২৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচি। ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলা টিকা প্রদান প্রসঙ্গ। এদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী সংকোচন ও জনসম্পদ পঙ্গু করার গভীর ষড়যন্ত্র।

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত শরীফ ও সালাম শরীফ।

গত ২৫শে জানুয়ারি তারিখে শুরু হয়ে ১৩ই ফেব্রুয়ারি তারিখে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় নয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের পাঁচ কোটি ২০ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলা টিকা দান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল।

এর আগে এত বেশিসংখ্যক শিশুকে একযোগে একটি কর্মসূচির আওতায় টিকা দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এবারই প্রথম ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েশিশু টিকা পেয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৫১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বিশাল এ কর্মকা- বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ কামনা করে বিবৃতি দিয়েছিল।

বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা সমাজের বিত্তবান শ্রেণীকেও এ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। সে বলেছিল, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে টিকা দেয়া হয়, সেটি সবচেয়ে মানসম্পন্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিভাগের লাইন ডিরেক্টর আবু জাফর মো. মুসা জানিয়েছিল, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা লেখাপড়া করে সেসব প্রতিষ্ঠানই টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

শুধুমাত্র এসব কর্তা ব্যক্তিই নয়, সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ টিকা সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ছিল এবং গুরুতর বিষয় যে, খোদ প্রধানমন্ত্রীও এ টিকা প্রসঙ্গে স¦তঃস্ফূর্ত ও বিশেষ প্রচারণা চালিয়েছিল।

প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিল, এই কর্মসূচি থেকে একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেছিল, সবাই আন্তরিক হলে কেউ বাদ যাবে না। আমি সব বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজের সন্তানকে টিকা দিন। আশপাশের সব শিশু যেন টিকা নেয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, æজনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস¦াস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষত: আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইন দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স¦াস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

কিন্তু আলোচিত হাম ও রুবেলা টিকা প্রদানে সংবিধানের উল্লেখিত ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেছেন। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত খবরে প্রতীয়মান হয়েছিল যে, আলোচ্য টিকা স্বাস্থ্যহানিকর।

পত্রিকান্তরে রিপোর্ট হয়েছিল-

শ্রীবরদীতে হাম রুবেলা টিকা নিয়ে দু’শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ”

শ্রীপুর ও হরিণাকুণ্ডু হাম রুবেলা টিকায় ২ ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ”

হাম-রুবেলা টিকা : ঝিনাইদহে একশ শিশু, গোপালগঞ্জে ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ”

উল্লেখ্য, সারাদেশ থেকেই এরকম খবর বহু এসেছিল। এর দ্বারা তীর্যক প্রশ্ন জোরদার হচ্ছিল যে, আলোচ্য হাম ও রুবেলা টিকা নিয়ে কোনো দুর্নীতি অথবা এদেশের মুসলমান জনসংখ্যা বা জনসম্পদ নিয়ে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র চলছিল কি-না?

কারণ, এর আগে গত বছর ১৩ই মার্চ দুই কোটি ১০ লাখ শিশুকে দুর্নীতির উদ্দেশ্যে ভারতীয় নিম্নমানের ওষুধ কোম্পানীর নিম্নমানের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল।

পাশাপাশি নাইজেরিয়ার পোলিও টিকা খাওয়ানোর অভিযোগও এখানে উল্লেখ্য। নাইজেরিয়ার ডা. হারুনা কায়েটা সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, শিশুদের খাওয়ানোর পোলিও টিকায় প্রথমত রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট করে দেয়ার উপাদান। দ্বিতীয়ত, বিগত নয় বছর ধরে গোটা পৃথিবীতে লাখ লাখ শিশুকে খাওয়ানো পোলিও টিকায় ক্যান্সারের ভাইরাস মেশানো হচ্ছে এবং তৃতীয়ত, ওরাল পোলিও টিকা পঙ্গুত্ব প্রতিরোধের পরিবর্তে পঙ্গুত্বের জন্য দায়ী প্রমাণিত হওয়ায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ ব্যাপক প্রোপাগান্ডা করে প্রতিষেধকের মোড়কে এসব ভয়ানক বস্তুটিই বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের লক্ষ লক্ষ শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছে মারাত্মক রোগটি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেবার অবিচল আস্থায়।

উল্লেখ্য, আজ থেকে দশ বছর আগে ২০০৪ সালে ডাঃ হারুনা সিদ্ধান্তগুলো জানিয়েছিলেন। এরই মধ্যে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ কেউই তার এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ কিংবা নাকচ করেনি।

ডাঃ হারুনা তার দেশের সাপ্তাহিক ট্রাস্ট পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘…ওরাল ভ্যাকসিনে আমি পরিষ্কারভাবে Adultration উদ্ঘাটন করেছি; এতে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদানের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটি লক্ষ্য করি তা হলো, এটি মানুষের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করে দেয় এবং এ ভ্যাকসিনে নেশাগ্রস্ত করার উপাদানও রয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, নাইজেরিয়াকে পোলিও মুক্ত করার নামে ইউনিসেফ প্রকৃতপক্ষে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্নভাবে পঙ্গু করে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আলোচ্য হাম ও রুবেলা টিকা প্রদানে যে এ ধরনের হীন ষড়যন্ত্রের বীজ লুকায়িত রয়েছে সে সম্পর্কে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। প্রথমত এটাকে ব্যাপক কর্মসূচি বলে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি এবারই ৯ মাসের পরিবর্তে পনের বছর বয়স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিশুকে আওতায় আনা হয়েছিল। হতে পারে এই সাড়ে পাঁচ কোটি শিশুকে প্রজনন ক্ষমতাবিহীন করে এদেশে মুসলিম জনসংখ্যা রোধ করা এবং যারা বেঁচে থাকবে তাদেরকে শক্তিহীন করে এদেশের মানব সম্পদকে ঠুনকো করার গভীর অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। কাজেই এ ধরণের হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারের তরফ থেকে পদক্ষেপ গ্রহনের আশায় তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বরং এটাকে ৯৭ ভাগ মুসলমান জনগোষ্ঠী তাদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে উপলব্ধি করে তাদেরই জেগে উঠতে হবে। প্রতিবাদ ও প্রতিহত করতে হবে।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ আরিফুল্লাহ

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)