অধিক পোশাক-আশাক আর অর্থের জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা দেহ-ব্যবসায় নেমেছে। অনেকে অধিক নম্বর পাওয়ার জন্যও শিক্ষকের সাথে বিছানায় যাচ্ছে। (নাঊযুবিল্লাহ)। অনেক গৃহবধূ স্বামীর অজান্তে-জান্তে দেহব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ এখন হারামযাদা আর হারামীতে ভরে গেছে। (নাঊযুবিল্লাহ)। মুসলমানদের থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলামী অনুভূতি উঠে গেছে। এ পবিত্র দ্বীন ইসলামী অনুভূতি তখনই আসবে যখন কেবল পর্দার প্রচলন হবে। আর পর্দা যমীনে তখনই আসবে যখন পর্দার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান মুবারক, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক নিয়ে দেশে যথাযথভাবে আলোচনা মুবারক হবে।  এ লক্ষ্যে উনার মহান নাম মুবারক-এ ও মহান শান মুবারক-এ সারা দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অগণিত রিসার্চ সেন্টার গড়তে হবে। উনার সুমহান শান মুবারক-এ ইলম অর্জনকারী, বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণকারী, মুহব্বতকারী উনাদের মূল্যায়ন করতে হবে। উনার বিশুদ্ধ সাওয়ানেহে উমরী বা জীবনী মুবারক সরকারিভাবে বিনামূল্যে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। উনার সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গনের সর্বত্র বাধ্যতামূলক সিলেবাস করতে হবে। উনার সম্পর্কে পবিত্র ইলম, আক্বীদা ও মুহব্বত অর্জন ব্যতিরেকে কাউকে চাকরি-ব্যবসার সুযোগ দেয়া চলবে না। বিশেষত, বর্তমানে সাইয়্যিতুন নিসা, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক তথা ছোহবত মুবারক-নিয়ামত মুবারক উনার হিস্যা লাভের জন্য বর্তমান যামানায় উনার ক্বায়িম-মাক্বাম, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, নক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে নারীদেরকে আসার জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।  মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা মুবারক থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন) -মুহম্মদ আশরাফুল মাহবূবে রব্বানী

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)