কে এই “ফযলুল হক”? কি তার পরিচয়? তার ইলমী যোগ্যতাই বা কতটুকু?
বস্তুত: তার পরিচয় দেয়ার মত কিছুই নেই, কারণ তার নামের পর কোন সময় ‘ঢাকা’ লেখা থাকে আবার কোন সময় ‘ঢাকা’ও লেখা থাকেনা। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সে রেযাখানীদের ‘খরীদা গোলাম!
রেযাখানীদের কথিত বাঘা বাঘা মুফতী, মুহাদ্দিস, ফক্বীহ; আর কলামিষ্টরা যখন আল বাইয়্যিনাত নামক তরবারীর নীচে পরে কচুকাটা হতে লাগল তখনই দাঁড় করিয়ে দিল নাম পরিচয়হীন “খরীদা গোলাম” জাহিল ফযলুল হককে।
তার ইলমী যোগ্যতার কথা কি বলবো, তা তো আমার মত আপনারাও ইতোমধ্যেই মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মতামত বিভাগে “মুহম্মদ নুরুল ইসলাম ছাহেবের ‘খোলা চিঠির জবাব” পড়েই জেনে গেছেন।
তার জিহালতীর সত্যিকার পরিচয় পাওয়া যায় নিন্মোক্ত বক্তব্যে।
সে নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যার ‘খোলা চিঠিতে’ লিখেছে, “ইমামুল হুদা আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি “ওমদাতুর রেয়ায়া” কিতাব লিখেছেন।”
অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় বলা হয়েছে, “মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী ছাহেবের জন্ম হলো ১২৬৪ হিজরী সনের ২৬শে জিলক্বদ। আর ইমামুল হুদা হযরত আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকাল হলো ১২৪৩ হিজরী সনের ৮ই শা’বান। অর্থাৎ ইমামুল হুদা হযরত আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকালের ২১ বৎসর ৩ মাস ১৮ দিন পরে, “ওমদাতুর রেয়ায়া” কিতাবের লেখক মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী সাহেব জন্ম গ্রহণ করেন। আর তারই লেখা কিতাব “ওমদাতুর রেয়ায়া” বরং জাহিল ফযলূ চালিয়ে দিল ইমামুল হুদা হযরত আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে!’
পাঠক! যে ব্যক্তি কিতাবের লেখকের নাম জানেনা সে কোন স্তরের জাহিল তা আপনারাই নির্ধারণ করুন। সে শুধু জাহিলই নয়। সে একজন পাক্কা জালিয়াতও বটে, তাই সে ইমামুল হুদা আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উক্ত কিতাবের লেখক বানিয়ে উনাকে ‘কাফির’ বানানোর অপচেষ্টা করেছে।
এরূপভাবে তাদের বহু জালিয়াতীর প্রমাণ আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে জনগণ পেয়ে গেছে। মূলতঃ রেযাখানীরা জালিয়াতির উক্ত প্রশিক্ষণ জন্ম থেকেই পেয়ে আসছে। অর্থাৎ তাদের গুরু খোদ রেযাখাই যে এর গোড়া পত্তনকারী। রেযাখা অনেকেরই বক্তব্য কাট-সাট ও অপব্যাখ্যা করে তাদেরকে ‘কাফির’ ফতওয়া দিয়েছে। উক্ত বক্তব্যকে গায়েব জোরে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপর চাপিয়ে দিয়ে উনাকেও ‘ওহাবী’, ‘কাফির’ ফতওয়া দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
ঠিক একইভাবে রেযাখার যোগ্য সন্তান রেযাখানীদের খরীদা গোলাম “ফযলুল হক” রেযাখানী মুখপত্র মে/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যায় প্রদত্ত আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কতিপয় সম্মানিত ও বুযূর্গ লেখককে “কাফির” ফতওয়া দিয়ে নিজেদেরকে জন্মগত জালিয়াত হিসেবেই প্রমাণ করেছে।
পাঠক! আমি আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যার মতামত কলামে ভ- পীরে তরীকত অদক্ষ জলীলের কিছু বেয়াদবী ও কুফরী তুলে ধরেছিলাম। উক্ত বেয়াদব তার অবৈধ বুলেটিনে নিন্মেক্ত লাইন দু’টি পাশাপাশি উল্লেখ করেছিল। যেমন,
“প্রচ্ছদ”- হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ। ও দরগাহে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান রহমতুল্লাহি আলাইহি তার পাশাপাশি লিখিত লাইন দুইটির প্রেক্ষিতেই আমি লিখেছি যে, তা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে বেয়াদবী যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এখনও বলছি, অদক্ষ জলীল যেভাবে পাশাপাশি লিখেছে ঠিক এভাবেই পাশাপাশি লিখার মধ্যে লক্বব মুবারক কম-বেশী করা অবশ্যই বেয়াদবী।
রেযাখানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ তারা যদি আল বাইয়্যিনাত-এর কোন একটি সংখ্যায়ও দেখাতে পারে যে, ঠিক অনুরূপভাবে কোথাও আক্বায়ে নামদার, তাজেদারে মদীনা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, শাফিউল মুজনাবীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক ও রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক লেখা আছে, অথবা অন্য কোন আলিম বা লেখকের নাম লেখা আছে এবং তাতে ‘লক্বব’ মুবারক কম-বেশি করা হয়েছে তবে তাদেরকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।
মূলতঃ আল বাইয়্যিনাত-এর কোথাও অদক্ষ জলীলের ন্যায় অনুরূপ পাশাপাশি উল্লেখ নেই। তাই আমার উক্ত ফতওয়া আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক এবং সম্মানিত লেখকগণের উপর পড়ার প্রশ্নই উঠেনা।
বস্তুতঃ আমি যা লিখেছি তা মূলত অদক্ষ জলীলের লিখিত হুবহু পরিস্থিতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আম বা ব্যাপক অর্থে তা প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ আমি আম বা ব্যাপক অর্থে অর্থাৎ সবস্থানে বা সর্বক্ষেত্রে লক্বব মুবারক কম-বেশি করাকে বেয়াদবী বা কুফরী বলিনি। আর তা বলার প্রশ্নই উঠেনা। কারণ পৃথিবীবতে এমন অনেক ইমাম-মুজতাহিদ, ফক্বীহ, ওলী রয়েছেন যারা উনাদের লিখিত কিতাবসমূহে নিজের নামে বা অন্যান্য আলিমগণের নামে বহু লক্বব মুবারক উল্লেখ করলেও সবস্থানে রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, শাফিউল মুজনাবীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে তদ্রুপ লক্বব মুবারক উল্লেখ করেননি। কাজেই এরূপ ক্ষেত্রে তা কস্মিনকালেও বেয়াদবী হবেনা। মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর অবস্থাও ঠিক এরূপ।
যদি আম বা ব্যাপক অর্থে ধরা হয় তবে তো মাসিক আল বাইয়্যিনাতে রেযাখানীরা যাদের নাম উল্লেখ করেছে, তাদের চেয়েও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, শাফিউল মুজনাবীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক উনার মধ্যে বহুগুণ বেশি লক্বব মুবারক উল্লেক করা হয়েছে। অর্থাৎ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে যদি রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ৫২টি লক্বব মুবারক উল্লেখ থাকে, তবে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, শাফিউল মুজনাবীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক হাজারেরও বেশি লক্বব মুবারক উল্লেখ আছে। যেমন রেযাখানীরা যে ৮২তম সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছে সেই ৮২তম সংখ্যাতেই চারশতের অধিক লক্বব মুবারক উল্লেখ আছে। অন্যান্য সংখ্যাগুলোতে তো রয়েছেই। রেযাখানীরা কি এগুলো চোখে দেখেনি? দেখার তো কথা, কারণ তারা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিটি লাইন যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়ে তদ্রুপ বোধ হয় অন্য কোন কিতাব বা পত্রিকা পড়েনা। তবে সমস্যা হলো হিদায়েত না পাওয়ার কারণে তারা আল বাইয়্যিনাত-এর বক্তব্যকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে প্রায়শই অপব্যাখ্যা করে এবং জালিয়াতী ও মিথ্যাচারীতার আশ্রয় গ্রহণ করে। যেমনটি তারা করেছে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সম্মানিত ও বুযুর্গ লেখকগণের ক্ষেত্রে।
যেমন, তারা উল্লেখ করেছে, “হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম ছাহেব আল বাইয়্যিনাত-এর ৭১তম সংখ্যার ১৪ পৃষ্ঠায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, শাফিউল মুজনাবীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে “হুযূর” এবং “সাইয়্যিদুল আম্বিয়া” এদুটি লক্বব মুবারক দিয়ে উল্লেখ করেছেন। অথচ একই সংখ্যার ১২ পৃষ্ঠায় একই প্রবন্ধে হযরত আবু বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ৪টি লক্বব মুবারক দিয়ে উল্লেখ করেছেন। ……”
পাঠক! রেযাখানীরা কতবড় মিথ্যাবাদী ও জালিয়াত তা উক্ত বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়। যেমন তারা লিখেছে ১৪ পৃষ্ঠায় শুধু “হুযূর ও সাইয়্যিদুল আম্বিয়া” উল্লেখ করেছে। অথচ উক্ত পৃষ্ঠাতেই তার ঠিক উপরেই দুই স্থানে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অর্থাৎ ৪টি লক্বব মুবারক সহ উল্লেখ আছে, জালিয়াত রেযাখানীরা তা বাদ দিয়ে নীচের লাইনের কথা উল্লেখ করলো কেন?
তাদের জালিয়াতী এখানেই শেষ নয়, তারা যে ১২ পৃষ্ঠার কথা বলেছে সেই ১২ পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ আছে, ….. প্রিয় হাবীব, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাসলীমান কাছীরান কাছীরা ……।
এখানে লেখক আব্দুল হালীম ছাহেব নবীজি উনার শানে (১) প্রিয়, (২) হাবীব, (৩) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, (৪) ইমামুল মুরসালীন, (৫) হুযূর, (৬) পাক, (৭) তাসলীমান, (৮) কাছীরান কাছীরা সর্বমোট ৮টি লক্বব মুবারক উল্লেখ করেছেন। জালিয়াত, প্রতারক, মিথ্যাবাদী ভ-, রেযাখানীরা ১২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত লক্বব মুবারক সমূহ গোপন রেখে লাফ দিয়ে ১৪ পৃষ্ঠা থেকে মাত্র দুটি লক্বব মুবারক উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত ও লেখককে “কাফির” বানানোর অপচেষ্টা করেছে।
পাঠক! রেযাখানীদের জালিয়াতী আর প্রতারণা এখানেই শেষ নয়। রেযাখানী জালিয়াত ফযলু অতঃপর মাওলানা আব্দুল্লাহিল মা’ছূম-এর কথা উল্লেখ করেছে। সে লিখেছে- “মাওলানা আব্দুল্লাহিল মা’ছূম উক্ত সংখ্যার ৮২ পৃষ্ঠায় নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘রসূলুল্লাহ’ এ একটি মাত্র অভিধায় উল্লেখ করেছেন। অথচ আল্লামা আইনীকে উল্লেখ করার সময় লক্বব ব্যবহার করেছেন দু’টি ……….।
রেযাখানী দালাল ফযলু এক্ষেত্রেও চরম মিথ্যাচারিতা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। কেননা ৮২ পৃষ্ঠায় যেখানে ‘রসূলুল্লাহ’ শব্দ উল্লেখ আছে তা মূলতঃ একখানা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হুবহু অনুবাদ। একটা লেখকের নিজস্ব কোন বক্তব্য নয়। অথচ উক্ত পৃষ্ঠার ৩য় প্যারাতেই স্পষ্ট উল্লেখ আছে, “…. “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ……অর্থাৎ ৫টি লক্বব মুবারক লেখক উল্লেখ করেছে।
জাহিল ও মিথ্যাবাদী ফযলূর আরেক জঘন্য মিথ্যাচারিতা হলো সে লিখেছে, মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন সাহেব ৯২তম সংখ্যার ৫৮ পৃষ্ঠায় নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হুযূর পাক দুটি লক্বব মুবারক দিয়েছে। ……
পাঠক! আপনারা ৯২তম সংখ্যায় ৫৮ পৃষ্ঠা খুলে দেখুনঃ এক পৃষ্ঠা লেখার কয়েক স্থানেই লেখক উল্লেখ করেছেন …… (১) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, (২) ইমামুল মুরসালীন, (৩) খতামুন নাবিয়্যীন, (৪) হুযূর, (৫) পাক, (৬) ছল্লাল্লাহু আলাইহি (৭) ওয়া সাল্লাম ….।
এত স্পষ্টভাবে ৭টি লক্বব মুবারক উল্লেখ থাকার পরও মিথ্যাবাদী ফযলূ কি করে বলতে পারলো যে, শুধু “হুযূর এবং পাক” লেখা হয়েছে?
রেযাখানীরা অতঃপর ৮২তম সংখ্যার বরাত দিয়ে লিখেছে, ……. মাওলানা সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ ছাহেব নিজের নামে ৪টি লক্বব আর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য “হুযূর পাক” এদুটি লক্বব মুবারকই ব্যবহার করেছেন।”
ভাবতে অবাক লাগে, তাদের মিথ্যা বলতে ও লিখতে কি একটুও বুক কাঁপেনা। পাঠক আপনারাই দেখুন রেযাখানী দালাল ফযলূ কত বড় ডাহা মিথ্যা কথা লিখেছে। ৮২তম সংখ্যায় লেখকের নাম খিলা আছে এভাবে “মাওলানা, সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ” অর্থাৎ “মাওলানা ও সাইয়্যিদ” (যদিও সাইয়্যিদ লক্বব মুবারক নয় বংশ পরিচয়) মাত্র দু’টি লক্বব মুবারক উল্লেখ আছে। অথচ তারা বলল ৪টি লক্বব মুবারক।
আর লেখক উক্ত সংখ্যার উক্ত লেখায় উল্লেখ করেছেন, “…… (১) রহমতুল্লিল আলামীন, (২) স্বীয় হাবীব, (৩) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, (৪) ইমামুল মুরসালীন, (৫) খতামুননাবিয়্যীন, (৬) হুযূর, (৭) পাক, (৮) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি (৯) ওয়া সাল্লাম ….. অর্থাৎ ৯টি লক্বব মুবারক নবীজী উনার শান মুবারক উনার মধ্যে উল্লেখ করার পরও মিথ্যাবাদী বলছে মাত্র দু’টি লক্বব মুবারকই উল্লেখ করেছেন।
রেযাখানীদের সর্বশেষ মিথ্যাচারিতা ও প্রতারণার নমুনা দেখুন। লেখক “মুহম্মদ সাদী নাকি বরাবরই নবীজী উনাকে দু’টি লক্বব মুবারক দিয়ে থাকেন এবং ৭১তম সংখ্যার ৯ পৃষ্ঠায় নাকি মাত্র দুটি লক্বব মুবারক করেছেন।”
পাঠক! আপনারা ৭১তম সংখ্যার ৯ পৃষ্ঠা খুলুন বেশি দূর যেতে হবে না মাত্র কয়েক লাইন পড়ার পরই দেখবেন উল্লেখ আছে, (১) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, (২) ইমামুল মুরসালীন, (৩) খতামুন নাবিয়্যীন, (৪) মা’রেফতের পূর্ণতম বিকাশস্থল, (৫) সাইয়্যিদুল আ’লম, (৬) হাবীবে আযম, (৭) হুযূর, (৮) পাক, (৯) ছল্লাল্লাহু আলাইহি, (১০) ওয়া সাল্লাম”।
পাঠক! দেখলেন তো মিথ্যাবাদী, জালিয়াত, প্রতারক রেযাখানী দালাল ফযলূ কিরূপভাবে মিথ্যার বেসাতী সাজিয়ে জনগণকে ধোকা দিতে চেয়েছে। সাথে সাথে আল বাইয়্যিনাত-এর সম্মানিত ও বুযূর্গ লেখকদের কুফরীর মিথ্যা তোহমত দিয়ে রেযা খার যোগ্য অনুসারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মূল কথা হলো- ভ- পীর, বেপর্দা, বেহায়া, ফিৎনাবাজ অদক্ষ জলীল তার অবৈধ প্রচার পত্রে যেভাবে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক ও তাদের গুরু রেযা খার নাম উল্লেখ করে লক্ববের কম-বেশি করেছে। ঠিক এরূপভাবে আল বাইয়্যিনাত-এর কোথাও উল্লেখ নেই। আর এরূপ কোন প্রমাণও তারা পেশ করতে পারেনি। তারা যেগুলো উল্লেখ করেছে তা আম বা ব্যাপক অর্থে প্রযোজ্য।
এরূপ ব্যাপক অর্থে যদি তারা আমার বক্তব্যকে গ্রহণ করে তবে তো সে অর্থে রেযাখানীরাই প্রথম “কাফির” হয়। কেননা রেযাখানীদের মে’ ২০০১ সংখ্যায় রেযাখার নামে দু’ডজনের অধিক লক্বব উল্লেখ আছে।
অথচ আখিরী রসূল, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করার সময় প্রতিবারই ১টি বা ২টি লক্বব মুবারক ব্যবহার করেছে।
রেযাখানী দালাল ফযলুর দেয়া শিরোনাম “আপনার তলোয়ারে গেল মোর মাথা” যথার্থই হয়েছে। অর্থাৎ রেযাখানীদের তরবারীতে রেযাখানীদের ঈমানের মাথা কাটা গেল।
জাহিল ফযলূ আমার বক্তব্যকে আম বা ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করে অপরকে ‘কাফির’ বানাতে গিয়ে কি ভুলইনা করেছে! কে জানে এ অপরাধে তার গোলামীই চলে যায় কিনা? না, না, তার গোলামী যাবে কেন, তাকে তো নিযুক্তই করা হয়েছে জালিয়াতী, প্রতারণা, ভূল ও মিথ্যাচারীতা ইত্যাদির জন্যে।
পাঠক! রেযাখানীদের একটি জঘন্য কৌশল হলো কোন বিষয়ে ধরা পরে গেলে, সে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা বা সে বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া। যখন ধরা পরে গেল যে, তাদের ভাড়াটিয়া মৌসুমী পীর ছবি তোলে, বেপর্দা হয়, এবং যখন প্রকাশ হয়ে গেল যে, “ওমদাতুর রেয়ায়া” কিতাবের লেখক ইমামুল হাদা নন। তখন তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণই নিশ্চুপ হয়ে যায় এবং প্রতিবারই বিষয়টি এড়িয়ে যায়। কারণ তারা জানে যে, এ ব্যাপারে কথা বলার মত কোন দলীল তাদের নেই।
ঠিক অনুরূপ ভাবেই মে/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় একটি বিষয় তারা এড়িয়ে গেছে অত্যন্ত কুটকৌশলে। আর তা হলো দরুদ শরীফ সংক্ষেপে বা সংকেতে লেখা। যদিও আমাদের ফতওয়া হলো-সংক্ষেপে বা সংকেতে দরুদ শরীফ লেখা মাকরূহ। কিন্তু তাদের গুরু রেযাখাঁর ফতওয়া হলো সংক্ষেপে صلعم-ص ইত্যাদি দ্বারা দরুদ শরীফ লেখা কুফরী। এটা রেযা খাঁর লিখিত কিতাব “মজমুয়ায়ে রাসায়েল” ও “ফতওয়ায়ে আফ্রিকাতে” স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অথচ সেই রেযাখাঁরই অন্ধ পূজারী অদক্ষ জলীল তার বুলেটিনে (দঃ) এবং صلعم দ্বারা দরুদ শরীফ সংকেতে বা সংক্ষেপে লিখেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, রেযা খানীরা এ বিষয়ে কোন কথাই বললো না। বরং বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপেই চেপে গেল। অবশ্য চেপে যাওয়ার কারণও রয়েছে। কারণ তারা জানে যে, বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ‘রেযাখার তলোয়ারে রেযাখানীদের ঈমানের মাথা কাটা পড়বে। কেননা তারাও তো দরুদ শরীফ সংক্ষেপে লিখে অভ্যস্ত। তাদের মে-২০০১ সংখ্যার ৩৮ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন সেখানে “ص” দ্বারা দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লেখা হয়েছে।
কাজেই রেযাখানী গোলাম ফযলুর দেয়া শিরোনাম “আপনার তলোয়ারে গেল মোর মাথা” এক্ষেত্রেও যথার্থই হয়েছে। অর্থাৎ ফযলূ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে তাদেরই গুরু রেযা খাঁর ফতওয়ায় তাদের ঈমানের মাথা কাটা গেছে। অর্থাৎ রেযাখার ফতওয়া মোতাবিক রেযাখানীরা কাফির।” (প্রয়োজনে ধারাবাহিক চলবে)
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
আলহামদুলিল্লাহ্!
হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, যামানার তাজদীদী মুখপত্র
মাসিক আল বাইয়্যিনাত এখন ওয়েব সাইটে
সময়ের ঘূর্ণাবর্তে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পদার্পণ করেছে একাদশ বর্ষে। বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সমন্বয় রক্ষা করে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আল বাইয়্যিনাত এখন পৌঁছে গেছে বিশ্বের সর্বত্র। আপনি মাসিক আল বাইয়্যিনাত নিয়মিত পড়তে চান, কিন্তু অবস্থান করছেন পৃথিবীর শেষ প্রান্তে, কোন চিন্তা নেই। ঢুকে পড়ুন ইন্টারনেটে-ওয়েব পেইজ িি.িধষনধরুরহধধঃ.পড়স এ। পড়ুন আপনার প্রিয় পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত।
হাশরের ময়দানে শাফিউল উমাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইবনে মালজাম, ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ, ইয়াযীদ, মানছূর, আহমদ রেযা খা এবং আব্দুল জলীল কি জবাব দিবে?
কাবিলের মধ্য দিয়ে সর্বপ্রথম মানুষ খুন করার সূত্রপাত্র হয়। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন ইনসান সৃষ্টি করার পর হতে এ যাবৎ কত মানুষ যে অন্যায়ভাবে হত্যা, খুন হয়েছে তার সঠিক খবর তিনি ব্যতীত কেউই জানেন না। আফসুস! কাবিলের জন্য। সে শুধু সামান্য খায়েশের বশবর্তী হয়ে আপন ভাই হাবিলকে খুন (শহীদ) করে পাপের সিলসিলা জারী করে গেল। তাই ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষকে নির্বিচারে অন্যায়ভাবে খুন, হত্যা, শহীদ করা হবে এবং যারা করবে তাদের সকলের পাপের বোঝা প্রথম কাবিলের আমলনামায় যোগ হবে। এইতো গেলো আমভাবে সাধারণ মানুষের কথা। কিন্তু যুগে যুগে যারা “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর, আওলাদ ও সাইয়্যিদ জাদাদের শহীদ করেছে, যারা নবী বংশীয় সম্মানিত লোকদের সাথে দুর্ব্যবহার, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম করেছে তারা ক্বিয়ামতের মাঠে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামন মুবারক উনার মধ্যে কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবে? সাইয়্যিদজাদাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে তাদের অন্তরাত্মা কি সামান্যতমও প্রকম্পিত হয়নি? তারা কি জানেনা, সেই কঠিন পরিস্থিতি ইয়াওমুল হাশরে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরাব অধিকারী হবেন। উনার শাফায়াত ব্যতীত সেদিন কোন মানুষের পক্ষেই নাযাত পাওয়া সম্ভব হবেনা। তারা কি ভুলে গেছে, সেই তৃষ্ণার্ত মূহুর্তে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতদের হাউজে কাওছারের মুবারক পানি পান করাবেন? নবী উনার আদরের দুলাল উনাদের বুকে তরবারী চালিয়ে কিভাবে তারা “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হাউজে কাওছারের পানি আবদার করবে? কোথায় পালিয়ে যাবে সেদিন নরাধম, পাপিষ্ঠ ইবনে মালজাম, ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ, ইয়াযীদ, মানছুর? কোথায় যাবে সেদিন আহমদ রেযা খা ও আব্দুল জলীল? যারা নবী বংশের আওলাদগণ উনাদের প্রতি কুফরীর ফতওয়া জারী করেছে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করেছে।
সেদিন “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বংশের আওলাদগণ উনাদের প্রতি যারা অত্যাচার, জুলুম করেছে তাদের নিকট হিসাব তলব করেন তখন কোথায় আশ্রয় নিবে এই নবী বংশীয় বৈরী শত্রুগণ?
তিনি যদি বলেন, “কি কারনে আমার বংশ উনার মধ্যে আওলাদগণ উনাদের প্রতি জুলুম করা হলো, আজ তার হিসাব চাই?” তিনি যদি বলেন, “হে নরাধম ইবনে মালজাম! তুই আমার (হযরত) আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কেন শহীদ করলি? তুই কি জানতি না, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু, মসজিদুল হারাম শরীফ উনার বাইতুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে অভ্যন্তরে উনার জন্ম. হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম, হযরত মিকাঈল আলাইহিস সালাম উনার সাহায্যকারী। তুই কি জানিস, সমূদ্রের মৎস এবং বনের পশু-পাখি পর্যন্ত উনার প্রশংসায় মশুগল। তুই কি ভুলে গিয়েছিস, তিনি আমার কলিজা মুবারক উনার টুকরা হযরত ফাতিমাতুয যাহারা আলাইহাস সালাম উনার সম্মাতি জামাতা, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ উনার মধ্যে যার উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তবে কেন অন্যায়ভাবে উনাকে শহীদ করলি? উনার শরীর মুবারক উনাকে শমসের দ্বারা আঘাত হানতে তোর বুকে কি এতটুকু কম্পন হয়নি? তুই কার শরীর মুবারক উনার মধ্যে আঘাত হেনেছিস, তা কি একবারও চিন্তা করিসনি? যা- আজ তোর কাছ থেকে আমিও মুখ ফিরিয়ে নিলাম।”
এরপর যদি “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “হে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ! হে ইয়াযীদ! আমার হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে কেন কারবালার প্রান্তরে শহীদ করা হলো? কেন আমার বংশ উনার লোকদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, পানির পিপাসায় ফোরাতের তীরে বন্দী করে তিলে তিলে নিঃশেষ করা হলো? হে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নতপ্রাপ্ত ইয়াযীদ! হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পরে তুই কেন একথা বললি, আজ আমি বদরের যুদ্ধের আমার পূর্ব পুরুষদের রক্তের প্রতিশোধ নিলাম? তোদের কি স্মরণ নেই, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার উনার মধ্যে সমস্ত সৃষ্টি জগতের মাঝে আমার মর্যাদা সবচাইতে বেশি? তোরা কি জানিস না, আজ এই কঠিন মূহুর্তে আমার শাফায়াতের সামীয়ানার নিচে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ পর্যন্ত প্রতীক্ষমান আছেন? আজ আমি যাকে শাফায়াত করবো কেবল সেই শুধু নাযাতের ছাড়পত্র পাবে। কেন হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শরীর মুবারক উনার মধ্যে আঘাত হানলি তোরা? হযরত হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা যে জান্নাতের যুবকদের সর্দার এটাকি তোদের স্মরণ নেই? উনার সমস্ত শরীর মুবারক যে আমি চুম্বন মুবারক করেছি এটা কি তোরা জানিসনা? ক্ষমতার লোভে আমার চোখের পুতলী, নয়নের নাওয়াছা হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শরীর মুবারক থেকে মস্তক মুবারক পর্যন্ত পৃথক করে ফেলেছিস। আহ! কি কঠিন পাষাণ হৃদয় তোদের! আমি যে মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল, বিশেষ মনোনীত বান্দা এটা কি তোরা ভুলতে বসেছিস? তোরা কি এতটুকু চিন্তা করলি না যে, একদিন অবশ্যই তোদেরকে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামন মুবারক উনার মধ্যে পেশ করা হবে এবং সেই দিনটি, সেই সময়টি হবে অত্যন্ত কঠিন, বিপদ সংকূল, ভীতিকর মূহুর্ত? তাই আজ আমিও তোদের থেকে পৃথক। তোরাও আমার থেকে পৃথক হয়ে যা।”
এরপর যদি খলীফা মানুসূরকে সম্বোধন করে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “কি হে মানসূর! মদীনা শরীফ উনার সালা পাহাড়ের পাদদেশে কেন হযরত নাফসে জাকিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এবং কুফার বাখমারীতে কেন হযরত ইব্রাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মস্তক মুবারক অন্যায়ভাবে দ্বিখণ্ডিত করা হলো? কেন হযরত নাফসে জাকিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মস্তক মুবারক তিনতিন পর্যন্ত শুলে বিদ্ধ ছিল? আমার বংশধর উনাদের প্রতি কেন তোন এই জুলুম, অত্যাচার? কেন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে জেলের অন্ধ প্রকোষ্ঠে আমার সন্তান উনাদের খাদ্য, পানিবিহীন অবস্থায় বয়কট করা হলো? আজ তার হিসাব চাই।”
এরপর যদি রসূল “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আহমদ রেযা খার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বলেন, “হে আহমদ রেযা খা! আমার আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি কুফরীর ফতওয়া কেন জারী করা হলো? তুমি আমার মুহব্বতের দাবীদার, অথচ আমার সন্তান উনাকে কাফির বলে আক্বীদা পোষণ কর। এটা কি ধরণের নবী প্রেম? তুমি কি জাননা, একজন সুলতানের রাজ্যে বসবাস করে, তার দেয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আবার তারই সন্তানকে কতল করার চিন্তা করার অর্থ মূলত: সুলতানেরই প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা? তুমি কি জানতে না যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমার আওলাদ উনাদের অন্তর্ভুক্ত? এবং আমার রক্তশোনিত ধারা উনার শরীর মুবারক উনার মধ্যে মিশে আছে? অন্ততঃ আমার দিকে চেয়ে কেন তুমি এই জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাকলে না? তোমার দাবী, তুমি অধিক কিতাব লিখে দ্বীনের খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছ। আমি যদি আজ মীযানের এক পাল্লায় তোমার লিখিত কিতাব এবং অন্য পাল্লায় আমার আওলাদ উনাদের প্রতি কুফরী ফতওয়া জারী করার পাপ, গুণাহ ওজন করতে বলি তাহলে তোমার অবস্থা কি দাঁড়াবে, তা ভেবে দেখেছ কি? অথবা আমি যদি বলি, তুমি যা নেক কাজ করেছ তার বদলা নিয়ে যাও কিন্তু আজ মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সহিত তোমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি যদি বলি, এখন তুমি ইবনে মালজাম, ওবায়দুল্লাহ জিয়াদ, ইয়াযীদ এবং মানছূরের কাতারে গিয়ে দাঁড়াও! ….. অতঃপর “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি বলেন, হে পথভ্রষ্ট আব্দুল জলীল! যমীনে আমার নায়েব ও আওলাদ হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে কেন অশ্রাব্য, অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করলি? উনার ভিতরে যে দোষত্রুটি নেই, কেন তুই সেগুলো উল্লেখ করে মানুষের কাছে প্রচার করলি? তুই কি জানিস, সে আমার উম্মতের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তি এবং নেক সন্তান উনাদের মধ্যে শামীল ছিল। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আমার ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদেরকে অধিক মুহব্বত করে বলেই কি উনার বিরুদ্ধে তুই কুৎসা রটনা করতি? দুনিয়াতে আমি যা করতে আদেশ করেছি তোরা তার বিপরীত করতি আর আমি যা নিষেধ করেছি সেটার দিকে তোরা অধিক ঝুঁকে থাকতি। আর তিনি তোদেরকে এগুলো থেকে ফিরে থাকতে বলতো বলেই তোরা উনার প্রতি শত্রুতা পোষণ করতি এবং সর্বদা উনার ক্ষতি করার কোশেশে লিপ্ত থাকতি। আমার আওলাদ উনাদেরকে কষ্ট-তাকলীফ দিয়ে আমার নিকট কি করে তোরা শাফায়াতের সনদনামা এবং হাউজে কাওছা মুবারক উনার পানি আশা করিস? তুই কি জানিস না, নবী বংশ উনার প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করার অর্থ মহান আল্লাহ পাক উনার গযবে পতিত হওয়া এবং চিরকালের জন্য জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া? এখন আমি যদি বলি, তুই ওকবা ইবনে আবূ মুঈত, ওতবা ইবনে রবীয়া, ওলীদ ইবনে ওতবা, উমাইয়া ইবনে খালফ, আবূ জাহিলের কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাক। তোরা কি পড়িসনি, এদের জন্য আমি দুনিয়াতেই বদদোয়া করেছি? কারণ এরাও আমার রিসালতের প্রারম্ভে আমাকে যার পর নাই কষ্ট-তাকলীফ দিয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে কাফিরদের নিকট কুৎসা রটনা করেছে আমার পরে আমার সম্মানিত আওলাদগণ উনাদের প্রতি এদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোরাও তাই করলি যা আমার প্রতি করা হয়েছিল। হে আখলাছ ইবনে সুরাইক! হে উম্মে জামীলের দোসর! আমাকে কষ্ট দিয়ে কিভাবে আমার উম্মতের দাবী করিস?
আজ আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আমার বংশ, আওলাদ, সন্তানগণ উনাদের প্রতি যুগে যুগে যারা অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নিপীড়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে নালীশ জানাবো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সঠিক ফায়সালা না পাওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে শাফায়াতও করবোনা এবং কাউকে হাউজে কাওছারের পানিও পান করাবোনা। আজ তারা আমা থেকে জুদা হয়ে যাক। আমিও তাদের থেকে জুদা হয়ে যাই।”
অতএব, সেদিন ইবনে মালজাম, ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ, ইয়াযীদ, মানছূর, আহমদ রেযা খা ও আব্দুল জলীল প্রত্যেকেই লা-জাওয়াব হয়ে যাবে এবং তাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
আয় মহান আল্লাহ পাক! আমাদের সকলকে নবী বংশীয় সাইয়্যিদগণ উনাদের প্রতি মুহব্বত ও ভালবাসা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
-বাববার, শের-ই বাংগাল মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সহ বর্তমান দেশের দশ কোটিরও বেশি লোক কি কাফির? আর কেবলমাত্র জনবিচ্ছিন্ন অজ্ঞ তথাকথিত সুন্নীরাই মুসলমান?
ইসলামের নামধারী ধর্মব্যসায়ী চিহ্নিত একটি মহল না মানলেও দেশের প্রায় সম্পূর্ণ মুসলিম জনতা ওলীআল্লাহ তথা হক্কানী-রব্বানী পীর সাহেবদের মেনে থাকেন। ইতিহাস স্বাক্ষী যে এই হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ উনাদের উছীলায়ই হিন্দু অধ্যুষিত এই ভারত উপমহাদেশে মানুষ মুসলমান হয়েছে। তাদের উছীলায়ই মানুষ তাসাউফ হাছিলের ত্বরীকা ও সিলসিলা পেয়েছে। এ ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই চলে আসছে প্রনিধানযোগ্য কিছু হক্ব সিলসিলা।
সেক্ষেত্রে পাঠক আপনি কি মানবেন, যদি বলা হয়, ফুরফুরা, জৈনপুরি, আজমগড়ী, আরকানী, ইত্যাদি সিলসিলার অতীত সকল ওলীআল্লাহগণ কাফির আর বর্তমানে এসব সিলসিলাভুক্ত কোটি কোটি লোকই কেবল কাফির নন সাথে সাথে এসব সিলসিলাভুক্ত বা তরীকাপন্থী না হলেও যারা এসব সিলসিলাভুক্ত লোককে কাফির না বলে তারাও কাফির। অর্থাৎ এ ধারণায় তাহলে বাংলাদেশের প্রায় দশ কোটিরও বেশি লোকই কাফির। কারণ তারা অনেকেই হয় ফুরফুরা, জৈনপুরী, আরকানী, আযমগড়ী ইত্যাদি সিলসিলার লোক, নচেৎ কমপক্ষে তাদের মুহব্বত করে অথবা নিদেনপক্ষে তাদের কাফির বলতে নারাজ।
কিন্তু পাঠক, আপনি জেনে আশ্চর্য্য হবেন যে, আপনারা কাফির বলতে আঁতকে উঠলেও জনবিচ্ছিন্ন, সুন্নী নামধারী একটি মহল অবলীলাক্রমে দেশের দশ কোটিরও বেশি মুসলমানকে এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানকে কাফির ফতওয়া দিচ্ছে।
কারণ ফুরফুরা, জৈনপুরি, আজমগড়ী, আরকানী ইত্যাদি সিলসিলার যিনি পূর্ব পুরুষ, আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তারা কাফির ফতওয়া দেয়। শুধু তাই নয় তাদের ভাষায় যারা উনাকে কাফির বলবেনা তারাও কাফির।
পাঠক! আমরা নিশ্চিত যে আপনারা, জনবিচ্ছিন্ন, সুন্নী নামধারী আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কলঙ্ক এই মহলটির সাথে কেউ একমত হবেন না। আর শুধু তরীকত পন্থীরাই নয়, অতরীকতপন্থীরাও বাতিলের বিরুদ্ধে বিশেষতঃ ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে ইসলামী খিলাফত কায়িমকারী, বেমেছাল রূহানী ক্ষমতা সম্পন্ন মুজ্জাদিদে যামান, মর্দে মুজাহিদ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার জিহাদ, বালাকোট উনার শাহাদতকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এমনকি অনেকে বালাকোটে দিবসও পালন করে। আর এ বিষয়টি এতই মশহুর ও মর্যাদাবান যে, অসংখ্য হক্কানী-রব্বানী আলিম এ বিষয়ে তাদের সমর্থন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
সাথে সাথে ইসলামিক ফাউ-েশন এবং বাংলা একাডেমী প্রণীত বইপত্রেও এর সমর্থনে বক্তব্য পাওয়া যায়। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করে জনবিচ্ছিন্ন, অজ্ঞ, সুন্নী, নামধারী মহলটি বলতে চাইছে যে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার থেকে আগত সব সিলসিলা ও উনাদেরকে সমর্থনকারী সবাই কাফির। নাউযুবিল্লাহ!
পাঠক! জনবিচ্ছিন্ন, অজ্ঞ, উগ্র, তথাকথিত সুন্নীদের ফতওয়া মুতাবিক “দেশের দশ কোটিরও বেশি লোক কাফির।” এই মহা আপত্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধেই নীতিগত, ঈমানী দায়িত্ব বলেই আল বাইয়্যিনাতের মূলনীতি সম্বলিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই আমল করা হয়। যা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি মুহব্বত করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, বিদ্বেষ পোষণ করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, আদেশ (দান) করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, নিষেধ করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, সে ঈমানে পরিপূর্ণ।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী শরীফ)
-সাইয়্যিদ শহীদ আহমদ।
মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর তরফ থেকে শুভেচ্ছা রইলো রেযাখানী মাযহাবগণ উনাদের প্রতি। তারপর সমাচার এই যে, বেশ কিছুদিন যাবত আপনারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করে আসছেন। তা কাগজে, কলমে ও লিখনিতে প্রকাশ করছেন। যদিও বা এর আগে সম্পর্ক এরকম ছিলনা। ভেবে দেখুন! মৌচাকে প্রথম ঢিলটি কিন্তু আপনারাই ছুড়েছেন। যাক সেসব কথা। নির্জলা সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর কেউ যদি গোসসায় দাঁত কাঁমড়াতে থাকে এবং কাতার থেকে সড়ে যায় সেটা তার ব্যাপার। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বাণী অনুযায়ী, “প্রত্যেক দলই তার মতবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট।” সেই হিসেবে আপনারা আপনাদের ইমামের প্রশংসা সর্বক্ষণ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনাদের দু’টি নিন্দনীয় কৃতিত্ব হচ্ছে এই যে, “আপনারা যখন কারো সাথে মসী যুদ্ধে লিপ্ত হন (বিবিধ আক্বীদা, মাযহাব বা অন্য যে কোন চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে) তখন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এমনভাবে উঠে পড়ে লাগেন যেন (প্রতিপক্ষকে) অন্যায়ভাবে হলেও কাফির না বানানো পর্যন্ত আপনাদের নিদ্রা হারাম হয়ে যায়।”
আরেকটি হলো, “আপনারা আপনাদের নিজস্ব মতবাদ, দলীল সঠিক প্রমাণ করার জন্য আলিমদের কিতাবর হাওয়ালা, ইবারত কাঁটছাট, আগেরটি পরে, পরেরটি আগে অথবা নিজেদের থেকে অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করে অপরের নামে চালিয়ে দিতে চান।” মাসিক আল বাইয়্যিনাত আপনাদেরকে হাতে নাতে এভাবে বহুবার ধরিয়ে দেবার পরেও আপনারা এ বিষয় থেকে ফিরে থাকছেন না। এই দেখুন, আরবী ছফর ১৪২২ হিজরী ও ইংরেজী মে ২০০১ ঈসায়ী মাসে আপনাদের নিয়মিত প্রকাশিত পত্রিকা খা ছাহেব সম্পর্কে ইসলামী বিশ্বকোষের দোহাই দিয়ে যে লিখাটি লিখেছেন তা মনে হয় অসতর্ক এবং চিন্তা-ফিকির ব্যতীত লিখেছেন। কেননা, আপনাদের জানা উচিত ছিল, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কিতাবের গ্রন্থাগারেও ফাউ-েশন থেকে প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষ থাকতে পারে এবং মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর লিখকগণও সেটা দেখতে পারেন।
এবার চলুন, ইসলামী বিশ্বকোষ ২২তম খণ্ডে আহমদ রেযা খা সম্পর্কে যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা হুবহু আপনারা আপনাদের পত্রিকায় তুলেছেন কি-না? মনে রাখবেন কিন্তু, আপনারা লিখেছেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষ ২২তম খন্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে এ মহামনিষীর কর্মময় জীবন। সেখান থেকে লেখা সম্মানিত পাঠকদের জন্য নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো।” -সম্পাদক। অর্থাৎ ইসলামী বিশ্বকোষের লিখা হুবহু তুলে দিয়েছেন।
এবার ইসলামী বিশ্বকোষ ২২তম খণ্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা থেকে ৪১২ পৃষ্ঠা খুলে রাখুন। প্রথমে ইসলামী বিশ্বকোষের রিদা খান পর্বে আহমদ রেযা খা সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ** (মাওলাবী আহমদ রিদা খান বেরেলাবী জাতিগত পাঠান, মাযহাবগত হানাফী ও তাসাউফে তরীকাগত কাদিরিয়া ছিলেন।
আপনারা লিখেছেন, “আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জাতিগত পাঠান, মাযহাবগত হানাফী এবং তাছাউফ ও তরীক্বার দিক দিয়ে কাদেরীয়া তরীক্বার অনুসারী ছিলেন।”
আসতাগফিরুল্লাহ! কত বড় মিথ্যাকথা। প্রথম বাক্যেই আপনারা চোর সেজে জালিয়াতি শুরু করেছেন। প্রথমে একটি বাক্যের চারটি শব্দ বিশ্ব কোষের নাম দিয়ে অতিরিক্ত সংযোজন করে ফেলেছেন। আর সেটা হলো, (১) আলা, (২) হযরত, (৩) ইমাম, (৪) রহমতুল্লাহি আলাইহি। এজন্য কথায় বলে, “পাত্রে আছে যা ঢাললে পড়বে তা।” ……. চুরি, জালিয়াতী যেহেতু আপনাদের মজ্জাগত স্বভাব- সেটাই এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
এরপর বিশ্বকোষে লেখা রয়েছে, “আহমাদ রিদা খান ১০ শাওয়াল ১২৭২/১৪ জুন, ১৮৫৬ সনে ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত রায় বেরেলী নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।”
আর আপনারা লিখেছেন, “ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১০ই শাওয়াল ১২৭২ হিজরীতে (১৪ জুন ১৮৫৬ হিযরী) ভারতের উত্তর প্রদেশে …… জন্মগ্রহণ করেন।”
ইস! কি সাংঘাতিক ব্যাপার! দু’চার লাইন না যেতেই কেবল চুরি। এই লাইনটিতে আপনারা (১) ইমাম এবং (২) রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দু’টি শব্দ অতিরিক্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।
এরপর আপনারা লিখেছেন, ইমাম আহমদ রেযা খান একজন উচ্চ পর্যায়ের …… ছিলেন।
অথচ ইসলামী বিশ্বকোষে লিখা আছে, “আহমদ রিদা খান একজন ….. কবি ছিলেন। অর্থাৎ এইখানে “ইমাম” শব্দটি নিজ থেকে বিশ্ব কোষের নাম দিয়ে চালিয়ে দিয়েছেন।
এরপর ৪০৯ পৃষ্ঠায় বিশ্বকোষে লিখা আছে, “আরবী ও ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আহমদ রিদা খান …. ফতওয়া লিখনে আত্ম নিয়োগ করেন।” একই লাইনে আপনাদের পত্রিকায় লেখা রয়েছে, “আরবী ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের …. ইমাম ….. ফতওয়া লিখনে ১৪ বৎসর বয়সে আত্ম নিয়োগ করেন।”
এইখানে ‘ইমাম’ ও ‘১৪ বৎসর বয়স’ অতিরিক্ত ঢুকিয়েছেন।
এরপর বিশ্বকোষ ৪০৯ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, ১২৯৪/১৮৭৭ সনে আহমাদ রিদা খান স্বীয় পিতার সঙ্গে শাহ আল-ই-রাসূল মারা হরাবী (মৃত ১২৯৭/১৮৭৯)-এর সমীপে উপস্থিত হইয়া তার হস্তে কাদিরিয়া তরীকায় বাইয়াত গ্রহণ করেন।”
আর আপনারা লিখেছেন, “১২৯৪ হিজরী ১৮৭৭ সনে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি শাহ আলে রাসূল মার হরাবী (মৃত ১২৯৭ হিজরী/১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দ) সমীপে উপস্থিত হয়ে তার হাতে কাদেরিয়া তরীক্বার বাইয়াত গ্রহণ করেন।”
হে ভাই রেযাখানীপন্থীগণ, আপনাদের জন্য আফসস! এতকাল হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত চুরির স্বভাবটি ছাড়তে পারলেন না। এখানে আপনারা জলজ্যান্ত বাঘা বাঘা ৪টি উপাধি বিশ্ব কোষের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের বিশ্ব কোষের লেখকগণ যদি জানতে পারেন আপনারা রাতারাতি তাদের নাম বিক্রি করে খাচ্ছেন তাহলে শেষ পর্যন্ত কিন্তু কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ছাড়বে।
আপনাদের মাসিক পত্রিকার ৩২ পৃষ্ঠায় এরপর লেখা হয়েছে, “১৮৭৮ সনে ইমাম আহমদ রেযা খান প্রথমবারের মত হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা গমন করেন।”
আর বিশ্ব কোষে লেখা আছে, “আহমদ রিদা খান প্রথমবার হজ্জ পালন করবার উদ্দেশ্যে স্বীয় পিতার সহিত পবিত্র মক্কায় গমন করেন।”
এখানে ‘ইমাম’ শব্দটি অতিরিক্ত সংযোজন করেছেন। কয়েক লাইন পরে বিশ্ব কোষে লেখা রয়েছে, ‘মাওলাবী’ আহমদ রিদা খান। আর আপনারা লিখেছেন, ইমাম আহমদ রেযা খান ….।”
হায় আফসুস! আপনারা ফাউন্ডেশনের এত প্রশংসা করেন অথচ ফাউন্ডেশনের বিশ্ব কোষের লেখকগণ আহমদ রেযা খানকে ‘মাওলানা’ শব্দটি পর্যন্ত না বলে বিদ্রুপ ছলে ‘মাওলাবী’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এরপরেও আপনারা লিখেছেন, “ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন গ্রন্থের সাহায্য ব্যতীরেকে …।”
অথচ বিশ্ব কোষে ২২তম খণ্ড ৪০৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ‘মাওলাবী’ আহমাদ রিদা খান কোন গ্রন্থের সাহায্য ব্যতীরকে ……
দেখুন! বারবার আপনারা তথাকথিত রেযা খান ছাহেবকে ‘ইমাম’, ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ বনাতে চাচ্ছেন অথচ ইসলামী ফাউন্ডেশন তা চাচ্ছে না।
এরপরে বিশ্ব কোষ ২২তম খন্ডের ৪০৯ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, “আহমাদ রিদা খান পবিত্র মক্কার আলিমগণ উনাদের নিকট আরেকটি ফতওয়ার জাওয়াবে ….. পুস্তিকা রচনা করেন।”
আপনারা বিশ্বাকোষের এই লাইনটিতে অতিরিক্ত ‘ইমাম’ শব্দটি নিজ থেকে ঢুকিয়েছেন।”
এরপর আপনারা লিখেছেন, “পবিত্র মক্কা ও মদীনা শরীফ উনার আলিমগণ ইমাম আহমদ রেযা খান …. দেখতেন।
অথচ বিশ্বকোষে এই লাইনটিতে ‘ইমাম’ শব্দটি নেই। এরপর আপনারা লিখেছেন, “ফতওয়া লিখনশাস্ত্রে ইমাম আহমদ তাহার সমসাময়িক আরিমগণ উনাদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।”
অথচ পূর্বের বাক্যের মতই এই বাক্যটিতে ‘ইমাম’ শব্দটি বিশ্বকোষে নেই। এরপর বিশ্বকোষে লেখা রয়েছে, “আল্লামা ইকবাল” ‘মাওলাবী আহমাদ রিদা খান সম্বন্ধে …. মন্তব্য করেন।’
আপনারা এই লাইনটিতে হুবহু ‘মাওলাবীর’ জায়গায় ‘মাওলানা’ শব্দটি বদল করেছেন।
হে ভাই রেযাখানী মাযহাবপন্থীগণ! আপনাদের-এ জালিয়াতির স্বভাব কত কাল থাকবে? আর এজন্যই বোধ হয় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমরা যদি শোন পাহাড় স্থানন্তারিত হয়েছে তবে বিশ্বাস করো আর কেউ যদি বলে যে, কারো স্বভাব পরিবর্তন হয়েছে তবে তা বিশ্বাস করবেনা।” আমরা দেখতে পাচ্ছি এই হাদীছ শরীফ উনার পুরো মেছদাক আপনারা।
এরপর বিশ্বকোষে লেখা আছে, “আহমাদ রিদা খান পঞ্চাশ বৎসরের …. সম্পাদন করেছেন।”
আপনারা এই বাক্যটিতে অতিরিক্ত ‘ইমাম’ শব্দটি যোগ করেছেন। এরপরে ঐ বিশ্বকোষে লেখা রয়েছে, “আহমাদ রিদা খানের বিশেষ পান্ডিত্যময় রচনা বলীর মধ্যে ….।”
আপনারা উক্ত বাক্যটিতেও ‘ইমাম’ শব্দ যোগ করেছেন। এরপর বিশ্বকোষ ৪০৯ পৃষ্ঠার শেষ অংশ এবং ৪১০ পৃষ্ঠার শুরুতে আছে, “মাওলাবী নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী … টীকাগ্রন্থ রচনা করেন … আহমাদ রিদা খান কর্তৃক রচিত …।”
আপনারা উক্ত লাইনে নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী ছাহেবের নামের আগে মাওলাবীর স্থলে ‘মাওলানা’ এবং আহমদ রেযা খানের নামের আগে ‘ইমাম’ শব্দটি ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
ঠিক এই প্যারার শেষের লাইনটিতে বিশ্বকোষ ৪১০ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, “মাওলাবী আহমাদ রিদা খান … সতর্কতা অবলম্বন করেন …।
অথচ আপনারা এখানে ‘ইমাম’ শব্দটি যোগ করে বাক্যটি লিখেছেন। পরের প্যারার শুরুতে আবার আপনারা খা ছাহেবের নামের পূর্বে ‘ইমাম’ যোগ করেছেন অথচ বিশ্বকোষে শুধুমাত্র ‘আহমাদ রিদা খান’ লিখা রয়েছে। এরপরের প্যারায় ৪টি জায়গায় আপনারা ‘ইমাম’ শব্দ যোগ করেছেন। অথচ বিশ্বকোষে ৪টি জায়গাই শুধুমাত্র ‘আহমাদ রিদা খান’ লেখা রয়েছে।
এরপর বিশ্বকোষের ৪১০ পৃষ্ঠায় লিখা রয়েছে, “আহমাদ রিদা খানের জীবনের শেষ দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি এ নতুন মোড় লইয়াছিল।”
আর আপনারা এখানে ‘ইমাম’ শব্দ অতিরিক্ত লেখে বিশ্ব কোষের বাক্যটি তুলেছেন। এরপর বিশ্বকোষে লেখা আছে, “মাওলাবী আহমাদ রিদা খান উক্ত আন্দোলন দ্বয়ের বিরোধীতা করেন।” আপনারা এখানেও তার নামের পূর্বে ‘মাওলানা’ শব্দটি জোরপূর্বক ঢুকিয়েছেন।
হে রেযাখানী ভাই। আপনি তো আশ্চর্য্য করলেন আমাদের। প্রত্যেক লাইনে আপনারা কারচুপি, রদ-বদল, চুরি, জালিয়াতী শুরু করেছেন। দেশে যদি আজ ইসলামী হুকুমত চালু থাকতো তবে আপনাদের কি হতো?
এরপর আপনারা লিখেছেন, “জামাতে রেযায়ে মুস্তাফা …. মুসলিম ঐক্য সংহতীর …. একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য … ছিলেন। নঈনুদ্দীন মুরাদাবাদী তিনি মাওলানা আহমদ রেযা খানের অন্যতম খলীফা ছিলেন …।
অথচ বিশ্বকোষের খা ছাহেবের পূর্বে শুধুমাত্র ‘মাওলাবী’ শব্দটি লেখা রয়েছে। এখানেও মাওলাবীর স্থলে ‘মাওলানা’ শব্দ বদল করেছেন।
এরপর আপনারা ৪১০ পৃষ্ঠা থেকে ৪১১ পৃষ্ঠায় এক লাফ দিয়ে চলে গিয়েছেন। অথচ নীচে কিছু খা ছাহেব সম্পর্কে বিরূপ আপত্তিকর বক্তব্য রয়েছে আর আপনারা সেগুলো তুলেননি। কেননা এগুলো তুললে তো আপনাদের হাক্বীক্বত ধরা পড়বে পাঠকের সামনে, আপনাদের আসল মুখোশের উন্মোচন ঘটবে। এজন্য বুঝি লস্ফ দিয়েছেন?
হে বিদগ্ধ সচেতন পাঠক সমাজ! এরপর ইসলামী বিশ্বকোষের ৪১০ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, “১৩৫৯/১৯৪০ সনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবী প্রস্তাব গৃহীত ও ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেরেলী পন্থী … আলিমগণ … বেনারসে অল ইন্ডিয়া সুন্নী কনফারেন্স … অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে পাকিস্তান দাবীর প্রতি জোরদার ব্যক্ত করা হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হইবার পরও বেরেলী পন্থী পাকিস্তানকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করিবার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। আহমাদ রিদা খান অসহযোগ আন্দোলনের বিরোধীতা করিবার কারণে কেহ কেহ এই ধারণা ব্যক্ত করিয়াছেন যে, তিনি ব্রিটিশ শক্তির ইঙ্গিতে অসহযোগ আন্দোলন করিয়াছেন।”
হে পাঠক সমাজ! এরপর ৪১১ পৃষ্ঠায় ইসলামী বিশ্বকোষে লেখা রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের বিপুল সংখ্যক হানাফী মতের দ্বীনি মাদরাসা আহমদ রিদা খান বেরেলভী …. নামকরণ করা হয়েছে। আর রেজভী পন্থীরা তাদের পত্রিকায় লিখেছে ভারতীয় উপমহাদেশে বিপুল সংখ্যক …. মাদরাসা ইমাম আহমদ রেজা খান বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও উনার খলীফাগণ উনাদের …. নামকরণ করা হয়েছে। দেখুন যেখোনে বিশ্বকোষে একবারও খা সাহেবের নামের সাথে হযরত, ইমাম, রহমতুল্লাহি আলাইহি, মাওলানা শব্দ লিখা নাই সেখানে রেজভীরা ব্যক্তি গত ঝুলি থেকে খা সাহেবের নামের সাথে ইচ্ছামত উপাধি লাগিয়ে বিশ্বকোষের নাম বিক্রি করছে।
এরপর রেজাখানী মাযহাবীদের পত্রিকায় লিখা হয়েছে ইমাম আহমদ রেযাখানের খলীফাগণ …. প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ বিশ্বকোষে ইমাম শব্দটি সম্পূর্ণরূপেই পরিহার করা হয়েছে। এরপরের লাইনটিতেও ইমাম শব্দটি বিশ্বকোষে নেই। হে রেযাখানী সম্প্রদায়! ইসলামী বিশ্বকোষে এরপর রয়েছে মাওলাভী আহমাদ রিদা খানের খলীফাগণ উনাদের …. ভারতীয় উপমহাদেশেও নয় … ছিলেন। অত্র লাইনে আপনারা খা সাহেবের নামের আগে প্রথমে ইমাম পরে রহমতুল্লাহি আলাইহি ঢুকিয়ে বাক্যটি লিখেছেন। এটাতো জলজ্যান্ত পুকুর চুরির অবস্থা।
এরপর বিশ্বকোষে লিখা রয়েছে, “মাওলাভী আহমাদ রেযা খানের বিপুল সংখ্যক খলিফা ছিলেন।” এ বাক্যটিতেও আপনারা পূর্বের মত ইমাম ও রহমতুল্লাহি আলাইহি অতিরিক্ত সংযোগ করেছেন। এরপর ইসলামী বিশ্বকোষ পৃষ্ঠা ৪১১ তে লিখা আছে, “আহমদ রিদা খান বিপুল সংখ্যক গ্রন্থের লেখক ছিলেন। অথচ আপনারা লিখেছেন দেড় সহ¯্রাধিক বিপুল সংখ্যক গ্রন্থের লেখক ছিলেন আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। এ খানে আপনারা খা সাহেবের নামের পূর্বে আলা, ইমাম, হযরত, রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইচ্ছাপূর্বক ফাউন্ডেশনের বিশ্বকোষের নাম দিয়ে চালিয়ে দিলেন। মাষা আল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ! কি আশ্চর্য জালিয়াতি! আর এভাবেই বোধ হয় যুগ যুগ ধরে বেরেলী রেযভী পন্থীগণ আলিমদের কিতাবের ইবারত কাটছাট, কারচুপি করে এবং নিজেদের থেকে কিছু অতিরিক্ত সংযোজন করে তাদের কাফির বানিয়ে ফেলেছে। হে রেযাখানী পত্রিকার সম্পাদক জালালুদ্দীন সাহেব! আপনি অহেতুক এই আর্টিকেলটির নাম ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে আলা হযরত দিয়েছেন- অথচ আর্টিকেলটির নাম হওয়া উচিত ছিল ব্যক্তিগত টাইটেল দেয়ার আলোকে আলা হযরত। কেননা ব্যক্তিগত ঝুড়ি থেকে যখন ইচ্ছা তখনি খা সাহেবের নামের পূর্বে ইচ্ছামত উপাধি ব্যবহার করতে পারেন। তাতে কারো মানা নেই। কিন্তু একটি বিশ্বকোষের রেফারেন্স দিয়ে সেখানে নিজস্ব অভিমত ঢুকিয়ে বিশ্বকোষের নামে চালিয়ে দেয়া ভ-ামী আর প্রতারণা নয় কি? চার পৃষ্ঠার একটি লেখায় আপনি একজন সম্পাদক হয়ে খা সাহেবের নামের পূর্বে ইমাম শব্দটি ২৭ বার, রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭ বার, মাওলানা শব্দটি ৪ বার, আলা ৩ বার ও হযরত শব্দটি ৩ বার অতিরিক্ত জুড়ে দিয়েছেন। “চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা।” প্রচলিত সাধারণ মানুষের মুখের এ বুলিও দেখছি আপনারা ছাড়িয়ে গেছেন। অর্থাৎ কিনা আপনারা চোর সত্যি তবে আহমক। ছি! ছি! আপনারা এত নির্ল্লজ, বেশরম কেন? মাসিক আল বাইয়্যিনাত এর কাছে বার বার আপনারা ধরা পড়ছেন এবং নাযেহাল হচ্ছেন। এরপরও আপনাদের শিক্ষা হচ্ছেনা। ইতোপূর্বে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূর নন, ছানি আযান, আমিরুল মুমিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শত শত নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আপনাদের খোঁড়া, পঙ্গু, অকেজো যক্তি দলীলগুলো কি নিস্প্রভও ¤œান করে দেয়নি? তার পরও কেন আপনারা সতর্ক হচ্ছেন না এবং সত্যকে মেনে নিচ্ছেন না? পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার এই আয়াতই এখন আপনাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “বলুন, হে রসূল! মহান আল্লাহ পাক উনার হিদায়েতই প্রকৃত হিদায়েত।”
ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইসলামী বিশ্বকোষের নাম দিয়ে জানাতে চাইছেন তথাকথিত আলা হযরত বিশ্বকোষেও স্থান পাবার উপযুক্ত। এবার দেখা যাক ইসলামী বিশ্বকোষের অন্য খণ্ডে বেরেলী পন্থীদের চিন্তাধারা ও আক্বিদা সম্পর্কে কি ধরণের বর্ণনা রয়েছে? সম্পাদক সাহেব! এবার অন্য একটি ইসলামী বিশ্বকোষে ১৬তম খণ্ড বেরেলভী পরিচ্ছদ ৫৩৬-৫৩৭ পৃষ্ঠা খুলে রাখুন। পড়–ন সেখানে প্রথমেই এই কথাগুলো লেখা? পাক বাংলাদেশ উপমহাদেশের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত-এর (হানাফী মতাবলম্বী) একটি ধর্মীয় আদর্শগত দল বিশেষ। ধ্যান ধারণায় ও বিশ্বাসে আক্বীদায় ইহারা আহমদ রিদা খান কাদিরী (১২৭২/১৮৫৬/১৩৪০/১৯২১ তাযকিরাই উলামায়ে হিন্দ ৯৮) কে নিজেদেরে নেতা বলে স্বীকার করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে এই দলটি মোহাম্মদ ইবনে আবদিল ওহহাব আননাজদী (দ্র) এর আন্দোলন, শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বংশধর, বিশেষত শাহ আব্দুল আযীয ও শাহ ইসমাইল শাহীদের কোন কোন ধর্মীয় চিন্তা ধারা ও উলামাই দেওবানদের আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য উদ্ভুত হইয়াছে। এছাড়াও উক্ত বিশ্বকোষের ৫৩৬-৫৩৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আপনাদের আক্বীদা ও চিন্তা ধারা সম্পর্কে বর্ণিত আছে এবং বার বার লিখা আছে বেরেলী জামাত, বেরেলী চিন্তা ধারা, বেরেলীদের ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ বিশ্বকোষ আপনাদেরকে স্বতন্ত্র আলাদা একটি ফিরকা মনে করে বিধায় এইভাবে লিখেছে। ইসলামী ফাউন্ডেশন যদি আপনাদের তথাকথিত খা সাহেবকে ইমাম, আলা হযরত বলেই মেনে নিত তবে খা সাহেবের (আপনাদের মতানুযায়ী সহ¯্রাধিক কিতাবের) অন্তত দু একটা কিতাবও কেন ছাপাবার দায়িত্ব নিচ্ছেনা? অথচ দেখুন এর বিপরীতে আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার সিলসিলা, খলীফাদের সম্পর্কে হাজার হাজার পৃষ্ঠায় প্রচুর কিতাব ছাপিয়ে প্রকাশ করছে। যেমন সিরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ, মুজাহিদ বাহিনীর ইতিবৃত্ত, ইসলামের রেনেসার অগ্রপথিক, ইমান যখন জাগল, ফুরফুরা শরীফ উনার ইতিবৃত্ত, ছোটদের ইসমাইল শহীদ, ফুরফুরায় চাঁদ ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি বিশ্বকোষের বহু জায়গায় তার সম্পর্কে এবং তার সিলসিলার বুযুর্গদের নাম মুবারক উনার মধ্যে সাথে বিভিন্ন লক্বব মুবারক ও রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখা হয়েছে।
এতদভিন্ন উনার খলীফাদের মাযার মুবারক উনার ছবি পর্যন্ত বিশ্বকোষে ছাপা হয়েছে। যেমন ইসলামী বিশ্বকোষ ২৪শ খণ্ড পৃষ্ঠা ৬৩৩ এ সূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামের আগে বিখ্যাত সূফী, পীরে কামিল, শায়খুল মাশায়েখ, কুতুবুল ইরশাদ, রসূল নোমা, স্বর্ণামধন্য ফারসী কবি ইত্যাদি লক্বব ব্যবহারের মাধ্যমে উনাকে সম্মানিত করা হয়েছে।
উক্ত খণ্ডে ফুরফুরার পীর সাহেবের নামের পূর্বে বিখ্যাত পীর, মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি আল কুরাঈশী ইত্যাদি লক্বব মুবারক ব্যবহার করা হয়েছে। নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক উনার পূর্বে হযরত ও রহমতুল্লাহি আলাইহি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এমনকি উক্ত বিশ্বকোষের ২২শ খণ্ড পৃঃ ১২৬ এ দেখুন হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযারের ছবি খানাও তুলে দেয়া হয়েছে।
কাজেই সাবধান ও হুশিয়ার হয়ে যান ভবিষ্যতের জন্য। ভবিষ্যতে আপনাদের তথাকথিত ইমামের স্তুতি, প্রশংসা করতে গিয়ে এমন কোন বিশ্বকোষ ও কিতাবের নাম উল্লেখ করবেন না যে বিশ্বকোষ ও কিতাবটি হযরত রাজারবাগ শরীফ-এর পীর সাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার গ্রন্থাগারেও রয়েছে। ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে খা সাহেব সম্পর্কিত বর্ণনার আজ এখানেই ইতি টানছি। আল্লাহ হাফিয।
-মুহম্মদ ইসমাঈল হুসাইন, ঢাকা।
(ইসলামী বিশ্বকোষ ১৬শ খণ্ড ৪১ থেকে ৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত হুবহু তুলে দেয়া হলো)
বালাকোট : (با لاكور), পাকিস্তানের অন্তর্গত হাযারা জিলার একটি ক্ষুদ্র শহরের নাম। উহা মানসাহরা তাহশীলের উত্তর-পূর্ব কোণে কাগান গিরিপথের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। স্থানটি পূর্ব হইতেই কাগান, চীলাসাদ গিলগিট ও সনিইহত পার্বত্যাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও শিখদের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধের কারণে বালাকোট ঐহিতাসিক গুরুত্ব লাভ করে। উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকাসমূহে উৎপন্ন পণ্যাদির বিপুলাংশ বিক্রয়োদ্দেশ্যে এখনও বালাকোটেই আসিয়া থাকে এবং এতদঞ্চলের অধিবাসিগণ তাহাদের প্রয়োজনীয় পণ্যাদি এইখান হইতেই খদির করিয়া লাইয়া যায়। পার্শ্ববর্তী পবর্তসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে বালাকোটেকে বাহ্যত কাগান উপত্যাকার একটি অংশ বলিয়া মনে হয়; কিন্তু উহার উত্তর ও পূর্বদিকে অবস্থিত পর্বতমালা পরস্পরের সহিত এইরূপ ঘনিষ্ঠভাবে মিলিয়া গিয়াছে যে, উহাদের মধ্যে কুনহার নদীর (কাগান উপত্যাকা অঞ্চলে যাহা কাগান নদী নামে পরিচিত।) প্রবাহপথ ভিন্ন অন্য কোনও ফাঁক বা ছেদ নাই। উহার ফলে বালাকোট কাগান উপত্যাকা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছে।
আয়াতন ও জনসংখ্যা : ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত আদমশুমারী অনুযায়ী বালাকোটের বিভিন্ন অবস্থা ছিল নি¤œরূপ : আয়াতন: ২৫৭৪ একর। লোকসংখ্যা: ৪২০৫ (=২০২৯ জন পুরুষ ও ১৯৯৬ জন মহিলা)। গৃহ ৭৯০ খানা। গত ৩০/৩৫ বৎসরে উহার জনসংখ্যা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাইয়াছে।
রাস্তাঘাট ও যোগযোগ ব্যবস্থা : মানসাহরা হইতে গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খানগামী সড়কটি ষোল মাইল পর কুনহার নদীর তীরে পৌঁছিয়াছে। সেখান হইতে উহার একটি শাখা দক্ষিণ দিকে গিয়াছে। উক্ত শাখা দুই-তিন ফার্লং দূরে নদীর সেতু পার হইয়া গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খানে পৌছিয়াছে। অতপর উক্ত শাখাই মুজাফফারাবাদ, বারামাওলা ও শ্রীনগরে চলিয়া গিয়াছে। সড়কের আরেকটি শাখা কুনহার নদীর তীর ঘেঁষিয়া উত্তর দিকে চলিয়া গিয়াছে। উহার দশ মাইলের মাথায় বালাকোট অবিস্থত।
এই স্থানে নদীতে ইতিপূর্বেও একটি সেতু ছিল এবং বর্তমানে উহা অত্যন্ত মযবূত ও সনুদৃশ্যভাবে পুনর্ণির্মিত হইয়াছে। সেতু পার হইবার পর উত্তর দিকে মোড় নিলে কাগান গিরিপথে প্রবেশ করিতে হয়। উহাই চীলাস, গিলগিট প্রভৃতি স্থানসমূহের যাইবার পথ। সড়কের শেষোক্ত শাখার আরম্বস্থান হইতে বালাকোট পর্যন্ত নদীর উভয় তীরে উচ্চ উচ্চ পর্বতরূপ প্রাচীর দ-ায়মান রহিয়াছে। পর্বত প্রাচীরগুলি কোথাও কোথাও নদী তীর হইতে কিয়ং পরিমাণ পশ্চাতে সরিয়া গিয়াছে। এইরূপে নদী তীরে যেই ভূমিখণ্ডসমূহ গঠিত হইয়াছে- সেই খানে কৃষিকার্যও করা হইয়া থাকে এবং সেই খানে চারণভূমিসমূহও রহিয়াছে। উক্ত স্থানসমূহে লোকবসতি স্থাপিত হইয়া উহা নদীর উভয় তীর বরাবর বালাকোট পর্যন্ত বিস্তৃত হইয়া গিয়াছে। নদী তীরে গড়িয়া উঠা উপরিউক্ত গ্রামসমূহের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য গ্রাম হইতেছে সোহাল নাজাফ খান গ্রাম। উক্ত গ্রামটি বালাকোট হইতে পাঁচ মাইল দক্ষিণে নদী ও সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। নদীর উভয় তীরে অবস্থিত পর্বতসমূহের বিভিন্নরূপ নাম রহিয়াছে। উহাদের উচ্চতার তারতম্য অনুসারে স্থানীয় ভাষায় উহাদের জন্য বিভিন্নরূপ পরিভাষা প্রচলিত রহিয়াছে।
যেমন- স্থানীয় পরিভাষায় অতি উচ্চ পর্বতকে বলা হয় ‘ঢাকা’ মধ্যম পর্যায়ের উচ্চ পর্বতসমূহকে বলা হয় ‘ডান্নাহ’, তদপেক্ষা অল্পতর উচ্চ পর্বতসমূহকে বলা ‘নাক্কাহ’ এবং অল্প উচ্চ পর্বতসমূহকে বলা হয় ‘ডেরী’। উক্ত পরিভাষাগুলির মধ্যে হইতে একটি প্রয়োগযোগ্য পরিভাষা প্রতিটি পর্বতের নামে অবিচ্ছেদ্য অংশ হইয়া গিয়াছে। উভয় দিক হইতেই ছোট বড় ঝরনাও পর্বতগাত্র গইতে নি¤েœ প্রবাহিত হইয়া নদীতে পতিত হইয়াছে।
বালাকোটের পর্বতবেষ্টনী : বালাকোটের নিকটে পৌঁছিয়া পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বদিকের পর্বত প্রাচীরসমূহ বেশ পশ্চাতে সরিয়া গিয়াছে এবং উহার ফলে সেই স্থানে একটি অপরিকল্পিত চক্র বা বৃত্ত সৃষ্টি হইয়াছে। চক্রের অন্তর্গত ভূমি পর্বতসমূহের পাদদেশ হইতে ক্রমে ঢালু হইয়া গিয়াছে। উক্ত চক্রের অভ্যন্তরে অধিকতর দীর্ঘ ও অল্পতর পশস্ত একটিপ টিলা রহিয়াছে। উক্ত টিলার উপরই বালাকোট জনপদ আবাদ রহিয়াছে। কুনহার নদী বালাকোট চক্রের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত হইতে নির্গত হইয়া দক্ষিণ পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হইয়া বালাকোটের পশ্চাৎ দিক দিয়া উহার অল্প দূরে প্রবহমান রহিয়াছে। অতঃপর উহা অল্প কিছু দূর অগ্রসর হইয়া দক্ষিণমূখী হইয়াছে। উল্লিখিত বৃত্তাকার ভূমিখণ্ডের বিভিন্ন দিকের পর্বতসমূহের বিবরণ নিম্নরুপ:
(১) পূর্ব দিকে কুনহার নদীর তীরে মাকড়া পর্বতের একাংশ অবস্থিত। মাকড়া পর্বতের উক্ত অংশ কালু কানের টিলা নামে পরিচিত; কারণ কোনও এক কালে কালু কান নামক জনৈক গোজার (=জমিদার বংশবিশেষ) উহার উপরে একটি গ্রাম পত্তন করিয়াছিলেন। তাহারাই নামানুসারে টিলাটির নামকরণ করা হইয়াছে। কালু কাণ টিলা বেশ উচ্চ। উহার পূর্বাংশ কাশমীরের অংশ।
(২) উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে পরস্পর মিলিত তিনটি টিলা রহিয়াছে, প্রথম টিলার নাম সারাং টিলা। উক্ত টিলাটি কুনহার নদীর পশ্চিম তীর হইতে আরম্ভ হইয়াছে। উহার পশ্চিম দিকে বালাকোট জনপদের ঠিক উতএর বারনা টিলা অবস্থিত। উক্ত টিলা হইতে বারনা নামের একটি ঝরনা উৎসারিত হইয়াছে। উত্তর-পশ্চিম দিকে সাত বানে টিলা অবস্থিত। উক্ত টিলার উপর এই নামেরই একটি গ্রাম রহিয়াছে। উক্ত টিলা হইতে উৎসারিত ঝরনাটির সাত বানে টিলা অবস্থিত। উক্ত টিলার উপর এই নামেরই একটি গ্রাম রহিয়াছে। উক্ত টিলা হইতে উৎসারিত ঝরনাটিও সাত বানে নামেই পরিচিত। ঝরনা ও সাত বানে ঝরনা দুইটি বালাকোটের উত্তর প্রান্তে এক স্থানে পরস্পর মিলিত হইয়া একটি গভীর নদীর রূপ ধারণ করতঃ বালাকোটের পর্বত প্রাচীরের পূর্বাংশ বরাবর প্রবাহিত হইয়া সেতুর সামান্য দক্ষিণে গিয়া কুনহার নদীর সহিত মিলিত হইয়াছে।
(৩) পশ্চিম দিকে মেট্টী কোট টিলা অবস্থিত। উক্ত টিলার উপর মেট্টী কোট নামেরই একটি গ্রাম আবাদ রহিয়াছে। উহার পশ্চাতে মাসরা ঢাকা নামিয়া টিলা রহিয়াছে। মেট্টী কোট টিলাটির প্রান্ত অধিকতর উচ্চ। উহার দক্ষিণ প্রান্ত কিয়ৎ পরিমাণ ঢালু। যেই স্থানে টিলাটির ঢালু হওয়া আরম্ভ হইয়াছে, উহার নাম ডেরী ঘাটিয়ান। ডেরী ও মেট্টী কোটের মধ্য হইতেও একটি ঝরনা উৎসারিত হইয়া পর্বতের পাদদেশেই দক্ষিণমুখী হইয়াছে। অতঃপর উহা প্রবাহিত হইতে হইতে বালাকোটের বৃত্তাকার ভূমির দক্ষিণাংশে গিয়া কুনহার নদীর সহিত মিলিত হইয়াছে। মেট্টী কোট টিলার উপর অপেক্ষাকৃত নিম্ন ভূমিতে কালী মুঠি নামিয়া একটি গ্রাম আবাদ রহিয়াছে। উক্ত গ্রামটি সড়কে পৌঁছিয়া সনমাপ্ত হইয়াছে।
বর্তমান সড়কের পরিচিতি: বর্তমানে যেই সড়ক দিয়া লোক বালাকোটে যাতায়াত করে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহ আলাইহি উনার যুগে উহার অস্তিত্ব ছিল না। সেই যুগে যানবাহন যোগে বালাকোট যাইবারও কোন রাস্তা ছিল না।
বৃত্তাকার ভূমি খণ্ড বালাকোটের দক্ষিণে সে যুগে কতকগুলি ‘খাড়ি’ ছিল অর্থাৎ পর্বতের কতকগুলি বাড়তি অংশ সম্মুখে অগ্রসর হইয়া নদীর ¯্রােতধারা পর্যন্ত পৌঁছিয়াছিল। পদব্রজে যাতায়াতকারিগণ উক্ত খাড়িগুলির উপর দিয়া যাতায়াত করিত; কিন্তু যাতায়াতের সাধারণ রাস্তা ছিল শানকিয়ারী পর্বতের নিকটে অবস্থিত ‘ভূগাড় মুঙ্গ’ গিরিপথের দিক হইতে। ইংরেজ শাসনামলে উক্ত খাড়িগুলি কাটিয়া সেইখানে সড়ক নির্মাণ করা হইয়াছে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত সময়ে উক্ত সড়কের অবস্থা ভল ছিল না। সড়কটি এইরূপ অধিক বন্ধুর ও বক্রগতি ছিল যে, সেইখানে অন্তত বর্ষাকালে মোটর গাড়ি লইয়া যাওয়াকে নিরাপদ মনে করা হইত না। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পর সেইখানে একটি সুগম্য ও সরলগতি পাকা সড়ক নির্মাণ করা হইয়াছে। শোহাল গিরিপতের সম্মুখে কুনহার নদীর উপর নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হইয়াছে। নবনির্মিত সড়ককে উক্ত সেতুর উপর দিয়া নদীর পূর্ব তীরে বালাকোটের সম্মুখে পুরাতন সড়কের সহিত সংযুক্ত করা হইয়াছে।
মূল বালাকোট জনপদ : বালাকোট জনপদটি ইতিপূর্বে যেমন বর্ণনা করা হইয়াছে একটি টিলার উপর অবস্থিত। উক্ত টিলার উচ্চত হইবে দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ছয়/সাত ফুট। পূর্বাংশের উচ্চতা এতদপেক্ষা অধিকতর হইবে। উত্তর ও পশ্চিম দিকে উহা ঢালু হইয়া ক্রমে কৃষিজমির সহিত মিলিত হইয়া গিয়াছে। সুতরাং উক্ত দুই দিকে অবস্থিত ঘরবাড়ি নি¤œভূমি পর্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে। সাধারণ ঘরবাড়ির ন্যায় ঘরবাড়ি পার্বত্য সিড়ির আকৃতিতে নির্মিত অর্থাৎ নীচের ঘরের ছাদ উপরের ঘরের উঠান বা চত্বররূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। মহল্লার গলিগুলি অপ্রসশস্ত ও মোড় প্রধান। ঘরবাড়িগুলি ছোট ছোট। উহাদের উচ্চতা অল্প, ঘরবাড়িগুলির দেওয়াল সাধারণত : অমসৃণ ও এবড়োথেবড়ো পাথর ও কাদামাটি দ্বারা গাঁতা হইয়া থাকে।
প্রথম দিকে বালাকোটে তিনটি মসজিদ ছিল: (ক) মসজিদ-ই বালা বা মসজিদ-ই কেলাঁ (উচ্চ ভূমির মসজিদ বা বড় মসজিদ)। উক্ত মসজিদ বালাকোট জনপদের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। (খ) মসজিদ-ই মুতাওয়াসসিত’ (=মধ্যম উচ্চ ভূমির মসজিদ)। উক্ত মসজিদ বালাকোটের উত্তরাংশে অবস্থিত।
(গ) মসজিদ-ই যেরীন (নি¤œভূমির মসজিদ)। বালাকোট টিলা পশ্চিম দিকে যেখানে নি¤œভূমির সহিত মিলিত হইয়াছে, উক্ত মসজিদ সেখানে অবস্থিত। সম্ভবত কোনও মসজিদই উহার পূর্ব নির্মিত অবস্থায় অপরিবর্তিত নাই, বরং তিনটি মসজিদই পূনঃনির্মিত ও সংস্কারপ্রাপ্ত হইয়াছে। এতদসত্ত্বেও উহাদের সীমানা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যুগে যেরূপ ছিল, অধিকাংশ বর্ণনাসুরারে উহা মোটামুটি সেইরূপ অপরিবর্তিত রহিয়াছে। মসজিদ বালা বা মসজিদ-ই কেলাঁ-যেইখান হইতে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শিখদের উপর আক্রমণ চালাইয়াছিলেন যতটুকু প্রশস্ত ছিল, তাহাতে ৫০/৬০ জন লোক সালাত আদায় করিত পারিতেন। উক্ত মসজিদের বর্তমান প্রশস্ততাও অনুরূপই হইবে।
নতুন বসতিসমূহ : ইংরেজ শাসনামলে বালাকোটের আশে পাশে নতুন নতুন বসতি যেমন- টিলার নীচে সড়ক সংলগ্ন স্থানে ঢাকবাংলো, থানা, চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিদালয় স্থাপিত হইতে আরম্ভ করে। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দাফনের স্থানে অমসৃণ ও এবড়োথেবড়ো পাথর দ্বারা একটি কবর নির্মাণ করা হইয়াছিল। কবরের চতৃষ্পার্শ্বে একটি বেষ্টনীও গাঁথিয়া দেওয়া হইয়াছিল। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উক্ত কবর অতি শোচনীয় অবস্থায় ছিল। বেষ্টনীর মধ্যে শুধু কয়েকটি কবর ছিল। উহার আশেপাশে কয়েকটি সাধারণ বাড়ি ছিল। সেতুর অপর পারে বালাকোট জনপদের উত্তর-পূর্ব দিকে কাগান গিরিপথের প্রবেশ পথের ডান দিকে একটি বাজার স্থাপিত হইয়াছিল। উক্ত বাজারেরও কয়েকটি সাদারণ দোকান ছিল। কেহ কেহ স্থানে স্থানে মোটামুটি ভাল বাড়ি বানাইয়াছিলেন। এই স্থানে একটি আলীশান মসজিদও নির্মিত হইয়াছিল। উক্ত মসজিদকে বালাকোটের জামি মসজিদ বলিয়া মনে করা উচিত।
নদীর অপর পারে বাজারের কাছে বালা পীরের মাযার অবস্থিত। মাযারের কাছে একটি কুষ্ঠ চিকিৎসালয় স্থাপিত হইয়াছে। সম্ভবত বালা পীরেরই নামানুসারে বালাকোটের নামকরণ করা হইয়াছে। যাহা হউক, বালাকোট জনপদটি একটি বালা (ফারসী بلا = উচ্চ; উচ্চভূমি) বা টিলায় অবস্থিত হওয়ায় উহার উক্তরূপ নামকরণ ব্যহাত সঙ্গত বিবেচিত হইয়াছে।
অসাধারণ পরিবর্তন সমূহ : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পর বালাকোটের নিম্নে অসাধারণ পরিবর্তন সাধিক হইয়াছে এবং উহার ফলে বর্তমানে উহার পূর্বরূপ ও আকৃতির কথা কল্পনা করাও কঠিন। একটি ডাকবাংলোর স্থলে বর্তমানে বালাকোটে দুইটি অত্যন্ত মনোরম বাংলো নির্মিত হইয়াছে। থানা ভবন ও অন্যান্য কোনও কোনও সরকারী ভবনও পুননির্মিত হইয়াছে। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবর ও উহার বেষ্টনী প্রাচীরে বালি-কাজ করা হইয়াছে। কবরের শিয়রে মর্মর পাথরের ফলক স্থাপিত হইয়াছে। বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থিত অনেকগুলি কবককে কবরাকৃতিতে পূর্নগঠিত করা হইয়াছে। এই সকল কবরের মধ্যে মাওলাবী ফাদলুল্লাহী ওয়াযীরাবাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি উনার কবরও রহিয়াছে। উল্লেখ্য যে, মাওলাবী মাদলুল্লাাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনের বিরাট অংশ মুজাহিদগণ উনাদের মধ্যে অতিবাহিত হইয়াছে। কবরগুলির পার্শ্বেই সারি সারি গৃহ দণ্ডায়মান হইয়া গিয়াছে। এইখানে একটি জমকালো বাজার কায়েম হইয়া গিয়াছে। বালাকোট কাষ্ঠ ব্যবসায়ের একটি কেন্দ্র পরিণত হইয়াছে। পূর্ব স্থাপিত বাজারটির অবস্থাও বেশ ভাল হইয়া গিয়াছে। নদীর অপর তীরেও একটি বড় বাজার কায়েম হইয়াছে। অবশ্য মূল বালাকোটের অবস্থা প্রায় পূর্ববৎই রহিয়া গিয়াছে।
বালাকোটের বতুষ্পার্শ্বস্থ স্থানসমূহঃ বালাকোটের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব দিকে কৃষিজমি রয়েছে। পশ্চিম দিকে অবস্থিত কৃষিজমি সাধারণ পাহাড়ী কৃষিজমির ন্যায় সিড়ির আকৃতির। এই স্থানেই সাত বানে ও মেট্টী কোটের পাদদেশ জুড়িয়া ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। উত্তর দিকে কতগুলি পানিচক্র ছিল। পানিচক্রকে স্থানীয় ভাষায় জানদার বলা হয়।
এই সকল পানিচক্র এখনও অস্তিত্বশীল রয়েছে। সম্মুখে পর্বতের পাদদেশ পর্যন্ত কৃষিজমি রয়েছে। উত্তর ও পূর্ব দিকের অংশের অবস্থাও পশ্চিম দিকের অবস্থার অনুরুপ বটে। উক্ত অংশদ্বয় বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই অংশদ্বয়ের জমিকে অধিকতর উর্বর মনে করা হয়। উক্ত উর্বর ভূমি স্থানীয় ভাষায় ‘হোতার’ নামে পরিচিত। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নূরুল আলম।
মহান আল্লাহ পাক উনার পরিচয়, উনার শান ও মহীমা প্রকাশের সর্বাধিক যোগ্যতম ব্যক্তি হচ্ছেন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে স্ব-স্ব উম্মাহর নাযাতের জন্য খাছভাবে মনোনীত করে যমীনে প্রেরণ করেন। উনারা নিজের থেকে কোন কিছুই করেন না। যা কিছু করেন, বলেন সবই পূর্ণ ওহীর তত্ত্বাবধানে। অর্থা মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশে। এই সকল খাছ বান্দাদের গাল-মন্দ করা, কষ্ট-তাকলীফ দেয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন মতেই বরদাশত করেন না। সদয় ইচ্ছা করলে তিনি এ ন্যাক্কার কর্মকা-ে জড়িত ব্যক্তিকে হিদায়েত দান করেন। নতুবা কুফরীর গ্লানী নিয়ে মৃত্যুমূখে পতিত হয়ে অনন্তকাল কঠিন আযাব-গযবে গ্রেফতার হওয়া ছাড়া তার আর কোন গত্যন্তর থাকে না। যদিও দুনিয়াবী দৃষ্টিকোন থেকে সে বিখ্যাত আলিম নামধারী হোক এবং তার যতই যশ-খ্যাতি থাকুকনা কেন? যার মেছাল মহান আল্লাহ পাক তিনি খোদ কালাম পাকেই পেশ করেছেন।
বর্ণিত হয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের বিখ্যাত এক আলিম যে ছিল ইলম ও মা’রিফাতের অধিকারী। ফাওক্বাল আরশ ও তাহতাচ্ছারা ছিল যার দৃষ্টি সীমার মধ্যে। সে যে দোয়া করতঃ তাই কবুল হত। দশ হাজার আলিম প্রতিদিন তার দরবারে তা’লিম কার্যে নিয়োজিত ছিল, যারা ছিল তারই শিষ্য। অতঃপর তার স্ত্রীর কুপরামর্শে নবীর বিরোধীতাকারীদের থেকে সে লোভনীয় কিছু উপঢৌকন গ্রহণের বিনিময়ে তার যামানার নবী হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে বদ দোয়া করতঃ গোমরাহ হয়ে যায়। তার বদ দোয়া তার নিজের উপরই পতিত হয়। যার ফলে চরম লাঞ্ছনা, অপমান ও কুফরীর গ্লানী নিয়ে সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তার ইলমের অপব্যবহারের কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কুকুরের সাথে তুলনা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কুকুরের মতই তার জিহ্বা বের হয়ে বুকের উপর পড়েছিল এবং হাঁপিয়ে শ্বাস গ্রহণ করতে হয়েছিল। (নাউযুবিল্লাহ)
একই ধারাবাহিকতায় নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পরবর্তীতে যারা উনাদের খাছ ওয়ারিছ, ওলীআল্লাহ উনাদের বিরোধীতা করা স্পষ্ট কুফরী। মহান আল্লাহ পাক তিনি এটাও বরদাশত করেন না।
যে কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদীছ-এ কুদসীতে ঘোষণা করেন, “যে আমার ওলীর বিরোধীতা করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি।” অর্থাৎ সে জাহান্নামী। (বুখারী শরীফ)
ইতিহাসের পটভূমিকায় দেখা যায় হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরোধীতা করেছিল তখনকার যুগশ্রেষ্ঠ নামধারী আলিম আবুল ফজল, ফয়জী, মোল্লা মোবারক নাগৌরী প্রমূখ। তারা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে উপঢৌকন গ্রহণ করেছিল বাদশাহ আকবরের নিকট থেকে। অতঃপর তাকে নবীর মসনদে বসিয়েছিল। স্ব-হস্তে কিতাব লিখে তার প্রতি আসমানী নাযিলকৃত কিতাব বলে ঘোষণা করেছিল। পরিণামে তারা কুফরীর বোঝা নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছিল। (নাউযুবিল্লাহ)
ঠিক একই আমলের অনুশীলন করে বেশকিছু বিষয়ের কথিত ইলমধারী আহমদ রেযা খা। সে মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী, যামানার মুজাদ্দিদ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, মুজাহিদে আ’যম, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি মিথ্যা কুফরীর তোহমত দিয়ে নিজেই কুফরীর শিকার হয়েছে। এবং তার অনুসারীদের অবস্থাও তাই।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার খাছ বান্দাদের প্রতি তোহমত দেয়া হতে সম্পূর্ণরূপে হিফাযত করুন। (আমীন)
-মাওলানা মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী।
ফোরাতের তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে থাকে তবে আমি উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তার জন্য জবাবদিহী করতে হবে। অর্ধ জাহানের খলিফা, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এই অভিব্যক্তির মূলে রয়েছে, রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ। তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই রক্ষক, তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাতো বটেই, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের জীবনেও এই হাদীছ শরীফ উনার উপর সতর্ক আমলের অনেক অনেক কাহিনী রয়েছে। তাযকেরাতুল আউলিয়ায় বর্ণিত রয়েছে, একবার ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীকত হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কর্দমাক্ত রাস্তার উপর সাবধানে পা ফেলে হাঁটছিলেন। বিপরীত দিক থেকে এক ছেলে এলোমেলো ভাভে আসছিল। এটা দেখে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “হে ছেলে সাবধানে পথ চলো। অসতর্কতা করলে পা পিছলে যাবে। জবাবে ছেলে অতি বিনয়ের সাথে বলল, “হুযূর আপনিও সাবধানে চলুন। কারণ আমার পা পিছলে গেলে শুধু আমিই বিচ্যুত হবো। পক্ষান্তরে আপনার পা পিছলে গেলে গোটা মুসলিম উম্মাহই পথচ্যুত হয়ে যাবে।” ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীকত হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বুঝলেন যে, এটা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে উনার প্রতি এক সাবধান বাণী। উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর থেকে তিনি ফতওয়া তাহকীক ও প্রদানের ব্যাপারে আরো সতর্ক ও সাবধান হয়ে গেলেন।
পাঠক এ আলোচনায় দুটো জিনিস প্রতিভাত হয়। (এক) কারো ফতওয়া দ্বারা যদি গোটা উম্মাহ বিপথগামী হয়, কষ্টে পতিত হয়; (দুই) মানুষের, জীবন জীবিকা সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বহীনতা ব্যর্থতা ও ভ্রান্তির জন্য যদি তারা কষ্টে পতিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট মহলকেই সবকিছুই জন্য জবাবদিহী করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হক্কুল ইবাদের মধ্যে গণ্য।
পাঠক! আর সে ক্ষেত্রে যেসব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা হরতালের নামে, মানুষের জীবন, জীবিকা, পদচারনা, ইজ্জত ইত্যাদি নিমর্মভাবে লুণ্ঠন করছে, বিপর্যস্থ করছে, ক্ষতিগ্রস্থ করছে, এবং হরতালের নামে তাদের মিত্ররা এধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ যা করছে, বোবা শয়তানের মত তাই সমর্থন করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনই আওয়াজ করছেনা, একাজে তাদের অসমর্থন জ্ঞান করছেনা, প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা অর্থাৎ হরতালের ন্যায় মহা জুলুমবাজী কাজকে ইসলামের নামে জায়েয করছে, সত্যিকার অর্থে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কি ফায়সালা? সেটা ইসলামের আলোকে, হক্কুল ইবাদের প্রেক্ষিতে এক জ্বলন্ত প্রশ্ন।
হরতাল শব্দটি গুজরাটি। গান্ধী এই গুজরাটি ভাষার লোক ছিল। হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, মারামারি, কাটাকাটি। লংমার্চ যেমন চীনের কমিউনিষ্ট নেতা মাওসেতুং এর একক কীর্তি, হরতালও তেমনি গান্ধীর একক আবিষ্কার। এ সম্পর্কে গান্ধী তার আত্মজীবনীমূলক ‘আত্মকথা অথবা সত্যের প্রয়োগ’ গ্রন্থে বলেছে, “আমেদাবাদে খেড়ার কাজ সম্পর্কে আলোচনা যখন চলিতেছিল, তখনই শ্রমিকদের কাজ আমি হাতে লইলাম। আমার অবস্থা বড় কঠিন ছিল। আমি জানিলাম যে, শ্রমিকদের দাবি ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু মালিকেরা তাহাদের ও তাহাদের শ্রমিকদের মধ্যে একটা সালিসীর স্থান দেওয়ার যৌক্তিকতা স্বীকার করিলো না।
আমি শ্রমিকদের হরতাল (ধর্মঘট) করবার পরামর্শ দিলাম।”
এই ছিল হরতাল বিষয়ে গান্ধীর প্রথম হাতে খঁড়ি কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে রাউলাট আইনকে ইস্যু করে গান্ধী প্রথম হরতালের সূচনা করে।
যুদ্ধের সময় ভারতবর্ষে যে সমস্ত দমনমূলক আইন প্রবর্তিত হয়েছিল, যুদ্ধ শেষেও সেগুলোকে অক্ষুন্ন রাখার পরিকল্পনা ছিল- এই রাউলাট বিলের তত্ত্ব কথা।
গান্ধী স্থির করল যে, রাউলাট কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যদি সত্যই আইন পাস হয় তবে দেশব্যাপী হরতালের মধ্যে দিয়েই রাউলাট আইনের প্রতিবাদ করা হবে। গান্ধীর ভাষায়, “সত্যগ্রহের সংগ্রাম আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম, ধর্মযুদ্ধ শুদ্ধির দ্বারাই আরম্ভ করা উচিৎ মনে হয়। সুতরাং ঐ দিনে সকলে উপবাস করবেন এবং নিজ নিজ কাজ কারবার বন্ধ রাখবেন।” (গান্ধী চরিত- ঋষি দাস)
সমস্ত ভারত বর্ষেই এই কর্মসূচী গ্রহণের কথা স্থির হলো। হরতালের দিন প্রথমে ধার্য হয়েছিল ১৯১৯ সালের ৩০ শে মার্চ। পরে ওই তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয়, ধর্মঘটের দিন স্থির করা হয় ৬ই এপ্রিল। কিন্তু প্রচারের অভাবে দিল্লিসহ অনেক জায়গায়ই ৩০ শে মার্চ হরতাল পালিত হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, গান্ধীর এই হরতালকে সমর্থন করার জন্য সে যুগেও ধর্ম ব্যবসায়ী তথাকথিত মুসলিম নেতার অভাব ছিল না। বরং আজকের শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী তথা চরমোনাই গংকে তাদের পূর্বপূরুষরা সে যুগেই এই পথ দেখিয়েছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলমানদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা শরীয়ত সম্মত নয়। কিন্তু আজকের খারিজীদের পূর্বপুরুষের বদৌলতে সে যুগেও হরতালের সমর্থনে গান্ধীর সহযোগী শ্রদ্ধনন্দজীকে দিয়ে জুম্মা মসজিদে বক্তৃতা করানো হয়েছিল।
কাজেই আজকের শাইখুল হদস আর মাহিউদ্দীন গং রা যে মেয়েলোকের আচলে জোট বাঁধবে, তাদের লেজুরবৃত্তি করবে এবং তাদের সাথে গান্ধীর দেয়া কর্মসূচী হরতাল পালন করবে তা তাদের পক্ষে বিচিত্র কিছু নয়।
তবে এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, গান্ধী যদিও হরতালের সূচনা করে কিন্তু তাতে সে কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করে। যা তার আত্মকথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে, “আমি শ্রমিকদের হরতাল (ধর্মঘট) করিবার পরামর্শ দিলাম। হরতাল করার এই শর্ত তাহাদের বুঝাইলাম-
১। শান্তি ভঙ্গ করিবেনা। ২। যে ব্যক্তি কাজে যাইতে চায় তাহার উপর জোর করিবে না। ৩। শ্রমিকরা ভিক্ষান্ন খাইবেনা। ৪। হরতাল যতই দীর্ঘ হোক না কেন তবু দৃঢ় থাকিবে এবং যদি পয়সা ফুরাইয়া যায় তবে খাওয়া মাত্র যাহাতে চলে, এমন মজুরি করিবে।
এশর্ত উহাদের প্রধানেরা বুঝিয়াছিল ও স্বীকার করিয়াছিল। শ্রমিকেরা প্রকাশ্য সভা করিয়া স্থির করিল যে, তাহাদের দাবী যতদিন স্বীকৃত না হয় অথবা তাহাদের দাবী ন্যায়- অন্যায় স্থির করার জন্য যতদিন সালিশি না বসে, ততদিন তাহারা কাজে যোগ দিবে না।
হরতালকারীদের সভা প্রত্যহই নদীর তীরে এক ঝাউ গাছের নিচে হইতে লাগিল। সেখানে তাহারা প্রত্যেকেই প্রতিদিন হাজির হয়। আমি তাহাদের প্রতিজ্ঞা স্বরণ করাইতাম, শান্তি রাখিতে ও আত্মসম্মান রাখিতে প্রতিদিনই পরামর্শ দিতাম। তাহারাও নিজেরা ‘একটেক’ (প্রতিজ্ঞা অটল) লেখা পতাকা লইয়া শহরে শোভাযাত্রা করিয়া বেড়াইত ও সবাই হাজির হইত। “এই হরতাল ২১দিন চলিয়াছিল।”
উল্লেখ্য, এ বর্ণনায় দেখা যায় যে, গান্ধী হরতাল প্রবর্তন করলেও সে শান্তি ভঙ্গ করবেনা, মারা-মারি, কাটা-কাটি করবেনা, যে ব্যক্তি কাজে যেতে চায় তার উপর জোর করবে না এই ধরণের নীতি কথা সংযুক্ত করেছিল। কিন্তু বর্তমানে গান্ধীর অনুসারী আমাদের তথাকথিত ইসলামপন্থীদের দেখা যায় যে, তারা গান্ধীকে অনুসরণ করতে গিয়ে আজকে তার চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে নিজেদের পৌঁছিয়েছে।
অথচ এই সমস্ত আলেমে কাজ্জাবদের কি জানা নেই যে, ইসলামী শরীয়তে হক্কুল্লাহ যেমন- নামায, রোযা হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি না করলে তওবার দ্বারা মাফ হতে পারে কিন্তু হক্কুল ইবাদ যা বান্দার হক্ব তা মাফ করার পেছনে বান্দার মাফ করা মূখ্য শর্ত বটে। সেক্ষেত্রে যে গরীব রিক্সা চালকের রিক্সাকে পেট্রল বোমা দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় আর গরীব রিক্সা ওয়ালা তা দেখে মায়া কান্না শুরু করে, তার পরিবারের জীবিকার হক্ব নষ্টের জাওয়াব মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই গং কি দিবে? (সূত্র- দৈনিক প্রথম আলো, ২৫/০৪/২০০১)
হরতালের নামে যে ভ্যান চালক মান্নানের শরীর পেট্রোল বোমা দিয়ে ঝলসে দেয়া হল তার জবাব মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই গং কি দিবে?
খবরে প্রকাশ, “হরতাল নামক মহা জুলুমের গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি ভ্যান চালক মান্নান। রাজধানীর টিকাটুলির মোড়ে বোমা মারলে, তৎক্ষনাত ঝলসে যায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং পরে নিঃশেষ হয় তার ভাড়া করা ভ্যানটি। একই ঘটনায় বোমাহত রিক্সা চালক হাবীব। সেই সাথে ঝলসে যায় তার আয়ের উৎস। দগ্ধ পথচারীরা মান্নানকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ভ্যান ভাড়া বাবদ প্রতিদিন ৭৫/= টাকা করে দিতে হয়। এদিকে সাত সদস্যের সংসারে হিমসিম খেয়ে যেত সে। তারপর থাকত ছেলেমেয়েদের নানা আবদার। ছোট ছেলে আবদার করেছিল ঢাকার বোম্বাই চানাচুর খাওয়ার। চাতক পাখির ন্যায় পথ চেয়ে থাকা স্ত্রী ভেবেছিল অন্যদিনের তুলনায় আজ একটু ভাল খাওয়া হবে। ঢাকা থেকে বাজার কিনে নিয়ে আসবে স্বামী। কিন্তু পরিবার তো জানে না এখন সে মৃত্যুর পথযাত্রী। তার রক্তের প্রয়োজন। কোথায় পাবে এত টাকা যা দিয়ে সে ক্ষতিপূরণ দিবে। কি জবাব দিবে সে তার ভ্যান মালিককে।
পাঠক এই হলো হরতালকারীদের হরতাল সফল হওয়ার জ্বলন্ত জুলুমের নমুনা। এই উৎপীড়ন, নির্যাতন, শোষণ আর বঞ্চনার জন্য দায়ী কে বা কারা? আর মান্নানের ন্যায় রয়েছে এরকম লক্ষ লক্ষ মান্নান, ভ্যান পোড়া, রিক্সা পোড়া ছাড়াও তাদের রয়েছে হাজারো অব্যক্ত যাতনা। কিন্তু তাদের কি অপরাধ? এই অপরাধের জন্য জাতির নিকট কারা ধিক্কার পাওয়ার উপযুক্ত?
মূলতঃ এজন্য ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বাগ্রে ধিক্কার পাওয়ার উপযুক্ত এইসব শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, গো-আযম আর চরমোনাই গং। কারণ তারা এই হরতালকে নাজায়েয বলছেনা। বরং তারাও ইসলামের নামে এই মহা জুলুমবাজী কাজে জোরদার ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য হরতালে শুধু ব্যক্তি মান্নানই নয় বরং জাতীয়ভাবে এর ক্ষতি আরো সর্বগ্রাসী। নিম্নে এ ধরণের সংক্ষিপ্ত গুটিকয়েক সংবাদ শিরোনাম তুলে ধরে হলো-
হরতালের রাতে জনশূন্য রাজপথ, লোড শেডিং, অরক্ষিত নগরীতে ছিনতাই উৎসব (পালিত) দৈনিক মানব জমিন, ১১/০৪/০১- ৪৮ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম অচল, অবরুদ্ধ, ব্যাপক বোমাবাজী, রিক্সা ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ (করা হয়) দৈনিক জনকণ্ঠ, ০৩/০১/০১। হরতালে নৃশংসতা, পেট্রোলের আগুনে ঝলসানো আরো দু’ বেবি চালকের মৃত্যু। দৈনিক আজকের কাগজ, ০৭/০৪/০১। প্রতিদিনের হরতালে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষতি ১১ কোটি টাকা। দৈনিক মানব জমিন, ২৬/০৪/০১। প্রতিদিনের হরতালে চট্টগ্রাম বানিজ্যিক কর্মকা-ে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা। দৈনিক জনকণ্ঠ ১৫/০৯/৯৯। হরতালে রফতানী বন্ধ পিরোজপুরে কয়েককোটি টাকার ইলিশ পঁচে যাচ্ছে। দৈনিক জনকণ্ঠ ১৫/০৯/৯৯। হরতালে চাল ডাল তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। জনকণ্ঠ ১০/০৪/০১। হরতালে রাজশাহীতে রেল লাইন উৎপাটন, ফরিদপুরে মাদরাসায় হামলা, খুলনা, বগুড়া, ফেনী, সাতক্ষীরা, বরগুনায় সংঘর্ষ। হরতালের দ্বিতীয় রাতেও ঢাকা ছিল আতঙ্কের নগরী। মানব জমিন, ০২/০৪/০১। হরতালে চট্টগ্রাম বিপর্যস্থ, ব্যবসা-বানিজ্য স্থবির, গার্মেন্টর্স শিল্প বাজার হারাচ্ছে, ৩৫ লাখ মানুষ জিম্মি। দৈনিক জনকণ্ঠ, ১১/০৪/০১। হরতালে পুরান ঢাকায় ব্যবসা-বানিজ্যে বিপর্যয়। ছয়দিনে তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি। দৈনিক জনকণ্ঠ, ১২/০৪/০১। রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে সব ব্যবসায়ীই একদিন হয়ে পড়বে ঋনখেলাপী। দৈনিক আজকের কাগজ, ০৯/০৪/০১। পিকেটিঙের বদলে চোরাপোপ্তা বোমা হামলা। হরতালে হত্যাকান্ডের ঘটনা বাড়ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মানুষ। (ভোরের কাগজ, ১৩/০৯/০১)
পাঠক! এতো গেল গুটি কয়েক ক্ষতির বিবরণ। কিন্তু আরো যে বাস্তব অনেক অনেক ক্ষতিকর দিকগুলো আছে সেগুলোর জবাবদিহীতা, হরতাল সমর্থনকারী তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা কি করবে?
পাঠক! কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক এ রাজধানীতেও অনেক কর্মজীবী, ক্ষুদে ব্যবসায়ী আছে যাদের দৈনিক আয় ৩০/৪০ টাকারও নীচে। অথচ তাদের সদস্য সংখ্যা ৫-৬ জন। যাদের জীবন যাত্রার ধারা হল- দিনে ২/৩ কেজি চাল কেনা, একটু লাকড়ি কেনা, সাথে ২/১ টাকার তেল, লবণ আর আলু কেনা। আর এদিয়ে তারা রাতে এক বেলা রাঁধে, তখনই কিছুটা খায়, সকাল বেলা পানি-পান্তা সামান্য যা থাকে তা ২/১ মুঠো মুখে দিয়ে সারাদিন না খেয়ে, পরিশ্রম করে আবার রাতের বেলা একবার তাদের মুখে ভাত যায়। কিন্তু সে একমুঠো ভাতও যারা হরতালের নামে গ্রাস করে নিতে চায়, তাদের সে ক্ষুদ্র রোজগারের উপর যখন হামলা চালান হয়, তখন মানবতা আর ইসলামী আদর্শ কোথায় থাকে? আর কোন সে ইসলাম, যে ইসলামের জন্য তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা হরতালের নামে এ বর্বরতা ছাড়াও আরিচাঘাটে মৃতদেহ বহন করা গাড়ীকেও আটকায়? এই নিমর্মতা, এই নিষ্ঠুরতা, এই পাষ-তাই কি ইসলাম! শত ধিক্কার এইসব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকদের, ইসলামের নামধারী এইসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের।
পাঠক! ইসলামের আলোকে বলতে হয়, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা পর্যন্ত এদেশে অনুষ্ঠিত। এ সকল হরতালে জান-মাল, মান-সম্মানের ক্ষতির দায়দায়িত্ব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকদের উপরই বর্তায়। কারণ তারাই ইসলামের নামে এটি জায়েয করেছে। আর তাদের রাজনৈতিক সহকর্মীরা এসব জুলুম-নিপীড়ন মহাসমারোহে করলেও তারা তার বিরুদ্ধে এযাবৎ কোন বিবৃতি দেয় নাই বা দুঃখ প্রকাশ করে নাই অথবা পিকেটিং এর বিরুদ্ধে হরতালে জুলুম ও ক্ষতিমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আদৌ কিছু বলে নাই। আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যমীনে যখন কোন গুনাহ অনুষ্ঠিত হয় যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত থেকে এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে সে ব্যক্তি যেন উক্ত কাজের সাথে জড়িত ছিল না। আর যে ব্যক্তি উক্ত ঘটনায় অনুপস্থিত থেকে উক্ত কাজকে সমর্থন করে তাহলে সে ব্যক্তি যেন সে কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অর্থাৎ সেও তার জন্য দায়বদ্ধ হবে।
নিম্নে এক হিসেবে মতে এযাবৎ কালের প্রাপ্ত তথ্য মতে হরতালের একটি বিবরণ দেয়া হলো-
হরতালে নিহত, আহত, নিহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা
সাল নিহত আহত গ্রেপ্তার
১৯৭২-৭৫ ১ ৩১২ ৯০৭
১৯৭৫-৮২ ৬ ৫১৮ ৩১১
১৯৮২-৯০ ১০৯ ২৫৬২ ৩৫৮৬
১৯৯০-৯৬ ৬৩ ৫৬৫৮ ৮০৬
১৯৯৬-০১ অনুর্ধ্ব ৪৫ ৩৭২৭ উর্ধ্ব ৩৫৩০ উর্ধ্ব
বিভিন্ন শাসন কালে হরতালের বিবরণ ঃ
সাল মোট
১৯৭২-৭৫ (১৪ই আগস্ট) ২২ দিন
১৯৭৫-৮২ (১৫ই আগস্ট-২৩ মার্চ) ৫৯ দিন
১৯৮২-৯০ (৪ঠা মার্চ- ৬ ডিসেম্বর) ৩২৮ দিন
১৯৯০-৯৬ (৭ই ডিসেঃ- ৩০ ডিসেঃ) ৪১৬ দিন
১৯৯৬-৯৯ (৩১ মার্চ- ৩১ ডিসেম্বর) ২৪৪ দিন
মোট = ১০৬৯ দিন
১৯৯৯-০১ (৩১ ডিসেঃ-২৫ এপ্রিল) অনুর্ধ্ব ৪০ দিন
মোট = ১১০৯ দিন
বাংলাদেশের প্রেস ইনষ্টিটিউটের অপর এক গবেষনায় দেখা যায়, ১৯৪৭-২০০০ পর্যন্ত ৫২ বছরে ১২শ ১৪টি হরতালের ৮৪টি হরতাল বাদে ১১শ ৩০টি হরতাল হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। অর্থাৎ স্বাধীনতার ৩০ বছরে ৩ বছরের বেশি কোটেছে হরতাল। বিগত এক শাসক আমলে একদিন হরতালের ক্ষতি ধরা হত ১৫০ কোটি টাকা, এরপরের শাসন আমলে ক্ষতি ধরা হত ২৫০ কোটি টাকা এবং বর্তমানে বলা হচ্ছে প্রতিদিনের হরতালে ক্ষতি ৩৮৬ কোটি টাকা। বিগত হরতাল গুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে তা দিয়ে অন্ততঃ সাতটি উন্নয়ন বাজেট করা যেত বলে গবেষনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একথা বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য যে, দেশের তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকদের কারণে হরতাল বর্তমানে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। কারণ, এতদিন যাবৎ মানুষ জানত যে হরতাল নিছক একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। হরতাল বলতে তারা দাঁড়ি চাঁছা, দুনিয়াদার, রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত পেশী শক্তির মহড়াকেই মনে করত। কিন্তু অধুনা তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা হরতালের মত নিপীড়নমূলক কাজকে ইসলামের লেবেল এটে এটাকে ইসলামী করতে চাচ্ছে।
অথচ বলতে হয় গত ৩০ বছরে হরতালের কারণে বর্তমানে দৈনন্দিন ৩৮৬ কোটি টাকা হিসেবে মোট ক্ষতি ৪,২৮.০৭৪ কোটি টাকা দিয়ে দৈনিক ৩০-৩৫ টাকার নিচে যাদের সংসার চলে (অধিকাংশ সময় এ প্রাপ্তিও তাদের জোটে না) এরূপ কত কোটি লোকের উপকার করা যেত? মিল কারখানা তৈরি করে, বাসস্থান করে তাদের দুনিয়াবী ও দ্বীনি কত কল্যাণ সাধন করা যেত?
কতগুলো মসজিদ, মাদরাসা ইত্যাদি করা যেত?
শুধু তাই নয় আজকে যে শিশুটি বাংলাদেশে জন্মাচ্ছে তার কাধেও চেপে বসছে প্রায় ৬০০০ টাকার বৈদেশিক ঋণ। তারপরেও হরতালের নামে মুসলমান দেশকে এভাবে গরীব ও ঋণগ্রস্থ করে ক্রমশঃ ইহুদী-নাছারার দেশের কাছে মুখাপেক্ষী করে দেয়া দেশ থেকে প্রকারান্তরে ইসলাম আর মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করা নয় কি? আর যারা এরূপ করে তাদের মুখে ইসলামের কথা, ইসলামী আন্দোলনের কথা শোভা পায় কি? মূলতঃ মুখে ইসলামের কথা বললেও তারা ইসলাম বিরোধী ইহুদী-নাছারাদের চর মাত্র। কাজেই দুনিয়াতে তো বটেই পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে অশেষ লাঞ্ছনা।
হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, কেউ যদি তার কোন ভাইয়ের প্রতি অত্যাচার করে থাকে অথবা তার সম্মান নষ্ট করে থাকে তবে অতি শীগগীরই যেন তাকে তার বদলা দিয়ে দেয়, তাকে সন্তষ্ট করে দেয় কিয়ামত আসার পূর্বেই। অন্যথায় যদি জালিমের নেক আমল থাকে তবে জুলুমের অনুপাতে তা জুলুমকৃত ব্যক্তিকে দেয়া হবে, এবং যদি নেক আমল না থাকে তবে এ (দাবিদারের) গুণাহ জুলুমকারীর উপর অর্পণ করা হবে।”
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, “তোমরা কি জান গরীব কে? “সকলেই বললেন যে, আমাদের মধ্যে গরীব ঐ ব্যক্তি যার কোন টাকা-পয়সা নেই এবং আসবাব পত্রও নেই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে গরীব ঐ ব্যক্তি যে রোয কিয়ামতে বহু নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদি নিয়ে হাযির হবে। কিন্তু হয়তো কাউকেও গাল দিয়েছে, কাউকেও মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এবং কারো মাল অপহরণ করেছে, কাউকেও বা হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে; তখন তার নেকি সমূহ হতে প্রত্যেক (দাবিদার) কে দেয়া হতে থাকবে। অতঃপর যদি দাবিদারগণের প্রাপ্য অবশিষ্ট থাকতেই তার নেকি সমূহ নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে তাদের পাপ তার উপর চাপানো হবে। অবশেষে তাকে অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করা হবে।” (মাকতুবাত শরীফ)
মূলতঃ হরতালকারীদের পিকেটারকারীদের অবস্থাও যে এরূপই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, গো’আযম, চরমোনাই গং এর মত যেসব উলামায়ে ছূরা হরতালের মত মহা জুলুমবাজী কাজকে ইসলামী বলে প্রচার করতে চায় তাদের পরিণতি কি হতে পারে সে প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি এহইয়াউল উলুম কিতাবে লিখেছেন, “একজন লোক একটি গোসাপ হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট এনে বলল, হুযূর এই গোসাপটি একজন আলিম ছিল, খোদাতায়ালার রোষে পড়ে গোসাপ হয়ে গিয়েছে।
আপনি দোয়া করুন যেন এই আলিম পূর্ব রূপ প্রাপ্ত হয়, তাহার গোণাহ মার্জনা হয় এবং দোযখের শাস্তি হতে নিষ্কৃতি লাভ করে।
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তিনি দোয়া করিতে লাগলেন, এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিয়ে নাযিল হয়ে বললেন, “হে মুসা! এই লোকটি একজন তাওরাত তত্ত্ববিদ আলিম ছিল। পার্থিব স্বার্থে বশীভূত হয়ে উক্ত কিতাবের অর্থ পরিবর্তন করে ৭০ হাজার লোককে ভ্রান্ত করে ফেলেছে, এজন্য তাকে গুইসাপে পরিণত করা হয়েছে। এখন আপনার দোয়াতে সে ব্যক্তি মানবরূপ পেতে পারে কিন্তু গুণাহ মাফ হতে পারে না এবং দোযখ হতে নিষ্কৃতি পেতে পারে না।”
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে ভাই জিব্রাইল, কেন তার গুণাহ মাফ হবে না? সে ব্যক্তি তওবা করবে।” হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি মনগড়া গোমরাহী ফতওয়া দিয়ে সত্তর সহ¯্র লোককে ভ্রান্ত করেছে, একা ব্যক্তি তৎসমুদয় লোকের গুণাহ মস্তকে ধারণ করে দোযখে তাদের যাবতীয় শাস্তির পরিমাণ শাস্তি গ্রহণ করবে। অবশ্য যদি এই ব্যক্তি সেই সত্তর সহ¯্র লোককে সদুপদেশ প্রদান করতঃ সৎপথে আনতে পারে, তবে গুণাহ মাফ পেতে পারে এবং দোযখের শাস্তি হতে মুক্তি লাভ করতে পারবে।”
পাঠক! প্রসঙ্গত আজকের শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, গো’আযম, চরমোনাই গং যেভাবে ইহুদী-নাছারার নির্বাচন ভিত্তিক গণতন্ত্র, খ্রিস্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের মৌলবাদ আর গান্ধীর হরতালকে ইসলামী বলে প্রচার করে হাজারের পরিবর্তে কোটি কোটি লোককে গোমরাহ করছে তাদের জীবন, জীবিকা, পদচারণা, ইজ্জত নষ্ট করছে এবং এরূপ জুলুমবাজী কাজকে ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েয বলে মানুষকে গোমরাহ করছে। তাতে তাদের পুনরায় হক্ব পথে ফিরিয়ে আনা শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন গং এর পক্ষে সম্ভব হবে কি? না হলে তাদেরকেও যে পথচ্যুত তাওরাত তত্ত্ববিদ অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ পরিণতি লাভ করতে হবে তা সহজেই অনুমেয়। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
-আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী।
খারিজী ওহাবীদের বিদয়াতী আমল তাদের বদ-আক্বীদা সম্পর্কে ইসলামের নামে তাদের হারাম রাজনৈতিক কর্মকা- সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখন পূর্ণ মাত্রায় সচেতন। কিন্তু খারিজীদের এহেন ক্রটি-বিচ্যুতির পাশাপাশি যারা সুন্নী সুন্নী বলে নিজেদের একটা আলাদা অবস্থানের প্রয়াস পেয়েছিল, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে তাদের সে দাবী ও আত্মপ্রচারনা ছিল কেবলই অন্তঃসারশুন্য এবং মেকী। কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “তিনি হক্ব আর নাহক্ব পার্থক্য করা ব্যতীত ছাড়বেন না।”
মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে এই পার্থক্য রেখা সূচীত হয়েছে। কে মুসলমান? আর কে মুনাফিক? তা প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইন্তিকালের পর উনার আওলাদ এবং ওয়ারিছ তথা কায়েম-মোকাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে, উনার তাজদীদী প্রক্রিয়ায় তথা উনার তাজদীদী মুখপত্র আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে, খারিজী, দেওবন্দী, নামধারী সুন্নী আর খাঁটি সুন্নী সব আলাদা হয়ে যাচ্ছে, চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে।
সুন্নীরা এতদিন যাবত প্রচার করত যে তার মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুব আশেক। কিন্তু তাদের এ দাবীর অন্তঃসারশুন্যতা ক্রমশঃই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হচ্ছে। মূলতঃ সামগ্রিকভাবে তাদের দাবীকৃত সুন্নীয়ত কর্মকা- আবেষ্টিত মাত্র তিনটি বিষয়ে। (১) জশনে জুলুছ এর নামে পাপাচার, (২) তাহের শাহ গং এর ব্যবসায়িক সহযোগীতা (৩) রেযা খার অন্ধ পূজা।
প্রথমতঃ বলত হয় জশনে জুলুছের নামে তথাকথিত সুন্নীরা, যুবতী মেয়েদের রাস্তায় নামিয়ে, ছেলেদের সাথে মিছিল করায়, তাদের মুরুব্বী রেযা খার শেষ ওসীয়তকে অমান্য করে প্রকাশ্যে ছবি তোলে, তাদের তাহের শাহর মেয়ের কণ্ঠের ক্যাসেট রাস্তায়, গাড়ীতে উচ্চ স্বরে বাজিয়ে হাজার হাজার লোককে বেপর্দা-বেশরার মত হারাম কাজে লিপ্ত করে।
দ্বিতীয়তঃ রেযা খার ওসীয়ত নামায় যেখানে স্পষ্টতঃ ছবির বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তার মৃত্যুর সময় ঘর থেকে সমস্ত ছবি সরিয়ে ফেলার জন্য বলা হয়েছে, সেখানে রেযা খার আদর্শের তল্পীবাহক তাহের শাহর ক্ষেত্রে বলতে গেলে কোন সমাবেশ, কোন দাওয়াত কোন ওয়াজ হয়না তার ছবি তোলা ছাড়া।
তার মাথা থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত সুন্নতের নাম-গন্ধ নেই। বছরে যে ক’বার তিনি বাংলাদেশে বাণিজ্য করতে অথবা পিকনিক সফরে আসেন তাতে করে শ্রোতাবর্গের অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কোন মুহব্বত পয়দা হয়না, সুন্নত পালনের জজবা জাগেনা এবং বিশেষতঃ তাদের ক্বলব ইছলাহর প্রাথমিক পাঠও নেয়া হয়না, আর ক্বলবী জিকির জারী হওয়ার তো কোন আলামতই দেখা যায়না। মূলতঃ তাহের শাহ নিজেই ক্বলবী যিকিরের মাকামে যে দৈন্যতায় ভুগছে তা তাসাউফ পন্থীদের কাছে রীতিমত সমালোচনার বিষয়। এরপরেও এক শ্রেণীর সাধারণ মানুষ আসে তার পিকনিক সফরের তামাশা দেখতে। কিন্তু এরা তার সহচর্যে এসে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দিন দিন বাতিনী সম্পর্কোন্নয়নে সমর্থ হচ্ছে, তাদের আমল আখলাকে সুন্নত এর সংখ্যা বাড়ছে এমন কোন নিদর্শন আদৌ দেখা যায় না। যা কিনা কথিত তাহের শাহর ব্যর্থতা ও শুন্যতাই প্রমাণ করে।
তৃতীয়তঃ তথাকথিত সুন্নীরা রেযা খাকে কেন্দ্র করে, কাফিরদের মত মুরুব্বী পূজায় মত্ত রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, তারা আজ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাদ দিয়ে, রেযা খাকে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে উৎকটভাবে প্রচার করতে চাইছে। রেযা খার নামে তাদের যত, সেমিনার, কার্যশালা, গবেষণা কেন্দ্র, প্রকাশনা, স্তাবকদল ও স্তাবক কর্মসূচী রয়েছে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে সেই তুলনায় তাদের কর্মকা- নেহায়েত কম এবং বিশেষ সমালোচনা এমনকি তারা এখন উম্মতে মুহম্মদীর পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেদেরকে রেযভীরূপে পরিচয় দিতে অধিক উৎসাহ বোধ করে।
মূলতঃ তারা এখন নফসানিয়ত বশতঃ কাফিরদের ন্যায় মুরুব্বী পূজার আবর্তে পড়েগেছে। মেযন- কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কাফিরদের মুরুব্বী পূজা সম্পর্কে বলা হয়েছে, “বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ তথা মুরুব্বীদেরকে যেভাবে পেয়েছি তাদেরকেই অনুসরণ করব।”
তদ্রুপ রেজভী তথা নামধারী সুন্নীরা, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সম্মানীত আহলে বাইত তথা আওলাদে রসূল, অনুসরণীয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তথা আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কষ্ট দিয়ে, উনার সম্পর্কে অপবাদ দিয়ে শত শত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে কাফির ফতওয়া দিয়ে রেযা খানের অলীক প্রশংসায় তার অন্ধ পূজায় মেতে উঠেছে।
আর সামগ্রিকভাবে উপরোক্ত তিন প্রকার কর্মকান্ডই হল তাদের সুন্নীয়ত দাবীর পেছনে সমুদয় পূজি।
অতএব এই পূজি দিয়ে আর যাই হোক সত্যিকারের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের প্রতিনিধিত্ব করা যায় না। সুন্নীয়ত দাবীর আড়ালে ব্যবসা করা যায় মাত্র। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে ব্যবসায়ী সুন্নীদের ধোকা হতে হিফাযত করুন।
-মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মা’ছূম, ঢাকা।
তথাকথিত সুন্নীদের বর্তমান অবস্থা হয়েছে অনেকটা লা-মাযহাবীদের ন্যায়। হাফেযে হাদীছ মুবাহিছে আযম, আল্লামা রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন লা-মাযহাবীদের সাথে বাহাছ করার সময় তাদের কিতাব হতেই তাদের বিপক্ষে দলীল দিতেন তখন তারা ঘুরপাক খেতে যেত। অধিকাংশ সময় অস্বীকার করত। ঠিক সুন্নীরাও যে কথা বলে, যে দলীল দেয় তার প্রেক্ষিতে তারা নিজেরাই কুপোকাত হয়ে পড়ে, আর লা-মাযহাবীদের ন্যায় একই কায়দায় তারা তা অস্বীকার করে।
মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর পৃষ্ঠপোষক, ইমামুল আয়িম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে যামানা, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার মধ্যে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে, উনার লক্বব মুবারক সম্পর্কে তারা যে কুট-কৌশল দ্বারা অপবাদ ছড়ায় তা তারা নিজেরাও জানে। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে নিজেরাই আবার মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর নীতি অনুসরণ করে। লক্বব-এর সরাসরি শব্দগত অর্থ গ্রহণ যে ঠিক হবেনা তা তারাও জানে এবং তাদের পূর্ব-পুরুষরাও তা স্বীকার করেছে।
মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর নীতি তাদের পূর্ব-পুরুষরাও অনুসরণ করেছিল। যেমন তাদের মুরুব্বী কাজী বশীর পেশোয়ারী ছাহেব হাযির-নাযির প্রসঙ্গে একজনের সাথে বাহাচ করতে গিয়ে সে কথোপকথন করে তাতেও প্রমাণিত হয় যে একই লক্বব মহান আল্লাহ পাক উনার শানে হবে এক অর্থে। আর মানুষের শানে হবে ভিন্ন অর্থে। তাদের কথোপকথন ছিল নি¤œরূপ- “পেশোয়ারী ছাহেব জিজ্ঞাসা করিলেন, গাযেব কাহাকে বলে এবং অর্থ কি? উত্তরে কেনু মৌলভী সাহেব বলিলেন, যাহা দেখা যায় না। বেশ, তাহলে বলুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন জিনিস দেখে না অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দেখা হইতে কি গোপন রহিয়াছে? উত্তরে বলিল মহান আল্লাহ পাক উনার দৃষ্টি হইতে কোন কিছুই গোপন নাই। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আলেমুল গায়েব অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি গায়েব জানেন। আমাদের জন্য যাহা গায়েব তাহাই মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। তাহলে আপনার কথায় বুঝা যাইতেছে গায়েব শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নির্দিষ্ট ও খাছ। অন্য কেহই গাযেব জানেনা। উত্তরে কেনু মৌলভী সাহেব বলিলেন হ্যাঁ। পেশোয়ারী ছাহেব বলিল, আমি এখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করবো জবাব দেন আপনি আলেম, না মূর্খ? বলিল আলেম। আপনি জিন্দা না মুর্দা? বলিল জিন্দা। আপনি অন্ধ না দেখেন? বলিল দেখি। এখন আপনার কথা মত আপনি তিন বার মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করিলেন অর্থাৎ তিনবার শেরেকী কথা বলিলেন সুতরাং আপনাকে তওবা করিয়া মুসলমান হইযা বিবাহ দোহরাইতে হইবে। বলিল কি রূপে শেরেক করিলাম? শুনুন কুরআন পাকে উল্লেখ আছে, মহান আলেমুল অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আলেম। হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম অর্থাৎ তিনি চিরস্থায়ী ও জীবিত। হুয়াচ্ছামীয়ুম বাছির অর্থাৎ তিনি শুনেন ও দেখেন। পেশোয়ারী ছাহেব কেনু মৌলভী সাহেবকে বললেন, এখন আপনি বলিতেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলেম আপনিও আলেম। সুতরাং একবার শেরেক হইল। মহান আল্লাহ পাক তিনি জীবিত আপনি বলিতেছেন আপনিও জীবিত। সুতরাং দুইবার শেরেক হইল। মহান আল্লাহ পাক দেখেন আপনি বলিতেছেন আপনিও দেখেন। সুতরাং তিনবার শেরেক হইল।” (সূত্রঃ কাজী বশিরগুল পেশোয়ারী, রচয়িতা-মোহম্মদ হুমায়ুন কবির)
স্বাভাবিক বিষয় হল মানুশ দেখে, শ্রবণ করে এব মানুষ জানেও বটে। কিন্তু সবই মানুষরূপে। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার ক্ষেত্রে আলিম শব্দ প্রয়োগ আর মানুষের ক্ষেত্র আলিম শব্দ যুক্ত হলেও বিষয়টি অদক্ষ জলীলেও অজানা ও অস্বীকৃত বিষয় নয়। বরং তার নিজস্ব ফতওয়াতেও রয়েছে এইরূপ কথা। ১৯৯৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তার দেয়া এক ফতওয়ায সে যা উল্লেখ করে তা নি¤œরূপ- (১) নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহপ াক তিনি প্রায় ১৪০০ (চৌদ্দ শত) সিফাতী নাম দান করেছেন। তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার ৯৯ সিফাতী নামের মধ্যে ৭০টিই দান করেছেন। (দেখুন মাদারিজুন্নবুয়াত, যেমন-আজিজু, জাব্বারু, রাউফ, রাহিম, কারিমু, নুরুন, শাহিদুন ও বাছিরুন ইত্যাদি। (নূর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উপরে উদ্ধৃত ৮টি সিফাতী নাম যেমনিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার, তেমনিভাবে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও বটে। এর মধ্যে শেষোক্ত ২টি সিফাতী নামের অর্থ “হাযির ও নাযির”।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, হাযির ও নাযির দুটি আরবী শব্দ। এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ক্ষেত্রে যখন ব্যবহার করা হবে- তখন অর্থ হবে ‘অশ্বরিরী, অসীম ও কুদরতী হাযির-নাযির। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বা অন্য কারও ক্ষেত্রে যখন ব্যবহার করা হবে- তখন অর্থ হবেচ স্বশরীরে, সসীম এবং খোদাপ্রদত্ত শক্তি বলে হাযির ও নাযির।”
পাঠক, এখানে জলীল নিজেই একই শব্দ মহান আল্লাহ পাক উনার শানে এক অর্থ, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে আরেক অর্থ নিয়েছে। একই ভাবে একই শব্দ বা লক্ব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীর শানেও যে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হবে তাও স্বতঃসিদ্ধ। অথচ একই জলীলের অবৈধ একটি মাসিকে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লক্বব মুবারক উনাকে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্বব মুবারক বলে, বিকৃত ও উদ্ভট অর্থ করে অপবাদ রটনা করা হয়েছে। অথচ তাদের অনুসৃত আক্ষরিক অর্থ গ্রহণের এই প্রক্রিয়াকে যদি মেনে নেয়া হয় তাহলে যা দাঁড়ায়- (১) অতীত হতে বর্তমান পর্যন্ত সকল মাওলানারা কাফির। কারণ মাওলানা শব্দ ব্যবহার হয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার শানে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে।
পাঠক! আপনি আশ্চর্যান্বিত হবেন যে, যেভাবে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লক্বব মুবারক-এর বিকৃত অর্থ ও ব্যাখ্যা ওরা করেছে তাতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে আর কোন মুসলমানকেই মুসলমান বলা যায় না।
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “দানশীল ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ যদিও সে ফাসিক হয়।”
কিন্তু অদক্ষ জলীল গং এর মতে হাবীবুল্লাহ লক্ববধারী ব্যক্তি সবাই কাফির। কারণ হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্বম মুবারক।
পাঠক! যদি তাউ হয় তাহলে ‘মুহম্মদ’ হচ্ছে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ নাম মুবারক যা লক্বব মুবারক-এর চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদা রাখে।
আর প্রাসঙ্গিকভাবে, ক্ষেত্রানুযায়ী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আক্ষরিক লক্বব মুবারক প্রয়োগ হলেই হাবীবুল্লাহ লক্বব মুবারক ব্যবহারে যদি কেউ জলীল গং এর মতে কাফির হয়ে যায় তাহলে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ নাম মুহম্মদ ব্যবহার করলে জলীল এর মতে কতবড় কাফির হতে হবে তা বোধ করি জলীল নিজেও বলতে পারে না।
কিন্তু জলীলের এযুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর তাবৎ মুসলমানকে কাফির সাব্যস্ত করার কারণে, হাদীছ শরীফ উনার আলোকে (যে অপরকে অন্যায়ভাবে কাফির বলে সে নিজেই কাফির অবস্থায় মারা যায়) কাফিরের তবকা হতে নিজেকে রক্ষা করার কোন উপায় জলীলের আছে কি?
পাশাপাশি রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে কাফির প্রতিয়মান করতে গিয়ে অবশেষে পৃথিবীর সকল মুসলমানকে কাফির সাব্যস্ত করে শেষতক নিজেকেই কাফির বনতে হল. অর্থাৎ পাশাপাশি নিজের ফতওয়ার বিরুদ্ধে নিজে লিখে লাঞ্ছিত হতে হল, অনিবার্যভাবে কুফরী করতে হল, যা উনার সাথে বেয়াদবির সাক্ষাত পরিণতি, কমবখত জলীলের জন্য তা ভেবে দেখার বিষয় নয় কি?।
-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, শাজাহানপুর।
অবশেষে তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহাকে তাহার স্বীকারোক্তি বলিলেও এক প্রকার ভুল বলা হইবে। কারণ স্বীকারোক্তি হিসাবে উহাকেই মূল্যায়ণ করা যায়, যাহার উপর কিনা বক্তার আমলও থাকে। কিন্তু এইখানে তাহার বিন্দু মাত্র প্রমাণ মিলে কিনা তাহা খতাইয়া দেখিবার বিষয়। গত সাইত্রিশ বৎসর যাবৎ তিনি পত্রিকাটি (মাসিক মদীনা) সম্পাদনা করিতেছেন বা চালাইয়া আসিতেছেন বলিয়া স্থানে- অস্থানে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে প্রায়শঃই সদর্পে গর্ব করিয়া বেড়ান। সমঝদাররা বলেন, দাবীকৃত এই সাইত্রিশ বছরের রচনায় তাহারা পাইয়াছেন তাহার বহু বহু স্ববিরোধী বক্তব্য, মুসলমানের দৈনন্দিন আমল- নামায, রোযা ইত্যাদি বিষয়ে সাধারণ মাসায়ালার ক্ষেত্রেও মারাত্মক মারাত্মক ভুলের অবতারনা।
সামগ্রিকভাবে তাহার লেখায় তাসাউফের কোন গন্ধ খুজিয়া পাওয়া যায় নাই। আর আমলের তো কথাই নাই।
তাই তাহার সম্পাদিত পত্রিকায় বাইয়াত হওয়াকে, হক্কানী পীর সাহেবের কাছে মুরীদ হইয়া লোভ, হিংসা, রিযা, কিনা, অহংকার ইত্যাদি রিপু সমূহকে পরাস্ত করিয়া আত্মার সংশোধন তথা ইসলাহর মত একান্ত ফরয বিষয়টিকে বার বার মুস্তাহাব বলিয়া উপেক্ষা করা হইয়াছে।
এইদিকে তাহার এই জিহালতীর জবাবে মাসিক আল বাইয়্যিনাত কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইমাম মুজতাহিদগণ উনাদের ক্বওল ও তাহাদের জীবন ইতিহাস হইতে যেইভাবে হৃদয়গ্রাহী, দলীল সমৃদ্ধ, অকাট্য ও জোরদার লেখা ক্রমাগত প্রকাশিত হইতেছে তাহাতে করিয়া মাসিক মদীনার এই বিষয়টির দূর্বলতা ক্রমশই জনমনে ক্ষোভের ও ধিক্কারের পর্যায়ে গড়াইতেছে।
আবহমানকালের আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের জীবন কাহিনী এবং উনাদের প্রচারিত হিদায়েতের তাছির কথা আজও মানুষের ¤্রয়িমান ঈমানী চেতনায় শিকড় গাড়িয়া আছে, ওলীআল্লাহ উনাদের রুহানিয়ত, ফয়েজ-তায়াজ্জুহ তথা কাশফ-কারামতের কথা।
অথচ আশ্চর্য হইলেও সত্য যে, নামধারী ইসলামের রাজনীতিক আর তথাকথিত প্রগতিবাদী মুসলিমদের ভয়েই মাসিক মদীনা ইসলামী পত্রিকা দাবী করিয়াও তাহাদের দাবীকৃত সাইত্রিশ বছরের প্রকাশনা জীবনে এই বিষয়টির উপর কিছু প্রকাশে বাঞ্ছিতভাবে আদৌ প্রয়াশ পায় নাই।
কিন্তু এক্ষণে বিড়ালের মান্দার (কাটাযুক্ত) গাছে উঠার মতই হইয়াছে মাসিক মদীনা সম্পাদকের অবস্থা। আল বাইয়্যিনাত-এর তাছিরে মানুষের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ফলে এখন তাহাকেও সেই বিষয়টি স্বীকার করিতে বাধ্য হইতে হইয়াছে বৈকি।
তাহার এপ্রিল ২০০১ সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলা হইয়াছে, “এ তথ্য আমরা একাধিক সাধকের কাশফ ও স্বপ্নের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের দ্বারা অবগত হতে পারি। সেই ধারাবাহিকতায় কুরবানী যেমন শেষ হয়ে যায় নি তেমনি সমাপ্ত ঘটেনি কাশফ কারামতেরও। যাদের অন্তরদৃষ্টি খোলা আছেন তারা দেখতে পাচ্ছেন, বাংলার জমিন থেকে ইসলাম নির্মূল করার বর্তমান ভয়ঙ্কর অপতৎপরতার মুখেও প্রিয়তম নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেসব আশেক অকাতরে অশ্রু ও রক্তের নজরানা পেশ করে যাচ্ছেন উনাদের এই ত্যাগ ও প্রেমের পরীক্ষার খবর প্রিয়তম নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে পেশ করা হচ্ছে।”
তাহার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রথম যাহা বলার বিষয়, তাহা হইল অবশেষে কাশফ-কারামত এবং সাধক (ওলীআল্লাহ) এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে তাহার স্বীকারোক্তি।
বলাবাহুল্য এই তিনটি বাতিনী ইলমের বিষয় অথচ এই সেদিনও (আগস্ট-২০০০ সংখ্যায় তাহার পত্রিকায়) বাতিনী ইলম সম্পর্কে বিষোদগার করা হইয়াছে।
অথচ এই বিষয়টি যে কুরআন শরীফ সুন্নাহ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত তাহা ইতিপূর্বে বলা হইয়াছে। হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হইয়াছে। “তোমরা ঈমানদারদের “ফেরাসাত’কে ভয় কর। কারণ তাহা মহান আল্লাহ পাক উনার নূর দ্বারা দর্শন করেন।”
উল্লেখ্য এক্ষণে কাশফ ধারণের পূর্বশর্ত ক্বলবের নূর প্রসঙ্গে আলোচনা আবশ্যক। তাযকেরাতুল আউলিয়ায় বর্ণিত রহিয়াছে, “এক ওলীআল্লাহ চল্লিশদিন যাবত কাশফ কারামতসহ উনার বাতেনী নিয়ামত অনুভব করিতে পারছিলেননা। ইহাতে তাহার অনেক আহাজারী রোনাজারির পর তাহাকে জানানো হইল যে, গত চল্লিশদিন পূর্বে তিনি এক ফল বিক্রেতার কাছ হইতে কিছু ক্ষুদ্রাকৃতির ফল কিনিয়াছিলেন, তাহাতে মাটিতে পতিত ২/১টি ফল তাহার মনে করিয়া (আসলে ঐগুলো মালিকের ছিল) উঠাইয়া লওয়াতে তাহার চল্লিশদিন যাবত কোন বাতেনী নিয়ামত অনুভব হইতেছেনা।” ইহার চাইতেও কঠিন বর্ণনা রহিয়াছে, ইমামে রব্বানী, মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি উনার জীবনীতে। “একবার তিনি ইস্তিঞ্জাখানায় (বাথরুমে) যাওয়ার সময়, বাম পা আগে দেয়ার পরিবর্তে ডান পা প্রবেশ করাইয়া দিয়াছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন তাহাতেই উনার বাতেনী নিয়ামতরাজি অনুভব হইতেছিলনা।” (মকতুবাত শরীফ)
মূলতঃ কাশফ কারামত ধারণের ব্যাপারে আমলের ব্যাপারটি এতখানিই সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর অর্থাৎ কিনা যাহারা হক্কানী পীর সাহেবের কাছে বাইয়াত হইয়াছে, যিকির-আযকার করিয়া ক্বলবসহ দশ লতিফায় যিকির জারী করিয়াছে, উনাদের শরীর মুবারক উনার মধ্যে সর্বাংশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহ আল্লাহ যিকির চলিতেছে, এইরূপ অবস্থায় পৌছিবার পরও দু-একটি ক্ষুদ্রাকৃতি ভুলের জন্য কাশফ কারামত তথা বাতেনী নিয়ামত অনুভবে এত ভোগান্তি পৌঁহাইতে হয়। সেইখানে, যাহারা কোন হক্ব পীর সাহেবের হাতে বাইয়াত হয় নাই, যাহাদের শরীরের সর্বাংশে, মাথার তালু হইতে পায়ের নীচে প্রতিটি পশম, প্রতিটি রক্ত বিন্দু, অস্থি-মজ্জায় যিকির জারী নাই, যাহাদের ক্বলবে যিকির জারী নাই, যাহারা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুন্নত পালন তো নয়ই, মাকরূহে তানজীহী হইতে হিফাযত তো দূরের কথা বরং যাহারা স্পষ্টতঃ একের পর এক হারাম কাজে, বিদয়াত-বিশরা কাজে লিপ্ত হইয়া আছে তাহাদের কি করিয়া কাশফ থাকিতে পারে?
বলাবাহুল্য এই কারণে এই সমস্ত ধর্মব্যবসায়ী, ইসলামের নামে জামায়াত, তথাকথিত ইসলামী ঐক্যজোট, শাসনতন্ত্র আন্দোলন, তথাকথিত ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ইহাদের কাহারো প্রক্রিয়ায় কাশফ তায়াজ্জুহর কথা উল্লেখ নাই। কারণ, যাহারা ইসলামের নামে হারাম নির্বাচন ভিত্তিক রাজনীতি করে, যাহারা, মাসলম্যান, মিডিয়া (কু) আর ব্লাকমানি সম্পৃক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, যাহারা বোরকার অন্তরালে স্বামীর নাম, বাবার পরিচয় পাল্টাইয়া ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যাহারা নারী, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বলিয়া, লিখিয়া তাহাকে মুরতাদ ঘোষণা দিয়া আবার তাহাদের সেই কথিত মুরতাদ তথা মহিলা নেতৃত্বের আচলেই জোট বাঁধে, চিত্রে বেগানা সেই আওরতের বুকের মাঝে শোভা পায় পাগড়ী দাড়ীধারী যেই শাইখুল হদস গং এর নেহায়েত লজ্জাকর ছবি সেই সমস্ত দাজ্জালে কাজ্জাব, তথা ভারপ্রাপ্ত ঐক্যজোট নেতা মাহিউদ্দীনের মাঝে কাশফ থাকিতে পারে কি করিয়া? কাজেই এই শ্রেণীর লোকেরা যদি কাশফের দাবী করিয়া থাকে তবে তাহা হইবে হিন্দুযোগী সন্নাসী, খ্রিস্টান সাধু তথা যাদুকরদের ন্যায়।
এই প্রসঙ্গে, হযরত মাওলানা বেশরাতুল্লাহ সাহেব তাহার হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী কিতাবে বলিয়াছেন, “কারণ শয়তানী আলোর দ্বারা যে কাশফ হয় তাহার দ্বারা অদৃশ্য বস্তু দৃশ্যমান হইতে পারে বটে, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার আসমা, সেফাত ও তাজাল্লিয়াতের কোন অনুভূতি লাভ হয় না। রহমানী নূর লাভ হয় কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণের দ্বারা, শয়তানী নূর লাভ হয় শয়তানী সাধনার দ্বারা, ইহার জন্য ঈমান ও কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণের আদৌ দরকার হয় না। সেই জন্য কাফির-মুশরিকদেরও শয়তানী কাশফ লাভ হইয়া থাকে। সেইখানে তারা শয়তানী কাজকে জায়েয ছূরতে দেখতে পায়। অতএব, রাহমানী ‘কাশফ’ চিনিতে হইলে দেখিতে হইবে যে সাহেবে ‘কাশফ’ কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের পূর্ণ অনুসারী আছেন কিনা। যদি থাকেন তবে জানিতে হইবে যে উনাদের ‘কাশফ’ রাহমানী, নচেৎ ইহা শয়তানী, ইহা হইতে পরহেজ করিতে হইবে।
অতএব পাঠক উপরোক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলিতে হয় মাসিক মদীনা সম্পাদক যদি দাবি করে যে কাশফধারীরা তাহাদের বর্তমান হারাম, আমলসমূহকে কবুলরূপে দেখিতে পাইতেছে তবে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, উহা উতোপূর্বে ব্যক্ত শয়তানী ওসওয়াসা যুক্তধারী ব্যক্তির কাশফ। কিন্তু আসলে প্রকৃত সত্য এই যে ঐক্যজোট নেতা মাহিউদ্দীনের গান্ধী অনুসৃত হরতাল, নারী নেতৃত্বের আঁচলের জোট আর ইহুদী-নাছারার নির্বাচন ইত্যাদি হারাম কর্মসূচীকে জিহাদ মনে করিয়া তাহাতে শামিল হইয়া যখন অবুঝ কর্মীরা শুধু শুধু হতাহত, লাঞ্ছনা আর যাতনার স্বাদই কেবল পাইয়াছে, কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ আর ইতিহাসে বর্ণিত জিহাদের রহমতের খোদায়ী মদদের ছিটাফোটা নিদর্শন আর সান্তনাও তাহারা পাই নাই বরং দ্বীন দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই তাহারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইয়া এখন মাহিউদ্দীনের মিথ্যা জিহাদের হাক্বীক্বত কিছু কিছু বুঝিতে পারিয়া ক্রমশঃই বিগড়াইয়া যাইবার উপক্রম করিতেছে তখন মাহিউদ্দীন তাহার ইসলামের নামে হারাম রাজনীতির মসনদটিকে আপ্রাণ টিকাইয়া রাখিবার শেষ কৌশল হিসাবে, হত বিহুবল কর্মীদেরকে কাশফের বরাতে “উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তোষ পাইতেছে” ইত্যাকার কথা বলিযা ছেলে ভোলানো কায়দায় তাহাদের শান্ত করিয়া রাখিতে চাহিতেছে। আর ইহাই হইতেছে তাহার স্বভাব বিরুদ্ধভাবে কাশফ কারামত, রুহাইনিয়াতের ধারাবাহিকতাকে স্বীকার করার আসল হাক্বীক্বত জাহির করিয়া দিয়াছে।
“উহানা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তোষ পাইতেছে” ইত্যাকার কথা বলিয়া ছেলে ভোলানো কায়দায় তাহাদের শান্ত করিয়া রাখিতে চাহিতেছে। আর ইহাই হইতেছে তাহার স্বভাব বিরুদ্ধেভাবে কাশফ কারামত, রুহানিয়াতের ধারাবাহিকতাকে স্বীকার কারার আসল হাক্বীক্বত। তবে এই হাক্বীক্বত মূলতঃ তাহার সমূদয় হাক্বীক্বতকেই জাহির করিয়া দিয়াছে।
কারণ মাসিক মদীন সম্পাদক সুলুক সমাপ্তকারী ও তাহার ক্বলবে যিকির জারী হইয়াছে, বিশেষতঃ যে তরীক্বার ছবক করিয়াছে, তাহার ক্বলবে যিকির জারী হইয়াছে, তাহার মাথার তালু হইতে পায়ের তালু পর্যন্ত আল্লাহ আল্লাহ যিকির তথা সুলতানুল আযকার যিকির জারী হইয়াছে, তাহার ক্বলবে নূর বিকশিত হইয়া তাহার কাশফ খুলিয়া গিয়াছে, সে কাশফে মহান আল্লাহ উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিতে পায়, উহানার নিকট হইতে তাহার করণীয় এবং কৃত কাজের মাপকাঠি সম্পর্কে জানিতে পায় এইকথা বলিবার সাহস সে নিজেও পায় না।
অথচ হযরত আলী খাওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “কোন ফকীর (অর্থাৎ ওলীআল্লাহ) রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (শুধুমাত্র বাহ্যিক) অনুসরণেই কামেল হইতে পারেনা না যে পর্যন্ত না উনার কৃত প্রতিটি কাজে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট দৃশ্যমান না হন- এমন কি উনার খাওয়া, পরা, বাহিরে যাওয়া, ভিতরে প্রবেশ করা ইত্যাদি যাবতীয় ব্যাপারে যেন তিনি উনার ভিতরে প্রবেশ করা ইত্যাদি যাবতীয় ব্যাপারে যেন তিনি উহার অনুমোদন গ্রহণ করিতে সক্ষম হন।”
(তাবাকাত ২য় খণ্ড ১৩৭ পৃষ্ঠা)। এইজন্য আবুল আব্বাস মারাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আজ চল্লিশ বৎসরব্যাপী আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (দর্শন) হইতে বঞ্চিত হই নাই। যদি এক নিমেশও উনার দর্শন হইতে বঞ্চিত হইতাম তাহা হইলে আমি নিজেকে মুসলমান বলিয়া পরিগণিত করিতামনা।” (তাবাকাত ২য় খণ্ড ১৩ পৃষ্ঠা)
ইহার পাশাপাশি যে জিনিসটি স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হইয়াছে তাহা হইল যে, মাহিউদ্দীনের কলমেও অবশেষে স্বীকৃত হইল যে দ্বীনের কাজ করিতে হইলে, খিলাফতের কাজ করিতে হইলে কাশফের সবিশেষ প্রয়োজন রহিয়াছে। আর এই যোগ্যতা যাহার যতবেশি তিনি ততবেশি অনুসরণীয়। পক্ষান্তরে এই যোগ্যতা হইতে যে যতদূরে রহিয়াছে সে তত বর্জনীয়। এইখানে এই মাপকাঠির আলোকে মাহিউদ্দীন যে এক চরম বর্জনীয় জীব তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখেনা। সে যে এই ব্যাপারে নিজেই কত অজ্ঞ তাহা সে বুঝিয়া উঠিতে পারেনা।
মূলতঃ কাশফ, কাশফধারী ব্যক্তি আর তদসাপেক্ষে মাহিউদ্দীন নিজেই যে কত অযোগ্য ও অজ্ঞ তাহা সে জ্ঞাত নহে। আর তাহার এই অজ্ঞতা সম্পর্কেই বলা হইয়াছে- “মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনার যে সমস্ত নাফরমানী করিয়া থাকে তন্মধ্যে সর্ববৃহৎ হইতেছে অজ্ঞতার অজ্ঞতা।” (দলীল)
-মুহম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “একজন ফক্বীহ এক হাজার আবেদ অপেক্ষা শয়তানের নিকট অধিক আতঙ্কদায়ক।” এই হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় শাজলী তারিকার পীর হযরত আবুল হাসান শাজলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা আরিফে কামিল শায়খ আবুল আব্বাস মারাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “ফক্বীহ তিনি, যাঁহার ক্বলবের চক্ষু হইতে পর্দা উঠিয়া গিয়াছে।” (দেখুন তাবাকাত ২য় খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা) (অর্থাৎ যিনি অন্তরের দ্বার দিয়া রূহানী জগতের অনুভূতি লাভ করিতে সক্ষম তিনিই ফক্বীহ)। এ প্রসঙ্গে আরিফে কামেল শায়খ আব্দুল ওহাব শারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “আমার পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যাহার জ্ঞান পুস্তকলব্ধ সে প্রকৃত আলিম নহে। বরং ইহাই বলা হইবে যে সে আলিমের মুসাহেব। কারণ জ্ঞানের অর্থ অক্ষরের সহিত অবস্থিত এবং অক্ষর কিতাবের মধ্যে অবস্থিত।” তিনি আরও বলেন, “যে জ্ঞানের মধ্যে সন্দেহ থাকে ইহা জ্ঞান নহে। প্রকৃত জ্ঞান তাহাকেই বলা হয় যাহা অনুভূতির দ্বারা লাভ হইয়া থাকে।”
শায়খে আকবর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তাফসীরের ১ম জিঃ ১৩৬ পৃষ্ঠায় বলিয়াছেন, “দ্বীনের ফিক্বাহ হইতেছে ক্বালব নিঃসৃত জ্ঞান, বাহ্যিক উপার্জিত জ্ঞান নহে। কারণ যাহারা বাহ্যিক জ্ঞান উপার্জন করে তাহাদের মধ্যে প্রত্যেকই ফিক্বাহ লাভ করেনা। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলেন, “তাহাদের ক্বলবের উপর পর্দা পরিয়া রহিয়াছে” তাই তাহারা ফিক্বাহ লাভ করিতে অক্ষম, এই পর্দা হইতেছে ‘তাবিয়াত’ এবং ‘নফসের’ পর্দা। যে ফিক্বাহ লাভ করিতে চায় তাহার উচিৎ যে সে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে বাহির হইয়া নিজের নফসকে যাবতীয় রিপু হইতে পবিত্র করুক যে পর্যন্ত না ক্বলব হইতে জ্ঞান বাহির তাহার জিহ্বা পর্যন্ত আসিয়া পৌঁছে।” অতএব ফিক্বাহ লাভের জন্য যথেষ্ট সাধনা ও রিয়াজত মেহনত আবশ্যক। শুধু কতকগুলো কিতাব মুখস্থ করা নহে যদ্বারা সত্যিকার ফিক্বাহ লাভ হয় না বরং তদপরিবর্তে অহঙ্কার, রীয়া, ত্বমা ইত্যাদি রিপু সমূহেরই পূর্ণ বিকাশ হইতে দেখা যায়। এমতাবস্থায় যে সমস্ত আউলিয়ায়ে কিরাম যাঁহাদের হৃদয়ের দ্বার এইরূপভাবে রূহানী জগতের দিকে উদঘাটিত উনারা কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ উনাদের প্রতিকুল কোন কাজ করেন না এবং কোন কথাও বলেন না। কারণ কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ উনাদের সঠিক অনুসরণ দ্বারাই যে উনারা সিদ্ধি লাভ করিয়াছেন’ বরং উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সঠিক বুঝিয়াছেন এবং সঠিকভাবে অনুসরণ করিয়াছেন। উনাদের সমঝ হয় তজল্লি এবং কাশফের দ্বারা, অপরপক্ষে অন্যান্য জাহিরী আলিমদের সমঝ হয় চিন্তা এবং ফিকিরের দ্বারা। যেমন আরি খাওয়াছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বুঝিবার জন্য আলিমদের নিকট চিন্তা এবং ফিকির ছাড়া অন্য কোন উপকরণ নাই। কিন্তু আরিফগণ উনাদের বুঝিবার উপায় হইতেছে কাশফ এবং তারিফে ইলাহি চেষ্টা করিয়া বুঝিবার কোন আবশ্যক হয় না।
পাঠক! এবর্ণনা সাপেক্ষে এ কথাই সাব্যস্ত হয় ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য ফতওযা যদি পাইতে হয় তবে তা দ্বীনের ফক্বীহ তথা হক্বানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ উনাদের তরফ হইতেই পাওয়া যাইবে। আর যাহারা ইলমে তাছাউফ শুন্য, কাশফ বিবর্জিত তথা নফসের দাস তাহাদের উত্তর মনগড়া, ভ্রান্তিপূর্ণ তথা এলামেলো হওয়াই স্বাভাবিক। আর এ বিষয়টিই হালে দিবালেকের ন্যায় স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হইতেছে তথাকথিত মাসিক মদীনা পত্রিকার অসংখ্য ভুল উত্তরের প্রেক্ষিতে আল বাইয়্যিনাত এর শুদ্ধ জবাবের মাধ্যমে।
মূলতঃ আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ইমামুল আইয়াম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামানা, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা বেমেছাল রূহানী ক্ষমতা সম্পন্ন এবং বেমেছালভাবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বাতিনীভাবে সর্ববিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে তায়াল্লুক প্রাপ্ত বলেই উনার প্রদত্ত ফতওয়া, সুওয়ালের-জাওয়াব, অকাট্য, নির্ভরযোগ্য এবং সর্বাধিক দলীল সমৃদ্ধ হইয়া থাকে। নিম্নে তুলনামূলক ছকটি দ্বারা বিষয়টি আরো পরিস্কার হইবে-