মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম।
সুলতানুত্ তরিক্বীন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি
(ধারাবাহিক)
যে ব্যক্তি আয়নার মধ্যে নিজের চেহারা ও ছূরত দেখতে চায় সে প্রথমে আয়নাটাকে পরিস্কার করে নেয়। কিন্তু যদি সে আয়নাকে পরিস্কার না করে তবে আয়নায় দেখাটা অপ্রাকৃতিক ও অসম্ভব। এভাবে ত্বরিকতের রাস্তায় যে সালিক নিজের আত্মা বা ক্বলবের চেহারাকে বাশারীয়ত বা মানবীয় গুনাবলীর জাত থেকে পাক-ছাফ বা পরিস্কার না করবে তবে সে যেন এক অপ্রাকৃতিক বা অসম্ভব বস্তুর অনুসন্ধানে রত আছে। আর যে ব্যক্তি স্বীয় আত্মা পাক-ছাফ করেনা (এবং বলে আমি দীদারে মাওলার অনুসন্ধানী) তবে সে অনর্থক এবং বেহুদা কথা বলে। তলব এর অর্থ এটা নয় যে, ঐ জাত পাক উনার স্বীকৃতি বা প্রমান দিবে বরং এর অর্থ এটাই যে স্বীয় অস্তিত্বকে ফানা এবং মাহু করে দাও। তলব ওটাকেও বলেনা যে যার জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি বা ছুটাছুটি করবে। বরং তার অর্থ নিজের হাস্তি (অস্তিত্ব) এবং জাত থেকে হাত ধুয়ে নাও। অর্থাৎ পৃথক হয়ে যাও। (পুনরায় বলি) তলব এটাও নয় যে আল্লাহ পাককে অনুসন্ধান করে নিবে। বরং তলব তো এটাই স্বীয় জাত থেকে انا (আমি) খতম করে দাও। পরিস্কার কথা হচ্ছে যখন তুমি তোমার আত্মা বা ক্বলবের আয়নাকে ধুয়ে নিবে তখন তাতে অবশ্যই অজুদী আকসের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হবে। “তলবগার বা অনুসন্ধানী সালিকের সীরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলা চাই। এবং ঐ রাস্তায় বা গোমরাহীর রাস্তায় চলনেওয়ালা ব্যক্তিও তার রাস্তাকে সরল পথ বলে থাকে। ভালভাবে শুনে নাও, গোমরাহীর পথে চলমান ব্যক্তি যে নাকি খায়েশে নফসের ইত্তেবা বা অনুসরণ করে থাকে।” হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, সুলুকের পথে মোটামুটি মাকামাত বা উন্নতি লাভের জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে ইলম হাছিল করা। কেননা জেনে নিবে ত্বরিকতের রাস্তায় নির্ধারিত ইলম অর্জন ব্যতীত চলাটা সঠিক নয়। বরং প্রতিটি (মুহূর্তে) সময়ে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থা হচ্ছে এই রাস্তায় আমল করা এবং এর মধ্যে দায়িম-কায়িম বা দৃঢ় থাকা। আমল ছাড়া নিয়তের অস্তিত্বের কোন মূল্য নেই। তৃতীয়তঃ আল্লাহ পাক উনার দরগাহ ও তাঁর পাক দরবারে পৌঁছার জন্য নিয়ত শর্ত বা জরুরী । অতঃপর মতলকে নিয়ত বা শুধুমাত্র (মৌখিক) নিয়ত দ্বারাই উদ্দেশ্য হাছিল হবার নয়। বরং এর নিয়ত ছহীহ্ ও বিশুদ্ধ হওয়া চাই। কেননা পরিশুদ্ধ নিয়ত ব্যতীত আমলে ছালেহ বাতিল তথা গ্রহণযোগ্য হবেনা। চতুর্থ দরজা হচ্ছে, সিদ্ক বা সত্যবাদীতা। সিদ্ক ব্যতীত ইশ্ক পর্যন্ত পৌঁছা অসম্ভব। পঞ্চম দরজা হচ্ছে ইশ্ক। এই রাস্তায় চলার জন্য সালিকের আশেক হওয়া চাই। এটা ব্যতীত সে আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হতে পারবেনা। ষষ্ঠ মরতবা হচ্ছে, তাওয়াজ্জুহ্ বা রুজু, মনযোগী হওয়া। এটা এজন্য জরুরী যে এটা ব্যতীত ত্বরীকতের রাস্তাই মিলেনা। সপ্তম দরজা হচ্ছে সুলুক। অর্থাৎ সুলুক ব্যতীত আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হয়না। অষ্টম হচ্ছে হুযূরী বা নৈকট্য। নৈকট্য ব্যতীত ইনসান তার মনজীলে মাকসুদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনা। সুলুকের প্রথম পদক্ষেপ বা প্রথম মরতবা হচ্ছে উভয় জাহান থেকে বেখবর হয়ে (একমাত্র) মহান আল্লাহ পাক উনারই মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া।
এজন্য (পবিত্র) কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে,
كل شىء هالك الاوجهه.
অর্থ : “আল্লাহ পাক উনার সত্ত্বা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।” (সূরা কাছাছ/৮৮) (অসমাপ্ত)