অবৈধভাবে প্রকাশিত গোমরাহী ও কুফরী বিস্তারের মূখপত্র সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরীবার্তার হোতা ভন্ড পীর, মহা জাহিল, খাছ বিদয়াতী, কাজ্জাবে আ’যম ও মুশাব্বিহা ফিরকার যোগ্য মুকাল্লিদ অদক্ষ জলীল ছদ্মবেশী মোফতে মুবারক ১০-১১ নং সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরীবার্তায় নিজেই প্রমাণ করেছে যে, সে ভন্ড ও কাফির। পাঠক! উক্ত বেহায়া ভক্তের ভন্ডামীর কিছু চিত্র গত সংখ্যায় অর্থাৎ ৮৫তম সংখ্যার আল বাইয়্যিনাত-এর মতামত কলামে তুলে ধরেছিলাম। আর তাতেই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সে একজন স্বঘোষিত ভন্ড পীর! কারণ যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য ফরজ পর্দাকে উপেক্ষা করে বেগানা ও বেপর্দা মহিলাদের সাথে নিয়ে সফর করতে পারে এবং আল্লাহ পাক-এর হাবীব, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কঠোর নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন পোজে ছবি তুলতে পারে সে মুনাফিক, প্রতারক ও ভন্ড নয় তো কি? সে কি কস্মিনকালেও বে-পর্দা হওয়া ও ছবি তোলাকে জায়েয প্রমাণ করতে পারবে? আজীবন কোশেশ করলেও সে তা পারবে না। এই ভন্ড নিজে তো হর-হামেশা ছবি তুলেই সাথে অন্য আলেমদেরকেও ছবি তুলতে বাধ্য করে। দেখুন, সে তার ১০-১১ নং বুলেটিনে “ইমাম ও মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ” এর ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে সে আলিম, ফামিল ও কামিল পাশ ইমাম ও শিক্ষকদেরকে ছবিসহ দরখাস্ত করার আহবান জানিয়েছে। অর্থাৎ ছবিকে সে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। শুধু তাই নয় উক্ত সংখ্যার ২২ নং পৃষ্ঠায়, সে পত্রিকার যারা এজেন্ট হবে তাদের জন্যেও ছবিকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। এতে কি প্রমাণিত হয়না যে, জাহিল ও ভন্ড অদক্ষ জলীল ছবি তোলাকে জায়েয মনে করে? আর হারামকে হালাল মনে করা কুফরী নয় কি? “অতএব, সে তার কর্ম ও বক্তব্যের দ্বারা নিজেই প্রমাণ করলো যে, সে কাফির।” পাঠক। এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। আমি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যায় ভন্ড পীর জলীলের কিছু হাকীকৃত আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরেছিলাম। উক্ত ভন্ড পীর দীর্ঘদিন পর হলেও আমার উক্ত প্রতিবেদনের একখানা অন্তসারশূণ্য, বানোয়াট, মনগড়া ও দলীলবিহীন জবাব দিতে সমর্থ হয়েছে। এক কথায় তার উক্ত জবাবকে গোজামিল ব্যতীত কিছুই বলা যায় না। শুধু তাই নয়, সে এক ভুলের জবাব দিতে গিয়ে শত ভুল করে বসে আছে। তাই তাকে ভুলকারীদের গোলাম বললেও অত্যুক্তি হবে না। ভন্ড পীর জলীল ছদ্মবেশী মোফতে মুবারক তার গোজামিল জবাবে যে সকল ভুলের অবতারণা করেছে নিম্নে তা তুলে ধরা হলো- সে লিখেছে, আমার নাম লিখতেই প্রথমে ভুল হয়েছে। তবে কি ভুল হয়েছে বলার সাহস সে পায়নি। আমার ধারণা, তার মতে আমার নামের “মুহম্মদ” শব্দটি ভুল হয়েছে। যদি সে এটাকেই ভুল বলে থাকে তবে তাকে চরম জাহিল ব্যতীত কিছুই বলা যায় না। কারণ বাংলা ভাষায় “মুহম্মদ” বানান এটাই শুদ্ধ। এদেশের বিখ্যাত ভাষাবিদ ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সাহেব এ মতই পেশ করেছেন। কাজেই এটাকে কোন মতেই ভুল বলা যায় না। পাঠক। সে আমার নামের “মুহম্মদ” বানান ভুল ধরলো অথচ তার সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরী বার্তায় কয়েক প্রকার “মুহম্মদ” বানান রয়েছে। যেমন সে ১ম পৃষ্ঠায় তার নামে ব্যবহৃত “মুহম্মদ” লিখেছে এভাবে “মোহাম্মদ।” আর তার নিচে সম্পাদকের নামে লিখেছে, “মুহাম্মদ।” এখন কোনটি সঠিক?
শুধু কি তাই, ভন্ড পীর জলীল সারাজীবন নিজের নামই ভুল শিখেছে “আব্দুল জলিল।” এটার আরবী করলে হয় عبد الجلل” অথচ এ ধরণের কোন শব্দই আরবী অভিধানে নেই। অর্থাৎ তার নামে দুই লামের মাঝখানে যে একখানা মদের অক্ষর “ইয়া” রয়েছে এই খবরই তার নেই। সে আবার অন্যের ভুল ধরতে ব্যস্ত। অতএব, তার দেয়া প্রবাদ “ঘরে লাগিল আগুন ঘরের চেরাগে এটা কি ভন্ড পীর জলীল ছদ্মবেশী মোতে মুবারকের জন্যই অধিক প্রজোয্য নয়? পাঠক। অতঃপর সে বলতে চেয়েছে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” ও “খতামুন্নাবিয়্যীন” বানান ভুল। তার এ দাবী সম্পূর্ণই অবান্তর ও মিথ্যা। সে যদি সত্যবাদী হতো তবে সঠিক বানানটি তুলে ধরলো না কেন? বস্তুতঃ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে যে সকল আরবী বাক্য বা শব্দগুলোর বাংলা উচ্চারণ দেয়া হয় তা মাখরাজ, মদ, গুন্নাহ ইত্যাদি মিলিয়ে দেয়ারই চেষ্টা করা হয়। যেহেতু আরবী সব শব্দের হুবহু বাংলা উচ্চারণ সম্ভব নয়। তাই ক্ষেত্র বিশেষে ব্যতিক্রম হতে পারে। আর এ ব্যতিক্রম হওয়াটা ভুল, কুফরী ইত্যাদি কোন কিছুরই অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি শব্দগত বানানের ব্যতিক্রম ভুল বা কুফরী হয় তবে এ ধরণের ভুল ও কুফরীতে মোতে মুবারকের সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরীবার্তা ভরপুর। যেমন, ১০-১১ নং বুলেটিনের ১২ পৃষ্ঠায় এক স্থানে লিখেছে, “সাল্লাল্লাহু” আর এক স্থানে “ছাল্লাল্লাহ।” আবার একস্থানে লিখেছে, “মিলাদুন্নবী” আর এক স্থানে লিখেছে, “মীলাদুন্নবী।”. শুধু কি তাই। ভন্ড ও বর্ণচোরা জলীল আরবী মাসের নাম লিখতেই মহা ভুল করে বসে আছে। সে লিখেছে, “জমাদিউল আউয়াল-জমাদিউস সানী।” অথচ উক্ত মাস দু’টির আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ী সহীহ্ উচ্চারণ হচ্ছে-“জুমাদাল উলা-জুমাদাল উখরা।” যেহেতু “জুমাদা” শব্দটি “মুয়াল্লাহু” তাই ‘উলা ও উর্ধ্বা” শব্দ দু’টি “মুয়াল্লাহ” নেয়া হয়েছে। আর এটাই যদি ভন্ড পীর জলীল ছদ্মবেশী মোক্তে মুবারকের দৃষ্টিতে মহা ভুল হয়ে থাকে তবে তার দেয়া “মুপ্তী” লক্বখানার অধিক হক্কদার তো সে নিজেই। বরং এর চেয়েও বড় লব্ধব “সুলতানুল খত্নাঈন” এরও পূর্ণ মেছদাক। আসলে এগুলো কোন কথাই নয়, দিন-রাত নাকে তৈল দিয়ে ঘুমায় তো, হাতে কোন কাজ নেই, তাই আবল-তাবল লিখে পত্রিকার কলেবর বৃদ্ধি করা। তার এ সকল জেহালতির জবাবে এর চেয়ে বেশী কিছু লিখা সময় আর কাগজ অপচয় বৈ কিছুই নয়।
মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক বাসাবো, ঢাকা
পাঠক। রেজভী ফিরক্বা ও ফিৎনার উদ্ভাবক বাশ বেরেলীর অখ্যাত তাছাউফ শুন্য তথাকথিত আশেকে রসূল রেযা খাঁর সবচেয়ে বড় ভুল ও ভ্রান্তি হচ্ছে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, শহীদে আযম, ছহেবে ইল্মে লাদুন্নী, বাহরুল উলুম ওয়াল হিকাম, শায়খুল আরব ওয়াল আযম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সিরাজুল উম্মত, আসাদুল্লাহ, মুহইস্ সুন্নাহ, দাফিউল বিয়াত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, আমীরুল মু’মিনীন, ইমামে তরীক্বায়ে মুহম্মদিয়া, আওলাদে রসূল, ইমামে আহলে সুন্নত, শায়খে আ’লা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বিনা সলীলে ও অন্যায়ভাবে ওহাবী ও কাফির অপবাদ দেয়া। রেযা খাঁ প্রদত্ত অপবাদ খন্ডনের পূর্বে আমি আপনাদের সম্মুখে “শহীদে আ’যম” আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়ি্যদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পুতঃ পবিত্র জীবনী মোবারক” সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরবো। যা রেযা খাঁর প্রদত্ত অপবাদ খন্ডনে বিশেষ সহায়ক হবে। আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পুতঃ পবিত্র জীবনী মোবারক” নসব শরীফ তাঁর নসব নামা সম্পর্কে “মাখজানে আহম্মদী” কিতাবের ৭১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে এভাবে… সাইয়্যিদ আহমদ বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইরফান বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূর বিন সাইয়্যিদ হুদা বিন সাইয়্যিদ বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলমুল্লাহ্ বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ ফুযাইল বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুয়াজ্জিম বিন সাইয়্যিদ আহম্মদ বিন কাজী সাইয়্যিদ মুহম্মদ বিন সাইয়িাদ আলাউদ্দিন বিন সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দীন মুহম্মদ সানী বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ সানী ছদরুদ্দীন বিন সাইয়্যিদ যইনুদ্দীন বিন সাইয়্যিদ আহম্মদ বিন সাইয়্যিদ আলী বিন সাইয়্যিদ কিয়ামুদ্দীন বিন সাইয়্যিদ সদরুদ্দীন বিন সাইয়্যিদ কাজী রুকুনুদ্দীন বিন সাইয়্যিদ আমীর নিযামুদ্দীন আমীর সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দীন মুহম্মদ আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী আল মাদানী আল কাদী বিন সাইয়্যিদ রশীদুদ্দীন আহমদ মাদানী বিন সাইয়্যিদ ইউসুফ বিশ দি ঈসা বিন সাইয়্যিদ হাসান বিন সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী বিন আবি জাফর মুহম্মদ বিন কাশিম বিন আবি মুহম্মদ আব্দুল্লাহ্ বিন সাইয়্যিদ হাসান আওরাজুল জাওয়াদ ন্যাকব কুফা বিন সাইয়্যিদ মুহম্মদ সানি বিন আবি মুহম্মদ স্যাহবুন নাফসে যাকিয়া বিন আব্দুল্লাহ্ মাহদ বিন হাসান মুসান্না কিন ইমাম হাসান বিন আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদিনা হযরত আলী রদিয়াল্লাহু আনহু। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পিতার নাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইরফান রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং দাদার নাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূর রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর চতুর্থ পূর্ব পুরুষ সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি। আলাইহি-এর প্রধান খলীফা হযরত শায়খ আদম বিননূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আকাবিরে খলিফাদের মধ্যে গণ্য। বেলাদত শরীফ সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সিরাজুল উম্মত, আসাদুল্লাহ্, সাইয়্যিদুল আবেদীন, মুহইস্ সুন্নাহ্, সাফিউল বিদয়াত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, খলিফাতুল্লাহ্ ফিল আরদ, আমিরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১২০১ হিজরী শতকের সফর মাসে ইংরেজী ১৭৮৬ সালের ২৯ নভেম্বর সোমবার ভারতের উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলী শহরের বিখ্যাত সম্ভ্রান্ত সাইয়্যিদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাঙ্গর্ভেই বিলায়েতের পূর্বাভাস “তাজকেরা নামক” কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত সাইয়্যিদ শমীদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় একদিন তার পবিত্র মাতা সাহেবানী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বপ্ন দেখেন, তার রক্ত দ্বারা এক খন্ড কাগজে কিছু লিখা হলো এবং পরক্ষণেই উক্ত কাগজদন্ড সারা পৃথিবীতে উড়তে লাগলো।” তিনি জাগ্রত হয়ে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা তাঁর জামাতা সাইয়্যিদ আব্দুস সুবহান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেন, তিনি বলেন- আপনার গর্ভস্থ সন্তানটি ভূমিষ্ট হয়ে কালক্রমে সারা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধি লাভ করবেন এবং উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন। মূলতঃ এ ধরণের বহু ঘটনা আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জীবনীতে উল্লেখ আছে যে তাঁরা মাতৃগর্ভ থেকেই বিলায়েতের সুধা পান করে থাকেন। “সাওয়ানেহ আহমদী, মাথজানে আহমদী, সীরতে সাইয়্যিদে আহমদ শহীদ, তারিখে মাশায়েখে চিত্ত, যব ঈমান কি বাহার আই” গ্রন্থে লিখা আছে, চার বৎসর বয়সে। তাঁকে মক্তবে পাঠানো হয়। মক্তবের পাঠ শেষ করার পর পরিণত বয়সে তিনি হযরত শাহ ইসহাক দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট তা’লিম নিয়ে কাফিয়া ও মেশকাত শরীফ পর্যন্ত পড়েছিলেন। এ সম্পর্কে ‘আমিরুর রেওয়াত’ গ্রন্থে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, হযরত নুর মুহম্মদ মিয়াজী ঝানঝানবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি শাহ ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট কাফিয়া পড়তে ছিলাম। আর হযরত সাইয়্যিদ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন তাশরীফ আনেন তখন তিনি তাঁর নিকট মিজান পড়া আরম্ভ করেন। তার পড়া-লিখা এত দ্রুত উন্নতি লাভ করলো যে, তিনি মিয়ানের অর্ধাংশ পড়ার পূর্বেই আমার সাথে কাফিয়ার মধ্যে যোগ দিলেন। আর কাফিয়া পড়া অবস্থায় তিনি শাহ সাহেবের নিকট ‘মেশকাত শরীফ’ পড়া শুরু করেন।
-মুফতী, আবুল হাসান, মতলব, চাঁদপুর
গত সংখ্যায় এ কলামে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত এর স্বল্প পরিসরে গত আট বৎসরে দলীল প্রমাণ দিয়ে খভিয়ে দেয়া হয়েছিল ৯৩ টিরও বেশী মাসয়ালার ভুল। আর খুব সাধারণ নজরেই সে ভুলগুলোর খতিয়ান যা দেখা যায়, মাসিক মদীনা সম্পাদক মুসলমানের নিতান্ত নিও-নৈমত্তিক বিষয় তথা অতি সাধারণ বিষয়েও অনেক বড় বড় ভুল করে মুসলমানদের মৌলিক বিষয়ে তাদের সহীহ ইসলামী শিক্ষার পরিবর্তে ভুল ও বিকৃত শিক্ষা দিয়ে মুসলমানদের মুসলমানিত্ব নষ্ট করছে। তাদের তাহজীব তমুদ্দুন বিকৃত করছে। বিদয়াতের প্রচলন করছে। ইসলামের মৌলিক শেয়ার বা আলামত হল আধান। কিন্তু সে আযান প্রসঙ্গেই সে মহা মহা আপত্তিকর ভুল করে বসেছে। আযানের জাওয়াব দেয়া মুস্তাহাব নয় ওয়াজিব মদীনাঃ জুন/৯৬ সংখ্যায় বলেছে, আযানের জবাব দেয়া মুস্তাহাব। এ প্রসঙ্গে সে কোন দলীল পেশ করেনি। আর মাসিক আল বাইয়্যিনাত এ বিস্তারিত দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, আযানের জাওয়াব দেয়া মুস্তাহাব নয় বরং ওয়াজিব। এক্ষেত্রে বোখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ, মুয়াত্তা ইমাম মালেক, মুয়াত্তা ইমাম মুহম্মদ ইত্যাদি হাদীস শরীফেরও দলীল দেয়া হয়েছে। ছানী আধান বা বুথার আযানের জাওয়াব ও দোয়া নাজায়েয নয় সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত মদীনা নভেম্বর-৯৪, জানুয়ারী-৯০৬ এ উল্লেখ করেছে, ছানী আযানের জবাবও দোয়া নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে কোন দলীল নেই। মাসিক আল বাইয়্যিনাত এর শুদ্ধ জাওয়াব হল, ছানী আযানের জাওয়াব দেয়া শুধু জায়েজই নয় বরং সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে অসংখ্য দলীল আদিল্লা পেশ করা হয়েছে। যথা-বোখারী, নাসাঈ, বেকায়া, হেদায়া, নেহায়া ইত্যাদি। আযানের মধ্যে কানে আঙ্গুল দেয়া গুরুত্বহীন নয় বরং সুন্নত মদীনাঃ জুলাই/৯৫, আযানের মধ্যে কানের মধ্যে আঙ্গুল না দিলে বা কানে হাত না রাখলেও আজানের কোন ত্রুটি হবেনা। (দলীল নাই) মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ কানের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে আযান দেয়া খাস সুন্নত। দলীল- তিরমীযী শরীফ, হেদায়া, শামী, বাদায়ে, বাহরুর রায়েক, আইনুল হেদায়া, শরহে বেকায়া ইত্যাদি। (প্রথম যুগে জুমুয়ার আযান মসজিদের ভিতরে নয় দরজায় মদীনাঃ জানুয়ারী/৯৭, জুমুয়ার আযান প্রথম যুগে একটি দেয়া হতো। আর সেটা হতো মসজিদের ভিতরে ইমামের সামনে। মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ ৪২/৩১. প্রথম যুগের জুমুয়ার আজান মসজিদের দরজায় দেয়া হতো। বোখারী, আবু দাউদ, বযলুল মাজহুদ, উরফুশ শার্জী, তোহফাতুল আওয়াজী, তিরমীযী ইত্যাদী সহ মোট ১৬টিরও বেশী দলীল। পাঠক উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমরা দেখলাম যে মাসিক মদীনা, মুসলমান, যে মুসলমানের প্রাণ হল আযান, যে আযানের এতই গুরুত্ব যে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, যে কোন বস্তিতে আক্রমণের পূর্বে আযান পর্যন্ত অপেক্ষা কর, আধানের সময় হলে আযান সেখানে আক্রমণ করবে না। অর্থাৎ মুসলমান আর কাফিরের ফারাককারী চিহ্ন হল আযান। এই আযানের এতই তেজস্বীতা যে, আযান দেয়া হলে ইবলিশ শয়তানের মাথা খারাপ হয়ে যায়। সে মলমুত্র ত্যাগ করতে করতে বিদ্যুৎ বেগে পলায়ণ করে। তদুপরি মুসলিম শিশু জন্ম গ্রহণ করলে তাকে শয়তানের আছর হতে হিফাজতের জন্য এবং ঈমানের ডাক শোনানোর জন্য আযান শোনানো হয়। আর মাসিক মদীনা সম্পাদকের হাতে সে আযানও নিরাপদ নয়। সে আজ আযানের জবাব ওয়াজিব থেকে মোস্তাহাব বলে আযানকে গুরুত্বহীন করে দিচ্ছে। আজানের মধ্যে কানে আঙ্গুলের গুরুত্ব অস্বীকার করে আযান দেয়ার তরতীবকে বিকৃত করতে চাচ্ছে। ছানী আযানের জবাবের ও দোয়ার সুন্নতকে নাজায়েয বলে আল্লাহর রাসূল এর জমানায় আযানের যে জবাবের তরতীব ছিল ও দোয়ার বিধান ছিল সেটাকে বিলুপ্ত করে দিতে চাইছে এবং প্রথম যুগে যে মসজিদের বাইরে আযান দেয়া হত সে তথ্যকে অস্বীকার করে জুমুয়া যা গরীবের জন্য হজ্ব স্বরূপ সে জুমুয়ার আযান সম্পার্কেও মানুষকে গোমরাহ করতে চাইছে। সাথে সাথে আখেরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলামের প্রথম দুই খলীফা হযরত আবু আবু বকর ছিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি মিথ্যা ধারণায় বিশ্বাস করে যাদের প্রতি অপবাদ দেয়ার তথা ঈমান হারা করবার অপচেষ্টায় নিয়োজিত হয়েছে। অতএব প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক, চল্লিশ বছরের নিয়মিত ইসলামী পত্রিকা প্রকাশের দাবীদার হয়েও খোদ আযানকে নিয়ে মাহিউদ্দীনের এত জিহালতি ও গোমরাহী বিস্তার কেন? বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, আযান যেহেতু মুসলামানের খাছ শেয়ার আর ইবলিশের চরম লাঞ্ছনাকর ও পীড়াদায়ক বস্তু, তাই সে অবশেষে মাহিউদ্দীনের ঘাড়েই সাওয়ার হয়েছে। আযানের মুহব্বত ও ফজীলত এবং জজবা থেকে মুসলমানদের বঞ্চিত করে বিকৃত শিক্ষা দিবার জনা। (নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক)
মুহম্মদ লিসানুল্লাহ।।
উর্দু সাহিত্যের দিকপাল কবি গালিব তখনও বেঁচে ছিলেন। তিনি তার ‘দেস্তমবু’ কিতাবে লিখেছিলেন, “দিল্লী শহর জনমানবহীন সাহারা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। উর্দু বাজার নিশ্চিহ্ন। উর্দু ভাষাভাষীও নির্মূল। কাদের জন্য লিখব? কে উর্দু পড়বে। দিল্লী আজ মহা শ্মশান। দোকান-পাট, বাজার-ঘাট, নহর-ফোয়ারা সবই বিধ্বস্ত। অবশ্য হিন্দু মহাজনেরা বেঁচে আছে, কিন্তু কোন ধনী মুসলমান জীবিত নেই। রক্তের মহাসমুদ্রের মাঝখানে আমি একাকী দাঁড়িয়ে আছি। আমার হাজার হাজার প্রিয় বন্ধু আর ভক্ত পাঠক আজ পরপারে। আমি কার সাথে কথা বলবো? কার কাছে প্রকাশ করবো আমার মর্ম বেদনা? কে আমাকে সহানুভূতি জানাবে? কে দেবে আমাকে সান্তনা? আমার দুঃখে এক ফোটা চোখের পানি ফেলার মতো একজন লোকও বেঁচে নেই দিল্লীতে। জানিনা, আমাকে আরো কি দেখতে হবে?” ইংরেজ বাহিনীর নৃশংসতার আরো হাজার হাজার উদাহরণ দেয়া যায়। সেদিন ইংরেজ সেনাপতি আর সিপাহীরা যা করেছিল তা নজীরবিহীন নৃশংসতার ষ্টীমরোলার তারা মুসলমানদের উপর চালিয়েছিল। সাত সাগর পাড়ি দিয়ে তারা এদেশে এসে ব্যবসায়ের নামে মুসলমান শাসকদের ছলনায় ফেলে কুক্ষিগত করেছিল শাসন ক্ষমতা। আর সে ক্ষমতাবলে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল তাদের উপরই। তবে ইংরেজরা এটা খুব ভালভাবেই স্মরণ রাখতে পেরেছিল যে মুসলমানরা শাসকের জাত। তাই বিদ্রোহের উত্তাপটা তাদের কাছ থেকেই উঠবে আগে। তদুপরি “মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী” মুসলমানদের এ জজবা একবার জেগে উঠলে তাকে প্রতিরোধ করা যে কি দুস্কর তা ইংরেজরা ততদিনে টের পেয়েছিল বৈকি! বিদ্রোহের পর কানপুর শহর দখলের পর জেনারেল নীলের কার্য ও বক্তব্যে তার প্রমাণ এখনও দুঃস্বপ্নের চেয়েও বেশী বিভিষীকাময়। কেবল পৈশাচিক কায়দায় চাপকানো এবং নির্মমভাবে ফাঁসিতে ঝুলানোই তার শাস্তি ছিলনা, বরং ইংরেজদের অমানুষিক অত্যাচারে বিদ্রোহী হয়ে সতীচাওয়াঘাটে কিংবা বিবিঘরে গুটিকয়েক ইংরেজদের হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে সে অচিন্তনীয় কায়দায় নির্ণীত্ব হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ধরণের সন্দেহের স্বীকার হয়েছিল সফর আলী। পুরস্কারের লোভে মারাঠারা তাকে অহেতুক ধরে এনে দিলে জে.-নীলের আদেশে মেজর বুরুষ লোমহর্ষকভাবে তাকে কুকুরের মত মৃত ইংরেজদের শুকনো জমাটবাধা রক্ত চাটতে বাধ্য করে। জে.-নীল নিজেই এক চিঠিতে তার শাস্তির বিবরণ দিয়েছে। শান্তিটা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানোর আগে নিয়ে যাওয়া হবে বিবিঘরে। তাকে বাধ্য করা হবে সেখানকার মেঝের রক্ত জিভ দিয়ে চেটে তুলতে। ইংরেজ নর-নারীর রক্তে রঞ্জিত বিবিঘরের মেঝে এভাবেই করাতে হবে পরিষ্কার। কাজটা যে ঘৃণার অমানবিক ন্যক্কারজনক সেটা বোঝানোই আমার উদ্দেশ্য। যতক্ষণ এই অনভিপ্রেত শাস্তি আসামী মেনে না নেবে, ততক্ষণ তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে না। চাবুক মেরে বাধ্য করা হবে বিবিঘরের শুকনো রক্ত জিভ দিয়ে চাটতে। দরকারবোধে তাকেও চাবুকের আখাতে করা হবে রক্ত-রঞ্জিত, ক্ষত-বিক্ষত। শুধু ফাঁসিই বর্তমানের জন্য আদর্শ শান্তি নয়। এই উদ্ভট শান্তির জন্য অনেকেই হয়তো আমাকে দোষারোপ করবেন। ভাববেন, এতো বাড়াবাড়ি না করলেও চলতো। কেউ কেউ বলবেন, যাকে ফাঁসি দেয়া হলো তার উপর আবার এমন জঘন্য অত্যাচার কেন? যদি অন্য শাস্তি দেয়াই হল, তবে ফাঁসি কেন? কথাটা যে আমি বুঝিনা তা নয়। বিশ্বাস করুন, দুষ্টদের জন্যে, বিদ্রোহীদের জন্যে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্যে, এটাই সবচাইতে উপযুক্ত শাস্তি। শুধু ফাঁসি দিয়ে কিংবা কামানের মুখে হত্যা করে ওদের অপরাধের সত্যিকার শাস্তি হয় না। আপরাধ অনুযায়ী সাজা হওয়া উচিত। আমি তাই করেছি। সূক্ষ্ম বিচার সালিসের মাধ্যমে অপরাধী বাছাই করতে গেলে একজনকেও শাস্তি দেয়া যেতনা। কেউ স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করতোনা। সাক্ষীরাও সঠিক প্রমাণ খাড়া করতে পারতোনা। ফলে সবাই খালাস পেত। আমার আইনের হত অপমৃত্যু। আবার একদিন ওরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতো। ঝাপিয়ে পড়তো ইংরেজ নিধনে। করতে চাইতো বিদ্রোহ। স্বাধীনতার নামে ঘটতো অঘটন। আমি সে পথ বন্ধ করে দিয়েছি। এই বিদ্রোহকে এবং বিদ্রোহীকে ছিল ইংরেজদের বড় ভয়। সে কারণে তারা কোথাও ছলে কোথাও বলে সে বিদ্রোহকে নস্যাত করেছে। আর দুঃখজনক হলেও সত্য যে. ইংরেজরা তাদের ছলনায় গুটি হিসেবে গ্রহণ করেছে এদেশীয় মুনাফিকদেরই। ত্রিপুরার রাজাকে নেপালের রাজা জঙ্গে বাহাদুর, মনিপুরের রাজা, কাশ্মীরের রাজা গোপাল সিং, মানসিংহ, পরাইনের রাজা ইত্যাদি হিন্দু বিশ্বাসঘাতকই কেবল নয়। অনেক আলেম নামধারীও ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে এদেশের মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করেছে। আরএভাবে ক্রমাগত ‘প্রতারণা প্রবঞ্চনা ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে সিপাহী বিদ্রোহীর পরবর্তী প্রকৃত দেশদরদীদের নির্মূল করা হয়েছিল আর মোনাফিকদের মাধ্যমে এভাবে শুধু দেশদরদীদের তথা প্রকৃত শিহাদী বাধাগ্রস্ত করাই নয় বরং তাদের ইতিহাসকে বিকৃত করে বিদ্রোহ ও বিদ্রোহীদের সম্পর্কে বিরূপ চেতনা তৈরীর পক্ষেও তারা কাজ করেছিল। আর একইভাবে সে কাজে নিয়োগ করেছিল এদেশীয় এজেন্টদেরই। বালাকোটের ময়দানে শহীদ, আমিরুল মুমিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রঃ) এর জিহাদী আন্দোলনের ধারা যাতে অব্যাহত না থাকে তার পরবর্তী জিহাদের উৎস ও উৎসাহের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে কারণে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের প্রতিভূ, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আমীরুল মুমিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর খিলাফত কায়েম ও জিহাদকে বিকৃত করে তাঁর মত ও আদর্শের সম্পূর্ণ খিলাফ ওহাবী আখ্যাকে তাঁরই পেছনে জুড়ে দেয়ার কাজে কুটিল ইংরেজরা সিদ্ধহস্তে নিয়োজিত করেছিল তাদেরই পদলেহী আহমদ রেযা খাঁ কে।
মুহম্মদ রবিউল্লাহ (বাদল)
হিসেব-নিকেশ শেষ হয়ে যাবে। নেক্কারগণ যথারীতি বেহেশতে আরাম-আয়েশ করতে থাকবেন। বদকাররাও দোযখে আযাব ভোগ করতে থাকবে। তখনও পর্যন্ত কাফিরদের সাথে কিছু ঈমানদার বষ্কারও থাকবে। তাদের এই অবস্থা দেখে মুশরিকরা বলে উঠবে, “তবে যে তোমরা দুনিয়াতে খুব, আল্লাহ পাক ও আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা বলতে, ঈমানের কথা বলতে, আজ তোমাদের সে ঈমানের দ্বারা কি ফায়দা লাভ করলে? আজ তোমরাও তো আমাদের মতই দোযখে জ্বলছো!” মুশরিকদের এহেন আক্রমণসূচক কথা শুনে রাহমানুর রাহীম আল্লাহ্ পাক-এর রহমতে জোশ এসে যাবে। তিনি ঘোষণা দিবেন সে সমস্ত ঈমানদারদের সাথে সাথে বেহেশতে যেতে। মূলতঃ ঈমানদারদের শ্রেণীবিভাগ অনেক। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আল্লাহ পাক-এর কাছে সিজদায় পড়ে রইব। আল্লাহ্ পাক বলবেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মাথা তুলুন। আপনার যা বলার আছে বলুন, আমি তা শুনব। আপনি শাফায়াত করুন আমি শাফায়াত কবুল করব।” তখন আমি বলবো, ‘আয় আল্লাহ্ পাক! আমার উম্মতকে রক্ষা করুন।” তিনি বলবেন, “নিন, যার কলবের মধ্যে এক বব পরিমাণ ঈমান আছে তাকে দোযখ হতে বের করুন।” আমি গিয়ে (ঐ প্রকার লোককে) বের করব। পরে আবার গিয়ে আল্লাহ্ পাক-এর ঐরূপ প্রশংসা করে সেজদায় পড়ব। তিনি আবার বলবেন, “হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মাথা তুলুন। আপনার যা বলার আছে বলুন, তা শোনা হবে। শাফায়াত করুন তা কবুল করা হবে।” তখন বলবো, “আয় আল্লাহ পাক! আমার উম্মত, আমার উম্মত।” তিনি বলবেন, “যান যার কলবে এক রতি পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে নিন।” আমি গিয়ে তাই করব। আবার গিয়ে সেইরূপ প্রশংসা করে সিজনায় পড়লে আল্লাহ পাক আবার ঐরূপ বলবেন, “হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যা বলার আছে বলুন, তা শোনা হবে। শাফায়াত করুন তা কবুল করা হবে।” তখন বলবো, “আয় আল্লাহ পাক। আমার উম্মত, আমার উম্মত।” তিনি বলবেন, “যান, যার কলবের মধ্যে অতি সামান্য বীজ পরিমাণও ঈমান আছে তাকে দোযখ হতে বের করে নিন।” আমি গিয়ে তাই করব। আবার চতুর্থবার গিয়ে ঐরূপ প্রশংসা করে সিজদায় পড়লে আল্লাহ্ পাক বলবেন, “আপনার যা বলার আছে বলুন, তা শোনা হবে। শাফায়াত করুন তা কবুল করা হবে।” তখন বলবো, “আয় আল্লাহ্ গাক! যারা শুধু “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলেছিল তাদেরকে বের করার জন্য আদেশ দিন।” তিনি বলবেন, “এটা আপনার জন্য নয়। আমার ইজ্জত, জালাল, উচ্চতা এবং মহিমার কছম করে বলছি যে, যে কেউ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলেছিল আমি নিজেই অতি অবশ্য তাকে দোষখ হতে বের করবো।” (মেশকাত) এ আলোচনায় যা প্রতিভাত হয় তা হচ্ছে, ঈমানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র চিহ্ন থাকলেও সে ঈমানদার। তাকেও কাফিরের তবকায় মূল্যায়ণ করা যাবেনা। শায়খ আবু তাহের কাজবিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “সিরাজুল উকুল” কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, “কোন দ্বীনদার লোকের উচিৎ নয় যে ইসলামের মধ্যে কোন বিপথগামী সম্প্রদায়কে “কাফির” বলে অভিহিত করে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলামী আইনের অন্তর্গত এবং নিজেরা মুসলমান বলে পরিচিত।” তারপর বলেছেন, “আলিমগণ এবং খলীফাগণের মধ্যে এক বৃহৎ জামায়াত তাঁদের ফতওয়ার দ্বারা এইরূপ সম্প্রদায়দের বিদয়াতের জন্য তাদের রক্তপাত করা অথবা তাদের স্ত্রী ও ধন সম্পত্তি আত্মসাৎ করাকে বিধেয় বলে সাব্যস্ত করেনি বরং তাঁরা আজ পর্যন্ত তাদেরকে মুসলমান বলে বিবেচনা করেছেন, যেহেতু মুসলমান নাম তাদের উপর ন্যায়তঃ প্রযোজ্য এবং তারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তাওহীদের আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।” একই প্রসঙ্গে শায়খ তকীউদ্দীন সুবুর্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “ঈমানদারের পক্ষে এটা মস্তবড় আদব যে বিদয়াতীর মধ্যে কোন সম্প্রদায়কে “কাফির” না বলা। বিশেষতঃ অধিকাংশ বিদয়াতীরাই সাধারণ মানুষ। তারা শুধু একে অন্যের অনুসরণ করে থাকে। তারা কোন দলীল জানে না যা দ্বারা তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের বিশ্বাস আইন অনুমোদিত হয়। অবশ্য যদি দেখা যায় তারা ইচ্ছা করে নিজেদের জিদ বজায় রাখবার জন্য কোন তাবিলহীন, অদ্ব্যর্থক পরিষ্কার কুরআন শরীফের আয়াত ও হাদীস শরীফ এনকার (অস্বীকার) করছে তবে তা পৃথক কথা। অবশ্য আলিমগণের সে বিষয়ে ও তীক্ষ্ম দৃষ্টিপাত করা উচিৎ।” শায়খ তকীউদ্দীন সুবুকী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এই মন্তব্য প্রসঙ্গে হযরত শারাণী রহমতুল্লাহি আলাইহি মন্তব্য করেছেন যে, “শায়খ তকিউদ্দিন সুবুকী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এ কথা অতীব সুন্দর ও পরিমার্জিত।” মূলতঃ এ কারণে কাউকে কাফির বলা সম্পর্কে চরম-পরম সতর্কতা অবলম্বন করা ফরজ। কারণ বিশেষ করে যারা হক্কানী-রব্বানী আওলিয়া-ই-কিরাম বিশেষতঃ আমীরুল মুমিনীন, মুজাদ্দিদে জামান, গাউসুল আযম, মুযাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এব ব্যাপারে তো এ বিষয়টি চিন্তাই করা যায় না।
মুহম্মদ আরিফুর রহমান
কুরআন শরীফে এরশাদ হয়েছে, “এটা তোমাদের ছলনা, নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্নক।” (সূরা ইউসুফ) মূলত ছলনাময়ীদের ছলনা যে কত মারাত্বক তাই এ আয়াত শরীফে উপজীব্য হয়েছে। ছলনাময়ী মুহিনুল ইসলাম গং তাদের পত্রিকায় ছলনা করে বিচ্ছিন্ন ঘটনারূপে কোন স্থানে রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহের জ্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী এর মাহফিলে অপত ৎপরতাকারীদের অপচেষ্টায় মাহফিল হয়নি বলে খুব খুশি প্রকাশ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে, তাদের কাছে মাহফিল না হতে দেয়াটা বিরাট কামিয়াবীর পরিচয়। মূলতঃ এটা যে তাদের কোন তবকায় নিয়ে পৌঁছায় তা তারা মুর্দা দিলে অনুধাবন করতে মা পারলেও তাদের জন্য খুবই করুণা হয়। কারণ তারা তখন মেছদাক হয়ে যায় ঐ সব আয়াত শরীফের- আল্লাহ পাক বলেন, “যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ আবৃত্তি করা হয় তখন তুমি কাফিরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তারা তাদের প্রতি মারমুখী হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষ্য মন্দ কিছুর সংবাদ দিব?” (সূরা হজ্জ-৭২) অতএব রাজারবাগ শরীফের মাহফিলকে যারা বাধাগ্রস্থ করতে চায় তারা তো মূলতঃ সে কাফিরেরই মেসদাক হয়ে যায়। যাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক আরো বলেন, “আর কাফিররা বলে, তোমরা এই কোরআন শ্রবণ করোনা এবং এর তিলাওয়াতে ফ্যাসাদ, হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও।” (হামীম সিজদা-২৬) মূলতঃ রাজারবাগ শরীফের মাহফিলের বিরোধীতাকারীরা এতসব স্পষ্ট ঘোষণার পরও বুঝতে পারছেনা যে তারা নিজেদেরকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে “আল্লাহ তয়ালা এদেরই অন্তর, কান ও চক্ষুর উপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই কান্ডজ্ঞানহীন।” (সূরা নহল-১০৮) কাজেই এই জাহিলরাই অনুধাবন করতে পারেনা যে মাহফিল করতে দেয়া হয়নি, এটা মোটেই বাহাদুরি নয়। এক্ষেত্রে দুটো বিষয় বিবেচ্য- (ক) যদি রাজারবাগ শরীফের মাহফিলে কোন ইসলাম বিরোধী কথা না বলা হয়, তাহলে তার পরও বাধা দিলে তারা হয় স্পষ্ট জালিম। যা ইতোপূর্বে বলা হয়েছে। (খ) রাজারবাগ শরীফের মাহফিলে যদি কোন ইসলাম বিরোধী কথা বলা হয় (মূলত এটা সম্পূর্ণই অসত্য, অবাস্তব) তখন তারা বাধা দেয়। আর এক্ষেত্রে তখন যে কথা প্রযোজ্য হয় তাহলে যে শক্তি বাধ্য দেয় সে শক্তির উপর তখণ ফরজ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল সিনেমা হল, টিভি, ভিসিআর, বেপর্দা-বেশরাসহ যাবতীয় হারাম কাজ, গান-বাজনা, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি সব একইভাবে খড়গ- হস্তে দীপ্তভাবে বন্ধ করা। কিন্তু তা না করে কেবলি রাজারবাগ শরীফের মাহফিলে কুত ৎপরতা চালানো হয়, সেটা কি নেহায়েত তাদের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়? মূলতঃ রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দা উজিল্লুহুল আলী হবু মত পথ তথা সঠিক সুন্নতের আদর্শে সমুজ্জ্বল বলেই এবং তিনি হন্ধু ফতওয়া প্রকাশ করেন বলেই ওদের স্বার্থবাদী চেতনায় ঘা লাগে। তাই তখন ওরা রাজারবাগ শরীফের বিরোধীতায় নামে। মাহফিলে অপতৎপরতা চালায় এবং মিথ্যা সংবাদ তথা অপবাদ রটনা করে অথচ হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ্ পাক বলেন, “যে আমার ওলীর বিরোধীতা করে, আমি তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করি।” মুহম্মদ গোলাম মুর্শীদ “মুজাদ্দিদ” হওয়া যায় না” (৫৫ পৃষ্ঠার পর) এভাবে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এরও মাত্র কিছু কিতাবের সন্ধান মিলে। যেমন, “মাকতুবাত শরীফ, রেসালায়ে মাবদা মাআদ, মুকাশিফাতে আইনিয়া, মা’আরিফে লাদুন্নিয়া, রদ্দে রাওয়াফিজ, ইসবাতে নবুওওয়াত” ইত্যাদি মাত্র কয়েকটি কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়। হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি অবশ্য প্রায় দু’শত কিতাব লিখেছেন। কিন্তু আহমদ রেযা খাঁর মত তো আর অধিক সংখ্যক কিতাব লিখেননি! আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাবই নেই ফুরফুরা শরীফের হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি গত শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন তাঁর অসিয়তনামা ব্যতীত আর কোন লিখিত কিতাব নেই। বেরেলীদের দাবী ও বক্তব্য অনুযায়ী এই সমস্ত বুযুর্গগণ কেউই মুজাদ্দিদ হবার উপযুক্ত নয়। কারণ তাঁরা তো আর সহস্রাধিক কিতাব লিখেননি। কাজেই কি করে তারা মুজাদ্দিদ হতে পারেন। (নাউযুবিল্লাহ) সম্মানিত পাঠকবৃন্দ। বেরেলীদের সাহস ও স্পর্ধা লক্ষা করুন। তারা শুধু এতটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবী, আহমদ রেখা খাঁ হচ্ছেন “মুজাদ্দিদে আযম” অর্থাৎ সবচাইতে বড় মুজাদ্দিদ। আমরা বলি, মূর্খতারও সীমা থাকা দরকার। যারা তাকে মুজাদ্দিদ বলে তারা যেমন জাহিল, মূর্খ। আর যে মুজাদ্দিদের মসনদে দাবী করা হয়েছে সে হচ্ছে, তরীকৃতের অন্ধ। অন্ধ ব্যক্তির নিজের পরিচিত জায়গা ব্যতীত বহিঃজগতের কোন খবর তার থাকে না। চক্ষুত্থান ব্যক্তির আলামত হচ্ছে, দেখে-শুনে, চিন্তা-ফিকির করে কথা বলা। কাজেই যাদের কাফির বলা হলো, বুদ্ধিমান হিসেবে প্রথমে দেখা উচিত ছিল তাঁরা কোন স্থানের অধিবাসী। তারা কি জান্নাতী? না জাহান্নামী? কিন্তু আহমদ রেযা খাঁ তরীক্বতের অন্ধ ছিল অর্থাৎ তার আত্মা এতটুকু অগ্রসর হতে পারেনি তাই অপরকে কাফির বলার কারণে সে নিজেই কুফরীতে গ্রেফতার হয়েছে। শত আফসুস। আহমদ রেযা খাঁর জন্য। সম্ভবতঃ দারেমী শরীফের এই হাদীস শরীফ তার জানা ছিল না। আর জানা থাকলেও সে ফিকির করেনি। দারেমী শরীফে উল্লেখ আছে, হযরত আবু দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে আল্লাহ পাক-এর নিকট অধিক মন্দ সেই ব্যক্তিই হবে, যে তার ইলম দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি।”
মুফতী মুহম্মদ শামছুদ্দীন, ভৈরব।
হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এমন এক ইসলামী খিলাফত কায়েম করার কথা কল্পনা করেছিলেন যেখানে কুরআন-সুন্নাহ্ তথা শরয়ী হুকুমত পূর্ণভাবে কায়েম করা যাবে। খোলাফা-ই-রাশেদীনের নীতিমালা অনুসৃত হবে। গ্রীক দর্শন ভস্মীভূত করে হাক্বীক্বী তাছাউফ চর্চার মাধ্যমে খলকুল্লাহকে ইসলাহ্ পৌঁছানো যাবে। সর্ব অবস্থায় শিরক, কুফর, বিদয়াত, জাহেলী প্রথা দূরিভূত করে তাওহীদ ও একত্ববাদের বাণী ঘোষিত হবে। যেখানে কালো-ধলোর কোন ভেদাভেদ থাকবে না। তাক্বওয়া, পরহেযগারী, সাম্য ও মৈত্রীর ভিত্তিতে যেখানে সকলেই একীভূত হবে। যেখানে থাকবে না কোন মর্যাদা ও টিকে থাকার অস্তিত্বের লড়াই। সকলেরই থাকবে একই আকাঙ্খা একই বাসনা। মহান রাব্বুল আলামীন-এর রেজামন্দি ও পরকালের উচ্চ মর্যাদা লাভ করা। আর এই কল্পনা যা উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে এসে বাস্তবে কার্যকর হয়। তবে তা সামান্য সময়ের জন্য। আর এই খিলাফত যা ছিল খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াতের দৃষ্টিতে। যিনি এই খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন উনবিংশ শতাব্দীর এক আপোষহীন বীর-মুজাহিদ, ইসলামী সীপাহ্ সালার, জলীলুল হৃদর মুজাদ্দিদ, আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যাঁর পূর্ব-পুরুষগণ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উচ্চ খান্দান থেকে শরীয়ত ও তরীকৃতের নিসবত হাছিল করেছেন। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল যারা মুসলমান অথচ মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত। তারা ইংরেজ ও শিখদের সাথে আতাঁত করে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও তাঁর মুজাহিদ বাহিনীর আন্দোলনের বিরোধীতায় নেমে পড়ে। এমনকি তাদের বিরোধীতায় শিখদের সহযোগীতা করার কারণে ১৮৩১ সালে, হিজরী ১২৪৬ এর ২৪ জিলকদ মোতাবিক তিনি ও তাঁর মুজাহিদ বাহিনী সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় শাহাদত বরণ করতে বাধ্য হন। কেননা ২০ হাজার শিখ সৈন্যের মোকাবিলায় মাত্র কয়েক’শ মুজাহিদ তাও অপ্রস্তুত অবস্থায় আর কিই-বা করতে পারেন? সত্যিকার অর্থে যদি বালাকোটের রক্ত রঞ্জিত নির্ভেজাল ইতিহাসে মুনাফিকদের ভূমিকা না থাকতো তবে হয়তো ভারতবর্ষ “দারুল হরব” না হয়ে ক্রমে ক্রমে “দারুল ইসলামে” পরিণত হতো। কিন্তু মুনাফিকরা তা হতে দেয়নি। আর এই শ্রেণীর মুনাফিক যারা ছদ্মবেশে মুসলমানদের সাথেই উঠা-বসা, চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়া করে এমনকি মুছল্লী-মুক্তাদী সেজে নামাযের প্রথম কাতারে দাঁড়াতেও তারা প্রতিযোগীতা করে। অর্থাৎ বাহ্যিকগত আমল-আখলাকে তারা পুরো দরবেশি দূরতে সজ্জিত থাকে কিন্তু অন্তর তাদের নেফাকে পরিপূর্ণ। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে এদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, إن المنفقين في الدرك الأسفل مِنَ النَّارِ অর্থঃ- “নিশ্চয়ই মুনাফিকদের জায়ঠিকানা জাহান্নামের তল দেশে।” (সুরা নিসা/১৪৫) পাঠক সমাজ। মনে রাখবেন, উহুদের যুদ্ধে আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুল তার মত গ্রাহ্য না হওয়ায় তিনশত মুসলিম বাহিনী নিয়ে সে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার আগেই সরে পড়ে। যার দরুণ উহুদ যুদ্ধে মুসলমানগণ কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হন। বণী মুস্তানিকের যুদ্ধে, ইক্কর ঘটনায় হযরত ছাফওয়ান ইবনে মাত্তাল রদিয়াল্লাহু আনহুকে নিয়ে আম্মাজান হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদিয়াল্লাহু আনহা-এর পৰিত্ৰ নিষ্কলুষ নিষ্পাপ চরিত্রের উপর যে কলঙ্ক লেপন করা হয়েছিল সেও তো মুনাফিক আব্দুল্লাহ্ ইবনে উবাইয়েরই কারসাজি ছিল। যার দরুণ মহান আল্লাহ্ পাক নিজে স্বয়ং স্বাক্ষী হয়ে এ ব্যাপারে কুরআন শরীফে আয়াত পর্যন্ত নাযিল করেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম বাগানে মুনাফিক মীরজাফর গং-এর বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজুদ্দৌলা ইংরেজদের নিকট পরাজয় বরণ কারেন। ফলে দেশ বিভাগের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৫৭ সালের পর ১৯৪৭সালের আগ পর্যন্ত প্রায় ১৯০ বছর উপমহাদেশ ব্রিটিশদের গোলামী করতে বাধ্য হয়। আর এই মুনাফিক কারা? তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল? বালাকোটের ময়দানে সীমান্তবর্তী পাঠান মুনাফিক আলিম সমাজ যারা হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফতওয়ার বিরোধীতা করে ভারতবর্ষকে “দারুল হর্ব”-এর পরিবর্তে “দারুল ইসলাম” ঘোষণা করে শিখদের সাথে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল, তারা কি আহমদ রেযা খাঁর পূর্ব পুরুষ নয়? অর্থাৎ আহমদ রেযা খাঁ কি পাঠান বংশীয় নয়? যারা বালাকোটের ইতিহাস বিকৃত করে ফেলেছিল? এমনকি এই দুনিয়াদার পাঠান মুনাফিক আলিমরা মুজাহিদগণের শহীদ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে? ইংরেজদের তোষণনীতি অনুসারে তাদের ওহাবী পর্যন্ত আখ্যা দিতে দুঃসাহস দেখায়। মুহতারাম পাঠকগণ! আমার আলোচ্য বিষয় ছিল, “বালাকোটের ইতিহাস নিয়ে। এবং মুজাহিদে মিল্লাত, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ। বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বেমেছাল বুযুর্গী, মর্যাদার মুল্যায়ণ নিয়ে।” প্রথমে আমি বালাকোটের ইতিহাস সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা করলাম। এবার তাঁর কামালত ও বেলায়েত সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করবো। আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়ি্যদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ভারতীয় উপমহাদেশে উনবিংশ শতাব্দীর এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যামানার মুজাদ্দিদ, আল্লাহ্ পাক-এর খাছ বান্দা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া। সাল্লাম-এর সুন্নতের পূর্ণ অনুসরণকারী। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ভারতীয় উপমহাদেশে শত শত বছর ধরে দ্বীনি খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। তিনি সাইয়্যিদ বংশীয়। ভারতের উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলী শহরে ১২০১ হিজরী সনে জন্মগ্রহন করেন। দিল্লীর সিরাজুল হিন্দ শাহ্ আব্দুল আজীজ। মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি হচ্ছেন তাঁর জাহেরী ও বাতেনী মুর্শিদ। তাঁর তত্ত্বাবধানে থেকে তিনি রূহানী ফয়েজ পেয়ে উচ্চ কামালতের দরজা হাছিল করেছেন। হযরত শায়খ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদীর জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বাহাউদ্দীন নক্শবন্দ বোখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মত বিশ্ব বিখ্যাত বুযুর্গগণ তাঁকে নিজেদের তরীক্বার বাতেনী নিসবত দান করেছেন। তৎকালীন ভারতবর্ষে মুসলমানদের উপর? ইংরেজ ও শিখ সম্প্রদায় অকথ্য নির্যাতন, শোষণ ও জুলুম চালিয়ে তাঁদের হয়রান করেছিল। সে সময় তিনি হযরত শা যাব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি অগাহাই-এর ফতওয়া মোতাবিক “দারুল হরব” ভারতে জিহাদের ডাক দেন। তাঁর এই জিহাদের ডাকে ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রদেশ হতে লক্ষ লক্ষ আলিম, ছুফী, দরবেশ, মাশায়েখগণ এগিয়ে আসলেন। এমনকি বাংলাদেশ? থেকেও অনেক আলিম, ছুফী তথায় গিয়ে তাঁর জিহাদী কাফেলায় শরীক হয়েছেন। আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়ি্যদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে চির শত্রু ইংরেজ ও শিখদের অস্তিত্ব মিটিয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা। এজন্যই। প্রথমে তিনি তাঁর মুর্শিদের নির্দেশে নওয়াব আমীর খানের বাহিনীতে যুদ্ধাস্ত্র পরিচালনা করার তা’লিম নেন। অবশ্য নওয়াব আমীর খান যখন লোভের বশঃবর্তী হয়ে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করে দেয় তখন তিনি তার দল ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীকে দু’টি শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলেন। প্রথমতঃ হযরত মাশায়েখ-ই-কিরামগণের তর্জ-তরীক্বা অনুযায়ী যিক্তি-আঙ্কার, মোরাকাবা-মোশাহেদার শিক্ষা প্রদান। দ্বিতীয়তঃ জিহাদের মাধ্যমে ইস্লানে কামিলের মর্তবায় পৌঁছে পূর্ণতা হাছিল করার তা’লিম দেন। এজন্য তৎকালে ভারতবর্ষের উচু দরজার ওলী মাশায়েখগণ যাঁদের হাজার হাজার মুরীদ ও খলীফা ছিল তাঁরা তাদের খানকা ছেড়ে তাঁর জিহাদী কাফেলায় শরীক হন। আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “শরীয়ত ও সুন্নতের” পায়রবী করার বরকতে আল্লাহ্ পাক আমাকে জাহেরী ও বাতেনী মর্যাদা দান করেছেন।” তিনি আরো বলেন, “আল্লাহ পাক-এর সন্তুষ্টি, রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত পূনঃজীবিত ব্যতীত আমার আর কোন আকাঙ্খা নেই। সাতটি দেশের রাজত্ব আমার নিকট একটি সরিষার বীজের মূল্যের সমানও নয়। অথবা ফরীদুনের রাজ মুকুট বা ইসকান্দার (বাদশাহ্) সিংহাসনের মূল্য আমার নিকট একটি ঘরের মূল্যেরও সমান নয়। পাঠক সমাজ! একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। তাছাউফ তথা পবিত্র কুরআনের পরিভাষায় তাযকিয়ার মাধ্যমে যিক্র শোগলের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তিনি হাজার হাজার খলীফা পয়দা করে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অন্য দিকে “জিহাদ ফি ছাবিলিল্লাহ্”-এর আহবানের মাধ্যমে এমন এক শক্তিশালী মুজাহিদ বাহিনী তৈরী। করেছেন যারা কাফিরের দেশে ইসলামী শরয়ী হুকুমত, হৃদ, কিছাছ জারী করেছেন। যা খোলাফা-ই-রাশেদীনের পর একমাত্র ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত এ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট আর কারো মধ্যে পরিলক্ষিত হয়না। সম্ভবতঃ এজনাই হযরত শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে কামালতে বেলায়েত-এর বদৌলতে কামালতে আম্বিয়া (যা বিশেষ শ্রেণীর ওলীগণের বেলায়েত) মাক্বাম হাছিল হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন। এজন্যই তাঁর কাছে যারা বাইয়াত হওয়ার জন্য আসতেন, তিনি তাঁদের বলতেন, “আমার নিকট বার বছরে যা হাছিল হবে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কাছে তা বার দিনে হবে।” (সুবহানাল্লাহ্) হযরত আমীরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সবচাইতে বড় তাজদীদী কার্য সর্বশ্রেষ্ঠ কারামত হলো, “তাঁর নিজের হাতে গড়া আল্লাহ্ পাক-এর রাহে নিবেদিত প্রাণ মুজাহিদ বাহিনী।” এটা বাস্তব সত্য যে, ইসলামের প্রথম যুগের পর এমন সর্বগুণে গুনান্বিত এত বড় জামায়াত যা ইতিহাসের পাতায় গৌরবান্বিত হতে পেরেছে খুব কমই। তাঁদের বাস্তব ও যথার্থ সত্তার পরিচয় হলো, তাঁরা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম-এর মূর্তপ্রতীক ছিলেন। আর এটাই হচ্ছে তাঁর মুজাহিদ বাহিনীর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব। তাঁদের আক্বীদা-আমল, চারিত্রিক গুণাবলী, তাওহীদের উপর দৃঢ় মনোবল, সুন্নত ও শরীয়তের অনুসরণ, ইবাদত-বন্দেগী, খওফ, প্রীতি, সারল্য, বিনয়, বদান্যতা, অল্পে তুষ্টি, জিহাদী মনোভাব, শাহাদতের মর্যাদা লাভ, ধৈর্য্য ও ছবরে তাঁরা হযরত মুহাজির হাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমগণের হুবহু নকশা ছিলেন বললেও অত্যুক্তি হবে না। এক টুকরো রুটি, এক মুঠো যবের ছাতু, কয়েকটি খেজুর, সামান্য পানি, বনের ঘাস, লতা-পাতা খেয়ে হাসি মুখে আল্লাহ পাক-এর রেজামন্দির জন্য কাফির-মুশরিকদের মোকাবিলায় তাঁরা তরবারী চালিয়ে শাহাদতের শারাবান তহুরা পান করে ইনছানে কামিলের মর্তবায় উন্নীত হয়েছেন। –
শেরে বাংলা মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
তরজুমান গং কিরূপে রেযা খাঁর মিথ্যা প্রশংসা করে আসছে এবং তদবিপরীতে আমিরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে জ্বাজ্বল্য অপবাদ গেয়েছে তার ২/১টি প্রমাণ এ কলামে গত সংখ্যায় পত্রস্থ করা হয়েছে। তাতে আমরা দেখেছি তরজুমান গংই একবার তথ্য দিয়েছে যে রেখা খাঁ পঞ্চাশের অধিক বিষয়ে প্রায় হাজারেরও বেশী কিতাব লিখেছে। (জুলাই-আগষ্ট) আবার তরজুমানেই (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর) সংখ্যায় লিখা হয়েছে, শতাধিক বিষয়ে পনের হাজারের অধিক কিতাব লিখা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংখ্যায়ও আল্লাহ পাক-এর রহমতে আরো ২/১টি তুলে ধরা হচ্ছে। তরজুমান গং উদ্ধৃতি করেছে, “সৈয়দ আহমদ (বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর জীবনী লেপক তার তাওয়ারীখে আজীবায় লিখেছেন, “সৈয়দ আহমদ বেরেলভী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এরাগিস্তানে শিখদের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ করেছিলেন সে সময় দিল্লীর হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তাঁর নামে সাত হাজার টাকার একটি হুন্ডি আসে।” উল্লেখ্য তরজুমান বিবৃত্ত উদ্ধৃত্তির শেষ (,) চিহ্ন এখানেই। কিন্তু এর উপরই ভিত্তি করে তরজুমান গং তার পরের লাইনে মন্তব্য করেছে, অনুরূপভাবে তিনি ইংরেজ সরকার থেকেও অনেক আর্থিক সাহায্য লাভ করেন। মূলতঃ এটি যে কতটা অজ্ঞতামূলক, আকূলহীন ও অনৈতিহাসিক বক্তব্য তা সাধারণেও বুঝে। প্রথম কথা হলো, হুন্ডি হলো সরকারের প্রচলিত রীতির বাইরে আর্থিক লেন-দেনের একটি বাবস্থা। সে সময় যেহেতু সরকার খৃষ্টান ছিল এবং সে খৃষ্টান সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদই ছিল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জিহাদ। সুতরাং সরকারের নীতিতে না হয়ে তার অজান্তে আর্থিক লেন-দোনের কারণ খুব সহজভাবেই বোধগম্য। দ্বিতীয়তঃ এভাবে হুন্ডি হিসেবে তাঁর কোন মুরীদের থকে জিহাদের সামানার জন্যই আসা স্বাভাবিক। ততীয়তঃ এভাবে ইংরেজ সরকারই যদি তাঁকে টাকা দিয়ে থাকে তবে তা হুন্ডির মাধ্যমে হবে কেন? বরং তা সরাসরি ইংরেজ অনুচর অথবা ব্যাঙ্ক চেকের মাধ্যমে। আর টাকাই যদি তিনি ইংরেজদের কাছ থেকে নিতেন তবে এভাবে এলাকার পর এলাকা জিহাদের জন্য চষে বেড়াবেন কেন? দিব্যি অন্যান্যদের মত জমিদারী, তালুক ইত্যাদি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতেন। যেমন নিয়েছিলো, রেযা খাঁর পূর্ব পুরুষ হাফিয কাযেম আলী খাঁ। আর তরজুমান গং এতই জালিয়াত, প্রতারক, ভন্ড, শঠ, ধূর্ত ও ঠগ যে তারা আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়িাদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে এ মিথ্যা তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ্যে বিশ্বাসযোগ্য করার জনা তাঁরই জীবনী “তাওয়ারিখে আজীবা” গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছে, অথচ “তাওয়ারিখে আধীবা” কিতাবের ২৪ পৃষ্ঠায়, “কারামতে আহম্মদী” কিতাবের ৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হিন্দুস্থানে যে সময় দুর্ভিক্ষের জন্য মানুষ নিজেদের সন্তানদেরকে বিক্রয়’ করতে বাধ্য হতো সেই সময় হযরত আমিরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে শতাধিক লোক প্রতিদিন সন্ধায় আহার করতো। তাঁর খাদ্য ভান্ডারের জিম্মাদার মৌলভী মুহম্মদ ইউসুফ সাহেবের প্রতি তিনি হুকুম করেছিলেন, সকল লোকের জন্য একই প্রকার খাদ্য প্রস্তুত হবে আর খাদ্য প্রস্তুত হলে বড় বড় ডেকচিতে রেখে চাদর দিয়ে যেন ঢেকে রাখা হয়। তারপর হযরত আমিরুল মু’মিনীন (রঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে খাদ্যবস্তুকে হাত দ্বারা স্পর্শ করে এই দোয়া পড়তেন, আয় আল্লাহ্ পাক। ইহা বেশী করে দিন এবং এতে বরকত দিম। অবশেষে দশ দশ কিংবা বিশ বিশ জনকে একত্রে বসিয়ে বড় বড় পাত্রে ভক্ষণ করানো হতো। যদিও দুর্ভিক্ষের জন্য খাদ্য অল্প পরিমাণ প্রস্তুত করা হতো অথচ এতে এতো বরকত হতো যে, সমস্ত কাফেলার লোক তা ভক্ষণ করে তৃপ্তি লাভকরতো এমনকি কখনো কখনো কিছু খাদ্য বেশী হয়ে যেতো।” “তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “সাহিবুল আসরার, রঈসুল আওলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ সাহেব (রঃ) আপন বোনকে একটা টাকা বরকতের জন্য দিয়েছিলেন। তিনি উক্ত টাকাটি একটা সিন্ধুকে রেখে দিয়েছিলেন। তার যত টাকার দরকার হতো তিনি উক্ত সিন্দুক হতে বের করে ব্যয় করতেন কখনও তাঁর টাকার অভাব হতো না।” বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এর দ্বারা এটাই প্রতিভাত হয় যে, সাইয়িাদুল আওলিয়া, আমীরুল মুমিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এস ব্যয় নির্বাহ হত অঢেলভাবে এবং সেটা আল্লাহপাকের কুদরতে তাঁর কারামতের বদৌলতে। উল্লেখ্য, তাওয়ারিখে আজীবার এই উদ্ধৃতি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৪ তম সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও তরজুমান গং জেনে শুনে এ মিথ্যাচার লেপন করে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রতি অপবাদ গাওয়ার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। পক্ষান্তরে একইভাবে অপপ্রয়াস চালিয়েছে তারা তাদের গুরু আহমদ রেযা খাঁর মিথ্যা প্রশংসা বর্ণনার ক্ষেত্রেও।
মুফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
মানুষের চেষ্টা বা কোশেশের একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে। ইচ্ছা করলে রিয়াজত-মুশাক্কত মুজাহিদা ও কঠোর পরিশ্রম করে মানুষ সে স্তরে পৌঁছতে পারে। কিন্তু এরপর শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একচুলও আর সামনে অগ্রসর হওয়ার যোগ্যতা তার মধ্যে থাকে না। এবং এখানেই ইনসানের কোশেশের পরিসমাপ্তি ঘটে। এবং এটাই তার শেষ মাক্বাম। তারপর থেকে আল্লাহ পাক-এর মেহেরবাণীর দরজা শুরু হয়। তিনি যদি চান তাঁর কোন খাছ বান্দাকে এরপরও সায়ের বা উন্নতি করাবেন তবে এটা তাঁর মেহেরবাণী। অন্যথায় এখানেই সালিকের গন্তব্যের শেষ। আর এটা হচ্ছে বেলায়েতে ছোগরার মাক্বাম। দ্বিতীয় সহস্রাব্দীর মুজাদ্দিদ, কাইয়্যুমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মাকতুবাত শরীফে” বলেছেন, “মানুষের চেষ্টার শেষ সীমা হচ্ছে বেলায়েতে ছোগরা। আর নুবুওওয়াত, রিসালত, ছাহাবিয়াত ও বেলায়েতের আরো অন্যান্য মাক্বাম আছে যা কোশেশের গভির বহির্ভূত। অর্থাৎ কস্মিনকালেও যা রিয়াজত-মুশারূত মুজাহিদা ও কিতাব লিখার দ্বারা হাছিল হবার নয়। বরং এ সমস্ত মাক্বাম পূর্ব থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে। মহান রাব্বুল আলামীনের ফযল-করম তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। সম্মানিত পাঠক বর্গ। মনে রাখবেন, আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, “অধিক কিতাব লিখা মুজাদ্দিদ হওয়ার জন্য শর্ত নয় এবং আহমদ রেযা খাঁর মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবী খন্ডন নিয়ে।” স্মরণ রাখা জরুরী, বেলায়েতে ছোগরা যা ওয়াহদাতুল ওজুদ বা একত্ববাদের স্তর এবং এটাই আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মাক্কাম। কিন্তু এরপরও আরো বেলায়েতের বহু মাক্বাম আছে। যেমন, বেলায়েতে কোবরা, বেলায়েতে উলিয়া, হাক্বীক্বতে ক্বাইয়্যুমিয়াত ইত্যাদি যা বিশেষ বিশেষ আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের জন্য খাছ। আর মুজাদ্দিদের মাক্কামও এরূপ একটি মাক্কাম যা আখাচ্ছল থাছ শ্রেণীর ওলীগণের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। আর এই শ্রেণীর ওলীগণই হচ্ছেন, জাহেরী-বাতেনীর দিক থেকে প্রকৃতপক্ষে নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের ওয়ারিছ। তারা শয়তানের সকল প্রকার ধোকাবাজী থেকে হিফাযতকৃত। হযরত মাশায়েখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মতে, “তাঁদের কাশফ, ইলহাম শয়তানের সকল প্রকার মকর বাজী থেকে মুক্ত। এমনকি শয়তান তাঁদের ছুরত পর্যন্ত ধারণ করতে সাহস পায় না।” (সুবহানাল্লাহ) ভারতীয় উপমহাদেশে এই শ্রেণীর ওলীগণের মধ্যে হযরত দাতা গঞ্জে বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ খাজা মুঈনুদ্দীন চীস্ত্রী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। যাদের প্রতিটি কথা, কাজ, চিন্তা-চেতনা, বিশুদ্ধ কাশফ ও ছহীহ ইলহাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাঁদের পবিত্র আত্মাসমূহ প্রতিটি মুহুর্তে দাঁদারে ইলাহী ও রিসালতে পানাহ্ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত থাকে। যদিও বা তাঁরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে খলকুল্লাহর খিদমতে নিয়োজিত থাকেন। এই শ্রেণীর ওলীদের সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের দ্বারা লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মানুষ হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। তাঁরা খোদা তায়ালার বারগাহে মনোনীত ও মকুবুল বান্দা। কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের জ্বাল্বের ফয়েজ জারী থাকবে। যদিও বা তাঁরা এই ক্ষণস্থায়ী নম্বর জগত ছেড়ে চলে গেছেন বা চলে যাবেন। তাঁরা হচ্ছেন, বেলায়েতে খাচ্ছার মাক্কামের ওলী। কিতাব লিখা তাঁদের জন্য জরুরী নয় এবং কিতাব লিখার মাধ্যমে এই মাকামও হাছিল হাবে না। সহস্রাধিক কেন লক্ষ-কোটি কিতাব লিখলেও এই মাকামের বিন্দু বিসর্গ হাছিল হবার নয়। এটা আল্লাহ পাক-এর এক খাছ দান। তিনি যাকে ইচ্ছা এ আলমমাক্বাম দান করেন। এমনকি সমস্ত জগত তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তাঁদের বেলায়েতের কমতি হবে না। বরং যারা মুখ ফিরিয়ে নিবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকবে। উপমহাদেশের এই শ্রেণীর আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মধ্য হতে অনেকেই দু চারটির বেশী কিতাব লিখেননি। যেমন, হযরত দাতা গঞ্জে বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর একমাত্র তাছাউফের বিখ্যাত কিতাব “কাশফুল মাহজুব” বাতীত আর কোন কিতাবের সন্ধান মিলে না। সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দু’চারটি কিতাব ব্যতীত তেমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিতাব নেই। হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি-এর “ফাওয়ায়েদুস সালেকীন, ইসরারুল আওলিয়া” এবং হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর “রাহাতিল মুহিব্বীন, রাহাতিল কুলুব, ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ” ইতাদি সামান্য সংখ্যক কিতাবেরই সন্ধান মিলে।
এভাবে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এরও মাত্র কিছু কিতাবের সন্ধান মিলে। যেমন, “মাকতুবাত শরীফ, রেসালায়ে মাবদা মাআদ, মুকাশিফাতে আইনিয়া, মা’আরিফে লাদুন্নিয়া, রদ্দে রাওয়াফিজ, ইসবাতে নবুওওয়াত” ইত্যাদি মাত্র কয়েকটি কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়। হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি অবশ্য প্রায় দু’শত কিতাব লিখেছেন। কিন্তু আহমদ রেযা খাঁর মত তো আর অধিক সংখ্যক কিতাব লিখেননি! আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাবই নেই ফুরফুরা শরীফের হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি গত শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন তাঁর অসিয়তনামা ব্যতীত আর কোন লিখিত কিতাব নেই। বেরেলীদের দাবী ও বক্তব্য অনুযায়ী এই সমস্ত বুযুর্গগণ কেউই মুজাদ্দিদ হবার উপযুক্ত নয়। কারণ তাঁরা তো আর সহস্রাধিক কিতাব লিখেননি। কাজেই কি করে তারা মুজাদ্দিদ হতে পারেন। (নাউযুবিল্লাহ) সম্মানিত পাঠকবৃন্দ। বেরেলীদের সাহস ও স্পর্ধা লক্ষা করুন। তারা শুধু এতটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবী, আহমদ রেখা খাঁ হচ্ছেন “মুজাদ্দিদে আযম” অর্থাৎ সবচাইতে বড় মুজাদ্দিদ। আমরা বলি, মূর্খতারও সীমা থাকা দরকার। যারা তাকে মুজাদ্দিদ বলে তারা যেমন জাহিল, মূর্খ। আর যে মুজাদ্দিদের মসনদে দাবী করা হয়েছে সে হচ্ছে, তরীকৃতের অন্ধ। অন্ধ ব্যক্তির নিজের পরিচিত জায়গা ব্যতীত বহিঃজগতের কোন খবর তার থাকে না। চক্ষুত্থান ব্যক্তির আলামত হচ্ছে, দেখে-শুনে, চিন্তা-ফিকির করে কথা বলা। কাজেই যাদের কাফির বলা হলো, বুদ্ধিমান হিসেবে প্রথমে দেখা উচিত ছিল তাঁরা কোন স্থানের অধিবাসী। তারা কি জান্নাতী? না জাহান্নামী? কিন্তু আহমদ রেযা খাঁ তরীক্বতের অন্ধ ছিল অর্থাৎ তার আত্মা এতটুকু অগ্রসর হতে পারেনি তাই অপরকে কাফির বলার কারণে সে নিজেই কুফরীতে গ্রেফতার হয়েছে। শত আফসুস। আহমদ রেযা খাঁর জন্য। সম্ভবতঃ দারেমী শরীফের এই হাদীস শরীফ তার জানা ছিল না। আর জানা থাকলেও সে ফিকির করেনি। দারেমী শরীফে উল্লেখ আছে, হযরত আবু দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে আল্লাহ পাক-এর নিকট অধিক মন্দ সেই ব্যক্তিই হবে, যে তার ইলম দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি।”
মুফতী মুহম্মদ শামছুদ্দীন, ভৈরব।
إنما يخشى الله من عباده العلماء অর্থঃ- “নিশ্চয় আল্লাহ্ পাক-এর বান্দাদের মধ্য হতে আলেমগণই আল্লাহ পাককে ভয় করে।” (সূরা = ফাতির/২৮) এ আয়াত শরীফের তাফসীরে, হাম্বলী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম, ইমামুল আইম্মা, শায়খুল মুহাদ্দিসীন, হযরত আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি = আলাইহি বলেন, “যাঁর ভিতর যত বেশী খোদাভীতি = রয়েছে, তিনি ততবড় আলেম।” “তাফসীরে ইবনে কাছীরে” উল্লেখ করেন, “ফক্বীহুল উম্মাত, ছহেবে রসূলিল্লাহ, হযরত ইবনে মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি অধিক হাদীস শরীফ জানে সে ব্যক্তি আলিম নয় বরং যাঁর মধ্যে আল্লাহভীতি অধিক সে ব্যক্তিই আলিম।” আর আহমদ বিন ছালেহ মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “অধিক রেওয়ায়েত শিক্ষা করলেই আলিম হওয়া যায়না। হক্কানী আলিম হওয়ার জন্য দু’প্রকার ইলম শিক্ষা করতে হয়। যে প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, “ইল দু’প্রকার। (১) কালবী ইলম (ইলমে তাসাউফ) যা উপকারী ইলম, (২) জবানী ইলম (ইলমে ফিক্বাহ্) যা আল্লাহ পাক-এর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য দলীল স্বরূপ।” (দারেমী, বায়হাক্বী, দায়লামী, মেশকাত) এ প্রসঙ্গে মালেকী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম, আশেকে রসূল, মুজতাহিদে মিল্লাত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো সে ফাসিক, আর যে ব্যাক্তি মা’রিফাত-মা’রিফাত করে কিন্তু ইলমে ফিকাহ শিক্ষা করে না সে যিন্দিক বা কাফির। আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার ইলম শিক্ষা করলো সে মুহাক্কিক।” (মিরকাত শরহে মিশকাত শরীফ) আলোচ্য আলোচনায় পাঠক সমাজের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আহমদ রেযা খাঁ কোন পর্যায়ের আলিম?সে ফাসিকের সীমা বা স্তরকে অতিক্রম করতে পারেনি। * ফাসিকের কারণে তার অন্তরে রয়েছে নিফাকী ব্য কপটতা। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রণীত বিশ্বখ্যাত কিতাব “ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, কিমিয়ায়ে সায়াদাতে” বর্ণিত বিশ প্রকার বদ স্বভাব তার পুরোটাই আহমদ রেযা খাঁর অন্তরে পূর্ণরূপে বিদ্যমান। যার অন্তর বদ খাছলতে পরিপূর্ণ সে কি করে “তায়ালুক মায়াল্লা” আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কের সৌভাগ্যে সৌভাগ্যবান হবে? এবং তদপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যিনি বেমেছাল ও * একান্ত মুহব্বতের অধিকারী সেই সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ছহেবে মিল্লাদুন্না ইলম, ইমামুর রসেখীন, মাখজানুল মারিফাত, মুহইস সুন্নাহ্, দাফিউল বিদয়াত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, আমিরুল মু’মিনীন, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ তরীকৃত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধি করতে পারবে? “আহমদ রেযা খাঁ এ পৃথিবীর মুখ দর্শনের পূর্বেই তদানিন্তন সময়ের পৃথিবীখ্যাত মুফতী, মুহাদ্দিস, মুফাসসীর, তরীক্বার পীর-বুযুর্গানে দ্বীন, গাউস, কুতুব, ‘আবদাল, নকীব আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ইমামত কবুল করেছিলেন। হাত মোবারকে হাত দিয়ে বাইয়াত হয়েছিলেন। তাঁর ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পেয়ে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি-রেজামন্দি হাছিল করার প্রেরণা পেয়েছেন।” সে প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আজও সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে আছেন অসংখ্য-অগণিত মুফতী-মুহাদ্দিস, মুফাছছির অগণিত হক্কানী পীর-মাশায়িখ, গাউস-কতুব, আওলিয়া-দরবেশ। যাঁর জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত কেটেছে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মা’রিফাত-মুহব্বতের সুধা পানে, সূক্ষাতিসূক্ষ্ম সুন্নত পালনে তাঁর সে সাগরতুল্য মর্যাদা-মর্তবা অন্ধ ও মূর্খ আহমদ রেযা খাঁ ও তার যোগ্যনুসারী কি করে বুঝতে সক্ষম হবে? মূলতঃ আহমদ রেযা খাঁ তাছাউফে ব-কূলম, সূলুকের পথে অন্ধ বিধায় আল্লাহ্ পাক-এর মা’রিফাত-মুহব্বত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি-রেজামন্দী হতে অনেক-অনেক দূরে অপসারিত। প্রিয় পাঠক! আহমদ রেযা খাঁ ও তার অন্ধ অনুসারীরা ইলমে তাছাউফ সম্পর্কে কত অজ্ঞ, তা তাদের লেখা থেকে প্রমাণিত হয়। রেযা খাঁ তার “ফতওয়া-ই-আফ্রিকায়” লিখেছে, “পীরের হাতে বাইয়াত হওয়া সুন্নত ও ঈমান রক্ষার উছীলা।” রেযা খাঁ এমনি অজ্ঞ যে, শরীয়তের সাধারণ উসূলটি পর্যন্ত তার জানা নেই। ফিকাহর বিশ্ববিখ্যাত কিতাব “দুররুল মুখতার”-এ উল্লেখ আছে, “যে আমল ব্যতীত ফরজ পূর্ণ হয় না, সেটাও ফরজের অন্তর্ভুক্ত।” “যেটা ঈমান রক্ষার উছীলা সেটাও তো ফরজের অন্তর্ভুক্ত।” অথচ সেটা সুন্নত বলে আখ্যায়িত করে মূর্খদের ইমাম বনে গেল। আর মূর্খ অন্ধ অনুসারীর দল তরজুমান কর্তৃপক্ষ আহমদ রেযা খাঁর মূর্খতাকেই পুঁজি করে মিথ্যার বেসাতি বয়ে, সমাজে তা ঢালাওভাবে প্রচার প্রসারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম তাহেরী
উনিশ শতকের প্রথমদিকে আলিয়া মাদ্রাসায় কোন ছাত্র ভর্তি করাতে গেলে তার বংশবৃত্তির খোঁজ-খবর নেয়া হত। এই কাকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং কার কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে দু’টোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদীস শরীফে এসেছে, “তোমরা কার কাছ থেকে ইলম শিক্ষা করছ তা দেখ? কারণ অসৎ উস্তাদের ছাত্র অসৎই হয়ে থাকে।” সেপ্টেম্বর/২০০০ আল বাইয়্যিনাত-এ ফরজ নামাজে “আল্লাহুম্মার যুকনী ওয়ার হামনী ওয়াশফাআনী ওয়া হদিনী” প্রসঙ্গে তাদের দেয়া নুরুল ইযাহ, হিন্দিয়া ও বাহারে শরীয়ত ৩য় খন্ডের দলীল প্রসঙ্গে আল বাইয়্যিনাতে দেখা যায় তিনটি কিতাবেই বিপরীত মন্তবা দেয়া আছে। অর্থাৎ তরজুমানের দলীল সম্পূর্ণই ভুয়া। মূলতঃ তরজুমানের জন্য এরূপ মিথ্যা দলীল পেশ করাই স্বাভাবিক। কারণ তাদের ইমাম রেযা খাঁই মিথ্যা দলীলের অবতারণা করেছে। অর্থাৎ রেযা খাঁ তরজুমান গংকে হাতে-কলমে চৌর্যবৃত্তি, মিথ্যা তথা কারচুপি শিখিয়ে গিয়েছে। ছানী আযানের ফতওয়াই তার বিশেষ প্রমাণ। ছানী আযানের ক্ষেত্রে রেযা খাঁ ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ফতহুল কাদীর ও মারাকিউল ফালাহর দলীল দিয়ে বলেছে যে, উক্ত কিতাবে লিখা আছে যে, ছানী আযান মসজিদের ভিতর দেয়া মাকরূহ। অথচ আল বাইয়ি্যনাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ফতওয়া আলমগীরী ১ম জিঃ ৮৮ পৃষ্ঠায় জুমার অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মিম্বরের নিকট আযান দেয়ার সময় সায়ী করা (মসজিদের নিকট ধাবিত হওয়া) ওয়াজিব ও বেচা-কেনা নিষিদ্ধ।” অনুরূপ ফতহুল কাদীর ২য় জিঃ, ১২০ পৃষ্ঠা ও মারাকিউল ফালাহ্ ২৮২ পৃষ্ঠায় জুমুয়ার অধ্যায়ে উল্লেখ আছে। বিস্তারিত আলোচনার পর দেখা যায় যে, রেযা খাঁ ছানী আযানের ক্ষেত্রে মকু আযানের হুকুম বর্ণনা করার মত কারচুপি তথা চৌর্যবৃত্তি সাধন করেছে। সুতরাং তার উত্তরসূরী তরজুমানও একইভাবে নামাযের দোয়ার ক্ষেত্রে নুরুল ইজাহ, হিন্দিয়া, বাহারে শরীয়ত ইত্যাদি কিতাবের ইবারত কারচুপি করবে এটা তাদের জন্য স্বাভাবিক বৈকি? আরো উল্লেখ্য যে, হানী আযানের ক্ষেত্রে মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৬৪টি দলীল দিয়েছে, তার বিপরীতে বেযাখানীদের দাড় করাবার মত একটি দলীলও মওজুদ নেই।
আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদিয়াল্লাহু আনহা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে এক বাহনে চড়ে সফর করছিলেন। এক পর্যায়ে বাহনের কোন এক ত্রুটির কথা তিনি ব্যক্ত করলেন। আদর্শের পূর্ণতাদানকারী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাংথ সাথে নেমে গেলেন বললেন, যার ত্রুটি উল্লেখ করা হবে তারই উপর আবার চড়া হবে এটা আদর্শ প্রসূত নয়। অর্থাৎ কি-না যার বদনাম করা হবে বা অপছন্দনীয় বলে ঘোষণা করা হবে তার থেকেই আবার খিদমত নেয়া হবে বা কোন কিছু গ্রহণ করা হবে এটা নীতি প্রসূত নয়। আল্লাহ পাক-এর আদতেও একই কথা। হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহ সাক বলেন,” কোন কাফির যখন আমার কাছে দোয়া করে তখন আমি তাড়াতাড়ি তার দোয়া কবুল করি। (কাফিরকে আল্লাহ পাক নাপাক, অপছন্দনীয় ঘোষণা করেছেন, তাই) কারণ তার ডাক আমার কাছে পছন্দনীয় নয়। তাই আমি চাইনা সে আমাকে বেশীক্ষণ ডাকুক। পক্ষান্তরে কোন মু’মিন যদি আমাকে ডাকে তখন আমি বিলম্বে তার দোয়া কবুল করি।। কারণ তার ডাক আমার কাছে পছন্দনীয়। আমি চাই যে সে আমাকে বেশী বেশী ভাকুক। মূলতঃ এ সৃষ্পবিষয়টি কেবল যারা হক্কানী-রব্বানী ওলী আল্লাহ্ তাঁদের পক্ষেই বোঝা সম্ভব। বোঝা সম্ভব নয় কেবল। ওলী আল্লাহ্ নামধারী মোটা বুদ্ধির অধিকারী রেযা খানী গং দের। তারা আশরাফ আলী থানভী, রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী, মওদুদী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গকে কাফির ফতওয়া দিয়ে আবার তাদের কথিত সেই কাফিরের সনদই তাদের রেযা খাঁর মর্যাদা বুলন্দ প্রকাশে জাহির করে। এ ছাড়া রেযা খাঁর বড়ত্ব জাহির করতে তারা আরো যেসব ব্যক্তিবর্গের ফিরিস্তি প্রকাশ তাদের অধিকাংশই ইদানিংকালের দাড়ি চাঁছা, ফাসিব-ফুজ্জার, দুনিয়াদার। সুতরাং এহেন ব্যক্তিবর্গ দ্বারা সে রেযা খাঁরই বুলন্দি প্রকাশ পেতে পারে যে রেযা খাঁ মূলতঃ তার কথিত কাফির বা দুনিয়াদারদের মত একই তবকায় সমাসীন।
মুহম্মদ মিজান মোল্লা।
ফতওয়াবাজী শব্দটি কারা ব্যবহার করে তা আমাদের জানা আছে। বৃটিশ আদালি বা চাকরের “আব্দুল্লাহ” নাম রাখা, পাগড়ী এবং সহিষের মাথায় চাপানো খানসামার মাথায় লাগানো এসব কুকীর্তি এখন আর গবেষণার বিষয় নয়, সাধারণেও অবগত। ঠিক মনিরূপে ব্রিটিশদের তৈরী কিছু তথাকথিত সাহেব বাঙ্গালী এবং পরবর্তীতে বামঘেষা বুদ্ধিজীবি ও লেখক মুসলিম সেন্টিমেন্টের শ্রদ্ধাবনত বিষয় ফতওয়াকে ফতওয়াবাজী বলে অবমূল্যায়ণ করা শুরু করে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাজী শব্দটি সাধারণত খারাপ অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন, চাদাবাজী, অস্ত্রবাজী, ফটকাবাজী ইত্যাদি। অথচ ফতওয়া মুসলিম জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। এটি একটি বিশুদ্ধ আরবী শব্দ। সাধারণভাবে এর অর্থ হলো, “অনুগ্রহ, বদান্যতা, দানশীলতা, মনুষ্যত্ব ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে কোন ঘটনার বা বিষয়ের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে পেশকৃত সিদ্ধান্তই ফতওয়া। আর এরূপ দ্বীনি সিদ্ধান্ত বেদ্বীন ও বদদ্বীনের ও বেদাতীর মর্মে শুল বেদনার উদ্রেক করে বলেই তারা সে সম্মানিত ফতওয়া দেয়ার ব্যাপারকে ফতওয়াবাজী বলে তাদের কূটদিলের কদোক্তি প্রকাশ করে থাকে। সেপ্টেম্বর সংখ্যায় তরজুমান গং মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতি অন্যায় বিষোদগার লেপন করতে গিয়ে সেই ইসলাম বিদ্বেষী সাহেব, বিদাতী, সমাজতন্ত্রীদের, ‘ফতওয়াবাজী’ শব্দকে গলাধঃকরণ করে অতঃপর তার ঢেকুর তুলে নিজেদের কোন পর্যায়ে উপণীত করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মূলতঃ মাসিক আল বাইয়্যিনাত সম্পূর্ণই দলীলভিত্তিক পত্রিকা। এর মাঝে আল্লাহ পাক-এর রহমতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু সন্দেহাতীত কালামুল্লাহ শরীফকেও কাফিররা বলেছে, কল্পলোকের গল্পকাহিনী। সুতরাং অখন্ডনীয় পত্রিকা আল বাইয়্যিনাত-এর ক্ষেত্রেও এ ধরণের অপবাদ আসতে পারে তা বিচিত্র কিছুই নয়। উল্লেখ্য রবিউস সানী এবং জুমাদাল উলা সংখ্যায় যে প্রশ্ন করা হয়েছে, জমাদিউস্ ছানীর সাথে সে দু’প্রশ্নের সমন্বয়ে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে কিন্তু তাতে কারচুপি করা হয়েছে। তাদের উত্তরে যে হাদীস শরীফ পেশ করা হয়েছে, তা নফল নামাযের জন্য। সে প্রসঙ্গে আল বাইয়্যিনাত এ মারাকিউল ফালাহ্, মাজমাউল আনহুর, রদ্দুল মোহতার, মিশকাত, মিরকাত, ইলাউস্ সুনান, বজলুল মাজহুদ, গায়াতুল আওতার, তানবীরুল আবছার, ইবনে মাযাহ্ ইত্যাদি কিতাবের দলীল দেয়া হয়েছে। তরজুমানে লিখিত, “তবে ফরজ নামাজের বেলায় হানাফীদের মধ্যে অনেক ইমাম যদিও মাসনুন বা সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্থ নয় মর্মে মত প্রকাশ করেছেন।” একথা দ্বারাও মূলতঃ উপরোক্ত হাদীস শরীফ যে, ফরজ নামাযের জন্য নয় তাই প্রকাশ পায়। মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ফতওয়াই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়, আর আল বাইয়ি্যনাত-এর ক্ষেত্রে তরজুমানের মিথ্যা ফতওয়াবাজীর অপবাদ মূলতঃ তৎজুমান স্বীকৃত অনেক ইমামগণের প্রতিই আরোপিত হয়। এরপর তরজুমান, ফরজ নামাযে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মাগফিরাতের দোয়া পড়া বৈধ বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, তরজুমান প্রশ্নকারী কিন্তু মাগফিরাত পর্যন্ত তার দোয়া সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং তার উল্লিখিত প্রশ্নে রিযিক চাওয়ারও বৈধতা চাওয়া হয়েছে। আর একথা সকলেই অবগত যে, ফরজ নামাযে কখনও রিষিক চাওয়া জায়েয নেই। সুতরাং উক্ত দোয়া পড়া জায়েয নেই। উল্লেখ্য, মাসিক আল বাইয়্যিনাত এ শুধু মাগফিরাতের দোয়া পড়া নিয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, ফরজ নামাজে তরজুমান প্রশ্নে উল্লিখিত পুরো দোয়া যাতে মাগফিরাতের দোয়া ছাড়াও আরো অনেক কিছুর দোয়া বিরাজমান তা পড়া যাবে না। কিন্তু তরজুমান সুকৌশলে নয় বরং কূটকৌশলে সে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মাগফিরাতের দোয়া পড়ার পক্ষে দলীল পেশ করেছে। তরজুমান কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন যে, আমার জন্য দোয়া চাওয়া আর রিযিকের জন্য দোয়া চাওয়া কি একই কথা? উল্লেখ্য, তরজুমান কর্তৃপক্ষ তার সমগ্র আলোচনায় রিযিকের জন্য দোয়া চাওয়ার পক্ষে কোন দলীল পেশ করতে পারেনি। সুতরাং মাগফিরাতের কথা বলে রিযিকের কথাসহ পুরো দোয়া করার বিষয় হালাল করার অপচেষ্টা এবং সেই সাথে আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়ার অপপ্রয়াস কি তাদের চুরির উপর বাটপারির ভূমিকাই প্রতিপন্ন করে না?
মুহম্মদ নেছারুল্লাহ জৈনপুরী, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
অবশেষে সুন্নতের মূর্ত প্রতীক, বাতিলের আতঙ্ক, ওহাবী, খারেজী, রাফেজী, রেজভী, ফিরক্কাসহ সকল বাতিল ফিরক্বার মুখোশ উন্মোচনকারী আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাভিত্তিক পত্রিকা “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর আদালতে ধরা পড়লো তরজুমান গং ও * তাদেরই বড় জন রেযা খাঁ। মাসিক আল বাইয়িামাত পত্রিকায় প্রদত্ত ছানী আযান সম্পর্কিত দলীলভিত্তিক ফতওয়ায় দিশেহারা হয়ে অবশেষে “তরজুমান গংরা” বলতে বাধ্য হয়েছে যে, জুমার দ্বিতীয় আযান সম্পর্কে মাসিক তরজুমান অনেক পূর্ব থেকেই এদেশের প্রচলিত প্রথার উপর ফতওয়া দিয়ে আসছে……।” অর্থাৎ তরজুমান গংদের ফতওয়া হচ্ছে-“ছানী আযান মসজিদের ভিতরে মিম্বরের সম্মুখে দেয়াই ফতওয়াগ্রাহ্য।” তাদের এ বক্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে, তারা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ফতওয়া ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। সাথে সাথে তাদের কথিত ইমাম রেযা খাঁর জেহালতীও উন্মোচিত হয়েছে। কারণ সে যদি এত মস্ত বড় আলেমই হতো তবে ছানী আযান সম্পর্কে ভুল ফতওয়া প্রদান করলো কি করে? সে কি ফিকাহর ছোট-খাট কিতাবও পড়েনি? পড়লে তো আর এরূপ ভুল করার কথা নয়। তবে ফিকিরের ব্যাপার হলো, এ ধরণের সাধারণ মাসয়ালার ফায়ছালা দিতে যে ভুল করে, তাকে তরজুমান গং “মুজাদ্দিদে আযম” লক্বব দিল কিভাবে? এটা কি “মুজাদ্দিদ” সম্পর্কে তাদের চরম জেহালতী নয়?
মুহম্মদ আলী হায়দার, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
আমাদের দেশে যে প্রবাদ বাক্য রয়েছে “চোরের মার বড় গলা” তার পরিপূর্ণ মেছদাক হচ্ছে, “তরজুমান গং।” কারণ তাদের কথিত আওলাদে রসূল শাহ্ সাহেবরা প্রকাশ্যে বেপর্দা হওয়ার হাজারও স্বাক্ষী থাকার পরও এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ব্যানারে মহিলাদের বেপর্দা মিছিলের ছবি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়ার পরও তরজুমান গংরা গলাবাজী করে বলছে, তাদের শাহ্ সাহেবরা বেপর্দা হয় না। অথচ শুধু আল বাইয়্যিনাত-এর “মতামত” লিখক মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক সাহেবই নয় বরং আরো অনেকের ন্যায় আমিও স্বচোখে মুহম্মদপুর কাদেরীয়া তৈয়াবিয়া মাদ্রাসার সামনে এবং ঢাকার মাদারটেক বাজার মসজিদের সামনে তৈয়ব ও তাহের শাহদ্বয়কে বেপর্দা অনেক মহিলার গায়ে “ফু” দিতে দেখেছি। কিন্তু কিভাবে যে তারা এ মহা সত্যকে অস্বীকার করলো তা ভাবতেও অবাক লাগে। বস্তুতঃ সত্যকে মিথ্যা বানানো আর মিথ্যাকে সত্য বানানো এবং সুন্নীকে ওহাবী বানানো আর ওহাবীকে সুন্নী বানানো তাদের চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাদের উচিত সময় থাকতে খালিছ তওবা করে, সত্যকে মেনে নেয়া এবং নাহত্ত্বকে পরিত্যাগ করা।
মুহম্মদ আবুল বরকত, মাদারটেক, ঢাকা।
আমি মাসিক আল বাইয়্যিনাত নিয়মিত পাঠ করি। কারণ এ পত্রিকা যেরূপ দলীলভিত্তিক অদ্রুপ সুন্নী আক্বীদা সম্পন্ন। এ পত্রিকা পাঠে আমার বহু আক্বীদা সুন্নীয়ত মোতাবিক হয়েছে। যেমন, জাতী নূর, ছানী আযান, হাযিব-নাযির, ইল্ল্সে গায়েব, পীর ছাহেব গ্রহণ ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়েই আমি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সঠিক ফায়ছালা পেয়েছি। কিছু দিন যাবত “তরজুমানের” সাথে আল বাইয়্যিনাত-এর “কলমী বাহাছ” চলছে দেখে আল বাইয়্যিনাত-এর পাশাপাশি তরজুমানও পাঠ করি। “আল বাইয়্যিনাত সেপ্টেম্বর/২০০০ সংখ্যায়” “তরজুমানের” তিনটি সুওয়ালের-জাওয়াব ভুল প্রমাণ করেছে এবং সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও রেযা খাঁ সম্পর্কে প্রায় ৭/৮টি মতামত দিয়েছে। অথচ তরজুমান পত্রিকায় মাত্র কয়েকটি বিষয়ে প্রতিবাদ করেছে। আর প্রতিবাদে যা লিখেছে তা আমার কাছেই মনঃপুত হয়নি। তাদের জবাব পড়ে মনে হয়েছে যে, তারা লজ্জা ঢাকার জন্যেই কিছু লিখেছে মাত্র। তবে তরজুমানের “মতমেত’টি পাঠ করে একটি বিষয়ে খুবই বিস্মিত হয়েছি। আর তাহলো, তরজুমানের মতামতদাতা মাসিক আল বাইয়্যিনাতে প্রদত্ত মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক-এর বক্তব্য খন্ডন করতে গিয়ে মহ্য হঠকারী করেছে। কারণ মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, তৈয়ব শাহ, তাহের শার বেপর্দা হওয়ার সাথে সাথে ছবি তোলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিল। কিন্তু তরজুমান বেপর্দার বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাইলেও ছবির বিষয়টি চেপে গেছে কূটকৌশলে। কিন্তু তরজুমানের এ নিশ্চুপতা কেন? কেন তারা এর প্রতিবাদ করলো না? মূলতঃ এর কারণ সবারই জানা। অর্থাৎ সবাই জানে যে, তাদের কথিত পীরে তরীকৃতরা হরদম ছবি তোলে ও ভিডিও করে যার বহু প্রমাণ ঢাকা ও চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিগুলোতে রয়েছে। অথচ ছবি তোলা শরীয়তে হারাম। যে ব্যক্তি জেনে শুনে স্বেচ্ছায় হারাম কাজ করে সে আবার ওলী হয় কি করে?
মুনজির মুহম্মদ গিয়াসুদ্দীন, সন্দ্বীপ।
পাঠক। আমি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈঃ সংখ্যার “মতামত বিভাগে” “বেপর্দা মহিলার সাথে ছবি তুলেও সে পীরে তরীকৃত।” শিরোনামে একখানা মতামত লিখেছিলাম। আর সেই “মতামত” খানা ছিল মূলতঃ তাদেরই অর্থাৎ তথা কথিত সুন্নীদেরই আরেক হোতা অদক্ষ জলীলের মুখোশ। উন্মোচনে। আর তার মুখোশ উন্মোচন করার এক পর্যায়ে আমি উল্লেখ করেছি, “এটা শুধু অদক্ষ জলীলের ক্ষেত্রেই নয়, বরং তার যারা বর্তমান মুরুব্বী রয়েছে- যেমন তৈয়বশাহ, তাহের শাহ, ছাবের শাহ তাদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, তারা বৎসরে একবার বা দুবার এদেশে আসে, পুরুষ-মহিলা এক সাথে নিয়ে জুলুস বের করে, মহিলাদের সাথে সরাসরি দেখা সাক্ষাত করে, তাদের গায়ে ফুঁ দেয়, অহরহ তাদের ছবি পেপার পত্রিকায় আসে, তাদের মাহফিলগুলো ভিডিও করা হয়।” কিন্তু তৈয়্যব শাহ, তাহের শাহ্ ওরফে বল্লাল শাহদের এক পা চাটা দালাল অখ্যাত নেজাম উদ্দীন তাদের মিথ্যা সাঁফাই গাওয়ার অপচেষ্টা করেছে। তার মিথ্যা দাবী, তাদের বল্লাল শাহরা বেপর্দা হয় না এবং তাদের জুলুসে মহিলারা অংশ নেয় না। পাঠক। যে ব্যক্তি সত্যিই ঘুমিয়ে আছে তাকে ঘুম থেকে জাগানো যায়। কিন্তু যে ব্যক্তি ঘুমের ভান করে থাকে তাকে তো জাগানো বড় দায়। তাদের বল্লাল শাহরা যে, বেপর্দা মহিলাদের সাথে দেখা করে তাদের গায়ে “ফু-ফা” দেয় তার প্রতক্ষ্যদর্শী শুধু আমি একাই নই বরং আরো অনেকেই এর প্রতক্ষ্যদর্শী। আমি নিজে দেখেছি, “মাদারটেক বাজার মসজিদে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাহফিলের সময় তৈয়্যব ও তাহের শাহ্ ওরফে বল্লাল শাহরা মহিলাদের গায়ে ফু দিয়েছে।” এরপরও যদি বল্লাল শাহদের দালাল চাটুকার নেজাম এটা অস্বীকার করে তবে সেই ব্রাহ্মনের কিস্সাই শুনাতে হয়। এক ব্রাহ্মন যে অনেক সম্পদশালী ছিল। সে একদিন ঘোষণা দিল, কেউ যদি আমাকে অমুক বিষয় বুঝিয়ে দিতে পারে তবে তাকে আমার সমস্ত সম্পদ দান করে দিব। তার স্ত্রী বললো, আপনি এটা বলেন কি? এমন অনেক লোক আছে, যে আপনাকে এটা বুঝিয়ে দিতে পারবে। তখন তো আপনার সমস্ত সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাবে। ব্রাহ্মন জবাব দিল, এত সহজ নয়। কারণ সে যতই আমাকে বুঝাক না কেন- আর যতই দলীল পেশ করুক না কেন আমি বলবো, “আমি বুঝি নাই তাই আমি মানি না।” বল্লাল শাহদের পা চাঁটা নেজামের অবস্থা যদি ব্রাহ্মনের মতই হয় তবে তাকে আর কিভাবে বিশ্বাস, করানো সম্ভব? বস্তুতঃ চির সত্যকে অস্বীকার করতে যাদের একবারের জন্যও বুক কাঁপেনা তাদেরকে তা কস্মিনকালেও বিশ্বাস করানো সম্ভব না। তার আরেকটি মিথ্যা দাবী’ হলো, “তাদের প্রচলিত জুলুসে মহিলারা অংশ নেয় না।” তার এ বক্তব্যটিও সুস্পষ্ট মিথ্যা। কারণ তাদের জুলুসে অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রামের এরূপ অনেক মহিলার স্বাক্ষীও আমার নিকট রয়েছে। শুধু তাই নয়, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মহিলা সংগঠনের ব্যানারে মহিলাদের মিছিলের ছবি পত্রিকাতেও এসেছে। আর সেই পত্রিকার পেপার কাটিংও আমায় কাছে রয়েছে। কাজেই “পোষ্টারে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ লেখা, আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহিলাদের জুলুসে অংশগ্রহণ করা এবং মহিলাদের দ্বারা রাস্তায় মিছিল করানো সুস্পষ্ট মুনাফেকী নয় কি? পাঠক। বল্লাল শাহদের গোলাম মিথ্যাবাদী নেজাম যে আসলেই মুনাফিক তার আরেকটি প্রমাণ হলো, আমি উক্ত বক্তব্যে তার বল্লালশাহ্রদের বেপর্দা হওয়ার চিত্র তুলে ধরার সাথে সাথে তাদের ছবি তোলার ও ভিডিও করার চিত্রও তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু মুনাফিক নেজাম অমোর বক্তব্য কাট-ছাট করে ছবির ব্যাপারটি গোপন করার চেষ্টা করেছে। যদি তার বল্লাল শাহরা এতই হক্কানী হয়ে থাকে তবে প্রকাশ্যে ছবি তোলে ও ভিডিও করে কিভাবে? হয়তো দেখা যাবে মুনাফিক নেজাম পরবর্তীতে ছবির বিষয়টিও অঙ্গীকার করে বসবে। কিন্তু ছবির বিষয়টি অস্বীকার করার মত সুযোগ হয়তো সে পাবে না। যেমন পেয়েছে বেপর্দার ব্যাপারে। কারণ তার বল্লাল শাহরা যখন মৌসুমী ফায়দা লুটতে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানী হয় তখন প্রতিদিনই তাদের ছবি দৈনিক পত্রিকায় আসে। তাই এটা সে অস্বীকার করে পার পাবে না বলেই গোপন রেখেছে। কিন্তু জনগণের কাছে তার বল্লাল শাহ্ ও সে ধরা পড়ে গেছে হাতে-নাতে।
মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক বাসাবো, ঢাকা।
উম্মতে মুহম্মদির ৭৩ ফির্কার মাঝে একমাত্র হক্বপন্থী আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কাছে ওহাবী একটি ঘৃণ্য ফির্কার নাম। আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ঔদ্ধত্য ও বেয়াদবীই যাদের বৈশিষ্ট্য। একই কারণে তারা ইমাম-মুজতাহিদ তথা আওলিয়া-ই-কিরাগণের সাথেও বেয়াদবী করে থাকে। তাদের অস্বীকার করে থাকে। বলাবাহুল্য, এটি ওহাবীদের জ্ঞাত বৈশিষ্ট্য। আর আশ্চর্য হলেও সত্য যে, সেই ঘৃণ্য বৈশিষ্ট্যটিই অনস্বীকার্যরূপে ফুটে উঠেছে কথিত সুন্নী দাবীদারদের তথাকথিত পন্ডিতপ্রবর আহমদ রেযা খাঁর মাঝে। এই পন্ডিতপ্রবর জুমুয়ার ছানী আযানের ক্ষেত্রে বলেছে যে, স্থানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া একরূহ ও নাজায়েয। অথচ হযরত ওছমান জুন নূরাইন রদিয়াল্লাহু আনহু তথা হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমগণের সম্মিলিত ইজতিহাদ হচ্ছে যে, ছানী আযান মসজিদের ভিতরেই দিতে হবে। অর্থাৎ কি-না এখানে তথাকথিত সুন্নীদের প্রন্ডিতপ্রবর রেযা খাঁ তার অবাঞ্ছিত পান্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমকে অস্বীকার করেছে। এতেকরে অবশ্য ওহাবীদের অবাধ্যতার সাথে তার অবাধ্যতার স্বরূপটিও ফুটে উঠেছে। সে কারণে তাকে ওহাবী সম্প্রদায়ের সার্থক প্রতিভূ বলা হতে কোনক্রমেই বিরত থাকা যায় না। তার পাশাপাশি লা-মাযহাবীদের মত ইঞ্জমা-বিয়াস অস্বীকার করার জন্য লা-মাযহাবীদের দফতরেও তার নামটা জ্বলজ্বল করে শোভা পাওয়ার যোগ হয়েছে। আর তার ‘ভক্ত দাবীকারী কথিত অতি সুন্নীরাও এ বিষয়টি ভাল করেই জানে ও মানে। তাই তারা মুখে রেযা খাঁর নামে ফেনা তুললেও ছানী আযান মসজিদের বাইরে দিতে উৎসাহ পায়না। যদ্বারা তাদের কথিত ইমাম যে ওহাবীদের মতই হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমদের মূল্যায়ণ না করার মত গর্হিত কাজটি করেছে, সেটিই তারা নত মস্তকে প্রদর্শন করে। মুহম্মদ সাইফুল হাবীব তরজুমান গং সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে, আপনারা লিখুন মরহুম মীর আহমদ মুনিরী (রঃ)-এর বড় সাহেবজাদা হাফেজ মুনিরুদ্দীন সাহেবের প্রথম খলীফা আলহাজ্ব মরহুম মাওলানা মীর আহমদ মুনিরী সাহেবের বড় সাহেবজাদা মাসিক আল বাইয়্যিনাতে ৮২/৮৩ তম সংখ্যায় আমিরুল মুমেনীন, মুযাহিদে আযম, হযরত সাইয়ি্যদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে তথা কথিত ওহাবী সুন্নী-আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ওহাবী কাফের আখ্যার দাত ভাঙ্গা জাওয়াব পড়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সুদূর চট্টগ্রাম থেকে মাসিক আল বাইয়্যিনাত কর্তৃপক্ষকে তাদের খুশির প্রতিক্রিয়া জানাতে ঢাকার মাসিক আল বাইয়্যিনাত কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন। ভুয়সী প্রশংসা করেছেন মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর। গাজীয়ে বালাকোট হযরত নূর মুহম্মদ নিযামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং কুতুবুল ইরশাদ হযরত ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সিল সিলার সকলের পক্ষ থেকে আল বাইয়্যিনাত এর লেখার প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। এ বিষয় দীর্ঘ সময় আলাপ-আলোচনা হয়েছে। পরে তাদের একটি স্বল্প সময়ের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। সংক্ষিপ্তাকারে এর কিছু অংশ তুলে ধরা হল- আল বাইয়্যিনাতঃ আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং রেজাখানীদের মুখোশ উন্মোচন সম্পর্কে মাসিক আল বাইয়িানাত এর লেখা পড়ে আপনাদের কি ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আবু জাফর সাহেবঃ শুধু আমার নয় হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সিল সিলার এবং মুনিরীয়া ত্বরীকার সকলের নিকট মনে হয়েছে, এটা যেন সম্পূর্ণ নতুন নাযিল হয়েছে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত এর আগে এত দলীল আদিল্লা দিয়ে এমন বিস্তারিত ভাবে আর কেউ লিখেনি। তাই এটা পড়ে আমরা কি যে খুশি হয়েছি তা প্রকাশের ভাষা নেই। মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ কথিত সুন্নীরা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে যে ওহাবী এবং কাফির বলে এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? আবু জাফর সাহেবঃ আসলে একজন হবানী অলী আল্লাহকে ওহাবী এবং কাফির বলে ওরা নিজেরাই ওহাবী এবং কাফির হয়েছে। ওরা আসলে আজ্বল-সমঝহীন, অন্যথায় ওরা হযরত নূন মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বিরাট অলী-আল্লাহ এবং বুজর্গ মনে করে। অথচ তাঁর পীর সাহেবকে কাফির মনে করে, এটা কি করে সম্ভব? কিন্তু আকূলের অভাবে এরা স্ববিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। এটা স্রেফ আহমকী ছাড়া আর কিছুই নয়। মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ তাদের ওহাবী এবং কাফির আখ্যাদানের প্রেক্ষিতে আপনাদের কিছু করণীয় আছে কি? আবু জাফর সাহেবঃ অবশ্যই আছে। শত-সহস্রবার আছে। এখন আমরা জোরালোভাবে এর প্রতিবাদ করব। আমরা তাদের কাছে দলীল চাইব। তারা কোথায় পেল উনি ওহাবী? তাদেরকে এর প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় ইংরেজদের জিহাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেয়া ওহাবী আখ্যার সাথে সূর মিলানোর কারণে ওরা ইংরেজদের দালাল। মাসিক আল বাইয়্যিনাতে আপনারা আরো লিখে যান আমরা সর্বদা আপনাদের সাথে একমত আছি। ওদের সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথা আছে, আমরা সেগুলো আপনাদেরকে দেব। আপনারা লিখুন।