মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
একদা মাহবুবে সুবহানী সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “সামা না সম্পূর্ণরূপে জায়েয, না সম্পূর্ণরূপে না জায়েয।” লোকেরা বললো, “হুজুর! সামার হুকুম কি?” তিনি বললেন, “সামা শ্রবণকারীদের নিকট সামা হচ্ছে খুব সুন্দর, সুমধুর খোশ ইলহান বা সুমিষ্ট দ্বয়ের আওয়াজের নাম (যার মধ্যে বাদ্যযন্ত্র অনুপস্থিত থাকে) এজন্য এটাকে নাজায়েয বলা যাবেনা। অবশ্য যে সমস্ত সামার মধ্যে বিবিধ প্রকার বাদ্যযন্ত্র থাকে সেটা সম্পূর্ণরূপে সকলের নিকট হারাম ও নাজায়েয।”
একদা মাহবুবে সুবহানী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “কোন কোন মুরীদ এ রকমও হয় যে, তার পীর ও মাশায়েখ (তরক্কী লাভের জন্য) যথেষ্ট মনে করেনা এবং অন্য পীরের নিকট বাইয়াত হয়ে তাঁর নিকট থেকে খিরকা হাছিল করে। যা আমার নিকট এটা কোন অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ও আসল বাইয়াত তো ওটাই যার কাছে সে প্রথমেই বাইয়াত হয়েছে, যদিও সে পীর-মুর্শিদ একজন (কম দরজার বুযুর্গ হয়ে থাকেন না কেন) সাধারণ পর্যায়েরই হোন না কেন।
লোকেরা হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিকে একদা হযরত মানছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন তিনি বললেন, “হযরত মানছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি আসলে হযরত খায়ের নাস্সাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ ছিলেন। (পরবর্তীতে) তিনি হযরত খায়ের নাস্সাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর থেকে বাইয়াত পরিবর্তন করে হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট বাইয়াত হওয়ার দরখাস্ত পেশ করলেন। তখন হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তুমি তো আসলে হযরত খায়ের নাস্সাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ। তোমাকে তো দ্বিতীয়বার বাইয়াত করা যাবেনা।” হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ,যিনি তাঁর জামানায় কামিল বুযুর্গ ছিলেন। যিনি হযরত মানছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বাইয়াত না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর তার দেখাদেখি (সেই সময়) অন্যান্য মাশায়েখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও আর তাঁকে বাইয়াত করেননি।
মুছান্নিফে আখবারুল আখইয়ার অর্থাৎ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত মানছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বিভিন্ন হিকায়েত বা ঘটনা মশহুর হয়ে আছে। হাক্বিক্বত ও সত্য তো আল্লাহ্ পাক ভাল জানেন। কিন্তু মাহবুবে সুবহানী হযরত শায়খ আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, হযরত মানছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ পাক-এর ওলী এবং আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা ছিলেন। কিন্তু তিনি (মাকামে) আটকা পড়ে গিয়েছেন। ঐ জামানায় এমন কোন বুযুর্গ ছিলনা যে তাঁকে উদ্ধার করবে। কিন্তু তিনি যদি আমার জামানায় হতেন তবে আমি তাঁকে উদ্ধার করতাম অর্থাৎ আমি তাঁর আটকে পড়া মাকাম ছাড়িয়ে দিতাম।
এছাড়া হযরত মাহবুবে সুবহানী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি একদা বললেন, যদি কোন মুরীদ তার পীর-মুর্শিদকে বলে আমি আপনার মুরীদ, আর তিনি যদি বলেন, না তুমি আমার মুরীদ নও। তখন ঐ অবস্থায় তাকে মুরীদ বলেই গণ্য করা হবে কিন্তু কোন পীর ছাহেব যদি তাঁর কোন মুরীদকে বলে তুমি আমার মুরীদ। আর মুরীদ যদি বলে, না আমি আপনার মুরীদ নই তখন এই ধরণের ব্যক্তিকে মুরীদ বলা যাবে না।
এজন্য প্রকৃত অর্থে মুরীদের আক্বীদা, বিশ্বাস, অভিপ্রায়, ইয়াক্বীনের উপরই তাঁর মুরীদ হবার (পরিচয়) নির্ভর করে। যেটা কিনা শায়খের কাজ নয়। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার