ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (২১)

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মু’মিন আর ফাসিক সমান নয়

(পূর্বে প্রকাশিতের পর)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৩৮-৪১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন,

قَالَ ادْخُلُوْا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَـبْلِكُمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي النَّارِ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَـهَا حَتّٰى إِذَا ادَّارَكُوْا فِيْـهَا جَمِيْـعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّـنَا هَؤُلَآءِ أَضَلُّوْنَا فَاٰتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَّلٰكِنْ لَّا تَـعْلَمُوْنَ. وَقَالَتْ أُولَاهُمْ لِأُخْرَاهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَيْـنَا مِنْ فَضْلٍ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْـتُمْ تَكْسِبُـوْنَ. إِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوا بِاٰيَاتِنَا وَاسْتَكْبَـرُوا عَنْـهَا لَا تُـفَتَّحُ لَهُمْ أَبْـوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ ، وَكَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ. لَـهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَـوْقِهِمْ غَوَاشٍ ، وَكَذٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ

(মহান আল্লাহ পাক) তিনি বলবেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জ্বিন ইনসান যারা অতীত হয়েছে বা চলে গিয়েছে ঐ দলের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন তারা অপর দলকে লা’নত দিবে এমনকি যখন তারা সকলে জাহান্নামে একত্রিত হবে তখন পরবর্তী দল পূর্ববর্তী দলকে উদ্দেশ্য করে বলবে, হে আমাদের রব! এ সমস্ত লোকেরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। (মহান আল্লাহ পাক) তিনি বলবেন, প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ। তোমাদের জন্যও দ্বিগুণ, তাদের জন্যও দ্বিগুণ। তোমরা তা জানো না। পূর্ববর্তী দল পরবর্তী দলকে বলবে, আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে শাস্তি ভোগ করো। নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াত শরীফ মিথ্যারোপ করবে এবং অহংকার করে তা (আয়াত শরীফ-এর অনুসরণ করা) থেকে ফিরে যাবে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সূঁচের ছিদ্রের মধ্যে উট প্রবেশ করবে (অর্থাৎ সূঁচের ছিদ্রের মধ্যে উট কখনো প্রবেশ করতে পারবে না আর তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না) এভাবেই আমি পাপীদেরকে শাস্তি দেই। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শয্যা বা বিছানা আর তাদের উপর থাকবে আগুনের আচ্ছাদন। এভাবেই আমি যালিমদেরকে শাস্তি দেই।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম শরীফে সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেছেন। এই আয়াত শরীফ থেকে সুষ্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, বর্তমানে যারা করোনাকে ছোঁয়াচে বলে বা হারাম-নাজায়িয কাজগুলোকে মিথ্যা ফতওয়া দিয়ে মানুষকে কুফরী করিয়ে থাকে তাদের এবং তাদেরকে যারা অনুসরণ করছে উভয় দলের পরকালে কত লাঞ্ছণাদায়ক অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে তাদেরকে পরকালে শাস্তি দিবেন সে বিষয়েও জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এ বিষয়ে আর কারো কোনো কথা শুনা হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ উনার ২১-২২ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

وَبَـرَزُوا لِلّٰهِ جَمِيعًا فَـقَالَ الضُّعَفَآءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَـرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَـبَعًا فَـهَلْ أَنْـتُمْ مُّغْنُـوْنَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللهِ مِنْ شَيْءٍ، قَالُوْا لَوْ هَدَانَا اللهُ لَهَدَيْـنَاكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْـنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَـرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيْصٍ. وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُّكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ. وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْـتُمْ لِيْ. فَلَا تَـلُؤْمُوْنِي وَلُوْمُوْا أَنْـفُسَكُمْ مَّا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْـتُمْ بِمُصْرِخِيَّ. إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُوْنِ مِنْ قَـبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَـهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

তারা সবাই যখন মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে উপস্থিত হবে, তখন যারা অহংকারী তাদেরকে দূর্বলরা বলবে, আমরা তোমাদের অনুসরণ করেছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার কোন আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে? তারা বলবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন তাহলে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা অস্থির হই অথবা ধৈর্য্য ধরি উভয় অবস্থা আমাদের জন্য সমান। এখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই বা আশ্রয়স্থল নেই। যখন এই (বাঁচার পথ না থাকার) ফায়সালা হয়ে যাবে তখন শয়তান বলবে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের সাথে সত্য ওয়াদা করেছেন। আমিও তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি। আমি ওয়াদা ভঙ্গ করেছি। তোমাদেরকে আমার দিকে ডাকা ব্যতীত তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছো। তোমরা আমাকে তিরস্কার করো না। তোমাদের নিজেদেরকে তিরস্কার করো। তোমরা আমার উদ্ধারকারী নও আর আমিও তোমাদের উদ্ধারকারী নই। তোমরা যে আমার সাথে শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয়ই যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এ পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, দুনিয়াতে যারা অহংকার করে শরয়ী আদেশ-নিষেধ অমান্য করতে মানুষকে প্ররোচিত করবে, যেমন কিছু লোক নিজেদেরকে সবজান্তা ভাবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে যে- ‘রোগ সংক্রামক’। তাদের কথা যারা বিশ্বাস করে অর্থাৎ দুর্বল মনের অধিকারীরা, যারা শরীয়তের দলীল ব্যতীত যা শুনে তাই বিশ্বাস করে তারা তাদের লিখা পড়ে মনে করছে, হ্যাঁ, কারো করোনা হলে তার থেকে সতর্ক থাকতে হবে’। এই ব্যক্তিরাই পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা তখন যাদের কথা অনুসরণ করে কুফরী করেছে, তাদের কাছে সাহায্য চাবে কিন্তু আফসোস! তাদেরকে কেউ কোনো সাহায্য করবে না বরং বলবে, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাদের পথ দেখাতেন তাহলে আমরাও তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাতাম’। নাউযুবিল্লাহ! আসলে তাদের এই কথাও এক প্রকার ধোঁকা বা প্রতারণা। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি তো আমাদেরকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীমের পথ দেখিয়েছেন। তারা নিজেরা মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে সরে গিয়ে উনার প্রতি মিথ্যারোপ করবে। নাউযুবিল্লাহ! প্রবঞ্চক শয়তান তখন প্রতারিত পাপীদেরকে উপহাস করে বলবে, তোমরা কেন আমার ডাকে সাড়া দিলে? কেন আমার ধোঁকা বিশ্বাস করলে? এজন্য এখন কেন আমাকে দোষারোপ করছো? বরং তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে তিরস্কার করো! নাঊযুবিল্লাহ!

এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ২১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِينَ اٰمَنُوا لَا تَـتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ، وَمَنْ يَّـتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهٗ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। যে ব্যক্তি শয়তানের পদাংক অনুসরণ করবে শয়তান তাকে ফাহেশা বা মন্দ ও হারাম-নাজায়িয কাজের আদেশ করবে। (অসমাপ্ত)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (২০)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৯)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৮)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৭) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সত্যের মাপকাঠি

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৬)