মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম।
(ধারাবাহিক)
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি বাল্যকাল থেকেই ইসলাম কবুল করার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আর একজন হলেন হযরত ওয়াইস আল কারণী রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তাঁর পরিচিতি বা নিদর্শন বর্ণনা না করতেন তবে কোন রেসালায় তাঁর নাম থাকতো না। তাঁর জীবনের (বিবিধ) হালতসমূহও কিতাবে বর্ণনা করা হতোনা। তিনি কতইনা সৌভাগ্যবান বা খোশ নসীবওয়ালা ছিলেন যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বারগাহে বা পাক দরবার শরীফেও তাঁর ইজ্জত-সম্মান ছিল। হযরত ওয়াইস আল কারণী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দুনিয়াতে না কিছু ছিল, না তিনি সঙ্গে করে কিছু নিয়ে গেছেন। এই পৃথিবীতে তিনি মুক্ত হয়ে এসেছেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে এখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে আরেক জন ছিলেন হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি ইসলামের দাওয়াত ও হিদায়েত গ্রহণ করার জন্য প্রথম থেকেই উদ্যমী ও প্রস্তুত ছিলেন। তিনি রোজ আজলে আল্লাহ্ পাক-এর (“আমি কি তোমাদের রব নই” এ প্রশ্নের উত্তরে “অবশ্যই আপনি আমাদের রব”) এই আহাদনামা বা অঙ্গীকার পূর্ণ করার জন্য (প্রথম থেকেই) ইসলামের আমালী জিন্দেগীতে প্রবেশ করার জন্য হক্ব ও সত্যের তালাশে ছিলেন। আর যখন তিনি হক্বের সন্ধান পেলেন তখন তাঁর দিল বলতে লাগলো, এই ফানী লোকদের কিছু ব্যাখ্যা করা দরকার আছে। সুতরাং এই সম্পর্কে আরজ যে, ফানী ঐসমস্ত লোককে বলে- যারা আল্লাহ্ পাক-এর সকল গুণাবলীর মধ্য থেকে ঐ সমস্ত গুণাবলীর ধ্যান, (যা ধ্বংসশীল-লয়প্রাপ্ত বস্তুর) চিন্তা ও ফিকির করে থাকে। কেননা আল্লাহ্ পাক-এর জাতের কোন ফানা নেই। কিন্তু ঐ সমস্ত লোক ধ্বংসশীল ও অস্তিত্বহীন বস্তুর মধ্যেই ফানা হয়ে রইলো। এভাবে তারা বিনাশপ্রাপ্ত বস্তুর পিছনে পড়ে হয়রানী-পেরেশানীতে গ্রেফতার হয়ে নিরাশার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো। (কিন্তু) নিরাশ না হওয়া চাই। রাহে ফানা বা ফানার রাস্তায় (সালেকের) মুহব্বতের মেসাল এ রকম যেমন স্বীয় অস্তিত্ব ও ফানার মাকাম থেকে বেনিয়াজ হয়ে আইনে ফানার মধ্যে সে প্রবেশ করে আর এ ফানাকেই আব্দ ও বাকা বলে। এ জন্য বুযুর্গানে মিল্লাত এবং (এই) উম্মতের দরবেশ ফকীরগণ-এর মধ্যে প্রবাদ আছে যে, “মূলুকে মারা জাওয়ালে নিস্ত” অর্থাৎ “আমাদের রাজত্বের কোন লয় বা বিনাশ নেই।” কেননা ফানা এক প্রকারের সলবী এবং না বোধক নির্দেশ সূচক (ইঙ্গিতবহন করে) যার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন ও স্বীকৃতি নেই। আর নিয়ম হচ্ছে এটাই যে, নফী ইজাবই হয়ে থাকে। সাল্ব যা কিনা স্বয়ং নিজেই মানফি; এ জন্য এটা মানফি হয়না। (এবং যদি নফিরও নফি হয় তাহলে তার থেকেও ইজাব বা স্বীকৃতি বাকায়ী (স্থায়িত্ব) বের হয়। কেননা মশহুর নিয়ম হচ্ছে, নফি থেকে নফির রীতিই স্বীকৃতি পায়। (অনুবাদক)
এটা এমন দুর্বোধ্য যে, যা বুঝে আসেনা। এটাকে এমনভাবে বিশ্বাস করতে হবে যেমন (দরবেশদের) প্রশস্ত সীনাতে বা ক্বালবের মধ্যে লুকায়িত গুপ্ত রহস্য কবরের গুপ্ত রহস্যের মতোই (অর্থাৎ কিনা কবরের মধ্যে কোন কিছু (লাশ) দাফন করার পর যেমন তা আর বের করার কারো ইচ্ছা থাকেনা আহ্রারদের সীনার ভেদও অনুরূপ। (অনুবাদক) আর (আহ্রারদের সীনার মধ্যে) গুপ্ত রহস্য যত বেশী হবে ততই একে গোপন রাখতে হবে এবং যা খারাপ বা ধ্বংসশীল তাতো লয় প্রাপ্ত হবেই।
হযরত হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, (গর্ভবতী নারীর) পেট দু’অবস্থা থেকে খালি নয়। হয় তার পেটে ছূরত সহকারে বাচ্চা পয়দা হবে অথবা তা নষ্ট হয়ে যাবে। এবং তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে আল্লাহ্ পাক-এর কুদরতে মাহফুজ থাকে। কিন্তু যদি ছূরত বা আকৃতি ধারণ করে সৃষ্টি হয় তাহলেও দু’অবস্থা থেকে পৃথক নয়। হয় তা যিন্দা হবে অথবা মুর্দা হবে। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার