মির্জা গোলাম প্রতিশ্রুত মাহদী
হতে পারে কিনা?
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
বহু সংখ্যক মুতাওয়াতির হাদীছ শরীফের বিরুদ্ধে ইবনে-মাজাহ কিতাবে বর্ণিত উল্লিখিত হাদীছ শরীফখানা ছহীহ হতে পারে না। আর যদি আমরা উল্লেখিত হাদীছ শরীফানা ছহীহ বলে ধরে নেই, তবে বলি, হাদীছ শরীফখানার মর্ম অন্যরূপ হবে। ২১ নম্বর হাদীছ শরীফ উনার অর্থ এই যে, বাইতুল মুকাদ্দাসের উন্নতির সময় পবিত্র মদীনা শরীফের উৎসন্ন হওয়ার সূচনা হবে; পবিত্র মদীনা শরীফের উৎসন্ন হওয়ার যামানায় ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সূত্রপাত হবে, ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সময় কনষ্টান্টিনোপলের জয় করার সূচনা হবে, কনষ্টান্টিনোপল জয় করার যামানায় দাজ্জালের বের হওয়ার সূচনা হবে। অর্থাৎ উপরোক্ত ঘটনাগুলোর যামানা নিকট হবে, এরূপ ইবনে-মাজাহ শরীফে বর্ণিত হাদীছ শরীফের অর্থ এরূপ হবে, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার যামানা ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার যামানা একই হবে। মূল মন্তব্য, পবিত্র হাদীছ শরীফ, তরিকত তত্ত্ববিদ ও কাশফ্ শক্তিসম্পন্ন পীর ছাহিব উনারা ও মুহাদ্দিছগণের দ্বারা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আগমন হওয়ার যে চিহ্নগুলি উল্লিখিত হয়েছে, পাঞ্জাবের গোলাম কাদিয়ানীর মধ্যে তার একটি চিহ্নও পাওয়া যায় না, এ হেতু সে কিছুতেই মাহদী হতে পারে না। (সে মিথ্যাবাদী)
মির্জ্জা গোলাম কাদিয়ানী প্রতিশ্রুত
ঈসা মসিহ হতে পারে কিনা ?
(১) মিশকাত, ৪৭৯
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِيْ نَـفْسِيْ بِيَدِهٖ لَيُـوْشِكَنَّ أَنْ يَّـنْزِلَ فِيْكُمُ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلًا فَـيَكْسِرُ الصَّلِيْبَ وَيَـقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَفِيْضُ الْمَالُ حَتّٰى لَايَـقْبَـلَهُ أَحَدٌ حَتّٰى تَكُوْنَ السَّجْدَةُ الْوَاحِدَةُ خَيْـرًا مِّنَ الدُّنْـيَا وَمَا فِيْـهَا. ثُمَّ يَـقُوْلُ أَبُـوْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ فَاقْـرَؤُا إِنْ شِئْـتُمْ وإِنْ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُــؤْمِنَنَّ بِهٖ قَـبْلَ مَوْتِهٖ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যাঁর আয়ত্ত্বাধীনে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে উনার শপথ, নিশ্চয়ই অচিরে তোমাদের মধ্যে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম ন্যায় বিচারক শাসনকর্তা হয়ে নাযিল হবেন, তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরগুলি হত্যা করবেন, ‘জিযিয়া’ কর উঠিয়ে দিবেন, বহু অর্থ দান করবেন, এমনকি কেউ তা গ্রহণ করতে চাইবেনা। এমনকি একটি সিজদা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্ত হতে উৎকৃষ্ট হবে। তারপর (হযরত) আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলতেছেন, যদি তোমরা ইচ্ছা করো, তবে (নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ) পাঠ করো। আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রিষ্টান) মাত্র উক্ত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উপর উনার বিছালী শান মুবারকের পূর্বে (অর্থাৎ শেষ যামানায় উনার আছমান হতে নাযিল হওয়ার পরে) ঈমান আনবে। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)