আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কালিমার দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন, হক প্রচার করা আরম্ভ করলেন, তখন কাফিররা তাঁকে বহু ভয়-ভীতি দেখিয়েছিল, এমনকি শহীদ করে ফেলার হুঙ্কারও তুলেছিল। কিন্তু কাফিরদের সেই ভয়-ভীতি আর হুঙ্কারে কোনই কাজ হয়নি বরং সব ধুলোয় মিশে গেছে। আর এ প্রসঙ্গেই মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “কাফিররা চায় আমার হাবীবকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দিতে। কিন্তু আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীবকে কামিয়াবী দান করবেনই করবেন। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।”
উপরোক্ত সুন্নত পালিত হচ্ছে মাসিক আল বাইয়্যিনাত এবং তার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষকের ক্ষেত্রেও। ওহাবী, খারিজী ও রেজভীরা চেয়েছিল ভয়-ভীতি আর হুঙ্কার মেরে আল বাইয়্যিনাতের সাহসী কলমকে স্তব্ধ করে দিতে। কিন্তু আল্লাহ্ পাক চান আল বাইয়্যিনাতের সাহসী কলম তার গতিতেই সামনের দিকে অগ্রসর হোক। কাজেই “থামুন” বললেই কি তা থেমে যাবে?
অতএব, রেযাখানী ফযলু রিমোট কন্ট্রোল বোমা, জাল, তলোয়ার ইত্যাদির যতই ভয়-ভীতি দেখাক না কেন এবং সামনে বাড়লে বিপদ আছে বলে যতই হুঙ্কার আর হুমকী দেকনা কেন “আসাদুল্লাহ্রূপী আল বাইয়্যিনাত” “বিড়ালরূপী রেযাখানী ফযলুর হুঙ্কারে” মোটেও ভীত নয়। কাজেই বিড়ালের হুঙ্কারে আসাদুল্লাহ্র অগ্রযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার চিন্তা করাও আহমকী।
পাঠক! ফযলু আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতি মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল যে, “আল বাইয়্যিনাত শুধুই গালাগালি করে।” আমি গত সংখ্যায় তার উক্ত মিথ্যা অভিযোগ খন্ডন করে লিখেছিলাম যে, “আল বাইয়্যিনাত কখনোই কাউকে গালাগালি করেনা বরং কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে দুনিয়াদার ও ভন্ড মৌলভীদের দোষ-ত্রুটি গুলো তুলে ধরে। ঐ দোষ-ত্রুটি গুলো উল্লেখ করতে গিয়ে মিথ্যাবাদীকে মিথ্যাবাদী বা কায্যাব বলা, দালালকে দালাল বলা যদি গালাগালি হয় তবে তো ফযলুর মতে আল্লাহ্ পাকও কুরআন শরীফে গালাগালি করেছেন। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।) কারণ আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে ওয়ালিদ বিন মুগীরার দশটি দোষ উল্লেখ করেছেন; এমনকি তাকে অবৈধ সন্তান বলেও উলেখ করা হয়েছে। রেযাখানীরা এগুলোকেও গালি বলবে কি?
পাঠক! ফযলু আমার উক্ত বক্তব্য খন্ডন করতে ব্যর্থ হয়ে এবং ‘আল বাইয়্যিনাত’ গালাগালি করে তা প্রমাণ না করতে পেরে পুনরায় সেই একই মিথ্যার অবতারণা করেছে যে, ‘আল বাইয়্যিনাত গালাগালি করে।’ তবে এর সাথে সে নতুন করে যুক্ত করেছে “গালি প্রতিযোগিতার ফলাফল।” যে ফলাফল প্রমাণ করে যে, দালাল ফযলু আসলেই একজন অভিজ্ঞ গালিবাজ। কারণ অভিজ্ঞতা ছাড়া তো আর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সম্ভব নয়। সুতরাং সে যে আসলেই গালির গোলাম তা সে নিজেই স্বীকার করে নিল।
ফযলু দালালী অস্বীকার করবে কিভাবে?
পাঠক! আমি গত সংখ্যায় লিখেছিলাম যে, ফযলু ভন্ড জলীলের দালালীতে মশগুল। ফযলু তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু এ ধ্রুব সত্যকে সে অস্বীকার করবে কিভাবে? কারণ সে যদি জলীলের দালালীই না করতো, তবে লক্বব কম বেশীর বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাল অথচ দরুদ শরীফ সংক্ষেপে লিখার বিষয়টি নিয়ে কিছুই বললোনা! যে কারণে তার অবৈধ বুলেটিনকে “কুফরী বার্তা” বলা হয়েছিল, তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল দরুদ শরীফ সংক্ষেপে লিখার বিষয়টি। আর তা জলীলের গুরু রেযা খাঁর ফতওয়া মতেই। কেননা রেযা খাঁ-ই তার মজমুয়ায়ে রাসায়েলের ১০ পৃষ্ঠায় দরুদ শরীফ সংক্ষেপে লিখাকে কুফরী বলেছে।
অতএব, ফযলু যদি জলীলের দালালই না হবে তবে এ বিষয়টি নিয়ে কোনরূপ উচ্চ-বাচ্য করেনি কেন? না করার কারণ হচ্ছে, সে ভাল করেই বুঝতে পেরেছে যে, লক্বব কম-বেশী করার বিষয়টি সাত-পাঁচ লিখে পাঠককে একটি বুঝ দেয়া যাবে; কিন্তু দরূদ শরীফের বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করলে গুরুর তরবারীতে শিষ্যের মাথা কাটা যাবে। আর তখন দালালী টিকিয়ে রাখা হবে মহা কঠিন।
পাঠক! ফযলু লিখেছিল “….. আব্দুল জলীলেরটা বেয়াদবী তা কোন কিতাবে লিখা আছে, ……। ” এর জবাবে আমি ৯৬তম সংখ্যায় লিখেছিলাম যে, “কোনটা বেয়াদবী আর কোনটা বেয়াদবী নয় তার সবই স্পষ্টভাবে কিতাবে উল্লেখ নেই।” বরং কোন কোনটা উল্লেখ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই ইমাম-মুজতাহিদগণ আক্বল দ্বারা বা ক্বিয়াস দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন যে, এটা বেয়াদবী। এর প্রমাণ স্বরূপ কয়েকটি মাসয়ালাও আমি উল্লেখ করেছিলাম। যেমন উল্লিখিত মাসয়ালা গুলোর মধ্যে একটি মাসয়ালা ছিল “স্বীয় পীর ছাহেবের দিকে পা দেয়া বেয়াদবী।” ছূফীগণ ক্বিয়াস করেই এ ফায়সালা দিয়েছেন। কারণ কুরআন, হাদীসের কোথাও এ মাসয়ালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
যে ক্বিয়াস শরীয়তের একটি অন্যতম দলীল ও কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সে ক্বিয়াসকেই সে গুরুত্ব দিলনা বরং অস্বীকার করে বসলো। সে যে শুধু ক্বিয়াসকেই অস্বীকার করেছে তা নয় বরং আমার উল্লিখিত ইমামে আযম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাসয়ালাটিরও অপব্যাখ্যা করেছে।
আমি উক্ত মাসয়ালাটি এ কথা প্রমাণ করার জন্যই উল্লেখ করেছি যে, কিতাবে না থাকার পরও ‘বেখেয়ালে দরূদ শরীফ পড়াকে’ ইমামে আযম বেয়াদবী মনে করলেন। মূলতঃ আক্বল বা ক্বিয়াস দ্বারাই তিনি এ ফায়সালা দিয়েছেন। আর তিনি রসূলের শানে বেয়াদবীর শাস্তি হিসেবে সাহু সিজদার নির্দেশ দেননি বরং দরূদ শরীফ পড়ার ক্ষেত্রে গাফলতীর কাফ্ফারা স্বরূপ সাহু সিজদার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ অপব্যাখ্যাকারী ফযলু আমার উক্ত সহজ-সরল বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে তা নিয়ে লাগিয়ে দিল রসূলের শানে বেয়াদবীর সাথে। সরাসরি রসূলের শানে বেয়াদবী আর দরূদ শরীফ পাঠের ক্ষেত্রে ছন্দপতনের কি একই হুকুম? ইমাম আযম কি বলেছিলেন যে, রসূলের শানে বেয়াদবীর কারণে সাহু সিজদা দিলাম, না বলেছেন দরূদ শরীফ পাঠে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখার জন্য সাহু সিজদা দিলাম।
পাঠক! একবার এক চতুর ও ধনী ব্রাহ্মণ ঘোষণা দিল যে, যে ব্যক্তি আমাকে ‘অমুক’ বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে পারবে তাকে আমার স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিব! ব্রাহ্মণের স্ত্রী একথা শুনে বললো, আপনি বলেন কি? এমন অনেকেই তো আছে যে আপনার এ বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়ার যোগ্যতা রাখে। আর তখন তো আপনাকে সমস্ত সম্পত্তিই লিখে দিতে হবে। ব্রাহ্মণ বললো, এত সহজ নয়, কারণ সে আমাকে যতই বুঝাক না কেন, আমি বলবো, আমি বুঝি নাই। সুতরাং আমি যদি না বুঝি আমাকে বুঝাবে কে? আমি যদি না মানি আমাকে মানাবে কে? দালাল ফযলুর অবস্থাও ঠিক তাই, যতই দলীল, উপমা-উদাহরণ ইত্যাদি দেয়া হোকনা কেন ফযলু তা মানবে না। বরং উল্টো সেটাকে অপব্যাখ্যা করে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, ফযলু চতুর ব্রাহ্মণেরই যোগ্য মুকাল্লিদ।
পাঠক! ফযলু নিজেই নিজের প্রশংসা গাইতে খুবই পারদর্শী। আর নিজের প্রশংসা নিজে না গেয়েই বা উপায় কি! তার ঐ বস্তা পঁচা উপন্যাস যে খোদ তার জাতি ভাইয়েরাই পছন্দ করেনা। তাই নিজে যদি নিজের প্রশংসা না গায় তবে তো ভাতাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সে নিজের প্রশংসা নিজেই গাইতে থাকে। সে লিখেছে, “পাঠকরা নাকি তার লিখা পড়ে খুব মজা পায়” আর একেই বলে “গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল।”
পাঠক! ফযলু লিখেছে “আমি নাকি বাহাসে আসতে ভয় পাই। এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমি যে বাহাসে ভয় পাই এটা সে বুঝলো কি করে? আমি কি লিখেছি যে, আমি বাহাস করবো না? তাছাড়া ফযলু কি পূর্ববর্তী সংখ্যায় বাহাসের কথা উল্লেখ করেছিল? করেনি। সেও বাহাসের কথা উল্লেখ করেনি, আমিও বাহাসের ব্যাপারে কিছুই বলিনি অথচ সে বলেছে আমি বাহাসে আসতে ভয় পাই। বাহাসের নামে এটা প্রতারণা নয় কি? আসলে “পাত্রে আছে যাহা ঢালিলে পড়িবে তাহা” অর্থাৎ যার অন্তরে যা আছে তাই বের হয়। মূলতঃ হাক্বীক্বত ফযলুই বাহাসে ভয় পায়, তাই তার মুখ দিয়ে একথা বের হয়েছে। আর ভয় পাওয়ারই তো কথা; কারণ তার গুরু জলীলই তো বাহাসের কথা শুনে আত্কে উঠে। আর ফযলু তো তার দালাল ও গোলাম মাত্র।
অতএব, তার যদি সাহস থাকে তবে সে যেন আল বাইয়্যিনাত অফিসে এসে বাহাসের ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়। অর্থাৎ কখন বাহাস করবে, কি নিয়ে বাহাস করবে? কোথায় বাহাস করবে, বাহাসে কে কে থাকবে ইত্যাদি বিষয় গুলো একশত টাকার ষ্ট্যাম্পের মধ্যে লিখে স্বাক্ষর করে। যেহেতু বাহাসের কথা ফযলুই প্রথমে বলেছে, তাই বাহাসের যাবতীয় ব্যাপারে তাকেই এগিয়ে আসতে হবে।
পাঠক! আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, ফযলু যদি দেখাতে পারে যে, “আল বাইয়্যিনাতের কোথাও জলীলের অনুরূপ লিখা আছে তবে তাকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।”
ফযলু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে বললেও পত্রিকায় তার প্রমাণ পেশ করতে সক্ষম হয়নি। আমি পরবর্তী সংখ্যায় তা উল্লেখ করার কথা বললাম, কিন্তু পরবর্তী সংখ্যায়ও সে উল্লেখ করতে সক্ষম হয়নি।
অতএব, প্রমাণিত হলো যে, ফযলুর নিকট অনুরূপ কোন প্রমাণ নেই। যদি থাকতো তবে সে তা অবশ্যই উল্লেখ করতো। কাজেই এক্ষেত্রে তার পরাজয় বরণ করে নেয়া ব্যতীত করারই বা কি আছে? কিন্তু চতুর ফযলু শেষ রক্ষার জন্য বলছে “আমি হাজার-হাজার মানুষের সামনে দেখাবো” পত্রিকায় লিখতে হবে একথা কি আল বাইয়্যিনাতের কোথাও লিখা হয়েছিল?” খুব ভাল কথা, পত্রিকায় দিতে হবে একথা আল বাইয়্যিনাতে লিখা হয়নি তাই পত্রিকায় দিবেনা। কিন্তু তার কাছে প্রশ্ন- আল বাইয়্যিনাতের কোথাও কি লিখা হয়েছিল যে, তা হাজার হাজার মানুষের সামনে দেখাতে হবে? এসমস্ত আবল-তাবল বলে কি আর পরাজয় ঠেকানো সম্ভব? এতে কি ফযলুর শেষ রক্ষা হবে?
-মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।