সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
মুসলমানদের প্রথম শত্রু হচ্ছে ইবলিস। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার মধ্যে ২০৮ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হও। আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”
এরপর মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান শত্রু হচ্ছে ইহুদী ও মুশরিক। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ উনার মধ্যে ৮২ নম্বর আয়াত শরীফ উনাতে ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনি অবশ্যই ইহুদী ও মুশরিকদেরকে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন।”
তবে শত্রু হিসেবে খ্রিষ্টানরাও কিন্তু ইহুদীদেরই দোসর।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫১)
তাই খ্রিষ্টান আমেরিকানদের শত্রুতা সম্পর্কে তুলনামূলক নমনীয় ধারণা রাখার কোনো অবকাশ নেই। বরং আমেরিকা আসলে চালায় ইহুদীরাই।
ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারেনা, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারেনা।
বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যা কিছু বলা হয়- আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন অথবা ট্রাম্প নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতো না। ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তহবিল দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – অওচঅঈ – IPAC – America Israel Public Affairs Committee.
আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়কে হাতে না রাখলে ক্ষমতায় থাকা যায় না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ব্যস্ত থাকতে হয়।
আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলো গোড়া ইহুদী।
প্রসঙ্গত ফিলিস্তীনিদের বিরুদ্ধে তুলনামূলক বেশী শত্রুতা মূলক প্রচারনার কারণেই ট্রাম্প বিজিত হয়েছে।
তাই ইহুদীদের খুশী করার জন্য এবং মুসলিম বিশ্ব লুটপাট করে নিজেদের টিকে থাকার জন্য মুসলিম বিশ্বকে নানান কৌশলে ধ্বংস করতে এবং নিজেদের দখলে আনতে সব সময় তৎপর আমেরিকা। সেটা আই.এস. বা আল কায়েদা হোক আর স্বৈরাশাসক উৎখাতের নামে হোক।
আমেরিকার লক্ষ্য হল প্রথম ধাপে মুসলিম দেশগুলোকে ভেঙে ছোট ছোট দেশে পরিণত করা এবং পরবর্তী ধাপে সরকারগুলোর প্রকৃতি পরিবর্তন করা। এ ধরণের কৌশল বাস্তবায়নে ইহুদিবাদী ইসরাইল উপকৃত হবে। কারণ একদিকে বৃহৎ মুসলিম দেশগুলো খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছোট ছোট দেশে পরিণত হবে, অন্যদিকে এই ছোট দেশগুলোকে ইচ্ছে মতো ইসরাইল ও পশ্চিমাদের পথে পরিচালনা করা যাবে।
ইহুদী ইসরাইলকে আমেরিকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়েছে। আর ইসরাইল ছোট্ট গাজায় ২ লাখ টন বোমা ফেলেছে।
গাজার পাশাপাশি, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া, এমনকী কাতারেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকার ইসরাইল। তাই আমেরিকা মূলত: মুসলমানদের জন্য এক মহাশত্রুর নাম।
আল কায়দার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার নামে পুরো আফগানিস্থানকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে আমেরিকা। তাদের এই হামলা থেকে মুক্তি পায়নি পাকিস্তানও।
২০০১ সালে যখন নাইন-ইলেভেন ঘটল, তখনি এই হামলার জন্য মুসলিম বিশ্বকে দায়ি করে ‘‘মুসলিম ব্যান’’ এর শিরোনামে বেশিরভাগ মুসলিম দেশকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। অর্থাৎ ৯/১১-এ টুইন টাওয়ার হামলা বিশ্বব্যাপী বিভেদের এক স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়। সেই সীমারেখার একদিকে মুসলিম অধ্যুষিত দেশসমূহ আর অন্যদিকে বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকা।
২০০৩ সালের ২০ মার্চ, সাদ্দাম হোসেনের ইরাকে আগ্রাসন চালায় আমেরিকার নেতৃত্বে পরিচালিত বাহিনী। অভিযোগ দেশটিতে বিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্র আছে। তখন মার্কিন প্রশাসন জানায়, এসব বিধ্বংসী অস্ত্র ইরাকের জনগণ ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি। তৎকালীন বুশ-ব্লেয়াররা জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে এই আগ্রাসন চালায়। আর মাত্র ২০ দিনে বাগদাদ দখল করে ইরাক বিজয় ও যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিয়েছিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার। আগ্রাসনে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের শাসনের পতন হয়। এরপরই ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের নতুন সন্ত্রাসের উত্থান ঘটে।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পারলেও লিবিয়াতে তারা গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সফল হয়। এ জন্য তারা গাদ্দাফিকে লিবিয়ার মানুষের কাছে চরম খারাপ বানিয়েছিল। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে একটা গোষ্ঠিকে লেলিয়ে দিয়েছিল। বিরোধীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। গাদ্দাফিকে হত্যার পর থেকেই লিবিয়াতে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে তা আজও থামেনি। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর যারা দেশটির ক্ষমতায় এসেছে তাদের চেয়ে সে অনেক দেশপ্রেমিক ছিলো।
বাশার সরকার পতনের লক্ষ্যে ২০১১ সালের জুলাইয়ে সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহীদের ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গঠনের মধ্য দিয়েই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এরপর সশস্ত্র সংঘাত ভয়ংকর রূপ নেয়।
আমেরিকা শুরু থেকেই অস্ত্র দিয়ে বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করে আসছে। এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ জিইয়ে রাখছে।
জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেন। দেশটির জনসংখ্যার ৮০ ভাগেরই সহায়তা বা সুরক্ষা প্রয়োজন। শহর দখল, দখল থেকে মুক্ত, আবার পুনর্দখলের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে ছয় বছর। ইয়েমেন যুদ্ধে পরাশক্তিতে লড়াই, মাঝখানে সাধারণ মানুষ পড়ে চেপ্টা হয়ে যাচ্ছে।
হাদির পক্ষে জোটগত সামরিক অভিযান। এই জোটকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে আমেরিকা।
শুধু ইরাক কিংবা তালেবান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহারাইন, আফ্রিকার লিবিয়া, মিশর, তিউনেশিয়ায় আরব বসন্তের নামে সরকার বিরোধী যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাতে প্রত্যক্ষ মদদ মার্কিন আমেরিকার।
সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের ১৮ বছর পার হলেও ইরাকিরা নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা কোনোটাই পায়নি। বরং তারা হারিয়েছে স্বাধীনতা, পেয়েছে পরাধীনতা।
আমেরিকার সেই আক্রমণের পর মুসলিম রাষ্ট্র ইরাক আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শুরু হয়েছে জাতিগত দাঙ্গা। ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠা করতে আমেরিকার মদদেই সক্রিয় হয় আইএস। এভাবেই ইরাকের মত একটি সমৃদ্ধ ইসলামী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে গৃহযুদ্ধ আর গৃহবিবাদে মশগুল করেছে আমেরিকা।
সে ধারাবাহিকতায় এখন বাংলাদেশে নানা অপকৌশলে, কুটকৌশলে, বহুমুখী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মহাতৎপর আমেরিকা।
নারিকেল দ্বীপ দখল, করিডোর করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন খ্রিষ্টান রাজ্য বানানোই শুধু নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ধ্বংস সহ- বাংলাদেশকে টুকরা টুকরা করার ষড়যন্ত্রে বিভোর আমেরিকা।
বাংলাদেশে শুধু তাবেদার সরকার নয় বরং তাবেদার একাধিক বিরোধী দল তৈরীর পাশাপাশি আমেরিকার তাবেদার সন্ত্রাসী দলের উত্থান ঘটাতেও ভীষণ তৎপর আমেরিকা। এমনকী মিত্রদেশ ভারতের মাধ্যমে পতিত সরকারী দলকে নাশকতা করার মদদেও আগ্রহী আমেরিকা।
আর এসব কিছুর পরিণতি হচ্ছে- সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, সোমালিয়ার মত বাংলাদেশেও গৃহযুদ্ধ লাগানো।
বাংলাদেশকে ধ্বংস করা
বাংলাদেশকে টুকরা, টুকরা করা
বাংলাদেশী মুসলমানদের বিপর্যস্ত করা। ছিন্নভিন্ন করা। নাউযুবিল্লাহ।
তাই ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশী মুসলমানের উচিত খাছ তওবা করা। খোদায়ী সাহায্য তলব করা ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শির্দ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।