শানে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَرَفَـعْنَا لَكَ ذِكْرَك

তরজমা: (আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারককে বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইনশিরাহ শরীফ: সম্মানিত  ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

তাফসীর: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, যিনি ইমামুল মুরসালীন, যিনি খতামুন নাবিয়্যীন, যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন, যিনি শাফিউল মুযনিবীন, যিনি নূরে মুজাসসাম, যিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন ছানা-ছিফত মুবারক প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, আয় আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারককে বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি। সুবহানাল্লাহ! কতখানি বুলন্দ বা বুলন্দতর করেছেন? যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র ইসিম (নাম) মুবারকের সাথে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ইসিম মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন। অথার্ৎ মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারকের সাথে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন।

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَـقَالَ: إِنَّ رَبِّي وَرَبَّكَ يَـقُولُ لَكَ: كَيْفَ رَفَـعْتُ ذِكْرَكَ؟ قَالَ: اَللهُ أَعْلَمُ، قَالَ: إِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِي

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, ওহী মুবারক বহনকারী ফেরেশ্তা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমার খিদমত মুবারকে আগমন করে বললেন, নিশ্চয়ই যিনি আপনার ও আমার সম্মানিত রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: আমি কীভাবে আপনার যিকির (বুলন্দতর মর্যাদা বা শান) মুবারক প্রকাশ করবো? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ পাক তিনিই অধিক জানেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন: যখনই আমার যিকির (স্মরণ) মুবারক করা হয় তখন আপনারও যিকির (স্মরণ) মুবারক আমার সাথে করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আবি ইয়া’লা ইত্যাদি)

যার কারণে মু’মিন মুসলমান হতে হলে পবিত্র যে কালিমা শরীফ পাঠ করতে হয় সেই পবিত্র কালিমা শরীফ উনার মাঝে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারকের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও পবিত্র নাম মুবারক পাঠ ও স্মরণ করতে হয়। অনুরূপ আযান, ইক্বামত, নামায ইত্যাদির মধ্যেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক পাঠ ও স্মরণ করতে হয়। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: বাহ্যিক ইবাদত কোন হক্কানী-রব্বানী, আল্লাহ্ ওয়ালা, পীর-দরবেশের সাথে ক্বালবী নিস্বত ক্বায়েম ব্যতীত মকবুল হওয়া সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন : বাহ্যিক ইবাদত কোন হক্কানী-রব্বানী, আল্লাহ্ ওয়ালা, পীর-দরবেশের সাথে ক্বালবী নিস্বত ক্বায়েম ব্যতীত মকবুল হওয়া সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম