আখবারুল আখইয়ার

সংখ্যা: ৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

হিকায়েতঃ একবার হযরত খাজা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পরনের একটি জামা পুরাতন এবং ছেড়া ছেড়া হয়ে গিয়েছিল। এক ব্যক্তি এসে তাঁকে একটি জামা দান করলো। তিনি প্রথমে (তার মন রক্ষার্থে) জামাটি পরিধান করলেন বটে; কিন্তু পরক্ষণেই সাথে সাথে ঐ জামাটি হযরত শায়খ নাজমুদ্দীন মোতায়াক্কাল রহমতুল্লাহি আলাইহিকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন, যেই নিয়ামত আমি ঐ পুরাতন টুটা-ফাড়া জামা থেকে লাভ করেছি তা নতুন জামার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

হিকায়েতঃ হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আদত ছিল যে অধিকাংশ সময় তিনি শরবত দ্বারা ইফতার করতেন। ঐ আদত অনুযায়ী যখন ইফতারের সময় হতো তখন তাঁর সামনে শরবতের একটি গ্লাস যার মধ্যে মুনাক্কার দানা থাকতো তা পেশ করা হতো। আর তিনি তার মধ্য থেকে অর্ধাংশ বা এক তৃতীয়াংশ উপস্থিত লোকদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন এবং বাকি অংশ নিজে খেতেন। অন্য সময় এর থেকেও কিছু অংশ কোন তলবগারকে ডেকে দিতেন। এরপর চর্বিযুক্ত তেলে ভাজা বা ঘিয়ে ভাজা দুটো রুটি তাঁর সামনে রাখা হতো। তাও শরবতের ন্যায় উপস্থিত লোকদের বন্টন করে দিয়ে বাকি অংশ নিজে খেতেন। (প্রতিদিন এশার নামাজের পর) দস্তরখানায় যখন নানারূপ খানা রাখা হতো (মুসাফির দরবেশ ও মুরীদানদের জন্য) তখন সবাই খেতো আর তিনি দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ পরের দিন ইফতারের সময় পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। শয়ন করার সময় যে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুতেন, দিনের বেলা সে কম্বল বিছিয়ে তিনি বসতেন। এই কম্বল এতটা ছোট ছিল যে, মাথার দিকে টানলে পা খালি থেকে যেতো।

হিকায়েতঃ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি অনেক সময় ঝুলিতে কতোক রুটি রেখে খেতেন এবং ইফতারের সময় ঝুলি থেকে এক টুকরা অথবা দু’টুকরা রুটি বের করে নিজের সামনে রাখতেন। হযরত শায়খ ফরীদুদ্দীন মাহমুদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণনা মতে, আমি একটা দীর্ঘ সময় ধরে হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ঝুলি বহণ করেছিলাম এবং হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খিদমতে হাজিরা দেয়ার সময় কয়েকবার তাঁকে বলেছিলাম যে, আমি যে রাতে তাঁর ওখানে “দালিয়া” অথবা “কারীর” নামক বৃক্ষের ফুল; পেট ভরে খেয়ে নিতাম তখন ঐ দিন আমার নিকট ঈদের দিনের মত মনে হতো। আর যেটা আমার থেকে বেঁচে যেতো সেটা আমার এক বন্ধু আমা থেকে নিয়ে নিত যা অন্যান্য লোকগণও খেতো। মোটকথা যখন “দালিয়া” অথবা “কারীর” ফুল এবং খাওয়ার মত অন্যান্য আর কিছুই মিলতো না তখন আমি ঝুলি হতে খানা খেতাম। শায়খ মাহমুদ রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, আমি হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দরবারেও অনেক বছর পর্যন্ত ঝুলি হতে খানা বহন করতাম এবং ঐ সমস্ত বুযুর্গ, ওলীআল্লাহ্গণ এই সাধারণ খাদ্য খেয়েই এত বড় কামালিয়াতের দরজা ও মাকাম হাছিল করেছিলেন।

হিকায়েতঃ হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এক খাদেম একদা খাদ্য পাকানোর সময় লবণ ধার করে খাদ্য পাকিয়ে শায়খের সামনে পেশ করলো। তখন তিনি তা বাতেনী দৃষ্টি দ্বারা জেনে নিলেন। খাদেমকে বললেন, এ খাদ্য থেকে খিয়ানতের গন্ধ অনুভব হচ্ছে। আমার জন্য এ খাদ্য খাওয়া নাজায়েয।

হিকায়েতঃ  একদা তাঁর বিবি সাহেবা হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট আরজ জানালেন, (আমাদের) একটা ছেলে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং ক্ষুধার কাতরতায় মৃত্যুর মুখোমুখি। হযরত গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি মাথা উত্তোলন করে বিবিকে বললেন, মাসউদ কি করবে, যদি মৃত্যু এসে যায়। আর সে ভুখা অবস্থায় মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং দুনিয়া থেকে সফর করে (আখেরাতের দিকে যায়)।

হিকায়েতঃ হযরত ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট রিয়াজত ও মুজাহিদা করার কথা ব্যক্ত করলেন তখন তিনি বললেন ত্বে এর রোজা রাখ। ত্বে এর রোজা ঐ রোজাকে বলা হয়, যে রোজার ইফতার শুধুমাত্র পানি দিয়ে করা হয় এবং এই রোজা কমপক্ষে তিন দিনের হয়ে থাকে। আর বেশী হলে এক বছরের জন্যও হয়ে থাকে। এই রোজার রীতি, নিয়ম-কানুন পূর্ববর্তী সূফীয়ায়ে কিরামদের সাধারণ নীতি ছিল। সুতরাং তিনি এরূপ রোজা রাখা শুরু করলেন এবং তিনদিন পর্যন্ত কিছুই খেলেন না। তৃতীয় দিন ইফতারের সময় এক ব্যক্তি তাঁর সামনে কয়েকটি রুটি নিয়ে এলো। তিনি ভাবলেন, সম্ভবতঃ এটা আল্লাহ্ পাক-এর গায়েবী সাহায্য, তাই তিনি সে রুটি দিয়ে ইফতার করলেন। কিন্তু পেট সেটা হজম করলো না বরং গলাধকরণ করা রুটির টুকরোগুলো সব মুখ থেকে বের হয়ে এলো। তিনি এ ঘটনা তাঁর পীর সাহেব ও মুর্শিদকে অবহিত করলেন। (অসমাপ্ত)

আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার মূল- হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তর- মুহম্মদ শামসুল আলম

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম