ভন্ড পীরে তরীক্বতের গোমর ফাঁক (৩)
পাঠক! গত সংখ্যার আলোচনার পরও কি বলার অপেক্ষা রাখে যে, অদক্ষ জলীল একজন ভন্ড প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। মূলতঃ বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, অদক্ষ জলীল একজন প্রতারক মহাকাজ্জাব ও ভন্ড পীরে তরীক্বত। কারণ যে পর্দার ন্যায় একটি গুরুত্ব পূর্ণ ফরযিয়্যতকে মোটেই গুরুত্ব দেয়না বরং অহরহ বেগানা-বেপর্দা মহিলার সাথে দেখা সাক্ষাত করে সে ভন্ড পীর নয় তো কি? এর পরও কি তাকে হক্ব বলা যায়? এতো গেল তার বেপর্দা হওয়ার হাক্বীক্বত। এবার আসুন, তার ছবি তোলার হাক্বীক্বতে।
ভন্ডপীর অদক্ষ জলীল হরদম ছবি তোলে, সে তার এ ছবি তোলার কলঙ্ক মোচন করতে গিয়ে যুক্তি পেশ করলো “হজ্ব চাকরী, সফর ইত্যাদির জন্য ছবি তোলা জায়েয।” সে আরো লিখলো রাজারবাগের পীর ছাহেব ক্বিবলা নাকি হজ্ব থেকে বিরত থাকার জন্যেই ছবি তোলা হারাম ফতওয়া দেন।”
পাঠক! অদক্ষ্য জলীল যে, কতবড় জালিয়াত ও ভন্ড উক্ত বক্তব্য থেকেই তা আঁচ করা যায়। ভন্ড জলীল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর প্রতি যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যে প্রনোদিত। কারণ রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা কোথাও এ ধরণের ফতওয়া দেন নাই যে, হজ্বের জন্যেও ছবি তোলা হারাম। বরং তাঁর মাসিক আল বাইয়্যিনাতের অনেক সংখ্যাতেই তিনি লিখেছেন যে, “ফরজ-ওয়াজিব জাতীয় আমল করতে গিয়ে যদি কাউকে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়, তখন তার জন্য মা’জুর হিসেবে ছবি তোলা মুবাহ হয়ে যায়।” যেমন মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ৫, ৬,৭ এ তিনটি সংখ্যায় প্রায় ৩৫৩টি অকাট্য নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে ছবির শরয়ী ফায়সালা তুলে ধরেছেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মা’জুর হিসেবে ছবি তোলা যাবে তাও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নিম্নে মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ৫ম সংখ্যার ১৬ পৃষ্ঠার কিছু অংশ হুবুহু তুলে ধরা হলো-
“প্রসঙ্গক্রমে অনেকে বলতে পারেন যে, আমাদের ব্যবহারিক জীবনের ক্ষেত্রে যেমন- চাকুরী, ব্যবসার প্রয়োজনে, পড়াশোনার জন্য, ব্যাঙ্কে একাউন্ট করতে, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে, ড্রাইভিং এবং অনেক প্রকার লাইসেন্স, পারমিট ও পাসপোর্ট করতে ছবির প্রয়োজন হয়। তার মাসয়ালা কি? আলোচ্য মাসয়ালার জবাবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, বর্তমান বিশ্বের কোথাও খিলাফত বা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা নেই। খিলাফত না থাকাতে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের মা’জুর হতে হয়।
কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে যে সকল কাজ ফরয, ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত, তা পালন করার পূর্বশর্ত হিসাবে যদি কোন ব্যক্তিকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও শরীয়তের খেলাফ কাজ করতে হয়, তখন সে শরীয়তের দৃষ্টিতে মা’জুর (অপরাগ) বলে গণ্য হয়।
শরীয়ত বিরোধী রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কারণে আমরা বহুক্ষেত্রে মা’জুর। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কারণে আজকাল বিদেশে যেতে হলে ছবিসমেত পাসপোর্ট করতে হয়। অথচ ছবি তোলা শরীয়তের আইনে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কাজেই কোন ব্যক্তির উপর যখন হজ্ব ফরয হয়, তখন রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক শরীয়ত বিরোধী আইন অনুযায়ী সে ব্যক্তি ছবিসমেত পাসপোর্ট করতে বাধ্য হয়। আবার যেহেতু হালাল উপার্জন করা ফরয, সেহেতু আজকাল চাকুরী বা ব্যবসা-বাণিজ্যে ছবির বাধ্যবাধকতার কারণে ছবি তোলা মা’জুর হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু চাকুরী-ব্যবসা ইত্যাদির জন্য যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকাল লেখাপড়া করতে ছবির দরকার হয়, তাই এক্ষেত্রেও ছবি তোলা মা’জুরের হুকুম হবে। এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটা উছূল উল্লেখ করা হয়- الضرورات تبح المحظورات.
অর্থঃ- জরুরত হারামটাকে মুবাহ করে দেয়।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, ভন্ড পীর জলীল শুধু মিথ্যাবাদীই নয় বরং মহা মিথ্যাবাদী। আর সে মহা কাজ্জাব হওয়ার কারণেই বর্তমান শতকের মুজাদ্দিদ, গাওছুল আ’যম রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর প্রতি এরূপ ডাহা মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতে পেরেছে।
পাঠক! এবার আসুন ভন্ড জলীল ছবি তোলার কলঙ্ক হতে রেহাই পেতে যে যুক্তি পেশ করেছে, সে যুক্তি খন্ডনে।
তার যুক্তি হলো- হজ্বের জন্য ছবি তোলা জায়েয হলে, মাযার যিয়ারত, ওয়াজ-মাহ্ফিল, সফর ইত্যাদির জন্য ছবি তোলা জায়েয হবেনা কেন?
কারো উপর হজ্ব ফরয হলে তার জন্য হজ্ব করা হচ্ছে ফরযে আইন। এ ফরয আদায় করতে গিয়ে তার যতটুকু ছবির প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই সে তুলতে পারবে। এর চেয়ে বেশী তুললে সেটাও কবীরা গুণাহ্ হবে। আর এক্ষেত্রে সে সম্পূর্ণই মা’জুর। কারণ হজ্ব করতে হলে পাসপোর্ট লাগবে। আর পাসপোর্ট করতে ছবি লাগবে। তাই সে এক্ষেত্রে ছবি তুলতে বাধ্য। কিন্তু মাযার যিয়ারত করা ফরয-ওয়াজিব নয়। আর ওয়াজ-মাহ্ফিলে ছবি তুলতে কেউ বাধ্য করেনি, কাজেই এরূপ ক্ষেত্রে ছবি তোলা জায়েয নয় বরং সম্পূর্ণই হারাম।
পাঠক! আমি কিন্তু অদক্ষ জলীলের পাস পোর্টের ছবি সম্পর্কে কিছুই লিখিনি এবং তার হজ্ব সম্পর্কেও কিছু বলেনি। বরং আমি লিখেছি তার “আজমীর সফর নামা” বইয়ের ছবি সম্পর্কে। সে উক্ত কিতাবে তার ছবি সহ তার সকল সফর সঙ্গিদের ছবি ছাপিয়েছে। উক্ত আজমীর সফরে সে অনেক স্থানে গ্রুপ ছবি তুলেছে এবং সেগুলো উক্ত কিতাবেও ছাপিয়েছে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো হজ্ব করা ফরযঃ হালাল কামাই করা ফরয, ইল্ম অর্জন করা ফরয, সেজন্যে বিদেশ যেতে পাসপোর্টের জন্য ছবি তোলা মুবাহ হতে পারে। তাই বলে কি কিতাবে ছবি ছাপানো, দলবেঁধে বিভিন্ন স্থানে ছবি তোলা, ওয়াজ করা কালে ছবি তোলা জায়েয? অদক্ষ জলীলকে কেউ কি কিতাবে ছবি ছাপাতে গ্রুপ ছবি তুলতে, ওয়াজ মাহ্ফিলে ছবি তুলতে বাধ্য করেছে ?
মুলতঃ ভন্ড, প্রতারক, মহা কাজ্জাব জলীল নিজের হারাম কাজগুলোকে জায়েয করার জন্য এবং মুছল্লী ও ভক্তদের ঠেঙ্গানী থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যেই এরূপ আজগুবী ও শরীয়ত বিরোধী যুক্তি পেশ করেছে।
ভাবতে অবাক লাগে, যে ব্যক্তি পর্দার ন্যায় একটি গুরুত্ব পূর্ণ ফরযকে প্রকাশ্যে তরক করে এবং ছবি তোলার ন্যায় আরো বহু হারাম কাজ প্রকাশ্যে করে বেড়ায়, তার পিছনে সুন্নী মুসলমানগণ জুমুয়ার নামাযের ন্যায় গুরুত্ব পূর্ণ নামায কিভাবে আদায় করে ? যেখানে শরীয়তের ফতওয়া হলো- যে ব্যক্তি বেপর্দা হয়, ছবি তোলে, হারাম কাজ করে, তার পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। অথচ অদক্ষ জলীল শুধু বেপর্দা হয়, ছবি তোলে তাই নয়, বরং সে এগুলোকে জায়েয বলেও ফতওয়া দেয়। আর শরীয়তের দৃষ্টিতে হারামকে হালাল, আর হালালকে হারাম বলা উভয়টাই কুফরী।
অতএব, হক্ব তালাশী সুন্নী মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হলো- উক্ত ভন্ড, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী পীরে তরীক্বতকে সর্বপ্রকার দ্বীনী পদ থেকে অপসারণ করা এবং তার ছোহবত থেকে দূরে থাকা।
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আর “হক্কানী আলিম” এক কথা নয়
অনেকেরই ধারণা যে ব্যক্তি বড় কোন মসজিদের খতীব অথবা বড় কোন মাদরাসার প্রিন্সিপাল, অধ্যক্ষ ও মোহতামিম তিনিই হয়তো হক্কানী আলিম। বস্তুতঃ তাদের এধারণা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের কোথাও হক্ব হওয়ার জন্য উল্লিখিত শর্তারোপ করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত আলিম। আর যে ব্যক্তি অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করে, সে ব্যক্তিই হক্কানী আলিম।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে কথিত শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতি আছে কি? তারা কি অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করে? না তাদের মধ্যে নেই বিন্দুমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতি, নেই ইলম অনুযায়ী আমল। এর বাস্তব প্রমাণ হলো পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। যদি তাদের যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতিই থাকত এবং তারা যদি ইলম অনুযায়ী আমলই করতো, তবে তারা কস্মিনকালেও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছবি তুলতোনা, তাদের ছবি দৈনিক পত্রিকার আসতোনা। কাজেই দৈনিক পত্রিকায় তাদের ছবি আসা এটাই প্রমাণ করে যে, তারা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, শিক্ষক হতে পারে কিন্তু হক্কানী আলিম নয়। কেননা হক্কানী আলিম- উলামাগণ উনাদের পক্ষে ছবি তোলার ন্যায় হারাম কাজে মশগুল থাকা কখনোই সম্ভব নয়।
-মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মামুন, চট্টগ্রাম।
জুমুয়ার ছানী আযান সস্পর্কিত রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর’২০০০ সংখ্যার খোলা চিঠির জবাব
অপরের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়
প্রসঙ্গঃ ছানী আযান
(চতুর্থ অংশ)
নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো, এক স্থানের দলীল আরেক স্থানে ঢুকিয়ে দেয়া, ইবারত কাট-ছাট করে নিজ মন মত তৈরী করে দেয়া ইত্যাদি অপকর্ম সমূহে রেযা খাঁর অন্ধ পূঁজারী রেযাখানীরা ভালই যোগ্যতা হাছিল করেছে। করবেইনা বা কেন, তাদের গুরু যে “রেযা খাঁ” রেযা খাঁর থেকেই যে তারা এগুলো হাছিল করেছে। তাদের গুরু রেযা খাঁও যে উল্লিখিত অপকর্মে খুবই পারদর্শী ছিল।
যেমন, সে নিজেই ছিল প্রকৃত পক্ষে ইংরেজদের দালাল, অথচ সে নির্লজ্জভাবে তার সেই দালালীর দোষ চাপিয়ে দিল শহীদে আ’যম, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর। রেযা খাঁ যে ইংরেজদের দালাল ছিল, তার প্রমাণ হলো ভারত বর্ষকে “দারুল ইসলাম” ফতওয়া দেয়া। যেখানে রঈসুল মুফাস্সিরীন, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সহ সকল হক্কানী আলিম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ভারতকে “দারুল হরব” ফতওয়া দিয়েছেন, সেখানে শুধুমাত্র রেযা খাঁই ইংরেজদের দালালী করে ভারতকে “দারুল ইসলাম” ফতওয়া দিয়েছে। যেমন, এ সম্পর্কে
**
অর্থঃ- “কেননা প্রত্যেক আলিম ভারতবর্ষকে “দারুল হরব” হিসেবে ফতওয়া দেয়া সত্বেও মাত্র এক ব্যক্তি (আহমদ রেযা খাঁ) যে নাকি একে “দারুল ইসলাম” হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।” এছাড়াও উক্ত গ্রন্থের ৩২৫ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, “অযসধফ ৎধুধ কযধহ ড়ভ নধৎবরষু রংংঁবফ ঋধঃধি ফবপষধৎরহম ওহফরধ ঃড় নব উধৎঁষ রংষধস.”
অর্থঃ- “বেরেলীর আহমদ রেযা খাঁ ভারতবর্ষকে দারুল ইসলাম হিসেবে ফতওয়া দিয়েছিল।”
অথচ এই রেযা খাঁ ও তার অন্ধ পুঁজারিরাই অপপ্রচার করছে যে, তের শতকের মুজাদ্দিদ, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইংরেজদের দালাল ছিলেন, (নাউযুবিল্লাহ) এবার দেখলেন তো নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে তারা কতটুকু পারদর্শী।
জুমুয়ার দিন ছানী আযান যা খুৎবার পূর্বে দেয়া হয়, তা মসজিদের ভিতরে, মিম্বরের নিকটে, ইমামের সম্মুখে দেয়া যে জায়েয, তা বিশ্বের সমস্ত আলিমই স্বীকার করেছেন। কিন্তু শুধু মাত্র রেযা খাঁই ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়াকে মাকরূহ বলেছে। আর তার এ মনগড়া ও ভুল ফতওয়াটিকে ছাবেত করার জন্যে অত্যন্ত কুটকৌশলে ফিক্বাহের কিতাব থেকে “মতলক্ব আযান”-এর ইবারত এনে “ছানী আযানে” ঢুকিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ যে সকল ফিক্বাহের কিতাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযান মসজিদের ভিতরে দেয়াকে মাকরুহ তানযীহী বলা হয়েছে, সে সকল কিতাব সমূহের ইবারত এনে ছানী আযানের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে পেশ করেছে।
যেমন- ছানী আযান সম্পর্কে রেযা খাঁ তাঁর ফতওয়ায়ে “রেজভিয়া ও আহকামে শরীয়ত” নামক কিতাবদ্বয়ে দলীল হিসেবে নিম্নোক্ত বর্ণনা সমূহ পেশ করা হয়েছে-
فتوى عالمكيرى طبع مصرجلد اول صفحه- لايؤذن فى المسجد.
অর্থঃ- “ফতওয়ায়ে আলমগীরী, মিছরী ছাপা ১ম জিল্দ-৫৫, পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- মসজিদের ভিতর আযান দেয়া নিষেধ।”
فتح القدير جلد اول صفحه- ১৭১ قالوا لايؤذن فى المسجد.
অর্থঃ- “ফতহুল ক্বাদীর ১ম জিল্দ ১৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, আলেমগণ মসজিদের ভিতর আযান দিতে নিষেধ করেছেন।”
طحطاوى على مراقى الفلاح جلد اول صفحه- ১২৮- يكره ان يؤذن فى المسجد.
অর্থঃ- “মারাকিউল ফালাহ্ ১ম জিঃ ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মসজিদে আযান দেয়া মাকরূহ্।” অনুরূপ “ফতওয়ায়ে ক্বাজী খান, খোলাছাতুল ফতওয়া খাযানাতুল মুফ্তিয়্যীন, বাহ্রুর রায়েক্ব, শরহে নেক্বায়া বরজন্দী, গুনিয়া শরহে মুনিয়া এবং ওমদাতুর রেয়ায়া ও শরহুস্ সেক্বায়া কিতাবের ইবারত সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।”
রেজা খাঁ ছানী আযানের দলীল হিসেবে আলমগীরী, ফতহুল ক্বাদীর ও মারাকিউল ফালাহ্ ইত্যাদি কিতাব থেকে যে ইবারত সমূহ্ উল্লেখ করেছেন, তাতে ছানী আযানের কথা বিন্দুমাত্রও উল্লেখ নেই। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে কিরূপে প্রমাণিত হয় যে, উল্লিখিত কিতাবে ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দিতে নিষেধ করা হয়েছে? মূলতঃ উল্লিখিত কিতাবসমূহের ইবারতের সাথে ছানী আযানের বিন্দুমাত্রও সম্পর্ক নেই। বরং উল্লিখিত ইবারতসমূহ সম্পূর্ণরূপেই মত্লক্ব আযান (যে আযান সাধারণতঃ মুছল্লীদেরকে নামাযের দিকে আহ্বান করার জন্য দেয়া হয়। যেমন- জুমুয়ার প্রথম আযানসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযান)-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর তাই উল্লিখিত কিতাবের ইবারতসমূহ্ “মত্লক্ব আযানের অধ্যায়ে” উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ছানী আযান সম্পূর্ণরূপেই জুমুয়ার অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যার ফলে ফিক্বাহ্রে কিতাবসমূহে ছানী আযান সম্পর্কিত বর্ণনা জুমুয়ার অধ্যায়েই উল্লেখ করা হয়েছে। এবার দেখলেন তো, রেযা খাঁ ও তার অন্ধ ভক্তরা এক জায়গার দলীল আরেক জায়গায় ঢুকিয়ে দিয়ে স্বার্থ সিদ্ধি করতে কতটুকু পারঙ্গম।
পাঠক! এতো গেল রেযাখানীদের গুরু রেযাখাঁর ছানা-ছিফত। এবার আসুন রেযা খাঁনীদের কিছু ছানা-ছিফত শোনা যাক। অর্থাৎ তারাও যে রেযা খাঁর যোগ্য শিষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পেরেছে তার কিছু প্রমাণ উল্লেখ করা জরুরী।
“ফরয নামাজে দু’সিজদার মাঝখানে শুধু মাত্র اللهم اغفرلى “আল্লাহু মাগফিরলী” বলা যাবে এর বেশী বলা যাবেনা।” এটাই আমাদের হানাফী ইমামগণের ফতওয়া। কিন্তু রেযাখাঁনীরা বলছে হাদীস শরীফে বর্ণিত সম্পূর্ণ দোয়াটাই নাকি পড়া যাবে। তাদের এ বক্তব্যের স্বপক্ষে কোন দলীল নেই বিধায় তারা কিতাবের ইবারত কাট-ছাট করে স্থান বিশেষে শব্দ যোগ বিয়োগ করে নিজেদের মত করে লিখে দিচ্ছে। তার একটি প্রমাণ আপনারা গত সংখ্যাতেই পেয়েছেন। তারা ফিক্বাহের বিখ্যাত ও মশহুর কিতাব “রদ্দুল মুহতারের” ইবারত কাট-ছাট করে এবং স্থান বিশেষে নিজ হাতে লিখে তাদের ভুল মতটিকে ছাবেত করতে চেয়েছে।
তারা যে শুধু রদ্দুল মুহতারের ইবারতে হের-ফের করেছে তা নয়। বরং তারা তাদের উক্ত মতকে ছাবেত করার জন্যে “মালাবুদ্দা মিনহু” ও মিরআতুল মানাজীহ” নামক কিতাবদ্বয়ের ইবারতও কাট-ছাট করেছে।
যেমন, তারা হাদীস শরীফে বর্ণিত সম্পূর্ণ দোয়াটি ফরজ নামাযের দু’সিজদার মাঝখানে পাঠ করাকে বৈধ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে “মালাবুদ্দা মিনহুর” এই ইবারত উল্লেখ করেছে,
بستر تكبير كويان سر بردارد وبنشيند باطمنان ربخواند اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وارزقنى وارفعنى واجبرنى ……..
অথাৎ তারপর তাকবীর বলে (প্রথম সিজদা থেকে) মাথা উঠাবে আর ধিরস্থিরভাবে বসে “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী ওয়ার ফা’নী ওয়াজবুরনী দোয়াটা পড়বে” ………..
অথচ উক্ত ইবারতের ৬নং হাশিয়ায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে,
قوله وبخواند اللهم- الخ ……. يعنى درجلسه ذكر مسنون موافق مذاهب نيست وانجه واردشده محمول بر نفل است.
অর্থাৎ …..হানাফী মাযহাবে দু’সিজদার মাঝখানে মাসনূন কোন যিকির বা দোয়া নেই। হাদীস শরীফে দু’সিজদার মাঝে যে দোয়াগুলো পাঠ করার কথা বলা হয়েছে, তা নফল নামাযের জন্য প্রযোজ্য।”
রেযাখাঁনীরা তা ফরজ নামাযে চালিয়ে দেয়ার জন্য উক্ত ইবারত গোপন করেছে। অনুরুপ “মিরআতুল মানাজীহ”-এর বরাতে তারা লিখেছে-
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থাৎ- (দুই সিজদার মাঝখানে হাদীসে বর্ণিত এ দোয়া) প্রিয় নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নফল নামাযে প্রায় সময় পড়তেন কখনো কখনো ফরয নামাযেও।
অথচ উক্ত কিতাবের উক্ত পৃষ্ঠায় উক্ত ইবারতের পরেই সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে,
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থাৎ ফরয নামাযের দু’সিজদার মাঝখানে সংক্ষিপ্ত দোয়া (অর্থাৎ “আল্লাহুম্মাগফিরলী” পড়বে, আর নফল নামাযে ইচ্ছাধীন। (অর্থাৎ যতটুকু ইচ্ছা পড়তে পারবে।)
রেযা খাঁর যোগ্য শিষ্য রেযা খাঁনীরা উক্ত ইবারত স্বেচ্ছায় বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া ও ভুল মতটিকে ছাবেত করার অপকৌশল চালিয়েছে। মূলতঃ ইবারত কাট-ছাটে রেযা খাঁনীরা তাদের গুরু রেযা খাঁকেও ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এরাই আবার বড় গলায় বলে বেড়ায়- আল বাইয়্যিনাত নাকি ইবারত কাট-ছাট করে। তাদের এ অভিযোগ যে সম্পূর্ণই মিথ্যা, তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা। অর্থাৎ রেযা খাঁনীরা নিজেদের দোষ অপরের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে যে সিদ্ধ হস্ত, তা সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হলো। তাই বলতে হয়, “উদোর পিন্ড বুদোর ঘাড়ে রেযাখানীরা তা ভাল পারে।” (চলবে)
-মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, চিলমারী, কুড়িগ্রাম।
গোলাম রসূল মিহির ছাহেবের রচিত “হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের বলে চালিয়ে দেবার অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এ কায্যাব, দাগাবাজ, মিথ্যুক মৌলভী নিজে। এতে তাদের সত্যিকার অর্থে নীচ হীনমনা চরিত্রের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে। আর এভাবেই তারা যুগ যুগ ধরে সুন্নীয়তের অন্তরালে প্রকৃত ওহাবী সেজে আলিমদের লিখিত কিতাবের ইবারত কাট-ছাট করে তাঁদের উপর কুফরীর ইলজাম লাগিয়েছে।
যেমন, রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের নভেম্বর/২০০০ঈঃ সংখ্যায় সে লিখেছে, “আমীরুল মুমিনীন হওয়ার উচ্চাভিলাষঃ শায়দু যুদ্ধে পরাস্ত হওয়ার পর মুজাহিদীনের মধ্যে শৃংখলা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ১২ জমাদিউস ছানী ১২৪২ হিজরী হুন্ড নামক স্থানে হিন্দুস্তানী মুজাহিদ ও উলামাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে মুসলমানদেরকে একজন আমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়। এতে সৈয়দ ছাহেব স্বঘোষিত আমিরুল মুমিনীন উপাধিতে ভূষিত হন। ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম শাসকের যে সব যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী থাকার শর্ত রয়েছে এবং খোলাফায়ে রাশিদীনের মত পূত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ইসলামের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সূচনাকারী, মহান ব্যক্তিদের শানে ব্যবহৃত আমিরুল মু’মিনীন উপাধি যে কোন ব্যক্তি ব্যবহার করা ইসলামের পরিভাষার অপপ্রয়োগ ও অসম্মানের শামিল।”
এই ধরণের অসামঞ্জস্য ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত লিখার জবাবতো মাসিক আল বাইয়্যিনাত গত ৮২তম সংখ্যা থেকে দিয়েই আসছে।” খোদাতায়ালার অভিসম্পাত বর্ষিত হোক এ কায্যাবের উপর।
সে লিখেছে, “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্ব-ঘোষিত আমিরুল মু’মিনীন উপাধিতে ভূষিত হন।” অথচ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা আক্রোশমূলক কথা। হাজার হাজার আলিম, সুফী, সীমান্তবর্তী দরবেশ, সর্দারদের সমন্বিত ঘোষণার মাধ্যমে তাঁকে আমিরুল মু’মিনীন লক্ববে ভূষিত করা হয় এবং জুমুয়ার খুৎবায় খোলাফায়-ই-রাশেদীনদের পবিত্র নাম মুবারকের সাথে তাঁর নামও সম্মানের সাথে উচ্চারণ করা হয়।
এ সম্পর্কে আমাদের নিকট প্রচুর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ, দলীল দস্তাবেজও রয়েছে। যেমন, এ সম্পর্কে আল্লামা গোলাম রসূল মিহির তাঁর “হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি” গ্রন্থের ২৭২ পৃষ্ঠায় লিখেন, “ব্যবস্থাপনা এবং শরীয়ত সর্বদিকের আলাপ-আলোচনার পর ওলামা এবং সীমান্তের খানদের মতে জ্বিহাদের জন্য একজন ইমাম বা নেতা নির্বাচনের প্রয়োজন উপলব্ধি করা হলো। এ গুরু দায়িত্ব পদের জন্য একমাত্র সৈয়দ ছাহেব (রহমতুল্লাহি আলাইহি)ই উপযুক্ত ছিলেন। প্রথমতঃ ইমামতির যাবতীয় শর্ত তাঁর জন্য বিদ্যমান ছিল। সে মতে ১৮২৭ খৃষ্টাব্দের ১১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার হান্ডের পুকুরের তীরে সৈয়দ ছাহেবের হাতে জ্বিহাদের ইমামতির বাইয়াত গ্রহণ করেন। পরদিন জুমুয়ার খুৎবায় তাঁর নাম শামীল করা হলো। ভারতীয় গাজী প্রথম হতেই তাঁকে আমিরুল মু’মিনীন বলতেন। সীমান্তবাসীরা সৈয়দ বাদশাহ্ এবং শিখ সম্প্রদায় তাঁকে খলীফা ছাহেব বলে সম্বোধন করত।”
সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী তাঁর “ঈমান যখন জাগলো” গ্রন্থের ৩২ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে আরো লিখেন, “এজন্য সৈন্যবাহিনীতে অবস্থানরত ওলামা-ই-কিরাম সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, সর্বাগ্রে আশু প্রয়োজন একজন ইমাম ও আমীর নিযুক্ত করার, যেন তাঁর অধীনে ও নেতৃত্বে জ্বিহাদ পরিচালিত হতে পারে।
অতঃপর হিন্দ-এ ১২৪২ হিজরীর ১২ই জমাদিউস্ ছানী মোতাবেক ১৩ই জানুয়ারী ১৮২৬ খৃষ্টাব্দ সর্বসম্মতভাবে সৈয়দ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে হাত রেখে তাঁরই ইমামত ও খিলাফতের উপর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করা হয়। খাবে খান, আশরাফ খান, ফতেহ্ খান, বাহ্রাম খান এবং ছোট বড় যত খান ও নেতৃবৃন্দ সেখানে ছিলেন, সবাই এসে ইমামতের বাইয়াত নেন। এছাড়া ভারতবর্ষের ওলামা-ই-কিরামগণও তাঁর ইমামত কবুল করেন।”
মাওলানা উবায়দুল্লাহ্ সিন্ধী তাঁর “শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ ও তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা” কিতাবের ৭২ পৃষ্ঠায় আরো লিখেন,“১২৪২ হিজরীর ১২ই জমাদিউস্ ছানী সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর হাতে নেতৃত্বে প্রদান করা হয় এবং খিলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করা হয়। তাঁর নামে খুৎবাও পাঠ করা হয়। এ ঘোষণার কিছুদিন পরে পেশওয়ারের সর্দারগণ সৈন্যবাহিনী এবং গোলা বারুদসহ নওশেরার নিকটে সারসাই নামক স্থানে শিখদের বিরুদ্ধে জ্বিহাদের উদ্দেশ্যে শাহ্ সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর কাছে উপস্থিত হয় এবং তাঁকে বিপুল সম্বর্ধনা জানায়। পেশওয়ারের উপজাতীয় সর্দারদের এবং উপমহাদেশীয় মুজাহিদদের মিলিত সংখ্যা ছিল প্রায় এক লক্ষ। তারা আমীর সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর নির্দেশে জান কুরবান করার জন্য সর্বত্তভাবে প্রস্তুত হয়েছিল।”
মাওলানা নূরুর রহমান ছাহেব তার “তাযকিরাতুল আউলিয়া” গ্রন্থের ৫ম খন্ডের ২৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন, “১৭২৬ খ্রীষ্টাব্দের ২১শে ডিসেম্বর নওশেরা জিলায় আকোড়া নামক স্থানে উভয় দলের মধ্যে প্রথমবার সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে বুধসিংহ পরাজিত হয়ে পশ্চাদপসরণ করে। দ্বিতীয় সংঘর্ষ হয় হাজারা জিলায়। এ যুদ্ধেও মুজাহিদীনে ইসলাম জয়লাভ করেন এবং বহু অস্ত্র-শস্ত্র ও রসদ প্রভৃতি তাঁদের হস্তগত হয়। এ সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে “আমীরুল মু’মিনীন” নির্বাচিত করা হয় এবং তাঁর নামে জুমুয়া মসজিদে খুৎবা পাঠ করা হয়।”
কাজেই উপরোক্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য লিখকের শক্ত ও মজবুত দলীলভিত্তিক লিখার মোকাবিলায় চুনোপুটি, নিম মোল্লা, মিথ্যুক বদিউল আলম রেযভীর অসামঞ্জস্য ও কুরুচীপূর্ণ লিখা অসাঢ় ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার উপক্রম নয় কি? (চলবে)
-মাওলানা, মুফতী, মুহম্মদ নূরুল আমীন, ঢাকা।
(ধারাবাহিক)
এরপর এ মিথ্যুক মৌলভী লিখেছে, “পীরের দরবারে বেয়াদবীঃ সৈয়দ আহমদের জীবনীকার মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী লিখেছেন- সৈয়দ আহমদের সুলুকের পর্যায়ে শিক্ষা দেয়ার সময় একদা হযরত শাহ সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার রীতি ও আমল মোতাবেক সৈয়দ আহমদকে তাসাব্বুরে শেখ (পীর মুর্শিদের ধ্যান মগ্ন) এর শিক্ষা দিলেন। সৈয়দ আহমদ আরজ করলেন, হযরত! এটা আর মূর্তি পূজার মধ্যে, কোন পার্থক্য আছে কি? … শাহ সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাফিজ সিরাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর এ কবিতাটি পড়ে শুনান-
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
সৈয়দ ছাহেব বলেন, র্শিক কোন সময়ই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। একই ঘটনা তার অন্যান্য জীবনী গ্রন্থেও লেখা আছে। (সূত্রঃ সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ (রঃ)ঃ মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী, প্রকাশকঃ এইচ, এম, সাঈদ কোং, আদব মঞ্জিল, করাচী, পাকিস্তান, পৃষ্ঠা ৯৪)”
এর জবাবে বলতে হয়, এ কায্যাবকে তস্কর বা চোর উপাধি দেয়া জরুরী। কেননা এই নিম মোল্লা একটি বাক্যের সম্পূর্ণ অংশ না তুলে অর্ধাংশ তুলে পাঠক সমাজের সামনে পীরের দরবারে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মান-সম্মানকে ক্ষুন্ন করে দেখাবার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সে ধরা পড়ে গিয়েছে।
উর্দূ ভাষায় রচিত করাচী ছাপা সাইয়্যিদ আবুল হাছান আলী নদভী ছাহেবের “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, “হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সুলুক বা তরীক্বত শিক্ষা দেয়ার সময় তাছাউরে শায়খ বা পীর মুর্শিদের ধ্যান করা সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। তখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- অত্যন্ত আদবের সহিত আরজ করলেন, হুজুর ক্বিবলা! …..”
কিন্তু এই বর্ণ চোরা মিথ্যুক মৌলভী মাঝখান থেকে এই বাক্যটি বাদ দিয়ে পরের লাইন উঠিয়ে দিয়েছে। যার দরুণ পাঠক সমাজের কাছে মূল বিষয়টিই বেখাপ্পা ও সন্ধিহান হয়ে পড়েছে।
কেননা আদব বা শালীনতা বজায় রেখে সালেক তার শায়খের নিকট নিজ বক্তব্য বা অন্তরের যেকোন সন্ধিহান বিষয়সমূহ আলোচনা করতে পারে। এতে সালেকের বেয়াদবী হয়না বরং সুলূকের রাস্তায় চলতে গিয়ে সালেকের আত্মার মধ্যে অদৃশ্য থেকে নিক্ষিপ্ত প্রতিটি হাল বা অবস্থাই আপন মুর্শিদকে অবগত করা জরুরী এবং এটাই তরীক্বতের আদব।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছোহ্বতে থেকে অনেক সময় হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মুনাফিক আব্দুল্লাহ্ ইবনে উবাইর জানাযার নামায পড়া নিয়ে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দ্বার্থহীন কক্তে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এই মুনাফিকের জানাযার নামায পড়াবেন না।” পরক্ষণেই আল্লাহ্ পাক হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অভিমতের উপরেই এ সম্পর্কে ওহী নাযিল করলেন। বদরের যুদ্ধ বন্দীদের হত্যা করা সম্পর্কে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যে অভিমত দিয়েছেন তাতেও তাঁর অভিমতের উপরই আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত নাযিল করেছেন। এখন যদি কেউ বলে, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর অভিমত ব্যক্ত করে বেয়াদবী করেছেন” তাহলে তার ঈমান থাকবে কি? (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
তাছাউরে শায়খের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
তাছাউরে শায়খ বা মুর্শিদের ধ্যান করা সুলূকের রাস্তায় সালেক বা মুরীদের জন্য একটি বিরাট নিয়ামত। তবে এই ধ্যান, খেয়াল যা তাছাউরে শায়খ নামে অভিহিত করা হয়। তা যদি কোন মুরীদের অন্তরে বিনা কোশেশে বা ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এসে থাকে, তবে অবশ্যই এটা উত্তম।
হযরত মাশায়েখ-ই-কিরামগণের মধ্যে এক শ্রেণীর মাশায়েখগণ এটিকে জায়েয ও উত্তম বলেছেন। এবং অন্য শ্রেণীর মাশায়েখগণ এটিকে প্রয়োজন মনে করেননি। মুরীদের অন্তরে খত্রা, ওয়াসওয়াসা দূর করে হুজুরীও হাছিল হওয়ার জন্য কোন কোন পীরানে তরীক্বত এই সবক দিতেন। আবার বহু বুযুর্গানে দ্বীন সালেকের অন্তরে হুজুরী ক্বালব হাছিলের জন্য আত্মার মধ্যে একমাত্র খোদাতায়ালার ধ্যান ব্যতীত অন্য বস্তুর ধ্যান করাকে র্শিক, বিদ্য়াত তুল্য মনে করতেন। আহ্লে তরীক্বতের এই দু’শ্রেণীর মাশায়েখ-ই-কিরামগণই তাঁদের স্ব-স্ব অভিমতের সঠিক রয়েছেন।
তাসাউরে শায়েখ সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে এর পরে উক্ত “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” গ্রন্থে ৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “যখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাছাউরে শায়খ সম্পর্কে নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন, তখন আপন মুর্শিদ হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আপন মুরীদের যোগ্যতা দেখে অত্যন্ত খুশী হলেন এবং তাঁকে কোলে নিয়ে তার পেশানী মুবারকে চুমু খেলেন এবং এই সু-সংবাদ দিলেন যে, “আল্লাহ্ পাক আপন ফজল-করমে আপনাকে “বেলায়েতে আম্বিয়া” বা “নবীদের বেলায়েত” দান করেছেন।” এরপর তিনি “বেলায়েতে আম্বিয়ার” বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করলেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, এই রেযাখানী হিংসুক, বর্ণ চোরা, নিম মোল্লা আলোচ্য বাক্যগুলো উঠায়নি। খোদাতায়ালার অজস্র অভিসম্পাত বর্ষিত হোক এ মিথ্যাবাদীর উপর। য (চলবে)
-মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম (মুনির) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এমন একটা সময় ছিল যখন মৌলভী আজিজুল হককে “হদস” বলাটা কিছুটা হলেও আপত্তিকর মনে হতো …. অথচ তারপরও আমি “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর ধারাবাহিক লিখাটা মনোযোগ সহকারে পড়তে কার্পণ্য করতাম না। পত্রিকাটা বের হলেই তার আদ্যপান্ত পড়ে ফেলতাম, ‘কেন “হদস” বলা হয়’ ১, ২, ৩, ৪ ….। পড়তাম আর ভাবতাম, তার মত লোকের দ্বারাও কি এতসব জঘণ্য কাজ করা সম্ভব? অথচ আশ্চর্য হলেও সত্য, কালে কালে যে তা বাস্তবের সাথে ষোল আনাই মিলে গেলো। সে কাহিনীই যে আজকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করার এমন চরম ও মোক্ষম সুযোগ আসবে, তা দেওবন্দের মাওলানারা কি কখনো চিন্তা করেছিল?
এক সময় তার উপাধি ‘হদস’ শুনে যারা চু-চেরা কিল-কাল করত, তার পক্ষ হয়ে বাইয়্যিনাত-এর বিরুদ্ধে বিষোদগার করত, আজকে সেই চু-চেরা কিল-কাল উচ্চারণের কাফ্ফারা আদায় তার স্ব-গোত্রীয়রাই করছে চরম ঘৃণাভরে। আল্লাহ্ পাক পবিত্র হাদীসে কুদসীতে বর্ণনা করেন, “যে আমার ওলীর বিরোধীতা করে আমি তার বিরুদ্ধে জ্বিহাদ ঘোষণা করি।”
ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিরোধীতার কারণেই আজকে তার এ পদঙ্খলন। এটা আজ দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে বর্ণনা করেন, “যে যাকে অনুসরণ করবে তার হাশর-নশর তার সাথে হবে।” এ হাদীস শরীফের আলোকে নিম্নে শাইখুল হদসের আমলের ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো-
লংমার্চ
হদসকে লংমার্চের পূর্বে তার মাদ্রাসার সম্মুখস্থ বাসষ্ট্যান্ডের মাহ্ফিলে “লংমার্চ করা জায়েয নেই” বললেও লংমার্চ সে ঠিকই করে বিদেশী প্রভূদের মদদপুষ্ট হয়ে (বিদেশী টাকা খেয়ে) এবং তাতে সাতটি প্রাণ ঝরে যায়। আর কট্টর কমিউনিষ্ট মাওসেতুং-এর এ লংমার্চকে সে “জ্বিহাদ” নামে চালিয়ে দিতে চায়। তাহলে যারা মারা গেছে তারা “শহীদ।” কিন্তু হাদীস শরীফের আলোকে যখন বলা হয়, জ্বিহাদের ময়দান থেকে বিপরীত পক্ষের সাথে কোন প্রকার সন্ধি বা শর্ত-শারায়েত ব্যতীত ফিরে আসলে “তওবা” কবুল হবেনা। তখন সে বাঁচার জন্য এটাকে জ্বিহাদ বলতে নারাজ, তাহলে যারা মারা গেছে তারা শহীদ হয় কিভাবে? তাই যদি হয়, তাহলে সাতটি মায়ের বুক খালি করার দায়-দায়িত্ব কার ? এ ধরণের প্রকাশ্য হারাম কাজে কি প্রমাণ হয়না যে, সে “শাইখুল হাদীস” নয় বরং “শায়খুল হদস।”
বে-পর্দা হওয়া ও ছবি তোলা
শত শত হাদীস শরীফের বরাতে যেখানে ছবি তোলাকে হারাম বলা হয়েছে, তারপরেও যখন উক্ত তথাকথিত “শাইখুল হদস” স্বেচ্ছায় প্রায়শঃই পেপার-পত্রিকায় ছবি তোলে। ফরয পর্দা প্রথাকে উপেক্ষা করে বে-পর্দা মহিলার সাথে একত্রে বসে ইফতার করে। একই মঞ্চে মহিলার পায়ের কাছে বসে মিটিং করে, নির্লজ্জ বেহায়ার মত একত্রে ছবি তোলে, এত সব হারাম আমলের পরও কি তাকে “হদস” বলার অপেক্ষা রাখে?
লক্ষ টাকা আত্মসাত
হাদীস শরীফে যেখানে অর্থ আত্মসাত, আমানত-খেয়ানত ইত্যাদি সম্পর্কে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, তারপরও যখন তথাকথিত “শাইখুল হাদীস” সমগোত্রীয়দের দ্বারাই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটে পার্টির তহবিল থেকে দশ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় এবং পরিণামে দলের সদস্য পদ হতে তাকে বহিস্কারও করা হয়। তখনও কি সে “শাইখুল হদস” হয়না?
কুশপুত্তলিকা দাহ
(মূর্তি বানানো ও পোড়ানো)
আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব আখেরী নবী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি আবির্ভূত হয়েছি মূর্তি এবং বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য।” অথচ সালমান রুশদীর মূর্তি বানিয়ে তা বৃটিশ কাউন্সিলের সামনে পোড়ানোর মত ন্যাক্কারজনক কাজের প্রবক্তা বা অগ্রনায়ক আর কেউ নয় তিনি হচ্ছেন, মৌলভী আজিজুল হক …। মূর্তি বানানো এবং কুশপুত্তলিকা দাহ্ করার মত হিন্দুয়ানী কাজ করার পরও কি সে “শাইখুল হদস” নয়?
সালমান রুশদী অপরাধী এবং শাস্তির যোগ্য এ কথা সকল ঈমানদার মাত্রই বলবেন। কিন্তু তাই বলে কি মূর্তি বানানো কিংবা মূতি বানিয়ে পোড়ানোকে শরীয়ত সম্মত বলা যাবে?
নারী নেতৃত্ব
“ইসলামের দৃষ্টিতে নারী নেতৃত্ব হারাম।” এ মৌসুমী ফতওয়া যারা দিলেন, তারাই আবার কি করে দুনিয়া তথা ক্ষমতার মোহে মোহগ্রস্থ হয়ে নারী নেতৃত্বের আচঁলে জোট বাঁধলেন? এতে কি প্রমাণিত হয়না যে, সে আসলেই উপযুক্ত “শাইখুল হদস।”
হরতাল
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, “মুসলমানকে কষ্ট দেয়া কুফরী।” আরো বলা হয়েছে, “দেশকে মুহব্বত করা ঈমানের অঙ্গ।”
প্রায়শঃই তারা ইসলামের নাম দিয়ে হরতাল করছে। অথচ প্রতি একদিনের হরতালে দেশের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি হরতালে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের অন্ত থাকেনা। গত ০৩-০২-২০০১ ঈঃ তারিখে হরতাল ডেকে ‘হদস’ নিজে আল্লাহ্ পাক-এর ঘর পবিত্র মসজিদে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক সদস্যকে হত্যার মত জঘণ্য বর্বরোচিত কাজটি করেছে, যা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। এরপরও কি প্রমাণিত হয়না, সে যথার্থই “হদস ?”
ব্লাসফেমী আইন, মৌলবাদ, গণতন্ত্র
ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন হওয়া সত্বেও ইহুদী-নাছারাদের রচিত ইসলামের নামে ব্লাসফেমী আইন তলব করা, খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের অনুসরণে মৌলবাদী দাবী করা, ইহুদী-নাছারাদের দ্বারা প্রবর্তিত গণতন্ত্রকে ইসলামের নামে করা ইত্যাদি তাবৎ নাজায়েয, নাপাক ও বেদ্বীনী কাজ করার পরও কি বলার বাকি থাকে যে, সে সত্যি সত্যিই যোগ্য “শাইখুল হদস ?”
আর তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফে বলেন, “তাদের অন্তরে মোহ্র মেরে দেয়া হয়েছে।” হাক্বীক্বতেও তাই। আল্লাহ্ পাক আরো বলেন, “কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হবার পর যে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরূদ্ধাচরণ করবে, আর মু’মিনদের পথ হতে ভিন্ন পথের অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাব, যেদিকে সে ফিরেছে।”
হাদীস শরীফে রয়েছে, “আল্লাহ্ পাক যাঁর ভালাই চান তাঁঁকে দ্বীনের সহীহ্ বুঝ দান করেন।” অথচ আল্লাহ্ পাক আরো বলেন, “আমি হক্ব ও না-হক্ব পার্থক্য করা ব্যতীত ছাড়ব না।”
আর যুগে যুগে মুজাদ্দিদুয্ যামান-এর মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক ‘হদস’ শ্রেণীর লোকদেরও পথ দেখান। অর্থাৎ এ আয়াত শরীফের স্ফূরণ ঘটান, “সত্য এসেছে মিথ্যা দূরিভূত হয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা বিদূরিত হওয়ারই যোগ্য।”
আজ এ কথা সর্বজন বিদিত যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাতে “শাইখুল হাদীস”কে “শাইখুল হদস” বলা সত্যি সত্যিই যথার্থ হয়েছে।
-মুহম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মতলব, চাঁদপুর।
এ প্রসঙ্গে “আনোয়ারুল আরেফীন” নামক কিতাবে হযরত রবী বিন সোলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে, আমি একদা হজ্ব যাত্রীদের সাথে হজ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। যখন আমরা কুফা নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় করার জন্য বাজারে গেলাম। হঠাৎ বাজারের পাশে একটি জঙ্গল আমার দৃষ্টিগোচরে আসলো। সেখানে মৃত একটি খচ্চর বা গাধা পড়ে আছে, আর জীর্ণ-শীর্ণ, টুটা-ফাটা কাপড় পরিহিতা এক মহিলা (যাকে দেখে মনে হলো অত্যন্ত শরীফ) চাকু দিয়ে খচ্চর বা গাধার গোশ্ত কেটে কেটে তার থলিতে রাখছে। তখন আমার সন্দেহ হলো যে, এ মহিলাটি মৃত জন্তুর গোশ্ত নিয়ে বাজারে বিক্রি করে কিনা? তা দেখার জন্য আমি অতি সংগোপনে তার পিছে পিছে যেতে লাগলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর মহিলাটি একটি বাড়ীর দরজার করা নাড়ল, তখন জীর্ণ-শীর্ণ, টুটা-ফাটা কাপড় পরিহিতা ফুটফুটে চারটি মেয়ে দরজা খুলে দিল। তাদেরকে দেখেও মনে হলো তাঁরা অত্যন্ত শরীফ বংশের লোক। মহিলাটি ঘরে প্রবেশ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় তাদেরকে বললেন, এ গোশ্তগুলো পাক কর এবং আল্লাহ্ পাক-এর শোকরিয়া আদায় কর।
আমি এই হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে সেই মহিলাকে ডাক দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহ্র বান্দীরা! আপনাদের এ হারাম গোশ্ত খাওয়ার পিছনে কি কারণ রয়েছে? আপনারা কি মজুসী? আমার জানা মতে মজুসীদের মধ্যে একদল আছে যারা মৃত গাধার গোশ্ত খাওয়া জায়েয মনে করে।” এর জবাবে মহিলাটি পর্দার আড়াল থেকে বললেন, “হে অপরিচিত ব্যক্তি! আপনার হয়তো জানা নেই, আমরা হলাম নবুওওয়াতী খান্দানের লোক অর্থাৎ আওলাদে রসূল। আমাদেরকে যিনি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন এই মেয়েদের পিতা, তিনি গত তিন বৎসর পূর্বে ইন্তিকাল করেছেন। তখন হতে আমাদের কোন সাহায্যকারী নেই। পরিত্যক্ত সম্পদ যা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের জানা আছে যে, মৃত জন্তুর গোশ্ত খাওয়া জায়েয নেই। কিন্তু আমরা আজ তিন দিন যাবত না খেয়ে রয়েছি, এখন আমাদের জন্যে মৃত প্রাণীর গোশ্ত খাওয়া মুবাহ্।”
হযরত রবী বিন সোলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “আমি সম্মানিতা আওলাদে রসূলের এই হৃদয় বিদারক ও দুঃখজনক ঘটনা শুনে অনেকক্ষণ কাঁদলাম। অতঃপর বললাম, আপনারা এ সমস্ত খাদ্য দয়া করে খাবেন না। আমি খাদ্যের ব্যবস্থা করছি- বলে বাজারে গিয়ে তাঁদের জন্য কাপড়-চোপড় এবং খাবার কিনে নিয়ে আসলাম। আর ছয়শত দিরহাম তাঁদেরকে হাদিয়া স্বরূপ দিলাম। যদিও এর কারণে আমার হজ্বে যাওয়ার টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেল।
আর এগুলো পেয়ে তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। মহিলাটি দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক, হযরত রবী বিন সোলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আগের এবং পরের সমস্ত গুণাহ্ মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাত নছীব করুন।”
বড় মেয়েটি দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! তাঁর গুণাহ্মাফ করে দ্বিগুণ ছওয়াব দান করুন।”
দ্বিতীয় মেয়েটি দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! সে যা দান করেছে, তার চেয়ে বশী দান করুন তাঁকে।”
তৃতীয় মেয়েটি দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! তাকে আমাদের নানা রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে একত্রিত হওয়ার তৌফিক দান করুন।”
এবং সবশেষে ছোট মেয়েটি বললেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! যে আমাদের প্রতি ইহ্সান করেছে, তাঁকে অচিরেই উত্তম জাযা দান করুন।”
অতঃপর আমি কুফাতে এসে দেখলাম হাজীদের কাফেলা হজ্বের উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছে। তখন আমি সেখানেই রয়ে গেলাম। আর হজ্বে যাওয়ার সমস্ত টাকা আওলাদে রসূল-এর মুহব্বতে দান করে দিলাম, এটা উত্তম হলো নাকি হজ্ব করলে উত্তম হতো সে ব্যাপারে আমি দ্বিধাদ্বন্দে¦ ভূগতে লাগলাম। যথাসময়ে হাজীদের প্রত্যাবর্তনের সময় হয়ে আসল। তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে দোয়া নেয়ার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম।
হাজীদের কাফেলা পর্যায়ক্রমে আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাদেরকে মোবারকবাদ দিচ্ছিলাম। আর তারা প্রত্যেকেই আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলছিলেন কেন! আমরা আপনাকে তো আরাফাতের ময়দানে, মুযদালিফায়, মিনাতে, মদীনা শরীফে, হজ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখেছি। বিশেষ করে একজন হাজী বললেন, “আপনি রওজা শরীফে যিয়ারত করার পর বাবে জিব্রাঈল থেকে বের হওয়ার সময় হাজীদের ভীড়ের কারণে আমার কাছে আমানত স্বরূপ এ থলেটি রেখেছিলেন। এখন আপনার থলেটি আপনি গ্রহণ করুন।” উক্ত হাজী ছাহেব এমনভাবে বললেন যে, থলেটি আমাকে গ্রহণ করতেই হলো। আর আমি গ্রহণ করে মনে মনে চিন্তা করলাম এটি আল্লাহ্ পাক-এর দান ব্যতীত আর কিছুই নয়। কারণ ইতোপূর্বে এ থলেটি আর কখনো দেখিনি। অতঃপর আমি বাড়ীতে এসে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুমিয়ে স্বপ¦যোগে রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দর্শন লাভ করলে সালাম দিয়ে তাঁর হস্ত মুবারক চুম্বন করলাম। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, “হে রবী! তুমি যে হজ্ব করেছ, তা মেনে নিতে আশ্চর্য্যবোধ করছ? এজন্য আমি আর কতজন সাক্ষী পেশ করব যে, তুমি হজ্ব করেছ?” জবাবে আমি বললাম, “ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমিতো এ বৎসর হজ্ব করিনি। বরং হজ্বে যাওয়ার পথে আপনার আওলাদের অন্তর্ভূক্ত এক অসহায় পরিবারকে আমার ছয়শত দিরহাম হাদিয়া দিয়ে এসেছি।”
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি তাদেরকে হজ্বের সমস্ত সামানা দিয়ে হজ্বে যাওয়া মুলতবী রাখলে, আর তারা তোমার জন্য দোয়া করলেন, তখন আমি আল্লাহ্ পাক-এর নিকট দোয়া করলাম, যেন আল্লাহ্ পাক তোমাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন। আমার দোয়ার কারণে আল্লাহ্ পাক তোমার আকৃতিতে একজন ফেরেশ্তা সৃষ্টি করলেন, যেন সে ফেরেশ্তা তোমার পক্ষ হয়ে, তোমার আকৃতিতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত প্রতি বছর হজ্ব করেন, আর তার ছওয়াব তোমার আমলনামায় পৌঁছতে থাকে। আর উক্ত থলিতে তোমাকে তোমার ছয়শত (৬০০) রৌপ্যমুদ্রার পরিবর্তে (৬০০) স্বর্ণমুদ্রা দেয়া হয়েছে। যেন তোমার মনে শান্তি থাকে।”
অতঃপর রাউফুর রহীম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাক্যটি উচ্চারণ করলেন যে, “আমাদের সাথে যে ব্যবসা করে, সে লাভবান হয়।”
আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলের অন্তকরণে আওলাদে রসূলগণকে খাছ মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)
আওলাদে রসূলগণের এত ফযীলত মর্যাদা ও মর্তবা থাকা সত্বেও আহমদ রেযা খাঁ ও তার অনুসারীরা সেই আওলাদে রসূল, মুজাহিদে আ’যম, ছহেবে ইলমুল্লাদুন্নী, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে নানা প্রকার গালি-গালাজ, অপবাদ ও কুফরীর ফতওয়া দিয়ে নিজেদেরই হাক্বীক্বত ফুটিয়ে তুলেছে।
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ রুহুল আমীন, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
আলিম যেমন মুসলিম উম্মার রহমত স্বরূপ, তেমনি আবার আযাব-গযবের কারণও বটে। যাঁরা ইলমে ফিক্বাহর পরিপূর্ণ জ্ঞান হাছিলের সাথে সাথে ইলমে মা’রিফত বা তাছাউফ হাছিল করেছেন। যার কালব বা অন্তঃকরণ পরিশুদ্ধ হয়েছে, তারা জগতবাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। পক্ষান্তরে যারা ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করেই একে যথেষ্ট মনে করতঃ ইলমে তাছাউফ শিক্ষা হতে বিরত রয়েছে এবং অন্তব পরিশুদ্ধির প্রয়োজন মনে করেনা, তারা জগতবাসীর জন্য আযাব ও গযবের কারণ।
একদা এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী, গাউসুল আ’যম, বড় পীর শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীকত, ইমাম হাছান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “আলিম যদি জাহিদ (দুনিয়া বিরাগী, কৃচ্ছ সাধনাকারী তথা তাছাউফ পন্থী) না হয়, তবে তার যুগের লোকের উপর খোদায়ী আযাব ও গযব নাযিল হয়।” সুতরাং ইহার মধ্যে কি রহস্য লুকায়িত যে, তিনি অন্যের জন্য আযাব-গযবের কারণ স্বরূপ হবেন?
সাইয়্যিদুল আউলিয়া ওয়াল মুরশিদীন, গাউসুল আ’যম, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, বড় পীর শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার জাওয়াবে বলেন, “তার কারণ এই যে, এরূপ ব্যক্তি ইখলাছ ও আমল ছাড়াই ওয়াজ তথা হাদীর কাজ করে থাকে। কিন্তু তা লোকের অন্তরে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনা এবং উহা স্থায়ীও হয়না। সুতরাং লোকে শুনে ঠিকই, কিন্তু আমল করেনা। আর শুনে আমল না করলে আযাব-গযব অবর্তীণ হয়।” (ফাতহুর রব্বানী)
প্রিয় পাঠক! আহমদ রেযা খা শুধু ইলমে তাছাউফে অন্তঃসার শূণ্য ছিল তা নয়, উপরোন্ত সে ছিল হক্কানী আলিম বিদ্বেষী, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের শত্রু ভাবাপন্ন। যার ফলশ্রুতিতে নিজে যেমন খোদায়ী রোষানলে পতিত হয়েছে, তার কারণেই অনুসারীদের উপরে তেমনি খোদায়ী আযাব ও গযব নাযিল হয়েছে। আহমদ রেযা খা, রেযাখানী মাযহাব তথা তার অন্ধ অনুসারীদের জন্যে কত ভয়াবহ আযাব ও গযবের কারণ হয়ে বিরাজ করছে তার বিস্তারিত ফিরিস্তি আপনাদের খিদমতে ধারাবাহিকভাবে পেশ করব। ইনশাআল্লাহ!
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন, আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, “আলিমের অন্তঃকরণ যখন বিশুদ্ধ এবং ইলম দ্বারা আলোকজ্জ্বল হয়ে যায়, তখন নিজস্ব আলো দ্বারা সৃষ্টির বিপদাপদ, বালা-মুছীবহ ও দুঃখ-কষ্ট এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন জাহান্নামের উপর দিয়ে পুলছিরাত অতিক্রম করার সময় মু’মিনের নূর জাহান্নামের আগুন নিভিয়ে দেয়।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুর রব্বানী)
যার বাস্তব ও সমুজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছেন, ১৩ শতকের মুজাদ্দিদ, আমীরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুশ্ শুহাদা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যা হাতে গণা, হিংসুক প্রকৃতির কিছু লোক ব্যতীত মুসলিম উম্মার সকলেই অবগত বাতিলের আতঙ্ক, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী মাসিক আল বাইয়্যিনাত পড়ে বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়েছে।
সম্মানিত পাঠক! আহমদ রেযা খাঁ তার অনুসারীদের উপর কিরূপ আযাব ও গযবের কারণ হয়েছে, তা তাদের আক্বীদা, বিশ্বাস, আমল-আখলাক ও বক্তব্য থেকে পরিস্ফুটিত হয়। যখন কারো উপর থেকে আল্লাহ্ পাক-এর রহমত উঠে যায়, তখন তার বিবেক বুদ্ধি আক্বল-সমঝ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মুখ দিয়ে কুফরী-শিরকীমুলক কথা বের হয়ে আসে। আহমদ রেযা খাঁর অন্ধ পূঁজারীরা সেই একই অবস্থার স্বীকার হয়েছে। তারা আহমদ রেযাকে খোদা, নবী-রসূল, কি বলবে তার দিশা পায়না। তাকে ঘিরে জঘণ্যতম কাট্টা কুফুরী আক্বীদার উদ্ভব ঘটেছে।
“নুগমাতুর রুহ” কিতাবের ৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- “এই দোয়া যে, তোমার এবং সকলের খোদা আহমাদ রেযা” (নাউযুবিল্লাহ) (রেযাখানী মাযহাব -৪৩)
কত বড় গোমরাহীতে, আযাব ও গযবে পতিত হলে, মানুষকে খোদার স্থানে বসাতে চায় তা বলাই বাহুল্য।
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী, কুড়িগাম।
মাসিক মদীনা ভুল মাসয়ালা আর গোমরাহ্ী বিস্তারের এক জঘণ্য পত্রিকা
ইসলামের নামে বিকৃত শিক্ষা দেয়ার অপরাধে, যে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে আশু পদক্ষেপ একান্ত দরকার
(ধারাবাহিক)
তারা কয়েকজন হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফরমান নিয়ে হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর কাছে উপস্থিত হলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়ে মহিলারা মসজিদে নামায পড়তে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু “মসজিদে মহিলাদের নামায নিষিদ্ধ করে দিলেন” এই নিষেধবাণী কোন পর্যায়ের হলো, সে বিষয়েই তারা মা আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু না, হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তাদেরকে বিপরীত কোন কিছু শোনালেন না। বরং হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বক্তব্যকেই আরেকটু ঘনীভূত করে বললেন, “আজ তোমাদের মাঝে পর্দার যে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে, তাতে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকলেও একই কথা বলতেন।”
বলাবাহুল্য, সেই পবিত্র যুগে যখন পর্দা বর্তমানের চেয়ে অনেক কড়াকড়িভাবে বজায় ছিল, তাকেই যদি মা আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা পর্দার শিথিলতা বলে উস্মা প্রকাশ করেন আর আজকে যখন মহিলারা জামায়াতের নামে বোরকা ছাড়া বে-পর্দাভাবে জমায়েত হয়, তাদের আপত্তিকর বে-পর্দা ছবি পত্রিকার পাতায় প্রকাশ করা হয়, তাদের কল-কাকলী মসজিদের ভিতরও পুরুষ হৃদয়ে ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি করে, তখন সঙ্গত কারণেই এ প্রশ্ন কি জোরদার হয়ে উঠেনা যে, কারা এর সুযোগ করে দিল? পাঠক তার প্রমাণ নিম্নরূপ-
মাসিক মদীনাঃ জুলাই/৯৭ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “মহিলারা ইচ্ছা করলে ঈদের নামাযের জামায়াতে শরীক হতে পারেন।” (দলীল নেই)
মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ যে কোন নামায মহিলারা জামায়াত করে আদায় করতে পারবে না। মহিলাদের জন্য জামায়াতে নামায আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী তথা হারামের কাছাকাছি। (দলীলসমূহঃ উমদাতুল ক্বারী, শরহে বুখারী, ফতহুল মুলহিম, শরহে আবূ দাউদ, মায়ারেফে মাদানী, শরহে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ, শরহে ইমাম সুয়ূতী, মিরকাত, শরহে মিশকাত ইত্যাদি)
পাঠক! মহিলাদের এভাবে নেকীর ছূরতে যারা বে-পর্দা, বেশরা করে দিতে চায়, তারা যে কত বড় ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী, বেয়াদব তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ তারা কি তাদের মনগড়া ফতওয়া দ্বারা এই প্রমাণ করতে চায়না যে, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাকে দেখলে শয়তানের মাথা খারাপ হয়ে যেত, সে পালানোর পথ খুঁজতে গিয়ে হত-বিহ্বল হয়ে পড়তো, যাঁর জবান মুবারকে আল্লাহ্ পাক কথা বলেন, আর হযরত আয়শা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা যাঁর প্রসঙ্গে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার পরে অর্ধেক দ্বীন শিক্ষা করবে মানুষ তোমার কাছ থেকে।” সেই হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আর হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চেয়েও মাহিউদ্দীন গং বেশী বুঝেছে।
অথচ এই বেয়াদব মাহিউদ্দীনই আবার ২-২-০১ তারিখে মহিলাদের বে-পর্দাকারী বলে এন,জি,ওদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে হুঙ্কার ছেড়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গনঅভ্যুত্থানের গণসূচনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু মুখে এক কথা আর কলমে নেকীর ছূরতে নিজেই মহিলাদের বে-পর্দার প্রতি ধাবিত করে কি নিজেকে জঘণ্য মুনাফিক প্রমাণ করলোনা? (চলবে)
– মুহম্মদ লিসানুল্লাহ্।
আওলাদে রসূলগণের প্রতি আমরা অত্যন্ত দূর্বল। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশ লতিকার প্রতিভু হিসেবে আমরা অবশ্যই তাদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করতে উদগ্র আগ্রহী। এই সম্মান জ্ঞাপনের তীব্রতা এতই বেশী যে, কেউই আওলাদে রসূল দাবী করলে আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত। যিনি দাবী করবেন উহার সত্যতা তার উপররই বর্তায় বলে প্রমাণপত্র অনিবার্য মনে করিনা।
অর্বাচীনদের মত আমরা এ কথা বলিনা যে, আওলাদে রসূল দাবী করতে গেলে তাকে অবশ্য অবশ্যই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত বংশীয় সিলসিলার বয়ান করতে হবে। নচেৎ সে কোন দিনই আওলাদে রসূল দাবী করতে পারবে না। কারণ কালের গর্ভে ঘটনা প্রবাহে, কারণে অকারণে সবার পক্ষেই সব সময় এই বংশীয় সিলসিলার বয়ান করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু এই ব্যাত্যয় আওলাদে রসূলের তবকা হতে বিচ্যুত করতে পারেনা। যেহেতু সম্পর্কটা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে। সুতরাং কেউ না মানলেও কোন প্রমাণ না থাকলেও সত্যি হলে তিনি অবশ্যই আওলাদে রসূল।
তবে সঙ্গত কারণে যা বলতে হয়, কেউ আওলাদে রসূল দাবী করে যদি আবার নিজের থেকেই প্রমাণ পত্র জাহির করার কোশেশ করে, বংশীয় সিলসিলার বয়ান করে নির্ভেজাল সাজবার প্রয়াস চালায় আর ঘটনাক্রমে সেই বংশীয় সিলসিলার যদি সুস্পষ্ট জালরূপে প্রতীয়মান হয়, তখন অনিবার্য কারণে তাকে আর ভেজালের তবকা থেকে বাদ দেয়া চলেনা।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা চলে এ ধরণের একটি বিশ্বস্ত ও প্রকাশ্য দলীল-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে রেযাখানী মাযহাবের আমদানীকৃত বর্তমান মুখপত্রের ক্ষেত্রে। বিষয়টি তাদেরও অজানা নয়। সঙ্গত কারণেই তারা নছীহত হাছিল করবে কি?
-মুহম্মদ ফারুক, পাহাড়তলি, চট্টগ্রাম।
অবশেষে সুন্নী নামধারী তরজুমান গং স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, শেরে বাংলাসহ বহু নামধারী সুন্নী মৌলভীরা হুক্কা, বিড়ি খেতো। আমরা আশ্চর্য হয়ে যাই, এই বিড়ি সেবনকারীকে নিয়ে নামধারী সুন্নীদের গর্ব দেখে? কোন ইমাম-মুজতাহিদ, সলফে সালেহীন, উচ্চ বেলায়েতধারী ওলী, বুযুর্গ কি কখনো বিড়ি-সিগারেট খেয়েছেন? এই নাপাক উৎকট দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু যা ফেরেশতা উনাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা কি করে খাওয়া সম্ভব হয়? যেখানে ফতওয়ার কিতাবে কাঁচা পিঁয়াজ, কাঁচা রসুন খেয়ে মুখ ভাল করে ধৌত না করে মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী পর্যন্ত বলা হয়েছে। এমনকি এই জীবননাশক ধুমপান সম্পর্কে আধুনিক বিশ্ব প্রতিটি সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ধুমপান সংবিধিবদ্ধ সতর্কিকরণ, “ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর” ইত্যাদি নোটিশ পর্যন্ত লাগিয়ে দিয়েছে। শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে- “ধুমপান মাকরূহ তাহরীমী।” এরপরও যদি আমরা ধুমপানকারীদের ভুল কথা গ্রহণ করি যে, তারা বলে ইহা জায়েয। আর ইহা যদি জায়েযও ধরে নেয়া হয়, তাতেও উক্ত উৎকট দুর্গন্ধ বস্তুটি সেবন করা তাক্বওয়ার যে মারাত্মক খেলাফ তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর তাক্বওয়ার খেলাফ কাজ করে কেউ কখনো বুযুর্গী হাছিল করতে পারে না।
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমুগণ তাক্বওয়া অর্জনের দরুণ বাজারের ভেজাল ঘি, দধি, মিষ্টান্ন পর্যন্ত খেতেন না। ফুরফুরা শরীফ-এর পীর ছাহেব ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সহ আরো আলা দরজার বহু বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনীতে উল্লেখ আছে যে, “উনারা তাক্বওয়া অর্জনের জন্য কাঁচা পিয়াজ পর্যন্ত খেতেন না।” অথচ এই নামধারী মৌলভী শেরে বাংলা যে মৌলভী শেরে বাংলা যে সারাজীবন বিড়ি, সিগারেট আর হক্কা খেয়ে এসেছে!
এখন ভ- নামধারী সুন্নী নিম মৌলভীদের কাছে আমাদের প্রশ্ন? এই শেরে বাংলা যাকে নিয়ে আপনারা গর্ব করেন, সে কি সারাজীবন তাক্বওয়ার খেলাফ কাজ করেনি? পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এই আয়াতের মেছদাক কি সে নয়?
والذى خبث لايخرج الانكدا.
অর্থ: “যা নাপাক, তার থেকে নাপাক ছাড়া কিছুই বের হয়না।” (সূরা আরাফ/৫৮)
আর আরবী এই ক্বওল শরীফটিও মনে হয় শেরে বাংলার জন্য প্রযোজ্য, كل اناء يترشح بما فيه.
অর্থ: “পাত্রে আছে যাহা ঢালিলে পড়িবে তাহা।”
আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বেমেছাল বুযুর্গী ও মর্যাদা মূল্যায়ণ এবং বালাকোটের ইতিহাস বিকৃতকারী আহমদ রেযা খাঁর স্বরূপ উদঘাটন সম্পর্কে (৭)
হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দরবার শরীফে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মর্যাদা
আল্লামা গোলাম রসূল মিহির প্রণীত “সৈয়দ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের ৯২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “বোখারা হতে এক ব্যক্তি মা’রিফাত শিক্ষা লাভের জন্য হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খিদমতে উপস্থিত হন। লোকেরা তাঁকে মোল্লা বুখারী বলতো। এই সময় আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সামনে বসা ছিলেন। তিনি যদিও যিকির-আযকার এবং উপদেশ নছীহত করে সময় অতিবাহিত করতেন, তবুও সৈনিক বেশে থাকতেন। অর্থাৎ ছোরা এবং পিস্তল কোমরে বাঁধা থাকতো। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি মোল্লা বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে সোপর্দ করেন। হযরত মোল্লা বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সাথে সাথে বলে উঠলেন, “এই সৈনিক পুরুষ আমাকে কি শিক্ষা দিবে?” তিনি হযরত আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি কি কিতাব পাঠ করেছেন?” তিনি চুপ করে রইলেন। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “ভাই মোল্লা ছাহেব! তা দিয়ে আপনার কি প্রয়োজন? এ কথা স্মরণ রাখুন যে, আমার নিকট বার বৎসরে যা লাভ হবে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট উহা বার দিনে পাবেন।” (সুবহানাল্লাহ্) মোল্লা বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি চুপচাপ আকবর আবাদী মসজিদে গিয়ে উঠলেন। যা লাভ করার জন্য তিনি এসেছিলেন, আট দিনের মধ্যেই তা লাভ করলেন। আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি পরে কয়েবার বলেছেন, “খোদা প্রাপ্তির পথে এমন আগ্রহশীল ব্যক্তি হযরত মোল্লা বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত আমি আর কাউকে দেখিনি।” হযরত মোল্লা বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিও বলতেন, “এমন দরদশীল মেহেরবান মুর্শিদও আমি কখনো দেখিনি।”
ইমামুল হুদা হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “নুরুল আলা নূর” কিতাবে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জামাতা হযরত মাওলানা আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বাইয়াত হওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেন, “একদিন তিনি হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট নামাযের রহস্য এবং হুজুরী কল্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তাছাউফ এবং আখলাকের কিতাব যেমন, “এহ্ইয়াউলুম” নামক গ্রন্থ পাঠ করা উচিত। কিন্তু কামিল মুর্শিদ ব্যতীত উহা আয়ত্বে আসেনা। সাথে সাথে তিনি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট তাকে ফতওয়ার পরামর্শ দিলেন। হযরত মাওলানা আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি এ সম্পর্কে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “মাওলানা ইহা তর্ক-বিতর্কে লাভ হয়না। এই নামাযেই নুবুওওয়াতের শুরুতে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালামকে পড়ে দিলেন। উঠুন আমার পিছনে দু’রাকায়াত নামায আদায় করুন। হযরত মাওলানা আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নির্দেশক্রমে দু’রাকায়াত নামায তাঁর পিছনে আদায় করলেন। মাওলানা পরবর্তীকালে প্রায়ই বলতেন, এ দু’রাকায়াত নামাযে যে নিয়ামত আমি পেয়েছিলাম, সারা জীবনেও উহা পাইনি।”
হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলী প্রণীত “মাখযানে আহম্মদী” কিতাবের ২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি দিল্লী পৌঁছার এক সপ্তাহ্ পূর্বে হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বপ্নে দেখলেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিল্লীর জামে মসজিদে তাশরীফ এনেছেন। তার দীদার হাছিলের জন্য যেন সমস্ত পৃথিবী ভেঙ্গে পড়তেছে। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব প্রথম শাহ্ ছাহেবকে মোছাফাহা করা সৌভাগ্য দান করেন এবং তাঁকে একখানা লাঠি দিয়ে বললেন, তুমি মসজিদের দরজার পাশে বসে আগতদের পরিচয় আমাকে অবগত করাও। অতঃপর যাকে অনুমতি দেয়া হবে, তাকে ভিতরে আসতে দিবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথমে হযরত শাহ্ গোলাম আলী দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট গমন করেন।
তিনি বললেন, বর্তমান যামানার ইউছুফ আমার নিকট স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে এসেছে। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “না, আপনাকে বলতে হবে।” তখন হযরত শাহ্ গোলাম আলী দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “ঐ স্বপ্ন শুনে মনে হচ্ছে আপনি অথবা আপনার কোন (বিশেষ) মুরীদ দ্বারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিদায়েত ও ফয়েজের সিলসিলা জারী হবে।” হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমরাও তাই মনে হচ্ছে।”
অনত্র বর্ণিত আছে, হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্বপ্ন দেখার এক সপ্তাহ পর হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি দিল্লী পৌঁছলেন। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট মুরীদ হবার জন্য। তখন হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিশ্বাস হলো, স্বপ্নে আমাকে যে সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে আল্লাহ্ পাক চাহেন তো হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দ্বারাই তা পূরণ হবে। (সুবহানাল্লাহ্)
-শের-ই বাংল মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
ইতিপূর্বে আলোচিত হইয়াছিল, রেযা খানীরা তাহদের কুমতলব হাছিলের জন্য “যখীরায়ে কারামতের” কথা উল্লেখ করিলেও আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে “যখীরায়ে কারামতের” বিবৃতিগুলো কি আশ্চর্য্যজনকভাবে চুপাইয়া রাখিয়াছে। প্রসঙ্গ এই বিষয়ে হাদীসে প্রসঙ্গে কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আরো বক্তব্য সংযোজিত হইল।
প্রকৃতপক্ষে শিরক এবং কূফর হইতে বিরত রাখিবার ব্যাপারে এই দেশের সমস্ত লোকের মূর্শিদ তিনিই। কেহ জানুক বা না জানুক, কেহ মানুক বা না মানুক। আর বিশেষ বিশেষ লোকদিগকে জ্ঞাত করাইবার জন্য এই কথাই যথেষ্ট যে, মূর্শিদে বরহক্ব আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আবির্ভাবের প্রাক্কালে সমাজের সাধারন মানুষ ও আলিম প্রকাশ হওয়ার পূর্বে যাহাকে আল্লাহ্ তায়ালা হিফাজত করিয়াছে- এইরুপ লোক খুবই নগন্য। তখন আলিম নামধারীদের এই অবস্থা ছিল যে, ফিক্বাহ, আক্বাইদ, তাফসীর সমস্ত কিছুই পড়িত এবং পড়াইত কিন্তু সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা হইতে সম্পূর্ণ বিরত ছিল। যাহার ফলে তাহাদের নিকট কেহই দ্বীনের মাসায়েল অনুসন্ধান করিবার জন্য আসিত না এবং কোন ফতওয়াও তাহাদের নিকট নিয়া আসিত না। এই কারণে এমন মূর্খতার অন্ধকার ছড়াইয়া পড়িল যে, ঐ সমস্ত আলিমদের সময় মানুষের আমল এবং আক্বীদার অবস্থা খুবই খারাপ হইয়া গিয়াছিল। মোটকথা, জীবন মৃত্যু উভয়ের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কাফন-দাফনের মাসয়ালাও জানিত না। কাফন-দাফন, গোসলের মধ্যে খুবই খারাপ কাজ করিত। আর মুর্খতা এমনভাবে ছড়াইয়া গিয়াছিল যে, সুন্নী সুন্নী হইতে, শিয়া শিয়া হইতে এক বদনা পানি লইয়া মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিবার জন্য ফুঁক দেওয়াইয়া লইত। আর অবস্থা অবিকল এইরূপ হইয়াছিল যে, যেমন লোকেরা কোন কোন দেশের কিস্সা-কাহিনী বর্ণনা করিয়া থাকে যে, সেইখানকার লোকেরা নিজের পীর হইতে যবেহ করিবার নিয়ত, ফাতেহা ছুরির উপর এবং বাঁশের চুঙ্গার মধ্যে ফুঁক দেওয়াইয়া রাখিত। ইহার কারণ লোকেরা নিজেদের আক্বীদা এবং মাযহাব হইতে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল। ঐ সময় পাকা সুন্নী লোক বলিত, “আমরা আল্লাহ্র বান্দা; মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত এবং আহ্লে বাইতের (রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার-পরিজনকে আহ্লে বাইত বলে) প্রতি মুহব্বত আছে। আর যখন কেহ জিজ্ঞাসা করে চার বন্ধুকে (চার খলিফা) কি মনে কর, তখন সে বলিবে আমরা তাহাদিগকে ভালও বলিনা, মন্দ বলিনা। আর শিয়ারা বহু গর্হিত ও অশ্লীল কিস্সা কাহিনী বলিত, যাহার মধ্যে হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আল্লাহ্ হওয়া (ইহা হইতে আল্লাহ্র আশ্রয় কামনা করি) কিম্বা আল্লাহ্র ছেলে হওয়া উল্লেখ ছিল বলিয়া বর্ণনা করা হইতো। নামায-রোযার কোন চর্চা ছিলনা। যে কেহ বড় আবেদ হইত মুখ-হাত ধুইয়া চাটাই বিছাইয়া মনকবত (হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- পরিবারস্থগণ ও তাঁহার শ্রেষ্ঠ সহচরগণ) পড়িত। আর যাহা কিছু পবিত্র আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করিবার চাহিত সুতরাং ঐ মনকবতে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর নিকটে চাহিতেন। ইহা ছাড়া আরো অনেক প্রকারের শিরক এবং কুফরী কাজ প্রচলিত ছিল। কেহ কাহাকেও নিষেধ করিবার মতো লোক ছিলনা। যাহারা শিরক কাজ ও তাজিয়াদারী হইতে বিরত থাকিত, তাহাদের এই অবস্থা ছিল যে, দুই এক ঘটি শরবত ইমামের চত্বরে পাঠাইয়া দিত।
এখন ইনসাফ কর এবং নিজের অন্তরে চিন্তা কর যে, হযরত সাইয়্যিদ ছাহেবের প্রকাশের সময় হইতে এখন পর্যন্ত কি হইয়াছে এবং লোকেরা নিজের মাযহাব এবং আক্বাইদ সম্বন্ধে কিরূপ ওয়াকেফহাল হইয়াছে এবং কেমন কেমন দ্বীনী মাসায়েলের অনুসন্ধান করে এবং কেমন কেমন ফতওয়া দেখাইবার জন্য আলিমদের নিকটে আসে এবং কত সত্য ফতওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঐ সময়ের আলিমগণ ঃলিখিতেন। আলিমগণ কিতাবের বিষয়বস্তু নিয়া খুব গবেষণা করিতেন আর ইলমুল ইয়াক্বীন আইনুল ইয়াক্বীনে পরিণত হইয়াছে। অবস্থা এই দাঁড়াইল যে, হযরত আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর এই খেদমতের প্রতিফলন স্বরূপ একচ্ছত্র হিদায়েতকারী নিজের অনেক বন্ধু-বান্ধবকে ওয়াজ করিতে লাগাইয়া দিলেন এবং কেহ কেহ দ্বীনী কিতাবাদি লেখিতে আরম্ভ করিলেন। কেহ উহা ছাপিতে লাগিলেন। এইভাবে হেদায়েত জনসাধারণের মধ্যে ছড়াইয়া পড়িল যে, গ্রামে গ্রামে, শহরে, শহরে পৌঁছিয়া গেল। এবং আঁ-হযরত ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর যামানার নমুনা দৃষ্টিগোচর হইতে লাগিল, কেননা আঁ-হযরত ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যমানার দ্বীনের প্রচার এইভাবেই হইত …… এই প্রকারের বর্ণনাই তার মুজাদ্দিদ হওয়ার নিদর্শনের পরিচয় লাভে যথেষ্ট।
-মুফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
তথাকথিত ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন মসজিদে পুলিশ হত্যা এবং
কমিনি, শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন ও চরমোনাই গং-এর জিহালতি ও সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে
ক্রুসেডের প্রারম্ভিক যুদ্ধের সময় থেকেই খৃষ্টান লেখকরা, ঐতিহাসিকরা, কল্পনাপ্রসূত ধারণা ও মিথ্যা তথ্য দ্বারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং খ্রীষ্টধর্মের কাছে ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য আল্লাহ্র রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের ঘটনা প্রবাহকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।
খৃষ্টান লেখক ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে জর্জ সেল তাঁর ‘পাক কোরানের অনুবাদ’-এ, এডওয়ার্ড গিবন তাঁর ‘ডিক্লাইন এন্ড ফল অব রোমান এম্পায়ার’-এর, স্যার উইলিয়াম ম্যুর তাঁর ‘লাইফ অব হলি প্রফেট’-এ, এইচ, জি, ওয়েল্স্ তাঁর ‘এ্যান আউটলাইন অব দ্য হিস্ট্রি’ তে, এডওয়ার্ড এ, ফার্মার হিষ্ট্রি অব কন্কোয়েষ্ট অব সারাসেন্স্-এ, ওয়াশিংটন আভিং ‘মুহম্মদ’-এ এবং টমাস কার্লাইল তাঁর ‘হিরোয্ এন্ড হিরো ওয়াশিপ’-এ ইসলাম ও তার নবীকে খুবই হেয়ভাবে চিত্রিত করতে প্রয়াস পেয়েছে।
খ্রীষ্টান ঐতিহাসিক ও যাজকগণ যুক্তভাবে গোড়ামি, অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ করে দোষারোপ করেছে ইসলামের উপর। তাদের সেই আপাতঃ অভিযোগ শুনে অনেকেই প্রথমটায় ইসলামের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হলেও অপেক্ষাকৃত বেশী পড়াশোনা, অনুসন্ধানী চেতনা, সত্যানুসন্ধানী প্রচেষ্টা খুলে দিয়েছে তাদের বিবেকের দ্বার।
তারা জেনেছেন ক্রুসেড যোদ্ধাগণ ১০৯৯ খ্রীষ্টাব্দে যখন আরবের পবিত্র ভূমি আক্রমণ করে, তখন তারা যেখানেই গিয়েছে সেখানেই রেখে গিয়েছে মৃত্যু আর ধ্বংস। আর ১১৮৯ খ্রীষ্টাব্দে সুলতান সালাহউদ্দীন যখন সেই পবিত্রভূমি থেকে খ্রীষ্টানদের বিতাড়িত করেন, তখন প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষীণ কোন চিহৃই সেখানে ছিলনা। কনষ্টেনটাইনের আমলে গির্জাগুলো যখন অসামরিক ক্ষমতা লাভ করে, তখন বলপ্রয়োগের সাধারণ নীতি গৃহীত হয় এবং খ্রীষ্ট বিরোধী সবার উপর প্রচন্ড দমনীতি কার্যকর হয়, অনেককে পুড়িয়ে মারা হয়। ১৫২১ সালে রাজা পঞ্চম চার্লস সকল অখ্রীষ্টানদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের হুকুম করে। গোঁড়া খ্রীস্ট ধর্ম গ্রহণের অস্বীকৃতির স্বাভাবিক শাস্তি হয় আগুনে পুড়িয়ে মারা, ফাঁসিতে ঝোলানো আর টেনে মুচড়ে জিভ বের করে ফেলা।
মুসলমানদেরকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে স্পেনে। রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলা স্পেন থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিল ইসলামকে। রাজা চর্তুদশ লুই ফ্রান্সে প্রোটেষ্টান্ট মতবাদকে আইনতঃ দন্ডনীয় করেছিল। ইংল্যান্ডের প্রোটেষ্টান্ট হওয়ার পর দীর্ঘকাল ধরে আচার্য প্রধান গির্জার সভ্যরা হয়েছে জেল-বন্দী, অগ্নি-দগ্ধ, কষাঘাতে জর্জরিত, কাঠের তৈরী পিলরিতে শাস্তিপ্রাপ্ত। স্কটল্যান্ডর পাহাড়ে পাহাড়ে অপরাধী জন্তুর মত তাদের চড়ানো হয়েছে, মূল সমেত নাক-কান কেটে দেয়া হয়েছে তাদের। উত্তপ্ত জলন্ত লৌহ শলাকায় বিদ্ধ হয়েছে তারা, হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, মুচড়ে থেতলে রাস্তায় প্রকাশ্য নারীকে করা হেয়েছে বেত্রাঘাত। ইহুদীদের ইংল্যান্ডের বাইরে রাখা হয়েছে ৩৫০ বছর। অথচ অসহিষ্ণুতার ঐ চরম সময়ে ইসলাম যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই দেখিয়েছে সকল ধর্মের প্রতি চরম সহিষ্ণুতা।
মক্কাভিমুখে দশ হাজার মুসলমান সৈনিক দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। প্রথমটায় প্রতিরোধ ও যুদ্ধের সুপ্ত বাসনা থাকলেও মুজাহিদ বাহিনীর শৌর্য-বীর্য দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। “কাফির সর্দার আজ আমাদের হাতে” বলে তার প্রতি আক্রমণোম্মুখও হয়ে পড়ছিলেন অনেকে।
বলাবাহুল্য, ইনি সেই আবু সুফিয়ান, যিনি বদর যুদ্ধের পর ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিটি যুদ্ধের পরিচালক। আরবের প্রতিটি গোত্রকে উত্তেজিত করে যিনি মদীনা আক্রমণ করেছিলেন, স্বয়ং নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শহীদ করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, গর্বভরে যিনি রায় দিয়েছিলেন হুদায়বিয়া সন্ধি ভঙ্গের, যার স্ত্রী হিন্দা চিবিয়ে খেয়েছিল সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কলজে, সেই আবু সুফিয়ান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) আজ মুসলমানের হাতে নিতান্ত অসহায়। আর এ অবস্থায় রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অবলীলাক্রমে ক্ষমা করে দিলেন।
শুধু কি আবু সফিয়ান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)? সকল অমুসলমান কুরাঈশ, ইসলামের শক্র মক্কার সর্দাররা আজ কা’বার আঙ্গিনায়। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নত শির। এ স্পর্শকাতর মুহুর্তে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মানসপটে ভেসে উঠলো কুরাঈশদের কর্তৃক তার নিজের উপর ও মুষ্টিমেয় ছাহাবার উপর অমানুষিক নির্যাতনের দৃশ্য। দ্বিপ্রহরিত সূর্যের প্রচন্ড তাপে মরুভূমি যখন আগুনের মত গরম, তখন তপ্ত বালুকায় শুইয়ে নব-দীক্ষিত মুসলমানের বুকে পাথর চাপা দিয়েছে, লৌহ শলায়ও বিদ্ধ করেছে, মাথা আঘাতে জর্জরিত করেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন “আমার কাছ থেকে আজ তোমরা কি ব্যবহার আশা কর।” সমস্বরে উত্তর এলো, “দয়া, হে মহানুভব দয়া।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যিই সেদিন তাদের প্রতি বেমেছাল দয়া ও ক্ষমা করেছিলেন। আর এ দয়া ও ক্ষমা আর বেমেছাল উদারতারই ইসলামের ঝান্ডা মাশরিক থেকে মাগরিবে পত পত করে উড়িয়েছিল, সন্ত্রাস আর নির্যাতনের দ্বারা নয় এ উদারতার প্রমাণ প্রতিফলিত হয়েছিল এই বাংলা মুলুকেও। ১৯৮১ সালে সি জে ও ডনেল আদম শুমারীর রিপোর্টে মন্তব্য করেন,
**
অর্থাৎ- “১৮৭২ খৃষ্টাব্দে বাংলাদেশে মুসলমানেরা হিন্দুদের চেয়ে সংখ্যায় প্রায় পাঁচ লক্ষ কম ছিল। বর্তমানে (১৮৯১খৃঃ) তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হিন্দুদের চেয়ে প্রায় পনেরো লক্ষ বেশী হয়ে গেছে।”
**
অর্থাৎ-“মুসলমানদের এ সংখ্যা বৃদ্ধি বাস্তব ও বিরাট। এরূপ সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সাড়ে ছয় শো বছরের মধ্যে বাংলার অধিবাসীরা সকলেই (হযরত) মুহম্মদের ধর্মের অনুসারী হয়ে দাঁড়াবে। পূর্ব-বঙ্গে কিন্তু এ অবস্থা ছয় শো বছরের মধ্যেই এসে যাবে।”
সেন্সাস রিপোর্টের এ সাংখ্যিক আলোচনা থেকে পরিস্কার প্রতিপন্ন হচ্ছে যে, এ অঞ্চলের মুসলিম সমাজের মধ্যে অন্তর্নিহিতভাবেই এমন শক্তি লুকিয়ে রয়েছে, যার ফলে তাদের অব্যাহত বৃদ্ধি সম্ভবপর হচ্ছে।
বলাবাহুল্য, এ সংখ্যাধিকের ধারাকেই কেবল অব্যাহত রাখা নয় বরং আমল-আখলাকের ক্ষেত্রেও উন্নত করার বিষয়ে গুরুদায়িত্ব ন্যাস্ত ছিল আলিম সমাজের উপর। কিন্তু বর্তমান রূঢ় বাস্তবতা এই যে, মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দাবীকৃত আলিমের সংখ্যাও বেড়েছে কিন্তু তাদের কার্যকলাপে আজ মুসলমানের সেই দয়া মহানুভবতার মোহময়ী ঐত্যিহবাহী আদর্শের চরম লংঘনকারী হিসেবে মুসলমান সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে আলিম সমাজের অবস্থান আজ সবিশেষ সন্দেহ ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
গত ২-২-০১ তারিখে কথিত ওলামা-মাশায়েখের সম্মেলন ও তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ বিশেষতঃ এই ধারার হোতা শাইখুল হাদীস ওরফে শাইখুল হদস, মুফতে আমিনী তথা কামিনী, মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন, চরমোনাই ফজলুল গং প্রমুখ স্বেচ্ছাচারী, ধর্মব্যবসায়ী ধর্মজ্ঞানহীন কতিপয় কুপমন্ডুকের কার্যকলাপ, মুসলিম ভাবমূর্তির প্রেক্ষিতে গভীর ক্ষতির উদ্রেক করেছে।
ওলামা-মাশায়েখ শব্দের ব্যবহার
ছিল স্বার্থ প্রনোদিত
ওলামা-মাশায়েখ শব্দের ব্যবহার ছিল স্বার্থবাদী উদ্দেশ্য প্রনোদিত। বলাবাহুল্য, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ সমস্ত চিহ্নিত রাজারকার ধর্মব্যবসায়ীদের চেহারাটা মানুষের অজানা নয়। মহিলা নেতৃত্ব নাজায়েয ঘোষণা করে, মহিলা নেত্রীকে মুরতাদ ঘোষণা করে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আবার তার আঁচলে যারা জোট বাধতে পারে- সে সব তথাকথিত শাইখুল হাদীস, মাওলানা, মুফতীদের চেহারা, চরিত্র ও নাম ইতিমধ্যে সকলে ভালভাবেই অবগত হয়েছে। সুতরাং সেদিক থেকে ম্রিয়মান ভাবমূর্তিকে মুখোশ পড়ানোর জন্যই ওলামা-মাশায়েখ শব্দটি যোগ করে ব্যবসায়ী দুনিয়াদার আলিম হতে পৃথক দেখিয়ে হাক্বানী ও সূফী চরিত্রের একটা গন্ধ ছড়িয়ে বিনা প্রশ্নে গ্রহনযোগ্যতা দাবীর একটা প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা নেয়া হল। কারণ হাক্বীক্বতে কি আক্বীদ,া আমল-আখলাকের প্রেক্ষিতে এরা কেউ ওলামা-মাশায়েখের অর্ন্তভূক্ত নয়, যার প্রমাণ এরা নিজেরাই দিয়েছে।
সমাবশের পূর্বে ও পরে তথাকথিত ওলামা-মাশায়েখ তথা জালিমদের জুলুমবাজি
সারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাড়া করা লোক নিয়ে কথিত সমাবেশে আসার সময় গাজীপুর চৌরাস্তায় মুফতে কমিনির ক্যাডার বাহিনী, পুলিশ ও জনতার সঙ্গে এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের সময় ৩৮টি রুটের শত শত যানবাহন দেড়ঘন্টা যানজটে পড়ায় অজস্র যাত্রী দূর্ভোগ পোহায়।
দেশের গোটা উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাড়া করে আনা গাড়ীর কাগজপত্র গাজীপুরের ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট ও আর.ডি,সি সৈয়দ আব্দুল মোমেন মোবাইল কোর্টের দায়িত্ব পালনকালে দেখতে পেলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ হাফিজ আব্দুর রহমানের নির্দেশে নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার বলে তারা পুলিশ বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। পুলিশকে আক্রমন ও গাড়ী ভাংচুর শুরু করে।
আবার কথিত মহা-সমাবেশ শেষে এ মৌলবাদীরা জিরো পয়েন্টে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়, ১৫-২০টি গাড়ী ভাংচুর করে, পুরানো পল্টন মুক্তাঙ্গন ও রমনা পার্ক গোল চত্বরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে দেয়। তারা দফায় দফায় পুলিশের প্রতি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পুলিশসহ অনেকই হতাহত হয়।
অন্যেরটা নাজায়েয নিজেরটা জায়েয
অবশেষে বলা হলো, সংসদে পাশকৃত অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিকৃতি বা ছবি ঝোলানো নাজায়েয। এ কথা শুনে বিজ্ঞজন মন্তব্য করে বসেন, অন্যেরগুলো নাজায়েয আর নিজেদের খতীবের, হদসের, কামিনীর, মাহিউদ্দীন তথা চরমোনাই গং এর প্রতিকৃতি বা ছবি জায়েয। একেবারে হাক্কানী ওলামা-মাশায়েখ বটে।
ওলামা-মাশায়েখ দাবী করে কর্মসূচী দিলেন গান্ধী আর মাওসেতুং-এর
ওলামা-মাশায়েখ সমাবেশ দাবী করেও তারা কুরআন শরীফ, হাদীস সমর্থিত কর্মসূচী দিলনা বরং দিল মাওসেতুং এর লংমার্চ আর মহনদাস করমচাদ গান্ধীর হরতাল। যা তাদেরকে আল্লাহ্ পাক-এর পথে অভিজ্ঞ আলিম-এর পরিবর্তে গান্ধী মাওসেতুং-এর অনুসারী জাহিল বিদ্য়াতী বলেই প্রতিপন্ন করল।
চরমোনাইর পীরের ভাষায় এতদিন তার আন্দোলন ছিল ভুয়া
তথাকথিত সমাবেশে চরমোনাইর পীর বলেছে, ইসলামের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। আজ থেকে আন্দোলনের সূচনা হলো। অভিজ্ঞ জন তার এ বক্তব্যে মন্তব্য করেন, তার নেতৃত্বে এতদিন যাবত পরিচালিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন তাহলে কোন ইসলামী আন্দোলন ছিলনা এটা সে নিজেই স্বীকার করে নিল বটে।
চরমোনাইর পীর নিজের জন্য
জান্নাত পছন্দ করল কি?
তথাকথিত সমাবেশে চরমোনাইর পীর আরো বলেছে, আমি কাফনের কাপড় মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। এনজিওদের সমাবেশ প্রতিহত করতে কেউ জীবন দিলে সে বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এ আহবান জানানোর পর চরমোনাই পীর নিজে জীবনও দেয়নি, কাফনের কাপড়ও পড়েনি এবং বেহেশ্তও যেতে চায়নি। আসলে মুখে বললেও পরকালের বেহেশ্তের চেয়ে বর্তমান দুনিয়াবী বেহেশ্তটাই তার জন্য খুব সুখকর।
ঘটনাপ্রবাহ ০৩/০২/২০০১ ঈসায়ী
এনজিওদের সমাবেশ প্রতিহত নয় বরং নূর মসজিদের মুছল্লী পুলিশকে নূর মসজিদেই নির্মমভাবে হত্যা
হরতাল চলার সময় মোহাম্মদপুরস্থ নূর মসজিদে জঙ্গী মৌলবাদীরা একজন পুলিশ কনষ্টেটবল (বাদশা মিয়া)কে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সময় ৪-২-২০০১ রোববার, বেলা ১০ টার দিকে। এবং ঘটনার ১২ ঘন্টা পর ঐ মসজিদের পাশের মাদ্রসা হতে একটি শক্তিশালী টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায় হরতালের সমর্থনকারীরা শাইখুল হদসের নেতৃত্বে মিছিলটি কেন্দ্রীয় কলেজ পাড় পরে এনজিও নারি-পুরুষদের মিছিলের উপর হামলা দেয় একং মহিলাদের টানা হেচড়া করে সেই সূত্র ধরে শাইখুল হদস গং-এর সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। এবং তারা বাদশা মিয়াকে খুন করে মসজিদের জুতার বাক্সে ঢেকে রাখে। পুলিশ অভিযানে সেখানে বাক্স, খোপ, রান্না ঘর সহ ৯০টি কিরিচ, দু’টি চাপাতি এবং অসংখ্য চাকু পাওয়া যায়।
মসজিদের ভেতরে শাইখুল হদসের ক্যাডাররা খুন করেছে পুলিশকে“আমি মসজিদেই ছিলাম-শাইখুল হদস”
মোহাম্মদপুর থানায় সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার সাথে জড়িত হুমায়ুন কবির জানায়, পুলিশ কনষ্টেবল বাদশাকে মসজিদে নিয়ে টুল ও জুতা রাখার বাক্স এবং টুল থেকে খুলে নেয়া কাঠ দিয়ে বেদম পেটানো হয়। এ সময় শাইখুল হদস মসজিদের পূর্ব দিকে বসেছিল। প্রহারে বাদশা মারা গিয়েছে নিশ্চিত হয়ে ছাত্ররা জানালা টপকে পালিয়ে যায়। শাইখুল হদস এবং তার পুত্র মাহফুজুল হক রিকাশায় চড়ে মসজিদ ত্যাগ করে চলে যায়। হুমায়ুন কবিরসহ অন্যরা শাইখুল হদসকে বিদায় দিয়ে আবার মসজিদে ফেরার পর পুলিশ অভিযান চালায়।
এরপর পুলিশ জামিয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়ার আরো দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক কিরিচ, তলোয়ার ইত্যাদি উদ্ধার করে।
শাইখুল হদস আজাজিল হক বলেছে, অবশ্য আমি সে সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পর আমি জানতে পারি মেহরাবখানায় একটি লাশ পড়ে আছে।
নিহত পুুলিশ স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া- “ওরা মুসলমান নয় ওরা পশু।” শাইখুল হদস জবাব দিবেন কি?
আল্লাহ্ পাক-এর ঘরের মধ্যে ওরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। প্রকৃত মুসলমান কখনো মানুষ হত্যা করতে পারেনা। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, তারা মুসলমান নয়, ওরা পশু। আমার স্বামী চাকুরী করে কিছুই করতে পারেননি। আমার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াব? তাদের লেখাপড়াই বা চলবে কিভাবে? মেয়েদের কিভাবে বিয়ে হবে? সরকার কি আমাদের দেখবে?
শুধু বাদশা মিঞার স্ত্রীর এই করুণ আর্তিই নয়, হাদীসের ওস্তাদ দাবীকারী মৌলভী আজীজুল হক্বেরও জানা রয়েছে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, যে স্বেচ্ছায় কোন মুসলমানকে হত্যা করল, সে কুফরী করল।” যে চুপ থাকল সে বোবা শয়তান।
কাজেই তার উপস্থিতিতেই যখন মসজিদে পুলিশকে পেটানো হয় এবং সে পুলিশ যখন আলিমবেশী একদল জালিমের পাশবিক অত্যাচারে গগণ বিদারী আর্তনাদ করেছিল, তখন শাইখুল হাদীস কি কানে তালা লাগিয়ে চুপ থেকে বোবা শয়তানের ভূমিকা পালন করছিল নাকি হত্যাকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা করে বোবা শয়তান ও কাফিরের ভূমিকা যুগপৎ ভাবে পালন করেছিল। এর উত্তর আজ সচেতন মহল তার কাছে জানতে চায়।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ইনকিলাব, জনকক্ত, ভোরের কাগজ, যুগান্তর ২-১০ তারিখের দৈনিক ও প্রাসঙ্গিক পুস্তকসমূহ)
-আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত “সমকালীন জীবনবোধ” পুস্তকে মাওলানা আব্দুর রশীদ বলেন, মুসলমানরা রাজনৈতিক দিক দিয়ে স্বাধীনতা হারালেও প্রথম অবস্থায় মনের দিক দিয়ে তা আত্মস্থ করতে পারছিলো না। স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীনচেতা মুসলমান জাতি তা পারেও না। তারা একদিক দিয়ে বৃটিশের ভাষা ইংরেজি যেমন বয়কট করলো, অপরদিক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে খন্ডযুদ্ধ করে ইংরেজকে এদেশ থেকে বিতাড়নের আয়োজনও করতে লাগলো।
হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ দেশকে “দারুল র্হব” বলে ফতওয়া দিলেন। তিনি জ্বিহাদের জন্য গোপনে মুসলিম যুবকদের সংগটিত করতে শুরু করলেন। এই জ্বিহাদী উন্মাদনা সারা ভারতে বিশেষ করে উত্তর বাংলার যুবকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া জাগায়। এ সময়ে পাঞ্জাবে শিখরাও সুযোগ বুঝে সেখানকার মুসলমানদের উপর অবর্ণনীয়, অমানবিক অত্যাচার করছিলো। হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি পাঞ্জাবের শিখ দমনের জন্য এ সমস্ত যুবক ও আলিম-ওলামা সমন্বয়ে একটি মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেন। প্রত্যক্ষভাবে বৃটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া হয়তো তিনি যুক্তিসঙ্গত মনে করেননি, তাই তিনি মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে পাঞ্জাবের শিখ দমনের উদ্দেশ্যে বালাকোটে সমবেত হন। পাঞ্জাব দখলের পরই তিনি হয়তো বিক্ষিপ্ত মুসলিম সামরিক শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করে বৃটিশ বিতাড়নের সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন।
১৮৩১ সালে মে মাসে বালাকোটে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর শাহাদত বরণের পর উপমহাদেশ থেকে জ্বিহাদী উন্মাদনা তো কমেইনি বরং বৃদ্ধি পায়। এবং শতাব্দীকাল ধরে সীমান্ত প্রদেশে মুজাহিদগণ বৃটিশ শক্তির মোকাবিলায় নিয়োজিত ছিলেন।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।