হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরবর্তী কোনো মুজাদ্দিদই উপমহাদেশের বাইরে তাশরীফ মুবারক রাখেননি।

সংখ্যা: ২৪০তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরবর্তী কোনো মুজাদ্দিদই উপমহাদেশের বাইরে তাশরীফ মুবারক রাখেননি।


শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরবর্তী সময় হতে এ পর্যন্ত আগত চৌদ্দজন সুমহান মুজাদ্দিদ উনাদের মধ্যে সাতজনই উপমহাদেশের মাটিতে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ এই পাক-ভারত উপমহাদেশের গোটা ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ উনাদেরকে কেন্দ্র করে, তথা ইসলামী ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে কেন্দ্র করে আবির্ভূত হয়েছে।

হিন্দুয়ানী কুসংস্কার ও আচারপ্রথাকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ইতিহাস-সংস্কৃতি গঠিত হয়েছে- এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার ও ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছুই নয়।

বর্তমানে পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দী পর্যন্ত চৌদ্দজন সুমহান মুজাদ্দিদ উনারা দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়ে মুসলিম উম্মাহ উনাকে ধন্য করেছেন। সুমহান মুজাদ্দিদগণ উনাদের মধ্যে সাতজনই তাশরীফ মুবারক রেখেছেন আমাদের এই পাক-ভারত উপমহাদেশে। আর হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরবর্তী কোনো মুজাদ্দিদই এই উপমহাদেশের বাইরে তাশরীফ মুবারক রাখেননি।

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন একাদশ হিজরী শতাব্দী উনার মুজাদ্দিদ, যিনি ছিলেন পাঞ্জাবের সিরহিন্দ শরীফ উনার অধিবাসী। উনার পরবর্তী দ্বাদশ হিজরী শতাব্দী উনার মুজাদ্দিদ হচ্ছেন হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ছিলেন দিল্লীর অধিবাসী। ত্রয়োদশ হিজরী শতাব্দী উনার মুজাদ্দিদ হচ্ছেন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলীর অধিবাসী। চতুর্দশ হিজরী শতাব্দী উনার মুজাদ্দিদ হচ্ছেন হযরত আবু বকর ছিদ্দিকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা শরীফ উনার অধিবাসী।

আর পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দী উনার সুমহান মুজাদ্দিদ হচ্ছেন, আমাদের মণিব, মাওলা, মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্বে আরো দু’জন সম্মানিত মুজাদ্দিদ এই উপমহাদেশে তাশরীফ মুবারক রেখেছেন। একজন হচ্ছেন সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আরেকজন হচ্ছেন হযরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি। অর্থাৎ মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং বাকি উনারা আরো ছয়জন, মোট সাতজন সুমহান মুজাদ্দিদ এই বাংলা ও পাক-ভারত উপমহাদেশে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।

এ পর্যন্ত যে আলোচনা হলো, তাতে করে বাংলা ও পাক-ভারত উপমহাদেশে অবস্থানকারী মুসলমানদের অনেক ফিকির করার রয়েছে। বিশ্ব ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে, যে কোনো সময়কাল বা যুগের ইতিহাস আবর্তিত হয়েছে উক্ত সময়কালে যিনি মুজাদ্দিদ হিসেবে মনোনীত ছিলেন উনাকে কেন্দ্র করে। এটিই তো স্বাভাবিক, কারণ একজন মুজাদ্দিদ হচ্ছেন উনার যামানায় স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল। সুতরাং উনাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাদশাহ আকবরের সৃষ্ট চরম ফিতনা দ্বীনে ইলাহীকে পর্যুদস্ত করেছেন এবং এর দ্বারা পাক-ভারত উপমহাদেশে দ্বীন ইসলাম উনাকে জিন্দা রেখেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরকে তার গুমরাহ পিতার পথ অনুসরণ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহানকে হিদায়েতের উপর আসীন রেখেছেন।

অর্থাৎ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এককভাবে ইতিহাসের গতিপথকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। উনার পরবর্তী মুজাদ্দিদ ছিলেন হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার লেখনী মুবারক দ্বারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদ মুবারক উনার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করে গিয়েছেন, ব্রিটিশবিরোধী মানসিকতার প্রচারপ্রসার করে গিয়েছেন। উগ্র মারাঠা হিন্দুদের বিরুদ্ধে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ, যা কিনা উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য বাঁচা-মরার প্রশ্ন ছিল, উহার বিজয় হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই ছিনিয়ে এনেছেন। তিনিই চিঠি লিখে আফগানিস্তান থেকে হিন্দুস্তানে এসে মারাঠা হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইতিহাসখ্যাত বীর হযরত আহমদ শাহ আবদালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলেন।

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সরাসরি কোনো জিহাদ মুবারক করেননি। কিন্তু উনার পরবর্তী যিনি সুমহান মুজাদ্দিদ ও খলীফা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সরাসরি জিহাদ মুবারকে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী জিহাদ উনার ইমাম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ ও খলীফা ছিলেন হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মীর নিসার আলী তিতুমীর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনারা সবাই ইতিহাস বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং উনাদেরকে কেন্দ্র করেই গোটা পাক-ভারত উপমহাদেশের সমস্ত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের সমস্ত উত্থানপতনের ইতিহাস আবর্তিত হয়েছে।

এ হিসেবে পাক-ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সবই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু কুচক্রী ও তাদের অনুসারী সুশীল সমাজ নামধারী কিছু গ-মূর্খ দাবি করে যে, ভারতবর্ষের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সবই নাকি হিন্দুয়ানীকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

এখন এদের এই মিথ্যা দাবিকে কেন্দ্র করেই কিন্তু পহেলা বৈশাখ পালিত হয়, পূজায় ধুমধাম করা হয়। কিন্তু এরা এই মিথ্যা দাবি করতে পারছে কেন?

এরা এই মিথ্যা দাবি করতে পারছে, কারণ পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরা এ অঞ্চলে দ্বীন ইসলাম উনার যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে তা জানে না। তবে এ অঞ্চলের মুসলমানদের অনেকেই কিন্তু ক্রুসেডের ইতিহাস জানে, স্পেনে মুসলিম শাসনের ইতিহাস জানে। উপমহাদেশের বাইরের অধিকাংশ মুসলিম জাতির ইতিহাস সম্পর্কে তারা কিছুটা হলেও জানে। কিন্তু নিজেদের পূর্বপুরুষ, নিজেদের অতীত, নিজেদের ভূখ-ের ইতিহাসই তারা ঠিকমতো জানে না।

তাদের আবাসভূমি এই বাংলা ও উপমহাদেশের মাটিতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যে অবদান, এ অঞ্চলে মুজাদ্দিগণ উনাদের যে তাজদীদ ও ইতিহাসে উনাদের যে অবদান, উহার কোনো ইতিহাসই উপমহাদেশের মুসলমানরা জানে না। জানে না বলেই তারা হিন্দুদের মিথ্যা গলাবাজির কোনো দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারে না। ঈর্ষণীয় ইসলামপূর্ণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য থাকার পরও স্রেফ ইতিহাস জ্ঞানের অভাবে হিন্দুয়ানীর মধ্যে নিজেদের শেকড়-বাকড় খোঁজার কোশেশে পূজা ও পহেলা বৈশাখে শামিল হচ্ছে পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরা। নাউযুবিল্লাহ!


-গোলাম মুর্শিদ।

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মকবুলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ রহেন উজ্জ্বলে-১৩৪

পৃথিবীর ইতিহাসে নজীরবিহীন অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল চলছে

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

পর্নোর আসক্তি সর্বনাশা মাদকের চেয়েও ভয়াবহ । দেশের শিশু-কিশোরও এখন কঠিন ভয়াবহরূপে পর্নোতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ভারত, চীনসহ অনেক বিধর্মী রাষ্ট্রেও পর্নো নিষিদ্ধ। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের দেশ, বাংলাদেশে পর্নো নিষিদ্ধে এখনো উদ্যোগ নেই কেন?

বেপর্দা-বেহায়াপনায় আক্রান্ত কলুষিত সমাজের নতুন আতঙ্ক ‘সেলফি’। সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাংলাদেশে কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।