পূর্ব প্রকাশিতের পর
وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَـعْمَلُوْنَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তোমরা যা আমল করে থাকো মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা জানেন। উনার জানার বাইরে কিছু নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবার বলতেছেন, এইসব লোক যারা কিতাবের কিছু মানে কিছু অস্বীকার করে তারা কোন শ্রেণির?
أُولٰئِكَ الَّذِيْنَ اشْتَـرَوُا الْـحَيَاةَ الدُّنْـيَا بِالْاٰخِرَةِ
এরা হচ্ছে দুনিয়াকে খরিদ করেছে পরকালের বিনিময়। নাউযুবিল্লাহ! এরা পরকালকে বিসর্জন দিয়ে দুনিয়া খরিদ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন এদের জন্য কি ফায়ছালা?
فَلاَ يُخَفَّفُ عَنْـهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُـنْصَرُوْنَ
এদের কোন শাস্তি লাঘব করা হবে না, হালকা করা হবে না। এরা কোন সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। কঠিন আযাব-গযবে এরা পাকড়াও হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলে দিচ্ছেন, কিছু মানবে কিছু অস্বীকার করবে সেটা হবে না। এখন হজ্জ করা ফরয। হজ্জের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সেটাও ফরয। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলা হচ্ছে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হচ্ছে, এখন জালিম বাদশা যদি হয় তখন হজ্জ ফরয থাকে না। এখন কারো হজ্জ ফরয হলে তাকে হজ্জ করতে হবে। যেমন পর্দা করা ফরয, বেপর্দা হলে সে কঠিন গুনাহয় গুনাহগার হবে।
তাহলে বিষয়টাতো তাকে ফিকির করতে হবে। একজন মহিলা তার পর্দার জন্য যতপ্রকার ব্যবস্থা সেটা তাকে গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে কোন অবস্থায় গাফলতী করা যাবে না। এখন বেপর্দা হলে যে গুনাহটা হয়ে থাকে যেটা আমরা অনেকবার বলেছি, আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফে অনেকবার অনেক সংখ্যায় দিয়েছি যে, একটা লোক একশ’ বছর বেঁচে থাকলে মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন সে যদি কোন ফরয আমল নাও করে তার যতটুকু গুনাহ হয়ে থাকে, দুই/চার ঘন্টা বেপর্দা হলে তার চেয়ে বেশি গুনাহ তার হয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে বিষয়টাতো ফিকির করতে হবে।
سُلْطَانٌ جَائِرٌ
এখন কেউ যদি বলে জালিম বাদশা, সেতো হারাম কাজ করাবে তাহলে হজ্জ কি করে ফরয হবে? হজ্জ তো ফরয হবে না। তাহলে হজ্জ কি করে করবে? তাহলে মুসলমানদের দায়িত্ব হবে কর্তব্য হবে সম্মিলিতভাবে সেই জালিম বাদশাকে এ বিষয়গুলি বলা, তাকে জুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, তোমরা জালিম ও মাজলুম উভয়কে সাহায্য করো। জালিম মজলুম উভয়কে সাহায্য করো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জালিম এবং মাজলুম দুইজনকে কি করে আমরা সাহায্য করবো? মজলুমকে সাহায্য করতে পারি জালিম থেকে বাঁচানোর জন্য। তাহলে জালিমকে কি করে সাহায্য করবো? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, জালিমকে জুলম থেকে ফিরিয়ে দাও। সেটা তার জন্য সাহায্য হবে। সুবহানাল্লাহ! কাজেই এখন যে দেশ থেকে মানুষ যাবে সে দেশেই তার ছবি তুলতে হয়, ছাড়পত্র করতে হয় ছবি দিয়ে, আবার সেখানে যেয়ে অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফে অনেক ক্যামেরা রয়েছে যেগুলো দিয়ে ছবি উঠে থাকে। আর সেই সমস্ত ক্যামেরাগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরা। যেটা আমরা বলেছি, সাধারণ ক্যামেরাগুলি প্রতি মুহূর্তে ২০/৩০ টা ছবি তুলতে পারে। আর সেই ক্যামেরাগুলি প্রতি মুহূর্তে ৪০০ ছবি তুলে। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে এখানে ফিকিরের বিষয় রয়েছে। হজ্জ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে-
مَنْ حَجَّ فَـلَمْ يَـرْفُثْ وَلَـمْ يَـفْسُقْ
হজ্জ করলো, সে অশ্লীল-অশালীন কাজ করলো না, নাফরমানীমূলক কোন কাজ করলো না তখন তার হজ্জটা মকবুল হবে, সে এমনভাবে হজ্জ করলো অর্থাৎ আজকে যেন তার জন্ম হলো। সুবহানাল্লাহ! যে হজ্জে নাফরমানী করলো না, অশ্লীল-অশালীন কাজ করলো না,
رَجَعَ كَيَـوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
সে এমনভাবে প্রতাবর্তন করলো যেন আজকে তার জন্ম হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মাছুম হয়ে নিস্পাপ হয়ে সে প্রত্যাবর্তন করবে। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু এখন যদি হারাম কাজ সে করে তাহলে তার হজ্জই কবুল হচ্ছে না। তখন তার ফায়ছালা কি হবে? সে বিষয়টাতো ফিকির করতে হবে। এখন সেটা সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের ফিকির করার বিষয় ছিলো। যে মুসলমানদের ছাড়পত্রে বা পাসপোর্টে যেন ছবি না থাকে, আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) নেয়া হোক এবং হজ্জ করতে যেয়ে যেন কোন ছবি না তোলে। কোন স্থানে কোন অবস্থায় যেন ছবির কোন ব্যবস্থা না থাকে, সেটা খেয়াল করতে হবে। পুরুষের জন্য এবং মেয়েদের জন্য অর্থাৎ উভয়ের জন্য যেন পর্দার ব্যবস্থা থাকে। মেয়েদের জন্য যেন অবশ্যই পর্দার ব্যবস্থা থাকে। পর্দা মেয়েদের জন্য অবশ্যই ফরয। এখন পর্দা মেয়েদের জন্য ফরয ঠিক আছে। তবে পুরুষদের জন্যও ফরয করা হয়েছে। শুধু মেয়েদের জন্য ফরয না। অনেকে বলে থাকে পর্দা শুধু মেয়েদের জন্য। না পর্দা পুরুষদেরও জন্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন-
قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُـرُوْجَهُمْ ذٰلِكَ أَزْكٰى لَهُمْ إِنَّ اللهَ خَبِيرٌ بِۢـمَا يَصْنَـعُوْنَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন যে-
قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ
মু’মিনদেরকে বলে দিন।
يَـغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে। যেদিকে সেদিকে তারা যেন দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে। দৃষ্টি নিচের দিকে যেন রাখে। বেগানা মহিলার দিকে যেন তারা দৃষ্টি না দেয়।
وَيَحْفَظُوْا فُـرُوْجَهُمْ
তাদের ইজ্জত-আবরু তারা যেন হিফাযত করে।
ذٰلِكَ أَزْكٰى لَـهُمْ
এটা তাদের জন্য পবিত্রতা।
إِنَّ اللهَ خَبِيرٌ بِۢـمَا يَصْنَـعُوْنَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জানেন তারা কি করে থাকে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতা। এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেন-
وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُـرُوْجَهُنَّ وَلَا يُـبْدِيْنَ زِيْـنَـتَـهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْـهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُـوْبِـهِنَّ
এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেন-
وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ
মেয়েদেরকে বলে দিন।
يَـغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ
তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে, নিচের দিকে। বেগানা পুরুষদের দিকে দৃষ্টি না দেয়। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ: কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য