“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে প্রকাশিত
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ১৬খানা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ৩০খানা
১) ক. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ:
সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ দেখে বাড়িতে গিয়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যাওজাতুম মুকাররমাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত বার্রাহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট সমস্ত ঘটনা মুবারক বর্ণনা করেন এবং বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত (মেয়ে) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিতে পারলে খুবই উত্তম হতো। অতঃপর তিনি উনার কিছু মুহব্বতের লোক উনাদের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার এই প্রস্তাব মুবারক পাঠান। সুবহানাল্লাহ!
وَهُوَ اَرَادَ اَيْضًا تَـزْوِيْجَ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَكَانَ يَـتَـفَحَّصُ امْرَاَةً تَكُوْنُ بِشَرْفِ النَّسَبِ وَالْـحَسَبِ وَالْعِفَّةِ مُـمْتَازَةً فِـى الدَّرَجَةِ الْقُصْوٰى فَـوَجَدَ سَيِّـدَتَـنَـا حَضْرَتْ اٰمِنَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اِبْـنَتَ حَضْرَتْ وَهْبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ مُتَّصِفَةً بِـهٰذِهِ الْاَوْصَافِ فَـزَوَّجَ سَيِّـدَنَـا حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اِيَّاهَا
অর্থ: “আর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করানোর জন্য এমন একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মেয়ে অনুসন্ধান করছিলেন, যিনি হবেন সর্বোচ্চ বংশীয়া এবং সম্মান-ইয্যত, পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই সকল গুণে গুণান্বিতা পেলেন। সুবহানাল্লাহ! তাই, তিনি (উক্ত প্রস্তাব মুবারক-এ রাজি হয়ে) সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ্ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ্)
‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,
قَالَ حَسَنُ بْنُ اَحْـمَدَ الْـبَكْرِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لَـمَّا اَرَادَ الْـجَلِـيْلُ جَلَّ جَلَالُهٗ اَنْ يَّـنْـقُلَ نُـوْرَ سَيِّـدِنَـا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَرَّكَ فِـىْ قَـلْبِ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْـمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَنْ يَّـتَـزَوَّجَ فَـقَالَ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِاُمّـِهٖ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اُرِيْدُ مِنْكِ اَنْ تَـخْطُبِـىْ لِـىْ اِمْرَاَةً ذَاتَ حُسْنٍ وَجَـمَالٍ وَقَدٍّ وَاعْتِدَالٍ وَبَـهَاءٍ وَكَمَالٍ وَحَسَبٍ وَنَسَبٍ عَالٍ قَالَتْ حُبًّا وَكَـرَامَةً يَا وَلَدِىْ ثُـمَّ اِنَّـهَا دَارَتْ اَحْيَاءَ قُـرَيْشٍ وَّبَـنَاتِ الْعَرَبِ فَـلَمْ يُـعْجِبْـهَا اِلَّا سَيِّـدَتُـنَـا حَضْرَتْ اٰمِنَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ بِـنْتُ وَهْبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـقَالَ يَا اُمَّاهْ اُنْظُرِيْـهَا مَرَّةً ثَانِـيَةً فَمَضَتْ وَنَظَرَتْـهَا فَاِذَا هِىَ تُضِىْءُ كَاَنَّـهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ فَاَنْـقَدُوْهَا
অর্থ: “হযরত হাসান ইবনে আহমাদ বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ স্থানান্তরিত করার ইচ্ছা মুবারক করলেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অন্তর মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার আগ্রহ মুবারক সৃষ্টি করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আমি আশা করি, আপনি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মেয়ে উনার কাছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে মহাসম্মানিত প্রস্তাব মুবারক দিবেন, যিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বোত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, অতি উত্তম জিসিম মুবারক উনার অধিকারিণী, সুদর্শনা, ন্যায়পরায়ণা, উজ্জ্বল দীপ্তিময়ী, সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণতার অধিকারিণী, বেমেছাল মান-সম্মান-ইয্যত মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠা ও সুউচ্চ বংশীয়া। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহাস সালাম তিনি উত্তরে বললেন, হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্নেহের আওলাদ (পুত্র) আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য সম্মানিত মুহব্বত মুবারক ও সম্মান-ইয্যত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার ও আরবের সকল গোত্রের সমস্ত কুমারী মেয়ে উনাদের ব্যাপারে অত্যন্ত নিখঁুতভাবে সংবাদ নিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারিণী পেলেন না। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আপনি দ্বিতীয়বারের মতো আবারো উনাকে দেখুন। তারপর তিনি পুনরায় দেখতে গেলেন এবং উনার দিকে তাকালেন। তখন তিনি উনাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেন মুক্তা সাদৃশ্য তারকার ন্যায় নূর মুবারক বিচ্ছুরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উভয়ের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
বেমেছাল বরকতময়
অনুষ্ঠান মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ পরিপূর্ণরূপে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী কায়দায় হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! নির্দিষ্ট সময়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ নিয়ে আসা হলো। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ২৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন অর্থাৎ পূর্ণ ২৫ বছর এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ১৮ বছর ৩ মাস ২৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!
অনেক দিন পূর্ব থেকেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তুতি মুবারক চলছিলো। দিন যতই নিকটবর্তী হতে থাকলো, প্রস্তুতি মুবারক ততই ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছিলো। ইয়াওমুল খমীস (বৃহস্পতিবার) সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার আয়োজনের ধূম পড়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় সাইয়্যিদযাদাহ্ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ। তাই, সকলের মাঝে আনন্দের আমেজ বইছে। জিন-ইনসান, হূর-মালায়িক সকলে খুশি প্রকাশ করছেন। আরশে আ’লা হতে তাহ্তাছ ছারা পর্যন্ত খুশির আমেজ বইছে। শুভ মুহূর্ত নিকট থেকে নিকটবর্তী হচ্ছেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার পাশেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ। সেখানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক অনুষ্ঠিত হবেন। তাই, অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে সাজানো হয়েছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক। সকলেই মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক-এ উপস্থিত হতে লাগলেন। পূর্ণ প্রস্তুতি মুবারক সম্পন্ন হলো। সম্মানিত ও পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ উনার সূর্য অস্তমিত হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার চাঁদ উঁকি দিলো। বা’দ মাগরিব এবং সম্মানিত ইশা উনার ওয়াক্ত শুরু। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠানে সকলে উপস্থিত হলেন। এমনি শুভক্ষণে সকলের মধ্যমণি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক উনার মধ্যে উপস্থিত হয়ে সকলকে ধন্য করলেন। সুবহানাল্লাহ!
তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ললাট মুবারক এবং সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক থেকে মুক্তা দানার ন্যায় অবিরত ধারায় মহাসম্মানিত নূর মুবারক বিচ্ছুরিত হচ্ছিলেন। যেন মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক উনার মধ্যে নিশির পূর্ণ চাঁদ উদিত হয়ে সকলকে আলোকিত করছেন অথবা দিবালোকের সূর্য সকলের উদ্দেশ্যে আলো বিতরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! সকলের দৃষ্টি উনার দিকে। জিন, ফেরেশতা ও হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই সেই মহাসম্মানিত মজলিস মুবারক উনার মধ্যে উপস্থিত। সকলের মাঝে আনন্দের আমেজ বইছে। এমতাবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক অনুযায়ী প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক করেন। তারপর সকলের উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত নছীহত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, “সেই মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, উনার প্রশংসা মুবারক করছি- যিনি আমাদেরকে অফুরন্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, আমাদেরকে দয়া-ইহসান মুবারক করেছেন এবং আমাদের হৃদয়ে উনার সম্মানিত শুকরিয়া, প্রশংসা, ছানা-ছিফত মুবারক করার উপলব্ধি দিয়েছেন এবং তা করার তাওফীক্ব মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী বানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য গোত্রের উপর আমাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন এবং দুর্যোগ ও দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি- যিনি আমাদের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ বৈধ করেছেন এবং অবৈধ সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অনুষ্ঠান মুবারক সূচনা করে তিনি বলেন, “এখন আপনাদের অবগতির জন্য পেশ করছি যে, আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আপনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হতে চান এবং আপনাদের সম্মতি হলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ নিষ্পন্ন করতে চান। আপনারা কি এই প্রস্তাবে রাজি রয়েছেন?”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রস্তাব মুবারক গ্রহণ করলাম’।” সুবহানাল্লাহ!
তারপর তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক করার পর সকলের উদ্দেশ্যে কিছু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, “সেই মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, উনার প্রশংসা মুবারক করছি- যিনি আমাদেরকে দ্বীনে হানীফ উনার উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন, উনার সম্মানিত শুকরিয়া, প্রশংসা, ছানা-ছিফত মুবারক করার তাওফীক্ব দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাদেরকে সম্মানিত কুরাইশ গোত্র উনার বিশেষ শাখা সম্মানিত যুহরা গোত্র উনার অন্তভুর্ক্ত করেছেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী বানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য গোত্রের উপর আমাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন এবং মানুষের খিদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি- যিনি আমাদের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ বৈধ করেছেন এবং অবৈধ সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সংক্ষিপ্ত নছীহত মুবারক শেষ করেন। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর তিনি হাসিমুখে সায় দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা সকলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাজের সাক্ষী থাকলেন।’ সুবহানাল্লাহ!
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করেন এবং মহাসম্মানিত দো‘আ-মুনাজাত মুবারক পরিচালনা করেন। সুবহানাল্লাহ!
এভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী তরতীব মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন হন। সুবহানাল্লাহ!
সময়টি ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৮ মাস প্রায় ১২ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ অর্থাৎ ইয়াওমুল খমীস (বৃহস্পতিবার) দিবাগত বা’দ মাগরিব। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
মোহরানা মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মোহরানা মুবারক ছিলেন- নগদ ১ ঊকিয়া স্বর্ণ ও ১ ঊকিয়া রৌপ্য। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
ওলীমা মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন সমস্ত কুরাইশ সম্প্রদায় উনাদের সাইয়্যিদ। তিনি তো জিন-ইনসানকে খাওয়াতেনই; শুধু তাই নয়, বরং বন্যপশু-পাখিদেরকেও খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তাই, তিনি সকলের মাঝে ‘মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর’ অর্থাৎ মানুষ, জিন, বন্য পশু ও পাখিদেরকে খাদ্যদানকারী এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি উনার সবচেয়ে প্রিয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওলীমা মুবারক-এ কত বিশাল বড় অনুষ্ঠান মুবারক করেছেন, কত বেমেছালভাবে আয়োজন মুবারক করেছেন এবং জিন-ইনসান ও পশু-পাখিকে কি পরিমাণ মেহমানদারী মুবারক করেছেন, খাদ্য খায়িছেন, তা সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! তবে, কিতাবের এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওলীমা মুবারক উপলক্ষে একশত উট, একশত গরু, একশত বকরী জবাই করে প্রচুর পরিমাণে খাবার প্রস্তুত করেছেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ ও তৎসংলগ্ন এলাকার সবাইকে দাওয়াত করে মেহমানদারী মুবারক করেছেন। এই মহাসম্মানিত মেহমানদারী মুবারক চার দিন পর্যন্ত চলেছেন। সুবহানাল্লাহ!
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন