সাইয়্যিদুনা হয়রত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
মহামূল্যবান নছীহত মুবারক (৪)
৬. শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া প্রত্যেক মুরীদের জন্যই আবশ্যক। কেননা শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়া ব্যতীত রুহানী ফয়েজ বা ফায়দা লাভ করা কখনই সম্ভব নয়।
একদা সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রধান খলীফা হযরত বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, যেদিন আমি আমার সম্মানিত পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা সুলতানুল আউলিয়া খাজা হযরত উসমান হারুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়ার সুযোগ পেলাম, সেদিন থেকে পরবর্তী সুদীর্ঘ সাড়ে বিশ বছর উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছি। ঐ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি যখন যেখানে ছফর করেছেন সেখানে গিয়ে উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিতাম। উনার বিছানা-পত্র, সামান-আসবাব ও প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ নিজের কাঁধে বহন করেছি। নিজের আরাম-আয়েশের কথা কখন কল্পনাও করিনি। সব সময় উনারই খিদমত মুবারককে প্রাধান্য দিয়েছি।
আমি জানতাম, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির অতীব গুরুত্ব ও সুন্দরভাবে করলে যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত খুশী হন তেমনি স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার খিদমত মুবারকও গুরুত্ব ও সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করলে তিনি খুশী হন। তিনি আমার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেখে অত্যন্ত খুশি হয়ে এমন নিয়ামত দান করেছেন যা ভাষায় বর্ণনা করা যায়না। যা কেবল অনুভবই করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
বস্তুতঃ যারা যা কিছু হাছিল করেছেন তা তাদের পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা উনার মাধ্যমে হাছিল করেছেন। আর ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা হাছিল হবে সবই স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার মাধ্যমেই হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ্!
কাজেই মুরীদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, স্বীয় পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা উনার যথাসাধ্য উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া। উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক সূক্ষ্মাতি-সূক্ষ্ম, পুঙ্খানু-পুঙ্খ পালন করা। কোনভাবেই তা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। পাশাপাশি নামায-কালাম, যিকির-ফিকির, রিয়াদ্বত-মাশাক্কাত যা করার আদেশ করেন তাও নিয়মিত আদায় করা। আর উনার উপদেশসমূহ মনোযোগের সাথে শুনা ও অত্যন্ত গুরুত্ব ও সুন্দরভাবে তা পালন করা ।
৭. পাক পবিত্রতা: সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরিফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক তালাশকারীগণকে লক্ষ্য করে বলেন, যারা শয়নকালে অজু করে শয়ন করে তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দেন যে, আমার এই বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা তার রক্ষণাবেক্ষণ কাজে আঞ্জাম দেয়ার জন্য নিয়োজিত থাকুন। তখন হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে এই বলে দোয়া করেন, বারে ইলাহী! আপনি এই বান্দাকে ক্ষমা করুন। তিনি অজু সহকারে শয়ন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, “শরহে আরিফীন” নামক কিতাবে বর্ণিত আছে, কোন বান্দা যখন অজু সহকারে শয়ন করে তখন হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালামগণ তার আত্মাকে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশে আরশে মুয়াল্লার নীচে নিয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আদেশ মুবারক করেন যে, উনাকে নূরের পোশাক পরিয়ে দিন। তিনি অজু করতঃ পবিত্র অবস্থায় শয়ন করেছেন।
আর যে ব্যক্তি অজু ছাড়া শয়ন করে তার আত্মাকে হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালামগণ নিয়ে গেলে প্রথম আসমান হতেই তাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর বলা হয়, এই ব্যক্তি সবোর্চ্চ আসমানে তথা মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য পাওয়ার যোগ্য নহে। নাউযুবিল্লাহ্!
দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৬
ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯২
আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে
আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে