বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ তরিক্বীন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি

সংখ্যা: ১০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম।

(ধারাবাহিক)

          যদি হামেলদার মহিলার পেটের সন্তান মৃত হয় এবং তার মধ্যে মানবীয় গুণাবলী প্রকাশ পেতে দেখা যায় তবে সে স্বাভাবিক মৃত্যু থেকে পৃথক থাকে। (এরপর) দেখতে হবে এই মৃত সন্তান যা হামেলদার মহিলার উদর থেকে মনুষ্য আকার আকৃতি বা গুণাবলী নিয়ে (পৃথিবীতে) এসেছে তার কি পূর্ণাঙ্গ মানব ছূরত প্রকাশিত হয়েছিল, না কি সে নাকেছ বা অপূর্ণ অবস্থায় এসেছে? যদি নাক্বেছ বা অপূর্ণ অবস্থায় তার জন্ম হয়ে থাকে তবে তার এই অপূর্ণতা ও গুণাবলী কম থাকার জন্যই তার (শেষ) ঠিকানা আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। ইজতিহাদী জাহিরী হিসেবে প্রথম ছূরত অর্থাৎ ইজতিহাদী বাতিনী হিসেবে যদি মৃত্যু হয় তবে সে জান্নাতের উঁচু মাকামে গিয়ে পোঁছবে। আর দ্বিতীয় ছূরত অর্থাৎ ইজতিহাদী জাহিরী হিসেবে যদি তার মৃত্যু হয় তবে কোন মঞ্জিলে অপেক্ষা করা ব্যতিরেকেই উচ্চতর মাকামে পৌঁছে যাবে।   কোন কোন বুযূর্গ বলেন যে, “কোন মুহাক্কিক বলেছেন যে, আল্লাহ্ পাককে অনুসন্ধান করা চাই।” আর এক শ্রেণীর আরবাবে তাহক্বীক্বগণ বলেছেন, “সুবহানাহুতাআলাকে অনুসন্ধান না করা চাই।”

          জেনে রাখ, এই দু’শ্রেণীর ক্বওলের কোন একটি ক্বওল সম্বন্ধেও খারাপ ধারণা না করা চাই। বরং এই দু’ক্বওলই সঠিক এবং ছহীহ্। যদিও একটির সাথে আরেকটি ক্বওলের বৈসাদৃশ্য  দেখা যায়। কিন্তু এটা কখনই ঠিক নয়। মোটকথা, জামানার তারতম্যের জন্য বা আরবাবে তাহক্বীক্বগণ একই জামানায় হওয়ার কারণে(অনেক সময়) তাদের ঘটনা হালসমূহ একটি আরেকটির বিপরীত হয়ে থাকে।

          দু’টি ক্বওল এর ব্যাখ্যা

          আল্লাহ্ পাককে তলব করা চাই। এর অর্থ এটাই বুঝায় যে, যদি আল্লাহ্ পাক-এর অনুসন্ধান না করা হয় তবে এটা যেন অনর্থক আবশ্যকীয়তার অবস্থা। আর যদি তাকে তলব করা হয় তবে আল্লাহ্ পাক-এর সাথে সম্পর্ক যুক্ততার অবস্থা এসে যাবে। কেননা আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জত-এর জাতে পাক এই দুই অর্থ থেকে (সম্পূর্ণরূপে পবিত্র) পাক-ছাফ ও পবিত্র। এবং তাঁর শানে এই দুই (রূপক) অর্থ সঠিক নয়। এখন এখানে প্রশ্ন আসে যে, আরবাবে তাহক্বীক্বগণ বলে থাকেন যে, আল্লাহ্ পাককে অনুসন্ধান করা চাই অথবা না করা চাই। যদি তাঁকে অনুসন্ধান করা হয় তাহলে তাঁর উপমা বা মেছালের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় আর যদি আল্লাহ্ পাক-এর অনুসন্ধানে না থাকা হয় তবে এই অনুসন্ধানে না থাকা অবস্থাটা অনর্থক হয়ে দাঁড়ায়। যার দু’টির (অর্থই) অনুপযোগী এবং শরীয়তের দৃষ্টিতেও তা বাতিল বা জায়েয নয়। তাহলে এখন (এর সমাধান) কি করা চাই?

          উপরোল্লিখিত (মতানুসারে) এর জবাব এটাই যে, উপমা, মেছাল বা ছূরত নিয়ে আল্লাহ্ পাক-এর অনুসন্ধান করা এবং অনর্থক(অসম্ভব) তাঁকে অনুসন্ধান করাটা এবং অনুসন্ধান না করার অর্থ তিনি আল্লাহ্ পাক খাছভাবে কোন দিক বা পার্শ্বে অবস্থান করেন না যে, তুমি সেই দিক বা পার্শ্ব অনুসরণ করে তাঁর অনুসন্ধান করবে। আর তিনি খাছভাবে এমন কোন বিশেষ জায়গায়ও থাকেন না যে তুমি ঐ জায়গাকে আবশ্যকরূপে ধরে থাকবে। তিনি আগন্তকও নন যে রোনাজারী, কান্নাকাটি করে তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে আসবে। তিনি দূরেও নন যে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য চেষ্টা বা কোশেশ করবে। তিনি হারিয়েও যাননি যে তাঁকে তালাশ করতে হবে। তিনি কোন জামানা বা (নির্দিষ্ট) সময়ও নন যে সেই জামানা বা সময়ের অপেক্ষায় থাকবে। তিনি  কোন মাকান বা ঘরও নন যে ঐ মাকান বা ঘরের তাওয়াফ করতে হবে এবং ঐ জায়গায় অবস্থান করবে। এই সমস্ত সকল দিকই আল্লাহ্ পাক তলবের “নফী” (না) দিক।

          প্রকৃতকথা এই যে, তিনি মওজুদ রয়েছেন। তাঁর উপস্থিতির একটি তরীক্বা এই যে, তুমি তোমার জাত বা অস্তিত্বের সকল দিককে বিলীন করো এবং বাশারিয়াত বা মানবীয় সকল গুণাবলীর অস্তিত্ব নিঃশেষ করো এবং স্বীয় অস্তিত্বকে আমিত্বের অহমিকা থেকে পৃথক করে সকল বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনতা অবলম্বন করো এজন্য যে, আল্লাহ্ তাবারক তায়ালা ليس كمثله شئ.

“তার অনুরূপ কেউ নয়।”

          তদ্রুপ তোমরও তলব বা অনুসন্ধান বেমেছাল ও বেনজীর হওয়া চাই। (অসমাপ্ত)

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরেকীন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি

আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১২৩

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরিক্বিন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি