(৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক)
পূর্ব প্রকাশিতের পর
পবিত্র ক্বুরআন শরীফ উনার মধ্যে হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বর্ণিত فَرْجَهَا শব্দ মুবারক উনার দ্বারা মহিলাদের ক¦মীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া প্রমাণিত।
উল্লেখ্য যে, পবিত্র ক্বুরআন শরীফে হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বর্ণিত فَرْجَهَا শব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে মুফাস্সিরে কিরামগণ উনারা অনেক অর্থগ্রহণ করে তাফসীর করেছেন। আর আমরা এখানে শুধু মাত্র একটি বিষয়ের তাফসীর আলোচনা করবো। তা হলো মহিলাদের ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ যে বুকের উপর হওয়া সুন্নত সে সম্পর্কে প্রমাণমূলক আলোচনা করেছি। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَرْيَمَ ابْـنَتَ عِمْرَانَ الَّتِيْ أَحْصَنَتْ فَـرْجَهَا فَـنَـفَخْنَا فِيْهِ مِنْ رُّوْحِنَا
অর্থ: হযরত মারইয়াম বিনতে হযরত ইমরান আলাইহিমাস সালাম তিনি উনার পূত-পবিত্রতার উপর সর্বদা ইস্তিক্বামাত ছিলেন। অত:পর উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার ফাঁড়া অংশে আমি (হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে) ফঁুক মুবারক দিলাম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাহরীম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-১২)
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّتِيْ أَحْصَنَتْ فَـرْجَهَا فَـنَـفَخْنَا فِيْـهَا مِن رُّوْحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْـنَـهَا اٰيَةً لِّلْعَالَمِينَ
অর্থ: হযরত মারইয়াম বিনতে হযরত ইমরান আলাইহিমাস সালাম যিনি উনার পূত-পবিত্রার উপর সর্বদা ইস্তিক্বামাত ছিলেন। অত:পর উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার ফাঁড়া অংশে আমি (হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে) ফুঁক মুবারক দিলাম। আমি উনাকে এবং উনার সম্মানিত আওলাদ উনাকে সারা বিশ^বাসীর জন্য নিদর্শন মুবারক উনার অন্তর্ভূক্ত করে দিলাম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৯১)
পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয়ে উল্লেখিত فَرْجَهَا শব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে তাফসীর গ্রন্থ সমূহে হযরত মারইয়াম বিনতে হযরত ইমরান আলাইহিমাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার বুকের ফাঁড়া অংশকে অর্থ নেয়া হয়েছে- সে সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
তাফসীরুল কুরআন (মুকাদ্দাম)- ২৪ খণ্ড, ১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
فَـنَـفَخَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيْ جَيْبِ دِرْعِهَا. وَجَيْبِ دِرِعِهَا هُوَ فُـتْحَةُ الصَّدْرِ
অর্থ: অত:পর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার জেবে ফঁুক মুবারক দিলেন। আর সেই জেব হলো বুকের ফাঁড়া অংশ।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত فَـرْجَهَا শব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে বলেন-
كُلُّ مَا فِي الدِّرْعِ مِنْ خَرْقٍ وَنَحْوِهٖ فَإِنَّهٗ يَـقَعُ عَلَيْهِ اسْمُ الْفَرْجِ
অর্থ: মহিলাদের সুন্নতী ক্বমীছ উনার প্রত্যেকটি ফাঁড়া অংশ এবং ফাঁড়ার অনুরূপ অংশকে فَرْج বলা হয়। (আত-তাফসীরুল কাবীর লির-রাযী ৩০ খণ্ড, ৫৭৫)
আত-তাফসীরুল বাসীত্ব ১৫তম খণ্ড, ৫২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
مَعْنَى الْفَرْجِ فِي اللُّغَةِ: اَلْفَرْجَةُ بَـيْنَ الشَّيْـئَـيْنِ
অর্থ: الفرج (আল-ফারজু) এর শাব্দিক অর্থ হলো- দু’ জিনিসের মধ্যবর্তী ফাঁড়া জায়গা।
তাফসীরু ইবনে আ’ত্বিয়্যাহ- ৫ম খণ্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
وَاخْتَـلَفَ النَّاسُ فِي الْفَرْجِ الَّذِيْ أَحْصَنَتْ حَضْرَتْ مَرْيَمَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ فَـقَالَ الْجُمْهُوْرُ: هُوَ فَـرْجُ الدِّرْعِ الَّذِيْ كَانَ عَلَيْـهَا
অর্থ: মানুষ الفرج (আল-ফারজু) শব্দ মুবারক নিয়ে ইখতিলাফ করেছে। অধিকাংশ মুহাক্কিক্বীনগণ উনাদের মতে- الفرج (আল-ফারজু) শব্দ মুবারক উনার অর্থ হলো- হযরত মারইয়াম বিনতে ইমরান আলাইহাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার সম্মুখের ফাঁড়া অংশ।
তাফসীরুল মাওয়ারদী- ৬খণ্ড, ৪৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
اَلَّتِيْ أحْصَنَتْ فَـرْجَهَا-قَالَ الْـمُفَسِّرُوْنَ: إِنَّهٗ أَرَادَ بِالْفَرْجِ الْجَيْبِ
অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত فَرْجَهَا (ফারজাহা) শব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে মুহাক্কিক্বীন মুফাস্সিরে কিরামগণ উনারা বলেছেন এর অর্থ হলো- হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার সম্মুখের ফাঁড়া অংশ।
তাফসীরুছ ছায়া’লিবিয়্যু – আল-জাওয়াহিরুল হিসান ফী-তাফসীরিল কুরআন- ৫ম খণ্ড, ৪৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
وَقَـوْلُهُ: الَّتِي أَحْصَنَتْ فَـرْجَهَا اَلْجُمْهُوْرُ أِنَّهٗ فَـرْجُ الدِّرْعِ
অর্থ: অধিকাংশ মুফাস্সিরীনে কিরামগণ বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَها পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত فَرْجَها এর অর্থ হলো হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার সম্মুখের ফাঁড়া অংশ।
তাফসীরুন নাসাফী- মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা‘উইল- ৩য় খণ্ড, ৫০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
{فَـنَـفَخْنَا} فَـنَـفَخَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِأَمْرِنَا {فِيهِ} فِي الْفَرْجِ
অর্থ: আমি ফুঁক মুবারক দিলাম অর্থাৎ উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার ফাঁড়া অংশে আমি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধমে ফঁুক দিলাম।
তাফসীরুল কুরতুবী- ১৮তম খণ্ড, ২০৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
وَمَعْنَى فَـنَـفَخْنَا أَرْسَلْنَا جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـنَـفَخَ فِي جَيْبِهَا
অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত فَـنَـفَخْنَا অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে প্রেরণ করলাম। অত:পর তিনি হযরত মারইয়াম বিনতে হযরত ইমরান আলাইহিমাস সালাম উনার সুন্নতী ক্বমীছ উনার ফাঁড়া অংশে ফঁুক দিলেন।
ব্যাপক ইখতিলাফপূর্ণ জেব শব্দ মুবারক বিষয়ে সুওয়াল-জাওয়াবে সংক্ষিপ্ত সমাধান
কেউ কেউ, ক্বমীছের উপরের খোলা অংশকে জেব বলেছেন কিন্তু নীচের ফাঁড়া অংশকে জেব বলে স্বীকার করেননি। বরং শুধু বক্ষ অর্থ গ্রহণ করেছেন।
জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফে ও পবিত্র হাদীছ শরীফে জেব/জুয়ূব শব্দ মুবারক উনার অর্থ গলা ও বক্ষ দুটি অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। তাই, জেব/জুয়ূব শব্দ মুবারক উনার অর্থ গলা ও বক্ষ দুটি অর্থ গ্রহণ করার সাথে সাথে ক্বমীছের গলা ও গলা সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটিও সমানভাবেই উদ্দেশ্য। কেননা, যেহেতু গলা দ্বারা যেমন ক্বমীছের গলাবন্ধনী উদ্দেশ্য করা হয়। একইভাবে বক্ষের দ্বারা ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বক্ষের উপর হওয়াও উদ্দেশ্য করা হয়। কাজেই, গলা খোলা থাকার কারণে যেহেতু উড়না দ্বারা ঢেকে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদ্রুপ বক্ষ খোলা থাকার সাথে সাথে ক্বমীছে বক্ষের ফাঁড়া অংশ খোলা থাকার কারণেই উড়না দ্বারা বক্ষকে ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কেউ কেউ, ক্বমীছের নীচের ফাঁড়া অংশকে জেব বলেছেন।
জাওয়াব: যে বা যারা জেব বলতে শুধু বক্ষের ফাঁড়া অংশকে উদ্দেশ্য করেছেন উনারাও অর্ধেক অর্থ গ্রহণ করে বাকী অর্ধেক অর্থকে অস্বীকার করেছেন। ফলে, জেব শব্দের সঠিক অর্থ গ্রহণ করতে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
কেউ কেউ বলেছেন, যে অঞ্চলের মহিলারা সামনের দিকে ফাঁড়া অংশ রাখবে, সে অঞ্চলের পুরুষগণ কাঁধের উপর রাখবে। যে অঞ্চলের পুরুষগণ সামনের দিকে ফাঁড়া অংশ রাখবে, সে অঞ্চলের মহিলারা কাঁধের উপর রাখবে। কেননা, তাশাব্বুহু করা অর্থাৎ পুরুষের ক্বমীছের সাথে মহিলার ক্বমীছের ফাঁড়া অংশ সাদৃশ্য করা হারাম।
জাওয়াব: মূলত: যে বা যারা পুরুষ মহিলার ক্বমীছের তাশাব্বুহের কথা বলে ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি অঞ্চলভেদে বিপরীত হবে বলেছেন, এটা উনার ফাতওয়া বা সিদ্ধান্ত মূলক কথা নয়। বরং এটা উনার সংশয় মূলক কথা, যাতে তিনি উক্ত বিষয়ে তারাদ্দুদ বা নিজেরা সন্দিহান বলে জানিয়েছেন। যেমন উনারা বলেছেন।
أَنَّا نَحْنُ أَيْضًا فِي التَّـرَدُّدِ فِي هٰذَا الْبَابِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা উক্ত ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশের বিষয়ে সন্দিহান বা সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে রয়েছি।
তাই সন্দিহানমূলক কথা কখনো ফাতওয়া হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না। বরং সিদ্ধান্ত মূলক কথাই ফাতওয়া হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়।
কেউ কেউ বলেছেন, পুরুষ ও মহিলাদের ক্বমীছের মধ্যে পার্থক্য হলো-
وَفَـرَّقَ بَـيْـنَـهُمَا أَنَّ شَقَّهٗ إِلَى الصَّدْرِ وَالْقَمِيْصِ إِلَى الْـمَنْكَبِ، وَقاَلُوا بِالتَّـرَادُفِ
অর্থ: মহিলাদের ক্বমীছ الدّرع (আদ-দিরয়া’) এবং পুরুষের القميص (আল-ক্বমীছ) দু’টির মধ্যে পার্থক্য হলো: যে জামায় গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বুকের উপর থাকে, তাকে দিরয়া’ বলা হয়। যে জামায় গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি কাঁধের উপর থাকে, তাকে ক্বমীছ বলা হয়। একথা উনার সবাই সমার্থবোধক বলেছেন।
জাওয়াব: যারা উক্ত মন্তব্য করেছেন। উনাদের উক্ত মন্তব্যের পক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ অথবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে সুস্পষ্ট কোন দলীল দিতে পারেননি।
সুতরাং পুরুষ-মহিলার ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বুকের উপর হওয়াই পবিত্র সুন্নত। যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত।
কেউ কেউ বলেছেন, পুরুষের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ কাঁধের উপর হওয়া আবশ্যক। কেননা, ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া মহিলাদের বৈশিষ্ট্য।
আবার কেউ কেউ এমন মন্তব্যও করেছেন যে, পুরুষের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া ইহুদীদের রীতি। নাঊযুবিল্লাহ!
জাওয়াব: পুরুষ মহিলার ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বুকের উপর হওয়াই পবিত্র সুন্নত। যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অকাট্য দলীলে প্রমাণিত।
সুতরাং “পুরুষের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ কাঁধের উপর হওয়া আবশ্যক। কেননা, এটা মহিলাদের বৈশিষ্ট্য” এমন কথা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কোথাও উল্লেখ নেই।
আর যারা গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বুকের উপর হওয়াকে ইহুদীদের শিয়া’র বা ধর্মীয় রীতি বলে উল্লেখ করেছেন। দলীল বিহীনভাবে উনাদের এ ধরণের নিছক মন্তব্য করাটা মোটেও ঠিক হয়নি।
কেউ কেউ জেব শব্দ মুবারক নিয়ে ইখতিলাফের সমাধানে লিখেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জেব মুবারক নূরুল ই’লম মুবারক (বক্ষ মুবারক) উনার উপরে ছিলো। কিন্তু মহিলাদের ক্বমীছের জেব বিষয়ে কিছুই বলেন নি।
জাওয়াব: যেহেতু পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, গলা ও বক্ষ উভয়টিকেই জেব বলে। তাহলে, শুধু জেব শব্দ দ্বারা, বক্ষের উপরের ফাঁড়া অংশকে জেব বলা হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার গলাবন্ধনী নামক জেব মুবারক উনাকে অস্বীকার করা হয়। সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার গলাবন্ধনী মুবারকও জেব মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যা অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যার কারণে, শুধু জেব শব্দ ব্যবহারের সাথে গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশের জেব কথাটি উল্লেখ করা হলে, গলাবন্ধনী নামক জেবকে আর অস্বীকার করা হয় না।
কেউ কেউ জেব দ্বারা জামার বুকের পকেট বা পাশের পকেট মনে করেছেন।
জাওয়াব: শাব্দিক অর্থে প্রত্যেক জিনিসের ফাঁড়া অংশকে জেব বলা হয়। কিন্ত সুন্নতী ক্বমীছের জেব বলতে গলা ও বক্ষের ফাঁড়া অংশকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং ক্বমীছের জেব দ্বারা জামার পাশের পকেট বা বুকের উপরের পকেট উদ্দেশ্য নয়। যদিও বুকের ও পাশের পকেটকেও জেব বলা হয়।
(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)
ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া
কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে ইমামাহ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া।