মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
সুলতানুত্ ত্বরেকীন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সাঈদ নাগোরী সুওয়ালীও বলা হয়ে থাকে। তাঁর কুনিয়াত আবূ আহমদ এবং লক্বব হচ্ছে সুলতানুত্ ত্বরেকীন। তিনি হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জলিলুল ক্বদর খলীফাদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। নির্জনতা ও যুহদের দিক দিয়ে তিনি উচ্চ মাকামের অধিকারী এবং মহান আল্লাহ্ পাক-এর খাছ বান্দাদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। তাঁর বুলন্দ মরতবা ও মর্যাদা সম্পন্ন অস্তিত্বটাই ছিল দুনিয়া-আখিরাত থেকেও উত্তম। তাছাউফে বুলন্দ মর্তবা এবং তরীক্বতের নিয়মনীতি বর্ণনার ব্যাপারে তিনি অধিক যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তিনি আশারায়ে মুবাশ্শিরাদের অন্তর্ভূক্ত হযরত সাঈদ বিন যাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আওলাদদের মধ্যে শামীল ছিলেন। তিনি হিন্দুস্থানের (প্রাচীন) মাশায়িখদের মধ্য গণ্য এবং দীর্ঘ হায়াত পেয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি স্বয়ং বলেন, “দিল্লী বিজয়ের পর মুসলমান গৃহের মধ্যে সর্বপ্রথম আমারই জন্ম হয়।”
হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সময় থেকে হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রাথমিক সময়কাল পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন। সম্ভবত এটাও হতে পারে যে, তিনি হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাক্ষাত পেয়েছিলেন। আল্লাহ্ পাকই এ বিষয়ে সর্বজ্ঞাত।
হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় “মালফুজাতে”, নিজের বাছাইকৃত রচনা, কিতাবসমূহে তাঁর পবিত্র হাত মুবারকে লিখেছেন, যা কিনা “সিয়ারুল আউলিয়ার” লেখক বর্ণনা করেন, “একবার হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি হৃষ্ট চিত্তে বললেন, যার যা চাওয়ার চেয়ে নাও, কেননা (সকলকে) সম্মতি দেয়া হলো। (তখন) কেউ দুনিয়া কেউ বা আখিরাত তলব করলো। ঐ সময় হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার ক্বাকী রহমতুল্লাহি আলাইহিকেও কিছু চাইতে বললেন। তিনি বললেন, “(তাঁর) বান্দার কোন ইখতিয়ার নেই যা আপনার মর্জি, নির্দেশ হয় তাই হবে।” এরপর হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হযরত হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যে নাকি তরক্বে দুনিয়া, সংসার বিরাগীদের মাথার মুকুট এবং আখিরাতেও আযাদ, মুক্ত।” তাঁর এই কথার পর হতেই হযরত হামিদুদ্দীন সূফী “সুলতানুত্ ত্বরেকীন” লক্ববে পরিচিতি লাভ করেন। নাগোর শহরে সুওয়াল নামক একটি মৌজা আছে সেখানে তাঁর চাষাবাদের কিছু ক্ষেত ছিলো। সেখানে তিনি তাঁর নিজের হাতের দ্বারা হাল চাষ করতেন এবং এ থেকে আহাল পরিবারদের জন্য রুজীর বন্দোবস্ত করতেন। তাঁর ওফাত ৬৭৩ হিজরীর ২৯শে রবিউল আউয়াল। নাগোর শহরেই তার মাযার শরীফ বিদ্যমান।
হযরত বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মূলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফখর (দারিদ্রতা) ও গোনা (ঐশ্বর্য্য বা ধন দৌলত) সম্পর্কে তাঁর লিখিত বহু রচনাসমূহ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে যে, হাদীস শরীফের অকাট্ট দলীলসমূহ ও হযরত মাশায়িখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ-এর (ক্বওল) দ্বারা এটাই ইজমা সাব্যস্ত হয়েছে যে, দুনিয়া এবং দুনিয়াবী সৌন্দর্য্য হচ্ছে আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্টের পথে প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ। যখন এটাই দেখা গেলো, জামানার কোন কোন মাশায়িখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহিমগণ-এর নিকট অঢেল পরিমাণ পার্থিব মাল-সামান থাকা সত্ত্বেও তাঁদের থেকে কারামত প্রকাশ পাচ্ছে তখন এটা মিসকীনের নিকট বড়ই আশ্চর্য বোধ হয়। জামানা বলতে এখানে শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি (নিজের জামানার বুযুর্গদের সম্পর্কে এবং মিসকীন বলতে শায়খ নিজেকে বুঝিয়েছেন)।
অন্য আর এক মাকতুবে শায়খ লিখেছেন, এই অধম একবার হযরত বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মূলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খিদমতে স্বীয় মুশকিলাত বা কোন বিষয়ের সমাধানের ব্যাপারে (কিছু বর্ণিত আরজু প্রেরণ করেছিলাম। জানিনা কোন কারণে শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি অধমের (মাকতুবের) উত্তর লিখে পাঠাননি। আর যদি উত্তর লিখেই থাকেন তাতে কোন সান্তনা বা দোয়াস্বরূপ কিছুই ছিলনা। অবশেষে অধম বারগাহে ইলাহীতে অনুনয় বিনয় সহকারে দোয়ায় মশগুল হয়ে গেলাম এবং বললাম, “বান্দার দোয়ায় মুশকিল আসান করুন এবং প্রার্থীত বস্তুর মাকসুদ হাসিল হওয়ার ব্যাপারে কোন আলামত প্রকাশ করুন। আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন বান্দার দোয়া কবুল করেন। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার